শ্রাবণের মেঘলা আকাশ

লেখকঃ এক্সট্রিম নয়েজ

সত্য কথা, সত্য ঘটনা, সত্য বাস্তবতা… সবাই এর অন্বেষণে। সবাই চায় সব সত্য জানতে, আবিষ্কার করতে। কিন্তু সব সত্যের পেছনেই আরো কিছু সত্য থাকে। সেটা যখন সামনে চলে আসে, তখন মনে হয় মিথ্যাই যেন ভাল ছিল…

সাল ২০১১..
মাঝ বেলার উত্তপ্ত সূর্যকে আড়াল করে চারিদিক শেষ বেলার অবয়বে দখল করে নিয়েছে প্রতিবাদী মেঘের দল। হঠাৎ করে ঘন বর্ষণে যেন কোন পুরাতন কষ্টের বদলা নিচ্ছে…

মফস্বলের ব্যাপারটা সদ্য গড়ে উঠা আধুনিক লোকালয়ের চেয়ে অনেক বেশী আলাদা। এখানে আধুনিকতা আছে, কিন্তু চাকচিক্যের অভাব। এখানকার কিশোরেরা ‘টম ক্রুজ’ আর ‘শাকিরার’ চেয়ে একই এলাকার তিন্নি আর তামান্নারই বেশী খবর রাখে। আর বৃষ্টির দিনে বালকদের একদল উদোম গায়ে বাড়ির ছাদে অথবা ছয় ফুটিয়া রাস্তায় ফুটবল নিয়ে হই-হুল্লোড় করে ক্লান্ত, আর আরেকদল একা একা বারান্দার গ্রিলে হাত রেখে কখনো দূর দিগন্তে বা কখনো ওই গলির মাথায় ডানপিটে বালকদের দুরন্তপনা দেখেই শান্ত।

এমনি এক বৃস্টিমুখর দিনে রাস্তার মোড়ের এক দোকানের সামনে কাক ভেজা হয়ে দাড়িয়ে ছিল শ্রাবণ। দেখতে পাচ্ছিল কিছুটা দুরেই আনন্দ উল্লাসে মেতে আছে একদল ছেলে। তাদের মধ্যে একটা ছেলে প্রায়ই লক্ষ করছিল শ্রাবণের দিকে। ছেলেটার নাম আকাশ। একই মহল্লায় থাকে ওরা। স্থানীয় ছেলে, তাই কিছুটা দাদা গিরি স্বভাবের। সব সময় আড্ডাবাজি নিয়ে থাকে। তবে প্রতিবারই যখন ওরা মুখোমুখি হয় তখনি কেমন জানি একটা আহত নজরে তাকিয়ে থাকে শ্রাবণের দিকে। আড়াল হলেই আবার স্ব-কর্মে মশগুল। কালে ভদ্রে দুয়েক বার কথা হয়েছিল ওদের। তাও আবার ওই হাই-হ্যালো, কেমন আছ-ভাল আছি… এটুকুই। এর বেশী কখনো কথা বাড়েনি ওদের। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। শ্রাবণ চলে যাওয়ার সাথে সাথেই আকাশ আবার বন্ধুদের সাথে মেতে উঠল। এই মাত্র যে সে কারো দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল তা বোঝার জো নেই।

আকাশ সমপ্রেমী। তাই শ্রাবণের প্রতি তার অন্য রকম একটা কিউরিসিটি কাজ করে। তা নিজে সমপ্রেমী হওয়ার দরুন হোক বা নিছক ভাললাগার কারণেই হোক, প্রথম দর্শন থেকেই আকাশের ইচ্ছে হত শ্রাবণের সাথে মেশার। ওর বন্ধু হবার। কিন্তু সেটা কখনো হয়ে উঠেনি। কারণ মফস্বলে দুরন্ত ও শান্ত স্বভাবের ছেলেদের মাঝে তেমন মিল খায় না। একদল প্রভাব বিস্তার করে, আর আরেক দল হয় প্রভাবিত। তার উপরে একজন যদি হয় সমপ্রেমী আর আরেকজন সোজা সমাজের নাগরিক। তাহলে তো এখানে আকর্ষণের চেয়ে বিকর্ষণ বেশী হবে সেটাই স্বাভাবিক। তাই শ্রাবণ আর আকাশের মাঝে সম্পর্কটা একই এলাকার বাসিন্দা আর আলাপচারিতা বলতে ভদ্রতা সুলভ কুশল বিনিময় থেকে কখনই আগে বাড়েনি।

আকাশও থেমে থাকেনি। যখন আধা দুনিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সীমাবদ্ধ হতে চলছিল, তখন আকাশও এই ফেসবুককেই বেছে নিলো শ্রাবণের বন্ধু হবার মাধ্যম হিসেবে। অনেক খুঁজে খুঁজে বের করল শ্রাবণের প্রোফাইল। তারপর আর কি, স্বাভাবিক নিয়মেই বাস্তবতায় নাহলেও ভার্চুয়াল দুনিয়াতে ভার্চুয়াল বন্ধু হল দুজন। আকাশ প্রায়ই নক করত শ্রাবণকে। শ্রাবণও ওকে এড়িয়ে যেত না। কিন্তু এখানেও তাদের কথার গণ্ডি কখনো কুশলাদি বিনিময়ের সীমারেখা পার হতে পারত না। তাই দুজনেই চুপ হয়ে যেত। শ্রাবণ বাংলা সাহিত্য, কবিতা ইত্যাদিতে খুব পারদর্শী। সেটা বুঝতে পেরে আকাশ প্রায়ই শ্রাবণের নানা লেখায় কিছুটা সাহিত্যিক টাইপের কমেন্ট করত। এটা ছিল নিছক নিজের প্রতি শ্রাবণের আকর্ষণ জাগানোর প্রয়াস মাত্র। কিন্তু সেখানেও শ্রাবণ কয়েকবার আকাশের ভুল ধরে লজ্জায় ফেলেছিল। তাতেও আকাশের খারাপ লাগত না। ভাবত এতে করেও যদি নিজেদের মধ্যে কিছুটা আন্তরিকতা বাড়ে। কিন্তু সেটাও হয়নি কখনো। কারণ আকাশের কখনো সেই সাহস হয়ে উঠেনি কথা আগে বাড়ানোর।

আকাশ জানত শ্রাবণ সমপ্রেমী না। তারপরেও কেন জানি ওর মায়া ভরা মিষ্টি চোখের চাহুনি আর শান্তশিষ্ট আচরণ আকাশকে বার বার নিজের দিকে টানত। কিসের যেন একটা রহস্য ওকে হাতছানি দিত ওকে বার বার। কিন্তু সব রহস্যের অবসান ঘটিয়ে একদিন শ্রাবণের কিছু লেখা আকাশকে নিশ্চিত করে দিল যে শ্রাবণ সমপ্রেমী না। বরং ও একটি মেয়ের সাথে ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ। সেদিন অনেক কষ্ট পেয়েছিল আকাশ। পরেই আবার ভাবল সে শুধুই এমন একজনের জন্য কষ্ট পাচ্ছে, যে কোনদিন তার হতেই পারে না। তাই মনের সাথে হাজার বোঝাপড়া করে শ্রাবণকে ভুলে যাবার চেষ্টায় মেতে উঠল। শ্রাবণের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। রাস্তাঘাটে কোথাও হঠাৎ সামনে পড়ে গেলে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে অন্য কোথাও মনোনিবেশ করতে চেষ্টা করত। আর এভাবেই দেখতে দেখতে শ্রাবণকে নিজের মন থেকে অনেকটাই মুছে ফেলেছিল আকাশ।।

সাল ২০১৪..
দেখতে দেখতে তিনটি বছর পার হয়ে গেল। এরই মধ্যে আকাশ কর্ম জীবনে পা দিয়ে ফেলেছে। সেই সাথে বদলে গেছে তার জীবনের অনেক কিছুই। এখন আর তার মাঝে সেই দুরন্ত, ডানপিটে বা দাদাগিরি স্বভাবটা নেই। সকাল সন্ধ্যা অফিস আর রাতে বাসায় বসে বসে মুভি, গান বা অনলাইনে অচেনা বন্ধুদের সাথে চ্যাট করেই সময় কাটে তার। জীবন থেকে বিসর্জন দিয়েছে অনেক কিছু। তবে নতুন করে তার জীবনে এসেছে একটা নতুন দুনিয়া। হ্যাঁ আমি ফেসবুকের এই গোপন দুনিয়াটার কথাই বলছি।

প্রায় দুই বছর হল আকাশ এই দুনিয়ার সাথে নিজেকে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে নিয়েছে। আর এই দুই বছরে এখান থেকে তার প্রাপ্তির তালিকা ঢের লম্বা। এখানে পরিচিতি পাওয়া খুব সহজ। সেই সুবাদে আকাশ পেয়েছে অনেক গুলো বন্ধু, যাদের শুধু বন্ধু বললে কম হয়ে যায়। পেয়েছে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ী। হয়ত তাদের সবার অবস্থান বাস্তবতা থেকে কিছুটা অন্তরালে। তার পরেও এরাই এখন আকাশের খুব বেশীই আপন। অবসর সময়টা এখানে অনায়াসেই কেটে যায়। সম্পর্কের মহামারীতে এখানে দুয়েকটি ক্ষণজন্মা ভালবাসার হাতছানি পাওয়াও কঠিন কিছু না। অতঃপর সব মিলিয়ে খুব ভালই চলছিল আকাশের এই ভার্চুয়াল রিয়ালিটির দুনিয়া।

লোকমুখে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়।
‘সত্য কখনো গোপন থাকে না। সময় ও কাল সাপেক্ষে সত্য তার বেরিয়ে আসার রাস্তা ঠিক খুঁজে নেয়।’

একদিন আকাশ যথারীতি অফিস থেকে ফিরে তার ফেসবুকিয় গোপন পরিচয়ে এদিক সেদিক পায়চারী করে বেড়াচ্ছিল। কথা হচ্ছিল খুব ঘনিষ্ঠ কিছু বন্ধুদের সাথে। হঠাৎ তার চোখ পড়ল একটা ছবিতে। ছবিতে দুটি ছেলের উপস্থিতি ছিল। একজন তার এই জগতের খুব পুরাতন বন্ধু। কিন্তু তার পাশে দাড়িয়ে থাকা ছেলেটাকে দেখে চোখ কপালে উঠল আকাশের। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কিছুটা সময় লাগল তার। কিন্তু তবুও তার বিস্ময় কাটছিল না। ছবির সেই ছেলেটা আর কেউ নয়, আকাশের সেই বৃহত্তম ক্রাশ শ্রাবণ। ছবিটা প্রায় মাস ছয়েক আগে আপলোড করা। আজ তার ফ্রেন্ড লিস্টের কেউ সেখানে কমেন্ট করায় আকাশের সামনে চলে এসেছে।

আকাশের মনে তখন একটাই প্রশ্ন জাগছিল। তাহলে শ্রাবণ কি সত্যিই সমকামী! নিজের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চষে বেড়াতে লাগল এদিক সেদিক শ্রাবণের গোপন আইডিটা খুঁজতে। কিন্তু এ জগতে এভাবে কাউকে খুঁজে পাওয়া আসলেই খুব কষ্টের। কারণ এখানে কেউই তার সত্যিকারের পরিচয়ে আসে না। গোপনীয়তার খাতিরে সবাই একটা নতুন পরিচয়ে হাজির হয় এখানে। তাই আকাশও শ্রাবণকে খুঁজে পেল না। তাই বাধ্য হয়েই আকাশকে তার কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুর শরণাপন্ন হতে হল। তাদেরকে শ্রাবণের ছবিটা দেখিয়ে জানতে চাইল তারা কেউ চেনে কিনা ওকে। আর আকাশকে অবাক করে তারা সবাই জানালো যে তারা শ্রাবণকে চেনে এবং শ্রাবণ সমকামী।

তখন আকাশের মনে ভাল মন্দ দুটি অনুভূতিই কাজ করছিল। মন্দ এই কারণে যে সে এটা ৩ বছর আগে কেন জানল না। আর ভাল লাগছিল এটা ভেবে যে দেরিতে হলেও সে শ্রাবণকে নিজের মতই পেয়েছে। এক বন্ধুর কাছ থেকে শ্রাবণের আইডিটা জেনে নিয়ে নিজের বন্ধু তালিকায় যোগ করে নিলো। প্রায় দুই দিন পর শ্রাবণের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্যতা এলো। তারপর আকাশ শুরু করল আরেকটি নতুন অধ্যায়ের। সে এখান থেকে শ্রাবণের সাথে গোপন পরিচয়েই পরিচিত হতে লাগল। শ্রাবণও ফিরায়নি তাকে। খুব সুন্দরভাবেই কয়েকদিনের ভেতর ওদের বন্ধুত্ব হয়ে গেল। আকাশ জানত তার অপর পাশে বসা ছেলেটি শ্রাবণ। কিন্তু শ্রাবণ জানত সে অন্য কারো সাথে বন্ধুত্ব করছে। তার মানে সব কিছুর কল কাঠি অনেকটা আকাশের হাতেই ছিল। আকাশ বুঝতে পারছিল তার আসল পরিচয় জানলে শ্রাবণকে সে এখানেও হারাবে। তাই সর্বক্ষেত্রে সে নিজেকে গোপন করে চলেছিল। আর এভাবেই কিছুদিনের মধ্যে আকাশ শ্রাবণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়ে গেল। এতেই আকাশ নিজের ভেতরে ভেতরে নিশ্চুপ সুখের অনুভূতি অনুভব করছিল।

ঘটনাটা এখানেও শেষ হলে পারত। কিন্তু না। দিন দিন শ্রাবণ ছদ্মবেশী আকাশকে যতই বিশ্বাস করছিল, ততই সে নিজের অনেক কথা ওর সাথে শেয়ার করে যাচ্ছিল। আর এই আদলে আকাশ একদিন শ্রাবণের ভালবাসার মানুষের কথা জানল। জানতে পারল শ্রাবণ অন্য কারো সাথে প্রায় বছর তিনেক যাবত ভালবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ। আর ওরা একে অপরকে খুব খুব ভালবাসে। এটা জানার সাথে সাথে আকাশের দ্বিতীয়বারের মত সাজানো স্বপ্নগুলো বজ্রপাতের মত শব্দে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল। বুঝতে পারল আসলে শ্রাবণের সম্পর্ক কোন মেয়ের সাথে নয়, একটি ছেলের সাথেই ছিল। অন্তরালের কষ্ট অন্তরালেই চেপে রাখল আকাশ। শ্রাবণকে বুঝতে দিল না কিছুই। বরং ভার্চুয়াল কিছু ইমোটিকনসের আড়ালে নিজের কান্না ঢেকে শ্রাবণকে খুশি করল আকাশ।

আকাশের ইচ্ছে হচ্ছিল শ্রাবণকে আবার ভুলে যেতে। কিন্তু শ্রাবণের প্রথম সত্য জানার পরে সেটা কখনই হয়ে উঠেনি। বরং নিজের সব অনুভূতিকে আড়াল করে আকাশ শ্রাবণের সাথে বন্ধুত্বকেই মেনে নিলো। আকাশের কোন ছবি ছিলা না সেখানে। আর আকাশও সব সময় এই ব্যাপারটাকে এড়িয়ে যেত। কারণ সে চায়না শ্রাবণ কখনো তার আসল পরিচয় জানতে পারুক। তাই মুখোশের আড়ালে থেকেই আকাশ শ্রাবণের বন্ধু হয়ে রয়ে গেল।

সময় গড়িয়ে যাচ্ছিল। একদিন হঠাৎ শ্রাবণের মন খারাপ বুঝতে পেরে কারণ জানতে চাইল আকাশ। আর উত্তরে জানতে পারল গত কয়েকদিন যাবত শ্রাবণের সাথে ওর বিএফ এর কোন যোগাযোগ নেই। ছোট্ট একটা ঝগড়াকে কেন্দ্র করে সে শ্রাবণের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। কাঁদো কাঁদো হয়ে শ্রাবণ আকাশকে সব কিছু খুলে বলল। আর শেষে নিজের ভালবাসার মানুষকে ফিরে পেতে আকাশের সাহায্য চাইলো।

আকাশের অন্তরটা কেপে উঠেছিল। যাকে একতরফা ভাবে এতটা ভালবেসেছে আকাশ, আজ সে ই তার ভালবাসা ফিরে পেতে সাহায্য চাইছে আকাশের কাছে। এ যেন এক তীক্ষ্ণ তীর হয়ে আঘাত করল শ্রাবণের অন্তরে। সেদিনও কেঁদেছিল আকাশ ভেতরে ভেতরে। তারপরেও শ্রাবণকে খুশি দেখার ইচ্ছায় চোখের পানি মুছে ওকে সাহায্য করতে রাজি হল।

সেদিন বিকেলে আকাশ শ্রাবণকে দেখেছিল ওদের বাড়ির ছাদে। খুব হাসি মুখে কারো সাথে কথা বলছিল ফোনে। হয়ত ওর সেই ভালবাসার মানুষটির সাথেই। এর আগের রাতেই মুখোশ ধারী আকাশ তৃতীয়পক্ষ হয়ে ওদের মধ্যকার ঝগড়া মিটিয়েছে। আর এর পর থেকে প্রতিদিন সত্যিকারের আকাশ খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে শ্রাবণের হাসিতে উজ্জ্বল মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকে অপলক দৃষ্টিতে। সে জানে শ্রাবণ কখনই তার হবেনা। কিন্তু নিজের অজান্তেই সে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে শ্রাবণের মাঝে। আর এবার পালিয়ে বাচার সব চেষ্টাই বিফলে গিয়েছে।

শ্রাবণ কখনো আকাশের হয় না। হয়ত কিছু সময়ের জন্যে কাছাকাছি হলেও একটা সময় তাকে যেতে হয় অন্য কারো বুকে। কিন্তু আকাশ সবসময় অপেক্ষায় থাকে শ্রাবণের কাছে আসার। কখনো হয়ত শ্রাবণের দেয়া কালো মেঘে জর্জরিত হয় আকাশের সুনীল বুক। যখন এর বোঝা বেড়ে যায়, তখন নীরবে ঝড়িয়ে দেয় সকল কষ্টের নোনা জল। আর সেই বর্ষণেই মাতাল উন্মাদনায় জাগে শ্রাবণের ভালবাসা। তারপরেও.. আকাশে শুধুই শ্রাবণেরই আধিপত্য।
শ্রাবণ কখনো আকাশের না হলেও, মেঘের আড়ালে আকাশ শুধুই শ্রাবণের..

প্রথম প্রকাশঃ বাংলা গে গল্প। ৪ই আগস্ট, ২০১৪।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.