আহা!

লেখকঃ আনন্দ আহমেদ

ঘুম থেকে উঠিয়াই অভ্যাসবশত ডান হাতখানা আমার পরানপাখিটার গায়ে উঠাইয়া দিলাম।

কী ব্যাপার? পরানপাখি কই? সে কী তবে আমায় ফাঁকি দিয়া তাহার সৌন্দর্য্য বিক্রির পেশায় চলিয়া গেল? হায় হায়! এখন আমার কি হইবে? উহাকে চুম্বন করিয়া দিন আরম্ভ না করিলে তো আমার সারাদিনটাই বিফলে যাইবে। এখন কী তবে উহার ঠোঁটের মধু আহরনের জন্যে মৌমাছি হইয়া উহার কর্মস্থলে গিয়া হাজির হইব?

না, না। ব্যাপারটা ঠিক হইবে না। পরানপাখি খেপিয়া যাইতে পারে। আর সে খেপিয়া গেলে আমার আর নিস্তার নাই। আবার না কহিয়া কয়দিনের তরে কোথায় যে উড়িয়া যাইবে, তাহার কোন ইয়ত্তা পাইবো না। শেষমেষ আমাকেই কানে ধরিয়া উঠবস করিয়া তাহাকে শান্ত করিতে হইবে। সে এক মহা হ্যাপার ব্যাপার। অগত্যা আর কোন উপায় না দেখিয়া চরমভাবে খারাপ একটি দিন আরম্ভ করিবার প্রস্তুতি নিলাম মনে মনে। হাতের কাছে দেখি সদ্য কেনা কেতাদুরস্থ ফোনটা (সবাই বলে ইশ্মারটফোন!) বেহায়ার মত আমার দিকে ব্যঙ্গ করিয়া মুচকি হাসিতেছে। মেজাজ সপ্তমে চড়িল। মনে মনে বলিলাম, “ব্যাটা কেতাদুরস্থফোন! আমার দুর্দিনে তুই আমার সহিত মজা লইতেছিস? দাঁড়া, এক্ষুনি তোর মজা বাহির করিতেছি।” এই ভাবিয়া কেতাদুরস্থফোনের আজীবনসঙ্গী তারযুক্ত শ্রবণ যন্ত্রটার (কেন যে ইহার নাম হেডফোন হইলো?) খত্নাকৃত দন্ডখানা জোড় করিয়া চাপিয়া ধরিয়া আমার কেতাদুরস্থ বাবাজির পৃষ্ঠদেশের গহবরে হান্দাইয়া দিলাম। বুঝ ব্যাটা! এইবার মজা বুঝ! কেতাদুরস্থ বদমাইশটার আহ্‌ উহ্‌ শুনিবার জন্য যখনি তারযুক্ত শ্রবণযন্ত্রটার দুই হাত আমার কর্ণকুহরে প্রবেশ করাইলাম, কানে বাজিয়া উঠিল, “ক্যায়সা ইয়ে ইশক হ্যায়… আজাব ছা রিস্ক হ্যায়…”

চোখ বন্ধ করিয়া আমার “আজাব ছা রিস্কওয়ালা ইশক” এর কথা ভাবিতেছিলাম। এরি মধ্যে টের পাইলাম, ঘরে কে যেন হাঁটাহাঁটি করিতেছে। মনে মনে ভয় পাইয়া গেলাম। পরানপাখির দানবতুল্য দোস্ত দেলোয়ার নয় তো? দীর্ঘদিন যাবত সে আমার পৃষ্ঠদেশের স্বাদ আস্বাদনের জন্য পিছন পিছন ঘুরিতেছে। পরানপাখিকে আমার দেহরক্ষক হিসেবে সব সময় কাছাকাছি রাখি বিধায় ওই ব্যাটার মনঃকামনা পুরণ হইতেছেনা। আজ পরানপাখি নাই দেখিয়া সুযোগ বুঝিয়া সে কী তাহার কুমতলব চরিতার্থ করিতে আসিল? ভয়ে ভয়ে চোখ মেলিয়া তাকাইলাম।

দেখি যে না! ভয়ের কিছুই নাই। উল্‌টা আনন্দের উদ্রেক হইল। দেখি পরানপাখি সাদা তোয়ালেতে নিজের কোমর হইতে হাঁটু অব্দি জড়াইয়া স্নানাগার হইতে বাহির হইয়া তাহার অভ্যাসমত কফির মগখানা লইয়া বিশাল জানালার পাশে দাড়াঁইয়া সমুদ্র দেখিতেছে। মনটা আনন্দে নাচিয়া উঠিল। এ যে দেখিতেছি মেঘ না চাইতেই জল! ভাল করিয়া চোখ রগড়াইয়া লইলাম। ভুল দেখিতেছি না তো?

না, না। এ আমার পরানপাখি বই অন্য কেউ নয়। ওই তো তাহার বলিষ্ঠ পুরুষালি শরীর! সূঁচের মতো খোঁচা দেয়া খোঁচা খোঁচা দাড়ি, কান অব্দি লম্বা রেশমি কেশরাজি হাত দিয়া পিছনে টানিয়া দেয়া। কেশরাজি হইতে ফোঁটায় ফোঁটায় জলবিন্দু তাহার সুপ্রশস্থ স্কন্ধ ও গ্রীবায় টপ টপ করিয়া পড়িতেছে। তাহার ইংরেজি Y বর্ণের মত ৬ ফিটের কসরতকৃত ফরসা শরীর দেখিয়া শুধু আমি কেন? সমপ্রেমী, বিসমপ্রেমী, ছেলে, মেয়ে নির্বিশেষে যে কেউ তাহার প্রেমে হাবুডুবু খাইতে পিছ পা হইবে না।

নদীর ক্ষুধার্ত মাছের মত তাহার পেশীবহুল লোমহীন শরীরের দিকে তাকাইয়া রীতিমত খাবি খাইতে লাগিলাম। যতবারই তাহাকে দেখি, মনে হয় এই প্রথম দেখিতেছি। দেখিবার সাধ আমার আর কিছুতেই মিটে না। এইদিকে আমার পরিধেয়র ভিতর হইতে সাধের কইমাছখানা বারবারমাথা উচুঁ করিয়া জানান দিতে লাগিলো যে, সে আর কিছুতেই সুস্থির থাকিতে পারিবে না। চুম্বকের বিপরীত মেরুর প্রতি আকর্ষণ নীতিকে সম্পূর্ণরূপে অবজ্ঞা করিয়া সে সব সময় সমমেরুর প্রতিই আকর্ষণ বোধ করিয়া থাকে। সে যাইহোক, কেতাদুরস্থ ফোনটা তখন কাকতালীয় ভাবে আমার প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীতটা বাজাইয়া শুনাইতে লাগিল- “ মোর ভাবোনারে কী হাওয়ায় মাতালো… দোলে মন দোলে অকারণ হরষে।। হৃদয় ও গগনে সজল ও ঘন, নবীন ও মেঘে… রসের ও ধারা বরষে।”

মনটা প্রফুল্ল হইয়া উঠিল। ওদিকে পরানপাখির আমার দিকে কোন খেয়াল নাই। তিনি আপন মনে তাহার প্রিয় কফিমগের ঠোঁটে ঠোঁট মিলাইয়া সমুদ্র দেখিতেছেন। এদিকে আমার শরীরে কামের আগুন ধরিয়া গিয়াছে। সে কি আর কিছুতেই বিছানায় থাকিবে? মোটেই না। আমার শরীর তো, ইহাকে আমার ভালো করিয়াই চেনা আছে। কম্বলের আচ্ছাদন হইতে শরীর বাবাজিকে মুক্ত করিয়া তাহার মনষ্কামনা পূর্ণ করিবার জন্যে পরানপাখির নিকট ছুটিয়া গেলাম। পরানপাখি তাহার  দুই হাত প্রশস্থ করিয়া জানালা ধরিয়া দাঁড়াইয়া আছে। আমি পিছন হইতে তাহাকে জড়াইয়া ধরিয়া তাহার পেশীযুক্ত শক্ত বুকের উপর আমার অশান্ত হাত দুইটা আলতোভাবে রাখিয়া আস্তে আস্তে চাপ দিতে লাগিলাম। ওমা! এ দেখি আরো শক্ত হইয়া উঠিয়াছে!

পরানপাখি ঘাড় ঘুরাইয়া আমায় কহিলো, “কি? ঘুম ভাঙ্গিয়াছে?”

আমি আদুরে গলায় কহিলাম, “হুম।”

–     “আমার শুয়াচান পাখিটা কি চায় তাহার জন্মদিনে? কি উপহার দিব তাহাকে?”

–     “তোমার শুয়াচান পাখিটা আদর পাইতে চায়। অনেক অনেক বেশি আদর। ”

–      “ওরে হতচ্ছারা, হইতেছেটা কী? কাল সারা রাত ধরিয়া এত্ত আদর করিবার পরও তোমার সাধ মিটে নাই?”

–     “উহু!”

–     “দাঁড়াও, দেখাইতেছি মজা। একদম সঙ্গাসহ উদাহরণ দিয়া আজিকে তোমাকে আদর কাহাকে বলে শিখাইয়া দিব।”

 এই বলিয়া পরানপাখি তাহার সাদা তোয়ালে খানা এক ঝটকায় খুলিয়া ফেলিলো। আমি তাকাইয়া দেখি, তাহার অজগরটা আমায় ছোবল মারিবার জন্যে ফোঁস ফোঁস করিতেছে। মনে পড়িয়া গেল ছেলেবেলায় বাল্যশিক্ষার বইয়ে পড়িয়াছিলাম, স্বরে-অ তে অজগরটি আসছে তেড়ে, স্বরে-আ তে আমটি আমি খাবো পেড়ে। কিছু বুঝিবার আগেই পরানপাখি আমাকে তাহার কোলে তুলিয়া লইলো। মুহুর্তের মধ্যেই আবার নিজেকে বিছানার উপর আবিষ্কার করিলাম।

পরানপাখি এইবার কাল বিলম্ব না করিয়া আমার উপর তাহার পেশীবহুল বলিষ্ঠ শরীরখানা আছড়াইয়া ফেলিলো। যেন হঠাত একটা জোয়ার আসিয়া আমার উপর আঘাত হানিলো। আলতো করিয়া আমার মুখটাকে তাহার ফরসা, লম্বা হাত দুইটা দিয়া টানিয়া তাহার  মুখের কাছে লইয়া গেল। আমি আবেগে আপ্লুত হইয়া মনের অজান্তেই চোখজোড়া বন্ধ করিয়া ফেলিলাম। ভিতরে ভিতরে হৃদকম্পণ বাড়িয়া যাইতে লাগিলো। একটু পরে ঠাহর করিতে পারিলাম, পরানপাখি আমার ঠোঁটজোড়া কমলার কোঁয়ার মতো করিয়া চুসিতেছে। বেহায়া শরীর আমার বিদ্যুতস্পৃষ্ট হইয়া গেলো যেন। আমি আর তখন আমার মাঝে নাই। পরানপাখির খেলার পুতুলে পরিণত হইয়া গিয়াছি। সে যাহা ইচছা আমার সহিত করিতে লাগিলো। হ্যাঁচকা টানে আমার পরিধেয়সে যে কোথায় ছুঁড়িয়া মারিলো, আমি তখন তাহা বলিতে পারিনে। পারিবোই বা কী করিয়া? আমি কী তখন আমার মাঝে আছি নাকি?

আস্তে আস্তে পরানপাখি আমার ঠোঁটের উপর হইতে দখল ছাড়িয়া নিচে নামিতেছে। গ্রীবা, স্কন্ধ সবকিছুর উপর তাহার একচছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করিয়া পরানপাখি আমার বুকের উপর আসিয়া আস্তানা গাড়িলো। এই কথা তাহার অজানা ছিলো না যে, ওই একটা জায়গাই হইলো আমার বেহায়া কায়ার দুর্বলতম স্থান। এদিকে কামানলে জ্বলিয়া পুড়িয়া আমি রীতিমত খাক হইতেছি কিন্তু ওইখান থেকে তাহার মুখ সরাইয়া দেই সেই সাধ্য কী তখন আমার আছে? অনেক ঠেলাঠেলি করিয়াও তাহার মুখ যখন সরাইতে পারিতেছি না, তখন সে একবারের জন্য মুখ উঠাইয়া কহিলো “কী? আরো আদর চাই?” আমি কহিলাম, “ঘাট মানছি। আর চাই না।”

মনে মনে ভাবিলাম এইবার বুঝি পরানপাখির আমার উপর দয়া হইল, কিন্তু কিসের কী? সে পুর্ণ উদ্যমে আরো নিচের দিকে নামিতে থাকিল। নামিতে নামিতে আমার নাভির উপরে আসিয়া সে এইবার তাহার জিভ বাবাজিকে দিয়া এমন খেলা দেখাইতে লাগিলো যে, আমি তাত্‌ক্ষনিকভাবেই বুঝিতে পারিলাম আজিকে আর আমার রক্ষা নাই। আমার পাতলা কোমড়ের বাঁকা হাড় দুইখানি দুই হাতে ধরিয়া পরানপাখি এইবার যে কোথায় নামিলো, সেই কথা আর মুখে আনিতে পারিতেছি না। আচ্ছা, আমার বুঝি লজ্জা করে না! উহাকে অনেক চেষ্টা করিয়া ওইখান হইতে সরাইলাম। দেখি টকটকে ফরসা পরানপাখিটা আমার অনেক্ষন যাবত চুম্বন কার্য করিতে গিয়া নিজেই টমেটোর মত লাল হইয়া গিয়াছে। এরপর সে যে আর কী কী ভাবে আমাকে আদরের সঙ্গা উদাহরণ সহিত শিখাইতে লাগিলো সে কথা আর মুখে আনিতে পারিনে।

বিশাল এক জলোচ্ছ্বাস বহিয়া গেলো হোটেল সী গাল এর ৩ নম্বর স্যুইটে। একটু পরে নিজেকে পরানপাখির বাহুবন্ধনে আবদ্ধ অবস্থায় পাই। দুইজনে আনমনে গড়াগড়ি দিতে থাকি।  

গড়াইতে গড়াইতে ধপাস্‌ করিয়া বিছানা হইতে নিচে পড়িয়া মাগো… বলিয়া যেই না একখানা চিত্‌কার দিলাম, দেখি পরানপাখি আমার ফুড়ুত করিয়া উড়াল দিয়া কোথায় যেন চলিয়া গিয়াছে। আর আমি আমার সাধের কোলবালিশখানা জড়াইয়া ধরিয়া মাটিতে পড়িয়া আছি। হোটেল সী গাল এর এ হেন শ্রী দেখিয়া বিস্মিত হইলাম। কিয়তকাল পরে ঠাহর করিতে পারিলাম যে ইহা হোটেল সী গাল তো নয়ই, বরং হোটেল আল-ছালাদিয়াও নয়। ময়লা কাপড় আর পুস্তকে ঠাসা আমার গুমোট কামরা।

রানের কাছে কী যেন ভিজা ভিজা লাগিতেছে। বুঝিলাম সমস্ত অত্যাচার লুঙ্গি বেচারার উপর দিয়াই করিয়াছি। এক জায়গায় এখনো পুরু ভাতের ফেনের মত ফেদা লাগিয়া রহিয়াছে। আরো নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান চালাইয়া দেখিলাম লুঙ্গি বেচারার আরো দুই যায়গায় ফেভিকলের আঠা জমিয়া একদম শক্ত হইয়া রহিয়াছে। হায় হায় এ কী কান্ড করিলাম! স্বপ্নদোষ ঘটাইয়া ফেলিলাম? তাও আবার একবার নয়, দুইবার নয়, তিন তিন বার? রাগে ক্ষোভে নিজের মাথায় নিজেই জোরছে এক চাটি বসাইয়া ভর্তসনা করিয়া কহিলাম, “ আহা! সখ কতো! ব্যাটা উল্লুক কোথাকার! যেই না আমার থোবড়া… তাহা লইয়া আবার বিখ্যাত সৌন্দর্য্য পেশাজিবী ও অভিনেতা আরেফীন শুভর সহিত প্রেম করিতে চাহিস!”

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.