জীবন যখন শুকায়ে যায়

লেখক :- চন্দ্রাহত বালক ( সুমগ্ন )


সাফিন অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে।এখনো তার ডাক পরছে না।কয়েকবার ফাইটিং মাস্টারকে বলার চেষ্টা করেছে,” শওকত ভাই,আজকে আমাকে কি একটু তাড়াতাড়ি ছাড়া যায়? খুব জরুরী একটা কাজ আছে।” শওকত ভাই বিরক্ত মুখেই প্রতিবার বলছে, “এইটা কি জরুরী কাজ না?কাজ থাকলে যাও গা।আটকায় রাখসে কে তোমারে?আমার স্টান্টম্যানের অভাব নাই।তোমার থিকা ভালো পোলাপান আছে আমার কাছে”
এরপর আর বলার কিছু থাকে না সাফিনের।বলতে গেলে এই একটা কাজ সে বহু কষ্টে জোগাড় করেছে।সিনেমায় হার্টথ্রোব হিরোরা যেইসব সিন করে কলেজ ভার্সিটির মেয়েদের কাছে সুপার হিরো হয়ে যায় সেগুলো আসলে তারা করে না।সাফিনের মত এমন অনেক স্টান্টম্যান আছে যারা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই আগুনের ভেতর দিয়ে গাড়ি চালায়,চার পাঁচ তলা থেকে লাফ দেয়।
সাফিন পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখলো শ্যুটিং শুরু হতে আরো ঘণ্টাখানেকের মত লাগবে। এতক্ষণে এফডিসির ক্যান্টিনে ঘুরে আসা যায়। ক্যান্টিনের একপাশে বসে এককাপ চা আর দুইটা সিঙ্গারা অর্ডার করলো।সকাল থেকেই তেমন কিছু খাওয়া হয়নি।এরা সিঙ্গারাটা ভাল বানায়।দুইটা খেলেই ক্ষুধা আর থাকেনা।পকেট থেকে ফোনটা বের করলো।রাব্বীকে একটা ফোন দেয়া দরকার।ওর ইন্টারভিউ ছিল সকালে।কেমন হয়েছে কে জানে? ওকে ফোন দিবে এমন সময় মা ফোন দিল
হ্যালো সাফিন,তোর শ্যুটিং কি শেষ হয়েছে?
না মা।এখনো শুরুই হয় নাই।কেন কিছু লাগবে?
আসলে বাড়িওয়ালা আসছিলো সকালে।বলসে কালকের মধ্যে আগের আর এই মাসের ভাড়া যেন দিয়া দেই।না পারলে বাসা ছাইড়া দিতে বলসে।
আচ্ছা রাখো তুমি। দেখি আমি কতদূর কি করা যায়।
সাফিনের মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো।সারদিন এটা লাগবে ওটা লাগবে শুনতে শুনতে আর ভালো লাগে না।
মেজাজা খারাপ ভাবটা নিয়েই সাফিন ফ্লোরে গেলো।গিয়ে দেখে ধুন্ধুমার অবস্থা চলছে।ডিরেক্টর মাজনুন শাকিল সাহেব সবাইকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছে।সাফিন শওকত সাহেবকে কিছু বলতে যাবে এমন সময় উনিও খিটখিট করে বললেন,”কইলাম না আজকা প্যাক আপ।এখনো কেন বিরক্ত করতাসো? সাফিন কিছুটা আমতা আমতা করেই বলল,”ভাই আজকেও কি পেমেন্ট হবে না?আসলে টাকার খুব দরকার।গত দুইদিনের পেমেন্ট ও তো এখনো পাই নাই।” শওকত সাহের তার দিকে এমন ভাবে তাকালেন যেন মনে হলো এমন অশ্লীল কথা তিনি জীবনে শুনেন নাই। তারপর মুখ ঝামটা দিয়ে বললেন “টাকার প্রয়োজন নাই কার?সবারই আছে।দেখতাসো না কী মেজাজ ডিরেক্টরের।এখন কেমনে পেমেন্টের কথা কই?” সাফিন আরো কিছু বলতে যাবেন উনি আর বলতে দিলেন না।বললেন,”এখন যাও তো।আর প্যারা দিও না।

রাত দুইটা সতেরো। সাফিন আর রাব্বীর ফোনে কথা চলছে। রাব্বী বেশ উত্তেজিত ভঙ্গীতেই কথা বলছে।সেইদিক থেকে সাফিন এর কোনো তাপ উত্তাপ নেই। রাব্বী বলল
“তুমি এত বিজি থাকো কেনো তা কি আমি বুঝি না?একটা ফোন দিতে পারো না?”
“আরে বাবা আমার ফোনে টাকা ছিলো না।”
“হইসে,আমি সব বুঝি।এফডিসিতে সারাদিন ডিরেক্টরের সাথে ঢলাঢলি করলে আর টাইম পাইবা কেমনে?”
সাফিন আবারো নিরুত্তাপ ভংগীতেই বলল,”সাফিন এইসব নোংরা কথা শুনতে আমার ভালো লাগতেসে না।আর আমার খুব মাথা ব্যথা করতেসে এখন।পরে কথা বলব।”
“সেইটাই এখন তো আমার সাথে কথা বলতে ভালো লাগবে না।নিত্য নতুন ভাতার পাইলে কি আর আমারে মনে ধরবে?
সাফিনের মন হলো রাব্বীর সাথে কথা বলার মত আর কিছু নাই।এই নোংরা কথাগুলা শোনার চেয়ে ফোন রেখে দেওয়া ভালো।তাই করলো সে।খপ করে ফোনটা কেটে দিলো। তার পরেই রাব্বী ওর ফোনে একটা এসএমএস করলো,
তুই বারো ভাতার নিয়া থাক।আমার সাথে আর জীবনেও যোগাযোগ করবি না।
সাফিন এসএমএসটা পরে ফোনটা পাশে রেখে গেলো।তার খুব একটা খারাপ লাগছে না।তার মাথায় বাড়ী ভাড়া আর মুদি দোকানের বাকী টাকা শোধ করার চিন্তা।ভালোবাসার মত বিলাসিতা তাকে মানায় না. সিগারেটের প্যাকেটটা খুলে দেখে একটাও সিগারেট নেই।তারপরেও খারাপ লাগলো না। তাদের বাসায় বারান্দা নেই।থাকলে বারান্দায় বসে বসে কিছুক্ষণ আকাশ দেখা যেত।
আজকে সাফিনের শ্যুটিং না থাকলেও অনেকগুলো কাজ করতে হবে।বনানী যেতে হবে হিশামুদ্দিন সাহেবের বাসায়। সপ্তাহে দুই দিন সাফিনকে ওনার বাসায় যেতে হয়। হিশামুদ্দিন সাহেব সাফিনের দেখা দুনিয়ার সবচেয়ে ভালো চিত্রশিল্পী। কিন্তু তিনি তার পুরো প্রতিভাই ব্যবহার করছেন নোংরা কাজে।বর্তমানে তার প্রধান কাজ হলো ছেলেদের উলংগ ছবি আঁকা। কী একটা একজিবিশনে দিবে।এর জন্য ওনার প্রচুর মডেল দরকার।সাফিন এমনিতে দেখতে ভালো।উচু লম্বা,ফর্সা,সুঠাম পেশিবহুল শরীর।এফডিসির একজনই কাজটা ঠিক করে দিয়েছে তাই। সাফিনকে তিন ঘন্টা করে সিটিং দিতে হয় হিশামুদ্দিন সাহেবের সামনে।প্রতি সিটিং এ এক হাজার টাকা করে পায়। তার জন্য এটা অনেক কাজ।যখন সাফিনের প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস ছিলো তখন হুমায়ূন আহমেদের কবি উপন্যাসে এমন একটা চরিত্র ছিলো যে মেয়েদের ন্যুড ছবি আকতো।সে ছিলো সাধু প্রকৃতির।কিন্তু হিশামুদ্দিন সাহেব খুবই অসাধু প্রকৃতির।কথায় কথায় তার গায়ে হাত দেবার চেষ্টা করে।শুরুতে সে এমনিতেই যথেষ্ট অপ্রস্তুত ছিলো।একজন চল্লিশোর্ধ লোকের সামনে তার তিন ঘন্টা নেংটো হয়ে থাকতে হবে এইটা ভেবেই গা শিরশির করতো।কিন্তু টাকাটাও নেহাত কম না।তাই রাজি হয়েছে।কিন্তু দুই দিন যেতে না যেতেই ভদ্রলোক নানা অজুহাতে জায়গা বেজায়গায় হাত দেয়া শুরু করেছে।সাফিন কিছু বলতে গেলেই বলে পোজ ঠিক করে দিচ্ছি।
বেশ অস্বস্তি নিয়েই সাফিন হিশামুদ্দিন সাহেবের রুমে ঢুকলেন।হিশামুদ্দিন সাহেব সাফিনকে দেখেই তার হলুদ দাত বের করে হাসি দিলেন।ভদ্রতা রক্ষায় সাফিন ও হাসি দিলো।
হিশামুদ্দিন সাহেব বললেন,”আজ এতো দেরি করলে কেনো?যাই হোক কাজ শুরু করি।তাড়াতাড়ি ড্রেস খুলো।এই লাইটেই ছবিটা আঁকতে হবে।
তারপর অতি বিব্রত ভঙ্গীতে সাফিন তিনটি ঘন্টা পার করলো।
৩।
সাফিনের ফোনে অচেনা নাম্বার থেকে একটি ফোন এলো,
“হ্যালো সাফিন সাহেব বলছিলেন?” সাফিন হতচকিয়ে গেলো।তাকে সাহেব বলে সম্বোধন করার মত কে থাকতে পারে তা বুঝলো না
“জী বলছি।”
“আমি ডিরেক্টর আশফাক আলম চৌধুরীর সেক্রেটারী বলছি”
সাফিন আবারো আকাশ থেকে পড়লো। আশফাক আলম ইন্ডাস্ট্রির টপ ডিরেক্টর।সেই ডিরেক্টর এর সেক্রেটারী তাকে কেনো ফোন দিচ্ছে?স্ট্যান্ট ম্যানদের সাথে তো ফাইটিং মাস্টররাই যোগাযোগ করে।
“ইয়ে মানে জী বলুন”
“স্যার একটা নতুন ছবির কাজ শুরু করবেন সম্প্রতি।সেই ছবির প্রধান চরিত্র হিসেবে আমরা আপনাকে ভাবছি”
সাফিন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।সে কী স্বপ্ন দেখছে? নিজের হাতে চিমটি দিলো।না সে স্বপ্ন দেখছে না।
“ইয়ে মানে।আমি কীভাবে?আসলে,ইয়ে”
“আপনি প্লিজ উত্তেজিত হবেন না।আ্পনি আগামীকাল সকালে স্যারের অফিসে আসবেন প্লিজ”
“জী অবশ্যই”
সাফিনের যেন কেমন কেমন লাগছে।স্ট্যান্টম্যান থেকে সরাসরি নায়ক? তার কি দুঃখের দিন তবে শেষ হতে চললো?
সাফিন আশফাক আলম চৌধুরীর সামনে বসে আছে। সে যথেষ্ট সেজেগুজে আসার চেষ্টা করেছে।ডিরেক্টরের এক দেখাতেই যাতে সাফিনকে পছন্দ হয়।আশফাক সাহেব পেপার ওয়েট নাড়াতে নাড়াতে বললেন তোমাকে যতটুকু সুন্দর ভেবেছিলাম তুমি তার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর।ফেইসের গ্রীপটা অনেক সুন্দর। সবকিছুই পারফেক্ট।স্ক্রীপ্ট রাইটার বোধহয় তোমাকে ভেবেই গল্পটা লিখেছে।সাফিন বেশ লজ্জা পাচ্ছে।কী বলবে খুঁজে পাচ্ছে না।
আশফাক সাহেব সাফিনের দিকে একটি ফাইল এগিয়ে দিলেন।এইটা তোমার কন্ট্রাক্ট পেপার।পুরোটা পড়ো।পরে সাইন করে দাও।সাফিন ফাইলটা নিলো।কিছু না পড়েই কাঁপা কাঁপা হাতে সাইন করে দিলেন।আশফাক সাহেব মুচকি হেসে বললেন কিছু তো পড়লে না।সাফিন আমতা আমতা কণ্ঠেই বললো প্রয়োজন নেই।আশফাক সাহেব সাফিনের হাতে একটি এক লক্ষ টাকার চেক গুজে দিয়ে বললেন,”এটা তোমার এডভান্স চেক।বাকীটা ছবি রিলিজের পর।
সাফিনের হঠাত করেই খটকা লাগলো।এক রাতে কেমনে সব চেঞ্জ হয়ে যায়?কাল রাতেও সে টাকার অভাবে সিগারেট খেতে পারে নি।আর আজ কিনা তার হাতে এক লক্ষ টাকার চেক?
সাফিন ছোট্ট করে একটা কাশি দিয়ে বলল,” একটা কথা জিজ্ঞেস করবো যদি কিছু মনে না করেন”
আশফাক সাহেব বললেন,”হ্যা অবশ্যই”
“আচ্ছা।আপনারা আমার কোন কাজ দেখেন নাই।স্ক্রীন টেস্ট নেন নি।কোন ধরণের অডিশনেও গেলেন না।জাস্ট ডেকে আমাকে চেক ধরিয়ে দিলেন।বিষয়টা একটু অদ্ভুদ লাগছে আমার কাছে।”
“ও সরি বিষয়টা আগেই আমার পরিষ্কার করে বলে দেওয়া উচিত ছিলো।কে বলেছে আমরা আপনার কাজ দেখি নি।হিশামুদ্দিন সাহেব আপনার যেই স্কেচগুলো করেছেন তার প্রত্যেকটা স্কেচ আমি দেখেছি।এতো ক্রিয়েটিভ পোজ,এক্সপ্রেশন আমি খুব কমই দেখেছি।আপনাকে হিশামুদ্দিন সাহেব কিছু বলেন নি?”
“না উনি তো আমাকে কিছু বলেন নি”
“যাই হোক।আশা করছি একসাথে আমরা একটি চমৎকার ছবি তৈরি করবো ।বেস্ট অফ লাক”

এই ছয় মাস সাফিনের জীবন পুরো অন্যরকম হয়ে গেলো। নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করা প্রথম ছবিতেই কাজ করতে পাড়ি জমিয়েছে সুইজারল্যান্ড।কমার্শিয়াল ধারার ছবিটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে প্রেক্ষাগৃহে।অনেক দিন পর হল মালিকেরা হলের সামনে হাউজফুল লেখাটি দেখতে পেলো।বলা যায় আগের বাংলা সিনেমায় যেমন জসিম রিক্সাচালক থেকে কোটিপতি ব্যবসায়ী হয়ে যায় আশ্চর্যরকম ভাবে সাফিন ও মাত্র ছয় মাসে একটা মাত্র সিনেমা করে সাধারণ একজন স্ট্যান্টম্যান থেকে হার্টথ্রোব নায়ক হয়ে গেলো।আরো বিস্ময়কর ব্যাপার হলো প্রথম সিনেমাতেই সাফিন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পেয়ে গেলো।সাফিনের সবচেয়ে অবাক লাগে এখন তার কোন অভাব নেই।তার মাকে ফোন করে বাড়ি ভাড়ার কথা মনে করিয়ে দিতে হয় না।আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে এখন আর তাকে ফাইটিং মাস্টারের কাছে গিয়ে বলতে হয় না তার শটটা কখন দিতে হবে।
এই ছয় মাসে তার জীবনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে ঘটনা ঘটেছে তা হলো বিনোদন জার্নালিস্ট আরাফাতের সাথে তার সম্পর্ক।খুব হঠাত করেই তাদের সম্পর্কটা তৈরি হয়।সাফিনের সিনেমার মহারথের পর থেকেই আরাফাত তার পিছনে ঘুরঘুর করছিলো একটা ইন্টারভিউ করার জন্য।স্ট্যান্টম্যান থেকে একেবারে নায়ক হয়ে বনে যাওয়ার পুরো গল্পটা আরাফাত চেয়েছিলো তাদের পত্রিকায় নিয়ে আসতে।সেইখান থেকেই তাদের পরিচয়।কথাবার্তা,ফোনালাপ।একটা সময় আরাফাতই সাফিনকে বলেছিলো তার ফিলিংসের কথা।শুরুতে সাফিন স্বভাবতই স্ট্রেইটের মত অভিনয় করেছে আরাফাতের কাছে।কিন্তু একজন সমপ্রেমীর কাছে আরেকজন সমপ্রেমীর সত্তা লুকিয়ে রাখা বেশ কঠিন। তাই সাফিন ধরা দিয়েছে আরাফাতের কাছে।
আজ সন্ধ্যায় সাফিনের বাসায় একটা পার্টির আয়োজন করা হয়েছে তার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পাওয়ার অনারে।রূপালী জগতের সবাই মোটামোটি এসেছেন পার্টিতে।সবাই নিজেদের মত হৈ হুল্লোড় করছে।সাফিন নিজে থেকেই সবার সাথে টুকিটাকি কুশল বিনিময় করছে।কিছুক্ষন পর আরাফাত ও এসে গেলো পার্টিতে খুব সুন্দর একট ফুলের বুকে নিয়ে। সাফিন ও তাকে সাগ্রহে পার্টিতে অভ্যর্থনা জানালো।রাত ১ টা পর্যন্ত পার্টি চললো আড়ম্বরের সাথে।অতিথিরা আস্তে আস্তে চলে যাওয়া শুরু করছে।এমন সময় আরাফাত সাফিনের হাত ধরে টেনে একটা নিরব জায়গায় নিয়ে গেলো।দুইজনেই হালকা মদের নেশায় মাতাল।আরাফাত দুই হাত ধরে সাফিনের কোমর জড়িয়ে ধরলো।দুইজন দুইজনের ঠোঁটের উপর নিঃশ্বাস ছাড়ছে।আরাফাত ফিসফিস করে বলল আমি যদি আজকের রাতটা তোমার সাথে কাটাতে চাই তুমি কি আপত্তি করবে।সাফিন মাথা নেড়ে বলল হ্যা আপত্তি করবো।কথাটা শুনেই আরাফাতের মন খারাপ হয়ে গেলো।মুখটা ভার করে বলল,”ও সরি।আসি আমি তাহলে” কিন্তু সাফিন আরাফাতকে ছাড়লো না।পরম মমতায় আরাফাতের বুকে মুখ ঘষতে লাগলো। আরাফাত বুঝতে পেরে বললো,”চলো রুমে যাই।
পরিশিষ্ট
সাফিনের মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়েছে।বাসার নিচে সাংবাদিক প্রেস মিডিয়ার উপচে পড়া ভীড়।আজ আরাফাতের পত্রিকায় তার কিছু ছবিসহ একটা নিউজ ছাপা হয়েছে।নিউজের শিরোনাম এইভাবে নিজের শরীরকে বিকিয়ে দিয়ে স্ট্যান্টম্যান থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার। সেখানে গতকাল রাতে আরাফাতের সাথে কিছু ঘনিষ্ট মুহূর্তের ছবি ঝাপসা ভাবে দেওয়া হয়েছে।সাথের মানুষটাকে বোঝা না গেলেও সাফিনকে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে।সাফিন ডাইনিং টেবিল থেকে ছুরিটা নিয়ে নিজের রুমের দরজা লক করে দিলো।ছুরিটা বাম হাতের কব্জিতে ধরে আছে সে।দেয়ালে একটা ছবি ঝুলছে তার।হিশামুদ্দিন সাহেবের আকা।কালকে কি এই ছবির উপর মালা পরানো হবে?

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.