বিষণ্ণ বৈশাখ

লেখকঃ রাকিব হাসান

১.

প্রতিটা রাত ই কি এতো লম্বা হয়??
আজকের রাতটা কাতেই চাচ্ছে না। ঘুম ও আসছে না। উফফ … আমি তো এক ঘুমেই রাত পার করে দেই। আজ কেন ঘুম আসছে না??
রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ। এই প্রথম কোন পহেলা বৈশাখে নিজের মতো ঘোরাঘুরি করার প্ল্যান করেছি। আগের বছর গুলোতে আব্বু আম্মুর সাথেই ঘুরতাম, আব্বু আম্মুর সাথে ঘুরতে একটুও মজা লাগে না… আমি কি এখনো ছোট আছি? আব্বু আম্মুর সাথে কেন ঘুরতে ভালো লাগবে?

এইবছর ধ্রুব ভাইয়ার সাথে ঘুরবো, শোভাযাত্রায় যাবো, ভাইয়া নিশ্চয়ই আমার হাত ধরে রাখবে, কারন আম্মু বের হওয়ার সময় বার বার বলে দেবে- আমাকে দেখে রাখতে, আমি যেনো হারায় না যাই। আম্মু মনে করে আমি এখনো ছোটবাচ্চা। অথচ আমি এবার ক্লাস নাইনে উঠলাম। কেন যে আমাকে এতো ছোট ভাবে … আমার ক্লাসমেট রা কত রকম দুষ্টামি বাদরামি করে। একা একা কত জায়গায় বেড়ায়। কয়েককজনের গার্লফ্রেন্ড আছে, কেউ কেউ সিগারেট খেয়েছে দুয়েকবার। আমি তাদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। আম্মুর নজর এড়ায় কোন দুষ্টামি ই করতে পারি না… স্কুল-কোচিং ছাড়া একা একা কোথাও যাওয়ার পারমিশন নেই আমার। তবে ধ্রুব ভাইয়ার সাথে কোথাও গেলে আম্মু অতো চিন্তা করে না। এই তো … পহেলা বৈশাখের পাঞ্জাবী ভাইয়ার সাথে যেয়ে কিনেছি। আম্মু-ও ভাইয়াকে বেশ পছন্দ করে…
ধ্রুব ভাইয়া, আমার টিউটর। গত বছরের মাঝামাঝি থেকে উনার কাছে পড়ছি। ভাইয়া মেডিকেল কলেজে পড়ে, ফোর্থ ইয়ারের ছাত্র। আমার জে এস সিতে ভালো রেজাল্টের অর্ধেক ক্রেডিট ভাইয়ার। স্কুলের পড়া, কোচিং এর পড়া সব কিছু গুছিয়ে দিতেন ভাইয়া। সহজ করে বুঝিয়ে দিতেন, মনে রাখার বুদ্ধি শিখিয়ে দিতেন… আমি পরীক্ষায় ভালো করলে গিফট দিতেন …
ভাইয়াকে আমার খুব ভালো লাগে। উনি অন্যসব টিচারের মত না, উনি বন্ধুর মতো … ঠিক বললাম?? বন্ধুরা কি এতো ভালো হয়? আমার জানা নেই। আমার তেমন কোন ঘণিষ্ঠ বন্ধু নাই। আমি খুব চাপা স্বভাবের। কারো সাথে সহজে মিশতে পারিনা… তবে ভাইয়ার ব্যাপারটা আলাদা। ভাইয়াকে প্রথমদিন থেকেই খুব ভালো লেগে যায়। দেখতে-ও যেমন সুন্দর, কথা-ও বলেন তেমন মজা করে। আমি অল্প দিনেই ভাইয়ার ভক্ত হয়ে গেছি। ভাইয়ার সাথে আমি অনেক গল্প করি। ভাইয়া কত কিছু জানে… যেটাই জানতে চাই সেটাই বুঝায় বলে। ভাইয়া জানে না এমন কিছু নাই।

ভাইয়া শুধু আমাকে আদর করে এমন-ও না। পড়া না হলে বকা ও দেয়। আমি পড়ালেখাতে একটু-ও ভালো ছিলাম না, ভাইয়ার জন্যই পড়ায় মন দেই। আমি যখন ভালো করি ভাইয়া খুব খুশি হয়। ভাইয়াকে খুশি দেখার জন্যই আমার পড়তে ইচ্ছা করে… আমার যখন মন খারাপ থাকে তখন ভাইয়া মজার মজার গল্প বলে মন ভাল করে দেয়। ভাইয়া কি মন ভালো করে দেয়ার জাদু জানে??

কিছুদিন ধরে আমার খুব দুষ্টু একটা ইচ্ছা হচ্ছে। ভাইয়াকে জড়ায় ধরে একটা চুমু দিতে ইচ্ছা করছে… ভাইয়ার ঠোঁট দুটা খুব সুন্দর। যদিও সিগারেট খেয়ে কালচে দাগ ফেলেছে, তবুও খুব ভালো লাগে… আমার খুব ইচ্ছা করে সিনেমার নায়ক-নায়িকা দের মতো ভাইয়ার ঠোঁটে চুমু দিতে, চুমু দিয়ে ভাইয়ার বুকে মাথা রেখে শুয়ে থাকতে ইচ্ছা করে …
আমাকে ভাইয়া একদিন জড়িয়ে ধরেছিলো, সেদিন সারাদিন লোডশেডিং ছিলো, আই পি এস এর চার্জ শেষ। আব্বু আম্মু বাসায় ছিলো না। ভাইয়া এসে কারেন্ট নাই দেখে চলে যেতে চাইলে আমি আটকালাম, বললাম, ” এক কাপ চা খেয়ে যান। আমি ভালো চা বানাতে পারি ” … ভাইয়াকে নিয়ে রান্নাঘরে আসলাম, কারন বাসায় একটাই মোমবাতি ছিলো। আই পি এস থাকার জন্য বাসায় মোম রাখার কথা মনেই থাকে না। আমি চুলায় পানি চড়িয়ে চা-পাতার কৌটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম, ভাইয়া হঠাৎ পেছন থেকে জড়ায় ধরলো আমাকে। আমার সারা শরীর ঝমঝম করে উঠলো… বডিস্প্রে-র সাথে ঘাম আর সিগারেটের গন্ধ মিশে অদ্ভুত সুন্দর একটা গন্ধ তৈরী হয়েছিলো। আমার ইচ্ছা করছিলো ভাইয়ার বুকে ডুবে যেতে। কিন্তু ভাইয়া খুব তাড়াতাড়ি আমাকে চেড়ে দিয়ে কাঁপা হাতে চায়ের কাপ সাজাতে শুরু করে …

আরেকদিনের কথা ভাবলে আমার অদ্ভুত একটা অনুভুতি হয়। সেদিন ও বাসায় একা ছিলাম, বাইরে খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো, ভাইয়া যখন আসলো তখন একদম কাকভেজা। সেদিন ভাইয়া পাঞ্জাবী পাজামা পড়েছিলো, সেগুলো ভিজে ভাইয়ার গায়ে লেপ্টে ছিলো। তখন ই খেয়াল করলাম, ভাইয়ার শারীরিক গঠন চমৎকার। ছিপছিপে, মেদহীন … টানটান গড়ন…

আমার একটা থ্রী কোয়ার্টার প্যান্ট আর শার্ট দিলাম, ভাইয়া আমার সামনেই পাঞ্জাবী খুলে গা মুছলেন। আমার কেমন একটা অদ্ভুত অনুভুতি হচ্ছি, গায়ে আগুন ধরে যাওয়ার মতো, মনে হচ্ছিলো সারাগায়ের শিরা গুলো জ্বলে যাচ্ছে। পাজামা পাঞ্জাবী আন্ডারগার্মেন্টস সব কিছু ফ্যানের বাতাসে শুকাতে দিলেন, ভাইয়ার আন্ডারগার্মেন্টস টা দেখে অবাক হলাম, হাফপ্যান্টের মতো ওটাকে বক্সার বলে তখনো সেটা জানতাম না। আমার থ্রী কোয়ার্টারটা ভাইয়ার বেশ চাপা হয়েছিলো, ছোট ও হয়েছিলো।

পড়তে পড়তে খেয়াল করলাম ভাইয়ার মেশিনগানটা প্যান্টের ওপর দিয়ে পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে। আমি চোখ সরাতে পারছি না, একটু আগের অদ্ভুত অনুভুতিটা আবার হচ্ছে… ইচ্ছে করে হাত দিয়ে একটু ছুঁয়ে দেখতে … আমার চোখের দৃষ্টি অনুসন করে ভাইয়া বুঝতে পারলো আমি কি দেখছি, একটা খাতা দিয়ে ঢেকে নিজেকে আড়াল করলো ভাইয়া …
কাল সকালে ভাইয়ার সাথে ঘোরার সময় ভাইয়ার হাত ধরে থাকবো, ভাইয়ার গায়ের গন্ধ নেবো… আচ্ছা … আমি যদি ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরে ভাইয়ার বুকে হালকা করে একটা চুমু দেই ভাইয়া কি বুঝতে পারবে?? ভাইয়া কি আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরবে ??
উফফফ … আজকের রাতটা কেন শেষ হচ্ছে না?? সকালে ভাইয়া এসে আমাকে নিয়ে বের হবে। ভাইয়া সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারবে তো?? উনার মনে থাকবে তো ?? শোয়ার সময় ফোন দিয়ে মনে করায় দিয়েছি। আবার একটা এস এম এস দেই… ঘুম থেকে উঠে মোবাইল দেখলেই মনে পড়বে … সকাল হতে আর কতক্ষন লাগবে ?

২.

আমার ছাত্র নীল। গতবছরের মাঝামাঝি থেকে ওকে পড়াচ্ছি। কর্মব্যস্ত বাবা-মা একমাত্র সন্তান। বাবা-মা সময় ও দিতে পারেন না, খারাপ ছেলেদের সাথে মিশে নষ্ট হয়ে যাবে সেই ভয়ে কারো সাথে মিশতেও দেন না। সে নিজেও খুব চাপা স্বভাবের, ছোট থেকে একা একা থাকতে থাকতেই সম্ভবত এই অভ্যাস হয়েছে। ক্লাস নাইনে পড়লেও অর মধ্যে একটা শিশুসুলভ সারল্য আছে। সরলতার একটা আলাদা সৌন্দর্য্য আছে। নীলের সরলতা আমাকে খুব টানে… ওকে ভালোবাসতে ইচ্ছা করে, শক্ত করে জড়ায় ধরে নিজের মাঝে মিশিয়ে দিতে ইচ্ছা করে.… আবার পরক্ষনেই নিজেকে সামলে নেই। এসব কি ভাবছি ?? নিষ্পাপ সরল একটা ছেলেকে কেন এই বদ্ধ জীবনে টেনে আনার কথা ভাবছি ?

নীলের কিছু কাজে আমার সন্দেহ হয়, সে ও আমার মতো- সমপ্রেমী। ওর মাঝে আমি আমার ছোটবেলা দেখতে পাই। আমি ছোটবেলায় পাশের বাসার এক ভাইয়ার খুব ভক্ত ছিলাম। উনি ভালো ফুটবল খেলতেন। আমি মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে উনাকে দেখতাম, উনি যখন খালি গায়ে মাঠের পাশে বসে থাকতেন, খেলার সময় হাফপ্যান্ট পরা থাই এ আমার চোখ আটকে থাকতো। খেলা শেষে কে কয়টা গোল দিলো আমি বলতেও পারতাম না, বলবো কিভাবে? আমার নজর তো খেলার দিকে থাকতো না। আশিক ভাইয়ের দিকে থাকতো। ভাইয়ার বাসায় অনেক গল্পের বই ছিলো, আমি বই নেয়ার জন্য প্রায়ই উনাদের বাসায় যেতাম। একদিন দুপুরে যেয়ে দেখি উনি গোসল করতে যাচ্ছেন। আমাকে ঘরে বসতে দিয়ে বাথরুমে ঢুকলেন। বলে গেলেন, বাথরুমের দরজার ছিটকিনিটা নষ্ট। আমি যেনো ওদিকে না যাই।

আমার মাথায় কি যে ভুত চাপলো, আমি বইয়ের আলমারি থেকে বই খোঁজা বাদ দিয়ে পা টিপে টিপে বাথরুমের দরজার কাছে গেলাম, দরজাটা ভেজানো ছিলো। আমি দরজার ফাঁক দিয়ে ভাইয়াকে দেখতে থাকলাম … হঠাৎ ভাইয়া পেছনে ঘুরে আমাকে দেখতে পেলেন। তারপর …
তারপর … আমাকে টেনে নিয়ে গেলেন ভেতরে। সেদিন কি যে কেমন লেগেছিলো … আমার ভেতরে যে অদ্ভুত অনুভুতিটা হতো সেটার পুর্ণতার স্বাদ পেয়েছিলাম।

তারপর থেকে ভাইয়ার সাথে মাঝে মাঝেই এই নিষিদ্ধ খেলায় মেতে উঠতাম। আমি ভাইয়াকে মন থেকে ভালোবেসেছিলাম। কিন্তু উনার কাছে এটা ছিলো শুধুই শরীরের খেলা। আমার আবেগের কথা শুনে উনি শুধু হাসতেন… এটা যে শুধু শরীরের খেলা না এটা উনি বুঝতেন ই না, একটা ছেলে যে আরেকটা ছেলেকে ভালোবাসতে পারে এটাই উনি মানতে পারতেন না… এখন আশিক ভাই বিয়ে শাদি করে দুই বাচ্চার বাবা। আমি অনেক কষ্টে সেই দুঃস্বপ্ন থেকে বের হয়ে আসি। আমার অনেকদিন সময় লাগে সেই ধাক্কা সামলাতে। নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছি, আর কখনো এমন নিষিদ্ধ ভালোবাসায় জড়াবো না…
তারপর অনেক দিন পার হয়ে গেছে, এসব চিন্তা থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করতাম সব সময়। ভেবেছিলাম আমার ভেতরের সমপ্রেমী সত্ত্বাটা আর বেঁচে নাই… আমি আর দশজন জনের মতো সাধারন হয়ে গেছি।

কিন্তু নীলের মাঝে যেন ছোটবেলার নিজেকে খুঁজে পেলাম… একজন দিকভ্রান্ত কিশোর… নীল যেন ছোটবেলার সেই ধ্রুব… সমবয়সী বন্ধুরা যখন নারী শরীরের সৌন্দর্য্য খুঁজে পাচ্ছে আর মুগ্ধ হচ্ছে, তখন নীল বা ছোটবেলার ধ্রুব পুরুষ শরীরের সৌন্দর্য্যে ডুবে যাচ্ছে।

আমি নীলের দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারি সে কি ভাবছে… আমি তাকে কিছুটা প্রশ্রয় ও দেই … মাঝে মাঝে আমার ভেতরের ঘুমন্ত সত্ত্বাটা জেগে উঠতে চায়। নিজেকে সামাল দেয়া খুব কষ্টকর হয়ে ওঠে। একদিন নীলকে জড়িয়ে ধরেছিলাম … খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো ওর সুন্দর নিষ্পাপ ঠোঁট দুটো এক করে একটা চুমু বসিয়ে দেই … আমি জড়িয়ে ধরলেও নীল বাধা দেয়নি। মনে হচ্ছিলো ও বেশ স্বতস্ফুর্ত ভাবেই আমার আলিঙ্গন উপভোগ করছে।

আবার নিজের ভেতর অপরাধবোধ ও জাগে। আমি এটা কি করছি?? নীলকে কেনো এই বদ্ধ পথের রাস্তা চিনিয়ে দিচ্ছি? আশিক ভাই না হয় আমার অনুভুতি বুঝতে পারেনাই। তার কাছে শরীরি সুখ ছাড়া আর কিছু বিবেচ্য ছিলো না। কিন্তু আমি তো জানি, এই অনুভুতি কতটা সত্যি। আমি নিজে এক সময় এই নিষিদ্ধ আগুনে নিজে পুড়েছি, এখন অন্য একজনকে পোড়ানোর ব্যাবস্থা করছি ?

আমি কেনো নীলকে প্রশ্রয় দিচ্ছি? সে যে আমার প্রতি দুর্বল সেটা কি আমি বুঝিনা?? আমি কি পারবো নীলের অনুভুতির মূল্য দিতে?
জানি পারবো না, তাহলে প্রশ্রয় দিচ্ছি কেনো?? নীল এখনো অনেক ছোট, বড় হতে হতে বুঝতে পারবে তার এই অনুভুতিটা আলাদা, অন্যদের মতো না। আমাকে কেন্দ্র করে যদি ও একটা স্বপ্নের জগৎ তৈরী করে তাহলে যখন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে তখন কি ও পারবে সেটা মানতে? তার থেকে সে যেন স্বপ্নের জগৎ টা বানাতেই না পারে সে চেষ্টা ই কি করা উচিৎ না??
সকালে নীল আমার সাথে ঘুরতে বের হওয়ার বায়না ধরেছে। আমার ও খুব ইচ্ছে করছে ওকে নিয়ে রিকশায় ঘুরতে, ওকে আইসক্রিম কিনে দিতে, বুকে জড়িয়ে নিয়ে ছবি তুলতে … নির্জনে বসে ওর ঠোঁট দুটো কামড়ে দিতে … এসব কি ঠিক হবে?

নাহ … কালকে নীলের সাথে বের হওয়া যাবে না। নীলের এসব অনুভুতি শুরুতেই মুছে ফেলতে হবে। তাহলে আর বড় হলে কষ্ট পেতে হবে না। আর এখন যদি সে নিজেকে আরেকটা ছেলের সাথে জড়িয়ে চিন্তা করতে থাকে তাহলে ওর ও আমার মতোই দুঃস্বপ্নের জীবন শুরু হবে।
সকাল হতে বেশি বাকি নেই … নীল একটু আগেই একটা মেসেজ পাঠিয়েছে, সকালে সময় মতো বের হওয়ার কথা মনে করে দিয়েছে… ও সকাল হলেই ফোন দিতে শুরু করবে … ওর অনুরোধ উপেক্ষা করা আমার জন্য কঠিন, ফোনটা বন্ধ করে রাখাই সুবিধাজনক।

৩.

অবশেষে ভোর হলো … ধ্রুব ভাইয়াকে ফোন করে জাগিয়ে দেই,
জিরো ওয়ান সেভেন ওয়ান সেভেন থ্রী এইট…।
“আপনার কাঙ্খিত নম্বরটি তে এই মুহুর্তে সংযোগ দেয়া, সম্ভব হচ্ছে না…”

একি !! ফোন বন্ধ কেন ?? আবার ট্রাই করলাম… তারপর আবার … আবার … আবার … আবার।

এমন তো হওয়ার কথা ছিলো না !! আমি এতোবার করে ভাইয়াকে বললাম … আর উনি ফোন বন্ধ রাখলেন ?? রাতের মেসেজটা যখন দিয়েছিলাম তখন তো ডেলিভারি রিপোর্ট পেলাম, ফোনের কি চার্জ শেষ ?? উনি কি ঘুমাচ্ছেন?? পহেলা বৈশাখ সকালে কেউ ঘুমায় ?? উনার হোস্টেলে যেয়ে উনাকে ঘুম থেকে তুলে দিতে ইচ্ছা করছে … কিন্তু আমাকে তো একা একা বাসা থেকে বের হতে দেবে না … আমি এখন কি করবো ?? আমার সব প্ল্যান এভাবে মাটি হয়ে যাবে?? আমার জন্য পহেলা বৈশাখে এটাই ভাইয়ার উপহার ??

প্রথম প্রকাশঃ বাংলা গে গল্প। ১৮ই এপ্রিল, ২০১৪।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.