কাষ্ঠল ভালবাসা

লেখক :- পরিশ্রান্ত পথিক

১.
এখন সকাল ৬ টা।অনেকের কাছে বেশ বেলা হয়ে গেছে।কাঞ্চনপুর গ্রামের মানুষের কর্মব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে।কেউ গোয়াল থেকে গরু বের করছে,কেউ খোয়ার থেকে হাঁস-মুরগি বের করছে।মেয়েরা উঠান ঝাড়ু দিচ্ছে।খেটে খাওয়া মানুষেরা নিজ নিজ গন্তব্যে চলে গেছে ইতোমধ্যে।
জাফর মিঞার বাড়িতে আজ সকালটা একটু সরব।এমনিতেও এ বাড়িতে হাট লেগেই থাকে এলাকার বড় বাড়ি বলে কথা। সবাই ঘুম থেকে উঠে গেছে শুধু একজন বাদে।খুট-খুট, ঠাস-ঠাস শব্দে এ বাড়ির সর্বকনিষ্ঠ দোলাল জিহামের ঘুম ভাঙল।চোখের পাতায় আরও একঘণ্টার ঘুম বাকি রেখে চেঁচিয়ে উঠল,মা এতসকালে কে শব্দ করছে? শিগগীর থামতে বল।
নাহ, ধমকে কাজ হচ্ছে না আজ, থামছেই না শব্দ।
চোখ কচলাতে কচলাতে বাইরে এসে দেখে দুজন ছেলে করাত দিয়ে কাঠ কাটছে।আবার রান্দা দিয়ে চাসছে।আর বাবা সামনে বসে পর্যবেক্ষণ করছে।
জিহাম মহাশয়, দাঁতে দাঁত পিষে কট কট শব্দ করে প্রস্থান করবে।এমন সময় বাবার হাক,জহুর(বাবার দেওয়া নাম) এই দিকে আয়তো। খাট, ড্রেসিংটেবিল, আলমারির ডিজাইন দেখিয়ে দিয়ে যা।তোর তো আবার সবকিছুতেই অপছন্দ।

অনিচ্ছায়ও বাধ্য হয়েই আসতে হল।
একজন ছেলে বয়স ১৪-১৫ হবে কিছু ডিজাইনের বই এগিয়ে দিয়ে বলল, লন ভাই, এইহান থেইক্কা পছন্দ করেন।
অপর ছেলেটি এতক্ষণ কাজে নিমঘ্ন ছিল।জিহাম আসাতে তার দিকে তাকিয়ে হা করে কি যে দেখছে।জিহাম আড়চোখে পর্যবেক্ষণ করছে আর বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছে।

ছেলেটিকে দেখলে কেউ বলবেনা এ এই কাজ করে।দেখতে ছিমছাম দেহের অধিকারী, লম্বা বসা অবস্থায় যতটুকু আন্দাস করে যাচ্ছে তাতে ৫’৭” হবে,গায়ের রঙ কোন একসময় উজ্জ্বল বর্ণ ছিল এখন কিছুটা তামাটে হয়ে গেছে।সাদা টি শার্ট আর ছাই রঙের প্যান্ট পরে আছে।
সবগুলো বই উল্টিয়ে বলল,একটাও পছন্দ হয় না বাবা;
বাবা চোখ উপরে তুলে এতগুলো বইয়ে একটা ও ভাল ডিজাইন নেই।
-যাও,তোমার পছন্দ করা লাগবেনা।আমিই পছন্দ করে নিব।
– আমার যখন কাজনেই তখন না ডাকলেই পারতে।
জাফর মিঞা আর কিছু বলতে পারল না।
জিহামই একমাত্র যে জাফর মিঞার কথার উপর কথা বলে।আর কারও সাহস নেই এই এলাকাতে মুখের উপর কথা বলতে।বাড়ির সবার ছোট আদরের ছেলে বলে মাথায় তুলে রেখেছে।

সে ব্রাস নিয়ে ওয়াস রুমের দিকে গেল।২০ মিনিট পর মায়ের হাক,কিরে জিহাম মুখ ধুইতে গিয়া কি ঘুমাইলি নাকি।কে না করবে আয়নাতে ভর করে ঘুমুচ্ছে। মায়ের ডাকে চৈতন্য ফিরে পেল।আসছি মা গোসল করেই আসছি।
গোসল করে এসে কলেজ ড্রেস পরবে এমন সময় মা ভাত নিয়ে আসছে।
-হা করত, না খিয়ে দিলে আর খাওয়া হয় না।আধ দামড়া ছেলে এখন খাইয়ে দিতে হয়।
– আমি খাব না থাক;
-কেন,কলেজে খাইয়ে দেয়ার মানুষ আছে নি
-মা, কতবার বলব আমার অই প্রেম টেম ভাল্লাগেনা।যত্তসব ন্যাকামি।মা আমি যাই।
-যেদিন প্রেম করবি সেদিন বুঝবি কত মজা।
এই শুন, কোন ডিজাইনই নাকি তুর পছন্দ হয়নি।
– কে বলল তোমায়?
– সামিউল বলল?
– সামিউল কে আবার?
-অই কাঠমিস্ত্রী বড় ছেলেটা।
আর কিছু না বলে কলেজের দিকে রওনা হয় জিহাম।যাবার সময় আড়চোখ করে সামিউলকে দেখে যায়।
হয়ত কোথাও যেন ভালোলাগা কাজ করছে। মনের ভেতরে বাহিরে শীতল শান্তির বায়ু চলাচল করছে।
রাজপুত্রের মত চেহারা যার শুধু ভাগ্য দোষে আজ কাঠের সঙ্গে বসবাস।

২.
বিকেলে বাড়ি ফেরে জিহাম।এসেই হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পরে।
একটু পর উঠে হাত মুখ ধুয়ে বাইরে আসে।তখনো ওরা কাজ করছিল আপন মনে।
সামিউল জিজ্ঞেস করে, ভাই কোন কেলাসে(ক্লাসে) পড়েন?
– আমি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার।
– অহ, মোড়ের লগে অই কলেজটায়?
– হুম,
সংক্ষিপ্ত বাক্যালাপ শেষ করে জিহাম মাঠে যায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে পড়তে বসে।সামিউল আর ওর সহযোগী শাকিল রাতে খেতে আসে। ওখানেও অল্প কথাবার্তা হয়।

যেমন চেহারা দেখে মনে হয় না এ কাঠমিস্ত্রি, তেমনি কথাতেও বুঝা যায়না সে এমন। কি মার্জিত, জ্ঞানালঙ্কার কথার মধ্যে।যেন আস্তে আস্তে জিহামের হৃদয়ে কাঠঠোকরার মত গর্ত করছে।এ গর্ত বিশাল প্রশান্ত মহাসাগরের চেয়েও গভীর।তাকে নিয়ে ভাবতে ভাল লাগে আজকাল।যেন তড়িৎ প্রবাহিত হচ্ছে সাড়াদেহে।কোন তড়িৎকোষ যেন জমা রাখছে নির্গত তড়িৎ।

অবসর সময়ে বসে থাকে মিস্ত্রিদের কাছে।ইতোমধ্যে আরেকজন মিস্ত্রি এসে গেছে নকশা তৈরি করে।
সামিউলও যেন ঘোরের মধ্যে আছে।তার চলনে চঞ্চলতা বেশ লক্ষ্যনীয়।
সবসময় জিহামের পিছনে লেগেই থাকে।এই না সেই বলে অযথায় তর্ক করে আর মিটিমিটি হাসে।
বাবা থাকলে তাদের আড্ডার টপিক রাজনীতি বেশি, কারন বাবা সরকার দলীয় আর ওরা বিরোধী দলের।
জিহাম থাকলে তর্কের বিষয় প্রেম-ভালবাসা।
ওরা বলে পৃথিবীতে ভালবাসা বলতে কিছু নেই সবই পেট চালানোর ধান্দা।
জিহাম অনঢ় তার মতবাদে,ভালবাসা আছে বলেই পৃথিবী আজও টিকে আছে।
মানুষের আর কিছু না থাকলেও চলে বা একটা দিয়ে অন্যটাকে পুষিয়ে নেওয়া যায়।কিন্তু ভালবাসা এমন কিছু যার বিকল্প কিছু নেই। ভালবাসার বিকল্প, পরিপূরক শুধু ভালবাসায়।
সামিউল বলে,এত যে ভালবাসা ভালবাসা কর কাউকে কখনো ভালবেসেছ?
– হুম,ভালবাসি। কিন্তু যাকে ভালবাসি সে বুঝে নিতে পারেনা।
এই কথা বলেই সেখান থেকে চলে যায় জিহাম।

৩.
এই কয়দিন জিহাম কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছে। সামিউলদের কাছে আসে না। প্রেমে পরার সময় মানুষ খুব চঞ্চল হয়ে উঠে।তার ভিতরে অনুভুতিগুলো জন্ম নিতে থাকে।
আর যখন অনুভুতিগুলো পূর্নতা পেতে চায় তখন মানুষ শান্ত হয়ে যায়।অনেকটাই ভাবুক হয়ে উঠে।
সমাজ,ধর্মের বিরুদ্ধে কি করে সম্ভব?
কি করে পূর্নতা পাবে এই সম্পর্ক?
সাত পাঁচ ভেবে দিনরাত্রি কাটে জিহামের।
এদিকে সামিউলের ও কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা যায়।
জিহাম আজ কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছে এমন সময় গেটের কাছে সামিউল।
– কি হয়েছে তোমার? আজকাল আস না কথা বল না?
– (চোখের কোণে চকচক করা আবেগ নিয়ে) না কই; পড়াশোনার চাপ তো তাই আর কি।
– কাকে ভালবাস বললে না যে?
– তাকে ভালবাসার অধিকার যে নেই আমার!
– যদি সে অধিকার দেয় তবে তাকে কি প্রত্যাক্ষান করবে?
– সমাজ তো মেনে নিবে না এ ভালবাসা!
– তুমি মেনে নিলেই হবে,কি পারবে না?

জিহাম উত্তর না দিয়ে হনহন করে চলে যায় নিজের কক্ষে।

রাতে বাবার ডাক, খেতে আসো জিহাম।
বাইরে সামিউল ও অন্য মিস্ত্রিরা খাচ্ছে।
শুধু দুজনের চোখাচোখি হয় একবার। পরক্ষনেই জিহাম চোখ সরিয়ে নেয়।
বাবা বলে খাওয়া দাওয়া করে তোমার বড় দুলাভাই আসতেছে তাকে এগিয়ে নিয়ে আসো।আর একা যেওনা সামিউলকে নিয়ে যেও।

সামিউলকে বলে,তুমি জিহামের সাথে স্টিশনে যেও তো।
সামিউল মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।
খাওয়া শেষ করে দুজন রওনা হয় স্টেশনের দিকে।জিহামদের বাড়ি থেকে স্টেশন ১০-১২ মিনিটের পথ।
গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাটছে দুজন।জোনাকিরা আলো ছড়াচ্ছে আর রাতপোকারা সমানে শব্দ করে যাচ্ছে।দুজনেই নিশ্চুপ। কেউ রাতের নীরবতা ভাঙার দায়িত্ব নিচ্ছেনা। সামনে পুড়াদিঘি।
বাঁশগুলো নুইয়ে পরেছে তাই যথেষ্ট অন্ধকার।পাশেই দানবের মত দাঁড়িয়ে আছে দেবদারু গাছটি।
হঠাৎই সামিউল পেছন থেকে টান দিয়ে গাছের সাথে চেপে ধরে জিহামকে।
– আমার প্রশ্নের উত্তর কই?
– কি বলব বলুন?
-কেন তুমি যাননা, বুঝনা?নাকি আমি গরিব, অশিক্ষিত বলে আমাকে অবহেলা করছ?
– আমি বুঝলেই কি হবে; সমাজকে বুঝাবে কে?আমি এমনটা মনে করলে এতদূর আসত না ব্যাপারটা।
সামিউল কিছু না বলে জিহামের ঠোঁট আলতো করে কামড়ে ধরে। পরম তৃপ্তিতে চোখ বুজে দুজনেই স্বাদ নেয় অমৃতরসের।
অনাবিল প্রশান্তির সমুদ্রে ভেসে যায় দুজন।
জিহাম বলে, এবার ছাড় ; স্টেশনে যেতে হবে তো।
– কথা দাও কোনদিন ছেড়ে যাবেনা আমায়;
আমাদের ভবিষ্যতে সমস্ত সমস্যায় পাশে থাকবে আমায়,বুঝবে আমায়।
– হুম,কথা দিলাম পাশে থাকব।এবার চল স্টেশনে!
সামিউল শক্ত করে জিহামের হাত ধরে রেখে স্টেশনে পৌছায়।
Ishtiaq Mahmud Jewel
Ishtiaq
৪.
আজ মিস্ত্রিদের কাজ করার ১মাস ২২ দিন। কাঠের কাজ শেষ।
হয়ত মিস্ত্রিরা চলে যাবে আজকালের মধ্যেই।
এই দুই মাসে(প্রায়) দুজন মানুষ স্বর্গীয় সুখ অনুধাবন করেছে।
আজ তাদের চোখ জল রক্তবর্ণ।
এ কয়েক দিনে পরিবর্তন হয়েছে দুজন মানুষের অনুভুতিগুলো। রাতের অন্ধকারে লোকচক্ষুর অন্তরালে প্রনয় হয়েছে আদিমতায়।দেবদারু গাছের তলা ফিসফিস শব্দে আলোড়িত হয়েছে।জোনাকিরা বিরক্ত হয়ে অন্য দিকে ছুটে গেছে।
বাঁশবনে ডাহুকের গম্ভীরস্বরে ডাক ভেদ করেছে ভীতিগ্রস্ততা।
স্বপ্ন বুনেছে ঘর বাঁধার কোন পাহাড়ি ঘন জংগল ঘেরা লোকালয় থেকে বেশ দূরে।
যেখানে ছোট্ট একটি টংঘর হবে।নাম দিবে “শান্তিকামী কুটির”।
শত আশার জন্ম-মৃত্যু হয় এখানে।পরিবর্ধন হয় কিছু পরিকল্পনার।
দেহের উষ্ণতা ছড়িয়ে যায় দুটি দেহের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
আর রাতের পালা সাঙ্গ হয় গভীর রাতের তন্দ্রার আধিক্যে।

অভিমান আর খুনসুটিতে কেটেছে বিকেল।
সেই কথাগুলো মনে করে আরক্তনয়নে সকালে জিহাম না খেয়েই চলে গেছে কলেজে।
দুপুরের আগেই চলে গেছে সামিউলরা।
কেন যেন মুখোমুখি হয়ে চায়নি জিহামের।হয়ত সেই মায়াভরা মুখকে উপেক্ষা করে চলে যেতে পারবে না তাই।
আবেগ সামলিয়ে রাখার ক্ষমতা নেই হয়ত।
সময় তার লীলাকর্মে অটুট। ভাঙল কি গড়ল তার ভ্রুক্ষেপ নেই তার।
বিকেলে জিহাম বাড়ি এসেছে।কেমন যেন নিশ্চুপ আজ বাড়ি।আর বুঝার বাকি থাকল না ওর।

বিকেল থেকে সামিউলের ফোন নম্বরে চেষ্টা করছে বারবার। কিন্তু ফোন বন্ধ বলছে।আর কোন নম্বর নেই যে চেষ্টা করবে।
কেবল বালিশগুলোই বলতে পারবে চোখের পানিতে কতটা ভিজে গেছে।
পড়াশোনায় মনযোগ নেই তেমন।রাত আর দিন যেন একই জিহামের কাছে।শুধু আহ্নিকগতির জন্য পার্থক্য বুঝা যায় প্রকৃতিতে।জিহামের মনঃস্পটে কিন্তু কোন পার্থক্য নেই।

৫.
আজ নবম দিন সামিউল চলে গেছে।
হঠাৎই একটা ফোন কল আসে অপরিচিত নম্বর থেকে। এপাশ থেকে,
– হ্যালো;
-(ওপাশে নিরবতা)
-হ্যালো, কে বলছেন?
– (বৃদ্ধরোগির মত) কেমন আছ?
চেনা স্বরধ্বনিতে জিহামের শ্বাসরোদ্ধ হয়ে আসে।
– তুমি এতদিন পর কেন? কত চেষ্টা করেছি তোমাকে ফোন করতে।
-আমি পারিনি তোমাকে ভুলে যেতে।ভেবেছিলাম তুমি হয়ত ভুলে যাবে।
– সত্যিই কি সম্ভব ভুলে যাওয়া?
– আমি জানিনা, তবে আগামি পরশু দিন তুমি আসবে আমাদের বাড়িতে।আমি সব ব্যবস্থা করব।আংকেল কে ম্যানেজ করব আমি। তুমি শুধু না করোনা।
-কিন্তু কেন আসব কি হয়ছে তোমার?
– কিচ্ছু হয়নি।এমনি আসবে।
নাকি আমার কাছে আসতে চাওনা?
– কি বল এসব।আচ্ছা বাবা আমি আসব।
এখন রাখি বাবা ডাকছে।

রাত শেষে ভোর।সেই অলসতা নেই আর জিহামের।সেই সক্কালবেলা ঘুম থেকে উঠে রেডি হচ্ছে ও।
প্রাণপ্রিয় মানুষটির কাছে যাবে।বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে বাস স্টেশনে যায়।
বাসে করে পৌছায় সে গন্তব্য স্থলের খুব কাছে।
তাকে অভ্যর্থনা আর বাড়ি নিয়ে যেতে সয়ং এসেছে সামিউল।
সন্ধ্যায় বাড়ি পৌছে দেখে বাড়িতে সাঁজসাঁজ রব।জিহাম কিছুই বুঝতে পারছেনা।
আরেকটু বাড়ির ভেতরে ঢুকেই দেখে বিয়ের আয়োজন বলছে।
সামিউলকে জিজ্ঞেস করে, কার বিয়ে?
পেছন থেকে কেউ একজন বলে কিরে সামি তোর বউ কি কালা না সুন্দররে।
জিহামের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরেছে। একচুল নড়ার শক্তি যেন হাড়িয়ে ফেলেছে।চোখগুলো ঝাপসা হয়ে আসছে ওর।
কোন রকমে সামিউলের দিকে তাকিতে বলল, আমাকে আনার কি প্রয়োজন ছিল?
সামিউল কিছু না বলে, ওর হাত ধরে টানতে নিয়ে যায় তার বাবার কক্ষে।তার বাবা প্যারালাইজড গত দুই বছর ধরে।
তাই তার মা চাচ্ছে বিয়ে করাতে।
জিহাম ঘর থেকে বাইরে চলে আসে।সামিউল ও পিছে পিছে আসে,
– কি হল চলে আসলে কেন?
-আমি বাড়ি চলে যাব এখনি।
আমি এখানে থাকতে পারবনা।অন্তর ফেটে মরে যাব আমি যা তোমার জন্য শুভ নয়।আর আমি চাইনা আমার জন্য একটা পরিবার কষ্ট পাক।আর আমি সামনে থাকলে তোমার আর আমার দুজনেরই কষ্ট হবে।তো আমার প্রস্থানই শ্রেয়।যেখানে সামনে এগিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়, সেখানে পিছিয়ে আসাই ভাল।
– চল পালিয়ে যাই।
-কি?
– যা শুনছ ঠিকই শুনছ।
– না,আমি পারব না।আমাদের তিনটি পরিবারই কষ্ট পাবে।আমি পারব না সেটা।
– সবাইকে নিয়ে ভাবার সময় পেলে নিজেকে জন্য কিছু ভাব আর আমাকে বুঝলেনা যে আমি তো জ্বলে-পুড়ে শেষ হয়ে যাব।আমরা সর্বদা অন্যকে নিয়ে ভাবি, পরিবারের কথা চিন্তা করি।কিন্তু আমরা কি এই বিয়ে করে কখনো আত্মিক ভাবে সুখি হতে পারব।যাকে বিয়ে করব তাকেও পূর্ন সুখ দিতে পারব।মনের উপর শিকলবেড়ি পড়ানো মাত্র।
এ বিয়েতে আমার অস্তিত্বই থাকবে না।আমার আত্মাহুতি ছাড়া আর কোন রাস্তা নেই। যদি এখন তোমার মনে হয় আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে তো চল।যে স্বপ্ন দুজন দেখেছিলাম আজ তা পূর্নতা দেবার সময় এসে গেছে।
(দুজনেরই চোখে পানি টপটপ করে পড়ছে)
– চল, সেই পাহাড়িয়া জংগল ঘেরা আমাদের শান্তিকামী-কুটিরে।
অনাবিল সুখ শান্তিকামী হয়ে বেঁচে থাকব আমরা।

♥♥♥♥♥ সমাপ্ত♥♥♥♥♥

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.