মৃন্ময়ী

লেখকঃ চিন্ময়ের ইতিকথা
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমার প্রথম প্রেমের কাহিনী নিয়ে লিখতে বসলাম। এটাই হয়তো অামার শেষ গল্প। এতদিন অনেকেই জিগ্যেস করেছিলেন “চিন্ময়ের ইতিকথা” নামটার পেছনে কোন কারন অাছে না কি। অাজ বলবো সে কথা……
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
১.
রাত তখন ১.৩০ মিনিট। দরকারী কিছু কাগজ খোঁজতে গিয়ে ফ্লোরে কি যেন পড়ে গেলো। নিচের দিকে তাকাতেই চোখে পড়লো সবুজ রঙের মলাটের একটা ডায়রী। ডায়রীটা দেখে বুকের মাঝে ঘ্যাচ ঘ্যাচ করে উঠল।যেন বিষাদের কাটা গুলো চিরে দিচ্ছে বুক। চুপচাপ ছাদে উঠলাম। পোড়া ঠোঁটে ঝুলে অাছে বেনসন। অাস্তে অাস্তে পুড়ছে সিগেরেট। নিয়ন লাইটের অালোয় অানমনে পড়তে লাগলাম অামার ডায়রীটা। ফিরে গেলাম সাত বছর অাগে ২০১১ সালে…
……………………………
*
-ওহ মাই গড অনিতা।
-ওহ মাই গড সবিতা।
মনে মনে গুঙিয়ে উঠলাম। চাপা স্বরে বললাম
-ওহ মাই গড অামার পরীক্ষা।
অনীতা ও সবিতা নামধারী দুজন মহিলা যথাক্রমে অামার মাসি ও মা। হুটহাট করে মাসি অামাদের বাড়িতে এসে পড়েছে। অামাদের সবাইকে নিয়ে মামার বাড়ি বেড়াতে যাবে। কারনটা হল মেজো মামার বিয়ে।
অামার জে এস সি পরীক্ষার কৃষি প্রেকটিক্যাল কালকে। সে কারনে পুরোদমে খাতা করছিলাম। অার এর মাঝে ব্যাগড়া। অামি অসহায় দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকালাম, তারা অামার অাবেদন বুঝতে দেরী করলেও অামার রুম ছেড়ে দিতে দেরী করেনি।
*
দু দিন পর।
সাকল ৬টা।
জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। মাসির সাথে এসেছে তার তিন মেয়ে। অার অামরা অাজকে যাচ্ছি মামার বাড়িতে। প্ল্যাটফর্মে বসে বসে ঝিমুচ্ছি। সেদিকে অামার ছোট ভাই ও মাসির ছোট মেয়ে দুজনে গুনগুন করে গান গাইছে
.
“মেঘের কোলে রোদ হেসেছে
বাদল গেছে টুটি
অাজ অামাদের ছুটি ও ভাই
অাজ অামাদের ছুটি….”
.
সত্যিই চমৎকার একটা ছুটি। খুশির অামেজটা যেন ছড়িয়ে যাচ্ছে সবার মধ্যে। এর মধ্য অামাদের অপেক্ষার পালা শেষ করে ট্রেনের দেখা মিললো। এমন সময় মাসি বলল
-মৃন্ময়ীকে ত দেখছি না। তার ভাইটা কই..?
অামি ফিসফিস করে তন্নী(মাসির মেজো মেয়ে) কে বললাম
মৃন্ময়ী টা কে রে??
সে অামাদের পিসতুতো বোন, সাথে তার ভাই “চিন্ময়” ও অাসছে।
-তারা এসে কি করবে!
-তাদের সাথে মামার ভালো যোগসূত্র অাছে। অার তাছাড়া তারা যাবে পাহাড় দেখতে।
অামি ছোট্ট করে একটা “হুঁ” বললাম।
ট্রেন প্লাটফর্মে থেমেছে। মৃন্ময়ীরা না কি অামাদের জন্য টিকেট কেটে রেখেছিলো। অামার ব্যাস্ত ইতিউতি চোখের চাহনিতে খোঁজছি। কিন্তু চিনি ত না। কাকে যে খোঁজছি তা নিজেও জানি না। হঠাৎ করে পেছন থেকে ডাক এলো
-তন্নী, এইদিকে…
অামি পিছনে ফিরে তাকালাম। তাকিয়ে অামি রীতিমতো থমকে গেলাম।
.
এ কে!
এত সুন্দর মানুষ হয়!
রুকমিনী দেবীর মতো মুখ তুলে শান্ত ও অায়ত চোখে তাকিয়ে অাছে অামাদের দিকে। তাকানোতে অাছে এক প্রকট প্রশান্তি ও অমিও স্নিগ্ধতা যা ছুঁয়ে যায় হৃদয়.. রেশমের মতো কোমল চুল ছড়িয়েছে মহুয়ার সৌরভ। সবমিলিয়ে এ যে অনন্য।
অঙ্কুর(অামার ছোট ভাই) বললো
-হা করে অাছো কেন দাদা, ট্রেনে উঠো।
ঘোর ভেঙে অামি ট্রেনে উঠলাম। মাসি বলছে
.
-চিন্ময় কোথায়?
মৃন্ময়ীঃ দাদা ত নাস্তা অানতে গেছে…
ট্রেন বিদায়ের ঘন্টা বাজালো হুইসেল দিয়ে।কিন্তু চিন্ময় দার দেখা নেই। চলতে শুরু করেছে ট্রেন। অজানা অাশঙ্কায় চোখেমুখে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। এমন সময় একটা ছেলে দৌড়ে অামার দিকে অাসছে। প্রানপন দৌড়ে উঠে গেলো ট্রেনে। এসেই মাসির হাতে কিছুক্ষন বকা খেয়ে নিলো..
তারপর নাস্তাবন্টন।
এবার অামি টের পেলাম শীত কাকে বলে।শীতে হাড়গোড় জমিয়ে দিচ্ছে। তার অবশ্য কারন অাছে। অামি শুধু ফুলহাতা শার্ট পড়ে এসেছিলাম। প্রবাদবাক্য টা মনে পড়লো অাবার
.
“বাবু মরে শীতে অার ভাতে…”
মার কাছে সোনামুখ করে বললাম
-স্যুয়েটার টা দাও ত।
মা একরাশ বিরক্তি নিয়ে ব্যাগ খুলতে গেলেন। কিন্তু ব্যাগ খোলতে গিয়ে সমস্যাটার সম্মুখীন হলো। মা ব্যাগের চাবি ভুল করে রেখে এসেছে। কি অার করা। মামার বাড়ি গিয়ে ব্যাগের তালাটা ভাংতে হবে। এ অবস্থা দেখে দরজার পাশে দাড়ানো চিন্ময় দা অামার উদ্দ্যেশে ছুঁড়েছে তার প্রথম কথা
.
-অাচ্ছা তুমি ত অামার সাথে চাদর শেয়ার করতে পারো…
মা সে কথাতে একটা ভোট দিল। অামিও অার দ্বিমত করলাম না।
চলে গেলাম চিন্ময় দার চাদরের ভেতরে একটু উষ্ঞতা ভাগ করতে। চাদরের ভেতরে অামরা দুজন, চিন্ময় দা অামাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে অার অামিও বেড়ালের মতো গুঁটিশুঁটি মেরে অাছি। কিন্তু চিন্ময় দার জড়িয়ে ধরার মধ্য কি যেন একটা ছিল…
একটু অস্বস্তি অাবার একটু ভালোলাগা
বাতাসে উড়ছে চাদরের কোনা ও মৃন্ময়ীর খোলা চুল। ট্রেন চলছে দ্রুত।

.
২.
ট্রেন জার্নি শেষ করে এবার রিক্সা নিলাম। কুয়াশা কেটে ঝলমল রৌদ্রে ভেসে যাচ্ছে চারদিক। অামি চিন্ময় দা ও মৃন্ময়ী উঠলাম এক রিক্সায়।অামি বসলাম সিটের উপর, চিন্ময়দা অামার নিচে। টুকটাক কথা বলছি। চিন্ময় দার একটা অসাধারন গুন অাছে। সবাইকে অাপন করে নেয় অতি সহজেই।এছাড়া কালো পাঞ্জাবী পড়া খোঁচা খোঁচা দাড়িতে তাকে দেবদূত লাগছিলো। সাথে চশমাটা তে তাকে কবি কবি লাগে। মাঝে মাঝে ঝাঁকি খেয়ে তার ঘাড়ের কাছে চলে যাচ্ছিলো অামার নাক। এক অদ্ভুদ তীব্র পুরুষালী ঘ্রান পাচ্ছিলাম। বুকের মধ্য ড্রাম বজছিলো কেন যেন। এভাবে কেটে গেলো জার্নির বাকি সময়টা।
*
অবশেষে পৌছুলাম অাকাঙ্খিত জায়গায়। মামার বাড়ি। সবার উষ্ঞ অর্ভথ্যনায় কেমন যেন হাঁসফাঁস লাগছিলো। ফ্রেশ হয়েই ছুট দিলাম অামার চিরচেনা পরিচিত ফ্রেন্ডের কাছে। মৌ। মাঝে মাঝে মনে হয় মৌ না থাকলে মামার বাড়িটা বোরিং লাগতো কারন অামার সমবয়সী কেউ নেই। দেখি সে পুরনো অভ্যাসমতো বাড়ির পাশে শানবাধানো পুকুরঘাটে পা ডুবিয়ে বসে অাছে। তার কাছে যেতেই জিগ্যেস করলো
.
-কখন এলি?
-মাত্র। এবার রস খেয়েছিস?
-হা, তুই নিশ্চই খাসনি?
-না রে।
-যা কাল রস হাজির থাকবে। এই বলে দস্যি মেয়ের মতো হেসে উঠলো। অামিও হাবলার মতো তার সাথে হাসিতে যোগ দিলাম।
এমন সময় বাড়ির পিচ্চিদের (মোট অাট জন অান্ডার টুয়েল্ভ) সাথে বের হল মৃন্ময়ী। বললো
-অামাদের সাথে ঘুরতে যাবে?
-পরে যাবো না হয়….। এই বলে ভদ্রভাবে প্রত্যাখান করলাম।
সেখানে অার থাকলাম না। চলে গেলাম বাড়িতে। দেখি সব ছেলেরা তীর্থযাত্রীদের মতো নদীর উদ্দ্যেশ্যে রওনা দিচ্ছে। কারনটা বুঝার সাথে সাথে অামিও কাঁধে গামছা ফেলে রওনা দিলাম নদীর দিকে। পিছন থেকে মা সবিস্তৃত বর্ননা করছে নদীতে যাওয়ার অপকারিতা নিয়ে। কিন্তু সবসময় সব কথা শোনতে হয় না বলে অামিও না শোনে চললাম তাদের সাথে… অামার পাশে হাটছে চিন্ময় দা….

.
৩.
সোমেশ্বরীর বুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছি সবাই। চিন্ময় দা ডুব দিয়েই পাড়ে উঠে পড়েছে। এতক্ষনে চোখ পড়ল তার দিকে। কেন যেন বেহায়া চোখের বোহেমিয়ান দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকলাম তার দিকে। একহারা গড়নের ছিপছিপে একটা শরীর। চামড়া ত নয় যেন সোনালী রঙের অাবরনে মোড়ানে কিছু সোনার অাঁশ। ভেজা লোমগুলো বুক অাঁকড়ে পড়ে অাছে। তার সাথে অামার চোখাচোখি হয়ে যাওয়ায় সে মুচকি হেসে নেমে পড়লো নদীতে। অনেকক্ষণ কাটানোর পর যখন দেখি চোখ লাল ও ঠোট নীলবর্ণে রাঙা হয়েছে তখন চিন্ময় দা হালের গরুর মতো সবাইকে তাড়িয়ে নিয়ে ডাঙায় তুলল। চুপচাপ চললাম বাড়ির উদ্দ্যেশে।
বাড়িতে অাসার পর মা অার মাসি অামায় দেখে অার. জে হয়ে গেলেন। একাধারে বকাবকি করার স্ট্যামিনা দেখে অামি অবাক। ভাগ্যিস তারা এটম খায় নি। তাহলে অার ঘরবাড়িতে থাকা যেতো না।
*
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো। কুয়াশা অাসছে দলবল নিয়ে। এমন সময় চিন্ময় দা বললো
-কি পিচ্চি কাজ অাছে না কি কোন?
-না দাদা
-তাহলে চলো নদীর পাড় থেকে ঘুরে অাসি।
.
হাটতে হাটতে নদীর তীরে শাদা বালুর উপর বসলাম।পাশে চিন্ময় দা।অবাক দৃষ্টিতে দেখছি নদীর এক অপরূপ রূপ। দ্বাদশীর ভাঙা চাঁদের জোছনা কুয়াশার উপর পড়ে সৃষ্টি করেছে এক মোহ। জোছনার এ অপার্থিব সৌন্দর্য্যে ভুলে গেছিলাম অামি কে, কোথায় অাছি।চিন্ময় দা চাঁদ দেখছিলো, অার অামি দেখি তাকে। সেবুঝতে পেরে অামার দিকে তাকালো। ধরা পড়ে গিয়েও চোখ সরালাম না কেন যেন। অন্যরকম এক ভালোলাগা কাজ করছে। বুকটা অাবার ধুকপুক করছে। হঠাৎ সে দাড়িয়ে পড়লো। অামিও তাকে অনুসরন করলাম।সে একটা গাছের নীচে দাড়ালো। অামিও গেলাম তার পিছু পিছু। শরীর ঘেঁষে দাড়ালাম।ঘাড়ে পড়ছে গরম নিঃশ্বাস। শরীরের প্রত্যেকটা রোম দাড়িয়ে গেল।অজানা এক মাতালতা ভর করলো শরীরে। নেশাতুর চোখে তার দিকে ঘুরে দাড়ালাম। দেখি সেও অস্পষ্ট চোখে অামার দিকে তাকিয়ে অাছে। হঠাৎ করে সে অামার কাঁধে ধরে তার দিকে টেনে নিলো। ডুবিয়ে দিল ঠোঁট। চুষে যাচ্ছে অামার ঠোঁট অবিরত। আমিও চুষে যাচ্ছি তার ঠোঁটজোড়া। নাকের উপর হালকা গুঁতো লাগছে তার গোঁফের। হঠাৎ করে যেন থেমে গেলো সবকিছু। অামিও যেন সম্বিত ফিরে পেলাম। ঘটনাটা কি হল!
যখন চিন্তা করছি গা টা রি রি করে উঠলো…
তাড়াতাড়ি হাটা দিলাম বাড়ির দিকে। চিন্ময় দা হা করে তাকিয়ে অাছে অামার গমনপথের দিকে….

.
রাত্রে অামার থাকার জায়গা হল ছোট মামার রুমে।সাথে চিন্ময় দা থাকবে। শীতের রাত্র তাই তাড়াতাড়ি খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়লাম। দুজন চুপচাপ শুয়ে অাছি। নিঃশব্দে। সংকোচ বোধ করছি দুজনেই। হঠাৎ করে চিন্ময় দা বললো
-অাই এম সরি।
অামি যে কি বলবো তা বুঝতে পারি নি। শুধু তার দিকে এগিয়ে গেলাম কিছুটা।
সারাটারাত দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকলাম।কেটে গেল একটা রাত।

.
৪.
অভিক।অভিক। কত ঘুমোবি। উঠ উঠ।
মুখপুড়ো মৌ এর ডাকে ভেঙেছে ঘুম। চোখ কচলে বাইরে যেতেই দেখি এককলস রস নিয়ে হাজির। অামি বললাম
-কোত্থেকে এনেছিস!
-জানিস না অামাদের খেঁজুর বাগান অাছে…
-কিন্তু এক কলস রস!
কোন কথা না। চুপচাপ খা.. অামি দিচ্ছি।
.
কোন একটা পিচ্চি যেন তাকে দেখে ফেলেছে.. তারপর তারস্বরে চিৎকার
-মৌমাসি অামারে খেঁজুরের রস দেও…
অামি অামারটা নিয়ে ভাগলাম। দূর থেকে মৌ এর দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলাম। সবাইকে বিলিয়ে দিচ্ছে খেঁজুরের রস। তাকে ঘিরে সবাই।সে এক অন্যরকম প্রশান্তি।
হাতমুখ ধুয়ে গরম ভাপা পিঠা শেষ করে বেরুতেই মৃন্ময়ী বললো
-অাচ্ছা অভিক… তুমি কি অামাকে ভয় পাও?
-তা কেন!
-তাহলে অামার সাথে কোন কথাবার্তাই বল না। তোমাদের এখানে নতুন এসেছি। কোথায় সব ঘুরিয়ে দেখাবে তা না…
-চলো তাহলে…
অামাদের সাথে তন্নীও অাসতে লাগলো। অাসার সময় দেখলাম মৌ এর মুখ ভার।
পথে হাটার সময় গুনগুনিয়ে গান ধরেছি
.
“গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙা মাটির পথ
অামার মন ভুলিয় রে “
.
তন্নী বলে
-তোর গলা এত খারাপ তাও গান কেন?
-হতভাগী অামি কি অডিশন দিতে যাচ্ছি..?
হঠাৎ করে মৃন্ময়ী বললো
-ওয়াও সরিষা ফুল। সরিষা ক্ষেতে নামি?
-নামো।
সে একটা ফুল নিয়ে কানে গোঁজল। শাদা পোশাকে বিস্তৃত সরিষা ক্ষেতে তাকে অনন্য লাগছিলো। অামি অাবার তার দিকে হা করে তাকিয়ে ছিলাম। তার হাতের দিকে তাকাতেই দেখলাম ক্যামেরা। ক্যামেরাটা তন্নীর দিকে দিয়ে বললো
-তন্নী অামাদের কিছু ছবি তুলে দিবে?
অামি শুধুই তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তন্নী ক্লিক ক্লিক করে তুলে যাচ্ছে ছবি।
অামার অার কোন ধ্যান নেই জ্ঞান নেই। সব মনে হয় মাটির তৈরী সে অপরূপ মূর্তির(মৃন্ময়ী) কাছে সঞ্চিত রেখেছি। দিনগুলো কেটে যাচ্ছে তার সাথে সময় দিয়ে।
.
৫.
অাজকে হাটের দিন। হাটে যাবো বলে ঠিক করেছি অার এর মধ্য পিচ্চিরা তাদের বায়না পত্র নিয়ে হাজির। বিরস বদনে সব ফর্দ নিয়ে তারপর গেলাম মৃন্ময়ীর কাছে। তাকে বললাম কি লাগবে?
সে মুচকি হেসে বলেছিলো,” কিছু না”।
কেন যেন মনে হল সে প্রাপ্তির সর্বশেষ সীমায় অাছে, গৌন বিষয়গুলো ত মায়াবন্দী করে রাখে শুধু।
হাটে গিয়ে বেশ কিছু জিনিসই কিনলাম। এর মাঝে একটা অাশট্রে চোখে পড়েছে। কিনলাম। অার মৃন্ময়ীর জন্য কিনলাম একটা ফুলদানী।
একা রাস্তা দিয়ে বাসায় ফিরছি। রাজ্যের যত ভূতপ্রেত অাছে সবগুলো মাথায় ভর করছে। মনে মনে রাম রাম করছি শুধু।
তবে সৌভাগ্যক্রমে কোন ভূত চোখের সামনে পড়লো না।

.
বাসায় ঢুকতেই মৃন্ময়ীর সাথে দেখা। অাঁধারে তাকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে না। ব্যাগ থেকে বের করে তাকে ফুলদানি টা দিলাম। তার মুখের অভিব্যাক্তি জানি না। শুধু দেখেছি হালকা শীতল বাতাসে দোলেছে দিয়েছে তার কিছু চুল।
*
সারা ব্যাগ খোঁজেও এশট্রে টা পেলাম না। ভেবেছিলাম চিন্ময়দা কে দিবো। কিন্তু তা অার হল না। খাবার সময় মা বোম ফাটালো। অার তা হল কালকে সবাই মিলে পাহাড়ে যাচ্ছি। অামাদের উত্তেজনা অার দেখে কে। ছোটনা ত হই হুল্লোড় শুরু করেছে। অামি ঠিক করলাম অামি চিন্ময় দা ও ছোট মামা অামরা অাগে বাইক দিয়ে চলে যাবো। তারপর তারা অাসবে।
.
সারারাত খুশীর অামেজে ঘুমোতে পারি নি। সকালে ত অামাদের বাড়িতে ইদ লেগে গেছে। দুটো নসিমনে বাচ্চাকাচ্চাও মায়েরা অার অারেকটাতে পুরুষেরা বসেছে। অামরা চলে গেলাম বাইক দিয়ে। ছোট মামা কিছু দরকারি জিনিস কেনার জন্য নামলেন অার বললেন তার দেরি হবে। অাবার চলতে শুরু করেছি। চিন্ময় দা বাইক চালাচ্ছে। তার চুলগুলো উড়ছে বাতাসে। হাইওয়ে রাস্তার দুপাশে প্রহরীর মতো দাড়িয়ে অাছে গাছগুলো। অামি চিন্ময় দাকে শক্ত করে অাঁকড়ে ধরে তার পিঠে মাথা রাখলাম। পিছনে ফেলে যাচ্ছি অনেকটা পথ।
*
গন্তব্যে পৌছুলাম সবার অাগে। অাবার নতুনকরে প্রেমে পড়লাম। যদিও অামি অাগে পাহাড় দেখেছি। সামনে বিস্তৃত লাল ঘাসফুলের চাদর যেন বিছিয়ে অাছে। পাহাড়ী নদীর নীল জল সত্যিই মনোমুগ্ধকর। সাথে অাছে নীলাকাশ। ঘাসের উপর বসে রইলাম। পাশে এসে চিন্ময় দা বসেছে। অামার হাতটা অালতো করে ধরে। কতক্ষন বসে ছিলাম তা জানি না, হঠাৎ পেছন থেকে
.
” বুউউউ ” বলে চিৎকার করে উঠায় চমকে গেছি। ওহ তন্নী। পাশেই মৃন্ময়ী। মৃন্ময়ী অামার উদ্দ্যেশে বললো
-চলো অাশপাশটা ঘুরে অাসি।
অামি উঠে পড়তেই চিন্ময় দা বলে
-থাকুক ও অামার সাথে….
মৃন্ময়ী চিন্ময়দার দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকালো যে চিন্ময় দা কুঁকড়ে গেছে। অামি অবাক হলাম। ছোট বোন বড় ভাইকে এভাবে শাসায়….
.
মাথা না ঘামিয়ে পাহাড়ি ছাগলের মতো চলতে শুরু করলাম দু তরুন তরুনী।বাধাহীন হয়ে গেছি অামি। পাহাড়ের উপরে উঠে চিৎকার করলাম দুজনে। সে এক অন্যরকম প্রশান্তি। অামি যেন পাগল হয়ে গেছি। মৃন্ময়ী দু হাত প্রসারিত করে জোড়ে শ্বাস নিচ্ছে। অামি তার দিকে এগিয়ে গেলাম। তার ঠিক সামনে দাড়ানো অামি।সে চোখ মেলে অামার দিকে তাকাতেই অামার যে কি হয়ে গেলো নিজেও জানি না। জড়িয়ে ধরলাম তাকে। শক্তকরে। বুকের সাথে মিশিয়ে দিচ্ছি। প্রথমে সে হতভম্ব হয়ে গেলে তারপর অনুভব করলাম অামার পিঠেও অারো দুটো হাত। একাকার হয়ে গেছে দুটো হৃদয়। অনেকক্ষন পর ছাড়লাম। সে অামার কাছ থেকে দৌড়ে দূরে সরে যেতে চাইলো। হঠাৎ করেই তার অার্তচিৎকার। অামি দৌড়ে তার কাছে গেলাম। সে মাটিতে বসে অাছে গোড়ালী তে ধরে। মুখটা বিকৃত হয়ে গেছে যন্ত্রনায়। অারো অনেকেই এসেছে। তারা তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলো…
*
গোড়ালী টা মচকে গেছে শুধু। এর জন্য বেড রেস্ট পুরো ৭ দিন। অবাক লাগলেও এটা জেনে ভালো লাগছে যে সেরকম ক্ষতিকর কিছু হয় নি।

.
৬.
সারাবাড়ি বিয়ের জন্য সাজ সাজ রব। এদিকে চিন্ময় দার মনটা প্রায়শই খারাপ থাকে। কারনটা জানি না। অার সেদিকে মৌ এর দেখা পাওয়া ভার। দেখলেও কেমন যেন এড়িয়ে যায়। এটা চিন্তা করেই অামার খারাপ লাগে। কেন এড়িয়ে যাবে…..
সবাই ব্যাস্ত। কারন পরশুদিন মামার গায়ে হলুদ। এর মাঝে মৃন্ময়ীকে অামি সময় দেই। ঘরে বসে বিরক্তবোধ করে সে কিন্তু কিছুই করার নেই। অামি তাকে সময় দিয়ে যাই।
কালকে গায়ে হলুদ। ব্যান্ড পার্টির অসহ্য যন্ত্রনায় ঘরে থাকা যায় না।
.
মৃন্ময়ী অাজ হাটতে পারছে। হঠাৎ করে মৃন্ময়ী ফিসফিস কন্ঠে ডাক দিলো
-অভিক এই অভিক অাসো ত।
অামি তখন কাজে ব্যাস্ত। তাকে বললাম
‘কি হলো’
-চলো পুকুড় পাড়ে বসি।প্লীজ।
-অাচ্ছা চলো।
মৌদের পুকুরঘাটে বসলাম। খুব শীত করছে। অাজকে খুব জোছনা। কুয়াশাও ছিলো বেশ। হঠাৎ মৃন্ময়ী বললো
-অাচ্ছা, এ পরিবেশটাকে এক কথায় কি বলবে?
-স্বর্গের সুমেরু।
-অার অামি?
তার দিকে তাকালাম নতুনভাবে। অাবারো প্রেমে পড়লাম। সাহসের উপর ভর দিয়ে বলে ফেললাম
-I Love You
.
সে চুপ করে অাছে। মাথাটা নিচু। অামি অালতো করে মাথাটা তুললাম। জোছনা যেন তার মুখ থেকে ঠিকরে পড়ে। তার চোখের দিকে তাকিয়ে অাছি। অাস্তে অাস্তে দুটো মুখ একত্রে হচ্ছে। তার নিঃশ্বাসের ঘ্রান পাচ্ছি। চুপচাপ অাস্তে করে ডুবিয়ে দিলাম ঠোঁট। উষ্ঞ ঠোঁট দুটো চুষে যাচ্ছি দুজনে। হঠাৎ করে পিছনে শব্দ শোনে থতমত খেয়ে তাড়াতাড়ি পিছনে ফিরলাম দুজনে।পিছনে ফিরে অামার চোয়াল ঝুলে পড়লো।বুকটা ধরাস করে উঠলো। বোবা হয়ে গেলাম প্রায়। দেখি যে চিন্ময় দা দাড়িয়ে অাছে……

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.