ঈদ যাত্রা

লেখকঃ রাকিব হাসান

রাগে নিজের মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছা করছে। কালকে ঈদ, আর আজকে সকালে অফিসিয়াল ট্যুর শেষ করে ফিরলাম। খামাখা এই অডিটটার ডেট ঈদের আগে ফেললো, এতো বড় অডিট একটু সময় নিয়ে না করলে হয় ?? বড়কর্তাদের কে বোঝাবে। বিকালের বাসে বাড়ি যাবো। উফফফ, বাসায় পৌছাতে কতক্ষণ যে লাগাবে। দুই দিন জার্নি করে ঈদের দিন ঘুমানো লাগবে, অসহ্য।

সাড়ে তিনটার বাসটা ধরতে প্রতিবারই আড়াইটার দিকে বের হই। ঈদের জার্নি, রাস্তা ঘাটের কি অবস্থা কে জানে। কাউন্টারে যেয়ে শুনবো বাস মাত্র টাঙ্গাইল ছাড়লো। এসব সাত সতেরো ভেবে ফোন দিলাম কাউন্টারে। প্রায়ই যাতায়াত করি জন্য ভালোই পরিচয় আছে। যা ভেবেছিলাম তাই, কাউন্টার থেকে বললো, “আপনের এখন আসার দরকার নাই বস, রাস্তায় পচ্চুর জাম। বাস আসতে আড়াই তিন ঘন্টা লাগবো। আপনে পাঁচটার দিকে বাড়ি থেইকা বাইর হইয়েন, ছয়টার মইদ্যে কাউন্টারে ইন করবেন।”

এখন এই বাড়তি সময়টা কি করবো ?? অসহ্য । ড্রেস ছেড়ে ট্যাব নিয়ে পর্ণ সাইট গুলোতে ঢুঁ মারতে থাকলাম। ভিডিও দেখতে দেখতে দুষ্টু ইচ্ছা জেগে উঠলো। বাথটাবে পানি ভরতে দিয়ে বেসিনের প্রশস্ত আয়নায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নিজেকে দেখতে থাকলাম। নাহ , আমি এখনো বাতিল হয়ে যাইনি। বুকটা আগের মতো টান টান না হলেও, একেবারে খারাপ না, কোমড়ের দুপাশে চর্বি জমেছে। খুব কি খারাপ লাগছে?? এটুকু না থাকলে শার্ট ইন করলে হ্যাংলা লাগবে। নিজেকে দেখা শেষ করে বাথটাবে ঝড় তুলে যখন ঠান্ডা হলাম ততক্ষনে বেশ দেরি হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি পোশাক গায়ে চাপিয়ে লাগেজ নিয়ে, দরজায় তালা ঝুলিয়ে বের হয়ে পড়লাম কাউন্টারের পথে ।
বলেছিলো ছয়টার মধ্যে কাউন্টারে থাকতে, পৌনে ছয়টা বেজে গেলো অর্ধেক রাস্তাতেই। আজকের জ্যামটাকি একটু বেশি ??

একটু পরেই কাউন্টার থেকে ফোন আসা শুরু হলো। বাস রেডি। আমি ওদের নিয়মিত যাত্রী জন্য বাস ছাড়তে পারছে না। আমি অফিসের সব ট্যুর এদের বাসেই করি, সাথে ছুটি ছাটায় বাসায় যাওয়া তো আছে। কিন্তু অন্য যাত্রীরা সেটা মানবে কেনো ?? বারবার ফোন আসতে থাকলো। আমি ঘড়ি দেখতে থাকলাম। লাস্ট কল থেকে কতক্ষন পার হলো । এরকম করে করে একসময় বাসে উঠলাম। বাসের যাত্রীদের বাঁকা কথা ভেসে এলো দুই একটা । আমি বিরক্তিমাখা চোখগুলো এড়াতে তাড়াতাড়ি নিজের সিট খুঁজে বসে পড়লাম। মোবাইল স্ক্রিণে সময় দেখলাম। ছয়টা পঞ্চাশ, ওরা সোয়া ছয়টার একটু পর ফোন করে বলেছিলো – “বাস রেডি। আপনার জন্য দাঁড়ায় আছে।”

ইশশশ, আধা ঘন্টা লেট !! এমন সময় পাশের সহযাত্রী বললো –
‘ দেরী করার অভ্যাসটা এখনো গেল না ?? ‘

সাথে সাথে মাথায় আগুন ধরে গেলো, ভ্রু কুচকে পাশ ফিরে দেখি — আরে !! এ তো রাশেদ !!
– তুমি ?
– চিনতে পারসো তাহলে ?
– না চেনার কোনো কারন আছে ??
– মেজাজ খারাপ মনে হচ্ছে?
– হুম।
– মেজাজটাও পাল্টায়নি দেখা যায়।
– কিছুই পাল্টায়নি। তোমার বক বক করার রোগটাও পাল্টায় নাই।
– মোটা হয়ে গেসো আগের থেকে।
– জানি। কেনো মোটা হলে সমস্যা কি ?? মোটা হলেও বেড পারফর্ম্যান্স কিন্তু খারাপ হয়নি। আগের থেকে আরো এক্সপার্ট হইসি।
– দুষ্টামিটাও আগের মতোই আছে।
– হইসে হইসে। আর হিসাব করা লাগবে না। চশমা নিলা কবে?
– দুই বছর হচ্ছে, মানাইসে ?
– মানাইসে, তবে আঁতেল আঁতেল লাগতেসে, রিমলেস নিসো ক্যান? এখন কত সুন্দর সুন্দর ফুলফ্রেম চশমা পাওয়া যায়।

এক কথায় দুই কথায় রাশেদের সাথে গল্প আগাতে থাকলো। দুজনের মধ্যে যে গত প্রায় সাত আট বছর ধরে দেখা-সাক্ষাত তো দুরের কথা কথা-বার্তা ও বন্ধ সেই কথা ভুলে গেলাম দুজনেই। দুজনে দুজনকে সম্ভাব্য সব পথে এড়িয়ে চলতাম, সেটা আজ মাথায় আসলো না কারোই। পুরোনো বন্ধুর সাথে অনেকদিন পর দেখা হলে যেমন গল্প হয়, তেমন গল্প চলতে থাকলো।

রাশেদ, আমার সাবেক প্রেমিক। আমাদের সম্পর্ক শেষ হয়েছিলো খুব খারাপ ভাবে। আজকালকার ছেলেপেলেরা কত স্মার্টলি মিউচুয়াল সেপারেশন করে, কেউ কারো নামে একটা বাজে কথাও বলেনা। আমরা এতো স্মার্ট ছিলাম না। খুব তিক্ততার সাথে সম্পর্কটা শেষ হয়েছিলো। এতোটাই খারাপ যে আমাদের কমন ফ্রেন্ডদের আড্ডায় একজন আসলে অন্যজন চলে যেতাম। অথচ এটাই ছিলো আমাদের প্রথম প্রেম। প্রথম প্রেম ছিলো বলেই হয়তো এটিকেট আর ম্যানারস গুলো জানা ছিলো না । কালে কালে কতকিছুই না শিখলাম ।


দুজনের বাসা এক শহরে হলেও পরিচয়টা ইন্টারনেটের সুত্রেই। পরিচয়ের ব্যাপ্তি প্রায় ১২ বছর হতে চললো। ওর সাথে যখন এই পরিচয়ে পরিচিত হই তখন আমি ইন্টার পড়ুয়া আর সে ভার্সিটি পড়ুয়া। ঢাকায় থাকে, ছোট শহরের কাছাকাছি এলাকায় বাসা হলেও পরিচয় হয়েছিলো বিডি চ্যাটে। আমি তখন মাত্র এসব জেনেছিলাম। সে ও ছিলো নবাগত, তাই সম্পর্কের শুরুটা হুট করেই। শুরুতে ভালোই ছিলো । কিন্তু পরের দিকে শেষ হলো খুব খারাপ ভাবে।

দুজনে দুজনকে চিনেছিলাম সময় নিয়ে। তখন অন্য কাউকে চিনতাম না, তাই ফুল কনসেন্ট্রেশন ছিলো নিজেদের প্রতি । দুজনের গুড হ্যাবিট ব্যাড হ্যাবিট কিছুই কারো নজর এড়ায়নি। বাসায় যতদিন ছিলাম, ততদিন আন্ডারস্ট্যান্ডিং ভালোই ছিলো। আমি যখন ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে ঢাকায় চলে আসলাম তখন থেকেই প্রবলেম গুলো একটু একটু করে বাড়তে থাকলো। ব্রেকাপের প্রায় আট নয় বছর হতে চললো। এতোদিন পর সেই তিক্তদিন গুলোর কথা আর ভাচ্ছে না। বরং পুরানো গল্পগুলো ঝালিয়ে নিতেই বেশি ভালো লাগছে।

– তোমার ছোটটা কি করে? পড়ালেখা শেষ ?
– হু, একটা ফার্ম দিসে কয়েক বন্ধু মিলে।
– ভালো করসে। পরের চাকরি করে জীবন ক্ষয় করার থেকে নিজের কিছু করা ভালো। আমাকে দেখো । অডিট শেষ করে ফিরলাম আজকে সকালে। এটা একটা লাইফ ??
– তোমার ছোটবোনটা ??
– ওর বিয়ে হয়ে গেছে। প্রবাসী ছেলে। পড়া শেষ করে নিয়ে যাবে।
– প্রবাসী ছেলে নিয়ে অনেক গাল-গপ্পো শোনা যায়, দেখেশুনে দিসো তো ?
– আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে, আমাদের ফুপাতো ভাই, তাই সেই ভয় নাই।
– ইশশ !! ওকে আমি প্রাইমারীতে পড়তে দেখসিলাম ! কত্ত ছোট ছিলো ! সেই মেয়ে এখন ম্যারিড !!
– হা হা হা। ১২ বছর কি কম সময় ?? তোমার ভাই ক্লাস এইটে পড়তো । আমি একদিন ওর মোচ শেভ করে দিসিলাম, মনে আছে?
– আছে, আছে। সব মনে আছে ।
– সময় কত তাড়াতাড়ি যায়, তাই না ??
– হু, সেটাই ।
– তোমার আব্বা আম্মা কেমন আছেন ??

কথায় কথায় গল্প বাড়ে । অনেকদিন পর পুরানো শহরে গেলে যেমন মনে হয়। আরে এখানে তো ফাঁকা মাঠ ছিলো !! এখানে পুকুর ছিলো ! ঠিক তেমন লাগছে , পুরানো সম্পর্ক গুলো, পুরানো স্মৃতিগুলোতে নতুন প্রলেপ হচ্ছে। আজকালকার স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেডের মতো, পুরানো স্মৃতি আপগ্রেড হচ্ছে। ওর ছোটভাইয়ের ছবি দেখে চিনতে কষ্ট হলো। সেই শুকনা পটকা ছেলেটা এখন কত সুন্দর হয়েছে। ব্যাক্তিত্বের ছটা ওর চোখে-মুখে। আমার বোনের বিয়ের ছবি দেখে রাশেদ বিশ্বাসই করতে চাইলো না যে এই মেয়েকে সে ছোটবেলায় দেখেছে । আচ্ছা, ১২ বছর কি সত্যি ই অনেক সময় ??

ঈদের আগে যথারীতি প্রচন্ড জ্যাম, রাস্তায় রাস্তায় হাট, হাটের সামনে ট্রাক টেম্পো রিকশা মানুষে অর্ধেক রাস্তা বন্ধ, তার উপর রাস্তায় ঘরমুখো মানুষের বাড়তি চাপ। সিটি সার্ভিসের বাস গুলো পর্যন্ত লং ডিসটেন্স রুটে চলতেসে। সাতটায় ঢাকা ছেড়ে যমুনা সেতুতে বাস উঠলো রাত দেড়টায়। রাতের সেতুর সৌন্দর্য্য প্রথম যেদিন দেখেছিলাম সেদিনের মতোই লাগলো আজকেও। আমাদের উত্তরের মানুষের স্বপ্নের সেতু । আগে ফেরি পার হওয়ার স্মৃতি এখনো আবছা মনে আছে। ট্রেনে করে গেলে স্টিমার এ উঠতে ট্রেন থেকে নেমে অনেকদুর হাঁটতে হতো ।


– বাইরে কি দেখো ??
– হলুদ আলোতে কি ব্রিজটা কি সুন্দর লাগে, তাই না?
– হুম ।
– কয়টা বাজে ??
– দেড়টা।
– আজকে রাতে বাড়ি পৌছাতে পারবো ??
– খারাপ কি? বাসেই ঈদ করবা, নতুন এক্সপেরিয়েন্স।
– এটা কোরবানি ঈদ স্যার, রোজার ঈদে না হয় সারাদিন কোনো কাজ থাকে না।
– তুমি একাই মনে হয় আস্ত গরু বানাবা ??
– তুমি ওসব বুঝবা না, নিজে কোনোদিন হাত লাগাইসো ?? তুমি তো বটি চাকু দেখেই ভয় পাও।
– তোমার সেসব কথা মনে আছে ?
– থাকবে না ?? পেইন তো আর কম দাও নাই।
– হুম, সেই, পেইন ছাড়া আর কিছুইতো দিতে পারি নাই ।
– আহা, সেন্টিমেন্টাল হচ্ছো কেনো ? আমি তো ইয়ার্কি করলাম। তুমি যে কখন সিরিয়াস আর কখন ইজি থাকো, এতোদিনেও ধরতে পারলাম না।
– আমি একটা কমপ্লিকেশনের বস্তা।
– এসব কথা ছাড়ো তো। ঘুম দাও, ঘুম থেকে উঠে দেখবা পৌছে গেছো।

সেতু পার হয়ে জ্যাম কম, বাসের স্পিড বাড়লো আগের থেকে বেশ খানিকটা। আমি ঘুমায় গেসিলাম, যাত্রীদের ক্যাচালে ঘুম কাটলো। যাত্রাবিরতি দেয়া নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে হাউ-কাউ শুরু হয়েছে। এক গ্রুপ বলে গাড়ি থামায় সময় নষ্ট করা যাবে না, আরেক গ্রুপ দশ মিনিটের জন্য থামায় ফ্রেশ হতে চায়। শেষ পর্যন্ত বাস থামলো । বাস থেকে নেমে সিগারেট ধরালাম।

– এখনো গোল্ডলিফ খাও ?
– হুম, আমার একটাই ব্র্যান্ড।
– লাংস ঝাঁঝরা হয়ে যাবে।
– এতোদিনেও যখন হয়নি, তখন আরো কয়েকদিন খাই। তুমি সিগারেট ধরসো কবে?
– অনেকদিন হচ্ছে।
– বিয়ে করসো ??
– বিয়ে করলে সাথে বৌ থাকতো না? তুমি ?
– নাহ, এখনো না।
– আর কবে করবা? বয়স তো আর বসে নাই, বিয়ে একেবারে না করলে সমস্যা নাই, কিন্তু করতে হলে করে ফেলো। বুড়া বয়সে বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘোরা খুব বিরক্তিকর।
– তুমি কবে করবা?
– জানি না। আম্মা যখন মেয়ে পছন্দ করতে পারবে। আম্মা যত খুঁতখুঁত করে ।চলো , বাস ছাড়তেসে ।
– আচ্ছা , একটা সত্যি এন্সার দিবা ??
– আগে প্রশ্নটা শুনি।
– না, আগে বলো । সত্যি এন্সারটাই দিবা ।
– আচ্ছা দিবো, বলো ।
– তুমি কি এখনো আমার উপর বিরক্ত ??
– না তো !! হঠাৎ এরকম কেনো মনে হলো তোমার ??
– আমার মাঝে মাঝেই মনে হয়, তুমি হয়তো কখনোই আমাকে ক্ষমা করতে পারবা না।
– এভাবে কেনো ভাবছো ?? আমাদের দুইজনেরই কিছু দোষ ছিলো, কেউ ই পারফেক্ট ছিলাম না, হওয়া সম্ভব ও না। খামাখা এসব ভেবে মন খারাপ করার কিছু নাই।
– আমার মাঝে মাঝেই এমনটা মনে হয়। আজকে তোমার সাথে দেখা হয়ে গেলো জন্য বলছি না, মাঝে মাঝেই মনে হয়
– তুমি তো আগে এরকম ছিলা না, রিগ্রেট, গিল্টি ফিল এসব তো তোমার সাথে যায় না।
– বয়স বাড়সে, বুড়া হয়ে যাচ্ছি, এটাই তার প্রমান।
– এসব একদম ভাববা না। আমি রাগ ধরে রাখলে কি এতো সহজ ভাবে গল্প করতাম? আগ বাড়ায় কথা বলতাম? আর এসব অনেক পুরানা কথা । আট নয় বছর আগে কে কি করসিলাম সেটাতে আটকে থাকার কিছু নাই। তুমি এতো সহজ ভাবে গল্প করতেসো দেখে আমি আরো ভাব তুমি ও ওই দিন গুলো ভুলে গেসো ।
– তোমরা আগের বাসাতেই আছো ??
– না, সার্কিট হাউজের পেছনে আমাদের যে জমিটা ছিলো ওখানে বাসা করসি।
– ও, তাহলে তো তুমি আগে নেমে যাবা।
– হু বাসার সামনেই বাস দাঁড়ায়, তোমার ফোন নাম্বারটা দাও।
– আগেরটাই আছে।
– আগের কোনটা ?
– ওই যে জোড়া নাম্বার কিনসিলা না ,ওইটা।
– তোমারটার শেষে টু-ফাইভ না?
– হু। তোমার সিমটা ফেলে দিসো?
– না। মডেমে ইউজ করি।
– সন্ধ্যায় টাইম বের করতে পারবা?
– দেখি , আমি জানাবো। বন্ধুদের সাথে একবার আড্ডায় বসলে তো ছাড়া পাওয়া যায় না।
– সেজন্যই জিজ্ঞাস করলাম, আমি তাহলে কালকে ফ্রেন্ড দের সাথে বের হবো। সন্ধ্যায় একবার ওদের সাথে বের হলে রাতের আগে আর সময় হবে না।
– আমি জানাবো তোমাকে ।

আমাদের গন্তব্যের কাছাকাছি এসেছি। আর ঘন্টা খানেকের পথ। আকাশ পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে, ভোরের স্নিগ্ধ আলো চারপাশে । আজই ঈদ, বাসায় যেয়েই নামাজের জন্য রেডি হতে হবে। সারারাত গল্পে গল্পে পার করে এখন দুজনেই চুপ। আর কথা খুঁজে পাচ্ছি না। চুপ থাকতে থাকতে একসময় চোখে ঘুম চলে আসলো।

সুপারভাইজারের ডাকে ঘুম ভাঙলো। আমার বাসার কাছের স্টপেজে বাস থেমেছে। পাশের সিটে কেউ নাই। ওর স্টপেজ পার হয়ে এসেছি। ও নেমে গেছে, একবার বলেও গেলো না?

সকাল সোয়া ৬টা। ঈদের ভোরে রিকশা থাকবে না এটাই তো স্বাভাবিক। ওদের ও তো ঈদ আছে। অবশ্য আমার বাসা বেশিদুর না। হেঁটে যাওয়া যাবে। ট্রলি ব্যাগটার হাতল টেনে খুলে হাঁটা ধরলাম। বাসার গেট খুলে রাখতে আম্মাকে ফোন করতে মোবাইলটা বের করলাম।

ওয়ান আনরিড মেসেজ।
” কথা বলতে বলতেই এতো গভীর ঘুমে কিভাবে তলায় যায় মানুষ ?? সন্ধ্যায় দেখা হবে। ঈদ মোবারক। “

প্রথম প্রকাশঃ বাংলা গে গল্প (৯ই অক্টোবর, ২০১৪)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.