স্বপ্নময় ভালবাসা

প্রান্তিক

Sparsha আর Ayaner বন্ধুত্ব হয়েছিল উচ্চমাধ্যমিকের শুরুতে ।তখন দু জনেই জীবনটা টাকে চিনতে শিখেছে ।তবে বাস্তবতার দুর্মমতা দু জনকে আলাদা এক কাব্যদান করেছে । একজন সমকামী আরেকজন তা না । Sparsha প্রথম যেদিন Ayanকে দেখেছিল ঐদিন থেকেই তাকে ভালবেসে আসছে ।সেই ভালবাসার কোন কমতি ছিল না । নিজের যা আছে সব দিয়ে Ayanকে ভালবেসেছে । Ayan ও Sparshaকে ভালোবাসে তবে সেই ভালবাসা বন্ধুত্ব পর্যন্তই সীমাবদ্ধ । কিন্তু Sparsha যে Ayanকে আরো বেশি কাছে পেতে চায় । আরো বেশি ভালবাসা পেতে চায় । Sparshaর সমগ্রতা জুড়ে ছিল Ayan । সে Ayanকে ছাড়া একটা মুহুর্ত ও ভাবতে পারতো না ।তারপরে ও নিজের ভালবাসার কথা Ayanকে বলতে পারতো না । কারন তা বলার মতো কিছু না । বরং তার মনে একটা ভয় ছিল যে পাছে তাদের বন্ধুত্বটা নষ্ট হয়ে যায় ? তখন তারা ভার্সিটিতে পড়তো ।প্রতিদিন Sparsha Ayanকে নিয়ে যেতে Ayanর বাসায় আসতো ।তারপর তারা একি বাইকে করে ভার্সিটিতে যেতো । ক্লাস শেষে শহর থেকে একটু দূরের ঝিলের পাশে বসে গল্প করতো । Sparsha Ayanকে ছাড়া কিছুই বুঝতো না তার সুখে দুখে সে চোখে Ayanকেই দেখতো । আর Sparsha তার সমপ্রেমের ভালবাসায় Ayanকে মন রাজ্যের রাজা করে রেখেছে কিন্তু সেই রাজার সেই রাজ্যের প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ ও ছিল না । তার পরে ওsparshaর ভালবাসার কোন কমতি ছিল না । দিন যতো গড়াচ্ছে অয়নের প্রতি Sparshaর ভালবাসা ততোই বাড়ছে । দিন রাত ভুলে Sparsha সারাদিন তার খেয়ালেই মজে থাকতো । ভালবাসার ভরে সে যেনো দিন দিন দুর্বল থেকে দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল । তাই একদিন স্থির করলো সে Ayanকে বলে দিবে যে সে তাকে ভালবাসে আর সারা জীবনের জন্যে চাই । কিন্তু ,কী করে ? মুখে অথবা ফোনে বলার মতো সাহস তার নেই । সারা রাত ভাবলো অবশেষে স্থির করলো চিঠি লিখে জানাবে ।লাফ দিয়ে ওঠে প্যাট খুলে লিখতে বসলো ।

… . .প্রিয় ,.. . . . . . .

ইতিঃআমি

চিঠি লেখা তো শেষ । কিন্তু পৌঁছাবে তা কী করে ? আবার ভাবতে লাগলো । হঠাৎ ,একটা বদ্ধি আসলো । পরের দিন সকালে বুদ্ধিমতে কাজ করতে পারলে সব বলতে পারবে কিন্তু Ayan কী তার ভালবাসা গ্রহণ করবে ? নাকি বন্ধুত্বটা এখানেই শেষ ? যা হওয়ার হবে । মন থেকে না বলা কষ্টটা তো দূর হবে ।তাতেই চলবে । সে আমায় ঘৃণা করলে ও আমি তো তাকেই ভালবাসবো ? ইত্যাদি ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লো । ক্লাসে Sparsha আর Ayan এক সাথে বসলো । স্যারে লেকচার দিচ্ছিল । সবাই মনযোগে তা শুনছে আর ঐ দিকে Sparsha পকেট থেকে চিঠিটা বের করে , Ayanর বয়ের ভেতরে ঢুকিয়ে দিল । প্রথম ক্লাস করে Sparsha চলে আসলো একটা কাজ আছে বলে ।কিন্তু Ayan বাকি ক্লাসের জন্যে থেকে গেলো । আসলে Sparsha চলে এসেছিল Ayan যাতে চিঠিটা তার সামনে না পড়ে এই জন্যে । ঐদিকে ক্লাস শেষে Ayasn ক্যান্টিনে গেলো । ঐখানে Diya নামের ভার্সিটির সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটাও ছিল ।Ayan মাঝে মাঝেই তার সাথে আড্ডা দিতো ।এই হিসেবে একটা ঘনিষ্টতা তো ছিলোই । ক্যান্টিনে পা রাখার পর পর ই দিয়া Ayanকে ডেকে কফি অফার করলো । কফি খেতে খেতে কথা বলতে বলতে দিয়া Ayanর বইটা নিল আর একটু আকটু পাতা উল্টিয়ে পাল্টিয়ে আমার দিয়ে দিল । রাত্রে Ayan যখন বই খুলল তখনই তার চোখে পড়লো অপূর্ব হাতের লেখা য় হৃদয়ের গভীর থেকে আসা ভালবাসা পূর্ণ এক প্রেম পত্র । সে পড়ে বুঝতে পারলো যে লিখেছে সে তাকে অনেক ভালবাসে ।কিন্তু কে লিখেছে ? নিশ্চয় দিয়া ।কারন ঐ সময় বইটা নিয়ে সেই দেখছিল । Ayan তো আনন্দে আটখানা যে দিয়ার মতো কেউ তাকে এতো ভালবাসে । সারা রাত ঘুম আসলো না কবে সে Sparshaকে তা জানাবে । সকালে , দ্রুত ফ্রেশ হয়ে সোজা Sparshaর বাড়ি ।Sparsha ভেবেছিল বোধ হয় Ayan তার চিঠিটা পড়ে তার ভালবাসার কথা জনে এতো খুশি । দুজনে বাইকে চড়ে গেলো ঐ ঝিলের কাছে । পাশাপাশি বসে Ayan বলতে লাগলো .কেউ আমাকে একটা প্রেমপত্র লিখেছে । যে লিখেছে সে আমাকে খুব ভালবাসে আর তার পত্র পড়ে আমিও তাকে ভালবেসে ফেলেছি । তুমি জানো এই টা কে ?Sparsha ভেবেছিল Ayan তার কথা বলছে তাই হাসি মুখে বললো, কে ? কিন্তু Sparshaর হাসিমুখটা আর টিকলো না । Ayan যখন বললো ,সে দিয়া । Sparshaর চোখ বেয়ে টল টল করে পানি ঝড়তে লাগলো । Ayan থেকে ফেলে তাই পানি মুছে একটা হাসি দিয়ে বলল .তাহলে তো তুমি খুব হ্যাপি । হ্যাপি তো বটেই ।তবে সে লিখেছে কীনা নিশ্চিত না ।তুমি আমাকে হেল্প করবে প্লিজ ।আমার ভালবাসা পেতে ?Sparsha কী বলবে সে বুঝতে পারছিল না । তাই বলল হ্যা

করবো । বলেই ওঠে চলে যেতে লাগলো । দিন যেতে লাগলো ।Sparsha তার কষ্ট দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে দিয়া আর Ayanর প্রেম করিয়ে দিল । আর নিজে একা হয়ে গেলো ।এখন আর অয়ন Sparshaকে কল করে না ।তাকে নিয়ে ভার্সিটিতে যায় না । এমনকী ভার্সিটিতে ও যায় না । Ayan আর দিয়া এক সাথে চলছে । আর Sparsha একা একা জীবনটাকে গুছিয়ে নিচ্ছে । রাত্রে যখন ঘুমায় তখন অচেনা একটা কষ্ট তাকে ঘিরে ফেলে ।তার চারপাশটা হা হা কারে ঢেকে যায় ।চোখের কোণ বেয়ে ঝড়ে অশ্রু । Sparsha যখন Ayanর ভালবাসায় কাঁদছে তখন Ayan দিয়ার সাথে প্রেমালাপে ব্যস্ত । তবে এটা ঠিক Ayanর ও মাঝে মাঝে Sparshaর কথা মনে পড়তো । ফোন করলো ফোন বন্ধ পেতো ।তখন তার খুব কান্না পেতো । দিয়াকে সময় দিতে দিতে সে Sparshaকে একটি বারের জন্যে দেখতে ও পারতো না । বিপরীত কামের প্রেমারস আর কতো ? ধীরে ধীরে Ayan আর দিয়ার সম্পর্ক তিক্ত হতে লাগলো । দিয়ার চাহিদা পুরণ করতে তার পছন্দের বাইকটাও বিক্রি করতে হয়েছে তবো সেই মেয়ের মন ভরেনি ।এমনকি ,পরে জানা গেলো যে তার আরো অন্য ডজনখানেক ছেলের সাথে সম্পর্ক আছে ।রাগে দুঃখে সে সম্পর্ক ভেঙ্গে চলে আসলো। একদিন ভার্সিটিতে গেলো ।গিয়ে দেখে Sparsha একা একা বসে কী একটা স্কলারশীপ ফরম পূরণ করছে । সে কাছে গেলো এবং বসলো ।কেমন আছে জানতে চাইলে Sparsha ঘাঢ় ঘুরিয়ে ফিরে চাইলো । একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো তাহলে মনে পড়লো ? Ayan তার উত্তর না দিয়ে চেয়ে রইলো Sparshaর দিকে । Sparsha অনেক শুকিয়ে গেছে । তার চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গেছে । চেনায় যাচ্ছে না । অয়ন Sparshaর হাতের ফরমটা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলে যে এটা কানাডা স্কালারশীপের । আগামী সপ্তাহে টেস্ট ।সেখান থেকে তিনজনকে বাছাই করা হবে । Sparsha খুবি ভাল ছাত্র । Ayan জানে সে টিকবে এবং কানাডা চলে যাবে । কথাটা ভাবতেই বুকের ভেতরটা মুচড় দিয়ে ওঠলো । এতোদিন যার সাথে এক সাথে পড়াশোনা করেছে সে তাকে ছেড়ে কানাডা যাবে ? না তাহতে পারে না । দরকার হলে আমিও যাব । এই ভেবে দ্রুত হেঁটে গিয়ে নিজে ও একটা ফরম কিনে আনলো । দুই সপ্তাহ পর পরিক্ষা ।Sparsha প্রতিটা দিন কেঁদেছে আর পড়েছে ।চোখের জলে বয়ের পাতা ভিজেছে । ঐ দিকে Ayan কিছুই পড়তে পারছে না । ক্ষণে ক্ষণে তার ঐ চিঠিটার কথা মনে পড়ছে । আর ভাবছে ঐ চিঠিটা যদি দিয়া লিখতো তবে তো ,এই ভাবে তাকে ঠকাতো না । চিঠিটাতে যা আছে তাতে মনে হয় যে আমাকে ভালবাসে সে তার সব দিয়ে বাসে । না এটা দিয়া অবশ্যই না । তবে কে এটা ? আমি কী কোন দিন তার সাক্ষাৎ পাবো না যে আমাকে প্রকৃত অর্থেই এতোটা ভালবাসে । পরিক্ষার দিন Sparsha আর Ayan গেল তবে আলাদা । Ayan বার বার Sparshaকে ডাকতে যেয়ে ও আটকে যাচ্ছিল । আর Sparsha কষ্ট বেড়ে যাওয়ার বয়ে ফিরে ও তাকালো না Ayanর দিকে । পরিক্ষার প্রশ্নপত্র দেখে Ayanর মাথা গরম । কিছুই তার মনে পড়ছিল না ।অন্য দিকে Sparsha পেরে ও কিছু লিখছে না ।বারবার Ayanর চেহারটা দেখছে । অবশেষে কী ভেবে যে একটা ঘুড়ি একে দিয়ে পরিক্ষার হল থেকে বের হয়ে আসলো । Sparshaর বের হওয়ার পর পরই Ayanর সব মনে পড়লো আর দ্রুত দুই ঘন্টাই সব লিখে দিয়ে আসলো । রেজাল্ট দেখে সে অবাক সে টিকেছে । কিন্তু ,Sparsha ?যাই হোক টিকেছেই যখন তখন যাবেই ।কমপক্ষে ঐ নষ্ট মেয়েটার চেহারাতো দেখতে হবে না । যাওয়ার আগে অনেকবার ইচ্ছে করেছে

Sparshaর সাথে দেখা করতে কিন্তু ,লজ্জায় সাহস হয়নি । যেদিন যাবে ঐদিন ব্যাগ গুছিয়ে যাওয়ার পথে ছোট ভাই একটা ভাজ দু টাকার নোট দিয়ে বলল Sparsha ভাই দিয়েছে । Ayan কী ভেবে যেনো টাকার ভাজ না খুলেই পাসে রেখে দিল । যেতে তার খুব কষ্ট হচ্ছিল একটা কারনে আর তা হচ্ছে Sparsha । তবো গেল । এয়ারপোর্ট যাওয়ার পর একটা ভিক্ষুককে ভিক্ষাদিতে গিয়ে টাকাটার ভাজ খুলল আর দেখে তাতে লেখা ভালো থেকো । Sparshaর কাছে লেখাটা খুব পরিচিত মনে হচ্ছিল তাই ঐ চিঠিটা খুলে লেখাটা মিলাতেই বুঝে গেল চিঠিটা Sparshaর লেখা ।তার মানে আমাকে Sparsha এতো ভালবাসে ?এতো কাছে থেকে ও আমি তা বুঝতে পারিনি । ছুটতে লাগলো Sparshaর কাছে । Sparshaর বাড়িতে গিয়ে দেখে Sparsha রুমের এক কোণতে বসে কাঁদছে ।

Ayanকে দেখেই চোখ মুছে ফিরে তাকাতেই Ayan কাছে গিয়ে কষে একটা থাপ্পর দিয়ে বুকে জড়িয়ে বললো ,ছাগল এতো ভালবাসিস অথচ বলতে পারিস না ? তাহলে আমাকে বিশ্ব ঘুরে স্বর্গের খবর পেতে হতো না । বলেই কাঁদতে লাগলো । Sparsha বললো , কিন্তু আমি যে সমকামী ? Ayan Sparshaকে লিপকিস করে বললো ,ভালবাসার উপরে কিছু নেই ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.