জেন্টস পার্লার

লেখক :- অরণ্য রাত্রি

পূর্বাভাস
গাজীপুরে শালবনের মাঝখানে বিশাল প্রাসাদের মত বাড়ি রোজ-ভিলা। আশপাশের গ্রাম , লোকালয় থেকে অনেক দূরে বাড়িটা। এসব গ্রামের মানুষ জানে না এখানে কারা থাকে এবং কি হয়। উঁচু প্রাচীর দিয়ে শালবন থেকে আলাদা করা হয়েছে বাড়ি টা কে। কাঁটা তার লাগানো প্রাচীরের উপরে। বাইরের মানুষ প্রবেশের রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ। শোনা যায় চুরি করতে যেয়ে গ্রামের দুজন তরুণ লাশ হয়ে ফিরেছিল।এই বাড়ি টি ঘিরেই গল্পটি আবর্তিত ।
ইয়াংলুক একটি ম্যাসাজ পার্লার। পার্লার চালায় নাফিয নামের এক ভদ্রলোক । পিছনে রয়েছেন রেশাদ নামের একজন প্রভাবশালী মানুষ।৬ মাসে এই পার্লারে কাজ করতো এমন ৩ জন ম্যাসাজবয় নিখোঁজ হয়েছে। তিন জন খুব গরীব ঘরের ছেলে ছিল। কিন্তু তাদের কে আর খুঁজে পাওয়া যায় নাই।

মাঘ মাস। কনকনে শীতে সবাই কাবু। সকাল ৯ টাতেও কুয়াশার আবরণে ঢাকা সারা শহর। অনিকের ঘুম ভাঙ্গে নাই। সারা দিন কাজ আর সারা রাত চ্যাট করলে ঘুম ভাঙবেই বা কিভাবে?অনিকের হবি চ্যাট করা। অবশ্য তার খুব বেশি চ্যাট ফ্রেন্ড নেই। কারন তার চ্যাট করার একটাই শর্ত। তা হল কোন দিন সামনাসামনি দেখা হবে কিনা এই প্রতিশ্রুতি সে দিবে না। এই কথা শুনলে অনেকেই আর চ্যাট করতে আগ্রহ পায় না। তারপরও তার খুব ভাল একটা বন্ধু হয়েছে।ছেলেটার নাম রুশো।
সূর্য মামা মাত্র আকাশে উঁকি দিলেন। তার আলো সরাসরি জানালা দিয়ে অনিকের বিছানায় পড়ে। অনিক হাত দিয়ে , চাদর দিয়ে চোখ ঢাকে। কিন্তু কতক্ষণ ?সূর্য মামার অত্যাচারে শেষ পর্যন্ত উঠে পড়লো। তাছাড়া ১০ টার মাঝে পার্লারে যেতে হবে।
দাঁত ব্রাশ করতে করতে বাথরুমের জানালা দিয়ে উঁকি দিলো অনিক। একটি গাছের সব পাতা ঝড়ে পরেছে শীতের আগমনে। তার জীবন টাও এই গাছের মত। হটাত সব স্বপ্ন ঝড়ে গিয়েছে। একটাই স্বপ্ন এখন যে ভাবেই হোক একটা ব্যবসা খোলা
আর ১০ টা তরুণের মত তারও একটা পরিবার ছিল। কিন্তু হটাত সব তছনছ হয়ে গেলো। একটা বাস দুর্ঘটনা তার জীবনের সমস্ত রঙ কেঁড়ে নিয়েছে। তার বাবা মা দুজনই স্পট ডেড। এক ভাই ছিল। তার বাসায় যেয়ে উঠলো অনিক। বিয়ের পর ভাই রা মনে হয় পর হয়ে যায়। অনিক সরকারি কোন ভার্সিটি তে চান্স পেলো না। কিন্তু প্রাইভেটে পড়ার খরচ ভাই দিবে না। রাগ করে বের হয়ে আসলো বাসা থেকে।
কই যাবে। কোন বন্ধু সাহায্য করলো না। বিপদে আসলেই বন্ধু চেনা যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজন সিনিয়র সমকামী বন্ধু নাফিয তাকে তার বাসায় আশ্রয় দিলো। এবং তার পার্লারে চাকুরী দিলো। ম্যাসেজ বয় এর চাকুরী

নাফিযের সাথে ফেসবুকেই অনিকের পরিচয়। এক সময় নাফিয ভালোবাসতো অনিক কে। কিন্তু অনিক এত বয়স্ক কারো সাথে রিলেশনে যেতে আগ্রহী ছিল না। কিন্তু তাদের মাঝে যোগাযোগ বন্ধ হল না। নাফিয বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিলো। বন্ধু হতে অনিকের কোন আপত্তি ছিল না। এখন এই নাফিযই তাকে সাহায্য করলো
রুশো অনিকের ম্যাসেজ বয় হওয়ার প্রস্তাবের ঘোর আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু একজন এইচ এস সি পাশ যুবককে কে চাকুরী দিবে। ম্যাসাজ বয়ের চাকুরী করে অর্থ জমানো সম্ভব। রুশো প্রথমে আপত্তি জানিয়েছিল। তার ধারনা অনেক জায়গাতেই ম্যাসাজের পাশাপাশি অনেক রকম অনৈতিক কাজ হয়। অনিক বলল
রুশো তোমার কি ধারনা অনৈতিক কাজ করতে বললেই আমি তা করবো ?ম্যাসাজ করা তো কোন অনৈতিক কাজ নয়। বরং শরীরের জন্য ভাল। আর নাফিয ভাই এতো ভাল মানুষ। ।আমার কোন সমস্যাই ফেস করতে হবে না। দেইখো
ঠিক আছে তুমি যা ভাল বুঝো করো। তোমার জীবন ।আমার সাথে তো তোমার দেখাই হবে না। আমার কথার কি গুরুত্ব আছে?
আরে বেশি দিন তো নয়। কিছু টাকা জমলেই আমি আমার নিজের ব্যবসা শুরু করবো। তুমি দেখো আমি সফল হবোই
এসব কথার কোন জবাব দেয় না রুশো। বুঝাই যায় সে বিরক্ত হয়। কিন্তু কিছু বলার অধিকার তো নেই। সে তো অনিকের অনলাইন ফ্রেন্ড শুধু মাত্র।


পার্লারে কাজ করার আগে সে নাফিযের কাছে ম্যাসাজ করা শিখলো বেশ কয়েকদিন। তার সাথে আরেকটি ছেলে ছিল। অর্জুন। তার বাড়ির অবস্থা তার মত নয়। সে ধনী পরিবারের ছেলে। সে কেন ম্যাসাজ শিখছে তা অনিকের কাছে পরিষ্কার না। অর্জুনের মতে কাজ টা থ্রিলিং। তাই সে এই কাজ টা করতে চায়। প্রতিদিন নতুন নতুন পুরুষ মানুষের শরীর স্পর্শ করা যাবে। এটা তার কাছে অনেক এক্সাইটিং। অনিক মনে মনে ভাবে শুধু কি পুরুষ মানুষের শরীর স্পর্শ করার কথাই ভাবছে অর্জুন ? নাকি আরও অন্য কিছু? কিন্তু নাফিয ভাই নিশ্চয়ই পার্লারে এসব করতে অনুমতি দিবেন না।
অনিক থাই ম্যাসাজ , সুইডিশ ম্যাসাজ ২ টাই শিখলো। অনিক যা শিখে তা মন দিয়ে শিখে। সে আরও অনেক তথ্য নিলো ইন্টারনেট থেকে। মার্চ মাসের ১ তারিখ থেকে কাজে নামলো অনিক। নাফিয ভাইয়ের পার্লারটা খুব ছোট। কিন্তু সমকামী পুরুষ দের কাছে খুব বিখ্যাত। এখানে মূলত সমকামী পুরুষরাই আসে। ঢাকা শহরের এক প্রান্তে অবস্থিত পার্লারটি।পার্লার টার নাম ইয়াংলুক। পার্লার ভীর সব সময়। পার্লার টির ২ টা অংশ। এক অংশে চুল কাটা আর ফেসিয়াল। আরেক অংশে ম্যাসাজ। ছিমছাম সুন্দর করে সাজানো পার্লারটা। ম্যাসাজ রুমটা বেশ বড়। ২ টা ডিভাইডার দিয়ে ৩ টা বেড কে আলাদা করা হয়েছে। হলুদ রঙ দিয়ে রাঙ্গানো দেয়াল। সোনালি স্পট লাইট স্নিগ্ধ একটি পরিবেশ তৈরি করেছে। কাঁচা রজনীগন্ধা ফুল রাখা হয়েছে সুগন্ধের জন্য। মেঝেতে ম্যাট্রেস বিছিয়ে বিছানা করা হয়েছে। সাদা পরিষ্কার চাঁদর।একপাশে আয়না আর কেবিনেট। সেখানে অলিভওয়েল , লোশন আর একটি ডিভিডি প্লেয়ার রাখা। ম্যাসাজ করার সময় হাল্কা মিউজিক ছাড়া হয় মন কে প্রশান্ত করার জন্য। একদিকে একটি ছোট বোর্ডে ম্যাসাজের উপকারিতা লেখা। এই লেখাটা যক্ষুনি অনিকের চোখে পড়ে তক্ষুনি সে কিছুটা হলেও প্রশান্তি পায়। কিছু হলেও মানুষের ভাল করছে। নিজের হীনমন্যতা কিছুটা হলেও কাটে ।

আজ দ্বিতীয় দিন। বাড়ি থেকেই কাছেই পার্লার টা। হেঁটেই যায় অনিক। সকাল ৯ টার মাঝে বের হয়ে যায় বাসা থেকে। শীতের সকাল। সকাল ৯ টাও যেন অনেক সকাল।জীবন যাত্রা এখন পুরোপুরি সচল হয় নি। হাঁটতে হাঁটতে সে অনেক কিছু লক্ষ্য করে। সে খুব সুন্দর। সে জানে সেটা। তার মাঝে বন্য সৌন্দর্য রয়েছে।তার শরীর পেশীবহুল । পেটানো । জিম করা। অবশ্য কয়েকদিন যাবত জিম করা হচ্ছে না। গায়ের রঙ বিদেশীদের মত ফর্শা । মাথা ভরতি ঘন কালো চুল। সে যখন রাস্তা দিয়ে হাঁটে তখন অন্তত একবার হলেও সবাই তার দিকে তাকিয়ে দেখে। সে খুব উপভোগ করে ব্যাপারটা।
পার্লারে এসে ঢুকেই ড্রেস পালটে নিলো অনিক। হাল্কা নীল রঙের শার্ট আর পাজামা পার্লারের ড্রেস। আরও ২ জন ম্যাসাজ বয় রয়েছে। অর্জুন আর তন্ময়। তন্ময় আগেই কাজ করতো। অর্জুন আর অনিক নতুন।প্রথম দিন কিছু না বুঝলেও দ্বিতীয় দিন অনিক বেশ বুঝতে পারছে ম্যাসাজের পরে এখানে নানা অনৈতিক কাজ হয়। তন্ময় ছেলেটা ভাল নয়। খুব গরীব পরিবারের ছেলে তন্ময়। কিন্তু তার হাতে দামি স্মার্ট ফোন আসে কি করে? পিছনে একটা ঘর আছে। তালা বন্ধ। ওখানে কি হয়?
এদিকে দিন যায়। ব্যাপার গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে। অর্জুন এখন বেশ খুশি। তার কাছে বিদেশি কাস্টমর বেশি আসে। কারন ছেলেটা ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র। ভাল ইংলিশে কথা বলতে পারে। অনেক টাকা বখশিশ পায়। কিন্তু শুধু কি বখশিশ ?
প্রথম দুই দিন অনিক কোন কাস্টমার হ্যান্ডেল করলো না। সে শুধু দেখলো অর্জুন আর তন্ময়ের কাজ। বেশির ভাগ কাস্টমরই বখশিশ দেয়। সাথে সাথে আড়ালে ডেকে নিয়ে যায় অথবা কার্ড গুজে দেয়। আড়ালে ডেকে কি বলে তা অনিক বুঝে। অনেক কাস্টমর তার দিকে কেমন কেমন করে তাকায়।চাহনি দিয়ে কি জানি বুঝাতে চায়। তার ভাল লাগে না। কেমন জানি ভয় লাগে। এখনো তো সে কাজই শুরু করে নাই তার আগেই এতো ? একদিন অর্জুন আর তন্ময়ের কথা কানে ভেসে আসে। অর্জুন বলছে
দেখ আজকে আমার সারা রাত রেডিসনে স্টিভের সাথে থাকতে হবে। আমার রেস্ট দরকার। নাফিজ ভাই কি বুঝে না? আমি তো রোবট নই। তুই একটু সামলা। আর অনিক কে কাজে নামায় না কেন নাফিজ ভাই? সে কি শো পিস হয়ে থাকবে নাকি?
আরে তুই মাথা ঠাণ্ডা কর। আমি নাফিজ ভাই কে বুঝাবো তুই বাড়ি চলে যা।
আচ্ছা তোকে তো দেখানো হয় নাই। স্টিভ এই আংটি টা আমাকে দিয়েছে। অরিজিনাল ডায়মন্ড। তুই আবার নাফিজ ভাই কে বলিস নে। তাহলে এইটারও কমিশন চাবে।
হা হা। না না বলবো না। জোস হয়েছে রিংটা। কিন্তু তোর তেমন বড় ডিক এর থাপ ও খেতে হয়। ক্যামনে নিস ?
আরে আমার তো অমন বড়ই লাগে………।।
এরপরের কথা গুলো শুনার আর রুচি হল না অনিকের। সব কয়টা কথা সে আবার চিন্তা করছে। তার মানে অর্জুন আর তন্ময় ম্যাসাজের আড়ালে অন্য কিছুও করে। আর নাফিজ ভাইও এর সাথে জড়িত। নাহলে কমিশনের কথা বলতো না অর্জুন। অনিকের ভয় লাগছে। এ কোথায় আসলো সে? যাই হোক সে কোন ভাবেই এই ধরনের কাজে জড়াবে না। দরকার হলে চাকুরী ছেড়ে দিবে।
সেই দিন প্রথম কাস্টমর পেলো অনিক। অল্প বয়স্ক এক যুবক।খুব যত্ন নিয়ে ম্যাসাজ করলো ছেলেটির সমস্ত শরীর। শুধু মাত্র একটি বক্সার পরে ছেলে টি শুয়ে আছে সাদা চাদরের উপর।হাল্কা বৃষ্টির শব্দ আর পাখির ডাকের মিউজিক ছাড়লো অনিক। এই মিউজিক আর হলুদ স্পট লাইট একটি স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি করলো ।বিছানার চাদরের উপর আগেই গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে রেখেছিল অনিক।অনিক খুব যত্ন করে সমস্ত শরীরে অলিভ অয়েল মাখালো। সমস্ত শরীরের প্রেশার পয়েন্ট গুলোতে আঙ্গুল দিয়ে সঠিক মাত্রায় প্রেশার দিলো। শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলো সঠিক মুভমেন্ট করালো। ছেলেটির মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে ছেলেটি প্রশান্তি পাচ্ছে।
ম্যাসাজ শেষে ছেলেটি কাপড় পরে হাসি মুখে এসে দাঁড়ালো অনিকের সামনে।
তুমি খুব ভাল ম্যাসাজ করেছো। এতো ভাল ম্যাসাজ আগে পাই নাই। শুধু একটু আফসোস ছিল।
কি আফসোস ?
সেটা তুমি ইচ্ছা করলেই মিটাতে পারো
পকেটে হাত দিলো ছেলেটা। অনিক ভাবছে কত টিপস দিবে। সে তো আসলেই অনেক যত্ন নিয়ে করেছে কাজটা। সমস্ত শরীরের কোথায় কতটুকু প্রেশার দিতে হবে তার কোন অন্যথায় হয় নাই। কিন্তু ছেলেটা যে বলল আফসোস রয়ে গিয়েছে?
শুনো আমি বয়সে ছোট কিন্তু আমার বড় একটা বিজনেস রয়েছে। আজ রাতে আমি অফিসের গেস্ট হাউজে থাকবো। আমি চাই তুমি ওখানে আসো। একান্তে আমাকে সারভ করবে। টিপস দিলাম না। একবারে দিয়ে দিবো
অনিক খুব ভালই বুঝতে পারলো একান্ত বলতে ছেলেটা কি বুঝচ্ছে। ইচ্ছা করছে রাগে চিৎকার করতে। সে তো পতিতা নয়। কিন্তু নিজেকে অনেক কষ্টে সামলালো অনিক।
কি হল?
সরি আমি এই কাজ পারবো না।
ভাল টাকা দিব
এইবার আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। সে কার্ড টা কুচি কুচি করে ছিঁড়লো ছেলেটার সামনে।
আমি তো পারবো না তা এখন ভাল মত বুঝেছেন তো মিস্টার?
রূপক। আমার নাম রূপক।রূপক আহমেদ। তুমি অনেক সুন্দর। ভাল ম্যাসাজ কর। কিন্তু অহংকার অনেক। তোমার এই অহংকার ভেঙ্গে তোমাকে যদি রাস্তার পতিতা না বানাচ্ছি তাহলে আমার নাম রূপক নয়।
এইবার অনিকের মাথায় যেন কেউ যেন হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলো। সে রূপকের কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে কাউন্টারের সামনে নিয়ে গেলো । কাউন্টারের সামনে নিয়ে গেলো। কাউন্টারে নাফিজ ছিল। সে আঁতকে উঠলো এই দৃশ্য দেখে।
কি করছো অনিক। ছাড়ো ওরে। তুমি জানো উনি কে ?
আমি জানি না। কিন্তু সে যেই কথা বলেছে তারপর তাকে শাস্তি পেতেই হবে।
তন্ময় দৌড়ে এসে অনিকের হাত থেকে রূপক কে ছাড়িয়ে নিলো
নাফিজ ওরে কোন কিছু বলার দরকার নেই। পরে সব দেখা যাবে। এই বলে রূপক অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গীতে পার্লার থেকে বের হয়ে গেলো।
অনিক তখনো রাগে কাঁপছে। তন্ময় তাকে নিয়ে স্টাফ রুমে গেলো। পিছন পিছন আসলো নাফিজ। অনিক যে এত রাগ করতে পারে এই ধারণাই ছিল না তাদের কারো ।নাফিজ কি জানি বলতে চাইছে। তন্ময় বাঁধা দিয়ে বলল
কিছু বলার দরকার নাই এখন নাফিজ ভাই। আমরা পরে বুঝিয়ে বলবো। আপনি বরং ওরে বাসায় পাঠিয়ে দেন।
নাফিজ বুঝলো এখন আসলে কিছু বললেও অনিক বুঝবে না। বরং অনিক বাসায় চলে যাক।মাথা ঠাণ্ডা হলে বুঝিয়ে বলা যাবে।

সারা টা দুপুর শুয়ে রইলো অনিক। অনিক বুঝতে পারছে পার্লারের কাজ তাকে দিয়ে হবে না। কিন্তু তাহলে কি করবে?নাফিজ ভাইয়ের এখানেও আর থাকা হবে না। ব্যবসার চিন্তা বাদ দিয়ে ছোট খাটো চাকুরীর চিন্তা করতে হবে। পড়াশোনার চিন্তা আর না করাই ভালো। কান্না গলায় দলা বেধে আসে। মা থাকলে কখনোই এমন হত না। তার ছোটবেলা থেকে যাপন করা সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেলো।দুপুরে সে কিছু খেলো না। বিকেল গড়িয়ে রাত হল।
রাতে নাফিজ পার্লার থেকে বাসায় এসে খেতে বসলো । রাতে সব সময় অনিক আর নাফিজ একসাথে খায়।নাফিজ এর মেজাজ খুব খারাপ। কিন্তু তা প্রকাশ করলো না সে।এদিকে অনিক সারা সন্ধ্যা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সে আর পার্লারের কাজটা করবে না। মনে মনে গুছিয়ে নিয়েছে কি বলবে নাফিজ ভাই কে।
নাফিজ ভাই একটা কথা ছিল
বল
আমার পক্ষে পার্লারের কাজটা করা সম্ভব না।
তোমাকে এতো কষ্ট করে সব শেখালাম। আর এখন কাজ ছেড়ে দিবা?
আমি তো করতেই চেয়েছি। কিন্তু এখানে কাস্টমার দের অন্য চাহিদাউ থাকে সেটা আমি পূরণ করতে পারবো না। আর তাই তো আজকের এই সিন ক্রিয়েট হল।
তুমি না করতে চাইলে কেউ তো তোমাকে জোর করবে না।
না নাফিজ ভাই আমার পক্ষে আর সম্ভব না।
নাফিজ দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো
ওকে এস ইউ উইশ।
আমি কাল সকালে চলে যাবো
নাফিয ভাই মাথা নাড়লও শুধু।
এরপর আর কোন কথা হল না। দুইজনই নীরবে খাওয়া শেষ করলো। তারপর যে যার ঘরে চলে গেলো

রাত বাজে পৌনে ২টা। অনিক ঘুমচ্ছিলো। দরজার নক করার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। নিশ্চয়ই নাফিজ ভাই নক করছে। এতো রাতে কি দরকার? নাফিজ ভাই অসুস্থ হয়ে পড়ে নাই তো। হন্ত দন্ত হয়ে দরজা খুলল অনিক।
নাফিজ ভাই এর মুখ থেকে কড়া মদের গন্ধ। পরনে শুধু একটা শর্টস পরা। অদ্ভুত দেখাচ্ছে তাকে। অনিকের কেমন ভয় ভয় করছে।
কি হয়েছে নাফিজ ভাই? এতো রাতে? অসুস্থ লাগছে?
অসুস্থ তো তুমি আমাকে করে দিয়েছ অনিক। তোমাকে ছাড়া আমি কিভাবে বাঁচব ? কাল তুমি চলে গেলে আমি কি নিয়ে থাকবো?
ভাইয়া আমি আপনার সাথে সব সময় কন্টাক্ট রাখবো। আপনি যে উপকার করেছেন আমাকে। আমি ভুলবো না। এখন আপনি একটু ঘুমান। অনেক রাত হয়েছে।
ঘুম হবে না আজকে। আজকে আমার তোমাকে চাই।
এই বলে নাফিয অনিকের কোমর জড়িয়ে ধরে কিস দিতে চাইলো ঠোঁটে। অনিক নিজেকে নাফিযের বাহুবন্ধন থেকে ছাড়িয়ে নিলো । তারপর দিলো কশে একটা চড়
নাফিয ভাবতেও পারে নাই এমন কিছু হবে। অনিক বলল
এখন যেয়ে ঘুমান। এই বলে দরজা বন্ধ করে দিলো ।
সারা রাত নির্ঘুম কাটলো অনিকের। সে ভাবতেও পারে নাই নাফিয ভাই এমন করবে। কালকে থেকে নাফিয ভাইয়ের কাছেও আর আসা যাবে না। সাহায্য চাওয়া যাবে না। চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে অনিকের।পৃথিবীটা এমন কেন?

সারা রাত ঘুম হয় নাই। ভোর রাতের দিকে চোখের পাতা ২টা একটু লেগে আসতেই নাফিয ভাই নক করলো । অনিকের ভয় লাগছে। আবার নাফিয ভাই মদ খেয়ে আসে নাই তো। না এইবার ঝামেলা করলে ব্যাগ গুছিয়ে চলে যাবে এখুনি ।অনিক দরজা খুললো । নাফিয দাড়িয়ে । দেখে মনে হচ্ছে গত রাতে কিছুই ঘটে নাই। কিংবা ঘটলেও কিছু মনে নাই। হাসি মুখে নাফিয অনিক কে সুপ্রভাত জানালো। অনিক ভাবছে মদ খেয়ে নাফিয ভাই এমন করেছিল। তাই হয়তো কিছুই মনে নাই। তাহলে নাফিজ ভাই কে মাফ করে দেয়া যায়। মাতাল হয়ে তো মানুষ কত কিছুই করে। থাক এই প্রসঙ্গ আর না তোলাই ভাল।
২ জনে খেতে বসেছে। হটাত একটা ফোন আসলো নাফিযের। কথা বলতে বলতে নাফিযের মুখ অন্ধকার হয়ে গেলো। ফোন রাখতেই অনিক কে বলল
তোমার ভাবি ফোন দিয়েছিলো । তোমার ভাই খুব অসুস্থ। হাসপাতালে । জরুরি ভাবে ১০ হাজার টাকা লাগবে।
অনিকের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো ।
আমি এতো টাকা কই পাবো এখন?
আমি দিবো । কিন্তু তুমি তো ধার করতে চাও না। আমি একটা ব্যাপার সাজেস্ট করতে পারি।
কি?
তুমি যদি ঢাকার বাইরে হোম সার্ভিস দাও তাহলে খুব সহজেই ১০ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবে।
কিন্তু হোম সার্ভিস দিবো কোথায় ?
গাজীপুরের একটা বাগানবাড়ি তে একজন ভদ্রলোক রেশাদ সাহেব হোম সার্ভিস চাইছেন বেশ কয়েকদিন যাবত। আমি যেতাম। কিন্তু এইবার তোমাকে পাঠাই। আমার গাড়ি নিয়ে যাও। তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাবে। এই কনভেন্সের খরচও উনি দিয়ে দিবে।
কিন্তু অন্য কিছু চাইবে না তো ?
না তিনি সেরকম মানুষ নন। তাছাড়া সেখানে তার বয়ফ্রেন্ড রয়েছে। তোমার কপাল ভাল হলে বয়ফ্রেন্ডের ও ম্যাসাজ করা লাগতে পারে। তাহলে দ্বিগুণ টাকা।
এইবার অনিক আশ্বস্ত হল।
রুমে গিয়ে ভাবলো ভাবি কে একটা ফোন দিবে। কিন্তু মোবাইল খুঁজে পাচ্ছে না। তাহলে কাল রাগ করে চলে আসার সময় মোবাইল পার্লারে ফেলে এসেছে। ভাবলো নাফিয ভাইয়ের মোবাইল থেকে কল করবে। কিন্তু নাফিজ ভাই কে খুঁজে পেলো না সারা বাসায়। নিশ্চয়ই পার্লারে চলে গিয়েছেন। এদিক থেকে গাড়ি এসে দাড়িয়ে আছে। সে দ্রুত রেডি হয়ে নিলো। ম্যাসাজ এর প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র বাসাতেই আছে। সেগুলো প্যাকেট করে নিলো। ভাবল পার্লার হয়ে যাবে কিনা?তারপর ভাবলো থাক। দেরি হয়ে যাবে। রেশাদ সাহেব নাকি খুব রগচটা মানুষ দেরি হলে যদি আর সার্ভিস না নেন। টাকা টা তার জোগাড় করতেই হবে। মাত্র ১০ হাজার টাকা। ভাইয়ার এতো খারাপ অবস্থা হল কিভাবে? যাই হোক ভাবি যখন সাহায্য চেয়েছে তখন করতেই হবে।
গাড়ি তে উঠে বসলো অনিক। ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিলো। গাড়ি চলল গাজীপুরের উদ্দেশ্যে।


অনেক দুরের রাস্তা। গাড়ি তে ড্রাইভার খুব মৌজে আছে। হিন্দি গান ছেড়েছে। অনিকের খুব বিরক্ত লাগছে । গান শুনার মত মনের অবস্থা নেই। পার্লার থেকে মোবাইল নিয়ে নেয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু এখন অনেক দূর চলে গিয়েছে। ভাবলো একটু ঘুমানোর চেষ্টা করা যাক। আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি শুরু হল। অনিকের বৃষ্টি খুব প্রিয়। তার মতে বৃষ্টি বাংলাদেশের অন্যতম সৌন্দর্য । বৃষ্টি দেখতে দেখতে উদাস হয়ে গেলো অনিক। চারিদিকে শালবন। অপরূপ সুন্দর দৃশ্য। রুশোর কথা মনে পড়ছে অনিকের। রুশো কে তো কিছুই বলা হল না। কিছুই জানানো হল না। নিশ্চয়ই খুব রাগ করবে। কিন্তু কি করা! মোবাইল টাও নেই সাথে।৩ ঘণ্টায় বাগান বাড়ি পৌঁছলও গাড়ি টা।
রোজ ভিলা।বিশাল গেট। গেটেই ৩ জন সিকিউরিটি গার্ড। অনিক তো অবাক এতো নিরাপত্তা কেন?বিশাল বাড়ি। সামনে বাগান। বাড়ির মূল ফটকের সামনে বিশাল ফোয়ারা । গারিটা ঠিক গেটের সামনে থামলো। কলিং বেল টিপতেই একজন স্যুট পরা অতি সুদর্শন যুবক গেট খুলে দিলো। হাত বারিয়ে দিলো হ্যান্ড শেক করার জন্য। অনিক অবাক হল। সে একজন ম্যাসেজ বয়। ম্যাসাজ করতে এসেছে। তাকে এতো সম্মান দেয়ার তো কোন কারন নেই। অনিক স্পর্শ করলো যুবক এর হাত।যুবক টি বলল
আমি রায়ান। এই বাড়ির কেয়ারটেকার।
আমি অনিক।
আমি জানি। আপনার কথা অনেক শুনেছি।
কি শুনেছেন? খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো অনিক
আপনি ঢাকার অন্যতম হ্যান্ড-সাম ছেলে। আপনার রূপের প্রশংসা এতো শুনেছি কি বলবো।
অনিক বাক হারা হয়ে গেলো। এই ভদ্রলোক তার রূপের কথা শুনেছে। কি আশ্চর্য
আপনি অবাক হচ্ছেন তাই না? সব বুঝতে পারবেন। চলুন স্যারের কাছে নিয়ে যাই।
বাড়িটা বিশাল।পুরনো জমিদার বাড়ি ।পরে রিনোভেশন করা হয়েছে। কিন্তু বাড়ি টা কেমন যেন অশুভ মনে হল অনিকের।বাড়ির ভিতর অসংখ্য গলি ঘুপচি পার হয়ে পিছনের গেটে চলে আসলো তারা। গেট দিয়ে বের হতেই সুইমিং পুল। বিশাল বড় সুইমিং পুল। একজন ভদ্রলোক সাঁতার কাটছে। বয়স চল্লিশ এর মত হবে। আর ডেক চেয়ারে বসে আছে একজন ভদ্রমহিলা। জুস খাচ্ছেন তিনি। জুস কিনা তা ঠিক স্পষ্ট করে বলাও যাচ্ছে না।একটু ভালভাবে খেয়াল করলে অনিক বুঝতো উনি কোন মহিলা নন। পুরুষ । মেয়ে দের মত করে সেজেছেন। তাদের দেখে সাঁতার কাটছিলেন যে ভদ্র লোক তিনি পুল থেকে উঠে আসলেন। পরনে শুধু একটি বক্সার। ভেজা শরীর । ভাল্লুকের মত লোমশ শরীর। কিন্তু জিম করা পিটানো বডি। শরীর থেকে টপ টপ করে পানি পরছে। একজন ভৃত্য এসে একটি তোয়ালে এগিয়ে দিলো।
আচ্ছা আমি চেঞ্জ করে আসছি।

এই বলে ভদ্রলোক ভিতরের ঘরে চলে গেলেন। কিছুক্ষণের মাঝে একটা গাউন পরে আসলেন তিনি।
চল বসে কথা বলা যাক।
অনিক কে নিয়ে একটি পুল সাইড টেবিলে বসলো তারা।
আমি রেশাদ। আমাকে ম্যাসাজ করার জন্য তুমি এসেছো। তুমি করেই বললাম। অনেক ছোট তুমি। খুব অবাক হচ্ছো না? তার আগে আরেকটা সারপ্রাইজ দিবো তোমাকে আমার বয় ফ্রেন্ডের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। কেয়ারটেকার কে বললেন
যাও তো রূপক কে ডেকে নিয়ে এলো।
এই নাম শুনেই হিম হয়ে গেলো অনিকের শরীর। এই রূপকের সাথেই তো তার পার্লারে ঝামেলা হয়েছিল। কালো জিনস আর টিশার্ট পরে আছে রূপক। আরেকটা চেয়ার টেনে বসলো রূপক ঠিক অনিকের পাশে।অনিকের দিকে তাকিয়ে হাসলো রূপক
কেমন আছো অনিক?
ভাল
আসলে সেদিন রূপ দেখে আমার মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল। নাহলে এমন কথা বলি? আই এম সরি।
অনিক জোর করে হেসে বলল
ইটজ অকে। আমিও সরি। কারন সেদিন রিয়েক্ট বেশি করে ফেলেছিলাম।
অনিক হাসলেও তার ভিতরে ভিতরে ভয় লাগছে। কি জন্য তাকে ডেকে এনেছে তারা?
এইবার রেশাদ মুখ খুলল
শোন অনিক। আমি কোন ভণিতা করবো না। শুধু ব্যবসায়িক অফার দিবো । আমরা এখানে একটা এসকোরট সার্ভিস দেই। দেশের সুন্দর সুন্দর সমকামী যুবক দের আমরা এখানে আনি। দেশের বড়লোক কোটিপতি মানুষ আর ফরেনার রা আসে সেক্স করতে।তুমি অসম্ভব সুন্দর। তোমাকে যে কেউ পছন্দ করবে। আর তুমি কি পরিমাণ টাকা পাবে তা তুমি কল্পনাউ করতে পারবা না। ইভেন এখুনি আমি তোমাকে ব্ল্যাংক চেক লিখে দিতে পারি। আর যদি না করতে চাও আমি জোর করবো না। তুমি আমাকে ম্যাসাজ করে চলে যাবা।

অনিক প্রচণ্ড ভয় পেলো। এ কোথায় আসলাম। যাই হোক শুধু মাত্র ম্যাসাজ করে সে চলে যাবে। কিন্তু তারা কোন ক্ষতি করবে না তো। যাই হোক সে তার বিবেক থেকে সরবে না।
আমি ম্যাসাজ করেই চলে যাবো
ওকে ফাইন। আমরা জুস খেয়েই কাজ শুরু করবো। তিন গ্লাস আনারসের জুস এনে রাখলো একজন ভৃত্য ।
নাও জুস নাও
অনিক জুস মুখে দিলো। টেস্ট জানি কেমন। হটাত মাথা টা চক্কর দিয়ে উঠলো। তারপর আর কিছু মনে নাই।
১০
জ্ঞান ফিরতেই অনিক দেখলো একটি ঘরের সিমেন্টের ঠাণ্ডা কালো মেঝে তে শুয়ে আছে।ঘর টা তে আলো অন্ধকারের খেলা। ছোট একটা বাতি টিম টিম করে জ্বলছে। তার পাশে আরেক টা ২০-২১ বছর বয়সের একটি ছেলে । তাকে দেখছে চোখ বড় বড় করে। অনিক ধর মর করে উঠে বসতে চাইলো।ছেলেটা বলে উঠলো
আরে আস্তে আস্তে।মাত্র তোমার জ্ঞান ফিরেছে। এখন এইভাবে উঠতে গেলে মাথা ঘুরায় পরে যাবা।
আমি কোথায় ?
রোজ ভিলা , গাজীপুর
রেশাদ সাহেবের বাসা?
হম
আমাকে এখানে রাখা হয়েছে কেন? আর জুসে কি মিশানো ছিল ?
জানি না।
জবাব দাও। নাহলে খামছে তোমার চোখ উপড়ে দিবো
আরে বাবা আমি কিভাবে জানবো ? আমি কি তোমাকে জুস খাইয়েছি?কিন্তু আমি অনুমান করতে পারি।
কি অনুমান?
জুসে চেতনা নাশক কোন উপাদান মিশানো ছিল। সম্ভবত ধুতুরা।
কিন্তু কেন?
আমার মনে হয় তুমি ওদের প্রস্তাবে রাজি হও নাই। তাই না?
ইয়াপ। আমাকে দেহ ব্যবসা করতে বলেছে। কিন্তু আমি তা করতে পারবো না।
ভুল করেছো। এখন তো ব্যবসার চিন্তা বাদ। বন্দী হয়ে থাকতে হবে।
কি বলছো উল্টাপাল্টা
আমিও এখানে আধা বন্দী বলতে পারো । আসলে আমার যাওয়ার জায়গা নাই। তাই এখানে পরে আছি। তার বদলে তারা আমাকে হেরোইন দেয়।
মানে?
আমি ড্রাগ এডিক্তেড। আমি তাদের কথা শুনি আর তারা আমাকে হেরোইন দেয়। আমি ইচ্ছা করলে চলে যেতে পারি। কিন্তু কই যাবো ? বাবা মা আমাকে ত্যাজ্য করে দিয়েছে। আমার যাওয়ার জায়গা নাই। পয়সা উপার্জন যে করবো? পড়া শোনা করি নাই। হেরোইন কেনার টাকা আসবে কোথা থেকে। তাই তারা যা বলে তাই করি।
ও মাই গড
শুনো এই জায়গাটা খুব ভয়াবহ। এখানে দেশের সব বড় বড় শিল্পপতি, ফরেনর রা আসে তাদের ডার্ক ফ্যান্টাসি পূরণ করার জন্য। সবচেয়ে ভয়াবহ হল স্যাডিসম। কেউ কেউ অত্যাচার করে সেক্সুয়াল আনন্দ পায়। জোর করে সেক্স করে। মারধোর করে, চাবুক মারে। আমাকেও ইউজ করা হয়েছে।
এই বলে ছেলেটা টিশার্ট খুলে ফেললো। পিঠে চাবুকের দাগ। রক্ত শুকিয়ে আছে।
অনিক আঁতকে উঠলো
হেরোইন এর জন্য সব সহ্য করি। একদম স্লেভের মত। কত কিছু করায় আমাকে দিয়ে। নিজেকে মনে হয় মাঝে মাঝে শেষ করে দেই। সুইসাইড করি। কিন্তু সেই সাহস নেই আমার।
আমাকেও এমন করবে?
মনে হয় না। 

এই বলে ছেলেটা টিশার্ট খুলে ফেললো। পিঠে চাবুকের দাগ। রক্ত শুকিয়ে আছে।
অনিক আঁতকে উঠলো
হেরোইন এর জন্য সব সহ্য করি। একদম স্লেভের মত। কত কিছু করায় আমাকে দিয়ে। নিজেকে মনে হয় মাঝে মাঝে শেষ করে দেই। সুইসাইড করি। কিন্তু সেই সাহস নেই আমার।
আমাকেও এমন করবে?
মনে হয় না। তুমি অনেক সুন্দর। তোমাকে মিডল ইস্টে পাচার করবে মনে হয়। ওখানের অনেক শেখ রা সমকামিতা পছন্দ করে। গোপনে তারা এসব করে। তোমাকে ওখানে বিক্রি করলে অনেক টাকা পাবে।একবার মিডল ইস্টে গেলে তুমি কোন দিন আর মুক্তি পাবে না। যে ভাবে হোক পালাও।
কিন্তু কিভাবে পালাবো ?
জানি না। পুরো বাড়ি ঘিরে আছে অসংখ্য সিকিউরিটি গার্ড । পালাতে গেলেই গুলি করে মেরে ফেলবে। আগেও পালাতে গিয়ে ২ জন মারা গিয়েছে।
তুমি এখানে আসলে কিভাবে?
একটা ম্যাসাজ পার্লারের মাধ্যমে। ওই পার্লারে গরিব, যাদের কোন ক্ষমতা নেই, আপনজন নেই ,তাদের রিক্রুট করা হয়। তারপর এক সময় প্রস্তাব দেয়া হয় দেহ ব্যবসার। যারা রাজি হয় তারা রেগুলার সার্ভিস দেয় । কিন্তু এক পর্যায় তাদের ব্ল্যাক মেইল করা হয়। তাদের সব সেক্স সিন ভিডিও করা হয় গোপনে। বলা হয় এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়া হবে। টাকা দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। চিরদিনের জন্য তাদের কেনা গোলাম হয়ে যায় তারা। আর যারা একটু সুন্দর , প্রস্তাবে রাজি হয় না তাদের নিয়ে আসা হয় এখানে। পাচার করা হয় মিডল ইস্টে অথবা এখানে ডার্ক ফ্যান্টাসি পূরণ করার কাজে রাখা হয়। এরা বেশিদিন বাঁচে না। আমিও বাঁচবো না।
ছেলেটির চোখে অশ্রু টলমল করছে।
হটাত দরজা খোলার শব্দ । একজন মানুষ ঢুকলও ঘরে। সাদা এপ্রন পরা। হাতে সিরিঞ্জ। সে এসে অনিকের হাত জোর করে চেপে ধরে রক্ত নিলো। কোন কথা বলল না লোকটা। রক্ত নিয়ে চলে গেলো
ছেলেটি বলল
তোমার রক্তে এইচ আই ভি এর জীবাণু আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখবে। আমার মনে হয় তোমাকে আসলেই মিডল ইস্টে পাঠাবে। নাহলে রক্ত পরীক্ষা করতো না।
এইবার অনিক রীতিমত আতঙ্কিত হয়ে গেলো। নিজেকে গালি দিচ্ছে মনে মনে। কেন যে নাফিযের পাল্লায় পড়েছিল। এখন কি হবে?সে পরিষ্কার বুঝতে পারছে তার সাথে কি করা হয়েছে। নাফিয ভাইয়ের সাথে রিলেশন , সেক্স না করায় তিনি প্রতিশোধ নেয়ার উদ্দেশ্যে তাকে এখানে পাঠিয়েছেন।কিসের ভাইয়ের অসুখ। পুরোটা মিথ্যা। আর সে যাতে বহাইয়ের খবর নিতে না পারে সে জন্য মোবাইলো গায়েব করা হয়েছে। আর রূপকেরও ইন্ধন আছে নিশ্চয়।
আবার দরজা খোলার শব্দ। এইবার একজন লম্বা চওড়া লোক ঘরে ঢুকলো । মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা। হাতে সিরিঞ্জ। অনিকের হাত ধরে পুশ করতে চাইলো লোক টা। অনিক হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলো । কিন্তু লোকটার হাতে অনেক জোর। সিরিঞ্জ পুশ করলো। এরপর আবার শূন্যতা।
১১
অনিকের যখন জ্ঞান ফিরলো তখন দেখলো সে একটা বিশাল হল ঘরের মেঝে তে পরে আছে। হাত পা বাধা। গায়ে কাপড় বলতে একটা হাফ প্যান্ট।অজ্ঞান অবস্থায় কেউ তার পরনের কাপড় খুলে রেখেছে। ঘরটি তে সেন্ট্রাল এ সি। খুব ঠাণ্ডা লাগছে অনিকের। ঠিক তার পাশে একটা রাউন্ড টেবিলে ৬ জন মানুষ বসে আলোচনা করছে। ৫ জন পুরুষ আর এক জন মহিলা। একটু ভাল মত মহিলা টি কে দেখলো অনিক। মহিলা নয়। পুরুষ কিন্তু মহিলার মত সেজে আছে। ক্রস ড্রেসার।আরেকজন হলেন রেশাদ সাহেব। তারা আলোচনায় এতই মগ্ন যে অনিকের দিকে কেউ তাকাচ্ছে না। অনিক খুব মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শুনতে লাগলো। যতই শুনছে ততই আঁতকে উঠছে। এটা তো একটা ছোট খাটো দোযখ। বাংলাদেশেও এমন জায়গা আছে ভাবা যায় না। ওদের কথা শুনে বুঝতে পারলো আগামী পূর্ণিমায় তাদের একটা বড় অনুষ্ঠান আছে। সেক্স পার্টি। সারা দেশ থেকে ধনী আর প্রভাবশালী কিছু মানুষ আসবে এই পার্টি তে।মদের ফোয়ারা বসবে। সেক্স পার্টির ২ টা থিম। একটা গ্রুপ সেক্স। আরেকটা গ্যাং ব্যাং। একটা ছেলে কে সবাই মিলে রেপ করবে। এবং সম্ভবত সেই ছেলেটা সে।
এক সময় আলোচনা শেষ হল। এখন তাদের নজর পড়লো অনিকের দিকে। একি !এদের মাঝে একজন ফরেনারও আছে। সে আর কেউ নয় স্টিভ। অর্জুনের কাস্টমার। স্টিভ হাসিমুখে তাকালও।একটা চোখ টিপ দিলো তার দিকে তাকিয়ে।রেশাদ সাহেব বললেন
এই ছেলে কে পূর্ণিমা পর্যন্ত মানে ৫ দিন কেউ ভোগ করতে পারো। এই জন্য নিলাম ডাকবো। এ আমাদের সবচেয়ে এক্সক্লুসিভ মাল।এই কথা নিশ্চয়ই বলার দরকার নেই। দেখতেই পাচ্ছ। তাই ভেবে চিন্তে দাম বল।
অনিকের নিজে কে পণ্য মনে হচ্ছে। খুব রাগ লাগছে। কিন্তু নড়াচড়া পর্যন্ত করতে পারছে না। কয়েকজন আবার তার শরীরে হাত দিয়ে দেখছে। পারলে তাদের নাক ঘুষি দিয়ে ফাটিয়ে দিতো অনিক।কিন্তু কিছু করার নেই। নিলাম ডাকা শুরু হল।নিলামে স্টিভ সবচেয়ে বেশি টাকা দিয়ে অনিক কে কিনে নিলো । স্টিভ সহ বাকি ৫ জন পূর্ণিমা পর্যন্ত এই প্রাসাদেই থাকবে। তাদের জন্য আলাদা ঘর আর ফান এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।সবার জন্য এসকোর্ট রয়েছে।
১২
অনিক এখন স্টিভের রুমে। অনিক ঠিক করলো সে স্টিভের কোন কথাই শুনবে না। স্টিভ যতই অত্যাচার করুক। রুমে এখন স্টিভ নেই। সে বাথরুমে। বাথরুম থেকে বের হয়ে স্টিভ তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলো। অনিক ভাবছে যতই হাসি দেক সে একদম পাথর হয়ে থাকবে। কিন্তু যা ভাবলো তার উল্টা হল। স্টিভ তার হাতের বাঁধন আর পায়ের বাঁধন খুলে দিলো। তারপর একটি শার্ট এগিয়ে দিয়ে বলল
পর।
স্টিভের মুখে পরিষ্কার বাংলা শুনে তো অনিক অবাক।তার উপর শার্ট এগিয়ে দিচ্ছে।অনিক শার্ট নিয়ে গায়ে দিলো।
তুমি নিশ্চয়ই খুব অবাক হচ্ছো কেন আমি তোমাকে সাহায্য করছি?
হ্যাঁ
সব বলছি। ধৈর্য ধর।আমি একজনের জন্য অপেক্ষা করছি। সে আসলেই সব খুলে বলবো। ততক্ষণ টিভি দেখো। রিলাক্স কর। ভয়ের কিছু নেই।
স্টিভের ঘরের বিশাল জানালা দিয়ে ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছে । বৃষ্টি পড়বে সম্ভবত। স্টিভ একটা ওয়াইনের বোতল বের করলো। অনিক খাবে না। স্টিভের বিছানায় কম্বল গায়ে দিয়ে শুয়ে রয়েছে। সারাদিনের ধকলে ক্লান্ত।
হটাত করেই একটা হুড পরা ছেলে জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকলো । জানালা গুলো বিশাল। কোন শিক নেই। মানুষ ঢুকার জন্য যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। ছেলেটি কে ঢুকতে দেখে অনিক ধরমর করে বিছানা থেকে উঠে বসলো।
আরে ভয়ের কিছু নাই। আমি অর্জুন
অর্জুনের নাম শুনে অনিক হতবাক হয়ে গেলো।
তুমি এখানে কেন?
সে অনেক কথা। বলছি তোমাকে। আমি আসলে অর্জুন নই। তোমার খুব পরিচিত একজন
পরিচিত? কে?
একটু মাথা খাটাও। বলতে পারবে।
উহু পারছি না।
আমি রুশো
অনিক নিজের কান কেও যেন বিশ্বাস করতে পারছে না।
রুশো ? কিন্তু কিভাবে?
সব বলছি। যখন তুমি আমাকে চ্যাটে ম্যাসাজ পার্লারে জব করার কথা বললে তখন আমার ভাল লাগে নাই। পরে খোঁজ নিয়ে দেখলাম নাফিজ ভাইয়ের ম্যাসাজ পার্লার থেকে আগেও তিনজন ম্যাসাজ বয় নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। আমি খুব ভয় পেলাম। আমি স্টিভ কে বললাম। স্টিভ আমার বন্ধু। সে জার্মান কিন্তু বাংলাদেশে বড় হয়েছে। তাই বাংলা পারে। সেই আমাকে এই প্ল্যান টা দিলো।আমি ম্যাসাজ বয় হিসেবে তোমার সাথে সাথে পার্লারে যোগ দিলাম। আর স্টিভ আসলো কাস্টমার হিসেবে। যতই কাজ করতে লাগলাম ততই গভীরে ঢুকতে লাগলাম। আমি যত না জানতে পেরেছি স্টিভ তার থেকে অনেক বেশি জানতে পেরেছে। কারন রেশাদ সাহেব তাকে খুব বড় বিজনেসম্যান এবং সেক্স ফ্রিক মনে করেছেন। স্টিভ সেভাবেই অভিনয় করেছে। তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার প্রতিশ্রুতি পেয়ে রেশাদ সাহেব তাকে রোজ ভিলায় আমন্ত্রণ করেছে। এভাবেই রোজ ভিলার কথা জানলাম।আর এদিকে আমি তোমার উপর নজর রাখছিলাম। সেদিন সিন ক্রিয়েটের পর আমি ধরেই নিয়েছিলাম তোমাকে রোজ ভিলায় পাচার করা হবে। রূপক ছেড়ে দিবে না। তুমি অনেক সুন্দর। তোমার চাহিদা তাদের কাছে অনেক বেশি। প্রথমে তোমাকে টাকার লোভ দেখানো হয়েছিলো। তুমি রাজি হও নাই। তাই এখন গ্যাং ব্যাং এ তোমাকে নেয়া হয়েছে। বেঁচে থাকলে পাঠানো হবে শেখ দের কাছে মিডল ইস্ট। যাই হোক তোমার কোন ভয় নাই। আমরা এসে গিয়েছি।
অনিকের কাছে সব থ্রিলার গল্পের মত লাগছে। এমনও বাংলাদেশে হয়।
ধন্যবাদ রুশো । কিন্তু এতো সিকিউরিটি পার হয়ে তুমি আসলে কিভাবে ?
নাফিয ভাইয়ের মানিব্যাগ চুরি করেছি। সেখানে সিকিউরিটি পাস ছিল। সেটা পাঞ্চ করে ঢুকেছি। এখানে গেটে সিকিউরিটি কার্ড পাঞ্চ করলে গেট অটোমেটিকালি খুলে যায়। এসব তথ্য দিয়েছে স্টিভ। ও না থাকলে কিছুই করতে পারতাম না। তারপর জানালা দিয়ে এই ঘরে। আর আমাকে ধন্যবাদ দিও না। আমি বন্ধুর জন্য করেছি। বন্ধুর জন্য বন্ধু করবে এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু তারপরও এত রিস্ক নিয়ে শুধু আমার জন্য।
উহু এইভাবে বলবা না। আর স্টিভ তো অনেক করেছে। ওকে ধন্যবাদ দাও।
স্টিভের কাছে চির কৃতজ্ঞ আমি।
এই বলে অনিক বিছানা থেকে উঠে এসে স্টিভ কে হাগ করলো তারপর রুশো কে। রুশোর গালে একটা ছোট কিস করলো । রুশোর চোখ মুখ তো লজ্জায় লাল হয়ে গেলো।
এখন তোমাদের প্ল্যান কি? পুলিশ কে খবর দিবা না?
আজকে না। পূর্ণিমার দিন একসাথে সবাই ধরা পরবে। সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করছি। তুমি ধৈর্য ধরে আরো ৪ টা দিন কষ্ট কর। ভয় নেই স্টিভ আছে তোমার সাথে।
তুমি কই যাবা?
আমি তো আর এখানে থাকতে পারবো না। পার্লারে তো যেতে হবে নাহলে সন্দেহ করবে। আচ্ছা এখন আমি যাই। পূর্ণিমার দিন দেখা হবে
এরপরের চার দিন স্টিভের ঘরে কাঁটালো অনিক। টিভি তে সিনেমা দেখে। হিন্দি আর ইংলিশ মিলিয়ে প্রায় ৮ টা সিনেমা দেখা হয়ে গেলো তার। এক অর্থে আরামেই কাটলো। কেউ খবরও নিতে আসে নাই। অনিক এর খুব চিন্তা হয়। পূর্ণিমার রাতে সব ঠিক ঠাক মত হবে তো।
১৪
আজকে পূর্ণিমা। ঠিক শালবনের মাঝখানে একটা প্রাসাদ রোজ ভিলা। লোকালয় থেকে অনেক দূরে। আজ এখানে পার্টি । অপরূপ সাজে সজ্জিত রোজ ভিলা। বাইরে লাল নীল আলো। ঘরের ভিতরে ও অপরূপ ডেকোরেশন করা হয়েছে। বাইরের ৫ জন আর ভিতরের ৫ জন। সব মিলিয়ে ১০ জন ভি আই পি গেস্ট। সবাই এই অনুষ্ঠানের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দিবে। এদের মাঝে রয়েছেন রাজনীতিবিদ , অভিনেতা, বিজনেসম্যান। ১০ জন অতিথি রাতে থাকবেন। তাই ১০ টা ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। আর ১০ জনের জন্যই আলাদা আলাদা এসকোর্ট রয়েছে। গ্রুপ সেক্স আর গ্যাং ব্যাং করা হবে ভিতরের নাচ ঘরে। বাইরের ড্রয়িং রুমে ডিনার , মদ আর নাচ।নগ্ন হয়ে কিছু ড্যান্সার নাচবে ফ্লোরে।
অতিথি রা সবাই গ্যাং ব্যাং নিয়ে উত্তেজিত। এই ধরনের অভিজ্ঞতা এই প্রথম হবে। বিদেশি পর্ণে দেখা যায়। কিন্তু বাস্তবে কক্ষনোই দেখে নাই। আর পার্টির বিশালতা দেখে তো তারা হতবাক।
অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেলো । অথিতিরা বাইরের ড্রয়িং রুমে খাচ্ছেন। চারিদিকে হুইস্কি আর ভদকার ছড়াছড়ি।কিছু ছেলে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে নাচছে। ধুমধাড়াক্কা গানের সাথে। কিছু ছেলে ক্রস ড্রেসিং করে এসেছে। তারাও নাচছে। ভি আই পি গেস্ট দের অনেকেই তাদের সাথে জুটি বেধেছে নাচার জন্য। ডিনারের আয়োজন রয়েছে।কিন্তু সবাই হাল্কা খাবার খেলেন। এরপরে গ্রুপ সেক্সের আয়োজন হবে।
সবাই মোটামুটি অর্ধনগ্ন হয়ে নাচঘরের আসলো। ঘরটিতে আলো আধারির খেলা। অল্প কিছু স্পট লাইট টিম টিম করে জ্বলছে। সব ভি আই পি গেস্ট উপস্থিত শুধুমাত্র স্টিভ ছাড়া।সবাই উত্তেজিত। কক্ষনোই তারা গ্রুপ সেক্স করে নাই। শুধু পর্ণে দেখেছে।এদিকে স্টিভ এর খোঁজে খবর পাঠালেন নাফিয কে দিয়ে তার রুমে রেশাদ সাহেব। তিনি আর রূপকও আছে। ২ জনই পুরো নগ্ন।নাফিয আছে সব কাজে দেখভালের জন্য। সে কোন সেক্সে অংশগ্রহণ করবে না। এছাড়া এই ঘরটি তে আর কেউ নেই। বাইরের কড়া সিকিউরিটি। কেউ ঢুকতে পারবে না অনুমতি ছাড়া।জোর করে ঢুকতে গেলেই গুলি করে মেরে ফেলা হবে।
এদিকে ছেলেটা খোঁজ নিয়ে এসে কানে কানে কি জানি বললেন রেশাদ সাহেবের। রেশাদ সাহেবের মুখ অন্ধকার হয়ে গেলো। কিন্তু তিনি স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছেন।তিনি মাইক নিয়ে ঘোষণা দিলেন
সম্মানিত অতিথিবৃন্দ কিছু কারিগরি সমস্যা হয়েছে। আমি আর রূপক দেখে আসছি । কিছুক্ষণের মাঝেই আমাদের অনুষ্ঠান শুরু হবে। আপনাদের কাছে অনভিপ্রেত বিলম্বের জন্য ক্ষমা প্রার্থী।
পুরো নাচ ঘর জুড়ে গুঞ্জন শুরু হল। কেউ বিশ্বাস করছে না। রেশাদ সাহেব রূপক কে নিয়ে দ্রুত হল ত্যাগ করলেন। পিছন পিছন গেস্ট রা আসছিলেন। কিন্তু নাচঘরের দরজা বন্ধ করে দিতে বললেন রেশাদ সাহেব। সকল অতিথি নাচঘরেই আটকা পড়লো । রেশাদ সাহেব খবর পেয়েছেন পুলিশ সারা প্রাসাদ ঘিরে ফেলেছে। তিনি পালাতে চান। কিন্তু এত মানুষ নিয়ে পালানো যাবে না। তাই তিনি অতিথি দের কে নাচ ঘরে আঁটকে রেখে পালাচ্ছেন।
হেলিকপ্টারে পালাবেন তিনি। তার নিজস্ব প্রাইভেট হেলিকপ্টার আছে। তিনি আর রূপক কোন রকমে একটা শর্টস পরে চলে এসেছেন। বাইরে বৃষ্টি।সাথে ঝড় কিন্তু এই বৃষ্টির মাঝেই পালাতে হবে।তারা বৃষ্টি তে পুরো ভিজে গেছেন। ছাতা নেই। কি করা ।অবস্থা এমনই। দেরি করা যাবে না।সাথে শুধু নিয়েছেন মানি ব্যাগ আর ক্রেডিট কার্ড । হেলিকপ্টার রেডি করা হয়েছে।সব সময় রেডি থাকে। ইমারজেন্সির কথা ভেবে এটা করা হয়েছে। হেলিকপ্টারে উঠতে যাবেন ঠিক সেই মুহূর্তে ঘিরে ধরলো পুলিশ। সাথে অর্জুন ওরফে রুশো । গায়ে কালো রঙের রেইনকোট।
রেশাদ সাহেব আপনার খেলা শেষ । আমি জানতাম আপনি পালাতে চাইলে হেলিকপ্টার দিয়ে পালাতে চাইবেন। তাই তো আমি এখানেই অপেক্ষা করছিলাম।
ইউ আর আন্ডার এরেস্ট রেশাদ সাহেব।
রেশাদ সাহেব অগ্নি দৃষ্টি তে তাকালো রুশোর দিকে। পারলে ভস্ম করে দেয়।ছুটে এসে রুশোর কলার ধরে টান দিয়ে বলল
তোর জন্য আজ এই অবস্থা আমার। তোকে ছাড়বো না। আমাকে জেলে আটকিয়ে রাখতে পারবে না পুলিশ। বের হয়ে নেই । তোর খবর আছে।
পুলিশ এসে ছারিয়ে নিলো রেশাদ সাহেব কে। হাতকড়া পরিয়ে দিলো। পিছনে রূপক দাঁড়িয়ে। তাকেও হাতকড়া পরানো হল। পুলিশের ভ্যানে উঠানো হল দুজন কেই। রেশাদ সাহেব আবারো অগ্নি দৃষ্টি তে তাকালেন রুশোর দিকে। আস্তে আস্তে গাড়ি টা রোজ ভিলার গেট পার হয়ে হাইওয়েতে চলে আসলো।
১৪

রুশো এসে স্টিভের ঘরে ঢুকলো । অনিক চিপস খেতে খেতে খেলা দেখছে। যেন কিছুই হয় নাই। রুশোর রাগ লাগলো।
ও আমাকে ছেড়ে মজা করে খেলা দেখা হচ্ছে। আর আমি কষ্ট করে রেশাদ সাহেবের পিছনে ছুটলাম।
আহা রাগ করে না বাবু? আমি কি করবো করবো বল। আমার তো কিছু করার নাই। বাই দা ওয়ে। বৃষ্টি তে ভিজার পর তোমাকে তো অসম্ভব সেক্সি লাগছে।
হুহ
এইবার অনিক বিছানা থেকে উঠে এসে হাগ করলো রুশোকে। কোমর জড়িয়ে ধরে রুশোর গোলাপি ঠোঁটে হাল্কা একটা চুমু দিলো। রুশো চুষতে লাগলো অনিকের ঠোঁট। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘরে ঢুকলো স্টিভ। লজ্জা পেয়ে ২ জনই ছিটকে সরে গেলো ।
ওহ ভুল সময়ে চলে এসেছি।
এই বলে স্টিভ রুম থেকে বের হয়ে গেলো।
তারপর ২ জন লিপ্ত হল আবারো প্রেম লীলায়।সারা রাত প্রেম করলো তারা। ভালবাসলো একজন আরেকজন কে।
পরিশিষ্ট
এই খবরটা কোন নিউজপেপার এ আসলো না। কিন্তু সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা জানলেন। রেশাদ সাহেব, রূপক , নাফিযের বিচার হচ্ছে।আর রুশো আর অনিক এখন রিলেশনে। তারা একটা ম্যাসাজ পার্লার খুলেছে। কিন্তু সেখানে শুধু ম্যাসাজ হয় । আর কিছু না। স্টিভ জার্মানি নিজের দেশে চলে গিয়েছে। সেখানে বিয়ে করেছে । মাঝে মাঝে ফেসবুক আর ইমেইলে যোগাযোগ হয় স্টিভের সাথে অনিক আর রুশোর।
এই গল্পের প্রতিটি চরিত্র ঘটনা কাল্পনিক। বাস্তবের সাথে কোন মিল নেই।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.