অবেলায় জোৎস্না বিহার

লেখকঃ চিন্ময়ের ইতিকথা

১.
ফেসবুকের ওপাশ থেকে একটা টেক্সট এলো। বললো
-তুমি জোৎস্না পছন্দ করো?
অামি একটুও চিন্তা না করে প্রতিউত্তর দিলাম
-না, অাসলে ব্যাস্ত জীবনে এসব পছন্দ অপছন্দের খবর রাখা হয় না। জীবন অামাকে এসব চিন্তার জন্য সময় দেয়নি।
-কিসের জন্য সময় অাছে তবে..?
-ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার জন্য। অাপাতত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বর্তমানের লোভ ভোগ লালসা সব বিসর্জন দিচ্ছি।
-বাপ্রে, ফিলোসোফার ফিলোসোফার লাগছে।
মুচকি হেসে বেরিয়ে এলাম ফেসবুক থেকে।মনে মনে বলছি “ফেসবুকে কত ধরনের পাগলই থাকে, নেই কাজ তো খই ভাঁজ। কারেন্ট চলে গেছে। চারদিকে কেমন যেন ভ্যাপসা গরম। অত্যাচারী গরমের রক্ষাকবচের জন্য জানালা খুললাম। সাথে সাথে বিনা নিমন্ত্রনে ঘরে ঢুকলো জোৎস্না। অথৈ জোৎস্না। কিন্তু এর মাঝে কোন সৌন্দর্য্য খোঁজে পেলাম না অামি।

কয়েকদিন ধরেই চ্যাট করছি পাভেল নামে একটা ছেলের সাথে। ছেলেটা কেমন যেন কাব্যিক টাইপ। অামি ত বুঝেই পাই না এত কাব্য, কবিতা অাসে কি করে? এতটা কাব্যিকতা, রোমান্টিকতা অামার মাঝে কখনো ছিলো না, বুঝতেও পারি না।
.
ফেসবুকে চ্যাট চলতে থাকলো। যেন সময়ের কারাগারে অার বন্ধী নই। অাগের সেই রোবট ভাবটা মিইয়ে গেছে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে তার সাথে কথা বলতে ভালো লাগে। ইদানিং অামি কল্পনাও করি।তাকে নিয়ে। এসব কি প্রেমের পূর্বাভাষ? না কি যাপিত জীবনের অবিচ্ছেদ্য কামনার ভদ্র রূপ।
.
এমন মনসম্পর্কের দোটনায় দোল খেতে থাকা অামার সাথে কথা হয় পাভেলের। প্রতিদিন।
কেন যেন ভালো লাগে তাকে। শুধু ভালো না, খুব বেশী ভালে। যে ভালোলাগার উচ্ছ্বাস প্রকাশ পায় অামার যাপিত জীবনের মুহুর্তগুলো তে। এমন এক শারদের দ্বিপ্রহরে পাভেল বললো
-‘চন্দ্রাহত হতে চাও? ‘
-‘ঢাকায় মুমুর্ষ মলিন জোছনা দীর্ঘশ্বাস ছাড়া অার কিছু অনুভব করায় না। ‘
-‘কেন অাসো না অামার কুটিরে, নিমন্ত্রিত অতিথীর জন্য যে পথপানে চাওয়া….’
-অামি অাসবো। খুব শীঘ্রই….
.
‘কেন তার কাছে যাবো’, প্রথমেই অামার এ ধরনের একটা চিন্তা মাথায় খেলল। পরক্ষনে মনে মনে নিজেই জবাব দিলাম
-হয়তোবা অনুভব করতে, অযাপিত ভালোলাগা…..
পাড়ি দিলাম অারো ৫ টা মাস। হঠাৎ করে ছুটি পেলাম অফিস থেকে।প্রথমেই পাভেলের কথা মনে হলো। তারই জন্য সে বসন্তদিনে ঢাকা থেকে রওনা দিলাম। ভালোলাগার ঠিকানায়। পাভেলের বাসা নেত্রকোনা দূর্গাপুরে।

২.
দূর্গাপুর বাস স্ট্যান্ডে নামতেই দেখে পাভেল অামার জন্য দাড়িয়ে অাছে। দুধশাদা শার্ট ও নীল জিন্স পড়ে দাড়ানো। সাধাসিধে চেহারা, একটু কালোই বলা চলে। হাসলো অামার দিকে তাকিয়ে, হাসি ত না বুকে হাতুড়ি মারা… এই একটা হাসিতেই মনে হলো অামি হয়তোবা তার মায়ায় অাকন্ঠ পর্যন্ত ডুবেছি। ভুলতে বসেছি অামারে, হালকা চাপদাড়ি, অায়ত চোখ ও একহারা গড়ন সবমিলিয়ে কেন যেন মায়া জন্মে যায়। তার দিকে এগিয়ে গেলাম। না, ছবির সাথে পুরোপুরি মিল। সে প্রথমেই বললো
-ভ্রমনটা মনে হয় বিরক্তিকর ছিলো….

অাবারো মুগ্ধ হলাম তার কন্ঠে। অাবেগের রাশ টেনে স্বাভাবিক হতে হতে প্রথম উত্তর
-হা তা ছিল, তবে পৌছুবার পর মনে হলো ক্লান্তিটা দরকার ছিলো, নয়তো এখন এতটা ভালোলাগা কাজ করতো না।
সে অামার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো
-গ্রাম ভালো লাগে?
-এতোটা না।
-তাহলে তোমায় কষ্ট দেবো ২ টা দিন। মানিয়ে নিতে পারবে না..?
-এমনভাবে বলার কিছু নেই। অামি কারন খোঁজতেই এসেছি কেন ভালো লাগে না গ্রাম….।
-শুধুই কারন?
-বাকিটা হয়তোবা পরিস্থিতি বলে দেবে।

তারপর সে একটা ভ্যান ডাকলো। ভ্যানে অবশ্য এর অাগে উঠি নি।
উন্মুক্ত খোলা হাওয়া চুমো দিয়ে যাচ্ছে সারা শরীরে। অামার পেশীবহুল বাহু ভাঁজ করে রেখেছি বুকের কাছে। সোনালী হলুদ গা বেয়ে টুপ টুপ করে ঘাম ঝরছে। অনেকেই বলে
-তোমার শরীর থেকে ঘাম না, যেন গলিত সোনা ঝরে।
মাননীয় পাভেলের কি অবস্থা তা দেখবার জন্য পাশে তাকাতেই সে দ্রুত অন্যদিকে নজর ঘুরিয়ে নিলো। মুচকি হেসে তাকালাম বাসন্তী অাকাশে। ঘননীল অাকাশে তাজা মুক্তির স্বাদ। যেমন পাচ্ছি অামি….।

৩.
পৌছুলাম তার বাড়ির সামনে। ঢুকতেই পারিবারিক উষ্ণ অভ্যর্থনা।যেন সবাই অামার কত অাপনজন। পরিচয়পর্বের পর ফ্রেশ হলাম। তারপর প্রমান পেলাম বাঙালীর ভয়াবহ অতিথেয়তা। অান্টি মাতৃস্নেহে অত্যাচার চালালো। এ যে ভালোবাসার অত্যাচার। অান্টি যখন চিন্তা করলো ছেলের পেট ভরে গেছে তখন অামি হাঁসফাঁস করছি। তার রুমে দুজনে দুটো সিগেরেটের সহিত ক্ষনিকের বিশ্রাম সারলাম। তারপর তার উক্তি
-চলো অাজকে রাতটা কাটাবো ফুলবাড়িতে।
অামি সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তাকানোর অাগেই সে বলে উঠলো
-ছোট্ট একটা কুটির। চলো অাগে।
রাত্রে থাকার মতো জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম তার পিছু পিছু।
কিছুক্ষনের মধ্য পৌছে গেলাম। বিষ্ময়ে একটা কথাই বেরুল মুখ দিয়ে। অপূর্ব……।

চারপাশে পাহাড়। পাহাড়ের পাদদেশে ছোট্ট একটা কুটির। কুটিরের চারপাশে নাম না জানা বিভিন্ন ফুলগাছ, যেন সৌন্দর্য্যের অাগুন লেগে গেছে। সামনেই একটা পুকুরঘাট, তার পাড়ে কিছু কৃষ্ণচূড়া গাছ মাথাতুলে সগর্বে দাড়িয়ে অাছে। অামি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম চারদিক।
তার ডাক অামায় বাস্তবে নিয়ে এলো। ঘরে ঢুকলাম। একটা চৌকি ও অল্প কিছু অাসবাবপত্রে ঘরটা সুসজ্জিত। ব্যাগ রাখতেই কেমন যেন ক্লান্ত লাগছিলো। এলিয়ে দিলাম বিছানায় নিজেকে। তারপর হারিয়ে গেলাম ঘুমের রাজ্যে…….

৪.
কপালের কাছে অল্প স্পর্শ পাচ্ছি। কোন শক্ত কর্ষনময় হাত অামায় ছুঁয়ে যাচ্ছে অল্প করে। চোখ মেলে দেখি পাভেল বসে অাছে অামার পাশে। অামার উদ্দ্যেশ্যে প্রথম কথা
-কি হলো ঘুমবাবু? অার কত ঘুমোবেন! ঘড়ি যে বলছে ১০ টা বাজে।

তড়াক করে হাতঘড়ির দিকে নজর চলে গেলো। থতমত খেয়ে গেলাম! ৫ ঘন্টা ঘুমিয়েছি। কেমন যেন লজ্জ্বা লাগছে। সে সাবলীল ভঙ্গীতে বললো
-ফ্রেশ হও এবার। তারপর ডিনার করবো।
অবাক হলাম। কুটিরের সাথে লাগোয়া বাথরুম। তবে বোঝা যায় না। ফ্রেশ হয়ে ঘরে ঢুকতেই অারেকটি চমক। ঘরের কোনে ডাইনিং টেবিলে জ্বলছে হরেক রঙের মোমবাতি। যেন নানান রঙের তারার রাজ্যে হারিয়ে গেছি। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে টেবিলে বসতেই সে পরিবেশন করছে। নানান রঙের অালোর ভিড়ে তাকে দেখছি। তার ঠোঁটের কোনে হাসি যেন কালো হীরা ঝিকিয়ে উঠে। খাবার শেষ করলাম। তখনো বাইরে যাই নি। এবার বললাম
-চলো একটু বাইরে যাবো।
সে মুচকি হেসে বললো
বাইরে ত যাবো অবশ্যই। তবে তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ।
অামি অার অবাক হতে পারছি না। অাবার কি সারপ্রাইজ!
সে অামার অবাক হওয়া জিগ্গাসু চোখের দিকে তাকিয়ে বললো
-তোমাকে একটা জায়গায় নিয়ে যাবো। তবে চোখ বেঁধে। অার তোমায় কোলে করে নিয়ে যাবো।
অামি অাপত্তি করতে যাচ্ছিলাম কিন্তু তার মুখের দিকে তাকিয়ে অার না করলাম না।

চোখ বেঁধে অামি তার কোলে। অামার ঠোঁটটা প্রায়ই তার গলার কাছে লাগছিলো। তার হালকা কাঁপন কি বোঝাচ্ছে? জানি না। তার শরীরে হালকা পোড়া দুধ ও কামিনী ফুলের গন্ধ পাচ্ছি। ভালোলাগছে গন্ধটা। জোরে নিঃশ্বাস নিলাম তার গলার কাছে। সে অস্ফুট স্বরে গোঙিয়ে উঠলো। অনেকক্ষন কোলে চড়ার পর সে অামায় নামিয়ে দিয়ে বললো
-খুলো তব চোখবন্ধনী….।

৫.
চোখ খুলে অামি যা দেখলাম তা অবিশ্বাস্য! এও কি হয়। কোথায় অাছি অামি। অষ্টাদশীর ভাঙা চাঁদের উপচে পড়া রূপোলী জোছনার প্লাবনে ভাসিয়ে নিচ্ছে চরাচর, যেন মহাকাল অাজ বিশুদ্ধ হচ্ছে জোছনাস্নানে। অথৈ পাহাড়িকা জোছনায় ভেসে যাচ্ছে চারদিক।
পাহাড়ী অরণ্যের মাঝে দাড়িয়ে আছি। গাছের ফাঁক দিয়ে ফালি ফালি জোছনার অাঘাতে প্রকৃতি ভুলতে বসেছে তাকে, ছড়িয়ে দিয়েছে মায়ার জাল। হঠাৎ পাভেলের দিকে তাকালাম। কিন্তু এ কি! এ কি পাভেল। অসহ্য সৌন্দর্য্য নিয়ে দাড়িয়ে অাছে অামার পেছনে। সে অামার হাতটা ধরে সামনের দিকে ইশারা করলো। অামিও মন্ত্রমুগ্ধেরর ন্যায় হাটতে লাগলাম তার পিছু পিছু।
একটা জায়গায় এসে থামলো। বেশ কিছুটা খোলা জায়গা। তার মাঝে একটা পুকুর। সারা পুকুরে রূপোলী গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছে কে যেন। সিক্ত জোছনার প্রতিফলন হচ্ছে অামার মুখে। এ যেন মহাজাগতিক অমিও ধারার সুখ, যে সুখ ভেসে অাসে কালস্রোতে। পাভেলের দেখাদেখি পুকুড় পাড়ে বসে পা ডুবালাম পানিতে। হঠাৎ সে বললো
-অাচ্ছা তুমি তো জোছনা পছন্দ করো না। তাই না?
চোখের কোন কেন জানি অার্দ্র হয়ে উঠেছে। জোছনার অালোয় ঝিকিমিকি করা চোখের পানি লুকোতে লুকোতে বললাম
-না, পছন্দ করি না।
এই বলে তার দিকে ঘেঁষে বসলাম।
*
অনেকটা সময় নিশ্চুপ কাটানোর পর বললাম
-চলো চলে যাই।
সেও অমত করলো না। চুপচাপ চলতে লাগলাম।
কুটিরের কাছে অাসতেই দেখি অপূর্ব জোছনায় কুটিরটা অসাধারন লাগছে। ঘরের কোনে শেফালী ফুলের গাছ। বেশ শেফালী ফুল ফোটেছে। অামি গাছের কাছে দাড়ালাম। সে গাছের নিচে অাসতেই জোরে একটা ঝাঁকি দিলাম। ঝরে পড়ছে অনেক শিউলী…। সে চুপ করে দাড়িয়ে অাছে। সত্যিই এ পাভেল নয়। অন্য কেউ….। শিউলী ও জোছনাস্নানে সে শুদ্ধ হয়েছে।
.
ঘরের দাওয়ায় বসলাম। দুজনে দুটো সিগেরেট ধরাতে ধরাতে চিন্তা করছি অাজকে রাতের ছেলেমানুষী। হঠাৎ যেন অামার মন পড়ে সে বললো
-অাজকে অসেক ছেলেমানুষী হয়ে গেলো।
-এবার তবে বড়মানুষি কিছু করি।
সে অামার দিকে তাকালো

৬.
হাতের সিগেরেট টা দূরে ঢিল দিয়ে ফেলে দিলো পাভেল। অামার দিকে তাকালো। এ চোখ কেউ ভুলতে পারে না। অামার দিকে এগিয়ে এলো,
চোখাচোখি,
তপ্তশ্বাস
মদিরতা
করাল অাহ্বান।
অাবেশে চোখ বন্ধ হয়ে অাসছিলো অামার। সে অামার ঠোঁটে ঠোঁট রাখলো। ঝাঁঝাল নিকোটিনময় ঠোঁটের যে কি অনন্য স্বাদ। উষ্ণ চুম্বনে সারা দিচ্ছি অামিও। দেহে দেহে ছুটছে কামনা। অবশেষে দুজন পর্যায়ক্রমে চলে গেলাম দুজনের গভীরে, খুব গভীরে………

রতিক্রিয়া শেষে বিবস্ত্র দুজন ঘরের দাওয়ার বিছানায় নগ্ন হয়ে শুয়ে অাছি।শেষ রাতের জোছনা অামাদের উপর অাছড়ে পড়ছে। জোছনায় মাখোমাখো হওয়া পাভেল অামার বুকের উপর শুয়ে অামার বুকের লোমগুলোর উপর অাঙুল বুলাচ্ছে। অামি সিগেরেট টানছি। ভোঁশ ভোঁশ করে ধোঁয়া ছাড়তে ছাঁড়তে বললাম

-অাচ্ছা, এ জায়গাতে অাগে কেউ এসেছিলো?
-হা, অনেকেই। কেউ বর্ষা পছন্দ করতো না, কেউ হেমন্ত কেউবা ফাল্গুনী বিকেল….। তারা এসেছে, কয়েকটা মুহুর্ত কাটিয়েছে…. এইতো।
কিছুক্ষন চুপ থেকে বললাম
-তারা কি…… …
-বুঝতে পেরেছি কি বলবে। অাসলে তোমার সাথেও যা হয়েছে সবার সাথেও এমনি হয়।
-কেন এমন হয়?
-কারন ভালোবাসার বাঁধনে বাঁধা পড়তে চাই না। দু মিনিটের ক্ষনস্থায়ী জীবনে ভালোবাসার সঙ্গা খোঁজে অার বিভ্রান্তি তে পড়তে চাই না। তার চেয়ে কামনা ভালো……

অামার খুব কষ্ট লাগছে। কেন মানুষ ভুল মানুষের প্রেমে পড়ে? চেয়েছিলাম তাকে অামার মতো করে পেতে। অাসলেই এটা মোহ, মোহ কেটে যাবে… তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে রেখেছি। কাটছে মোহ, কাটছে রাত অার কাটছে অামার স্বল্পকালীন প্রেম।
চোখের কোন দিয়ে দু এক ফোঁটা তরল হয়তোবা পড়লে পড়তেও পারে। মহাবিশ্বের বিপুল বিশালতার মাঝে এত নগন্য ও ক্ষুদ্র দু ফোঁটা চোখের জলের খোঁজ কেউ রাখবে না। কেউ না…….

৭.
পরদিন সকালেই রওনা দিলাম। বিচ্ছেদের অাবহাওয়া যেন পরিবেশটাকে থমথমে করে রেখেছে। বাসে উঠে তার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ালাম। সে চুপ করে দাড়িয়ে অাছে।
ফেলে অাসতে থাকলাম, একটা সুন্দর রাতের স্মৃতি। অাচ্ছা রাতটা কি সত্যিই সুন্দর ছিলো….. তা অাজো জানি না।
বাসায় এসে দেখি তার অাইডি ডিএক্টিভ। অন্য,অাইডি দিয়ে চেক করার পরেও একই অবস্থা। ফোন নাম্বার বন্ধ। হারিয়ে গেলো সে চিরতরে…..

মাঝে মাঝে প্রবন জোছনা হয় ঢাকায়। অামি জানালা খুলে দেই। ১৫ তালা ভবনের জানালা দিয়ে জোছনা অাসে। কিন্তু সে জোছনা ব্যাথা নিয়ে বেড়ায়। তার জীবন সায়হ্নে ও অামার জীবনের অবেলার কাটানো জোৎস্নার কথা মনে পড়ে মাঝে মাঝে মাঝেই।
হঠাৎ কেউ একজন কোন এক দিন ফেসবুকে নক করে বলে
-অাপনার কি জোছনা পছন্দ?

অামার খুব বলতে ইচ্ছা করে , “হা অামি জোৎস্না ভালোবাসি। ভালোবাসি জোৎস্নায় কারো হাত ধরে পুকুর পাড়ে বসে থাকতে। কিন্তু সে জোৎস্না রাতের কথা মনে পড়ে ও বারবার বুকটা হাহাকার করে উঠে। তাই কিছু বলি না।। ম্যাসেজটা সীন করে রেখে দেই ও ভাবি অার যেন না অাসে অামার জীবনে। অযাপিত ই থেকে যাক ভবিষ্যতের জোৎস্নারাত গুলো………

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.