আকাশের মেঘ

লেখক :- সাদ

খোলা জানালা। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে আর সাথে হালকা ঠান্ডা বাতাস। এমনই এক দিনে দেখা হয়েছিলো তোমার সাথে। সন্ধ্যায় ঝিরিঝিরি বৃষ্টি নামলেই আমাকে কিছু না পাওয়ার অপ্রাপ্তি এসে ভর করে,এটা কি অপ্রাপ্তি নাকি অন্যকিছু ভেবে পাই না।

আমি আকাশ। খুব সাধারণ কিন্তু আসলেই কি তা সেটা জানি না,কিন্তু তার কাছে সাধারণ ছিলাম তাই আজও তাই চেষ্টা করি। ছোটবেলা থেকে আমি রিজার্ভ আর গোমড়া মুখো ছিলাম। কিন্তু এই গোমড়া ছেলেও মায়ায় পড়েছিলো….অদ্ভুত মায়া….মায়াজাল❤❤

একদিন সন্ধ্যায় বাসের জন্যে দাঁড়িয়ে আছি। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। এমন সময় আচমকা সে এসে দাঁড়ালো আমার সামনে। এক পলক দেখতেই আমি অবাক। এ যেন বিধাতার আপন হাতে তৈরী–চোখে চশমা,মুখে হালকা দাড়ি আর সাথে হালকা কার্ল চুল😍😍সে রুমাল দিয়ে চুল থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করছিলো। বৃষ্টির পানি পেয়ে সেগুলো যে নবযৌবন লাভ করেছে।আমি সিগারেট ধরিয়েছিলাম। ধোঁয়া তে মে বি তার কষ্ট হচ্ছিলো তাই বার ধোয়া তাড়ানোর ট্রাই করছিলো। আমি যে মানুষ পুরাটা শেষ না করে সিগারেট ফেলি না আজ আমি তা করলাম না,ফেলে দিলাম। পানি পড়ে আগুন নিভে যেমন ধোঁয়া মুক্তি পায় তেমন আমার হৃদয় একটা শান্তি পাচ্ছিলো ওই মুখখানা দেখে। হঠাৎ কিছু ভেবে সে হাসলো।

আল্লাহ এতো সুন্দর!!! হালকা আঁকাবাঁকা দাঁতে হাসিটা আরও বেশি মিষ্টি লাগছিলো। মাশাল্লাহ❤❤❤যেন সদ্য বালকত্ব পেড়িয়ে সে যৌবনে পা দিয়েছে…..

এমন সময় বাস আসলো আর সে উঠে গেলো। আমি ভাবছিলাম তারে গিয়ে আটকাই আর বলি–“আমার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলো,

আমি শুনবো।

অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইবো।

তারপর??

তারপর ভালোবাসায় হারিয়ে যাবো।”

এসব ভাবতে ভাবতে বাস বেরিয়ে গেলো আর আমি বোকার মতো বসে রইলাম। আমি তো পারতাম তার পিছু নিতে কিন্তু নিলাম না কেন?

বাসায় ফিরেও সেই মুখ ভাসতে লাগলো।এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছিলো। নিজেরে জিজ্ঞেস করলাম–” কেন এমন হচ্ছে?”

উত্তর এলো–” হৃদস্পন্দন।”

তবে কি আমি প্রথম দেখাতেই তারে ভালোবেসে ফেলেছি?? আগেও অনেক ছেলেকে দেখে এট্রাকশন কাজ করেছে কিন্তু এটা যেন ভিন্ন। এই এট্রাকশনে নেই কোন কামুকতা,আছে তার মাদকতায় বুদ হয়ে থাকার মতো নেশা।

ভাবছিলাম আর কি পাবো তার দেখা? কিন্তু ভরসা পাচ্ছিলাম না।

পরদিন সকালে ভার্সিটি গিয়ে ক্লাস করে বের হয়ে ভাবলাম ক্যান্টিন এ গিয়ে লাঞ্চ করে নি। যেই ভাবা সেই কাজ। ক্যান্টিনে গিয়েই আমি স্তম্ভিত!!!! সেই ছেলেটি। হৃদয়ে মনে হয় শান্তির হাওয়া বইছিলো।

আমি গিয়ে তার সামনের সিটটায় বসলাম। সে আমার দিকে এক পলক দেখে চোখ সরিয়ে নিলো। নিয়ে একটা ডোন্ট কেয়ার ভাব দিলো।মেজাজ চড়ে গেলো। আমি কি দেখতে বাজে নাকি?

খাবার শেষ করে সে বই খুললো। বুঝলাম এ পড়া ছাড়া কিছুই বুঝে না। তাতে কি?? আমি চালিয়ে নিবো। আমি যে তার মায়ায় পড়েছি। কিন্তু আমার চাওয়াটা যে চাইলেই তাকে বলা যায় না…..এ যে সমসত্তা🙂😔….চাইলেই যে পাবো আর সেও যে এমন হবে তার গ্যারান্টি কি?

এভাবেই দিন যেতে লাগলো। কথা বলতে গিয়েও বলা হতো না। সে যখন যেখানে থাকতো বা যেতো ভার্সিটির আমি সেখানে থাকতাম। হয় একা যেতাম বন্ধু বান্ধব ছেড়ে নয়তো বা ফ্রেন্ড সার্কেল নিয়েই যেতাম আর তারে দেখতাম। ভাল্লাগতো খুব। কোনদিন নামটাও জানা হয় নি। কেমন মানুষ আমি!!!!

একদিন লাইব্রেরিতে বই পড়ছি আর তারে দেখছি। সে একটু দূরে বসে পড়ছে। হঠাৎ সে উঠে দাঁড়ালো আর আমার দিকে এগিয়ে এলো। এসে বললো–“বসতে পারি?”

আমি হকচকিয়ে গিয়ে বল্লাম–“হুম,বসো।”

সে–“আমি মেঘ। ১ম বর্ষে মাত্র ভর্তি হয়েছি।”

আমি–“আমি আকাশ। ২য় বর্ষ চলে।”

সে–“কিছু না মনে করলে একটা কথা বলবো?”

আমি তো ঘামা শুরু করছি। আবার ভালোও লাগছে। নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম–“বলো কি বলবে।”

সে–“আমি কয়েক দিন থেকে দেখছি আপনি আমার আশেপাশেই থাকছেন। জানি না এটা কোইন্সিডেন্টলি নাকি ইন্টেনশনালি হচ্ছে? কিন্তু হচ্ছে। যাই হোক যদি ইচ্ছে করে হয়ে থাকে তবে আপনি কি আমায় কিছু বলতে চান??”

আমি অনেক কিছু বলতে গিয়েও পারলাম না। গলা শুকিয়ে গেছে। গলা দিয়ে কিছুই বের হলো না। শুধু বললাম–“আমার ক্লাস আছে,আসি।”

বলে বেরিয়ে আসলাম।

এরপর বেশ কয়েকদিন আমি আর তার সামনে যাই নি। তারে দেখলেই এড়িয়ে যেতাম। বেশ কিছুদিন যাবার পর ফোনে একটা টেক্সট আসলো–” আপনি প্লিজ এভাবে দূরে যাবেন না। চারপাশ কেমন ফাকা ফাকা লাগে। আপনি থাকলে কেউ যদি নাও থাকে তবু কিছু ভালো লাগা কাজ করে। আমার ওভাবে হুট করে জিজ্ঞেস করা ঠিক হয় নি। সরি….”

আমি বুঝলাম না সে নাম্বার পেলো কিভাবে!!! আবার ভিতরে ভালো লাগাও কাজ করছিলো তার কাছে এসব শুনে।

পরদিন গিয়ে দেখা করলাম। আমাকে দেখেই সে দৌড়ে আসলো। এসে বললো–” কেন করছিলেন এমন? আপনি রেগুলার আমায় দেখতেন। সাথে আমিও দেখতাম। বুঝতেন কি?? বুঝতেন না।” আমি অবাক হয়ে শুনছি তার কথা। সে বলেই চলেছে–“আপনার চোখ যা বলে তা আমি বুঝি। কিন্তু আপনি কিছুই বলেন না। তাই আজ আমাকেই বলতে হবে। ওই চোখে আমি যে ভালোবাসা দেখেছি তা মিথ্যে নয়। ভালোবাসেন আমায়??”

আমি কি বলবো কিছুই বুঝছিলাম না,সব তাল গোল পাকিয়ে যাচ্ছিলো। শুধু মুখ দিয়ে বের হলো–“হুম।”

শুনে সে হালকা হেসে বললো–“ক্লাস আছে,যাই।”

বলে চলে গেলো আর আমি বোকার মতো দাঁড়িয়ে রইলাম। আমি তো এতো বোকা ছিলাম না। আজকাল কিছুই বলতে পারি না। মানুষ কি তবে প্রেমে পড়লে বোকা হয়!!!!!

সেদিন রাতে সে আরেকবার টেক্সট করলো–” আপনার অপূর্ব চোখ,দাড়ি-গোফ,নাক,ঠোঁট স্রষ্টা যেন মন দিয়ে গড়েছেন। আমি ওই চোখে অনেক ভালোবাসা দেখেছি। সেই ভালোবাসা কে ভালোবাসি আমি…..।” আমি রিপ্লাই করলাম–” তোমার চোখের চাহনিতে হয়েছি ঘায়েল আর ভালোবাসি তোমার ওই আকাবাকা দাঁতের হাসি। ছুয়ে দেখতে চাই তোমার চুল গুলো আর অপলক দেখতে চাই ওই চোখ। ভালোবাসি…..যেদিন প্রথম বাস স্ট্যান্ডে দেখেছি সেদিন আমার আমিকে তোমাতে হারিয়েছি….হারতে চাই আরও…. “

তারপর শুরু হলো আমাদের গল্প। এ যেন এক নতুন গল্প। আমার গোমড়া মুখে হাসি ফুটানোর গল্প। তার সাথে পাশাপাশি বসে গল্প করা,তার চোখে চোখ রাখা,হাত ধরে অজানা গন্তব্যে হারিয়ে যাওয়া। এভাবেই দিন যেতে লাগলো।

কোনদিন কামুকতা স্পর্শ করে নি। অনেকেই এই রিলেশন কে বোর ফিল করার মতো ভাববে কিন্তু আমরা তা করতাম না। প্রত্যেকটা দিন নতুন লাগতো। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে “ভালোবাসি বাবুই” বলা; সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে “শুভ সকাল বাবুই” বলা এগুলোই যেন অভ্যেসে পরিনত হয়েছিলো। তার হাসিতেই আমার হাসি আর আমার হাসিতে তার। কোন এক বিকেলের নরম রোদ তার চোখে এসে পড়লে তার চোখ থেকে চশমা খুলে নেয়া যাতে সে দেখতে না পায় আমি অবাক হয়ে দেখছি তার চোখ আর তার এলোমেলো চুলে চশমার নিচে যে সমুদ্র আমি দেখেছি তা উপেক্ষা করা দায়।

এভাবেই কেটে গেলো ৮ মাস। সব ভালোই চলছিলো,

অনেক ভালো ছিলাম আমরা। কোন খারাপ লাগা বা অপূর্ণতা ছিলো বলে মনে হয় নি এই ৮ মাস। সব যেন অনেক রঙিন ছিলো। একদিন-

মেঘ–” বাবুই আমাকে কিছু দিনের জন্যে গ্রামের বাড়ি যেতে হবে।”

আমি–“কেন?”

“একটু কাজ আছে।”

“কতোদিনের জন্যে যাবে?”

“এই ৭ দিনের জন্যে।”

“আল্লাহ!!এই ৭ দিন কিভাবে থাকবো আমি তোরে ছাড়া!!!”

“থাকতে না পারলে চলে আসবি রাজশাহী।”(মেঘ ঢাকার স্থানীয় ছিলো না।)

“ঠিকানা তো জানি না”

“খুজে নিবি তুই আমায়।”

বলার পর দিনই সে চলে গেলো। কিন্তু যাবার পর থেকেই সে চেঞ্জ। আগের মতো টেক্সট,ফোন দেয় না। ৭ দিন চলে গেলো কিন্তু সে ফিরলো না। আমার তো উথাল পাথাল অবস্থা। ফোন দিলে নাম্বার বিজি, ফোন ধরে না,টেক্সটের রিপ্লাই করে না। সব কেমন যেন লাগছিলো। আমি মিস করছিলাম ওরে খুব করে।আগের সেই মেঘ কে খুজছিলাম আমি।এরই মধ্যে ওর টেক্সট আসলো–” আমি তোমার সাথে আর রিলেশন রাখতে পারবো না। মাফ করে দিও আর ভালো থেকো। তোমার সাথে থাকা আমার পক্ষে পসিবল না। আমি তোমার সাথে হ্যাপি না।” আমি রিপ্লাই করলাম “কেন?”। কিন্তু উত্তর এলো না। ফোন দিলাম;দেখলাম অফ বলে। ফেবুতেও ব্লক (আদৌ কি ব্লক?!!)

আমার জানার সুযোগও হলো না কি আমার দোষ!!! কোথায় ছিলো আমার অপূর্ণতা!!!আমি কি ভালোবাসতে পারি নি?? নাকি আমার আমার ভালোবাসায় ঘাটতি ছিলো!!! আমি তো কম ভালোবাসি নি,প্রাণ দিয়ে বেসেছি। তবু কেন ছেড়ে গেলো আমায়। এসব ভেবে চোখ দিয়ে পানি পড়তো।

কেটে গেলো প্রায় ৩ মাস বা তারও বেশি। তার সাথে আর যোগাযোগ হয় নি। আমি তো পাগল প্রায় তারে হারিয়ে। খাই না,ঘুমাই না। মা বলে নেশাখোর হয়েছি😂😂।দিনে ১৮-২০ টা সিগারেট👌👌।তাও শান্তি পাইতাম না;শুধু ওই নিষ্পাপ মুখ ভাসতো আমার সামনে। জানতে ইচ্ছে হইতো আমার ভুল কি ছিলো,কি দোষ ছিলো। সে আর ভার্সিটিতেও আসে নাই। খোজ নিয়ে জেনেছি ভর্তি বাতিল করেছে দেশের বাইরে যাবার জন্যে। তবে কি সে এমন কাউকে পেলো যারে নিয়ে দেশের বাইরে সুখে আছে!!???

ঢাকায় যেখানে থাকতো সেখান থেকে বলা হলো বাসা চেঞ্জ করে চলে গেছে।

অবশেষে রাজশাহী যাবার জন্যে মনস্থির করলাম।অনেক আগেই যেতে হইতো কিন্তু দেরি হয়েছে আর দেরি করা উচিত না। জানতে হবেই কারণ আমাকে।

ভার্সিটি থেকে বহুত কষ্টে ঠিকানা বের করলাম।

রাজশাহীর সুতিরহাটে তাদের বাসা। চলে এলাম এক দুপুরে। দুপুরটা বেশ ছিলো–নীল আকাশ,সাদা মেঘ আর সেই ঝিরিঝিরি বাতাস।

গ্রামে এসে মেঘ বলতেই সবাই চিনলো। বাড়ি চিনিয়ে দিলো একজন।

গ্রামের মাঝে আধা পাকা বাড়ি। গিয়ে ডাক দিতেই ওর বাবা আর বোন বেড়িয়ে এলো। আমি সালাম দিলাম। সালাম নিয়ে—

আঙ্কেল–“কে বাবা তুমি?? ঠিক চিনলাম না তো। কাকে চাচ্ছো?”

আমি–” আমি আকাশ। এটা কি মেঘের বাড়ি মানে মুরাদুর রহমান মেঘ??”

মেঘের নাম শুনতেই তার মুখ কালো হয়ে গেলো।

বললেন–“হুম।” 

আমি–” আমি ওর ফ্রেন্ড। ওর সাথে দেখা করতে এসেছি। ও কি বাসায় আছে??”

আবার সেই “হুম” শোনা গেলো।

আমি বললাম”ওকে একটু ডেকে দিন। আমি কথা বলেই চলে যাবো।”

তিনি মেয়েকে আমাকে মেঘের কাছে নিয়ে যেতে বললেন। ওর বোন বললো–“আসেন আমার সাথে।”

বলেই হাঁটা দিলো। আমিও গেলাম পিছু পিছু। কিন্তু এই মেয়ে আমায় কই নিয়ে যায়!!!! বাসায় না নিয়ে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায় কেন!!!!! 

সে আমায় যে যায়গায় এনে দাঁড় করালো তার জন্যে আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। একি দেখছি আমি!!!!!!!!!!!! আমি তো ভেবেছিলাম ঘরে বসে কথা বলবো মেঘের সাথে,জবাব চাইবো তার কাছে যে কি ভুল আমার!!!! কিন্তু এ কোন ঘরের সম্মুখীন আমি!!!! আমার পায়ের নিচের মাটি যেন কেপে গেলো…….

আমার সামনে সুন্দর করে বাধানো একটা কবর। তার পাশে সদ্য ফুলে ভরে ওঠা শিউলি ফুলের গাছ। ফুলগুলো কবরের উপর ঝড়ে পড়ে বেশ ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে আর যেন মেঘের সেই ঠোঁট আর চোখ কে সাক্ষী করে রেখেছে আর ঘ্রাণ যেন তার শরীরের গন্ধের যোগান দিচ্ছে আর ঝিরিঝিরি বাতাস যেন কানে কানে বলছে “ভালোবাসি বাবুই”….আমার ২ চোখে বাধ ভেঙে জল আসছে কিন্তু বের করতে পারছি না,পা দুটো কাপছে কেন?? আমি কি স্বপ্ন দেখছি??? দুঃস্বপ্ন!!!!???? কবরের গায়ে তার নামের সাথে লেখা  “আকাশের মেঘ”❤❤❤।

চোখের পানি অজান্তেই গড়িয়ে গেলো। 

ওর বোন বললো–” ভাইয়া গত ২ মাস আগেই ব্লাড ক্যান্সারে মারা গেছে।” এটা শুনে আমার হৃদস্পন্দন টাও থেমে গেলো। এসব কি শুনছি আমি!!!! যে হৃদস্পন্দন সেদিন শুরু হয়েছিলো আজ যেন সেটা কেমন আর্তনাদ করছে। 

মেয়েটি–“ভাইয়া মারা যাবার আগে খুব একা থাকতো। আর আকাশের দিকে তাকিয়ে উদাস মনে কি সব বলতো আর লিখতো।”

আমি–“লিখতো!!!”

“হ্যাঁ,ডায়েরি তে।”

“আমি কি পেতে পারি???”

“হ্যাঁ, অবশ্যই। মারা যাবার আগে বলেছিলো কেউ যেন না পড়ে সেটা। আর কোনদিন যদি ‘আকাশ’ নামের কেউ কোন কারণে আসে তবে তারে দিবি এইটা। “

“দাও আমায়।”

কিভাবে যে বাসায় ফিরে এসেছি তা জানি না। একটা ঘোরের মতো লাগছিলো সব যেন। ওই কবর যেন চোখের সামনে ভাসছে আর ভাসছে মেঘের ওই নিষ্পাপ মুখ। কানে বাজছিলো সেদিনের বলা কথা গুলো।

নিজেকে সামলে নিয়ে ডায়েরি টা খুললাম। পড়তে পারি নি সব। একটা পৃষ্ঠার ভাজে কিছু ফুল ছিলো।

সেটা দিয়েই শুরু করলাম–

” প্রিয় আকাশ,

আজ তোর সাথে আমার কোন যোগাযোগ হয় না রে। খুব বড্ড একা লাগে রে তোকে ছাড়া। ফিল করি সব সময়। আমি চাই নি আমার এই খারাপ সময়টা তুই দেখিস তাই চলে এসেছি নিজেকে আড়াল করে। আর কোনদিন হয়তো কথা হবে না,হবে না এই চোখে তোর চোখ রাখা,হবে না সেই হাতে এই হাত রাখা। আমার অনেক ইচ্ছে ছিলো রে। এ জীবনে আর পূরণ করা হলো না আমার বাবুই। ভালো থাকবি তুই অনেক,আচ্ছা??? জানি ভুলতে কষ্ট হবে। কিন্তু অসম্ভব তো নয় বল।  আমি সেদিন ওইভাবে বলেছি কারণ যাতে তুই আমার ওপর ঘৃণা এনে আবার নতুন কারও মায়ায় পড়িস। আমি তো শুধু তোকেই ভালোবাসি বাবুই। আর আমি তোর সাথেই ভালো ছিলাম,চেয়েছিলাম বাকি সময় টুকু তোর সাথেই কাটাতে কিন্তু তোর এই কষ্ট আমি সইতে পারবো না। তাই চলে এসেছি আর বাজে বিহেভ করেছি খুব। ক্ষমা করিস রে বাবুই। জানি না কোনদিন এই লেখা গুলো তোর পড়া হয়ে উঠবে কিনা। যদি পড়িস তবে মাফ করিস। তোর ভালোবাসার আকাশে আমি না হয় মেঘ হয়েই রয়ে গেলাম যেখানে ছুঁতে গেলেও পারবি না আমায়, মিলিয়ে যাবো।”

চোখে কিছু দেখছি না আর। সব যেন ঝাপসা। চোখ টা বন্ধ করে বললাম–

” একটিবার বলতে পারতি। দেখতি তোর সব ইচ্ছে না হোক কিছু চাওয়া পূরণ করতে ব্যস্ত হইতাম। আর তুই এভাবে চলে গিয়ে আমারে বড় দোষী করে গেছিস। ভুল বুঝেছিলাম তো রে পাগল তোরে। তুই মাফ করিস আমায়। আজ আমার ভালোবাসা তোর ভালোবাসায় নীল হয়ে গেছে যেমন নীল ছিলো আজকের আকাশ, আজ আমি আকাশ বড্ড নীল তোর চলে যাবার বেদনায়। কিন্তু হারায় নি তোরে আমি। তুই আছিস আমার এই হৃদয়ে,আমার নীল আকাশের মেঘ হয়ে…………….”

“ভালোবাসি ভালোবাসা…….”


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.