আত্মপ্রকাশ

লেখক: অরুনের ডায়রি থেকে

পর্দার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলোটা আমার চোখের উপর পড়তেই ঘুমটা ভাঙল। কম্বল থেকে মাথাটা বের করে দেখি সাড়ে ছ’টা বাজতে চলেছে। পাশে রনি দা ঘুমোচ্ছে মাথা মুড়ি দিয়ে। ও পাশের ঘরে সজু আছে। বাইরে তখন প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। উঠে গিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে হিমালয়ের এক অসাধারণ সূর্যোদয়ের সাক্ষী হবার ভাগ্য পেলাম। পাখির কূজনে নিঃশব্দ ডুয়ার্স চঞ্চল হয়ে উঠেছে। হু হু করে কনকনিয়ে বাতাস বইছে। আমার শার্টের প্রত্যেকটা বোতাম ছেড়া। ঠকঠকিয়ে কাঁপতে কাঁপতে দু-হাত দিয়ে জামাটা টেনে ধরে আছি। আর বাইরে এই অবস্থায় থাকা যাচ্ছে না। অগত্যা ঘরে; ঢুকে এসে দেখি চোখ বন্ধ করে খাটে বসে ঢুলছে রনিদা।

গুড মর্নিং দাদা…
মর্নিং
তুই কখন উঠেছিস? আমাকে ডাকলি না কেন? বাইরে কি করছিলি?
এই মাত্র তো উঠলাম… (খুব নিচু স্বরে) , বাইরেটা খুব সুন্দর লাগছে… তুমি দেখো
আমি জানালার পর্দাগুলো সরিয়ে ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
কিরে এতো গুটি শুটি মেরে দাঁড়িয়েছিস কেন রে? শীত করছে?
হ্যাঁ ………………………… ঠাণ্ডা তো আছেই ………… !
রনিদা আমার হাত দুটো নিজের কাছে টেনে নিলো… আমি নিস্তব্ধ!
একি, তোর জামা তো পুরো ছিঁড়ে গেছে… আর এই সব কি অবস্থা…
তুমি জিজ্ঞেস করছ রনিদা ?
তোর সারা শরীরে এই লাল লাল…… এই সব কি করে হল… পুরোটা খোল দেখি, পিঠটা দেখি…
তুমি জিজ্ঞেস করছ রনিদা ?
কেন? এই সব আমি করেছি না রে… ?
আসলে কাল রাতে ল্যাপটপ বন্ধ করার সময়……
এক দীর্ঘ শ্বাসে দুজনেই চুপ। রনিদা একটু ইতস্তত বোধ করছে। হয়তো লজ্জা পাচ্ছে… আমিও নিশ্চুপ। পরিবেশটা গম্ভীর হয়ে উঠছে। এমন প্রভাতে আমি চাইছিলাম না এমনটা হোক…
আজ তো আমাদের ফেরার দিন তাই না? কখন বেরবো আমরা ? … তোমার জন্য আমি কফি বানিয়ে আনি ততক্ষণ … সজুও এখুনি উঠে পড়বে।
না দাড়া… কফি পরে হবে। আমার কাছে আয়! আগে বল তোর কোথাও কোনও কষ্ট নেই তো? আর তুই এখুনি জামাটা খুলে দে…
আমার কাছে আর পড়ার মত তেমন কিছু নেই এখানে…
(কয়েক সেকেন্ড পরে…)
হমম… (নিজের গা থেকে কালো গেঞ্জিটা খুলে) এটা পরেনে… প্লিজ… আর সজুকে কিছু বলিস না…
আমাকে কি তুমি এখনও বিশ্বাস করো না ?
না না, আমি তোকে নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস করি… সত্যি বলছি।
(আমি স্মিত হেসে) তাহলে কেউ জানবে না… এটা শুধু তুমি আর আমি…
গেঞ্জিটা হাতে নিয়ে আমি কিচেনের দিকে চলে যাচ্ছি…
আর শোন… একবার কাছে আয় (আমি কাছে গেলাম)…
কিছুক্ষণ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরল…
অ্যাম সরি ভাই, ভেরি সরি… আই কান্ট কন্ট্রোল মাইসেলফ… প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড এন্ড পারডন মি… প্লিজ
নো সরি …, নো পারডন……, আফটার অল উই লাভ ইচ আদার, মাই ব্রো…
অ্যাকচুয়ালি ইউ আর ভেরি … ভেরি মাচ… জাস্ট খুব ভালো… আমার তোকে খুব ভালো লেগেছে

আমার গালে আর বুকে একটা ঠোঁটের পরশ দিলো, আমিও ওর বুকের মাঝে একটা পরশ দিলাম।
এবার তুমি একটা জামা পরে নাও, আমি কফি রেডি করে আনছি।

আসলে জ্ঞান হতে সম্পর্কটা বড় ভাই সহিত ছোটো ভাই হলেও বয়সের সাথে সাথে সেটা আজ পরিণত হয়েছে বন্ধুত্বে,ভালোবাসার গভীরতায়। আমার ম্যাট্রিকের (10th Stander) শেষ দিন। বাড়িতে ফিরে শুনলাম রনিদা (ভালো নাম রনেন) আর সজুদা (ভালো নাম সজল); আমার খুড়তোতো বড় ভাই আমাদের বাড়িতে এসেছে। ওদের সেদিনই রাতে সুপারফাস্ট ট্রেনে ডুয়ার্স বেড়াতে যাবার প্রোগ্রাম। কিন্তু রনিদার বন্ধুর অসুস্থতার কারণে সে যেতে পারছে না। তাই তার বদলে আমাকে প্রস্তাব। আমি তো হতভম্ব। আগে কখনও বাড়ি থেকে একলা ছাড়েনি। তাই আমিও নিশ্চিত ছিলাম এবারও শিকে ছিঁড়বে না। রনিদা আমার থেকে পাঁচ বছরের বড় আর সজু চার। আমাকে অবাক করেই অনুমতি মিলল যাবার, তখন বিকেলের সূর্য প্রায় দিগন্ত ছুঁয়েছে। হাতে মাত্র ঘণ্টা খানেক। এই প্রথম বাবা-মা ছাড়া যাচ্ছি। এতো সব গোছাবো কি করে? সেদিন খুব দায়িত্ব সহকারে রনিদা বলল-

“তোকে কিছু নিতে হবে না। শুধু আমার সাথে চল… বাকি সব দায়িত্ব আমার। তোর জন্য আমি অনলাইনে এসি তে টিকিটও কেটে নিয়েছি। আমার সাথে ঘুরতে তোর ভালোই লাগবে।“

রনিদা তখন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ফাইনাল ইয়ার। ছোটো বেলা থেকেই আমাদের সাথে খুব দোস্তি। ও একটু বেশি মিশুক, দায়িত্বশীল, যত্নশীল। ট্রেনে ওঠার পর থেকেই ওর মধ্যে একটা অদ্ভুত অভিভাবকত্বর ছাপ লক্ষ্য করতে শুরু করলাম। বেশিরভাগ সময়টায় আমার পাশে বসেই যেতে স্বাছন্দ্য বোধ করছে। ওর গায়ে গা লাগিয়ে বসার একটা দারুণ অনুভূতি আমার শুরু হয়েছে। একটু ফাজলামো করা স্বভাব ওর, তাই শুরু থেকেই শুরু করে দিয়েছে নন-ভেজ ফাজলামো। আমার কিন্তু তখন ভেজ, নন-ভেজ, প্রাপ্তবয়স্কতা, যৌনতা ইত্যাদি সম্পর্কে তেমন কোনও ধারনাই নেই। এমনকি কেউ এই বিষয় কথা বললে খুব লজ্জা পেতাম। রক্ষণশীল পরিবারের বাধনে ইংরাজি সিনেমাও দেখা চলে না প্রায়। তাই এই দুনিয়া থেকে অনেক দূরে ছিলাম আমি। শুধু ক্লাস এইট থেকে কবীরের কোচিং এর বান্ধবীর সাথে প্রেম বা মল্লিকাকে নিয়ে আলোচনা অনেক হয়েছে স্কুলে।

পরদিন সকালে স্টেশনে নেবে জিপে করে ঘণ্টা খানেকের পথে একটি প্রাইভেট রিসোর্ট। দারুণ রোমাঞ্চকর একটা নিরিবিলি পরিবেশ। ডিলাক্স রুম; এসি ঘরের ভাড়াও বেশ। তবে কোনও খরচই আমার নেই। আমি সেখানে নেহাতই কিশোর। সজল মানে সজু একটু চাপা স্বভাবের। একলা থাকতে বেশি ভালোবাসে। খুব বেশি সখ্যতা আমার সাথে নেই। দুই খানা ঘরের মধ্যে সজুদা একটায় আর আমি ও রনিদা একটায়। আমার খুব আনন্দ হতে লাগলো আমি রনির সাথে একসাথে থাকবো। আসলে আমার প্রতি ওর যত্নশীলতায় তখনও আমি বুঝে উঠতে পারিনি যে কখন ওর প্রতি আমার একটা ভালোলাগা জন্মে গেছে। ওর সংস্পর্শে থাকতে আমার মধ্যে একটা শক্তি প্রবাহিত হতে লাগে। ওর না কামানো কালো দাঁড়ির ফর্সা মুখখানি আমাকে বড়োই আকৃষ্ট করে তুলত। তিনদিনের মাত্র সফর। তারপরেই কলকাতায় ফিরেই ও ব্যাঙ্গালোর চলে যাবে।
সারাদিনের জঙ্গল সাফারি করে ক্লান্ত শরীরটা বিছানায় হেলাতেই দিনের সূর্যটা দিগন্তে মিলতে লাগল। সারাদিন ঘোরার পর রিসোর্টের ঘরে ঢুকেই সোজা ল্যাপটপ নিয়ে বিছানায় উবু হয়ে শুয়ে পড়া আর তারপর থেকেই খুটুর খুটুর… অনেকক্ষণ পরে আমার দিকে ঘুরিয়ে বলল- “তোর যা ইচ্ছে হয় কর, আমি ফ্রেস হয়ে আসি।” কিন্তু সত্যি বলতে আমি ডেস্কটপে ওয়ার্ড-এক্সেল এর কিছু কাজ ছাড়া কিছুই পারতাম না তখন। আর ল্যাপটপ তো দূরস্থ। এই ফোল্ডার ওই ফোল্ডার ঘেঁটে একটা ইংলিশ মুভি বের করে দিয়ে রনিদা বাথরুম চলে গেলো। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি ওটা অ্যাডাল্ট সিনেমা। যাই হোক… আমার তো দারুণ লাগছে। যেহেতু দেখার অভ্যাস নেই, তাই আরও রোমহর্ষক লাগছে। নিজেই নিজের মনকে বলছি যেন “আজ থেকে একটা নতুন জীবনে পা দিলাম। আজ থেকে আমি বড় হয়ে গেলাম…”

কখন যে রনিদা পিছনে এসে দাঁড়িয়ে আছে আমি খেয়ালই করিনি। একটা ঘনিষ্ঠ দৃশ্য শেষে ঘাড়টা সোজা করে তুলে পিছনে তাকিয়ে দেখি রনিদা এসে দাঁড়িয়ে আছে। সুপুরুষের দেহে একটি ছোটো হাফ প্যান্ট ভিন্ন আর কিছুই নাই। বাদামী চামড়ায় লোমাবৃত সুঠাম গঠনে সে ভীষণই আকর্ষণীয়। সোজা এসে আমার পাশে বিছানায় গড়িয়ে পড়ল।

কেমন লাগছে সিনেমাটা দেখতে? এটা আগে দেখেছিস ?
না, একেবারেই না। ইংলিশ মুভি আমার ভাগ্যে জোটে না। আজ খুব ভালো লাগছে। কেমন অন্য রকম লাগছে। তোমার কাছে আরও আছে ?
হা হা হা…! আরও চাই… হমম! আরও আছে, অনেক আছে।
না মানে আমি ওই ভাবে বলিনি তোমায়। তোমার কাছে আর কি আছে ?
কি ভাবে বলিসনি ? সত্যি করে বলতো, কি দেখতে চাইছিস ?
আচ্ছা, আমাকে বলোতো… সিনেমায় ওই লোকটা ওর বউকে ভালোবাসে আবার ওর অফিসের বন্ধুকেও ভালোবাসে। কিন্তু সে তো একটা ছেলে…
তুই এখনও নেহাতই বাচ্চা আছিস রে… পরে বুঝে যাবি সব
না, না, না, বাচ্চা নই আমি। আজ থেকেই আমি বড়। আমাকে তুমি প্লিজ বল।
সজুর হঠাৎ ঘরে প্রবেশে আমি রীতিমত অপ্রস্তুত। ওর সামনে আমি একটু লজ্জা পেতাম বটে এই সব ব্যাপারে। রনিদাও সরে গেলো। সেদিনকার মত ল্যাপটপ বন্ধ। নিঝুম রাতে আমি রনিদার উষ্ণ শরীরটাকে জড়িয়ে নিদ্রাহীন রাত্রিযাপন করছি। মাথার ভিতর শুধুই একটা প্রশ্ন আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। সিনেমায় জ্যাকের, স্টুয়ার্ডের প্রতি প্রেমটা কোথায় যেন আমার ভালোলাগার আমার ফিলিংস এর সাথে মিলে যাচ্ছে। কিন্তু কিছুতেই নিজেকে উত্তর দিতে পারছি না। তবে কি আমার মানসিক চিন্তা ধারাটা বিকৃত নাকি এটাও জীবন। তবে কি আমিও সমকামী ? প্রশ্ন করলাম নিজেকে…

সেদিন কিন্তু আমি একবারের জন্যও নিজেকে অপরাধী ভাবিনি … নিজের উপর থেকে আস্থাও হারায়নি। নিজের প্রতি বিশ্বাস ছিল অটুট।

দ্বিতীয় দিনের ট্যুরটা একটু দীর্ঘমেয়াদি। তাই ক্লান্তিটাও বেশি। ডার্ক গ্রিনের জ্যাকেটের সাথে মিঠুনদার (অভিনেতা) স্টাইলে মাফলারে রনিদার, আমি মনে হয় বিশ খানেক ফটো স্যুট করেছি। ও আমাকে ছাড়া ছবি তুলবে না। একটা অকৃতিম সম্পর্ক আমাদের মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। ক্রমে ক্রমে আমার কাছে কিছু ব্যক্তিগত কোথাও বলে ফেলল অবলীলায়। রাত্রে ডিনার শেষে বিছানায় কম্বলের তোলায় আমরা দুজনে। আজকের ল্যাপটপে আর সিনেমা নয়, রনিদা সরাসরি পর্ন ভিডিও চালিয়েছে। তারমাঝে কিছু রয়েছে সমকামী ভিডিও। দেখার সাথে সাথে অনুভূতিটাও তীব্র হচ্ছে। নিম্নাঙ্গের দন্ডাঙ্গ জানান দিচ্ছে উত্তেজনাকে। ক্রমেই লক্ষ্য করলাম রনিদাও উত্তেজিত হয়ে পড়ছে। পাশে এমন একজন পুরুষ থাকতে স্বাভাবিক ভাবেই আমার শরীরের প্রতিটি রক্ত কণা যেন ফুটছে। নিজেকে শান্ত রাখাই তখন সবচেয়ে কঠিন। সহ্যের সীমা প্রায় শেষ। দুজনেই দুপাশে ছিটকে গিয়ে চিত হয়ে শুয়ে এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস। এখন উত্তেজনা পুরো মাথায় উঠে গেছে। ল্যাপটপে তখনও চলছে। হটাৎ রনিদা আমাকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরল। ওর পরনে শুধুই তখন নাভির নিচে লুঙ্গির গিঁট, অবারিত দেহ। আমার উত্তেজনার বাঁধ প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে। কিছুই আর মাথায় আসছে না। দুনিয়া যেদিকে যায় যাক… আমি আজ আর কোনও কিছুকেই ভয় পাই না। ওর শরীরে ঘাসের মত পরশ লাগে আমার। একটা চূড়ান্ত স্পর্শের অনুভূতি তখন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম –

দাদা, তুমি বিয়ে করবে কবে? তোমার গার্লফ্রেন্ড আছে?
কেন রে? হটাৎ আমার বিয়ে নিয়ে পড়লি…
না, না… এমনি… তোমার নিশ্চয়ই ইচ্ছে করে…
হমমমম… ঠিকই বলেছিস…
বল না… কাউকে ভালোবাসোনি কখনও ?
নারে এখনও ভালোবাসার কাউকে পাইনি আমি।
কি রকম ভালো লাগে তোমার?
সত্যি বলব ? তোর মতো… সত্যি তোকে আমার খুব ভালো লাগে…
হম… আমারও তোমাকে খুব ভালো লাগে… খুব ভালো লাগে… জানি না কেন…
তবে আজ আমার একটা কথা রাখবি… বল আমাকে ফিরিয়ে দিবি না…
কি কথা ?
আজকেই এখানে শেষ রাত। কাল রাতে ট্রেনে। এই একটি রাত শুধু তোর আর আমার…! আমি তোকে ভালবাসবো।
মানে ? তা কি করে সম্ভব ?
হ্যাঁ, সম্ভব! আমি জানি তুই আমাকে ভালবাসিস… তুই কি এটা অস্বীকার করতে পারিস ?
(স্মিত হাসি) হমম… আমি তো অলরেডি তোমারই হয়ে গেছি… নাহলে এই ভাবে তোমার এতো কাছে থাকি।

দুজনেরই উষ্ণ ঠোঁটের দীর্ঘ পরশে শরীর আরও গরম হয়ে উঠল। উষ্ণ নাভির কেন্দ্রীভূত আকর্ষণে আমিও বিহগ্লিত হয়ে গেলাম। সমর্পণ করলাম নিজেকে ওর হাতে। চোখ বন্ধ করে জীবনে প্রথম মধুর স্বাদে কল্পিত বিশ্বজয়ের অনুভূতি উপভোগ্য হল। আমার জীবনের প্রথম সঙ্গমিত রাত কাটল।

নিজের সত্তাকে আবিষ্কার করতে পারলাম; খুঁজে পেলাম চরম সুখের ঠিকানা। সেই নিঝুম অন্ধকার রাত্রে, আমাকে ভালোবাসার শপথে প্রতিজ্ঞা করল যে এর পর থেকে সে যতবারই ছুটিতে আসবে অবশ্যই আমার সাথে দেখা করবে। আমায় ভালবাসবে। আমিও আশায় রইলাম। আমার মধ্যেই “আত্মপ্রকাশ” করতে লাগলো ‘অন্য আমি’ ।।

।। আজ অনেকগুলো বছর পেরিয়ে বড় হয়ে গেছি। প্রথম দিকে ওকে নিয়ে ইচ্ছা আর স্বপ্নের বিকাশ ঘটেছে সময়ের বেগে। ‘ ও আবারও আসবে,’ স্বপ্নকে বাস্তব করার আশাও জেগেছে বারে বারে। কিন্তু আশায় আশায় আশাই থেকে গেলো। আজও তাই নির্বোধের মতো বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি সত্য খুঁজতে গিয়ে; মরীচিকার ভালোবাসা নাকি শুধুই ভক্ষণ ।।

প্রথম প্রকাশঃ বাংলা গে গল্প। ২৪ই ডিসেম্বর, ২০১৪।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.