বন্ধু তুমি একদিন এসো

লেখকঃ এলাহি লিপু


বৈশাখের শেষ সপ্তাহ চলছে। রাস্তায় ঝি ঝি ধরা রদ্দুর। আজকে বোধ হয় বৃষ্টি হবে। বাতাস ছেড়েছে। ধুর! ছাতা আনা উচিৎ ছিল। অবশ্য বৈশাখে ছাতা থাকা না থাকা সমান কথা। আমি বাস স্ট্যান্ডে দাড়িয়ে আছি। বাস আসার কোন খবর নেই। আজকে অবশ্য একটু তারাতারি বের হয়েছি। এমনি অফিস ছুটি হয় ৫ টায়। আজ ব্রেহস্পতি বার তাই ৪ টায় ছুটি হয়েছে। ঝর বৃষ্টি না আসলে হয়ত পাব্লিক লাইব্রেরিতে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আসা যেতো। ট্রাভেল এজেন্সি নিয়েই আমার কারবার, কোন দেশের ফেয়ার কত এইসব এইসব। বই পড়ার কোন অভ্যাস নেই তবে… থাক বাদ দেই সেসব কথা। এই যা! বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো।
আমার পাশে এক ভদ্রলোক ছুটে এসে তার ছাতা বন্ধ করায় বেস্ত হল। পাশে কি তাকাবো… সেই চওড়া কাধ, গলার স্বর ও সেই মায়াবি, বেচারা বৃষ্টিকে গালাগাল করায় শুনতে পারছি। আকাশী একটা সার্ট গায় দেওয়া। আকাশী ছিল অর্কের প্রিয় রং। না তাকাচ্ছি না বাসও এসে গেছে। আর ৩ বছর ধরে তাকাতে তাকাতে আমিও ক্লান্ত। দেখা যাবে অর্ক না, আমার মন আরও বেশি খারাপ হবে। এই যা! ঢাকাতে ঝর বৃষ্টি হলে এই একতাই সমস্যা। বাসে লোকজন ভির করে ওঠে। এম্নিতে তো সিট পাওয়াই যায় না আর বৃষ্টির দিনে দাঁড়ানোরও জায়গা পাওয়া যায় না। তবে তাই বলে ঢাকা ছেড়ে চলে যাই নি। সেই অজপারা গাঁ এর কলেজ পাস করে ঢাবি তে এসে উঠলাম। উঠলাম বলা টা হয়ত ভুল হল চান্স পেলাম। অনার্স করা হোল, মাস্টার্সও করলাম ইকনমিক্সে। আমি দাড়িয়ে আছি আমার পেছনের ভদ্র লোক একটু একটু কাশছেন। যেন কিছু বলতে চান। আজব! ইচ্ছে করছে বত্রিশটা দাঁত বের করে হাসি হাসি মুখ করে বলি, কি ভাই! সমস্যা হচ্ছে! বৃষ্টিতে জানালা লাগিয়ে দিয়েছে। খুলে দিতে বলি আপনি টুক করে নেমে যান, জানালা দিয়ে নামার ক্ষেত্রে বাম পা আগে দিয়ে নামতে হবে না।
-অপু
আমার নিজের নাম শুনে থ হয়ে গেছি। পেছন ঘুরে তাকাতে এতো দেরি লাগতে পারে আগে ভাবি নি।
-অর্ক!!
আমি এগিয়ে দারালাম। কি বলবো বুঝতে পারছি না। আমি কি বলবো!
অর্ক আমার রুম মেট ছিল, তারপর বেস্ট ফ্রেন্ড, অতঃপর… থাক বলবো না।
-অভিমানি মন কি সেরেছে?
কি আজব! ইচ্ছে হচ্ছে বলতে আমি অভিমানি না! দেখা হলে সাধারানত কেউ জিজ্ঞেস করে কেমন আছো? আর এখানে আমাকেই খোঁচা দেওয়া হচ্ছে। এ জন্যই হয়ত আমাদের প্রেমটা টেকে নি। তবে আমাদের প্রেম টা অন্যরকম ছিল। ভার্সিটিতে আমি কারো সাথে মিশতে পারতাম না, কিংবা অন্যদের হয়ত বুঝতে পারতাম না। তার পরেও ব্যাচ হোল বন্ধু হোল। আমি পরলাম মোহনাদের ব্যাচে। ব্যাচগুলো সাধারনত পুরুষ কেন্দ্রিক হয় কিন্তু আমাদের ব্যাচ হোল নারী কেন্দ্রিক। এর কারন ছিল আমাদের ব্যাচ এ ছিল কেম্পাস সুন্দরী মোহনা। সাধারনত সুন্দরী মেয়েরা হয় লুতুপুতু টাইপের তবে মোহনা ছিল অত্যন্ত সাহসী। ছাত্রী দল কিংবা লিগ হয় না হলে আমাদের মোহনা নিশ্চয়ই ক্যাডার ট্যাডার কিছু একটা হয়ে যেতো। আমাদের ব্যাচে আরও ছিল বিন্তু(কাচা মরিচ),সিমা, রাকিব (চশমা) আর অর্ক। ভালই যাচ্ছিলো আমাদের দিন। আমি অর্কের সাথে অনেক ফ্রি হয়ে যাই। অর্ক আমার রুমমেট হওয়ায় আমি প্রতি রাতেই ঘুমানোর আগে তাকে ফিরিস্তি দিতাম সারাদিন কোনটা ভালো হোল আর কোনটা হোল না। ওর একটা বদ অভ্যাস ছিল বাসায় ফোন করলেই কাঁদত। আমার খারাপ খুব খারাপ লাগত। আমি দেখা যেতো তখন মজার মজার কথা বলে হাসানোর চেষ্টা করতাম। ওর মতে বিরক্ত করতাম। ঝগড়া করতাম আবার মিল হয়ে যেতাম। দিন যাচ্ছে, একদিন বিকেলে আমরা আড্ডা দিচ্ছিলাম ও কি কথা বলে যেন আমার ঠিক গালে চুমু দিয়ে দিলো। আমার গালে টোল পরে তাই বন্ধুদের গাল টিপুনি খাওয়ার অভ্যাস আছে কিন্তু চুমু খাওয়ার কোন রেকর্ড নেই। কি হোল জানি না ভীষণ লজ্জা তো লাগছিলও কি যেন একটা পাওয়ার আনন্দও হচ্ছিলো। ইচ্ছে করছিলো সবার সাম্নেই ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখি।

-কি ভাবনায় ডুবলে?
-কৈ,কিছু না তো! কেমন আছো?
_খুব ভালো!! আমি তুই থেকে তুমি হয়ে গেছি নাকি?
-কি মনে হয়! অবশ্য তা হয়েছ তবে তুই আমার জন্য ‘তুই’ই বেটার।
আমি কলাবাগান নামবো, সময় থাকলে বাসায় আয়…
-আমার কোন তারা নেই তবে
বাসায় আমি ছাড়াও আরও মানুষ আছে বুঝলি, সো তবে টবে শুনছি না।বলে নিজেই হেসে দিলাম। এভাবে বলাটা বোধ হয় উচিৎ হয় নি।
আমরা রাস্তায় হাঁটছি। আমার ফ্লাট দোতালায়। পকেটে চাবি নিয়ে খুট খুট করছি।
সে আমার পাশে হাঁটছে, নিজ মনেই বক বক করছে। কেন যেন তার কথায় মনোযোগ দিতে পারছি না খুব কষ্ট হচ্ছে।
আমি লক খুলে ভেতরে ঢুকলাম। ওকে সোফায় বসতে বলে রান্নাঘরে এলাম। বৃষ্টি আবার পড়তে শুরু করেছে। ঢাকাতে বৃষ্টি সহজে হতে চায় না আর একবার শুরু হলে আর থামতে চায় না। আমি রান্না ঘরের জানালা ভেজিয়ে দিয়ে চা বসিয়ে দিলাম। এইফাকে জামা বদলে নেওয়া যায়। অবশ্য আর সময় পেলাম না। সার্ট খুলতেই চায়ে বলক আসলো। সেন্ডু গেঞ্জি পরেই চা নিয়ে গেলাম।
এই ছেলেটা যে আজব তা না! দুনিয়ার অষ্টম আশ্চর্য। এখনো ভেজা গেঞ্জিটাই পরে বসে আছে।
-গেঞ্জি টা খুলে দিবি না রেপ করব!?
অর্ক হাসতে হাসতে গেঞ্জিটা খুলে আমার হাতে দিয়ে দিলো।
-আমার প্যান্ট ও তো ভিজা
-তুই নেংটা হয়ে চা খা আমার সমস্যা নেই।
আমি গেঞ্জিটা রান্নাঘরে শুকাতে দিয়ে আসলাম। সোফায় বসে দুজনেই উদ্দেশ্যহীন ভাবে গল্প করছি।হাসা হাসি করছি। হটাত সে বলল আমার তোর সাথে লুচ্ছমি করতে ইচ্ছা করছে…আমি কি বলবো বুজতে পারছি না,হেসে দিলাম। যাকে ছারা একসময় এক মুহূর্ত বাঁচব না বলে মনে হতো আজ তার সামনে বসেই হেসে ভালবাসা,যন্ত্রণা আরাল করতে …
হতাথ দূরে কোথাও যেন বাজ পরল, আমি ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। ওর নরম ঠোঁট গুলতে নিজের ঠোঁট গুলো চেপে ধরলাম। ও জাঙ্গিয়া পড়া অবস্থাতেই দু পা দিয়ে আমার পিঠ জড়িয়ে ধরল। ও পাগলের মতো আমার ঘাড়ের, বুকের গন্ধ নিতে লাগল। আমার বগলে নিজের মুখ জড়িয়ে রাখল। আমি খুব লজ্জা পাচ্ছি কারন ৪ সপ্তাহ হয়ে গেছে আমি বগলে রেজার লাগাই নি। কতক্ষণ হল কে জানে। আমরা ঘেমে ভিজে একাকার। তবে কেউ কিছু করি নি আমরা যা পড়া ছিলাম এখনো তাই পড়ে আছি।

-আমাকে এক গ্লাস পানি খাওয়াতে পারবি?
-আমার জানতুস পানি খাবে আর আমি খাওয়াতে পারব না। তুই উঠে বোস, আমি পানি আনছি।
-আমাকে এখনো ‘জানতুস’ ডাকিস…
-আমার অনেক কাজ আছে রে,কাল কাপড় ভিজিয়ে রেখেছি।আজ ধুতে হবে।গল্প করলে হবে না।
-সে কি! ভাবি কৈ?
-আরে সবসময় কি সে আমার সাথে পড়ে থাকবে নাকি। মায়ের বাড়ি গেছে, কাল পরশুই চলে আসবে। তুই আমার রুমে গিয়ে টি ভি দেখ। তোর ভাবির জন্যই টি ভি বেডরুমে লাগাতে হোল। কি একটা সিরিয়াল আছে নাকি এ সব নিয়ে পড়ে থাকে।
খালি গায়ে থাকিস না। চেস্টে আমার টি শার্ট রাখা আছে পড়ে নে।
-তোর কষ্ট বাড়াতে চাই না। তোর পড়া টি সার্ট কৈ আছে বল, আমি পড়ে নেই। তোর কাপড় ধুতে কত কষ্ট লাগে আমি জানি।
– স্টাডি টেবিলের চেয়ারে বোধহয় খুলে রেখেছি দেখ।
আমি কাপড় ধুচ্ছি। ওর কথায় রাগ হওয়া উচিৎ ছিল কিন্তু হতে পারলাম না। এর মধ্যে এক সময় আমরা প্লান করেছিলাম আমরা একসাথে থাকব। প্লানটা অবশ্য ওর। তখন মাস্টার্স এর ফাইনাল চলছে। এক সন্ধায় ও বলল, আমরা একজন আরেকজনকে ভীষণ ভালোবাসি। চল না আমরা একসাথে থাকি। আমি বলেছিলাম দেখ, ভালবাসাই সব না। তুই একবার ভাব আমরা দুজনেই থাকব কাজে বাসায় ফিরে কে রান্নাবান্না করবে, কে কাপড় ধুবে? আর তা ছারা পরিবারের প্রতিও তো আমাদের একটা দায়িত্ব আছে নাকি!
সেদিন সে কিছুই বলেনি।শুধু বলেছিল, অপু আমি তোকে খুব ভালোবাসি। আমি একা বাঁচতে পারব না রে।
আমি বারান্দায় কাপড় শুকাতে দিচ্ছি, অর্ক পাসেই দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। কাল গায়ে দেওয়া নীল গেঞ্জিটা পরেছে ও। ওকে ভীষণ সুন্দর লাগছে। তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে কিন্তু আমি তাকিয়ে থাকতে পারছি না।
-অপু…
_হু।
-কিছু বলবি?
-কি বলবো বল! আমি একটা কাজও যদি ঠিকমতো করতে পারি, কাপড় ধুতে গেছি চোখে সাবান গেছে। আজ তুই এসেছিস খুব ভালো লাগছে তাই ভাবছি আজ আর কিছু রাধব না। চল বাইরে খেয়ে আসি।
-সত্যি!
-তুই বুঝলি একটুকু বদলাস নি…
আমরা রিক্সায় বসে আছি। ধানমণ্ডি লেকের ওপর দিয়ে রিক্সা যাচ্ছে। আমি অর্ককে পেছন থেকে জড়িয়ে রেখেছি। বৃষ্টি হয়ে যাওয়ায় আমার মনে হচ্ছে আকাশের তাঁরাগুলো ঝক ঝক করছে। আমরা কেও কিছু বলছি না। শুধু একটু পর পর একটু করে বাতাস এসে হয়ত আমদের আরও চুপচাপ করে দিচ্ছে। অবশ্য এই রাস্তাটা খুব পরিচিত। আমদের প্রেমের যায়গাগুলো ছিল পাব্লিক লাইব্রেরী, দোয়েল চত্বর,নিউ মার্কেট এইসব যায়গাগুলো। দেখা যেতো প্রেম করতে কম কাজেই বেশি যেতে হতো। তবে এমন হতো দুপুর রোদ। আমরা রিক্সায়, রিক্সা চলছে। আমাকে অর্ক বলল ওদিকে দেখো, আমি সেদিকে তাকাতেই ও চট করে গালে একটা চুমু দিয়ে দিত। আমি রসিকতা করার জন্য বলতাম,আগে বলতা! আমি ঘাম মুছে নিতাম। ও হাসত। আমিও হাসতাম।

মামা;রাখেন। আমরা একটা রেস্টুরেন্টের সামনে নামলাম।
ইদানিংকার রেস্টুরেন্টগুলো আলো এতো অল্প যে মনে হয় ৩ মাস ধরে রেস্টুরেন্টের বিদ্যুৎ বিল জমা পরে আছে। হালকা গান বাজছে। গানের একটা লাইন ;বহে কি বা মৃদু বায়। রবীন্দ্র সঙ্গীত হবে। বৃষ্টি হয়ে যাওয়াতে শুনতে ভালই লাগছে। এর মধ্যে আমাদের কাটা চামচের টিং টাং শব্দ যুক্ত হয়েছে। একবার হয়েছিলো কি, তখন ২য় সেমিস্টার চলছে। এক রাতে হুট করে জ্বর আসলো। সন্ধ্যা থেকেই জ্বর জ্বর লাগছিলো কিন্তু বুঝতে পারিনি। রাতে সবাই খেতে যাচ্ছে। আমি চাদর মুরি দিয়ে শুয়ে আছি, উঠতে পারছি না। অর্ক এসে বলল, কি রে খেতে যাবি না?
আমি বললাম আমার জ্বর, তুই যা।
-তুই একা পড়ে থাকবি!আমি যাবো না। অসুদ খেয়েছিস?
না।
-খালি পেটে তো খেতে পারবি না। কি খাবি বল?
কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না।
আমি শুয়ে আছি। ও আমার মাথায় জল পট্টি দিয়ে বলল চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাক, আমি এখুনি আসছি।
কখন ঘুমিয়ে গেলাম বলতে পারলাম না। ঘুম ভাঙল অর্কের ডাকে। উঠে বসে দেখি আমার জন্য সুপ আনা হয়েছে সাথে পাউরুটি। সে আমার সামনে আসন ভঙ্গিতে বসল। আমার কাছে টাকা ছিল না তাই মোড় থেকে এগুলো এনেছি। ঝট পট খেয়ে নে।
ঝট পট আমি খাবো কি করে?
-আচ্ছা!আহ্লাদী হইস না। আমি মুখে তুলে দিচ্ছি খাও।
আমাদের খাওয়া শেষ। রেস্টুরেন্ট থেকে বাইরে আসলাম আমরা।একটু ঠাণ্ডা পরেছে। শীত শীত লাগছে। আমরা হাঁটছি।
আচ্ছা! তোর খবর তো কিছুই বললি না?
এইতো একটা বাইং হাউসে চাকরি করছি।বেতন ১০ হাজার তাকা।চিন্তা করতে পারিস! ৭ হাজার টাকা মাকে দিয়ে দেই। আর বাকি টাকায় আমার দিন চলে যায়। আগে ভাবতাম যখন চাকরি হবে তখন প্রিয় মানুষটার সাথে ঘুরবো আর ঘুরবো।
-ধুর! চাকরি বাদ দিয়ে ঘুরলে তো চাকরিই চলে যাবে।
আমি কি বলেছি আমি চাকরি বাদ দিয়ে তোর সাথে ঘুরবো।
-আচ্ছা বাদ দে।চল চা খাই।
আমরা ফুতপাতের উপর বসে বসে চা খাচ্ছি। আকাশে অনেক তারা কিন্তু মেঘের জন্য দেখতে পাচ্ছি না।ভেজা বাতাস গা ছুঁয়ে যাচ্ছে।
অর্ক!
হুম।
আবার বৃষ্টি শুরু হচ্ছে বাসায় ফেরা দরকার।
ঠিক বলেছিস। এখান থেকেই বাসে উঠে পরা উচিৎ। ভালো থাকিস কেমন।
তুই চলে যাবি মনেই ছিল না। তোর নাম্বারই তো নেওয়া হল না।
নাম্বার থাকলেই কি! মনে আছে একবার তুই বাড়ি যাচ্ছিলি।তোর মোবাইল তখন হারিয়ে গেছে।আমি বললাম বাসার নাম্বার তো দিয়ে জা।তুই বললি নাম্বার নিলেই বা কি হবে, ধর আমার যদি কিছু হয়েও যায় বাসায় ফোন করে তুই কি পরিচয় দিবি!
বাজে বকিস না অপু। তোর কিছু হবে না আর আমার নাম্বার লাগবে না।

-তুই কি আমার উপর এখনো রেগে আছিস।
না।আবার বৃষ্টি শুরু হবে আমার চলে যাওয়া উচিৎ রে। ভালো থাকিস।
অর্ক চলে গেছে। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে,খুব কষ্ট। বাসায় ফিরেছি একটু আগে। আবার সেই জীবন, সেই পথচলা। আমি ডাইরি লিখতে বসলাম।
মে,০৬,২০১০
প্রিয় কিংবা অপ্রিয় ডায়রি,
জিবনের দিন গুলো এমন কেটে গেলে আগে মরে গেলেও আফসোস থাকবেনা যে ইস, আর কটা দিন বাঁচা হল না। অর্ক তোমাকে আমি খুব ভালোবাসি,খুব…
কারেন্ট চলে গেছে। আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আমি অর্কের ফেলে রেখে যাওয়া টি শার্ট হাতে নিয়ে বসে আছি।খুব কষ্ট হচ্ছে।কেন হচ্ছে জানি না। কষ্ট হওয়া উচিৎ হচ্ছে না কিন্তু আমার কষ্ট হচ্ছে। চোখ ভিজে জাচ্ছে।ভেজা গাল বেয়ে পানি টপ টপ করে পরছে।বুকের ভেতর দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছি অর্কের টি শার্ট।
দরজায় শব্দ হচ্ছে, মনে হচ্ছে অর্ক কাকভেজা হয়ে এসে দাড়িয়ে আছে দরজায়। জানি ভাবনাটা অহেতুক। ঝরের রাতে পাশের বাসার আমগাছটার ডালপালা নড়ার শব্দ।কিন্তু আমার দরজা খুলে দেখতে ইচ্ছে করছে। এক কাপ চা বানানো যেতে পারে। দরজা খুলে চা খেতে খেতে বারান্দায় বসে রাত্রি জাপন করব। এম্নিও আজ রাতে আর ঘুম আসবে না। আমি বারান্দায় গিয়ে দরজা খুলে দিলাম।
-তোর কি কমন সেন্স নেই! এতক্ষন ধরে দরজা নক করছি তোর কোন হুস নেই।
আমি কি উত্তর দিবো ভেবে পাচ্ছি না।হা করে তাকিয়ে আছি!
-হা করে আছিস কেন। তাওয়াল দে।নাকি আমার ঠাণ্ডা লেগে নিউমোনিয়া হোক সে ধান্দায় আছিস।
-তুই বোস, আমি দিচ্ছি।চা বানানো আছে চা খাবি?
অর্ক আর আমি বারান্দায় বসে আছি। অর্ক মাথা মুছতে মুছতে চা খাচ্ছে। আমি কোন কথা খুঁজে না পেয়ে গিজ্ঞেস করলাম,তারপর?
-তারপর!!
তুই পেয়েছিস টা কি! আমাকে ছেড়ে এভাবে চলে গেলি কি করে? একবারও আমার কথা ভাবলি না।তুই চলে যাওয়ার পর আমার দিন কি করে যাচ্ছিলো একবার খোঁজ নিয়েছিলি! তোর চলে যাওয়ার কষ্ট কাওকে বলতেও পাচ্ছিলাম না,সইতেও পাচ্ছিলাম না। ভালোবেসে মানুষ এত নিষ্ঠুর হয় কি করে রে অপু?
তুই যখন কাপড় ধুচ্ছিলি তখন টেবিলের উপর তোর ডায়রি পেলাম।
আজ তোর ডায়রি না পড়লে তো জানতেই পারতাম না তোর ব্লাড ক্যান্সার।
What the hell, Apu… আমার ভালোবাসাটা দেখলি না! বলতি তো যে কয়দিন বেঁচে থাকবি সবসময় একসাথে থাকবি। কি হয়েছে যে সব ভুলে গেলি, তারপর তো তুই বিয়ের নাটকও করলি।
-অর্ক?
-হুম।
-তোর কোলে কিছুক্ষন মাথা দিয়ে শুয়ে থাকি?
আমি অর্কের কোলের উপর মাথা রেখে শুয়ে আছি। বারান্দার জানালা খোলা। সেখান থেকে ঝিরঝির করে বাতাস আসছে।বাতাসে আম গাছের পাতাগুলো নড়ছে।অন্ধকার চারদিক।আজ আর কারেন্ট আসবে বলে মনে হয় না।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.