মেলা

লেখকঃ অরন্য যুবরাজ

এখন ভর দুপুর ।
শুনশান চারপাশ । কেমন একটা ঝিম ধরানো সময় ।
দূরে কোথাও একটা কোকিল ডাকছে । কুহু । কুহু ।
শ্যামল একটা পুকুর পাড়ে বসে আছে ।
ওর পরনে একটা নীল চেক লুঙ্গি । গায়ে সবুজ ফতুয়া । গলায় একটা গামছা ঝুলানো ।
ওর মাথায় আজ রাজ্যের টেনশন ।
কমলপুর বাজারে আজ ওর শো । পালাগানের । বৈশাখী মেলায় শো ।
নতুন পালা । তাই গানের কথা মাঝে মাঝে মনে থাকে না ।
অবশ্য তখন আনিয়ে বানিয়ে কথা ঢুকিয়ে দেয় শ্যামল ।
পালাগানের এই এক সুবিধা ।
গত এক বছর ধরে এই পালাগানের দলে আছে সে ।
গান গাওয়া ছাড়া আর কিছু পারে না শ্যামল ।
বাপ মারা গেছে বছর পাঁচেক হল ।
এরপর মাও গেল ।
তখন থেকেই গ্রামের এক কোনায় একটা ঝুপড়ি ঘরে একা একা থাকে শ্যামল ।
ওর গানের গলা ভালো দেখে আলিমুদ্দিন বয়াতি ওরে “ কমলা সুন্দরী” পালাতে নিয়ে নিল ।
সেই থেকে ভালই আছে শ্যামল ।
খাওয়া পরার চিন্তা করতে হয় নাই ।
আর পাঁচ দশ টাকা যা পায় তার পুরোটাই জমায় ।
ভবিষ্যতের জন্য ।

আজকাল প্রায়ই শরীর কেমন করে শ্যামলের ।
ঘুমের মাঝে প্রায়ই শরীর শিউড়ে উঠে ।
ইচ্ছে করে কাউকে জড়িয়ে ধরতে ।
স্বপ্ন দেখে সে । ঘুমের মাঝে ।
কিন্তু পালাগানের প্রেম কাহিনীর মত ওর স্বপ্নে কোন অপরূপা রাজকুমারী আসে না ।
আসে যুবক । তাগড়া নওজোয়ান ।
যার সুঠাম উদোম শরীর শ্যামলের শরীরে জ্বালা ধরায় ।
গোপন জ্বালা ।
তখন বিছানায় ছট ফট করে শ্যামল ।
ইচ্ছে করে শক্ত করে কাউকে শরীরের সাথে পিষে ফেলতে ।
শ্যামল ভাবে ।
ওর কি কোন অসুখ !
তাহলে সুন্দরী কোন মেয়ে দেখলে ওর শরীর জাগে না কেন ?
কেন ওর পালার দলের বাশিওয়ালা রহিম মিয়ার শরীরের গন্ধ ওর ভালো লাগে ?
রহিম ভাই যখন উদোম হয়ে ঘুমায় ! তখন কেন ওর দিকে চেয়ে থাকতে ভালো লাগে ?
যখন একসাথে কোন শো করতে দূর গ্রামে যায় তখন লুকিয়ে লুকিয়ে রহিম ভাইয়ের শার্ট গায়ে জড়ায় শ্যামল ।
ভালো মন্দ কোন কিছু খেলে রহিম ভাইয়ের জন্য রেখে দেয় ।
আলাদা করে ।
কিসের টানে এসব করে শ্যামল !
জানে না ।
একবার ঠিক করেছিল থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব নিয়ে কথা বলতে যাবে ।
কিন্তু ওর শরম লাগে ।
এমনিতেই গ্রামের ভেতর ওর মেয়েলি স্বভাব নিয়ে সবাই হাসে ।
কানাঘুষা করে ।
আড়ালে ওকে সবাই শ্যামলী বলে ডাকে ।
ও নিজেও জানে ও অন্যরকম ।
সবার থেকে আলাদা ।
ওর ভালো লাগে পরিপাটি হয়ে থাকতে ।
দলের অন্য সবাই যখন উস্কুখুস্কু চুলে ঘুরে বেড়ায় । ও তখন চুলে তেল মাখে ।
গন্ধরাজ তেল ।
গায়ের গন্ধ ওর সহ্য হয় না ।
তাই পাউডারও মাখে ।
তিব্বত পাউডার ।

*******************

-“ কিরে শেমুইল্লা, এইহানে কিতা করস ? তোর না আইজকা শো , হাইঞ্জা বেলায়”
তপন ঢুলির ডাকে ফিরে তাকাল শ্যামল । তপন ওদের দলে ঢোল বাজায় ।
-“কিছু না তপন দা । একটু চিন্তা হইতাছে । মনে মনে গান আউরাইতাছি । নতুন পালা । বুঝই তো । আস । বস । একটু আলাপ করি ।”
-“ আলাপের সময় নাই । আমার ঘুমাইতে হইব । না ঘুমাইলে শরিলে জুইত পাই না । পরে ঢুল বাজাইতে পারুম না । ঢুল তো আর তুমার গলা না ! যে ফেত কইরা সুর বাইর কইরা দিমু । বুঝলা ! ঢুল বাজান বহুত পরিশ্রমের কাজ । বুঝলা মিয়া ! আর শুন । এইহানে দুফুইরা রইদে না বইসা থাইক্কা গিয়া একটু শোও । বালা লাগব।”
-“ তুমি যাও , তপন দা । আমার চউক্ষে ঘুম আহে না বাই।”

তপন ঢুলি চলে যায় । ওদের থাকার ঘরের দিকে । এখানকার গ্রামের চেয়ারম্যান এর বাড়িতে ওদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে । ব্যবস্থা মানে গনবিছানা ।
শ্যামল এবার একটু হাঁটে । সামনের ছোট পায়ে চলা রাস্তা ধরে ।
মিনিট পাঁচেক হাঁটার পর একটা ঝুপড়ি চা দোকানের সামনে দাঁড়ায় শ্যামল ।
দোকানের ভেতরে একটা ছেলে বসা ।
ছেলে না বলে যুবক বলাই ভালো ।
কালো কুচকুচে গায়ের রঙ ওর ।
পরনের লুঙ্গিটা হাঁটুর উপর অবধি উঠানো ।
খালি গা । দুপুরের গরমে দর দর করে ঘামছে সে । ওর বুক ভর্তি লোম ভিজে লেপটে আছে বুক জুড়ে।
গলায় একটা তাবিজ ।
ছেলেটার চোখ দুটো অদ্ভুত সুন্দর ।
শ্যামল এক দৃষ্টিতে হাবলার মত তাকিয়ে আছে ।
ছেলেটা ওকে দেখেই বলল
-“ বাইজান, বসেন । ছা কাবেন ?”
ছেলেটার কথায় লজ্জা পেল শ্যামল ।
চোখ নামিয়ে পাশের বেঞ্চিতে বসল ।
ভাঙ্গা বেঞ্চি । বসতেই ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে শব্দ হল ।
এই ভর দুপুর বেলায় কেউ নেই আশেপাশে ।
শ্যামল ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল,
-“ হুম, এক কাপ ছা দাও তো বাই । চিনি কম দিও। বালা কইরা বাইনাইও কইলাম । খারাপ ছা আমি খাইতে পারি না ।”
শ্যামল ছেলেটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ।
ছেলেটার সব মনোযোগ এখন চায়ের কাপে ।
ও কেটলি থেকে কাপে লিকার ঢালে ।
তাতে দুধ মিশায় ।
চিনি মিশায় ।
চামচ নাড়ে ।
শ্যামল ছেলেটার বুকের পেশি, হাতের পেশির নাচন দেখে । চামচ নাড়ার ছন্দে ছন্দে ওর শরীর দুলছে ।
শ্যামল মনে মনে ভাবে,
-“ইস । চা বানাইতে যদি অনেক সময় লাগত!”

-“বাইসাব, নেন । আফনের চা।”
ছেলেটার হাত থেকে চা নিতে গিয়ে অন্যমনস্কতায় চা ছলকে পরে কাপ থেকে ।
শ্যামলের আজ এসব কি হচ্ছে ?
ও চায়ে চুমুক দেয় ।
ছোট করে ।
ওর মনে হচ্ছে এতো ভালো চা ও কতদিন খায় নি !
-“ বাইসাব, ছা ভালা হই নাই !”
ছেলেটার কথায় শ্যামল হেসে বলে,
-“ সেইরকম ছা বানাইছ বাই । তুমার নাম কি ?”
-“মনা মিয়া । এই তো সামনেই আমার বাড়ি । আফেনেরে এইহানে নতুন দেখলাম ? কই আসছেন ? বেড়াইতে ?”
-“ আমি শ্যামল গায়েন । পালা গান করি । তমাগো বাজারে আজ শো আছে । রাইতে । কমলা সুন্দরীর পালা করুম । বৈশাখী মেলায়।”
-“ কন কি ? আফনে পালার গায়েন ? আমি তো আইজ রাইতে পালা দেখতে যামু।”
-“ তাই ? এইহানে কে কে থাকে তুমার !”
-“ আমি এহাই তাকি।”
-“ও । তাই ! বিয়া কর নাই?”
-“করুম । সামনের মাঘে । পাত্রী পাশের গেরামে তাকে । নাইন পাশ । কিছু জায়গা জমিনও পামু।”
-“ও , তাইলে তো ভালা । সুকের সংসার হইব।”
-“ দুয়া রাইইক্ষেন বাইসাব।”
-“ হুম । এই লও তোমার টে হা । ছায়ের দাম।”
-“ লাগবুনা বাইসাব, আফনে শিল্পী মানুষ । ছায়ের দাম লাগবু না।”
-“ কও কি মিয়া । তাইলে তো দুনিয়ার হগল শিল্পী তুমার স্টলে ছা খাইতে আইব।”
-“ হা হা হা । ভালাই কইছেন বাইসাব।”
-“ আইচ্ছা যাই । রাইতে আইস । পালা দেখতে।”

*****************

শ্যামল চোখে কাজল দিচ্ছে ।
গাড় করে ।
একটু পরেই স্টেজে উঠবে সে ।
বাইরে মানুষের শোরগোল । বৈশাখী মেলার মানুষের চিৎকার আর গানের শব্দ ।
শ্যামল ওর পায়ে ঘুঙ্গুর বাঁধে । ওর পরনে ঢোলা পায়জামা । কমলা রঙের ।
পায়জামার নিচের দিকে লাল লেস দেয়া । দূর থেকে দেখলে ঘাগরা বলে ভুল হয় ।
আর ফতুয়ার রঙ সবুজ ।
সাথে লাল ওড়না ।
ঘড়িতে এখন সাতটা বাজে ।
এখনই পালা শুরু হবে ।
শ্যামলের বুক কেমন ধুক পুক করছে ।
-“ আইজ এমুন লাগিতাছে কেন ? আগে তো এমুন লাগে নাই ।

– “কই শেমুইল্লা । হইল তোর ! বাইরে তো লুক জন বইয়া রইছে । চল চল।”
-“ আইতাছি তপন দা।”

শ্যামল এখন স্টেজে ।
ওর চারপাশে চোখ ঝলসানো আলো ।
হ্যাজাক বাতির মেলা ।
সামনে কে কোথায় তা বুঝার উপায় নাই ।
ও যেদিন প্রথম স্টেজে পালা করতে উঠে তখন সে অনেক ভয় পেয়েছিল ।
ভয়ে গান থামিয়ে দিয়েছিল ।
তখন পালার দলের বয়াতি আলিমুদ্দিন ওকে বলেছিল,
-“ হুন । শ্যামল । শিল্পী গো আসল জায়গা হল মঞ্চ । তুই যখন হেই জায়গায় দাঁড়াবি । দুনিয়া দাড়ি সব ভুইলা যাবি । ভাববি সামনে কেউ নাই । নিজের বুহের বিতর যা আছে সব ঢাইল্লা দিবি । বুঝলি ?”
শ্যামল এতো কঠিন কঠিন কথা সেদিন কিছুই বুঝে নি ।
মনে মনে হেসেছিল সে ।
কিন্তু আজ সে বুঝতে পারছে আসলেই ষ্টেজ একজন শিল্পীর কাছে কি !

মনে মনে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে বন্দনা শুরু করল শ্যামল ।
নাহ ।
এখন বুকটা ফুরফুরা লাগছে শ্যামলের ।
আসলেই পালা একবার শুরু হয়ে গেলে সেটা নিজে নিজেই এগিয়ে যায় ।
পালার মাঝে মাঝে যখন সে কমলা সুন্দরী সেজে গান গাচ্ছিল মনে মনে সে তখন কেন জানি মনা মিয়াকে ভাবছিল ।
মনা মিয়ার কথা ভাবতেই ওর চোখ দিয়ে টপ টপ করে জল পরতে লাগল ।
পালার শেষ দৃশ্যে কমলা সুন্দরী মারা যায় ।
মনা মিয়াকে না পেয়ে ।
শ্যামল যখন কমলা সুন্দরীর মৃত্যুর দৃশ্য করল। ওর মনে হচ্ছিল ও সত্যি মারা যাচ্ছে । মনা মিয়ার জন্য ।
ওর চোখে জল ।
এক সাগর জল ।

***************

শ্যামল এখন গ্রিন রুমে ।
একটু আগেই পোশাক বদল করেছে সে ।
গ্রিন রুমের বাইরে প্রচণ্ড ভিড় ।
সবাই তার সাথে দেখা করতে চায় ।
শ্যামল ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও অনেকের সাথে দেখা করে, কথা বলে সবার সাথে ।
কিন্তু ও যাকে খুঁজছে সে কোথায় !
মনা মিয়া কি তাহলে আসে নি পালা দেখতে !
ওর পালার সব গান তো আজ মনা মিয়ার জন্যই ছিল ।

শ্যামলের খুব মন খারাপ লাগছে ।
ওর দলের সবাই এখন চেয়ারম্যান এর বাড়ির দিকে যাচ্ছে ।
হেঁটে হেঁটে ।
শ্যামল আনমনে সবার পিছনে পিছনে হাঁটছে ।
-“মনা মিয়া কেন আইল না?” নিজেকে নিজে জিজ্ঞেস করে সে ।
এমন সময় পিছন থেকে কেউ একজন দৌড়ে এসে বলল,
-“ বাইসাব, খারান খারান । আফনের সাতে কতা আছে।”
চোখ ফিরে তাকাতেই শ্যামল এর চোখ দুটো ঝকঝকে রোদের মত আনন্দে ভরে গেল ।
-“ মনা মিয়া, আফনে ? এতুক্ষন কই আছিলেন ? পালা দেহেন নাই !”
-“ বাইসাব, পালা দেখছি । বড়ই চমুৎকার পালা । আমি তো পালার শেষে কাইন্দা দিছি।”
-“তাই ? আফনের বালা লাগছে? সইত্য কইরা কন।”
-“ সইত্য কইরাই কইতাছি । আমি যদি কমলা সুন্দরীরে পাইতাম!”
শ্যামল চুপ করে আছে ।
মনা মিয়া ওর হাতের দিকে একটা ঠোংগা এগিয়ে দিয়ে বলে,
-“ আফনের জইন্যে । করিম কারিগরের দোহানের জিলাপি । অনেক নামকরা । খাইয়া দেহেন।”
-“তাই !”
শ্যামল এর চোখ ভিজে আসে । আবেগে ।
ও ওর দলের লোকদের ডেকে বলে,
-“ ভাইজান, আফনেরা আগান । আমি আইতাছি।”

শ্যামল মনা মিয়ার হাত থেকে জিলাপির ঠোংগা নিয়ে পাশের ধানক্ষেতের মাঠে দাঁড়ায় ।
মনা মিয়াকে ডেকে বলে,
-“ আফনে কি একটু বইবেন আমার লগে? এইহানে ? এক লগে জিলাপি খাইতাম তাইলে।”
-“ কেন বমু না । নিসছয় নিসছয়।”
মনা মিয়া আর শ্যামল এখন মাঠের কিনারে বসা ।
চারদিকে পূর্ণিমার ধবধবে আলো ।
শ্যামল ঠোংগা থেকে জিলাপি বের করে মনা মিয়ার মুখে দিয়ে বলে,
-“নেন । জিলাপি খান।”
মনা মিয়া লজ্জায় চুপ করে থাকে ।
-“আমার হাত দিয়ে খেলে কি সমুসসা আছে?”
-“কন কি বাইসাব! এইডা আমার ভাগ্য ! আফনেও খান ।”
-“ মনা মিয়া , আফনের হবু বউ কি দেখতে অনেক সুন্দর!”
-“ আমি ঠিক মত দেহি নাই । ঘুমটা দেয়া আছিল । তয় ফট দেখছি । শ্যামলা।”
-“ কমলা সুন্দরী কি ওর চাইতে সুন্দর!”
-“ কন কি বাইসাব, কোথায় কমলা আর কোথায় হেয়!”
-“ কমলারে পাইলে কি করতেন?”
-“ শরম লাগে। কইতে পারুম না।”
-“কন মনা বাই । আমার হুনবার মন চায়।”
-“কমলারে পাইলে বুকে আগলাইয়া রাখতাম । কখনও ছাড়তাম না।”
-“ চলেন । আফনেরে কমলার কাছে লইয়া যাই।”
-“কুতায় যামু?”
-“ ঐ দূরের জংলা বিলের কাছে চলেন।”
-“অইহানে গেলে কি কমলারে পামু?”
-“হ । পাবেন। আমার পিছে পিছে আসেন।”

মনা মিয়া মন্ত্র মুগ্ধের মত এগোয় । শ্যামলের হাত ধরে ।
বিলের পাশ ঘেঁষে জংলার কাছে আসতেই শ্যামল মনা মিয়াকে বলে,
-“ আফনে একটু দূরে যান । আড়ালে যান । আমি ডাকলেই আসবেন।”
মনা মিয়া কোন কথা না বলে চলে যায় ।
ওর বুক ধুক ধুক করছে ।
ওর সামনে একটু পর কমলা সুন্দরী আসবে ।
শ্যামল ওর সাথের পুঁটলি খুলে কমলার পোশাক পরে । মাথায় লাল ওড়না দেয় ।
এবার ডাকে সুর করে,
-“ মনা মিয়া । কই গেলাইন ? আফনের কমলা আফনের জইন্য চান্নি পসর রাইতে একলা দাঁরাই আছে । তাড়াতাড়ি আহেন।”
মনা মিয়া দৌড়ে আসে ।
সে নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারে না ।
ওর সামনে এখন শ্যামল নয় ।
ওর সামনে এখন কমলা সুন্দরী দাঁড়িয়ে আছে ।
ও মোহের ঘোরে এগিয়ে যায় । সামনের দিকে ।
শ্যামলের হাত ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে ।
ও বুঝতে পারছে না কি করবে?
শ্যামল ওর হাত দুটো শক্ত করে ধরে বলে,
-“ মনা মিয়া । আমারে তোমার বুহের মইধ্যে রাখবা না ?”
মনা মিয়া নিজের সব কিছু ভুলে গেছে।
ও এখন আর নিজের মাঝে নাই ।
ও এখন কমলার দাস । গোলাম ।
মনা মিয়া শ্যামল কে জড়িয়ে ধরে । শক্ত করে ।
ওর হাত দুটো শ্যামলের কোমর জুড়ে ।
শ্যামলও ওকে আঁকড়ে ধরে ।
মনা মিয়ার শক্ত শরীরের সাথে মিশিয়ে ফেলতে চায় নিজেকে। আবেগের জোয়ারে ।
শ্যামল বুঝতে পারে মনা মিয়ার শরীর জাগছে ।
ধীরে ধীরে বুনো পুরুষের শরীর জাগছে । মনা মিয়ার নিঃশ্বাসে গরম হাওয়া । শরীর তির তির করে কাঁপছে ।
ওর মাঝে এখন ও নেই ।
আজ শরীরের অলিতে গলিতে ঝড় হবে।
বৈশেখি ঝড় ।
এই ঝড় কখনও কাউকে শিখিয়ে দিতে হয় না ।
প্রকৃতিই শিখিয়ে দেয় ।
শ্যামল এর শরীর এর ভেতরের পুরুষও জেগে উঠছে ।
জাগুক আজ সবকিছু ।
ছিঁড়েখুঁড়ে যাক চারপাশ ।
মাঝে মাঝে প্রলয়ে গা ভাসাতে জানতে হয় ।
কি শরীরে ! কি মনে !
আজ অনেকদিন পর শ্যামলের মনে হচ্ছে জীবনের মেলায় অনেক কিছু পাবার আছে ওর ।
দেয়ারও আছে অনেক ।
আজ কমলা সেজেই সব হিসেব মিলিয়ে নেবে সে ।
মাঝে মাঝে মিথ্যে করে হলেও ভালোবাসা পেতে হয় ।
নাহলে মানুষ ফুরিয়ে যায় । শুকনো বকুল ফুলের মত ।

****************

আকাশে এখনও ভরা জ্যোৎস্না ।
অচেনা কিছু রাত পাখি ডাকছে আশে পাশে ।
আর বিলের পাশের জংলা ঘেরা জায়গায় দুজন উদোম পুরুষ এখনও তাদের ভালোবাসার হিসেব মেলাতে ব্যস্ত ।

***************

প্রথম প্রকাশঃ বাংলা গে গল্প। ২১ই এপ্রিল, ২০১৪।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.