প্রণয়ন

লেখকঃ আরভান শান আরাফ

মানুষ তার সারা জীবনে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসের অনুসন্ধান করে তাকে সহজ ভাষায় বলে সুখ। আমি,তুমি, সে। আমরা সবাই এই সুখ লাভের জন্য কত কিছুই না করি। তবো ও কি সুখ পায়? ক্ষণিকের জন্য হয়তো সুখের উপলব্ধি করতে পারি কিন্তু পূর্ণ অর্থে সুখ যাকে বলে তা কি খুব সহজে পাওয়া যায়? আমার বাবা বলতেন, শোন আবির,সুখি হওয়ার চেষ্টা করবি না। তাতে অসুখি ই হবি। বরং কাউকে সুখ দেওয়ার প্রয়াস করবি, এতে দেখবি সুখ খুব দ্রুত ধরা দিবে তোর জীবনে।

মুখন্দপুর গ্রামের হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন আমার বাবা। তার বিচার, বুদ্ধি আর জ্ঞান সব আমাকে মুগ্ধ করতো। তার মত হওয়ার চেষ্টার ত্রুটির ঘাটতি ছিল না।তবো ও তার মত হতে পারিনি।
বাবা মারা গিয়েছিলেন শীতে।সুস্থ্যই ই ছিলেন।স্কুল থেকে ফিরে গরম পানি দিয়ে ওযু করলেন। মাগরিবের নামাজ শেষ করে আমার রুমে আসলেন। আসন্ন অনার্স ফাইনাল বর্ষের পরিক্ষা সম্পর্কে কথা হল। তখন ও বুঝতে পারিনি যে, বাবা অসুস্থ্য। রাতের খাবার ঠিকমত না খেয়ে ই নিজের রুমে চলে গেলেন। বড় ভাইয়া ফোন করলেন জার্মান থেকে, কথা না বলে বিছানায় চলে গেলেন।মাঝরাতে আপু ডেকে বলল, আবির উঠ। বাবা যেন কেমন করতেছে। আমি উঠে যেতে যেতে বাবা মারা গেলেন।রুমে মা একা ছিলেন।
বাবার মৃত্যুতে আমাদের পরিবারের কাঠামো ভেঙ্গে পড়লো। আপু শুশ্বড় বাড়িতে সেটেল, ভাইয়া মাকে চিকিৎসার জন্য তার কাছে নিয়ে গেছে। সারা বাড়িতে আমি একা।
একা বলা যাবে না। বাবার পোষা ময়না পাখিটা সারা দিন নাম ধরে ডাকে। রসুল কাকা আছে।তার স্ত্রী আর এক ছেলে বশির আছে। আপাতত সব কিছু তারা ই দেখাশোনা করছে। আমার আর কি? সারা দিন ঘুরে বেড়ানো।
গতকাল মেম্বার কাকা ডেকে পাঠিয়েছিলেন। হাই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে জয়েন দিতে বলেছে। আমার পড়ানোর ইচ্ছে নেই। কিন্তু তিনি যেভাবে বললেন, মানা করার উপায় নেই। এই অল্প বয়সে শিক্ষক হয়ে যাওয়া? কেমন লাগবে আমাকে?আমি কি পারবো বাবার মত হতে? কে জানে কী হয়?, ভাইয়া আর আম্মা দু জন ই সম্মতি দিয়েছে। বাকিটা আমার ইচ্ছে। এই সময় বাবা থাকলে ভাল হত। একটা পরামর্শ নেওয়া যেতে পারতো। বাবা নেই, তাই আমার জীবনের সিদ্ধান্তগুলো এমন দ্বিধাময়।
উপেক্ষা করতে পারিনি। গণিতের শিক্ষক হিসেবে জয়েন দিলাম স্কুলে। সাতাশ বছর বয়সে ই টিচার। জিন্স পড়ে,টি শার্ট পড়ে শিক্ষক হিসেবে যেদিন জয়েন দিলাম সেইদিন নিজেকে কেমন প্রবীণ প্রবীণ লাগছিল। হুট করেই মনে হচ্ছিল, আমার বয়স যেন পঞ্চাশের কম হবে না। প্রথম দিন ক্লাস টিচার হিসেবে ঢুকিয়ে দিল নবম শ্রেণীতে। বড় বড় ছেলেরা। দু একজনকে আগের থেকেই চিনি। যাদের চিনি তারা শেষ বেঞ্চের ছাত্র। যাদের চিনি না তাদের মধ্য একজন ছিল অহীন। প্রথম দিনের ক্লাসেই বুঝে গিয়েছিলাম, তার মত মেধাবী ছাত্র আর হয় না। দাঁড় করিয়ে যখন জিজ্ঞেস করলাম -তুমি বলতো, শূণ্য গুণ বাইশ সমান কত? সে এদিক ওদিক তাকিয়ে আমার চোখ বরাবর চোখ রেখে বলেছিল -বাইশ।
না হেসে উপায় ছিল না। অসাধারণ মেধা। এত মেধা যে, তার মত ছাত্রকে ক্লাস ওয়ানেই মানায় বেশি। যাক সেই সব হতাশার কথা। বাবা বলতেন, সবচেয়ে দুর্বল ছাত্রকে যে গড়ে তুলতে পারে সেই ই প্রকৃত শিক্ষক। আমি প্রকৃত শিক্ষক হওয়ার চেয়ে আর কিছু কঠিন ভাবতে পারিনি।
কিছু দিনের মধ্যেই সুখ উবে গেল।প্রকৃত শিক্ষক হওয়াটা স্বপ্নের মত লাগতে লাগলো।এই ২৫-২৬ বছর বয়সে শিক্ষক হয়ে যাওয়া দুর্বিষহ মনে হল। কয়েকবার ভেবে ছিলাম ছেড়ে দিব কিন্তু পরক্ষণেই মনে হল, এইভাবে হাল ছেড়ে দিলে আর যাইহোক বাবার মান থাকে না। তাই লেগে পড়লাম।যা করে আল্লাহ।
বিকেলে মনটা কেমন করে উঠল। উত্তরপাড়া থেকে একটু ঘুরে আসলে মন্দ হয় না ভেবে যখন ঘর থেকে বের হলাম তখন ই পথের মধ্যে অহীনকে তার সাইকেল নিয়ে  দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম।সালাম দিল, আমি সালামের প্রতিউত্তর দিলাম।অহীনের বয়সে আমি ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেছিলাম আর সে ক্লাস নাইনে। দেখতে ছেলেটা বেশ সুন্দর। একটু বখাটে টাইপের তবে আমার প্রতি তার ভক্তি আমাকে তার দিকে টানে। কেন টানে তার উত্তর জানা নেই। তবে তাকে গড়ে তুলার প্রবল আগ্রহ কাজ করে আমার মধ্যে। আমি তার প্রতি দুর্বল।কেন দুর্বল তার জ্ঞান আমার অজ্ঞাত।
অহীন এগিয়ে আসলো

স্যার কোথায় যাচ্ছেন?
-উত্তরপাড়া। তুমি বিকেলে এই দিকে কী কর?
-জি মানে,
-বাসায় যাও। বই নিয়ে দেখ পৃষ্ঠাগুলো ঠিক আছে কি না।
-আপনার কাছে যাচ্ছিলাম।
-কেন? কোন অসুবিধা?
-না,ঠিক অসুবিধা নয়। আব্বু বলছিল একবার যেতে।
আমি ভাবনায় পড়ে গেলাম। হঠাৎ ওর আব্বু আমাকে ডেক পাঠাবে কেন?
-কবে যেতে বলেছে?
-এক সময় গেলেই হয়। আপনার সময় মত।
-আচ্ছা আমি যাব।
বলে হাটা দিলাম। খানিক হেটে মনে হল, অহীন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ইচ্ছে হচ্ছিল একবার ফিরে তাকাতে,কিন্তু তাকায়নি।
অনেকটা ঘাটের মরা টেনে আনার মত আমার কাধে অহীনের বাবা অহীনের দায়িত্ব দিয়ে দিল। প্রতিদিন সন্ধ্যায় অহীনকে পড়াতে হবে। মানা করেছিলাম কিন্তু অহীনের আম্মু কেঁদে কেটে বিশ্রী অবস্থা। ওনার অনুরোধে শেষমেশ রাজি হয়ে গেলাম।
স্কুল, টিউশন আর বিরক্তি । এই তিনে চলছিল জীবন। সারাদিন স্কুল করে সন্ধ্যায় অহীনকে পড়াতে যাই।অদ্ভুত ছেলে বটে। পড়ার সময় রাজ্যের গল্প।শাসন বারণ কোন কিছুই তাকে আটকাতে পারে না। তার বলতে ইচ্ছে হয়ছে বলবেই। মাঝে মাঝে ভাল লাগতো আর মাঝে মাঝে বিরক্ত।
তবে পড়ার প্রতি সে মনযোগী হচ্ছিল ধীরে ধীরে।আজকাল আগেবাগে পথে এসে দাঁড়িয়ে থাকে। বন্ধুদের সাথে দল বেধে যাওয়ার বদলে আমার সাথে যায়। যেতে যেতে টুকটাক কথা হয়। খেয়াল করছিলাম তার মধ্যাকার পরিবর্তন। আমার প্রতি তার এই ভক্তির কী নাম দিব? সম্মান নাকি অন্য কিছু?
ঐদিন মাঝরাতে বাড়ির সামনে ঘুরঘুর করতেছিল।রাত তখন দুইটা। ভাইয়ার সাথে কথা বলে বের হতেই দেখি রাস্তায় পায়চারী করতেছে। আমাকে দেখে দৌড়ে কাছে আসলো। এক পলকে তাকিয়ে রইল। আমি অবাক হয়ে তার কাণ্ডকারখানা দেখছিলাম।অনেকক্ষণ পরে আমি জিজ্ঞেস করলাম
-এত রাতে রাস্তায় কেন?
-ঘুম আসতেছিল না।
-ঘুম না আসলে এত দূর চলে আসতে হবে?
সে নিশ্চুপ হয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে ছিল। ইস,কি মিষ্টি লাগতেছে ছেলেটাকে। ইচ্ছে করছিল একটু ছোঁয়ে দিতে। মনকে প্রশ্রয় না দিয়ে অহীনকে বললাম
-যাও, বাসায় যাও। দেখবে ঘুম চলে আসবে ।
সে জ্বি আচ্ছা বলে চলে গেল। আমি তাকিয়ে রইলাম।বুকটা কেমন জানি করে উঠল।

শীতের সময় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। দেখতে দেখতে এক বছর চলে গেল। অহীন ক্লাস টেনে উঠবে। ওর অগ্রগতিতে আমি খুব খুশি। অনেক পরিশ্রম করেছে ছেলেটা। ও যত পরিশ্রম করেছে আমি তত ওর দিকে ঝুকেছি। আজ বলতে দ্বিধা নেই, অহীনকে আমার ভাল লাগে। এই ভাল লাগার কোন নাম হয় না। ভাল লাগা মাত্র ই ভাল লাগা।
এক্সাম শেষ। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ। রেজাল্টের বাকি দুই দিন। নবম শ্রেণীর মার্ক শীট আমার হাতে।রেজাল্ট দেখে আমি ”থ”। অহীন ভাল করবে জানতাম তবে এতটা আশা করেনি। আনন্দে চিৎকার করতে মন চাচ্ছিল। ইচ্ছে করছিল ছুটে গিয়ে তাকে বলি। হঠাৎ মনে হল, ছি, এসব আমি কী করছি? আমি ওর শিক্ষক। আমাকে এসব সাজে না ।
তখন জানুয়ারি মাস। প্রচন্ড শীত পড়েছে। এত সকালে বিছানা ছেড়ে স্কুলে যেতে মনে চাই না। তবু যাই। ঐদিন সন্ধ্যায়, কুয়াশায় ঢাকা ছিল সারা গ্রাম। আমি চাদর গায়ে দিয়ে অহীনকে পড়াতে গেলাম। অহীনের আম্মু চা দিয়ে গেল। অনেকক্ষণ বসে ছিলাম কিন্তু অহীন আসেনি। আধা ঘন্টা পড়ে সে কাঁপতে কাঁপতে ফিরলো। ফিরেই আমার পাশে ধপাস করে বিছানায় পড়ে গেল। আমি কাছে গিয়ে গায়ে হাত দিতেই দেখি গায়ে আকাশ পাতাল জ্বর। ডাক্তার আসলো, ঔষধ দিয়ে গেল। জ্বর কিছুটা কমলো। রুমে আমি আর অহীন। আমি অহীনের বিছানার একপাশে বসে রয়েছি। অহীন শুয়ে। হঠাৎ ও উঠে বসল। আমি অবাক হয়ে বললাম
-উঠলে কেন?
-বাতিটা অফ করে দিবেন প্লিজ?
-ঠিক আছে, আমি আসছি। বাতি অফ করে দিয়ে যাব। তুমি ঘুমানোর চেষ্টা কর।
আমি উঠে দাঁড়াতেই সে শক্ত করে আমার হাতটা ধরে বলল
-আপনি যাবেন না। আপনি গেলে আমি মারা যাব। আপনি থাকবেন।
আঠারো উনিশ বছরের একটা ছেলে এই কথা বলেই হাউ মাউ করে কেঁদে দিল। আমি বাতিটা অফ করে ওর পাশে এসে বসলাম। বেশি অন্ধকার ছিল না। বাহিরের আলো এসে ঘরে ঢুকছিল।
হঠাৎ, সব আলো নিভে গেল। দুজন ই একটা অদ্ভুত একটা জগতে ঢুকে গেলাম।মাথাটা কেমন করে উঠল। ভেতরটা কেঁপে উঠল। আমি আমার গলায় অহীনের চুম্মন অনুভব করলাম। সারা শরীর কেঁপে উঠল। মনে হল শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। বুকের হাড়গুলো কাঁপতে লাগলো। পিছন থেকে অহীন আমাকে জড়িয়ে ধরলো। কিছু বলার মত শক্তি খোঁজে পাচ্ছিলাম না। আমি ঘুরে ফিরলাম। অন্ধকারে অহীনের কপালে চুমু খেয়ে বললাম
-জ্বর খুব বেশি তোমার। শুয়ে থাকো। আমি আসছি।

সে ঝাপটে ধরে ঠোটে চুমু খেয়ে বসল। গরম ঠোটের চুম্মনে কী আহবান ছিল বুঝিনি। আমি এক পা ও নড়তে পারিনি। একটা সময় নিজেকে অহীনের সাথে বিছানায় সমর্পণ করলাম।
ঐ রাতে যা হয়েছিল তার পুর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। প্রথম প্রেমের প্রথম চুম্মনের পর সব যেমন নেশা নেশা লাগে তেমন ই মনে হচ্ছিল। পরক্ষণেই মনে হচ্ছিল যা হয়েছিল তা একদম ভুল। অন্যায়। আবার মনে হত, না ঠিক ই হয়েছে। অহীন এডাল্ট প্লাস যা হয়েছে উভয়ের সম্মতিতেই হয়েছে। আবার ভাবতাম, অহীন অসুস্থ্য ছিল। ওর মাথা ঠিক ছিল না। আমি তো সুস্থ্য ছিলাম। আমি কেন আটকালাম না? একটা অন্যায়বোধ, আরেকটা ন্যায় বোধ যখন আমাকে তলে তলে পিষছিল তখন টানা তিন দিন ঘর থেকে বের হয়নি।এর মধ্যেই শীতের খুব এক ভোরে অহীন এসে উপস্থিত। ঘুম ভাঙতেই দেখি সে পাশে বসা। আমি আসার কারন জিজ্ঞেস করলাম। সে কিছু না বলে মাথা নিচু করে বসে রইল। শীতে ও কাঁপছিল। আমি পুনরায় আসার কারন জিজ্ঞেস করায় কেঁদে দিল। খেয়াল করলাম ওর চোখে পানি। মনটা খারাপ হয়ে গেল। অদ্ভুত ভালবাসায় বুকটা ভরে উঠল। জড়িয়ে ধরে বিছানায় নিয়ে শুয়ে গেলাম।এক হাতে কম্বলটা টেনে শরীরের উপর দিতে দিতে বললাম, শীতে সাপের মত শীতল হয়ে গেছো। শুয়ে থাকো আমার সাথে।অহীন দুইহাতে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। ধরে বুকের পশমে চুমু খেয়ে বলল
-আপনি এমন কেন?
-কেমন?
-তিনদিন একটু ও দেখা করেন নি।
-তাতে কী হয়ছে?
-আপনাকে যে আমি ভালবাসি স্যার।
-ভালবাসো আবার স্যার বলে ও ডাকো আবার আপনি আপনি কর?
-আমি তোমাকে ভালবাসি।
আমি কপালে চুমু খেয়ে বললাম
-আমি ও ভালবাসি। তবে, আমাদের একটু সামলে চলতে হবে। এত ঘনিষ্ঠতা উচিত নয়।
অহীন কিছু না বলে আমার ঠোটে চুমু খেল। আমি অতি প্রেমে তাকে জড়িয়ে ধরলাম।
কখন কী হল বুঝিনি। জীবনে প্রথম ভালবাসার সুখ পেলাম। মনে হল, অহীনকে পেয়ে আমার জীবন তৃপ্ত।

আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখি।
আমি আছি জার্মান। ভাইয়া আর ভাবির কাছে।মা গত হয়েছেন দুই বছর। অহীন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ২য় বর্ষে। আমি এখানকার একটা কম্পানিতে চাকুরিরত।অহীনের সাথে কথা হয় না দুই দিন। ওর সময় নেই আজকাল। আমি ও জোর করি না। পড়াশোনা নিয়ে আছে। আমি ও তো ব্যস্ত। তবে দুই দিনে একদিন কথা হলে ও আমাদের চলে যায়। আমি জানি ও আমার আর অহীন ও জানে যে আমি তার। আর তো কিছু দিন। তারপরে ই ও এখানে চলে আসবে। ভাইয়া তো বলেছে। তাছাড়া ভাবি টিউলিপের পুর্ণ সম্মতি আছে। তিন বছর হতে চলল অহীনকে সরাসরি দেখি না। দীর্ঘ সময় হল ও আমার বুকে মাথা রাখে না। ভিডিও কলে যখন ও আমাকে বলে,একটু ছোঁয়ে দাও তো আমাকে। আমি তখন স্কিনে হাত রাখি। মন ভরে না। ইচ্ছে করে ঝাপটে ধরি। এই দীর্ঘ বিরহ কবে যে শেষ হবে। আমি তো কেবল অপেক্ষায়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.