কিছু নীরব আর্তনাদ

” দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার গানের ও পারে–
আমার সুরগুলি পায় চরণ, আমি পাই নে তোমারে …..”

চাঁদের আলো আজ খুব বেশী কষ্ট দিচ্ছে আমাকে। খুব বেশী মনে পড়ছে সেই দিনগুলো। ভিতরটা কেমন জানি হাহাকার করছে । একটাসময় স্বপ্ন ছিল একসাথে বসে চাঁদ দেখবো দুজনে , নৌকায় নদীর বুকে ঘুরবো একসাথে। কাঁশবনে …ঝাউবনে হারিয়ে যাবো চাঁদনী রাতে, কখনো বা আবার রিক্সার হুড খুলে বৃষ্টিতে ভিজবো। আজ হয়ত সব স্বপ্ন অপূর্নতার ঝুড়িতে জমা হবে আবার নতুন করে। এ আর নতুন কি ! সমপ্রেমী মানুষদের জীবনে এগুলি ঘটছেই অহরহ …সেসব নিয়ে অতো ভাববার সময় কোথায় অন্যদের? সবাই ভাবে সমপ্রেমী, ওরে বাবা খুব সাংঘাতিক রকমের দেখতে বা হাবভাবের কোন হিংস্র পশু হবে হয়তো! কিন্তু সত্যিই কি আমরা তাই? আমাদের কি কোন মন নেই? আমাদেরও কি কাউকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে না? আমরা কি মানুষ না?

ছোট থেকেই তো আর পাঁচটি সাধারন শিশুর মতো আমাদেরও উপরে থাকে স্নেহ, মমতা, ভালোবাসার বর্ষাকাল। তার সাথে থাকে একের পর এক বোঝা আমাদের ঘাড়ে কখনো বা ক্লাসে প্রথম হতে হবে কখনো বা ডাক্তার হতে হবে , এমন ভাবেই প্রতিদিন প্রতিনিয়তো আমাদের নিজের ইচ্ছা নিজের অভিলাষ বিসর্জন দিয়ে অপরকেই খুশী করতে হয়। সেই রেশটা বড়ো হবার পরেও আমাদের টানতেই হয় আর ঠিক এই কারনেই আমি আজ তাকে ভোলার চেষ্টা করছি। কারন সমাজ পরিবার ধর্মীয় অনুশাসন আমাদের সম্পর্কের অন্তরায় …… কিন্তু সত্যিই কি পারবো তাকে ভুলে যেতে? হয়ত পারবো না । ভুলবো কি ভাবে তার প্রতিটি লেখা প্রতিটি গল্পই তো আমাদের চাওয়া- পাওয়া, আমাদের বঞ্চনার জ্বলন্ত দলিল ।

খুবই দুষ্ট স্বভাবের আমি। তবে সবসময় হাসি মুখে লেগেই থাকে, তখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ হয়নি। ভালবাসা জিনিসটা মাথায় খুব একটা ঢুকতো না আমার। হঠাৎ গতো বছর শরৎ কালের দূর্গাপূজার মহাঅষ্টমীর দিন ফেসবুকে একটি পেইজ চোখে পড়ে। কৌতুহল বশতো খেয়াল করি পেইজটির ফ্যান সংখ্যা কতো। দেখলাম তাতে বেশ কিছু গল্প বেশ কয়েকজন গুনী লেখকের লেখা। তাদের মধ্যেই একজন লেখকমহাশয়ের প্রেমে পড়লাম। যথারীতি একই গল্প বারবার পড়তে পড়তে মুখস্থ হবার উপক্রম। যতই গল্প গুলি পড়ি ততই ভাল লাগা বেড়ে যেতে থাকে। দেখতে দেখতে একবছর কেটে গেল। ভাললাগা এখন রুপ নিয়েছে ভালবাসায়। নিজেকে বহুবার প্রশ্ন করেছি ধুর যাকে চোখেই দেখলাম না তাকে ভালোবাসতে পারে নাকি কেউ? এটা হয়তো আমার আবেগ। হয়তো জৈবিক চাহিদা পূরনের কোন সুপ্ত বাসনা থেকেই আমার এই ভালোলাগা। নিজেকে বুঝাতে চেষ্টা করি এটা কখনোই সম্ভব না। কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে অসাধ্য সাধনের চেষ্টায় নেমে পড়লাম। এই ভাবে চলতে চলতে একদিন সাত সমুদ্র পাড় হতে তার ফোন আসে এবং যথাসময়ে তা কেটেও যায়। সেদিন রাত ছিলো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ রাত। সেই দিনগুলির কথা ভাবলে আজ কবির ভাষাতে বলতে ইচ্ছে হয় –
” দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না
সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি “

লেখক বাবুর প্রতি আমার ভালোবাসার জৈবিক টান কতোটা তা আমার অজানা তবে আমার মনটা তার গল্পগুলি তার আইডি সর্বোপরি তার কাছেই বাঁধা হয়ে আছে। আমি প্রতিদিন তাকে তার গল্প সিরিজ, বাসার গন্ধরাজ ফুলের পাপড়ি, রান্না ঘরের ইলিশের মাথা দেওয়া কচুর শাক কখনো বা আবার সুনীলবাবুর লেখার ভেতর খুঁজি। সুনীল আমার লেখক মহাশয়ের প্রিয় লেখক তাই নিজের রুমটাকে সুনীলের নীলে ভরিয়ে দিয়েছি ।

আজ প্রায় একবছর হবে তার কন্ঠস্বর শুনি না তবে আমি মাঝে মাঝে আমার ফাটা বাশের মতো কন্ঠ তাকে শোনাই । একটা গান তাঁকে উত্‍সর্গ করেছি-
” এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে কাটে নাতো মন ,
কবে যাবো কবে পাবো ওগো তোমার নিমন্ত্রন ……।।”.
মাঝে মাঝে ভাবি তাকে একবার হলেও বোঝানো দরকার আমার মনের কতোটা জুড়ে তার অবস্থান। তার সাথে কথা না হলে প্রতিটা দিন প্রতিটা মুহূর্ত কতোটা যে কষ্ট পাই আমি সেটা কি সে বোঝে না? তাকে তাই বলতেই হবে আমি তাকে কতোটা ভালোবাসি। কি আর বড়জোর সে আমাকে লোভী ভাববে ! বন্ধুত্ব নষ্ট হবে এইতো? হোক তবু তাকে বলতেই হবে ….. এ ভাবনা মাথাতে আসার পর একমুহূর্ত দেরী না করে সাইবার ক্যাফেতে ছুটে যেতে মন চায়।
মন চায় তাকে চিৎকার করে বলতে হ্যা আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে পাওয়া না পাওয়াটা আমার জানা নেই। শুধু জানি আমার ভেতরটা জ্বলে পুড়ে শেষ হচ্ছে তিল তিল করে। কালবৈশাখির ঝড় এসে রোজ লন্ড ভন্ড করছে আমার হৃদয়ের প্রতিটি প্রকোষ্ঠ।

কেন আমি কষ্ট পাচ্ছি? কি অপরাধ আমার? আমাদের মিলনের পথে বাধাটা কিসের? উওর চাই আমার ….উওর দাও। তুমি কি শুনতে পাওনা লেখক মহাশয়? শুনতে কি পা…ও…না ??

অবুঝ মনে নানা ইচ্ছে বাসা বাঁধে কখনো ভাবি তার মেল আইডিতে একটি মেইল পাঠাই , তাতে মনের অব্যক্ত সমস্ত কথা লিখি। কখনো ভাবি একটি পত্র লিখি তাকে ডাকে বিলি করি …

প্রিয়তমেষু
লেখক মহাশয় ,
আজ এই প্রথম তোমায় লিখতে বসলাম৷ জানিনা এ চিঠি তোমার কাছে গিয়ে পৌঁছবে কিনা কোনদিন, তবুও লিখছি৷ মনের ভেতর জমে থাকা অব্যক্ত কথাগুলো না বলতে পেরে কেমন যেন দমবদ্ধ হয়ে যাবার উপক্রম ।

শ্রাবন মাসের প্রায় শেষ, সারাদিন তাই অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে, আকাশটা কেমন ঘন কালো মেঘে ঢেকে আছে৷ মাঝে মাঝে প্রচন্ড শব্দে বজ্রপাত হচ্ছে এবং সাথে প্রচন্ড ধারাতে বৃষ্টি পড়ছে। আমার মনের কোনেও ঠিক একই রকম পরিস্থিতি আজ বিরাজমান। নিঃসঙ্গতার চাদরে মোড়া; হাহাকার, দীর্ঘনিঃশ্বাস আর দু’চোখে শুধুই অশ্রুর বর্ষণ! স্তব্ধতা আর বিষন্নতা এই মূহুর্তে আমার একান্ত সাথী! আষাঢ়ের এই প্রাকৃতিক রূপটি বিধাতা যেন আমারই হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি করে ফুটিয়ে তুলেছেন৷

আজ এই পেইজে তোমার লেখা গল্পগুলি আবার সার্চ করলাম৷ অনেকটা ভীরুতা নিয়ে, আবার বলতে পারো অনেকটা দুঃসাহস নিয়ে৷ হ্যাঁ, দুঃসাহসই! কারন যতোবার লেখাগুলি পড়ি নতুন ভাবে বার বার তোমাকে ভালোবাসি। ভালোবাসা মানে শুধুই নীরব যন্ত্রনা ছাড়া আর তো কিছুই পাই না তাই বারবার ভয় হয় নতুন করে ভালোবাসার গন্ডিতে নিজেকে ধরা দিতে।

তোমার টাইমলাইনের কতো কতো মানুষ তোমাকে তাদের মনের মানুষ রূপে কল্পনা করে সেখানে আমি আর নতুন কি !
তোমার টাইমলাইনে প্রায় প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে একবার না ঢুকলে আজকাল আর ঘুম আসে না ।
প্রচন্ড রাগ হয় নিজের প্রতি যদি পেইজে তোমার লেখাগুলি না পড়তাম তবে তো ভালোই হতো। তোমাকে পাবার কোন আশা জাগতো না মনের মাঝে । দুঃখ-ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে হৃদয়! ভাবি আমিও যদি তোমার মতো লিখতে পারতাম ………..!

কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সুখ পাই এই ভেবে যে তুমি অনেক ভাল লেখো, নাই বা পারলাম তোমার মতো হতে , নাই বা পেলাম তোমাকে জীবনে , ক্ষতি তো কিছু নেই ৷ তোমার ভাল থাকাটাই তো চেয়েছি সবসময়৷

তোমায় দেখিনি তবুও গায়ের ঘ্রাণ আজও অনুভব করি৷ তবুও তোমার ঐ রূপ আমার চোখের প্রশান্তি!

তোমাকে ভালবাসি বলেই তোমার যত্ন নিতে চাই তোমার দেহকে নয়, তোমার পুরো সত্তাটাকেই ভালবাসতে চাই নিঃস্বার্থভাবে৷ ভালবাসার কিই বা বুঝতাম আমি? কিন্তু তোমার লেখাগুলি শিখিয়েছে ভালবাসা কি, আর কিভাবে ভালবাসতে হয়৷ স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে, স্বপ্নও দেখিয়েছে দু’চোখ ভরে৷ শুধুমাত্র বড়ভাই হিসাবে নয় পেতে চেয়েছি একজন প্রেমিক হিসাবে তুমি কতই না আদর্শ আমার কাছে । তোমার বুকের মাঝেই খুঁজে পেতে চেয়েছি আমার স্বর্গ, আমার আশ্রয়! তোমাকে ভালবাসি , নিজের অজান্তেই ভালবাসি, অনেক বেশিই ভালবাসি ! তোমাকে কল্পিত রূপ না দেখলে , তোমার সাথে কথা না বলতে পারলে কিংবা তোমার লেখা না পড়তে পারলে আমার দিন-দুনিয়া যেন ঠিক থাকে না৷ বড্ড ছেলে মানুষ আমি৷ আমার বন্ধুরা বলে “আমি নাকি পাগোল”
এক সময় বর্ষা ছিল আমার প্রিয় ঋতু, আমার জীবনে ভালবাসার মৌসুম৷ আর আজ বর্ষা মানে “বিষন্নতা”৷ আজকাল বৃষ্টিতে ভিজলে আমার গা কাঁপিয়ে জ্বর আসে৷ দেখেছো আমি কত বদলে গেছি? এমনকি আমার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে গেছে৷ আমার দেহ এখন আমারই অবাধ্য!

তোমার কন্ঠ অনেকদিন শুনি না৷ শুনবো যে সে সাহস আমার নেই, পাছে তুমি আমার কষ্টের অভিব্যক্তিগুলো বুঝে ফেলো! যদি আমার সুখে থাকার অভিনয়টা ধরে ফেলো! কারণ, আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে আজকাল কষ্টের সুর অনুরণিত হয়, প্রতিধ্বনিত হয় হাহাকার! কথা বলতে গেলে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে নিজের অজান্তেই৷ তাই আমি চাই না যেন তুমি আমার দূর্বলতাগুলো বুঝে ফেলো৷

তুমি ভাল আছো জেনে আমার আনন্দেতে কান্না আসে৷ আমি ভাল নেই৷ ভাল থাকার অভিনয় করে চলেছি প্রতিনিয়ত৷ তুমি হয়তো আমাকে বুঝবে না, কারণ তোমাকে অভিনয় করতে হয় না৷ তোমার বিত্ত-বৈভব, পুরুষত্ব ইত্যাদি সমাজে তোমাকে বিশেষ ব্যক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠা দিবে পরিবারের কর্তা বলে তোমার একটা বিশেষ মর্যাদাও হবে। এলাকায় তোমার সম্মান ও প্রতিপত্তি হবে তোমার সোনার সংসার হবে , ফর্সা বউও হবে ৷ আবার সন্তান জন্ম দিয়ে এটাও প্রমাণ করবে যে তুমি বংশবিস্তার করতে সমর্থ্য ও সফল “পুরুষ”! রাষ্ট্র তোমাকে প্রথম শ্রেণীর নাগরিক হিসাবে স্বীকৃতি দেবে ধর্ম তোমাকে স্বর্গ লাভের নিশ্চয়তা দেবে ৷ কিন্তু আমি? আমি অনাকাঙ্খিত এবং অবহেলিত একজন৷ পরিবার, সমাজ, আত্মীয়-স্বজন, রাষ্ট্র, ধর্ম সকলের কাছেই ধিকৃত! আমি রিক্ত! অামি শূণ্য!

জানো, ওরা যারা আমার সাথে প্রেমের অভিনয় করে, ওরা আমার দেহটাকেই শুধু চায়৷ আমার দেহটাকে শকুনের মত ছিড়ে খেতে চায় । পেলে হয়তো খাওয়া শেষে চলেও যাবে ৷ প্রেমের রোমান্টিক মধুর কথাগুলিও তখন ফুরিয়ে যাবে বীর্যপাত শেষে কনডমটা যেমন আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়, তেমনি আমার আবেগ-অনুভূতিগুলিকেও আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলা হবে । তাহলে বুঝে দেখো কতই না সস্তা আমার আবেগ! খেলা শেষে সাহেবরা কাপড় পরে চলে যান যাঁর যাঁর গন্তব্যে, শুধু আমি নগ্ন পড়ে থাকি এলোমেলো বিছানায় ভগ্ন-চূর্ণ, বিধ্বস্ত অবস্থায়৷ ঠিক যেন সস্তা বেশ্যা! কেউ আমাকে ভালবাসে না, আমি নষ্ট হয়ে গেছি, আমি আর ভাল নেই! অার কেউ ভাল বাসুক বা না বাসুক, আমি তো তোমাকে ভালবাসি , হয়তো পারবো না তোমায় ধরে রাখতে !
স্বপ্নগুলি কেমন জানি লাগে আজকাল । এখন বুঝতে পারি হটাৎ করেই একটা মানুষের পৃথিবী কিভাবে উলটে যায়। আজ বুঝতে পারছি স্বপ্ন থেমে থাকে না, কারো জন্য না। যেমনটি তোমার চলছে …..যেমনটি আমার চলছে ! হয়তোবা একা দেখছি স্বপ্নগুলি আজ। হয়ত একদিন দেখব অন্য কাউকে নিয়ে, সেটা হয়ত হবে অন্য কারো পৃথিবী উল্টানোর কারণ। তবে স্বপ্ন থেমে থাকে না, কারো জন্য নয় ……
সে যাকগে, তুমি কিন্তু অবশ্যই তোমার নিজের প্রতি যত্ন নেবে । আমি হয়তো সব সময় তোমার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারি না, কিন্তু তোমার কথা সবসময় ভাবি, লোক মারফতে খোঁজ-খবর নিই৷ যোগাযোগ করি না তোমার মঙ্গলের কথা ভেবেই৷ পাছে তোমার সুখের সংসারে অশান্তির কালো ছায়া নেমে আসে!

তুমি যেখানেই থাকো, যেমন থাকো, ভাল থেকো, খুব ভাল! ঈশ্বরের কাছে এই একটি মাত্র প্রার্থণা আমার৷ শুধু জেনে রেখো, আমি তোমায় ভালবেসেছিলাম, আজও ভালবাসি, সারা জীবন ভালবেসেই যাব৷ এ জনমে না হলেও পরজনমে আমাদের মিলন হবেই!

ইতি,
তোমার বিস্মৃতজন বিরাগভাজন

সামনের ডিসেম্ভরে আমার লেখকবাবুর জন্মদিন। হয়তো তার কাছে আর পাঁচটা কর্মময় দিনের মতোই দিনটি তাই সেদিনও সে ব্যস্তই থাকবে কিন্তু আমার কাছে বিশেষ দিন। শরৎ বাবুর দেবদাসেও কাহিনীর অন্তিম পরিনতিতে দেবদাস পার্বতীর কাছে একবার গিয়েছিলো। দেবদাসের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই সেই কাহিনীর ইতি হয়েছে কিন্তু আমি দেবদাস নই বা লেখকবাবুও পার্বতী নয় তবুও এই কাহিনীর পরিনতিও বিচ্ছেদেই শেষ হবে। সবাই বলে ভালোবাসাতে দূরত্ব কোন ব্যাপার না কিন্তু আমি জানি আমার যে মন সুদূর আরবে পড়ে আছে তাকে আমার হৃদয়েই ফিরিয়ে আনাটা কতোটা দূরত্বের পথ। তবুও কবির ভাষাতে বলতে পারি –
” ভালোবাসি ভালোবাসি এই সুরে কাছে দূরে জলে স্থলে বাজায় বাঁশী ।।
আকাশে কার বুকের মাঝে ব্যাথা বাজে , দিগন্তে কার কালো আঁখি আঁখির জলে যায় ভাসি ।।”

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.