নির্মম পরিহাস

লেখকঃ আনন্দধারা

১.

ছুটির দিনে প্রীতমের ঘুম যেন ভাঙতেই চায় না। ব্যাংকের চাকুরি যারা করে, তাদের জীবনে শুক্রবারটাকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন না বলে সাপ্তাহিক ঘুমের দিন বলাটাই শ্রেয়। প্রতি বৃহস্পতিবারই প্রীতম ভাবে কালকের দিনটায় কোথাও বের হবে না, সারাদিন শুধু পরে পরে ঘুমাবে। কিন্তু কোন শুক্রবারই তার পরে পরে ঘুমানো আর হয় না, আদিত্য জন্মের পর তাও যা হতো, আনিকা জন্মের পর আর সেই সুযোগ নেই। একসাথে এই দুই বাঁদরকে সামলানো নিশির পক্ষে দুঃসাধ্য। মাকে ছোটবোনকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় বলে আদিত্য পুরোদমে তার বাঁদরামি ফলায় বাবার সাথে। কিভাবে যে বিচ্ছুটা এত সকালে ঘুম থেকে উঠে যায়! উঠেই প্রীতমকে ধাক্কা দিতে থাকে সে সমানে, “বাবা, উঠো। এই বাবা, উঠো না! আমার সাথে খেলা করো।” এভাবেই প্রতিদিনকার সকাল শুরু হয় প্রীতমের। মাঝে মাঝে ভাবেন খুব বকা দেবেন ছেলেকে, কিন্তু ছেলের আদুরে চেহারা আর মায়াবী চোখের দিকে তাকিয়ে আর পারেন না, বাধ্য হন ছেলের সাথে সাত সকালে খেলতে।

২.

চার বছরের আদিত্য, আর দুই মাসের আনিকাকে নিয়ে প্রীতম আর নিশির সুখের সংসার। অন্তত বাইরে থেকে যে কেউ দেখলে তাই বলবে। বিয়ের প্রায় ছয় বছর হতে চলেছে। এর মাঝে এখনো নিশি স্বামীকে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। স্বামী হিসেবে প্রীতমের মত কাউকে পাওয়া যে কোন বাঙ্গালী নারীর জন্যই ভাগ্যের ব্যাপার। বাঙ্গালী ছেলেদের মধ্যে এতগুলো ভালো গুনের সম্মিলন সাধারণত চোখে পড়ে না। বাঙ্গালী ছেলেরা যদি সুদর্শন হয়, তবে তাদের চরিত্র থাকে খারাপ। মেয়েদের পেছনে ছোক ছোক করতে থাকে সব সময়। আর যদি হয় পয়সাওয়ালা, তাহলে তো কথাই নেই। আর যেসব ছেলেরা কালো, মোটা আর কুৎসিত দেখতে হয়, তারা হয় রীতিমত বউ নেওটা। সারাদিন বউয়ের আঁচল ধরে বসে থাকবে। যেন বউটা বিয়ে করে অনেক বড় উপকার করে ফেলেছে তার। এধরনের মিনমিনে স্বভাবের ছেলে নিশির পছন্দ নয়। পুরুষ মানুষ হবে পুরুষের মত, বউয়ের আঁচল ধরে ঘুরে বেড়াবে কেন? নিজের হবু স্বামীকে নিয়ে তাই নিশির অনেক ভয় ছিল, কেমন যে হয়! কিন্তু নিশির ভাগ্য সুপ্রসন্ন। প্রীতম একদিকে যেমন সুদর্শন, অন্যদিকে ভালো ইনকামও করে। অফিস থেকে সোজা বাসায় ফেরে। মাঝে মাঝে ভার্সিটির যে কয়টা ফ্রেন্ডের সাথে আড্ডা দেয় তারাও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালোভাবেই সেটেল্ড। কারো কোন বাজে অভ্যাস নেই। নিশি তাই ভাবে তার কপালে এতো সুখ কেন?

আবার মাঝে মাঝে ভাবে, সত্যিই কি সে প্রীতমকে পেয়ে খুশি? অথবা প্রীতম তাকে পেয়ে? সুখের সংজ্ঞা যদি বলে সুখ মানে ঢাকায় নিজের ফ্ল্যাট থাকা, গাড়ি থাকা, এবং রাজপুত্র আর রাজকন্যার মত দুটি সন্তান থাকা, তাহলে তারা অবশ্যই সুখি। কিন্তু আসলেই কি তাই? তাহলে বিয়ের প্রথম দেড় বছরটায় প্রীতম তার দিকে সেভাবে নজর দিত না কেন? কেন একান্তে কোথাও ঘুরতে গেলে আজও নিশিকেই আগ বাড়িয়ে প্রীতমের হাতটা ধরতে হয়? কেন ফোনে নিশির সাথে প্রীতম শুধু কাজের কথাই বলে? নিশি দুপুরে ভাত খেয়েছে কিনা, আর আদিত্য-আনিকা ঘুমিয়েছে কিনা সেটা জানতে চাওয়াই কি সব? এর বাইরে কি ফোনে আর কোন কথাই বলার থাকতে পারে না? তার বান্ধবী অর্থীর স্বামী তো কত কথা বলে ফোনে। তাদের ফোনালাপ শুনলে আজও মনে হয় ভার্সিটি পড়ুয়া দুই কপোত কপোতী প্রেমআলাপ করছে। নিশি দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে সান্ত্বনা দেয়, হয়তো অর্থীরটা লাভ আর তারটা এরেঞ্জড ম্যারেজ বলেই। কিন্তু মৌসুমির? তারও তো এরেঞ্জড ম্যারেজ। মৌসুমি আর তার বরকে দেখলে কে বলবে তাদের এরেঞ্জড ম্যারেজ? নিশি এসব প্রশ্নের কোন উত্তর খুঁজে পায় না।
তাই বলে কি খুব খারাপ আছে সে? নাতো! এইতো সেদিন শুনলো অর্থীর ননদের নাকি ডিভোর্স হয়ে গেছে। কারনটা কি কে জানে। তবে সে দিক থেকে সে কি অনেক ভালো নেই? স্বামী সন্তান নিয়ে বেশ তো আছে। প্রীতম কখনো তাকে অবহেলা করেছে এ কথা সে কোনদিনও বলতে পারবে না। তাহলে কিসের এত দুশচিন্তা তার? তাই প্রশ্নগুলো মাথায় এলেও সাথে সাথেই ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দেয় নিশি।

৩.

বেড টি’র অভ্যাস প্রীতমের কোনকালেই ছিল না। এখনো নেই। কিন্তু নিশি অনেক আশা করে হাসিহাসি মুখ নিয়ে যখন চায়ের কাপটা তার সামনে ধরে প্রীতম না করতে পারে না। নিশির এই হাসিমাখা মুখটাকেই প্রীতমের যত ভয়। এই নিষ্পাপ মুখের হাসি যেন চলে না যায় চিরতরে সে জন্য একের পর এক কপ্রোমাইজ করে আসছে সে, সেই বিয়ের পর থেকেই। কারো মুখের হাসি চলে যাওয়াটা যে কি কষ্টের সেটা প্রীতম খুব ভাল করেই জানে, সে চায় না তার মত নিশির জীবন থেকেও হাসি আর আনন্দ এক নিমিষে বিলীন হয়ে যাক।
– চা কেমন হয়েছে?
– তোমার চা খারাপ হয়েছে কোনদিন?
– তাও তো সব সময় সুনামটা নিজ থেকেই আদায় করতে হয়।
– ঝগড়া করবে?
– হা হা হা! ঝগড়া? তোমার সাথে? করতে পারলে তো ভালোই হতো।
– কেন?
– থাক সে কথা আর না তুলি। এখন ওঠো। ফ্রেস হয়ে নাও।মা’র ওখানে যেতে হবে। তারপর বিকেলে একটু বসুন্ধরায় যাবো। শপিং আছে।

৪.

বসুন্ধরা সিটিতে এলে প্রীতমের মাথা ঘোরায়। কিভাবে মানুষ এতো বড় শপিং মল বানাতে পারে? আর শপিং করার লোকেরো তো অভাব নেই। প্রতিদিনই যেন ঈদ লেগে আছে। শপিং করতে এক সময় খুব ভালো লাগতো প্রীতমের। কিন্তু বিয়ের পর কেন যেন সে ইচ্ছাটা মরে গেছে। তার নিজের যা লাগে তাও নিশিই কিনে আনে। কিন্তু নিশির সাথে শপিঙে তাকে আসতেই হবে। এটা একটা বাধা ধরা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের দাম্পত্য জীবনে। শপিং যা করার নিশিই করে, প্রীতম বসে থাকে লেভেল এইটের ফুড কোর্টে। নিশি তাতেই খুশি, আর নিশির মুখে হাসি ফোটানোকে নিজের জীবনের এক অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব মনে করে প্রীতম, তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও চলে আসে বসুন্ধরার সিটিতে, মাসে কম করে হলেও দু’বার।

আনিকাকে বুয়ার কাছে রেখে আদিত্য আর নিশিকে নিয়ে প্রীতম আজ বসুন্ধরায় এসেছে। ক্রেডিট কার্ডটা নিশির হাতে ধরিয়ে দিয়ে, আদিত্যকে টগি ওয়ার্ল্ডে রেখে এক কাপ কফি নিয়ে একটা কর্নারে বসে পড়ে সে। লোক সমাগমে ভরপুর এই জায়গাটা কেন যেন তার খুব ভালো লাগে। কফির কাপে দ্বিতীয় চুমুকটা দিতে গিয়েই চোখটা ছানাবড়া হয়ে যায় প্রীতমের। এটা কে? শাহেদ না? হ্যাঁ শাহেদই তো ওপাশের টেবিলে। কিন্তু শাহেদকে এমন বিমর্ষ লাগছে কেন? শরীর পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছে। শাহেদ তো তার সমবয়সীই ছিল। সে হিসেবে তার বয়স এখন ৩৩ হওয়ার কথা। কিন্তু তাকে দেখতে রীতিমত ৪৫ বছরের মধ্যবয়স্ক মনে হচ্ছে। মাথায় টাক পড়ে কি হয়েছে দেখতে। শাহেদের পাশে কালো কোট পরা একজনকে দেখা যায়। প্রায় সাড়ে ছয় বছর পর শাহেদের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রীতম আর চোখ সরিয়ে নিতে পারে না।
ব্যাপারটা শাহেদের নজর এড়ায় না। অনেক্ষণ ধরে কেউ একজন একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকলে সে মানুষটার দিকে চোখ যাওয়াটা স্বাভাবিক। প্রীতমকে দেখে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে যায় শাহেদ।

– প্রীতম!
– কেমন আছো?
– এইতো! উকিল সাহেব, আমি আপনার সাথে পরে একদিন বসি? আজ একটু তাড়া আছে।
এই বলে কালো কোট পরা লোকটাকে ভদ্র ভাষায় বিদায় জানিয়ে প্রীতমের দিকে এগিয়ে আসে শাহেদ।
– বসি?
– শিওর, প্লিজ।
– কেমন আছো
– খুব ভালো। দেশে এলে কবে?
– তুমি জানতে যে আমি অস্ট্রেলিয়া চলে গেছি?
– হুম।
– কিভাবে?
– সেটা জানাটা কি এতোই জরুরী?
– না, তা না, এমনি জানতে চাইলাম আরকি। তোমাকে কত খুঁজেছি জানো? নাম্বারটা বদলে ফেললে। যোগাযোগের আর কোন সুযোগই রাখলে না।
– সত্যিই কি খুঁজেছিলে?
– কেন?
– যদি সত্যিই খুঁজতে তাহলে অবশ্যই পেতে।
– কিভাবে? তোমার মোবাইল ছিল অফ। কতোবার যে ট্রাই করেছি!
– তোমার মোবাইল অফ থাকলে আমি কিভাবে খুঁজে বের করতাম মনে পড়ে?
– বাসায় চলে আসতে।কিন্তু তুমি তো গ্রামের বাড়ী চলে গিয়েছিলে। আর তোমার গ্রামের বাড়ির ঠিকানা তো আমার কাছে ছিল না যে গিয়ে হাজির হবো।
– ছিল। আমি আমার গ্রামের বাড়ি থেকে তোমাকে অনেকগুলো চিঠি দিয়েছিলাম। সেগুলোর প্রত্যেকটির খামে আমার বাড়ির ঠিকানা দেয়া ছিল।
– সরি।
– হা হা হা। সরি কেন? খোঁজ নাওনি বলে?
– সেটা তো আছেই, তবে আরো একটা কারন আছে।
– কি?
– সেদিনের সে কথার জন্যে।
– সেদিনের কথাটা আজ আর তুলতে চাই না শাহেদ। যাইহোক একাই এসেছো নাকি বউ বাচ্চা সহ।
– বউ এসেছে।
– আর বাচ্চারা?
এমন সময় টগি ওয়ার্ল্ড থেকে কাঁদতে কাঁদতে ছুটে বেরিয়ে আসে আদিত্য।
– বাবা, বাবা…
– কি হয়েছে আব্বু?
– ওই ছেলেটা আমাকে মেরেছে।
– কোন ছেলেটা?
– ওই যে, আমি গাড়িতে উঠে খেলছিলাম, তখন পিছে থেকে আমাকে ধাক্কা দিল! আমি আর খেলবো না বাবা (এই বলেই আদিত্য ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে।)
– আচ্ছা এখানে বস চুপ করে। আমি আঙ্কেলের সাথে একটু কথা বলি।
– না না। চলো, আম্মুর কাছে যাই। চলো চলো।
– ছি বাবা, এমন করে না। কথা বলছি না?
– আম্মুউউউ…
(চিৎকার করে কান্না আরম্ভ করে দেয় আদিত্য)
– শাহেদ আমি আর থাকতে পারছি না। আজ উঠি কেমন?
– হ্যাঁ হ্যাঁ, অফকোর্স। একটাই ছেলে তোমার?
– এক ছেলে, এক মেয়ে। মেয়েটা ছোট, দুই মাস বয়স।
– ছেলেটা তো তোমার মত হয়েছে দেখছি।
– তাই? সবাই বলে। আচ্ছা আজ উঠি। ভালো থেকো।
– তুমিও ভালো থেকো (চাপা একটা দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসে শাহেদের বুক থেকে)

৫.

এভাবে শাহেদের সাথে এতটা বছর পর দেখা হবে ভাবেনি প্রীতম। শাহেদের সাথে দেখা হওয়ার পর থেকেই কেমন যেন আনমনা হয়ে পড়লো সে। রাতে খাবার পর বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে শাহেদ আর তার সুখময় স্মৃতির কথা ভাবছিল। এমন সময় নিশি এসে বলল,
– এই তোমার অফিসের এক কলিগ আছে না ডিভোর্সড? ডিভোর্সি মেয়ে খুঁজছিল?
– হ্যাঁ, কেন?
– আজ মার্কেটে অর্থীর সাথে দেখা। ওর ননদটার ডিভোর্স হয়ে গেছে কিছুদিন হলো। এখন ছেলে খুঁজছে, ডিভোর্সড ছেলে।
– আচ্ছা বলে দেখবো।
– শোন, শুধু বলে দেখলে হবে না। আমি ছবি আর বায়োডাটা দিয়ে দিচ্ছি তুমি কালই দেখাও তোমার কলিগকে।
– তোমার শুধু অস্থিরতা। মাত্র তো ডিভোর্স হলো মেয়েটার। এখনই এতো তাড়া কিসের?
– তাড়া যে কিসের সেটা তুমি বুঝবে বা। মেয়ে হলে বুঝতে।
– সিকিউরিটির? নাকি সমাজের কানাঘোষা?
– সেগুলো তো আছেই, তার চেয়ে বড় কারন আছে আরেকটা।
– কি?
– মেয়েটার মা হবার খুব ইচ্ছে। কার না এই ইচ্ছে হয় বলো?
– আগের পক্ষে সন্তান নেই?
– আরে না। সেজন্যই তো।
– মানে?
– মেয়েটার আগের স্বামীর সমস্যা ছিল। জেনেটিক ডিফেক্ট না কি জানি বলল অর্থী। ঠিক মতো স্পার্ম প্রোডাকশন হতো না নাকি।
– ও আচ্ছা। ঠিক আছে বায়োডাটা আর ছবিটা টেবিলের ওপর রাখো। কাল নিয়ে যাবো অফিসে।
– দাঁড়াও তোমাকে এখনি দিচ্ছি।
নিশি ছুটে যায় বায়োডাটা আর ছবি আনতে। প্রীতম ডুব দেয় তার চিন্তার সাগরে।
– এই দেখো, কি সুন্দর মেয়েটা! আহারে, বেচারি!(প্রীতমের হাতে ছবি আর বায়োডাতা তুলে দেয় নিশি)
ছবি দেখেই আঁতকে ওঠে প্রীতম। আরে! এ-তো শাহেদের বউ। শাহেদের বন্ধু সুমনের কাছে শাহেদ আর এই মেয়ের যুগল ছবি দেখেছে সে শাহেদের বিয়ের পরপরই। তবে কি শাহেদ…
অতীতের অতল গহবরে ডুব দেয় প্রীতম।
২০০৭ সালের পহেলা বৈশাখ। শাহেদ আর প্রীতম বসে আছে ধানমন্ডি লেকে। সারাদিন ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ হয়েছে। শাহেদের হাত ধরে প্রীতম বলল,
– বাড়ি থেকে তাড়া দিচ্ছে বিয়ের জন্য।
– তাই নাকি? তাহলে তো সুখবর। করে ফেল।
– ব্যাপারটা কি এতোই সোজা?
– হুম। তোমার জন্য একটু কঠিনই বটে।
– শুধু আমার জন্য? তোমার জন্য নয়?
– নাহ্‌! আমার জন্য কঠিন হবে কেন? আমি তো টপ! একটা মেয়েকে বিয়ে করে সুখ দেয়া, সন্তান জন্ম দেয়া এগুলো কোন ব্যাপার নাকি টপদের কাছে। আসলে তোমার জন্য আফসোস হয়। বিয়ে করে যদি সন্তনের মুখই দেখতে না পারো তাহলে আর কি লাভ বলো?
নিজেকে আর অপমানিত করতে মন সায় দিল না প্রীতমের। সোজা উঠে চলে আসে শাহেদের পাশ থেকে। কথাগুলো শোনার পর মাথা ঝিম ঝিম করতে থাকে তার। এ সে কাকে ভালোবাসলো? যে মানুষটার কাছে তার প্রয়োজন শুধুই শারীরিক, তাকে? যে মানুষটা তাকে নুন্যতম সম্মান দিতে জানে না তাকে? যে মানুষটার কাছে তার পরিচয় একজন… আর ভাবতে পারে না প্রীতম।
সেই থেকে নাম্বারটা বদলে ফেলে সে। শাহেদের সাথে কোনরকম যোগাযোগই করে না আর। শাহেদ যে তাকে ভালোবাসেনি, সে কথা সে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে প্রীতম, শুধু সেদিনের সে শব্দগুলোর জন্য নয়। শাহেদ তার সাথে আর যোগাযোগের কোন চেষ্টা করেনি সেটা দেখেও।
বাস্তবে ফিরে আসে প্রীতম। তার মুখে আজ বিজয়ের হাসি। খুব চিৎকার করে আজ শাহেদকে বলতে ইচ্ছে করছে “শাহেদ, ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস দেখো! তথাকথিত টপ হওয়ার অহমিকায় যে তুমি আমাকে একদিন চরম অপমান করেছিলে, সেই তুমি আজ স্ত্রী-সন্তানহীন। সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষমতা আমার নয়, তোমারই নেই।”
– কি হলো হাসছো কেন? (নিশির কথায় সংবিৎ ফিরে পায় প্রীতম)
– এমনি।

এই বলে নিশিকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে শুরু করে প্রীতম। এই প্রথমবারের মত নিশির আগ্রহে নয়, নিজের আগ্রহে।

প্রথম প্রকাশঃ বাংলা গে গল্প। ১৬ই এপ্রিল, ২০১৪।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.