আমারে ভুলেছ বলে

লেখকঃ আঁধারের কাব্য

সময়কাল ১৯৪০।বৃটিশ উপনিবেশ তখন ভারতীয় উপমহাদেশ।পরাধীন।
সারাদেশ আন্দোলনে ফুঁসছে।বৃটিশ সরকারও দমন করছে কঠোরভাবে। তখনকার দিনে আন্দোলন সংগ্রাম ছিলো আদর্শের জন্য।গ্রামের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিলো সে সব আন্দোলন। মফস্বল একটা শহর।খুব বড়ও না।ছোটও না।বেশি যান্ত্রিকতাও নেই,কেমন গ্রাম্য একটা পরিবেশ।রেল নেই এখানে।পাশ দিয়ে নদী গেছে। নদী তে কিছু মানুষ মাছ ধরছে। সবেমাত্র সকাল হয়েছে। একটা পুরাতন অট্টালিকা মতো বাড়ি দেখা যাচ্ছে।দেখেই বুঝা যায়,এককালে দোর্দন্ড প্রতাপ ছিলো।এখন ক্ষয়িষ্ণু। তবুও,আভিজাত্যের ছাপ সর্বত্র।

এই পরিবারের সবচেয়ে প্রাচীন ব্যক্তি উদয়নারায়ন চৌধুরী।সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত।বেশিরভাগ সময় এখানেই থাকেন।কলকাতার বাসায় যান, থাকেন রাজনৈতিক প্রয়োজনে।দলের প্রয়োজনে।উনার ছেলে রাজেন্দ্রনারায়ন চৌধুরী ব্যরিস্টার।কলকাতাতেই থাকেন বেশিরভাগ সময়।দেশের পরিস্থিতি খারাপ বলে বৌ আর দুই ছেলে কে এখানে পাঠিয়েছে বাবার কাছে।বড় ছেলে মণিন্দ্র আর ছোটটি মিতুল।মণিন্দ্র মেডিকেলে পড়ছে।বয়স ২১।তার আসার ইচ্ছে ছিলো না একদমই।বাবার জিদে আসা।মিতুলের বয়স ১৫ বছর।সে বাবা মা যা বলে বিনা বাধায় মেনে নেয়।বাধ্য ছেলে।সকলে খুব ভালোবাসে তাকে।তবুও,গভীর কালো চোখে কিসের যেন গোপন ব্যথা। এই যেমন এখন সে তাদের বাড়ির মন্দিরে প্রার্থনা করছে।এতো সকালে।রাধাকৃষ্ণের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে!চোখ দুটি ছলছল।মুক্তাবিন্দু ঝরবে যেন এখনই!

শাফায়েত তাদের কলকাতার বাড়িতে বসে আছে।প্রচন্ড মেজাজ খারাপ লাগছে।তার বয়স এবার ২১ হয়েছে।অথচ,তার বাবা এখনো তাকে ছোট ভাবেন।ওর বাবা নির্ভেজাল মানুষ।নামী ডাক্তার।ড.সাঈদুর রহমান চৌধুরী।মিতুলদের সেই গ্রাম্য পরিবেশের ছোট শহরেই শেকড় এদেরও।শাফায়েতের মেজাজ খারাপ কারণ বাব তাকে গ্রামের মত ঐ জায়গায় পাঠাচ্ছে।ওর মা নেই।ওখানে দেখাশুনার লোক আছে যথেষ্ট।তাছাড়া,তিনি নিজেও প্রতি সপ্তাহে যাবেন। শাফায়েত ভাবছে কি করে থাকবে ওখানে।না আছে থিয়েটার,না ক্লাব!বন্ধুরা!কেউ নেই।রাগে জ্বলছে।কিন্তু,বাবার অবাধ্য হওয়ার সাহস নেই।

শাফায়েত চলে আসলো গোড়কপুরে।এখানে মুসলমান বেশি। আসার আগে খারাপ লাগলেও,জায়গাটা দেখেই ওর প্রাণ ভরে গেলো!কি সুন্দর! বাবা সাথে এসেছে। সেদিন সন্ধ্যাতেই ওর বাবা ওকে নিয়ে মিতুলদের বাড়ি গেলো।পরিচয় করাতে! শাফায়েতকে চিনেছে মণিন্দ্র।দুজন আগে থেকে বন্ধু! শাফায়েতের বাবা দেশ নিয়ে কথা বলছেন উদয়নারায়নের সঙ্গে। দুই পরিবারের সম্পর্ক আগে থেকেই অনেক ভালো।শাফায়েতরা গোড়কপুরে কম থাকায় সে সম্পর্ক একটু হালকা হয়ে গিয়েছিলো! এতদিন বাদে দেখা হওয়ায় সবাই গল্পে মশগুল! মিতুলের মা বললেন,
-চিন্তা করবেন না!শাফায়েত তো আমার মণির মতোই আরেকটা ছেলে।আমি দেখে রাখবো। এবাড়িতে থাকলেই তো ভালো হতো!’
-না না বৌদি।নিজের শেকড় সম্পর্কে একটু জানুক।ও বাড়ির হাওয়া গায়ে লাগাক একটু!

আড়াল থেকে চোখ বড় বড় করে শাফায়েতকে দেখছিলো মিতুল। হঠাৎ,চোখে চোখ পড়তেই চলে গেলো মিতুল!
-ওখানে কে ছিলো রে!
-আমার ছোট ভাই।মিতুল।কারো সাথে তেমন মেশে না!ওখানে কি একটা পাখি বাসা বেঁধেছে।সেটাকে খাবার দিচ্ছে।মিতুল!শুনে যা!
মিতুল এলো ধীরপায়ে!
শাফায়েতের সাথে পরিচয় করালো মণিন্দ্র।শাফায়েতও তাকিয়ে আছে মিতুলের চোখে।সম্মোহিত হচ্ছে যেন সে!হঠাৎ,জোর করেই চোখ সরিয়েো নিলো শাফায়েত!

সেসময় মেয়েদের সাথে মেশা অতটা সোজা ছিলো না!কিছু,আধুনিক পরিবার বৃটিশদের অনুকরন করতো।তাদের মেয়েরা মেম সেজে ঘুরতো!বাঙালি ভাবতে তারা সঙ্কোচ করতো! এরকম একটা পরিবারও আছে এখানে।ম্যাজিস্ট্রেট এই জেলার! উনার মেয়ে অনিতা। মেমপুতুল সেজে ঘুরে বেড়ায়! গাঢ় এনামেল করা গাল।সত্যিই ইংরেজ মনে হয়! শাফায়েত আসার পর মণির বিরক্তি কমে গেলো। দুজনেরই লাভ হলো।সারাদিন ঘুরে বেড়ায়!এখান থেকে ওখানে! মাঝে মাঝে মিতুলও থাকে!
একই পরিবেশে বড় হলেও মিতুল আর মণিন্দ্র আলাদা।দাদু নামী স্বদেশী হলেও মণিন্দ্র ংইংরেজদের ভক্ত। আর মিতুল কট্টর স্বাধীনতাপন্থী।শুধু বয়স কম বলে কেউ ওকে পাত্তা দেয় না!

একদিন ওরা ঘুরতে ঘুরতে অনিতার গাড়ির সামনে পড়লো।ওদের গাড়ি আর অনিতাদের গাড়ি মুখোমুখি! দুজন পুলিশ এগিয়ে এলো শাফায়েতদের গাড়ির কাছে।ঝামেলা করবে না জন্য শাফায়েত নিজেই অনিতাকে গিয়ে ইংরেজীতে ক্ষমা প্রার্থনা করলো। অনিতা তো মহাখুশি।সে বিকেলের টি পার্টিতে সবাইকে আসতে বললো। বিকেলে ওরা আবার গেলো অনিতাদের বাড়ি।ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবও আছেন।ছেলেদের সাথে খোলামেলা আলাপ করলেন। সন্ত্রাসীদের সাথে যুক্ত না হতে বারবার উপদেশ দিলেন!কত কি! শাফায়েত আর মণি সায় দিয়ে মাথা দুলালো।মিতুল মনে মনে রাগ করছে।কাতের সন্ত্রাসী বলছে!যারা দেশকে মুক্ত করতে চায়!তাদের? শাফায়েত তো সারাক্ষন অনিতাকে খুশী করার চেষ্টা করছে!মণি সাহায্য করছে বন্ধুকে! মিতুল ভাবছে,’মা!ক্ষমা করো এদেরকে!এ বয়সে যাদের রক্ত টগবগ করে ফোটার কথা,তারা পা চাটছে!এর চেয়ে কলকাতাতে থাকা ভালো ছিলো!কিছু,স্বাধীনচেতা মানুষ দেখতে পেতাম তো!’

পরদিন সকালে পুজা শেষে নদীর দিকে গেলো মিতুল।একটু শীত শীত।জল তেমন নেই নদীতে! তবুও, যথেষ্ট! একটা যুবক ছেলে নৌকায় বসে আছে! মিতুলের একটু অস্বস্তি লাগলো। সে খালি পায়ে এসেছে।বালির উপর হাঁটতে ভালো লাগছিলো!কিন্তু,কেউ সামনে থাকলে কেমন অস্বস্তি লাগে! ফিরে যাচ্ছিলো মিতুল! যুবক ছেলেটি ডাকলো,’এক্সকিউজ মি!ইউ!কাম হিয়ার!’ মিতুল তো অবাক!সে ভেবেছিলো মাঝি টাইপের কেউ।ছিঃ।আর কি গম্ভীর গলা!কাছে গেলো সে!দেখলো তার পুরোটা দৃষ্টি মেলে। অত্যন্ত সুদর্শন!সুপুরুষ একটা ছেলে।মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি গোঁফ!বড় বড় কালো চোখ। বয়স ২৪ হবে!দেখেই মনে হয় আদেশ করার জন্যই এ ছেলের জন্ম হয়েছে!
-জ্বি বলুন!
-তুমি চৌধুরীদের ছোট ছেলে না!
-হুম।
-এজন্যই ইংরেজীতে বললাম।তোমার বড়টি তো আবার ইংরেজী ছাড়া কিঝু বুঝে না!
-আমি অমনটি নই!
ছেলেটা হেসে বললো,’তাই নাকি?তো, তুমি কেমনটি?’
-পরে জানতে পারবেন!
-ও আচ্ছা।ওকে!তুমি আমাকে দেখে ভয় পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলে তো!তাই ডাকলাম!
-আমি কাউকে ভয় পাই না!
-তাই না কি? কেন?
-আমার শ্রীকৃষ্ণ আছেন!
-ওরে বাবা!এযুগেও এত ভক্তি!এনিওয়ে!আমি শেখর।আবার হিন্দু মনে করো না!এখানে থাকি না!কিছুদিনের জন্য কাজে এসেছি।আমাদের বাড়ি তোমাদের বাড়ির একটু দুরে!
-ও আচ্ছা।আপনি নৌকা চালাতে পারেন?
-হুম।কেন?
-ভয় করে না?
-না!আমিও ভয় পাইনা!আল্লাহ আছেন।তাই।
-ও আচ্ছা।
-ঠিক আছে যাও তাহলে।পরে কথা হবে!
-আচ্ছা।
তবুও,মিতুল অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকলো।
শেখর বুঝলো।বললো,’নৌকায় উঠতে চাও?এসো!’
মিতুল উঠে এলো।ভাবছে যে উনি বুঝলেন কি করে! শেখর বললো,
-‘ভয় করছে না!যদি ডুবে যায় নৌকা?’
-আপনি ডুবতে দেবেন না জানি!
-এত বিশ্বাস কার উপর?তোমার শ্রীকৃষ্ণের উপর?না আমার উপর?
মিতুল মনে মনে বললো,’আমার শ্রীকৃষ্ণের উপর।যাঁকে সামনে দেখছি।’ পরক্ষনেই ভাবলো যে এসব কি ভাবছে সে! নৌকাতে করে অনেকক্ষন ঘুরলো ওরা।খুব মজা হলো।একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে ফিররলো মিতুল!কিন্তু,বাড়ি ঢুকতেই শাফায়েতকে দেখলো সে।মেজাজ খারাপ হলো একটু।তাররপর,হাসি পেলো।শেখরের পাশে শাফায়াতকে তুলনা করে! মিতুলকে হাসি হাসি মুখ করতে দেখে শাফায়াত বললো,’কি ব্যপার!আজ খুশি খুশি লাগছে!’
-হুম।আজ অনেক খুশি।
-কেন?
-সেটা তো বলা যাবে না!সকালবেলাতেই এমন একজনকে দেখেছি যে মন ভালো হয়ে গেছে।
বলেই জিভে কামড় দেয় মিতুল।তারপর,দ্রুত ওখান থেকে চলে যায়। শাফায়াত ভাবে যে ওর কথাই বলেছে মিতুল।মনে মনে খুশিই হয় শাফায়েত। মিতুলের মনে সেদিন থেকেই শেখরের জন্য আলাদা জায়গা হয়।সবসময় তার কথা মনে পড়ে।

প্রতিদিন সকালেই মিতুল আর শেখরের দেখা হতে থাকে।পরস্পরের সম্পর্কে জানতে থাকে তারা।একসময় মিতুল জানতে পারে যে শেখর একটা রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত।শেখরই ওকে বিশ্বাস করে সব বলে।এখানে সে এসেছে আসলে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে!ওর রাজনীতি কিছুটা কট্টরপন্থী।বিপ্লবের পথে। অন্যদিকে,মিতুল অহিংসবাদে বিশ্বাসী। ব্যাপক পপ্রস্তুতি ছাড়া ক্ষুদ্র ভায়োলেন্স করে স্বাধীনতা আসবে না।এতে নিজেদেরই ক্ষতি হবে। তবুও,মিতুল শেখরের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত করে। সে তার নিজের বিশ্বাসের কথা বলে শেখরকে! শেখর কিছুটা ভয় পায়!সে ভাবে মিতুল যদি এসব কাউকে বলে দেয়!যেহেতু,তাদের আদর্শ আলাদা। মিতুল শেখরের চোখের ভয় দেখতে পায়! সে একটু ম্লান হেসে বলে,’ভয় পাবেন না আপনি!আপনার আদর্শ আর আমার আদর্শ হয়তো আলাদা।কিন্তু,আমি আপনাকে বিশ্বাস করি।আমি জানি যে আপনি যা করবেন তা কখনো মন্দ নয়।” স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে শেখর। আরো ঘনিষ্ঠ হয় তারা। বিকেলেও একসাথে ঘুরতে যায় ওরা দুজন।

একদিন ঘুরতে একটু দেরী হয়ে গেলো।সন্ধ্যা হবে হবে।হঠাৎ,প্রকৃতিটা একটু বেশিই সুন্দর লাগলো ওদের চোখে। নদীর বুকে ডুবন্ত সূর্যের লাল আভা। নীরবে দুজনে দুজনের দিকে তাকালো। যে ভাষা শুধু দুজনই বুঝতে পারে।যা মুখে বলতে গেলে লজ্জাতে আটকে যায়। সেদিন মিতুলের বাড়ি ফিরতে এতো ভালো লাগছিলো।মনে হচ্ছিলো সে আর একা নয়। কিন্তু,বাড়ি ফিরেই শুনলো যে ওকে আজ শাফায়েতের সাথে ওদের বাসায় থাকতে হবে।মনির জ্বর এসেছে।না হলে ওই থাকতো! বিরক্তি নিয়ে থাকতে গেলো মিতুল। শাফায়েৎ একাই বকবক করে ঘুমিয়ে পড়লো। মিতুলও ঘুমাল।

হঠাৎ মিতুলের ঘুম ভাঙলো।কেউ ওকে খুব আদর করছে। অচেনা ভাষা সে আদরের। মিতুল মন থেকে এটা চাইছিলো না! কিন্তু,তারপরও সাড়া দেয় শরীরের কাছে হার মেনে! হঠাৎ,নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়! শাফায়েত জড়ানো গলায় বলে,’কি হলো?’
-কি করছেন আপনি?
-কেন?চাওনা তুমি?
-ছিঃ।
-ও।আমাকে তো পছন্দ হবেই না!তোমার পছন্দ তো ওই চাষাটাকে।সারাদিন যার সাথে থাকো।কে জানে! সব প্রয়োজন হয়তো সেই মেটাই।
-উল্টাপাল্টা কখা বলবেন না!নিজে যেমন নোংড়া সবাইকে তেমন ভাববেন না!

পরদিন সকালে শেখরকে দেখতে পায়নি মিতুল।নদী থেকে একা ফিরে এলো।একটু পর জানতে পারলো ওকে পুলিশ নিতে এসেছিলো।পালিয়ে গিয়েছে।একটু পর একজন অচেনা মানুষ মিতুলকে শেখরের চিঠি দেয় গোপনে।ওটাতেই শেখর লেখে সে কোথায় যাচ্ছে।মিতুলকে চিন্তা করতে নিষেধ করে! চিঠিটা মিতুল নষ্ট করে দেয়। তবুও,মেলামেশা করার কারণে মিতুলকে পুলিশ নিয়ে যায়।

অনেকক্ষন ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেও মিতুল কিছু বলে নি।অনেক মারধরও করে ওকে।পরেরদিন ওর দাদু নিয়ে আসে। মিতুলের নিজের প্রতি নিজেরই ভালো লাগছিলো।সে কারো বিশ্বাস রাখতে পেরেছে। শেখর কিন্তু ধরা পড়ে ঠিকই। তার প্ল্যান মতো কাজ করতে গিয়েই। ম্যাজিস্ট্রেট বোমার আঘাতে আহত হন।একজন পুলিশ মারা যায়।আহত হয় কয়েকজন। শেখরকে জেলেরপোরা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত ও জেগে থাকে। ভাবে যে মিতুল কি জেগে আছে? ওর কথা ভাবছে?

মিতুল সত্যি জেগে ছিলো।সেও শেখরের কথা ভাবছে।সারাপৃথিবীর বেদনা ওর দুচোখের জল হয়ে ঝরছে। ও যখন খেতে বসে তখনও শেখরের কথা মনে হয়!না জানি কি খাচ্ছে জেলে? শেখরকে বেশিদিন জেলে থাকতে হয় না!
ওর বাবা কি যেন কৌশলে ওকে ছাড়িয়ে আনে। মিতুল সেটা দুদিন পরেই জানতে পারে!
এই দুদিনে একবার শেখরের সাথে মিতুলের দেখা হয়।শুধু জড়িয়ে ধরেছিলো।তেমন কখা বলেনি।
মিতুল পরে জানতে পারে যে ঐ ম্যাজিস্ট্রেটের মেয়ের সাথেই শেখরের বিয়ে হবে।বিয়ের পর ইংল্যান্ডে চলে যাবে।

বিয়ের দিন মিতুল শেখরদের বাড়ি যায়। ওকে দেখে শেখর এগিয়ে আসে,’তুমি এখানে?’
কান্না লুকিয়ে মিতুল বলে,’আপনাকে শেষবারের মতো দেখতে এলাম!’
-মানে?
-বিয়ের পর আপনাকে কখনো দেখব না তো!তাই।
-বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে করতে হচ্ছে।
-ধুর বোকা!বাবা রা তো ভালোই চান।তুমি ভালো থেকো।মেয়েটাকে তোমার খুব ভালো লেগেছে। তাই না?
শেখর কিছু বলতে পারে না! কিছুক্ষন নীরব খেকে ফিরে চলে যায় মিতুল। তার জন্য যে আকাশ অপেক্ষা করে আছে।যে আকাশ সবার জন্য অপেক্ষা করে!

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.