বুলেটের ঈদ

লিখেছেনঃ হোসেন মাহমুদ

গ্যাঁজ গ্যাঁজ কোলাহলে পরিপূর্ণ ঢাকা শহরটার প্রতি অনেকের ঘেন্না ধরে গেছে। কোথাও বসে সিগারেটের শেষ টানের মত একটা সুখ টান মেরে নিঃশ্বাস নিবে তার ও উপায় নেই। সবুজ বলতে ঐ রমনা পার্ক নয়তবা সংসদ ভবনের পিছনটায়। তমাল বেশ কিছুদিন ধরে খেয়াল করছে তার নিঃশ্বাস নিতে মাঝে মাঝে কষ্ট হয়। চিকিৎসক না হয়ে ও পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া মনে মনে তার অসুখের একটা ইংরেজি নাম দিয়ে দিয়েছে। “ডাস্টম্যা” ঢাকা শহরে যে দিকে তাকায় শুধু ডাস্টবিন আর দূষণ তাই ডাস্টবিন থেকে ডাস্ট আর এজম্যা থেকে ম্যা। নামটা ইংরেজি হওয়াতে সে বিরাট খুশি। ইংরেজি বলে কথা, নামে একটা ওয়েট আছে। তার সেই ডাস্টম্যা রোগের প্রতিকারের জন্য নিয়ম করে প্রতিদিন রমনায় বসে হাওয়া খায়। ডাস্টম্যা দূরীকরণে এসে সবসময় মেজাজ ঠাণ্ডা রাখতে চেষ্টা করে তমাল। কিন্তু আজকে তার মেজাজ অত্যধিক খারাপ। মৌচাকের সামনে থেকে বেঁচে বেঁচে কেন যে ঐ রিকশাওলাকে নিলো, তার চ্যাটাং চ্যাটাং প্রশ্নে মেজাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে উঠে এসেছে।
-ভাইজান কি রমনায় জগিং করবার যাইতেছেন?
-না হাওয়া খেতে যাচ্ছি।
-ও আল্লাহ কন কি? হাওয়া খাইতে রমনায় যাউন লাগে নাহি। তাও আবার রিসকা ভাড়া দিয়া।
-সব হাওয়া গিলা যায় না। গলায় বিঁধে থাকে। ও সব তুমি বুঝবে না। তুমি রিকশা চালাও।
-ভাইজান যে কি কন। রিসকা চালাই বইল্লা কি আমগো বুদ্ধি বিবেচনা নাই। কেলাশ ফাইভ পাস আমি।
-এই যে কেলাশ ফাইভ ডিগ্রীধারী দয়া করে জোরে চালাও। আর পারলে তোমার মুখে একটা তালা দাও।
-ভাইজান কি চেইত্তা গেলেন নাহি?
-না ভাইজান আমি রাগ করিনি। দয়া করে মুখের দরজাটা বন্ধ রাখা যায় না?
-হুনেন ভাইজান এত চেতন ভালো না। একবার কি হইছে জানেন? এক বেড়া স্যুট ট্যাঁই পরইরা রিসকায় উঠছে যাইব নিউমার্কেট…।
-চাচা আপনাকে আমি ৫ টাকা বেশী ভাড়া দিবো। দয়া করে ঐ স্যুটওলার গল্প বন্ধ করুণ।
-বেশি ভাড়া দিবেন ঠিক আছে। বউয়ের হাতে দিমু খুশি হইব। কিন্তুক বউরে খুশি করতে গিয়া মায়েরে অপমান করমু কেমনে? জন্ম দেওনের সময় মুখটা মায়ের পেট থেইক্কা লইয়া আইচি। তাই আর যাই কোন চোবা বন্ধ করতে কইয়েন না। তারপর কি হইচে হুনেন সেই স্যুট ভদ্রলোক…।
তমাল বুঝতে পারলো এখন যদি ৩য় বিশ্ব যুদ্ধ ও শুরু হয় তারপর ও রিকশাওলার স্যুট ভদ্রলোকের গল্প না শুনীয়ে ছাড়বে না। তাই নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে শুনতে চাইলো তমাল।
-চাচা তারপর কি হয়েছে তার? আপনার রিকশায় বসে বাচ্চা পায়েদা করে দেয়নি তো?
-ভাইজান যে কি কন? ব্যাটা ছেলে গো আবার বাচ্চা হয় নাকি? দেহেন আমরা গরীব হইবার পারি কিন্তু একটা পেস্টইজ আছে। মস্কারা করবেন না। তো যা কইতেছিলাম।
আধুনিক বিজ্ঞানের অবধানে পুরুষ মানুষের ও বাচ্চা হয় চাচা। তুমি সেইটা বুঝবে না। কথা গুলা বলতে গিয়া ও চুপ করে গেল তমাল। কারণ তার স্যুটওলার গল্প না শেষ হওয়া অবধি তমালের নিস্তার নাই।
-স্যুট ভদ্রলোক রিসকায় বইসা আমারে ঝাড়ি মারছে। বেডা বোধয় হিরোইঞ্ছি। তখন আবার চলতাছে কুরবানির হাট। একটা গরুর ট্রাক যাবার সময় রাস্তায় কর্ম সেরে গেছে। রিসকায় দিলাম এক টান গোবরের স্তূপের কাছে গিয়া দিলাম কড়া এক ব্রেক। রিসকা উলটাইয়া যাইতে গিয়া ও বাইচ্চা গেলাম। স্যুট ভদ্রলোক উসঠা খাইয়া পড়ছে গোবরের উপরে। সারা শরিল গেছে গোবরে ভইরা। আমি চিকন হাসি দিয়া খারাইয়া গেলাম। হেরে কইলাম স্যার গোবর খাইতে কেমন? স্যুটওয়ালা আমারে একটা জাড়ি দিয়া থাপ্পড় দেয়ার লাইগা আমার দিকে আসতেছিল। আমি রিসকা নিয়া দিছি টান। আমারে আর পায় কে?

রিকশাওয়ালার স্যুট ভদ্রলোকের গোবর গণেশ হয়ে যাওয়ার কাহিনী তমালের রাগ কে ২” আরও বাড়িয়ে দিল। বুকুলতলা দিয়ে হেঁটে চলছে তমাল। মৌমাছিরা আর পিঁপড়ারা যেমন দল বেধে চলতে পছন্দ করে, তেমনি রমনায় এক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা মৌমাছি না হয়ে ও দল বেঁধে চলে। দেখলে মনে হয় ওরা এগারো জন মুভির ২য় পার্ট করার জন্য শুটিং এ আসছে। অবশ্য তাদের চাল চলনে সিনেমাটিক ব্যাপার সবার নজর কাটে। তমাল জোরে পা চালিয়ে তাদের এড়িয়ে যাবার আপ্রাণ চেষ্টায় ব্যস্ত। তাপর ও তাদের কিছু কথা কানে এসে বিঁধছে।

-ঐ শেফালী দেখ দেখ। কি সুন্দর বেডা যায়। আ হা রে যদি আমার সাথে এক বার কথা বলতো আমার জীবনটা ধন্য হয়ে যেত।
-দেখ শাবনুর ব্যাটা ছেলে দেখলেই তোর জিবে জ্বল এসে যায়। আর উনিতো বেডা না কি হ্যান্ড সাম একটা ছেলে। অর দিকে চোখ দিস না। অনেক দিন থেকে তারে আমি চোখে চোখে রাখছি। সুযোগ পেলে ঝাঁপিয়ে পরমু।

এইবার ৩য় জনের পালা। যেন সে মঞ্চে নামছে। তার প্রথম পদক্ষেপ। সাথে ফোকাস লাইট তার মুখের উপরে। বেকগ্রাউনড মিউজিক হিসাবে তার হাত তালি। যেন হাতের তালুতে তবলা বাঁধানো আছে। হাতের তালির শব্দ যে এত আওয়াজ তুলতে পারে তমালের ধারনা ছিল না। অবশ্যই তমাল দুনিয়ার অনেক কিছুই জানে না। না জানার মাঝে অন্যরকম এক আনন্দ আছে। বোকা মানুষের দিকে সবাই একটু দয়ার চোখে তাকায়। ৩য় জনের কথায় ফেরা যাক। পর পর ৩টা তালি মেরে, ফাটা বাঁশের মত মুখ খুলে সে।
-ওই সাবনুর, শেফালী তোরা দুইজনে অফ যা। এই বেড়া আমার খাবার। তগো দুইডার চেয়ে আমার বয়স কম। দেখতে ও চিকনি চামেলি ক্যাটরিনার মত। সে আমার লগে ফুর্তি করবো। তোরা দুইডা বার ভাতারি। যারতার সামনে পাছার কাপড় তুলে দিশ।
চার নাম্বারটায় এইবার মাইকের নিয়ন্তন হাতে নিয়ে তীর এর মত বুলেট চালিয়ে অ্যাটাক করলো আগের জন কে।
-বিপাশা দেখ তোদের ন্যাকামো অনেকক্ষণ সহ্য করছি। ঐ ছেমরি নিজেরে কি ভাবছ তুই ঐশ্বরিয়া? ২ টনের বিশাল শরীর নিয়া নাম রাখছস বিপাশা। আরে তোর নাম হওয়া উচিৎ মুয়ুরি কিংবা মর্জিনা। অগলি বগলি কোথাকার।
এইবার আগের সবার নিশানা শেষেরটার দিকে। পারলে সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার উপরে।
-ঐ মুক্ষি রানী তুই কোথাকার মহারানী হাহ। তুই কি নাম রাখছিস ঈশ রানী মুখাজি আইচে। তোর নাম রানি না দিয়া দেওয়া উচিৎ ছিল চোৎমারানি। তোর জন্য তো রিকশাওয়লারা তাদের বউয়ের সাথে শুতে পারে না। রক্তচোষার মত যারে পাস তারে খাস। পাচাটারে তো রেল লাইন বানাইয়া ফেলছিস। চাইলে মহাখালীর ফ্লাই ওভারটা ও ঢুকিয়ে নিতে পারবি। আর পাছা উল্টানোর সময় কি সুন্দর ব্লু ফ্লিমের নায়িকার মত আওয়াজ তুলিশ। মনে হয় সদ্য লাইনে আসা নবজাতক। আমার ভয় লাগে যে বিল্ডিং এ থাকি ঐ বিল্ডিংটা সহ দেখবো কোন এক রাতে আমরা সবাই তোর পাছার ভীতরে।

তমাল নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। মানুষ জনসম্মুখে এত বিচ্রি ভাবে কথা বলতে পারে। তাদের কিছু বলে ও লাভ নাই। তারা অপমানবোধ শব্দের সাথে পরিচিত নয়। এত টুকু অপমানবোধ থাকলে কি এই ধরনের পোশাক পরে পার্কে আসে। ছেলে হয়ে ও কয়েকজন ব্রা পরে আছে। সেইটা খানিকটা খোলা ও রেখেছে যাতে মানুষের চোখ পড়ে। তমাল আরও জোরে পা চালিয়ে লেকের পাশে একটা বেঞ্চে বসে পড়ে।
তারা হল কুকুরের জলাতঙ্ক রোগের মত। যত সম্ভব দূরে থাকা ভালো। আজ তমালের কপালটাই খারাপ। সবে বুকটা ফুলিয়ে একটা নিঃশ্বাস নিতে যাবে, ঠিক তখনই একটা আপদ এসে হাজির। বার কয়েক সামনে দিয়া ঘুরা ঘুরি করেছে। আছে শুধু সুযোগের সন্ধানে টপ করে বশে পড়বে তমালের পাশে। একটুপর মুখভর্তি হাসি দিয়ে জিজ্ঞাস করবে ভাই লাইটার আছে? কিংবা কয়টা বাজে?
গায়ে একটা খয়েরী রঙের গেঞ্জি আর পরনে মান্দাত আমলের উত্তম কুমারের প্যান্ট। প্যান্টের উপরের দিকটায় ফুলে আছে। বুঝা যাচ্ছে প্যান্টের নিচে আছে লুঙ্গী। রাত ১০ টায় মাথায় গিয়ে ঠেকলেই প্যান্টার অবস্থান হবে পার্কের কোন গাছের ঢাল। কারণ পার্কের গার্ডের দৌড়ানিতে লুঙ্গি বেশ সুবিধা জনক। তমাল কয়েকদিন দূর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লাইভ টেলিকাস্ট দেখেছে।
তমাল চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস নিবার জন্য আরেকবার চেষ্টা করতে যাবে, ঠিক তখনই উত্তম কুমারের ভূত এসে বসলো তমালের পাশে। বুঝতে পেরে ও নিঃশ্বাস নিবার চেষ্টায় নিজেকে অব্যাহত রেখেছে তমাল। কিন্তু আর পারলো না। লোকটার কথায় তার দিকে তাকাতে বাধ্য হল ।
-ভাইজান ভালো আছেন?
-আমি আপনার কোন বাপের জন্মের ভাই?
-কোঁথায় যেন হুনছি সকল মানুষ ভাই ভাই।
-না ঠিক শুনেন নি। সকল মুসলিম ভাই ভাই শুনেছেন।
-ভাইজান ইনজয় করবেন?
তমাল তার কথা শুনে আকাশ থেকে পড়ে যাবার ভান করেনি। কারণ সে জানে উত্তম কুমারের ভূত কোন ইনজয়ের কথা বলছে। কিন্তু কথাটা শুনে তমালের মেজাজ আরও চরম খারাপ হয়ে গেল। কর্কশ ভাষায় বলল।
-পথ দেখেন। আমি এইখানে ইনজয় করতে আসি নাই।
-ভাইজান ঢং কইরেন না তো। আসে পাশে লোক তেমন নাই। টাকা পয়সা যা ইচ্ছা দিবেন। আসেন আপনারে চুষে দেই।
এইবার তমালের মাথায় রক্ত উঠে যাবার মত অবস্থা। অনেক মানুষ বেশী রেগে গেল তোতলানো শুরু করে। আর অতিরিক্ত গরম হতে গিয়ে ও ঠাণ্ডা হয়ে যায়। তমাল সেই রকম ভাবে বলল।
-তুমি এখান থেকে যাবে। না আমি উঠে যাবো।
-শুনেন ভাইজান মেজাজ দেখাইবেন না। আমি কারো মেজাজের ধার ধারী না। কাইল ঈদ বইলা ঢাকা শহরের অনেক মানুষ বাহিরে চলে গেছে। তাই খরিদ্দারের বড়ই অভাব। এ দিকে কাইল ঈদ। পকেটে টাকা আছে ১০টা। পেটে লাগছে ভুক। ১০ টাকা দিয়া আজকাল সালুনের জোল ও পাওয়া যায় না। তাই আপনারে ঐ রকম সাধিতেছি।
লোকটার কথা শুনে তমালের মায়া হল। তাই কণ্ঠকে স্বাভাবিকতায় এনে জিজ্ঞাস করলো।
-তোমার কথা শুনে তো মনে হচ্ছে সারা দিন পেটে দানা পানি পড়েনি। তোমার নাম কি? কি কর?
-আমার নাম বুলেট। কিছু করি না। সারা দিন ঘুমাইয়া থাকি। রাইতে রমনায় আইসা কাজ করি।
-কোথায় থাকো তুমি?
-আগে থাকতাম মোহাম্মদ পুরের শিয়া মসজিদের পিছনের বস্তিতে। এক রাইতে ডেভেলপার কোম্পানি দিছে আগুন লাগিয়া। পূরা বস্তি পুইরা ছাই। এখন সে খানে বিশাল অট্টালিকা।
-তোমার বাবা মা?
-কেউ নাই।
-মারা গেছে দুজনেই?
-জানি না।
-জানি না মানে?
-হা সত্যি জানি না। ছোট বেলা থেকে বস্তিতে মানুষ হইছি। এর দুয়ারে অর দুয়ারে লাথি উসঠা খাইয়া। সবাইর মুখে হুন্তাম আমার মা আমারে বস্তিতে ফালাইয়া দিয়া চইল্লা গেছে। সবাই কইতো আমার জন্মের ঠিক নাই। এই যে আফনারে কইলাম আমার নাম বুলেট। আমি নিজে হিন্দু না মুসলিম জানি না। আসলে আমার কোন নাম নাই। আগে কাম করতাম বাস কন্টাক্টারির। কিন্তু যে হানে যাই সবাই বান্দির জারজ পোলা বইল্লা গালি দেয়। মানুষেরই বা কি দোষ কোন। মানুষ তো আর মিছা কয় না। যার জন্মেরই ঠিক নেই তার আবার ইজ্জত।
তমাল বুলেটের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। কি শান্ত সেই চোখ। কোন উদ্দীপনার তাগিদ নেই। আছে এক রাশ ঘেন্না আর অবহেলার কষ্ট। মানুষ যখন মিথ্যে বলে তার চোখের পাতা ঘন ঘন নড়তে থাকে। বুলেটের চোখ দেখে তমাল বুঝতে পেরেছে। এই ছেলে এক বর্ণ মিথ্যে বলছে না। কারণ তার মিথ্যে বলার প্রয়োজন নেই। প্রতিকূল সমজের কঠিন বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ করে তার বেড়ে উঠা। মানুষ মিথ্যে বলে প্রয়োজনে। তার প্রয়োজনের আয়োজন তো দুমুঠো ভাত। হোক না সেইটা নুন পান্তা কিংবা সোনারগাঁ হোটেলের কাচ্চি বিরিয়ানি। পেট ভরাতে পারলেই হল। তার কাছে জীবনের অর্থ হল প্রতি মিনিটের জন্য বাঁচা। ভবিষ্যতের খতিয়ানের খাতা খতিয়ে দেখা তার কাজ নয়। সে তো বড়লোকের আয়েশি কাজ কারবার। শরীর কে সে হাতিয়ার বানীয়ে টেনে যাচ্ছে জীবনের গ্লানি। রমনার অন্ধকারে প্রতিনিয়ত নিজেকে শূলে চড়িয়ে কাটিয়ে নিচ্ছে জীবনটা। অথচ সমাজের অনেকই আরাম আয়েসের জন্য কিংবা শখের জন্য গুনছে লাখ লাখ টাকা। বুলেটদের দিকে তাকানোর সময় তাদের নাই। কাল ঈদ সবাই হাজার হাজার টাকা খরচ করে জামা কাপড় দিয়ে নিজেকে সাঁজাতে ব্যস্ত। কিন্তু বুলেট কাল সকালে কি খাবে তার জন্য দেহকে পুঁজি করে খরিদ্দার খুঁজে চলছে এই রমনা পার্কে। তমালের চোখে পানি চলে এলো কথা গুলা ভাবতে ভাবতে।
তমাল পকেটে হাত দিয়ে দেখল বেশী টাকা নেই। সাতশোর মত হবে। সে তার থেকে ৫০০ টাকার একটা নোট বুলেটের হাতে গুঁজে দিয়ে সোজা হাটা ধরল। পিছনে তাকাতে ইচ্ছা করছে না তার। হয়তো এই ৫০০ টাকায় তার কিছুই হবে না। কিন্তু এক বেলা তো পেট ভরে খেতে পারবে সে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.