মেঘ রাজ সাইমুন

আমি ‘মেঘ রাজ সাইমুন’।’মেঘ রাজ’ সংযুক্ত করার বিশেষ কারন হলো নিজেকে নীল আকাশে মুক্ত মেঘের রাজা ভাবতে ভালো লাগে।যদিও নিজের নিজস্বতা নিয়ে আমি স্বাধীন নয়।এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন যে,আমি নিশ্চয় সমাজের স্বাভাবিক আর পাঁচদশটা ছেলের মতো নয়।হ্যাঁ,ঠিক ধরেছেন,আমি একজন সমপ্রেমী।বাংলাদেশের যৌনসংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর একজন।সমাজের অদৃশ্য অন্ধকারের মাঝে লুকিয়ে আছি।কিন্তু নিরালোক বা অন্ধকার ভেদ করে আমি সামনে আসবই একদিন,আসবে আমার মত নিরীহ নিরপরাধ হয়েও সমাজের দুয়ো শোনার ভয়ে ভীত আমার অসংখ্য ভাইবোনেরা,বন্ধুরা।আমি এবং আমরা সবাই হবো,নীল আকাশে মুক্ত মেঘের মতো উড়ন্ত এবং স্বাধীন।কেউ ডাক শুনে না এলেও চলবো আমি একলা ‘মেঘ রাজ’ হয়ে। আমার এবং আমার মত লাখো বঞ্চিতের এলজিবিটি অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আমি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেব বেছে নিতে চাই লেখালেখি ও আমার অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে।যেহেতু এই ক্ষেত্রগুলোতে আমি ইতোমধ্যে সম্মানের সাথে বিচরণ করা শুরু করেছি।আমার লেখার হাতে কড়ি সদ্য কৈশোরে,বাংলাদেশ বেতার বিভাগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চিঠি লেখা দিয়ে।তারপর ২০০৬ সালে দৈনিক পত্রিকা ‘নয়া দিগন্ত’এর সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘থেরাপি’তে ‘এক যে ছিলো রাজা’ কবিতার প্রথম লেখা প্রকাশ।এছাড়া আরো কয়েকটা পত্রিকায় ছড়া,কবিতা,ছোট গল্প প্রকাশসহ স্কুল ম্যাগাজিনে লেখা চলে।তারপর ২০১৪ সালে নতুন জগত অর্থাৎ নিজস্ব সত্ত্বার কতগুলো মানুষের সাথে যোগাযোগ।২০১৫ সালের আগষ্ট হতে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে লিখিত সমপ্রেম গল্প,উপন্যাস এবং কবিতা প্রকাশের সুযোগ হয়। আমার এমন কোনও সাহিত্যরচনার ইচ্ছে হয় না,যেটা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রচুর লাইক,কমেন্ট পাওয়া যাবে।কোয়ান্টিটি-পাঠক নয়, কোয়ালিটি-পাঠক টার্গেট করে আমি কবিতা,গল্প,উপন্যাস লিখে রাখছি।কিছুটা দারিদ্রজনিত কারণে,কিছুটা নিজেকে আরও বেশি পরিণত করার তাগিদে লেখাগুলো বই হিসেবে প্রকাশ করার জন্য আমি বেশ বড় একটা সময় নিচ্ছি। লেখা হবে আমার সাহস ও সংগ্রামের মূলধারা।মেইন্সট্রিম সাহিত্য হিসেবেই সমাজের অদৃশ্য অন্ধকার হতে হঠাৎ প্রকাশিত হয়ে সমাজকে হতভম্ব করে দিয়েই একদিন আমার এলজিবিটি আদর্শের লেখাগুলো সাড়া ফেলবে বাংলাদেশে।আমি এলজিবিটি প্রাইডে অংশ নেব,এমন দিন আসতেই হবে,আপাতত এই আমার লক্ষ্য।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.