পূর্ণ প্রেমগ্রহন অতঃপর

লিখেছেনঃ এলিয়েন টুকোনজিল

১।

আজ অর্নের জন্মদিন। এইদিনে কেউ আবদার করলে ফেলে দেয়া যায় না। আর রাহাত কিনা এইদিনেই এমন একটি আবদার করলো যা অর্ন সচরাচর রক্ষা করেনা। সে অর্নের সাথে দেখা করতে চায়। কিন্তু রাহাতকে অর্নের মোটেই পছন্দ নয়, ওর পোষ্টকরা স্ট্যাটাস পড়লে অর্নের গা জ্বালা করে। এমনকি রাহাতের ভালো পোস্ট গুলোও অর্ন পড়েনা|
কিন্তু জন্মদিনের বাহানাতে রাহাতের অনুরোধের ঢেঁকি গিলতেই হল আজ। তবে মোবাইল কোম্পানি গুলোর মত শর্ত প্রযোজ্যঃ
প্রথম শর্তঃ একা দেখা করতে হবে।
দ্বিতীয় শর্তঃ সাক্ষাতের সময়কাল ঘন্টখানিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
তৃতীয় শর্তঃ পেট পুঁজো চলবে না।
অর্ন দেখা করতে রাজি হয়েছে এটিই রাহাতের কাছে অনেক|। সব শর্ত মেনে বিকাল পাঁচটায় বসুন্ধরা সিটিতে দেখা করবে বলে ঠিক হল।

বসুন্ধরায় পৌঁছে রাহাতকে ফোন দিল অর্ন, কিন্তু রাহাত এখনও পৌঁছায়নি। অর্নও রেগে গিয়ে বলল তোমার এক ঘন্টা এখন থেকেই শুরু হচ্ছে সোনা…
তেইশ মিনিট লেট করে রাহাত পৌঁছালে, অর্ন মুচকি হেসে বলল…
-তোমার হাতে আর ৩৭ মিনিট আছে!
এদিকে রাহাতের হাতে অনেক কিছু, একটি ফুলের তোড়া, গিফট পেপারে মোড়ানো একটা বক্স, সেটিও বেশ বড় আর একটা অর্কিডের চারা।
এসব অর্নের নজরে আসতেই সে বলল,
-এসব কি যাওয়ার সময় কেনা যেতনা?
-হাতে তো মাত্র ৩৫ মিনিট আছে। এই সময়ে এসব কিনতাম নাকি তোমার সঙ্গে কথা বলতাম?
রাহাতের কথা ঠিক বুঝতে না পেরে অর্ন জিজ্ঞেস করল….
-মানে?
-ওকে বলছি। “শুভ জন্মদিন অর্ন” আর আমার পক্ষ থেকে এগুলো তোমার জন্য।

অর্নতো অবাক, কিছু বলার আগে রাহাত বলতে শুরু করল,

-ফেসবুকে তুমি আমার সঙ্গে এতটাই রূঢ়ভাবে কথা বলতে আমি ভাবতেই পারিনি তুমি বাস্তবে এতটা সফট। কি মায়াবী মুখ তোমার! আর ঐ চোখের দিকে তাকালেতো যে কেউ তোমার প্রেম সাগরে ডুব দিতে চাইবে। আর কন্ঠস্বর এতটাই মিষ্টি যে রাগের সুরের কথা গুলোও মধুর লাগে। এখন প্লিজ এগুলো নিয়ে আমায় ভারমুক্ত কর।

– প্রেম সাগরে ডুব দিতে চেয়ে লাভ নেই, আমার প্রেম সাগরে এখন ভাটা চলছে আর পানি এতটাই লবণাক্ত যে শুধু জোক নয় মানুষও জ্বলে মরবে।
কথাগুলো বলতে বলতে ফুলের তোড়াটা হাতে নিল অর্ন।
অর্ন এত সহজে গিফট গুলি নিবে ভাবেনি রাহাত। তাই প্রশ্ন করেই বসল,
-পরে আবার গিফট গুলো ফেলে দিবে নাতো?
অর্ন মুচকি হাসি দিয়ে বলল…
– চল তোমাকে খাওয়াবো।
-কিন্তু তোমারতো শর্ত ছিল কিছু খাওয়ানো যাবেনা!
– হুম ওটাতো তোমার জন্য। কিন্তু আমি খাওয়াতে পারবোনা এটাতো বলিনি! তাছাড়া এতগুলো গিফট দিলে খাওয়ানোতো উচিত….

খেতে খেতে আরও অনেক কথা হল অর্নের বেধে দেয়া এক ঘন্টা সময় পেড়িয়ে কখন তিন ঘন্টার দিকে এগিয়ে চলেছে বুঝতেই পারেনি কেউ। অর্ন আজ অনেক কথা বলছে। রাহাত ওর দিকে তাকিয়ে আছে কিন্তু অর্ন কারোর দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারেনা। তাই মাঝে মাঝে তাকাচ্ছে… এমন সময় অর্নের মোবাইল বেজে উঠল| বাসা থেকে ফোন দিয়েছে। এবার অর্নের বাসা যাওয়ার কথা মনে পড়ল,
-সত্যি অনেক দেরি হয়ে গেছে এবার যেতে হবে।
– সে আর বলতে এক ঘন্টার জায়গায় সাড়ে তিন ঘন্টা ধরে রেখেছ, কিন্তু যেতে দিতে ইচ্ছে করছে না।
– যেতে তো হবেই চল উঠ…

বাইরে বেশ ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে অর্ন ছাতা নিয়ে এসেছে|
রাহাত সিএনজি ডেকে দিল অর্নের জন্য,,,
– আচ্ছা আমি যখন সিএনজিতে যাচ্ছি তখন তুমি ছাতাটা নিয়ে যাও। আমারতো আর ছাতা লাগবে না।

-তার মানে আমাদের আবার দেখা হচ্ছে!
-মানে?
-মানে ছাতাটা-তো ফেরত দিতে হবে নাকি?
-সেটা দেখা যাবে এখন যাই তবে?
-দাঁড়াও! দাঁড়াও! একটু হাগ করতে পারি?
-একদম নাহ!!!
মুচকি হেসে সিএনজিতে উঠে টাটা দিয়ে চলে গেল অর্ন| সিএনজি চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত তাকিয়ে রইল রাহাত। পুরো রাস্তায় রাহাতের মনে অন্যরকম আনন্দ প্রফুল্ল। আর অর্ন যেতে যেতে ভাবল যতটা খারাপ ভেবেছিলাম ততটা খারাপ ও নয়….,

২।

অর্ন বাসায় গিয়েই দরজা বন্ধ করে দিল। রাহাতের দেয়া বক্সটা খুলল খুলেইতো অর্ন অবাক| বক্সের ভিতরের সব তার অনেক পছন্দের জিনিষ| বেশ কয়েকটি চকলেটের বক্স, দুই/তিন কেজি ওজনের একটি আইসক্রিম, বেশ কয়েকটা ছোট ছোট টেড়ি আর অর্কিডে ঝোলানো একটা বাঁদর।
অর্ন অবাক হল, ওর পছন্দের জিনিষ গুলো রাহাত কি করে জানল?

-এই ভাইয়া দরজা খোল, কি করছিস ভিতরে?
দরজার ওপাশ থেকে অর্নের ছোট বোন অন্নির গলা| তাড়াতাড়ি সব লুকিয়ে দরজা খুলল অর্ন,,
-আম্মু খেতে ডাকছে চল।
ডিনার শেষে অর্ন আবার নিজের রুমে এসে গিফট বক্সটা নিয়ে বসলো| এবারও একটি নীল খাম দেখতে পেল আর তাতে লেখা….
“তোমাকে_ভালবাসতে_ইচ্ছে_হয়_কিন্তু_বড্ড_ভয়_করে”
অর্ন মুচকি হেসে সবকিছু আবার জায়গা মত রেখে ল্যাপটপে মুভি দেখতে বসে|

এদিকে রাহাত বাসায় ফেরার পর থেকেই নিজের ঘরে রয়েছ| মাঝে শুধু একবার গিয়ে ডিনার করে এসেছে|
ওর পুরো ভাবনা জুড়েই এখন শুধুই অর্ন, বাসায় আসার পর থেকেই ফেইসবুকে খুলে বসে রয়েছে অর্ন ফেইসবুকে আসলে কথা বলবে বলে। কিন্তু অর্নের নামের পাশে সেদিন আর সবুজ বিন্দুটি উঠলো না|
রাহাত প্রায় ভোর চারটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে ফেইসবুকে না পেয়ে গুড নাইট বলে ঘুমাতে গেল|
পরদিন সকাল থেকে আবার ফেইসবুক খুলে বসে আছে রাহাত। কিন্তু না অর্ন ফেবুতে আসছে না, শেষমেশ বিকেলে অর্নের ফোনে কল দিল রাহাত কিন্তু একি অর্নের ফোন যে ফরওয়ার্ডিং করা।
রাহাত ভাবতে লাগলো…
-তবে কি অর্ন চিরকুটটা পেয়ে রাগ করেছে, কিন্তু সরি, বলারও সুযোগ কি পাবনা, আরকি কখনও অর্নের সঙ্গে যোগাযোগ হবেনা…!

এভাবে কাটতে লাগলো বেশ কয়েকটি দিন এদিকে রাহাতের অবস্থা কাহিল টেনশনে বেচারা পাগল প্রায়| বারবার অর্নের মুচকি হাসি লাজুক চোখে তাকানো ওর আহ্লাদী কথা গুলোর কথা মনে পরছে| ফোন আর ফেবুতে মেসেজ দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে| কিন্তু অর্নের কোনও রিপ্লাই নেই|
অবশেষে চারদিন পর অর্নের মেসেজ আসে তাতে লেখা….
“”আমি আজ পাঁচটায় শাহবাগ যাব তুমি ওখানে চলে এস””
রাহাতের দম বন্ধ হওয়া পরিস্থিতির অবসান হয় আনন্দে চোখের কোনে পানি চলে আসে…..

৩।

পাঁচটার বেশ আগেই রাহাত শাহবাগে চলে যায়| পাঁচটার পরপরই অর্নের ফোন… রাহাত দূর থেকেই সে আদুরে মাখানো মুখটা দেখতে পেল।
আজ অর্ন নীল ড্রেস পরেছে, অদ্ভুত সুন্দর লাগছে ওকে নীলে| যেন সাগরে হঠাত ভেসে উঠা একটি পদ্ম ফুল।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই চিন্তার রেখা পড়ল রাহাতের কপালে, কারণ অর্নের হাতে যে ওরি দেওয়া সেই বক্সটা! একি কাগজে মোড়ানো তবে কি অর্ন তার বক্সটা খুলেও দেখেনি?
সে কি এটা ফেরত দেয়ার জন্যই এসেছে!! রাহাতকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে অর্ন বলে উঠল…
-আমার ছাতাটা কই? আনতে ভুলে গেছ, আজকেও তো আকাশ অনেক মেঘলা যদি বৃষ্টি আসে তাহলে তো ভিজে যাব,,
বলতে বলতেই বক্সটা রাহাতের হাতে বক্সটা ধরিয়ে দিল অর্ন|

-এটাতো সেই বক্সটা যেটা আমি তোমাকে দিয়েছিলাম, এটা ফেরত দিলে কেন?
– আমার কাছে অন্য বক্স ছিলনা তাই,, কেন সমস্যা?
– না না সমস্যা হবে কেন এমনিই জিজ্ঞেস করলাম, তা খুলে দেখি কি আছে?
– একদম না বাসায় গিয়ে খুলবে তার আগেনা।
– আচ্ছা ঠিক আছে,, আর হ্যাঁ তাড়াতাড়ি করে আসতে গিয়ে তোমার ছাতাটা আনতে ভুলে গেছি,,
– কচু!! তুমি ইচ্ছে করেই আননি আমি সেটা জানি।

যদিও ছাতাটা রাহাত ইচ্ছে করেই আনেনি। রাহাত সেইটা দেখা হওয়ার প্রথম স্মৃতি হিসেবে নিজের কাছেই রাখতে চায়]

– তুমি কি করে জানলে?
-সেটা জেনে তোমার কাজ নেই| আমার খিদে লাগছে ফুচকা খাব চল, আর এমন চোখ বড় বড় করে আমার দিকে চেয়ে থাকিওনা এখনে শুধু আমরা দুজনে নই আরও …
-চোখ তাকিয়ে থাকলে আমার কি দোষ? চল ফুসকা খাই,,
ফুসকা খাওয়া শেষে অর্ন বলল…

– আমি এখন বাসায় যাব।
-মানে কি? এইনা তুমি এলে?
-হুম..! আমার কাজ শেষ| এখন এখনে বসে সময় নষ্ট করবো নাকি? কাল আমার ক্লাস টেস্ট আছে অনেক পড়া বাকি…
বলেই অর্ন রিকশায় উঠে বসল…

-আচ্ছা ঠিক আছে যাচ্ছ যাও কিন্তু আমার ফোন কেন রিসিভ করনা মেসেজের রিপ্লাইও দাওনা ,,,
-আমার ইচ্ছে তাই দেইনা। যখন ইচ্ছে হবে তখন দিব। এই মামা চল… টাটা বাই,,,
অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল রাহাত আর ফিসফিস করে বলল
“” আজব প্রাণী মাইরি””

৪।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাহাত বাসায় গেল, বক্সটা যে খুলে দেখতে হবে কি আছে,,
পুরো রাস্তায় অর্নের কথা ভাবছে আর মিটমিট করে হাসছে|
অর্নের হঠাত্ দেখা করতে চাওয়া, ফুসকা খাওয়া আবার হঠাত্ চলে যাওয়া সবকিছু রাহাতের মনে অন্যরকম দোলা দিচ্ছে। ওর প্রতি ভালোলাগায় নতুন মাত্রা যোগ করছে,। কিন্তু একটি বিষয় রাহাত বুঝতে পারছে না, অর্ন কি করে বুঝল সে ইচ্ছে করেই ছাতাটা নিয়ে যায়নি!!
যাই হোক বাসায় গিয়েই রাহাত বক্সটা খুলল,,| খুলেই রাহাতের চোখ কপালে একি ও যে চকলেট আর আইসক্রিমগুলো দিয়েছিল তার খোসাগুলো সব ভিতরে,,
আর ভিতরে একটি হলুদ খাম যাতে লেখা “”কি মুরগি হয়ে গেলে তো!! সঙ্গে একটা মুরগির ছবি।

কিন্তু চিরকুটের অপর দিকে লেখাটা বেশ ভাবিয়ে তুলল রাহাত কে, তাতে লেখা….
“” #যেদিন_ভয়কে_জয়_করতে_পারবে_সেদিন_ভালবেসো“”

রাহাত বুঝতে পারছেনা অর্ন ঠিক কি বলতে চাইছে, নাকি আবার মুরগি বানাতে চাইছে!! সারা সন্ধ্যা রাত রাহাত ভাবতে লাগলো ঐ চিরকুটের কথা ফেসবুক খুলে বসে রইল কখন অর্ন আসবে, ওকে জিজ্ঞাসা করবে চিরকুটের মানে কিন্তু না অর্ন ফেবুতে আসেনা| রাহাত জানে ফোন দিয়ে কোনও লাভ হবেনা তবুও দিল কিন্তু আগের মতই ফোন বন্ধ পেল|

এভাবে তিন/চার দিন চলে গেল কিন্তু রাহাত কিছুতেই অর্নের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেলনা| তবে রাহাত এবার কিছুটা শান্ত কারণ ওর বিশ্বাস অর্ন ঠিক নিজেই আবার যোগাযোগ করবে| কিন্তু রাহাত এখনও সেই চিরকুটের ব্যাপারে ভেবে চলেছে|
অবশেষে রাহাত ওর বন্ধদের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করে সবাই প্রায় একি রকম কথা বলে, বলে যে….
“”অর্ন ওকে ভালবাসে কিনা সেটা না বোঝা গেলেও তাদের মনে হচ্ছে রাহাত ওর ভালোবাসার কথা জানালে অর্ন ওকে ফেরাবে না””
রাহাতো তাই ভাবতে লাগলো| প্ল্যান করল এবার দেরি না করে নিজের মনের কথাটা অর্নকে বলে দিবে। কিন্তু অর্নের সঙ্গে যে যোগাযোগই সম্ভব হচ্ছেনা প্রায় দশ দিন হতে চলল কিন্তু অর্নের কোন খোঁজ নেই……….

৫।

তের দিন পর অর্নের ফোন| কিন্তু ফোন করে অর্ন চুপ করে রয়েছে|
-হ্যালো অর্ন। কথা বল প্লিজ কথা বল!
কি হল কিছু বলবেনা? কি হয়েছে তোমার,কোথায় ছিলে এতদিন? ফোন বন্ধ, ফেসবুকে আসনা! কি হল কিছু বল?
কিন্তু ওপাশ থেকে অর্নের নিঃশ্বাসের শব্দ ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাচ্ছেনা রাহাত,,
– আচ্ছা অর্ন শুন আমি তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই তুমি কি দেখা করবে?
অর্ন ফোন কেটে দিল কিছুক্ষণ পর অর্নের মেসেজ এল তাতে লেখা…
“” আগামীকাল সন্ধ্যা ছয় টায় হাতির-ঝিল রামপুরা ব্রিজের কাছে আসবে””

আজকে “স্টার সানডে” সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় হাতির ঝিলে মানুষের বেশ আনাগোনা| অর্ন বেশ আগেই পৌঁছে গেছে| রাহাত একটু পর এসেই অর্নকে ফোন দিল| অর্ন রামপুরা ব্রিজের পশ্চিম দিকে একটি বেঞ্চে বসে আছে বলে রাহাতকে জানায়| রাহাত অর্নকে খুঁজে ওর পাশে গিয়ে বসে|রাহাত ওর হাত অর্নের বা হাতের উপরে রেখে শক্ত করে ধরে| অর্নের শরীর বেয়ে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ বয়ে যায়| বৈদ্যুতিক শক লাগার মত অনুভূতিও হয়। কিন্তু অর্ন চুপ করে শক্ত হয়ে বসে আছে রাহাতের দিকে এখনও তাকায়নি পর্যন্ত| নিচের দিকে মাথা করে বসে রয়েছে| পা দিয়ে মাটি খুঁড়ছে!!


— কি হয়েছে অর্ন তুমি এমন কাঠের পুতুলের মত হয়ে বসে রয়েছো কেন…? আগেতো এমন করোনি| অর্ন আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই যদি বলতে বল তাহলেই কেবল বলবো| অর্ন চুপ করে থেকনা, কিছু বল প্লিজ,, তোমার কি খারাপ লাগছে? কি কিছু বলবেনা? আমি কি আমার কথা বলবো?

অর্ন মাথা নাড়িয়ে সায় দেয় বলার জন্য….

-অর্ন তোমার প্রতি আমার ভালোলাগা অনেক আগে থেকেই, এই ভালোলাগা থেকেই তোমাকে প্রতিদিন ফেসবুকে মেসেজ দিতাম| জানি তুমি আমায় তেমন পছন্দ করোনা, আমার ভালোলাগা কবে ভালবাসায় পরিণত হয়েছে তা আমি জানিনা তবে এতটুকু বুঝতে পারি আমার সবটুকু অস্তিত্ব জুড়ে এখন শুধুই তুমি|
বলছিনা তোমায় ভালবাসতেই হবে, শুধু আজকে যে হাত ধরেছি তা ছাড়িয়ে দিও না প্লিজ … তোমার কাছে আমি কিছু লুকবো না| আমি আগে একটি মেয়েকে ভালবাসতাম কিন্তু ও আমায় এতটাই কষ্ট দিয়েছে যে ওকে ঘৃণা করতেও আমার ঘৃণা লাগে…, বলতে পার ওর দেয়া কষ্ট থেকেই আমার সমপ্রেমী হয়ে উঠা| আর আগে কখনও আমি কোন ছেলেকে ভালবাসিনি| তবে হ্যাঁ অনেকের সঙ্গে আমার ফিজিক্যাল সম্পর্ক হয়েছে অনেকটা জেদ করেই করেছি! কিন্তু আজ আমি তোমায় বলতে চাই আমি তোমাকে ভালবাসি অর্ন””” না তোমার প্রতি আমার কোন ফিজিক্যাল আকর্ষণ নেই,, আমি শুধু তোমার হাতটা শক্ত করে ধরতে চাই,, তোমাকে কাছে টেনে জড়িয়ে ধরে তোমার মাথা আমার বুকে রাখতে চাই,, তোমার ঐ কপাল,অপূর্ব সুন্দর দুচোখ আর ঐ নরম ঠোটে আলতো করে চুমু একে দিতে চাই,, তোমার ঐ মায়াবী চোখ আর মুখের দিকে কিছুটা সময় আপন মনে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে চাই|
এতক্ষণ আপন মনে কথাগুলো বলছিল রাহাত,,
হঠাত্ রাহাতের হাতে দুফোটা পানি পরে আর সঙ্গে সঙ্গে রাহাতের প্রতিটি শিরা উপশিরায় বিদ্যুৎ চমকানোর মত চমকে উঠে রাহাত,

-একি! অর্ন তুমি কাঁদছ কেন? চুপ কর প্লিজ….

বলতে বলতেই অর্ন রাহাতকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করল!! রাহাতো অর্নকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল,,,,

অর্ন আর কতক্ষণ এভাবে ঝাপটে ধরে থাকবে সবাইতো দেখছে,, বাবু তোমার হাতটা একটু দাওতো|

অর্ন ওর ডান হাত বাড়িয়ে দিল| কিন্তু একি অর্নের হাতে যে একটা রিং অলরেডি আছে!!! অর্ন কি এই জন্যই এতক্ষণ চুপ করে ছিল,, ওর কান্নাকি তবে রাহাতের ভালবাসাকে ফিরিয়ে দিতে হবে বলে?
রাহাতকি আবারো কষ্ট পাবে?

এই প্রথম অর্ন চোখ তুলে তাকাল রাহাতের দিকে| রাহাতের ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া মুখটা দেখে অর্ন অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো| অর্নের হাসির মানে বুঝতে না পেরে রাহাতের কপালে আরও দুটো ভাজ পড়ল!
তবে কি অর্ন আবারো রাহাতকে মুরগি বানানোর জন্য এতক্ষণ ধরে এই অদ্ভুত আচরণ করলো?
কিন্তু…………..

– কি ভয় পেয়ে গেলে তো ভাবছ আবারো মুরগি বানালাম কিনা? হিহিহি……
বলতে বলতে অর্ন নিজের রিংটা খুলে রাহাতকে বলল ওর হাতে থাকা রিংটা পরিয়ে দিতে
রাহাত অবাক চোখে তাকিয়ে থেকেই রিংটা পরিয়ে দিল…,
এবার অর্ন নিজের রিংটা রাহাতের হাতে পরিয়ে দিতে দিতে বলল….

-দুর বোকা!! এটা আমার আব্বুর দেয়া রিং আমার প্রিয় জিনিস গুলোর একটি আজ তোমাকে দিলাম যত্ন করে রেখ,,,
এই প্রথম রাহাতের চোখে পানি এল অর্নকে কাছে টেনে বুকে ঝাপটে ধরল,, এতটাই কাছে যে একে অপরের হৃৎস্পন্দন আর নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে,…।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.