রুমাল

লেখকঃ হায়াসিন্থ

স্যুটের মাঝখানের বোতাম খুলে একটু রিলাক্স হয়ে বসবো ভেবেও নিজেকে থামিয়ে দিলাম। কোন ধরণের গরমবোধ হচ্ছে না ঠিকই, তবুও খুলে ফেলতে ইচ্ছা করছে, আবার ভেতর থেকে কেউ বাধাও দিচ্ছে। এয়ার কন্ডিশনড হলরুমে কিছুক্ষণ আগেও যেভাবে ঘেমেছি, তাতে যে কারও অবাক হয়ে যাওয়ার কথা। অপরিচিত একজন জিজ্ঞেস করে বসলেন, “কোন সমস্যা হয়েছে, বাবা? এত ঘামছো যে?”

আমার চেঁচিয়ে উঠার ক্ষমতা ছিল না। নইলে বুক ফাটিয়ে চিৎকার করে বলতাম,”সব কিছুতেই সমস্যা। স অ-ব । “

খুব জোরে একটা চিৎকার দিয়ে মরে যেতে পারলে ভাল হতো। কিন্তু জন্ম নিয়ে আজন্ম পাপ করেছি, মরছি না সহজে, তাই অভিনয় করেই সারাটা জীবন চালাতে হবে। তাই মুখে মিথ্যা হাসি ঝুলিয়ে সবার সাথে অভিনয় করে যাচ্ছি। অপরিচিত লোককেও অমায়িক একটা হাসি উপহার দিলাম, দিয়ে বললাম, “না – না। কোন সমস্যা নেই আঙ্কেল। পান খেয়েছিলাম, লেগেছে বোধহয়। “

ভদ্রলোক একটা হাসি দিয়ে চলে গেলেন, বাচ্চাদের প্রশয় দেওয়ার হাসি।

একটু সামনে এগিয়ে তোমাকে দেখতে পেলাম। সেই অনেকদিনের চেনা তুমি, কত সুন্দর ফিটফাট পরিপাটি হয়ে দাঁড়িয়ে আছো। সাদা স্যুটে তোমাকে অপার্থিব কোন শুভ্রতার প্রতীক মনে হচ্ছে। তোমার বুকও ফেটে যাচ্ছে হয়তো, কিন্তু সে রক্তক্ষরণ বাইরের শুভ্রতাকে কলুষিত করতে পারছে না। কত শান্ত আর সৌম্যদর্শন ভাব তোমার মধ্যে।
সাদা রংটা তোমাকে খুব মানায়, জানো ?
বৈশাখের শেষ দিনে সাদা পাঞ্জাবী পরে দুজনে সারা শহর হাঁটাহাঁটি করেছিলাম। সেদিন তোমার অদ্ভুত শখ পূরণ করতে গিয়ে দ্বিতীয়বারের মতন তোমার প্রেমে পড়েছিলাম। সাদা পাতলা পাঞ্জাবীর ফাঁকে ফাঁকে তোমার ঘেমে যাওয়া লোমশ বুক উঁকি দিচ্ছিল। সেদিন তোমায় জড়িয়ে ধরে ভেবেছিলাম,আর কিছু চাওয়ার নেই জীবনে।
সত্যিই, তোমাকে ছাড়া আর কী চাওয়ার থাকতে পারে ?

আজকেও সেই সাদার মধ্যে তুমি কত সুন্দর দাঁড়িয়ে আছো, আবার প্রেমে পরতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু আজকে আমার চাওয়াটা একটু ভিন্ন -মরে যেতে চাই।

তোমাকে অন্যের পাশে দেখার চেয়ে মরে যাওয়াই ভাল। কিন্তু সাথে সাথেই আবার তোমার প্রশান্ত চেহারা দেখে সব ভুলে যাচ্ছি। মনের মধ্যে কোন দুঃখবোধ কাজ করার আর ক্ষমতা নেই।
কোনো মায়াবলে বারবার ভুলিয়ে দিচ্ছো তুমি আর আমার নও।

সকল দুঃখবোধের ঊর্ধ্বে গিয়ে ভাবলাম,মাঝখানের বোতাম খুলে বসে থাকি। একটু বিশ্রাম নেই। তখন তোমার দিকে চোখ গেল।
দেখলাম: তুমি দিব্যি স্যুট-টাই লাগিয়ে হাসি মুখে বসে আছো,সবার গ্রিটিংস নিচ্ছো। তোমার পাশে সাদা রংয়ের গাউন পরা একটা মেয়ে, নিষ্পাপ চোখ মুখ নিয়ে বসে আছে। চোখে মুখে সারল্য আর প্রাপ্তির সুখ ফুটে ওঠেছে। ফুটবেই তো,তোমার মত কাউকে পাওয়া চিরজন্মের সাধ্য সাধনার ব্যাপার।

কিন্তু সৌভাগ্যবতী এই মেয়েটা কি কখনো জানবে তোমার প্রশস্ত বুকটাতে কয়টা লোম আছে? মেয়েটা কি কখনো তোমার বুকের বাম কিনারে সাতটা লোমের ভেতর লুকিয়ে থাকা আঁচিলটার খোঁজ পাবে —ভালবেসে আমি যাকে “সপ্তর্ষির সূর্য” আর কখনো “সাত বোনের সূর্য ” ডাকতাম?
কখনো জানবে না। অথচ আমি জানি। তোমার বুকের প্রতিটি লোম আমাকে চিনে, যেমন আমিও চিনি তাদের। প্রতিটি লোমের ঘ্রাণ আমার জানা। আর আঁচিলটাকে ভালবাসতে ভালবাসতে লাল করে দিয়েছিলাম। আমাদের ভালবাসাবাসিতে তোমার সেই সূর্য ক্রমেই উত্তপ্ত থেকে উত্তপ্ততর হতো আর সেই তাপে নিজেকে পুড়িয়ে নিতাম।
নিষ্পাপ মেয়েটি কিছুই জানলো না,অথচ কী নিষ্ঠুরভাবে তোমাকে অধিকার করে ফেললো !

তোমার উপর আমারই অধিকার ছিলো, একমাত্রই আমার —— এইতো কিছুক্ষণ আগ পর্যন্ত। তারপরে পাদ্রী বললো, “You may now kiss the bride.”

তোমার ঠোঁট দুটো তুমি সামনে এগিয়ে দিলে, বিপুল হাততালির মাধ্যমে তোমাদের স্বাগত জানানো হল,আর সেই হাততালির মধ্যে হারিয়ে গেল আমার অধিকার, আমার ভালবাসা। তুমি আরেকজনের হয়ে গেলে। আর বাষ্প হয়ে উড়ে গেল আমার লুকানো চোখের ঘাম।

সবার উল্লসিত হাততালি আর আমার লুকানো বিষাদের মধ্যে দুবছর আগে কোন এক সন্ধ্যার তোমাকে দেখতে পাচ্ছিলাম।
নিজেকে বদলানোর চেষ্টা হিসেবে তুমি জোর করে এক মেয়ের সাথে এক মিনিট ঠোঁট লাগিয়ে রেখেছিলে। মাত্র এক মিনিট। তারপর ঘরে ফিরে কয়েকবার ধুয়েও শান্তি পাচ্ছিলেনা, বলছিলে,তোমার বমি আসছে। গা কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে।

সেদিন তোমার মুখের আনাচকানাচ থেকে মেয়েটার স্পর্শ সরিয়ে দিয়েছিলাম। আমার চুমুতে সিক্ত হয়েছিল তোমার মুখ। আজকে কে তোমায় এমন করে পরিষ্কার করে দিবে? আজকে তোমার খারাপ লাগছে না? তাহলে এত সুন্দর করে হেসে যাচ্ছো কিভাবে?

তোমার বাড়িতে আসার পর থেকে তোমার কাছে ঘেঁষতে পারছি না। বারবার এর আগের বার যখন এসেছিলাম সেসময়ের কথা মনে পড়ছে।
তখন দু’জনে বসে বসে রাতগুলো নক্ষত্র গুনে গুনে পার করেছি। একই রুমে শুয়ে শুয়ে নিকোটিনের ধোঁয়ায় কত স্বপ্ন বুনেছি।
আমাদের প্রেমের সাক্ষী সেই নক্ষত্রগুলোর আজ মৃত্যু হয়েছে। তাই সামান্য সময়ের জন্যও তোমার পাশে দাঁড়াতে পারছি না। আমাদের সামনে তুমি হাঁটছো,খাচ্ছো,দাচ্ছো­­­­­,বন্ধুদের সাথে আত্মীয়দের সাথে কথা বলছো, অথচ একা হয়ে আমাকে অসহায় চোখে তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়েছে। তোমার চোখের কাতরতা আমি বুঝতে পারি,তাই সবার ভীড়ের মাঝে একটু সুযোগ পেলেই তোমার পাশে দাঁড়াই,তোমার একটুখানি স্পর্শ পেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তখনই হয়তো কেউ এসে জিজ্ঞেস করে,” এ কে? “
তোমার নির্লিপ্ত উত্তর কী হবে আমার জানা আছে —– “আমার ফ্রেন্ড”
কিংবা “ছোট ভাই ” ।
পরিচয় শুনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকি। ভুলতে চেষ্টা করি এই মুখে একদিন ভালবাসার কথা শুনেছিলাম। যে মুখে ভালবাসার কথা শুনে অভ্যস্ত, সেই মুখে এমন মিথ্যা শুনতে বুক ফেটে যায়। তবু ভুলতে যেহেতু হবেই,তাই এখন থেকেই ভুলতে চেষ্টা করি। তাই কাছে ঘেঁষার ইচ্ছাও মেরে ফেলছি ধীরে ধীরে। সাথে নিজেকেও মেরে ফেলছি ।

কাছে ঘেঁষার অধিকার হারিয়ে ছিলাম সেদিন,যেদিন তোমার বিয়ের কার্ড হাতে তুলে নিয়েছিলাম। জেনেছিলাম,নিজের মৃত্যুর পরোয়ানা নিজের হাতে তুলে নিচ্ছি।

সেদিন সারাটা রাস্তা তুমি গুম হয়ে বসে ছিলে। হোস্টেলের কাছাকাছি যখন এসে গেছি, তখন আমার হাতটা ধরে বলেছিলে,”চলো নামি । “
— “এখানে কেন?”
— “দরকার আছে।”
তোমার গম্ভীর মুখ দেখে কি দরকার জিজ্ঞেস করার সাহস হয়নি। রিকশা থেকে নেমে উল্টো পথে আবার হাঁটতে শুরু করেছিলাম দুজন। মৌন যাত্রা কত দীর্ঘ মনে হয়েছিল। সমস্ত রাস্তা নীরব থাকার পর তোমার ছোট ঘরটায় গিয়ে কোন কথা না বলে একটা লাল কার্ড ধরিয়ে দিলে। কেমন ঘোরলাগা হিপনোটাইজড হয়ে কার্ডের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।

জানতাম,তোমার বিয়ে ঠিকঠাক। মনে মনে নিজেকে হয়তো প্রস্তুতই করছিলাম। তাই যখন তুমি অসহায়ের মত কাঁপা হাতে আমার হাত ধরলে,আমি ভালবাসার কোন কথা বলতে পারিনি, বলতে পারিনি আমাদের ভালবাসা শক্তি হয়ে আমাদের উদ্ধার করবে। আমার মৌনতা বলছিল,ভালবাসা মিথ্যা। ভালবাসার যে শক্তির জয়গান যুগে যুগে কবি সাহিত্যিকরা গেয়েছে,তাও মিথ্যা।

লাল কার্ডের আলপনার মাঝখানে রাসেল নামের পাশে কত সুন্দর জায়গা করে নিয়েছে আরেকটি নাম —- মিলি। সামাজিক ভাবে বৈধ হওয়ার অপেক্ষায় জ্বলজ্বল করছে দুটো নাম।
এক মুহূর্ত কী ভেবেছিলাম মনে নেই। তোমার মিনতি মাখা অসহায় চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতেও পারছিলাম না। তবু জোর করে বলেছিলাম: “তখন আমায় নাই বা মনে রাখলে!”
বাঁধভাঙ্গা কান্নায় সেদিনকার নীরবতা ভেঙ্গেছিল।

সেই ছিঁচকাঁদুনে তুমি আজকে হাসি হাসি মুখ করে দাঁড়িয়ে আছো, আর তোমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে তোমার নবপরিণীতা মিলি। লাল কার্ডের মিলি আজকে সাদা গাউন পরে মানুষ হয়ে তোমার পাশে দাঁড়িয়ে তার অধিকার ঘোষণা করছে, যে অধিকার সে কিছুক্ষণ আগে তোমার কাছ থেকে পেয়েছে —– যীশুর সামনে প্রতিজ্ঞার মধ্য দিয়ে।
ফাদার বলছিল “… To have and to hold, from this day forward, for better, for worse, for richer, for poorer, in sickness or in health, to love and to cherish till death do us part. And hereto I pledge you my faithfulness…”
তুমি সম্মতি জানিয়ে মিলিকে অধিকার দিয়েছো। আর আমরাও হাততালি দিয়ে…

যীশুর সামনে তো আমি আর তুমিও একদিন দাঁড়িয়েছিলাম। প্রকাশ করেছিলাম আমাদের ভালবাসা। কই, আমার তো কোন অধিকার বোধ নেই তোমার উপর? আমি তো চাইলেই তোমাকে নিয়ে ঘর করার স্বপ্ন দেখতে পারিনা?
তোমার মনে আছে রাসেল? তুমি তো ভুলতে পারো না!
চার্চের সামনে হাঁটতে হাঁটতে তোমার হঠাৎ খেয়াল চাপলো যীশুর সামনে আমাদের ভালবাসার কথা বলবে। এবং আজকেই।
–“এ্যাই চলো চার্চে যাই। “
–“চার্চে কেন? “
–“প্রশ্ন করা ছাড়া তুমি কিছু করতে পারোনা? “
— “না। আগে বলো কেন যেতে চাও? “
— “আরে আগে চলো,তারপর দেখো।”
— “কী আশ্চর্য! আগে বলো। হুটহাট চার্চে যাবো কেন? “
— “Take me to the church গান দেখেছো? “
— “নাহ !”
— “এজন্যই এত জিজ্ঞেস করছো। চলো,তারপর বুঝাচ্ছি। “

নির্জন চার্চের বন্ধ দরজার এপাশে আমাদের সামনে ছিল যীশু, ভালবাসার প্রতীক যীশু। সেদিন যীশুর সামনে আমাদের ভালবাসা উৎসর্গ করেছিলাম। দুজনে একসাথে বলেছিলাম:
“জগতে ভালবাসাই একমাত্র সত্যি। আমাদের পরস্পরের আত্মা যদি পরস্পর কে ভালবেসে থাকে,তবে এই ভালবাসা আমরা অমর অক্ষয় করে রাখতে চাই। প্রভু, মঙ্গলময় প্রভু, যীশুকে সাক্ষী রেখে আমাদের ভালবাসা বিশ্ব প্রেমের কাছে উৎসর্গ করলাম । We must kiss each other now! “

মনে ভরে একজন আরেকজন কে চুমুতে অভিষিক্ত করেছিলাম তারপরে। কোনধরণের সঙ্কোচের কারণ ছিল না। ভালবাসার শক্তি সেদিন আমাদের উপর আশীর্বাদ হয়েছিল।

ভালবাসার শক্তি বলে সত্যিই কিছু যদি থাকে, তবে আজকে তোমার পাশে মিলি কেন? তবে কি সেদিন যীশু দুহাত প্রসারিত করে আমাদের আশীর্বাদ করেনি ?
গির্জার ঘন্টাগুলো সেদিন ভালবাসার সুর শুনিয়েছিল। যদি সেসব সত্যিই হয়ে থাকে, তবে তোমার পাশে আজকে মিলি কেন?

**
সম্পর্কের শেষের শুরু কার্ডের মধ্যেই লেখা ছিল। কাঠফাটা রৌদ্রের মধ্যে শেষবারের মতন তোমাকে যখন তুলে দিতে গেলাম,তখন বুঝেছিলাম,নিজেকে শেষ করেই তবে তোমাকে বিদায় দিচ্ছি। কেউ কাউকে বলিনি, যেতে নাহি দিবো… না বলা কথাটাই আমাদের দুজনের মনে কথা ছিল।
সেদিনকার রোদটাকে ধন্যবাদ দিতে হয়, তার অমন তেজের কারণেই আমার পাথর মুখের নীরব কান্না কারও চোখে পড়েনি। সবাই সেটাকে ঘাম বলেই ধরে নিয়েছিল। সেটা ঘামই ছিল; তবে চোখের ঘাম! মূল্যহীন চোখের ঘাম।

সব ঘামের যে মূল্য নেই,তা-ও নয়। আমার ডান পকেটে যে রুমাল রাখা আছে সেটাতেও ঘাম মোছা আছে। ছোট সাদা একটা রুমাল। মাঝখানে ছোপ ছোপ কয়েকটা দাগ —–ঘামের দাগ। যে ঘাম এখানে যত্ন করে লাগানো আছে,সেটা আমাদের শেষ মিলনের ঘাম। হয়তো আমাদের অস্বীকৃত প্রেমের শেষ স্মৃতি, শেষ স্বীকৃতি। দুটি শরীর প্রেমের চরম সীমার গিয়ে যে প্রেমের ধারা শরীর থেকে ঘাম হয়ে বের করেছিল সেই ঘাম এই রুমালে মোছা আছে। তোমার অযত্নে ফেলে দেওয়া রোমাল আজকে আমার সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু। কেমন হবে,যদি তোমার বিয়েতে এটা উপহার দিয়ে চলে যাই? সে সাহস আমার নেই। আমার এমন সাহস হবেও না। স্মৃতি অস্বীকার করে তুমি হয়তো বাঁচতে পারবে,আমার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল আমার স্মৃতি।

পকেটে হালকা চাপ দিয়ে রুমালের উপস্থিতি অনুভব করি। অনুভব করি তোমাকে,অনুভব করি তোমার আমার প্রেমকে।

**
রাতের অন্ধকারে রুমাল বের করে মুখে চেপে ধরি। তোমার বুনো গন্ধ আবার চারপাশ আচ্ছন্ন করে ফেলে আমার। শিরায় শিরায় অনুভব করি তোমাকে। বাস্তবতা ছাপিয়ে ঘাড়ের কাছে তোমার নিঃশ্বাস গাঢ় থেকে গাঢ় হয়। বদ্ধ কোন ঘরে মিলির নিঃশ্বাস নিতে ব্যস্ত বোধহয় তুমি। সেসব বাস্তবতা ভুলে আমি ঘোরের মধ্যে চলে যাই।

…জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে তোমাকে অনুভব করতে চাই। আরও গভীর থেকে গভীরভাবে। ঠোঁটের মধ্যে ঠোঁট , তোমার অধরে আমার ওষ্ঠ, হাতে হাত আর বুকের সাথে বুক মিশে আমাদের দুটি দেহ একত্র হতো। তারপর চলতো আদিমতার খেলা। ভালবাসার পূজা। সেই পূজা তুমি আরেকজনকে করবে।
আজ না হোক কাল,কাল না হোক,অন্য কোন দিন ।
অন্য কোন দিন সেই খেলা তুমি খেলতে বাধ্য। কারণ, সে যে তোমাকে সামাজিকতার বলে অধিকার করে নিয়েছে! সেই অধিকারের কাছে তুমি অসহায় আর বাধ্য।

অধিকারের দোহাই দিয়ে যে আমার কাছ থেকে তোমাকে কেড়ে নিলো সে জানেও না কতটুকু জোর করে তোমাকে রাখতে চেয়েছিলাম। ধরে রাখতে চেয়েছিলাম শক্ত করে। না জানা,না বুঝা সেই মানুষটির কাছে কত নির্মমভাবে হেরে গেলাম। মানুষ নিজের প্রাপ্তি নিয়ে কখনওই ভাবে না,অপ্রাপ্তি নিয়েই ভাবে। তাই তোমাকে পেয়েও সে হয়তো বুঝবে না কখনো সে কী পেল। আর আমি তোমাকে নিয়ে ভাবার চেয়েও বেশি ভাববো তাকে নিয়ে, যে তোমাকে পেলো।
আমাকে নিয়ে সে মাথা ঘামাবে না বলেই আমাকে তোমার সামান্য “বন্ধু” ভাববে, কিংবা ভাববে কোন “ছোট ভাই”।

অথচ জানবে না যে তার অধিকার বোধে আমার দীর্ঘশ্বাস কতখানি মিশে আছে….।

রুমালটা আরও জোরে চেপে ধরি। ব্যথার ঝাঁঝে চোখ থেকে ঘাম বের হয়ে আসে। আমার মূল্যহীন চোখের ঘাম মুছে দিচ্ছে তোমার ঘ্রাণ। আরও গভীরভাবে আরও শক্ত করে রুমাল চেপে ধরি।

***সমাপ্ত***

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.