শেষানুভুতি

লেখকঃ এক্সট্রিম নয়েজ

আমি রুপম। যখন আমি কলেজে ভর্তি হই তখন শৈবালের সাথে আমার পরিচয় হয়। সে দেখতে এতটাই কিউট যে ইচ্ছে হত ওকে নিয়ে আমার ঘরের শোকেসে সাজিয়ে রাখি। ওর চোখ দুটো হালকা নীল, যা আমার সবচেয়ে প্রিয়। কিছুটা ইমো টাইপের চুলে ওকে ঠিক রুপকথার রাজপুত্রের মত লাগে। কয়েক দিনের দেখাতেই আমার সমপ্রেমী মন ওর জন্য উতলা হয়ে উঠে। মাঝে মাঝে ও যখন ক্লাসে আড়চোখে আমার দিকে তাকায়, মনে হয় যেন চোখ দুটো কিছু বলতে চাইছে, যা হয়ত মুখে বলতে পারছে না। সব সময় চুপচাপ থাকে। ইচ্ছে করেই কারো সাথে মিশে না। অনেকেই ওর সাথে মিশতে চায়, কিন্তু কেন জানি ছেলেটা সবাইকে এড়িয়ে যায়। এই ক্লাশে শুধু ও একাই একঘরে হয়ে থাকে না। আরো একজনও আছে। সেটা আমি। কিন্তু আমার ব্যাপারটা আলাদা। আমি সবার সাথে মিশতে চাই। বন্ধুত্ব করতে চাই। কিন্তু আমাকে কেউ পাত্তা দেয় না। হয়ত এখানকার সব আলালের ঘরের দুলাল দের তুলনায় আমার জৌলশের খুব অভাব তাই! কিন্তু শৈবাল তো খুব বড় ঘরের সন্তান। সকালে বড় একটা ল্যান্ড ক্রুজার এসে নামিয়ে দিয়ে যায়। বিকেলে এসে নিয়ে যায়। ভর্তির সময় আমাদের সবার বিশাল ঠেলা ধাক্কা খেয়ে ভর্তি হতে হয়েছে, আর ও সরাসরি ক্লাসেই চলে এসেছে। তাছাড়া ওর সাথে টিচারদের আচরনেই বোঝা যায় যে ওর ব্যাকগ্রাউন্ড খুব বেশী পাকা পোক্ত। তাই সবাই ওর বন্ধু হতে চায়। কিন্তু এই ছেলে কারো সাথেই মিশতে চায় না! সবাইকে এড়িয়ে চলে! ক্লাসের কেউ কেউ বলে শৈবাল নাকি খুব অহংকারী। তাই কারো সাথে মিশে না। কিন্তু আমার তা মনে হয় না। কারন আমি ওর মাঝে অহংকারের কোন ছিটে ফোটাও দেখিনি। যা দেখেছি তা হল নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা। যেন সে নিজেকে সবার থেকে আড়াল করে রাখতে চায়। হঠাৎ কেউ তার সাথে কুশল বিনিময় করতে চাইলে সে ছোট্ট একটা হাসি দিয়ে নিজেকে এমন ভাবে সরিয়ে নেয় মনে হয় যেন এই বুঝি তার চেহারা দেখেই কেউ তার অতি গোপন কিছু জেনে যাবে। কিন্তু কি সেই কথা, যার জন্য এত গোপনীয়তা!

ওর প্রতি আমার কৌতুহলের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছিল। তাই একদিন সাহস করে ওর সাথে গিয়ে কথা বললাম। কিন্তু সে আমাকে এড়িয়ে গেল না। বরং খুব সাধারন ভাবেই আমার সাথে কথা বলল। কিছুটা আশ্চর্য হলাম। কিন্তু ওর আচরনে খুব মুগ্ধ হলাম। এটা ভেবে ভাল লাগল যে এত দিনে কেউ একজন আমাকে পাত্তা দিল। আর কিছু দিনের মধ্যেই আমরা খুব ভাল বন্ধু হয়ে গেলাম। একে অপরকে জানলাম। আর ফার্স্ট ইয়ার শেষ করার পরে একদিন কাকতালীয় ভাবে আমরা দুজনে ভালবাসায় জড়িয়ে পড়লাম। হ্যাঁ শৈবাল সমকামী! তাই সে নিজেকে এই তথাকথিত স্বাভাবিক দুনিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখত। যেখানে এই ভালবাসার কোন মূল্য নেই। যেখানে আমি ও শৈবালের মত মানুষকে তার নিজের মত করে বাচতে দেয়া হয় না। আর আমাদের সম্পর্ক হবার পর থেকে দুজনেই ফিরে পেলাম জীবনের নতুন স্বাদ। শৈবাল আবারো হাসতে শুরু করল। এখন আর সে নিজেকে সবার থেকে দূরে সরিয়ে রাখে না। কারন সে জানে, সবাই তাকে ফেলে দিলেও একজন ঠিকই তাকে বুকে টেনে নিবে… আর তখন থেকেই আমার সুখ-দুঃখ, হাসি কান্না, ভাল মন্দ সবই শৈবালকে ঘিরে।

কলেজ থেকে পাশ করে বের হবার পর আমাকে একটা চাকরি খুজতে হয়েছিল। কারন আমার পরিবার এতটা স্বচ্ছল ছিল না। শৈবাল আমাকে নানা ভাবে সাহায্য করতে চাইলে আমি রাজি হইনি। পরে শৈবালও আপত্তি করেনি। কারন সেও আমাকে নিজের পায়ে দাড়াতে দেখতে চায়। মাস ছয়েকের ভেতরে আমি অনেক গুলো চাকরি ধরেছি, আবার ছেড়েছি। কারন নিজের জন্য উপযুক্ত একটি চাকরি পাইনি। তখন আমার কাছে তেমন পকেট খরচের টাকা থাকত না। কিন্তু শৈবাল কখনো এ নিয়ে মন খারাপ করেনি। এমনকি নিজের বিত্তশালী মনোভাবও কখনো প্রকাশ করেনি। বরং সে আমার মত করেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। সে সব সময়ইআমাকেএকটা ভাল চাকরি পাবার ব্যাপারে ভরসা দিত, উৎসাহ দিত। আর অপর দিকে শৈবালের পরিবার তাকে লন্ডন, আমেরিকা, কানাডাতে পাঠানোর অনেক চেষ্টা করছিল। কিন্তু সে সব কিছুকে উপেক্ষা করে ঢাকার একটা সাধারন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হল। কিন্তু আমি জানতাম ওর ছোট বেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল বিদেশে গিয়ে পড়ার। তাই ওকে জিজ্ঞেস করতেই ও বলল, “কে বলেছে আমি যাব না! আমি যাব তবে এখন না। যেদিন তোমার সাথে যেতে পারব সেদিন যাব। কিন্তু এখন তোমাকে ছেড়ে ওখানে একা একা আমি দম বন্ধ হয়ে মরে যাব।”আমি জানি যে এটা কত বড় ত্যাগ স্বীকার করল আমার জন্য। শৈবালের ভালবাসা দিন দিন আমার হৃদয়টাকে সুখে ভরে দিতে লাগল। জীবনের সকল অপূর্নতাকে তার ভালবাসা দিয়ে পূর্ন করে দিল শৈবাল…

সময় এগিয়ে যাচ্ছিল, আর আমাদের সামনের পথটা দিন দিন অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছিল। কোন ভাবে আমি একটা কোম্পানিতে সেলস ম্যানের চাকরি পেলাম। বেতন মোটামুটি ভালই ছিল, তাই একটু একটু করে শৈবালের সাথে নিজেকেও গুছিয়ে নিতে শুরু করলাম। চাকরির সুবাদে সেখানে কয়েক জন বন্ধুও জুটে গেল। ওরা ছুটির দিনে বাংলা মটর এলাকায় একটা প্যাড রুম ভাড়া করে ব্যান্ড মিউজিক প্র্যাকটিস করত। বছর কয়েক আগে আমি খুব ভাল গীটার বাজাতাম। পরে বিভিন্ন কারনে আমার শখটাকে মাটি চাপা দিতে হয়েছিল। ওদের সাথে থেকে থেকে আমার সেই শখটা আবার জেগে উঠল। প্রায়ই ওদের সাথে গিয়ে প্র্যাকটিস করতাম। কথায় আছে পুরান চাল ভাতে বাড়ে! তেমনি কিছু দিনের মধ্যেই আমিও আবার খুব পাকা পোক্ত গিটারিস্ট হয়ে উঠলাম। আর সবারই যখন সর্বেসর্বা তখন আমরা ছোট খাট একটা ব্যান্ড সেট করে দিলাম। বন্ধুদের সহযোগিতায় আমরা বিভিন্ন বিয়ে ও জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রোগ্রাম করার সুযোগ পেতে লাগলাম। এভাবে বছর খানেক যেতে না যেতেই আমরা ভালোই পরিচিত হয়ে উঠলাম ঢাকার মধ্যে। এক সময় আমরা সবাই সেলস ম্যানের চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরো সময়টা ব্যান্ডের পেছনে দিতে লাগলাম। হঠাৎ একদিন একটা টিভি চ্যানেলে লাইভ পারফরম্যান্স করার সুযোগ পেলাম। and then we hit the jackpot!

এরপর আর আমাদের কেউ থামাতে পারেনি। আমাদের ব্যান্ড দিন দিন আরো বড় ও জনপ্রিয় হয়ে উঠল। অনেক বড় বড় কাজ পেতে লাগলাম। বছর দুয়েকের মধ্যেই আমার জীবনটা পুরোপুরি বদলে গেল। আর এর প্রতিটা মুহূর্তে আমার পাশে আত্ববিশ্বাস ও প্রেরনা হয়ে দাঁড়িয়েছে শৈবাল। Money was coming to me continuously.আর আমি শৈবালের পেছনে আরো অনেক টাকা খরচ করতে লাগলাম। অন্তত সে আমার জন্য যা কিছু ত্যাগ করেছে তার কিছুটা হলেও পূরণ করতে চাই। আমরা ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট নিলাম। শৈবালের ও আমার। বেশীরভাগ সময়ে আমরা সেখানেই থাকতাম। আস্তে আস্তে আমাদের দুজনের ভালবাসায় ঘরটি হাসি আনন্দ আর মমতায় ভরে উঠছিল…

দিনের পর দিন আমার জীবনটা লক্ষণীয় ভাবে পরিবর্তন হচ্ছিল। আমি এখন অনেক টাকার মালিক। অনেক বন্ধু বান্ধব এখন আমার। অনেক মেয়েই আমার জন্যে পাগল। আর অন্তরালে অনেক ছেলেও আমাকে চায়। প্রায় রাতেই আমি মাতাল হয়ে ঘরে ফিরি। শৈবালের অনুষঙ্গ আমার কাছে বিরক্তিকর হয়ে পড়ে। আমি ওর কাছ থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করি। আমার মনে হত শৈবাল আমার প্রাইভেসী নষ্ট করছে। একজন সমকামী হওয়ায় প্রতিরাতেই আমি নতুন নতুন ছেলেদের সাথে রাত কাটাই। মাঝে মাঝে কিছু মেয়ের সাথেও। তাদের কেউ আসে টাকার বিনিময়ে, আবার কেউ আসত একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যান্ড তারকার সাথে রাত কাটিয়ে বন্ধু মহলে স্টার হতে। কিন্তু আমার কাছে এ ছিল নিছক এক রাতের বিলাসিতা মাত্র। আমি আর শৈবালের সাথে জমে থাকতে চাইনি। সে আমাকে শুধরাতে চেষ্টা করেছে তার সাধ্য মত। কিন্তু আমার তাচ্ছিল্যতার সামনে তার ভালবাসা বানের জলেই ভেষে গেছে…

একবার শৈবাল তার মা বাবার সাথে গ্রামের বাড়িতে গেল। আমাকেও যেতে বলল, বিভিন্ন ব্যস্ততা দেখিয়ে আমি গেলাম না। কিন্তু ২ দিন পরে এক সন্ধ্যায় আমাকে না জানিয়েই শৈবাল আমার বাসায় চলে এল। ফ্লাটের দ্বিতীয় চাবিটা তার কাছে থাকায় কোন প্রকার নক করা ছাড়াই সে ভেতরে চলে এল। আর এসেই আমাকে ওর চেয়ে কম বয়েসি একটা ছেলের সাথে অতি অন্তরঙ্গ কামোত্তেজনায় আবিস্কার করল। সে যে কতটা কষ্ট পেয়েছিল তা তখন তার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্চিল। কিন্তু সে আমাকে দোষারোপ করেনি। শুধু ভাঙ্গা গলায় জানতে চাইল, “কেন তুমি এমন হলে রুপম! কেন তুমি এভাবে বদলে গেলে! কি হয়েছে তোমার…!”

আমার নিজেকে তখন অপরাধী মনে হচ্ছিল। আমি ভেবেছিলাম শৈবাল হয়ত অপদেবতার মত আমার উপর ঝাপিয়ে পড়বে। কিন্তু না, সে তা করেনি। আমার নিজের উপর ঘৃণা হচ্ছিল। খুব রাগ হচ্ছিল নিজের উপর। কিন্তু আমি আমার রাগকে শৈবালের উপরেই ঝেড়ে দিলাম। ওকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলাম। বললাম, “তোকে আমার ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলানোর কোন দরকার নেই। আমাকে আমার মত একা থাকতে দে। দূর হয়ে যা আমার সামনে থেকে।”
শৈবাল সেদিন আমার সামনে থেকেই না শুধু, আমার জীবন থেকেই একেবারে চলে গিয়েছিল। আমি ওকে আর কখনো দেখিনি আমার সামনে। আর খুব সহজেই আমি ওকে ভুলে গিয়েছিলাম।

বছর খানেক পরে আমি আরো বেশী বেয়াড়া হয়ে গেলাম। আর আমার কাছে জীবনটা তখন স্বর্গের মতই উপভোগ্য ছিল। আমি সর্বোচ্চ সুখ পেয়েছি। নিত্য নতুন শয্যা সঙ্গী, টাকা, মাতাল রাত্রি… আমার কাছে সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় সুখ… রুপকথার গল্পের মতই জীবনটা কাটছিল পরের ৭টি বছরে…

একদিন রাতে আমার শরীরটা কেমন যেন অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। অন্যান্য দিন গুলোর মতই কিছু ট্যাবলেট ও এনার্জি ড্রিঙ্কস নিলাম। কিন্তু পরবর্তী দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত এটা রেগুলার হতে লাগল। অবশেষে খুব জ্বরও হতে লাগল। মাঝে মাঝে রাতে আমার সারা শরীর ঘামে ভিজে থাকত। শেষমেশ আমি এক ডাক্তারের কাছে গেলাম। আর কিছু টেস্ট করে ডাক্তার আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দুঃসংবাদ টা শোনাল। I was infected by HIV… এক মুহূর্তেই আমি সব কিছু হৃদয়ঙ্গম করলাম। কিন্তু তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে…

আমার শরীর ও মন তখন ক্ষীয়মান হয়ে পড়েছিল। খুব সহজেই আমাকে আমার ব্যান্ড থেকে পরিত্যাগ করা হল। আমার বন্ধুরা এক এক করে আমাকে ছেড়ে যেতে লাগল। তার পরেও আমার কাছে যথেষ্ট টাকা ছিল। আমি নিয়মিত চিকিৎসা করিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমি জানতাম এই ডাক্তার ও ঔষধ আমাকে বেশী দিন বাচিয়ে রাখতে পারবে না। দিনের পর দিন আমি আমার মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। মাঝে মাঝে যখন আমি ঘুমিয়ে থাকি, আমার অতীত আমার কাছে স্বপ্ন হয়ে আসে… সেখানে আমি আমার একমাত্র ফেরেশতার রূপে শৈবালকেই দেখতে পাই। ও আমার জীবনকে পরিপূর্ণ করেছিল। কিন্তু আমি ওকে মর্যাদা দিতে পারিনি। আমার ভেতরটা এখন ওর ফেলে যাওয়া স্মৃতি দিয়েই ভরা। তখন শৈবালই ছিল আমার একমাত্র ধ্যান ধারনা। এখন আমি বুঝতে পারছি অবচেতন মনে আমি কি ভুল করে ফেলেছি। কিন্তু এখন আর সেই ভুল শুধরানোর সময় নেই। ট্রেন এখন অনেক দূরে চলে গেছে…

একদিন আমি নার্সিং রুমের বিছানায় বসে ছিলাম। আমি দেখলাম আমার ফেরেশতা আমার দিকে এগিয়ে আসছে। যদিও আমি ওকে গত ৯ বছর যাবত দেখিনি, তবুও ওর সুন্দর মুখখানা চিনতে আমার কষ্ট হয়নি। ওকে আগের চেয়ে অনেক অনেক বেশী সুন্দর লাগছিল। কিন্তু আমি এখন একটা কঙ্কালসার দেহে বাস করছি।
শৈবাল আমার সামনে এসে দাঁড়াল। কিন্তু আমি ওর চোখের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারছিলাম না। তাই মাথাটা নিচু করে ফেললাম। আমার চোখ দুটো ভিজে আসছিল। এক পর্যায়ে গাল বেয়ে পড়তে লাগল অশ্রু। হঠাৎ আমার চুলের ভেতর ধাবনশীল কিছু টের পেলাম। মুহূর্তেই আমি ৯ বছর পর শৈবালের উষ্ণ ছোঁয়া অনুভব করলাম আমার মাথায়। সে তার আঙ্গুল দিয়ে আমার চুল গুলো আঁচড়ে দিচ্ছিল। আমি আর সইতে পারছিলাম না। ওর হাত আমার হাতের মাঝে চেপে ধরলাম। আর তখন আমি ওর বাম হাতে বিয়ের আংটি দেখতে পেলাম। আমি কিছু বলতে পারছিলাম না। হাউ মাউ করে কেদে ফেললাম। শৈবালও আমাকে ধরে অনেক কেদেছিল। আমারদের মাঝে তখন আর কোন কথা হয়নি। কথা বলে একে অন্যের কষ্ট আরো বাড়ানোর চেয়ে নীরবতাই ভাল ছিল। যাওয়ার আগে শৈবাল আমাকে প্রমিস করেছিল, আমাকে অতি শীঘ্রই আবার দেখতে আসবে।

শৈবাল চলে যাবার পর আমি বেচে থাকার সব শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম…!
………………………………
চারদিন পরে এক সকালে রুপমের মরদেহ হাসপাতাল থেকে তার বাবার হাতে হস্তান্তর করা হয়। আর রুপমের বালিশের নিচ থেকে পাওয়া একটা ডায়েরী পড়তে পড়তে এক নার্সকে হাসপাতালের বারান্দায় চোখ মুছতে দেখা যায়…

লেখকঃ বাংলা গে গল্প। ১৯ই এপ্রিল, ২০১৪।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.