আজও তুমি আসলে না

লিখেছেনঃ হোসেন মাহমুদ

সবুজ ঘাসের বুকে খালি পায়ে হেটে চলেছি তুমি আর আমি ।
দুজনেরই উদোম গা ।
দূরে পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের রাশি উড়ে বেড়াচ্ছে মাথার উপরে ।
মাঝে মাঝে তুমি চিৎকার দিয়ে বলছ, শোন পাহাড় , শোন হে অপরূপ প্রকৃতি, আমি এই ছেলেটিকে ভালোবাসি অনেক ভালোবাসি।
তোমার কথাগুলো প্রতিধ্বনি হয়ে কানে বাজছে বার বার ।
পাগল একটা ! আমি মনে মনে বলি ।
এই পাগলটাকে আমিও অনেক ভালবাসি ।
সেই সাথে ভালোবাসি ওর পাগলামি গুলোকে।

একদিন রাতে আমি বেঘোর ঘুমে ।
তুমি আচমকা আমায় ঘুম থেকে টেনে তুলে বললে, একটা কথা বলবো?
আমি চোখ কচলাতে কচলাতে বললাম, কি?
তুমি বললে, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
আমি কাঁদব না হাসবো বুঝতে পারছিলাম না।
আমি ওকে জড়িয়ে ধরলাম । বললাম, তুমি ছাড়া একটা সকালও দেখতে চাইনা । একটি সপ্নও দেখতে চাই না।
তুমিও আমার ঠোঁট দুইটা কামড়ে ধরে বললে, এইবার তুমি ঘুমাও । আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।
ওর পাগলামি গুলো দেখলে মাঝে মাঝে আমার আনন্দে চোখে পানি চলে আসতো।

একদিন বাহির থেকে এসে বললে, রেডি হয়ে নাও।
সাথে সাথে তুমি তোমার আর আমার জামা কাপড় ব্যাগে ঢুকানো শুরু করলে ।
আমি অবাক হয়ে বললাম ,কোথায় যাচ্ছি আমরা ?
তুমি বললে, যাচ্ছি । জাহান্নামের চৌরাস্তায় । কেন যাবে না আমার সাথে?
আমি একটু হেসে বললাম, দুষ্টুমি রেখে বলনা কোথায় যাচ্ছি আমরা ?
তুমি আমার ঠোঁটে হাত রেখে বল, কোন কথা নয় । রেডি হয়ে গাড়িতে বস।
আমি আর কি করব ? তাই করলাম বাধ্য ছেলের মত।

গাড়ি ছুটে চলছে ঢাকা থেকে নাটোর এর দিকে ।
তোমার আর আমার কারো গ্রামের বাড়ী ঐ দিকে নয় ।
আমরা তাহলে যাচ্ছি কোথায় ?
গাড়ির গিয়ার এ হাত না দিয়ে আমার হাত তোমার বুকে নিয়ে গাড়ি চালানো অভ্যাস তোমার ।
আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি ।
আকাশ আজ অনেক মেঘলা । যে কোন মুহূর্তে বৃষ্টি নামতে পারে ।
আমাদের গাড়ি এসে থামল একটি টিন এর বাড়ির সামনে ।
চারদিকে সবুজ গাছের সারি ।
বাড়ির আঙ্গিনা ঘন ঘাসে ঢাকা ।
বুঝতে পারলাম এটা একটা রেস্ট হাউস।
জিজ্ঞেস করলাম তোমায়, আমরা এইখানে কেন ?
তোমার চোখে দুষ্টুমি । বললে, আমার রাজপুত্রকে তার কিছু না পাওয়া স্বপ্নের মুখোমুখি করাবো বলে এখানে আসা।

িন এর ঘরে ঢুকে আমি অবাক ।
অন্যরকম একটা পরিবেশ।
কোন ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জাম নেই ।
শুধু কিছু মোম জ্বলছে ঘরে । আসবাবপত্র বলতে একটা কাঠের খাট এই যা।
বুঝলাম আজ রাতটা এই টিনের ঘরে এই কাটাচ্ছি আমরা।
তুমি বললে আজ রাতে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে হবে । কাউকে আসতে দিবো না তোমার আর আমার মাঝে।
আমি হাতুগেরে বললাম, যা বল তাই হবে রাজন ।
তুমি আর আমি, মোম এর আলোয় বসে রাত এর খাবার খাচ্ছি ।
সাথে করে তুমি নিয়ে এসেছিলে রাতের খাবার ।
খাবার শেষ হওয়া মাত্র চার দিকে ঝমঝম শব্দে বৃষ্টি শুরু হল।
আমি ভয় পেলাম ।
তুমি আমাকে নিয়ে বিছানায় বসিয়ে বললে, তোমার পছন্দের টিন এর চালে বৃষ্টির শব্দ আর তোমার ভালোবাসার মানুষকে এক সাথে পাবার ব্যাকুলতা অনেক দিন শুনেছি তোমার কণ্ঠে, কই নাও আজ দুটো স্বপ্নই তোমার সামনে।
আনন্দে আমার চোখে পানি এসে গেল ।
তুমি আদর করে চুমু দিয়ে আমার চোখের পানি শুষে নিলে ।
পাগলের মত চুমু খেতে লাগলে ।
আমি বললাম, জান । একটা গান ধরো না ।
তুমি গলা ছেড়ে ধরলে , আজি ঝড় ঝড় মুখর বাদল দিনে… ,
আমিও তোমার সাথে গান ধরলাম একটা আমার ফাটা গলায়, একটুকু ছোঁয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি।
এক কাঁথার নিচে আমরা দুইজন । আমরা বোধহয় এখন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ ।
নুপুরের মত শব্দ হচ্ছে টিন এর চালে।
তুমি আমাকে বললে , চোখ বন্ধ কর জান ।
আমি চোখ বন্ধ করলাম ।
অনেকক্ষন অপেক্ষা করে তোমার কোন সাড়া পাচ্ছি না।
আমি বলছি, জান ! তুমি কই ? কি হল ? কথা বলছ না কেন? জান , কথা বল ! আমি কিন্তু চোখ খুলে ফেললাম।

আমি চোখ খুললাম । চিৎকার দিয়ে উঠলাম ।
বুঝতে পারলাম আমি আমার ঘরের মেঝেতে পড়ে গেছি বিছানা থেকে।
বুজলাম প্রতিদিন এর মত আজও আমি স্বপ্ন দেখছিলাম ।
হ্যাঁ স্বপ্নইতো দেখছিলাম ।
আমি এই একটা জিনিষ খুব ভালো করে দেখতে জানি।
জীবনের ২৬টা শীত, বসন্ত কাটলও তোমায় স্বপ্ন দেখে দেখে ।
বর্ষায় বৃষ্টিতে দুই কাপ কফি হাতে বসে ছিলাম কত দিন তুমি আসবে বলে ।
না ! তুমি এখনো আসলে না আমার জীবনে । আসবে কিনা তাও জানি না।
জীবনের সাথে যুদ্ধ করে কতটা কষ্টে কাটে আমার রাত, তুমি তখনও আসলে না।
যখন কান্নায় আমার চোখের পানিতে ভিজে যাই আমি নিজে, আজ ও তুমি এসে, চোখের পানি মুছিয়ে দিলে না। একা একা খোলা আকাশের নিচে যখন হাঁটি , আজও তুমি এসে আমার হাতটি ধরলে না।
তোমার উপর অভিমান করে বাসা থেকে বের হয়ে যখন হারিয়ে যাই আঁধারের নীলিমায়, তুমি কি কখনো খুঁজতে বের হবে না আমাকে?
তুমি কোথায় ? তুমি কি সত্যি আসবে না কখনো আমার জীবনে? আর কত অপেক্ষা করতে হবে তোমার জন্য , হে আমার স্বপ্নের রাজপুত্র?

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.