আমি কেন টিভিতে নিউজ দেখি না

লেখক :- অন্যস্বর

জ্বী না, জাফর ইকবালের মত শিশুসুলভ উদাসিনতা, কিংবা আই হেট পলিটিক্স প্রজন্মের লেগ্যাসি ধারণ ইত্যাদি কোন কারণে নয়, বরং একান্ত ব্যক্তিগত, বলা ভালো মনোকষ্টগত কারণে আমি টিভিতে নিউজ দেখি না।
এটা এক কালো রাতের করুণ গল্প। একজনের সাথে গ্রায়ান্ডার থেকে পরিচয়, দুজন দুজনকে পছন্দ হলে পরে গ্রায়ান্ডার থেকে আরেকটু ব্যক্তিগত প্ল্যাটফর্মে আলাপ বয়ে আনা গেল। আমার যাকে বলে দূর্দান্তরকমে তাকে পছন্দ হয়েছে। জিম করা পেটানো শরীর(ফোলাফোলা মাসলওলা নয়), মুখখানা দেখতেও মাশাল্লাহ, হাবভাবে একদম মেয়েলি নয়, আবার কথা বলার ঢঙটাও সুন্দর। টানা কদিন বৃষ্টি শেষে রোদ উঠলে যেরকম ঝলমল লাগে তার গলার স্বর সেরকম উচ্ছ্বাসে ভরা। এরকম বটম পেলে কার না চেটেপুটে খেতে ইচ্ছা করবে?
বয়সে আমার চেয়ে একটু বড়, ওর গ্রাজুয়েশন শেষ, আমার তখনও অনার্স চলছে। ওর রুম্মেট, ক্লাসমেট খাওয়ার নানা গালগল্প, গালাগালঅল্প( কারণ খেয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছে) শেষে মাঝরাতে হঠাৎ আবদার আমার ডিকের ছবি তার চাই। এত সোহাগ দিয়ে, জোড়াজুরি করে বললো যে স্রেফ না, না করে পার পাওয়া গেল না। শেষে পাঠালাম বটে, কিন্তু ছবিটা আমার ইয়ের নয়, ইন্টারনেট থেকে মেরে দেওয়া। তাতেই হলো আপদ, – না, ধরা পড়ি নাই, সেটা হলেই বরং বেঁচে যেতাম। ছবি পাঠানোর পরে যা শুরু হলো তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।
আমি মানুষটা গৌণ থেকেও নগণ্য হয়ে গেলাম, তার ধ্যানজ্ঞান সব ওই পাঠানো ছবিটা ঘীরে। এত বড় ইয়ে সামলাই কিভাবে ইশশ, ইত্যাদি নানারকম রেটরিক প্রশ্ন। আমি নিজে দুঃশ্চিন্তায় পড়লাম। ছবিটা খুব সচেতনভাবে যাচাই করে পাঠাই নাই। পাঠানো ইয়েটা যে চোষ্যকামীদের মাথা নষ্ট করে দেওয়ার মত সাইজে বড় এইটা আমি হিসেবে নিতে পারি নাই। আবার এরকম সমীহ এবং মোহ জাগানিয়া মহান বস্তু আমার জাদুকা ঝাপ্পিতে নাই,ফলে এবার উপায় কী?
ওইরাতে কিছু একটা অজুহাত দেখিয়ে কোনমতে নিষ্ক্রান্ত হলাম।

পরের দিন একটু অবসরে পরিস্থিতি নিয়ে তলিয়ে ভেবে নিলাম। ইয়ের ছবিটা দেওয়ার পরে আমার প্রতি তার আগ্রহ অনেকগুণে বেড়েছে তা সত্য, কিন্তু মাঝের ফাঁকিটা তো সে জানে না। সিদ্ধান্ত নিলাম দেখা করতে নেওয়ার আগে তাকে সত্যটা বলে দিবো। রাতে গল্পের এক ফাঁকে বলে দিলাম ইয়া বড় ইয়েটা আমার নয়। এবং কার আমি জানি না। শুনে তার শকড তো অবশ্যই হওয়ার কথা, কিন্তু হাবভাবে খুব একটা বুঝতে দিলো না। বললো “উচিত হয় নাই ব্লা ব্লা ব্লা…এবার আসল ছবি দাও”।
বিবেকের তাড়নায় হোক,কিংবা ওর প্রতি দূর্বলতার কারণেই হোক, লজ্জার মাথা খেয়ে যে কাণ্ড জীবনে করি নাই, তাই করলাম। কোনদিন নিজের ইয়ের ছবি ইন্টারনেটে দেখতে পেলে বুঝবো দুনিয়াটা আসলেই গোল।
যাকগে, এতে গণ্ডগোল কিছুটা মিটলো, আমিও ঝামেলামুক্ত হলাম। তার আগ্রহে ছেদ পড়লো কি? একটু বোধয়। সকালে ক্লাস ছিল বলে আমি কথা বলা শেষ করে ঘুমাতে চলে গেলাম।
কিন্তু রাত দুইটার কাছাকাছি তার ফোন এলো, আদুরে গলায় হোয়াটসএপে তলব। সৌন্দর্যের আকর্ষণ ঘুমের থেকেও দূর্নিবার, ফলে ঘুম ঝেড়ে হুকুম তালিম করলাম। এইবার তার বাসায় যাওয়ার আবদার। যেতে আমার আপত্তি ছিল না -খেয়ে কুল হবার জন্যে ব্যাকুল আমি, কিন্তু সমস্যা হলো অত রাতে বাসা থেকে বের হওয়া মুস্কিলের। তাছাড়া গভীর রাতের ঢাকা আমি চিনি না। সুতরাং না করতে হলো- কি করবো ইয়ের মত ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে আমাকে তো পাঠানো সম্ভব না।
বিকল্প প্রস্তাব দিলাম, ভোর হতে নিলেই ওর বাসায় চলে যাবো। তাতে কাজ হলো, কিন্তু এই শর্তে যে ভোর পর্যন্ত তার সাথে গল্প করতে হবে।
ঘুমের ঘোরে কি সব বুঝিয়ে ঘুমাতে গেছি জানিনা, তার পরের দিন ক্লাস শেষ করে কল দিয়ে তাকে আর পাই না। মনে কু ডাকা শুরু করলো…মালটা ফস্কে গেলো না তো!
বেশ পরে যখন তার সাথে অবশেষে কথা হলো, দেখলাম আমি যখন ঘুমে অচেতন, দুনিয়ায় তখন অনেক কিছু ঘটে গেছে। সে একটা ভদ্রলোকের সাথে রাতে সেক্স করেছে, ভদ্রলোক মধ্যবয়স্ক, ওর বাসার টিকেট পেয়েছে বড় ইয়ে দেখিয়ে।

কেমন এঞ্জয় করেছে এই সৌজন্যমূলক প্রশ্ন করাতে একগাদা ছবি আমাকে ম্যাসেঞ্জারে পাঠালো। ফেনিল ইয়ে তার মুখে নিয়ে বিভিন্ন ক্রিয়াদির ছবি। দেখে আমার বুকটা যে ব্যথায় কিরকম মোচড় দিচ্ছিল তা বুঝাতে পারবো না। আমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্যই কিনা জানিনা সে গতরাতের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ বলতে লাগলো। লোকটা দেখতে তেমন ভালো না(এটা আমি জিজ্ঞেস করে শুনেছি ), আমি ফোন রাখবার পরে গ্রায়ান্ডারে তার সাথে পরিচয়, এবং তৎদণ্ডেই বাসায় দাওয়াত -খাওয়ানোর ও খাওয়ার। লোকটা কোন একটা নিউজ চ্যানেলের সংবাদ পাঠক, এবং আমার মত ভীরু নয়। ফলে আধঘন্টার নোটিশে সে তার বাসায় গিয়ে হাজির হয় এবং সকাল বেলা ওর শরীর ব্যথায় ভরিয়ে দিয়ে চলে আসে।
শুনে মনে বিষম ব্যথা আমিও পেলাম। মুখের গ্রাস অন্যজনে কেড়ে নিলে কার না খারাপ লাগে বলুন? তার উপরে আমার নিজের ভুলেই তো এমনটা হলো। কী এমন ক্ষতি হতো যদি ভোর রাত পর্যন্ত কথা বলে ছেলেটাকে সামলিয়ে রাখতাম?

সেই থেকে আমি টিভিতে নিউজ দেখি না। দেখলেই মনে হয় এই সুৎসিত লোকগুলোর কোন একটা এক্সএল মূলো ঝুলিয়ে আমার শিকার বাগিয়ে নিয়ে গেছে

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.