প্রেমিক

লেখক :- Valentine

২০১২ সালে আমার ফেক আইডি থেকে রিজনের সাথে আমার পরিচয় ! আমার বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর কাদির মোল্লা টেক্সটাইলে এসিস্টেন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে রিজন চাকরি করে !প্রতিদিন আমার আর রিজনের মোবাইলে কথা বলার একটা সিডিউল হয়েগিয়েছিল আমাদের অজান্তেই !
রিজন অফিসে গিয়ে সকাল ৮ টায়,নাস্তা করার সময় সকাল ১০ টায়,আবার সকাল ১১ টা থেকে ১২ টার মধ্যে একবার,আবার লাঞ্চ এর সময় দুপুর ১ টা থেকে ২ টার মধ্যে আবার বিকেলের আগে একবার ৩ টা থেকে ৪ টার মধ্যে এবং রাতে বাসায় গিয়ে ৮ টায় আমাকে মোবাইলে কল করতো !এই সময় গুলো আমার একদম সিডিউল হয়ে গিয়েছিল !প্রতিদিন আমাদের ৬ বার কথা হতোই ! প্রায় ১ মাস ধরে আমরা কথা বলছি দুজনার সম্মন্দে সব কথা বলা হয়েগেছে আমাদের ! রিজনের পরিবারে শুধু ১ বোন আর ১ ভাই আছে আর তার বাবা মা মারা গেছে প্রায় ৮ বছর আগে ! ভাই বোন দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে
এভাবেই কথা বলতে বলতে আমাদের মধ্যে একটা ভাল সম্পর্ক হয়ে গেছে রিজন গে না তবে সেযে আমাকে ভালবাসে সেটা আমি বুঝে গেছি,আর আমি? সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না আমি তো ভালোবেসে লোটুপূটি খাচ্ছি !
রমযান মাস এসে গেল আমি রিজনকে ইফতারের দাওয়াত দিলাম
আজ রিজন আমার বাড়িতে প্রথম আসবে আজই আমি তাকে সরাসরি প্রথম দেখবো
বিকেল ৫ টায় রিজন আমাদের বাড়ীর সামনে বাজারে এসে আমাকে কল করলো
আমার বারী নরসিংদী জেলার পলাশ থানার পারুলিয়া গ্রামে !আমার বাড়ির সামনে ই সাধুর হাট বলে একটা হাট আছে রিজন সাধুর হাটে এসে আমার জন্য অপেক্ষা করছে

রিজনকে প্রথম দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম তাকে ছবিতে যেমন দেখেছি বাস্তবে তার থেকে আরো অনেক সুন্দর ! তার গায়ের রঙ কালো, সিনেমার আর কল্পনার নায়কদের মত ফর্সা নয় ! আর উচ্চতায় প্রায় ৫.৮” এর মত হবে আর দারুণ স্মার্ট একটা ছেলে ! যখন হাসি দিয়ে আমার দিকে তাকালো আমি তখন অবাক চোখে তার হাসিটা দেখছিলাম তার মুক্তর মত সাদা সুন্দর দাতের হাসি আর তার গায়ে ছিল কালো রঙের একটা ফরমাল পেন্ট আর আকাশি রঙের শার্ট, শার্ট এর উপরের একটা বুতাম খুলা আর সেদিক দিয়ে তার বুকের সুন্দর লোম গুলো কিছু বেরিয়ে আছে আমি রিজনের রুপে মুগ্ধ হয়ে আনমনে রিজনের দিকে তাকিয়ে আছি !
রিজন বললো হ্যালো ! কি কথা বলছো না যে ?
আমি হকচকিয়ে উঠলাম !
আমিও নির্লজ্জের মত মনের কথা টা একদম সরাসরি বলে দিলাম
তোমার শারীরিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করছিলাম আজি প্রথম কাছ থেকে দেখলাম তো তাই ।
রিজন কিছুটা লজ্জা পেয়ে হাসি দিয়ে বললো এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি বাড়ি নিয়ে যাবে ? ইফতারের সময় তো প্রায় হয়ে ই গেল । আমরা বাড়ির দিকে চললাম
আমার বাড়িতে শুধু আমার মা আর আমি থাকি ! আমার কোন ভাই বা বোন নেই আমার জন্মের ১ বছর পরেই আমার বাবা মারা গেছে !
সেদিন ইফতার করে রিজন আবার তার বাসায় চলে গেলো

কদিন পরেই ঈদ আমি রিজনের সাথে ফোনে কথা বলার সময় একদিন তাকে বললাম
আচ্ছা তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?
রিজন হাসতে হাসতে বললো
– কিজানি জানিনা
– জানোনা মানে ?
– জানিনা মানে জানি না
– অহ এত দিনে বলছ জানোনা? ঠিক আছে তুমি যদি কিছু বলতে না পারো তাহলে আমাদের আর দেখাই হবে না
– আমার বলতে হবে, তুমি বুঝনা ? জানোনা আমি এসব কথা বলতে পারি না
– আহারে আমার বাচ্চা ছেলেটা লজ্জা পায়,শুনো তুমি যদি আমাকে ভালোবাস তাহলে এবারের ঈদ টা আমার সাথে করতে হবে
– হ এইবার হইছে তাহলে,আমারে মাইরা লাইবো আমার ভাই আর বাড়িতে জায়গা দিবোনা তাইলে আমারে
তাছারা আমি তোমার বাড়িতে ঈদ করবো কেন আমার কি বাড়ি ঘর নাই?
– আমি অত শত বুঝি না আমারে ভালবাসলে এবারের ঈদটা আমার বাড়িতে আমার সাথে করতে হবে আমার সাথে ঈদ না করলে আমি বুঝবো তুমি আমারে ভালোবাসোনা ব্যাস !
– আমি তোমারে ভালোবাসি না এটা এখনি বলে দিলাম এটা আবার ঈদ না করে বুঝাতে হবে নাকি
আমি রেগে মেগে ফোন টা কেটে দিলাম

ঈদের আগের দিন সকালে আমি আমার ঘর গুছাতে ব্যাস্ত হঠাৎ রিজনের ফোন
– কি আমাকে ফোন করেছো কেন?
– কেন, তোমাকে ভালো নাবাসলে কি তোমার সাথে কথা বলা যাবে না?
– না তানা বল কি বলবে আমার তারা আছে
– কিসের তারা?
– আমি ঈদের কাজ করছি তুমিতো আর আমার কাজ করে দিবে না আমার কাজ আমার একাই করতে হবে
– কেন আমি কি বলছি যে আমি তোমার কাজ করে দিবো না, কি কাজ করতে হবে বল, আমি করে দিবো
– ইস…. নিজে আমারে ভালোবাসে না আবার আমার কাজ করে দিবে
– চিন্তা করোনা জীবনে এই প্রথম আমি বাড়ি যাচ্ছিনা ঈদ করতে
– কি ??.. সত্যি ?
– না মিথ্যা ! শুনো আমি বিকেলে তোমাদের বাড়িতে চলে আসবো কিন্তু আমার খুব লজ্জা লাগছে মানুষ কি ভাব্বে যে আমি নিজের বাড়ি রেখে তোমার বাড়িতে ঈদ করছি,আমি একা একা আসতে পারবো না তুমি এসে আমাকে নিয়ে যেও
– অবশ্যই জাহাপনা , জু হুকুম , আমি ৩ টার দিকে ভেলানাগর চলে আসবো তুমি বাস স্ট্যান্ড এ থেকো
– ওকে

রিজন মুখে কিছু না বললেও সে বুঝিয়ে দিলো যে সে আমাকে ভালোবাসে
আমিও ভাবলাম ভালোবাসি ভালোবাসি বার বার মুখে বললেই ভালোবাসা হয় না আমার প্রতি রিজনের ভালোবাসা আসল তাই এত শো অফ করার দরকার নেই
রিজন আর আমি একসাথে ঈদ করলাম আমার আম্মাও রিজনকে খুব আপন করে নিলো
ধীরে ধীরে রিজন আমার বাড়িতে আপন হয়ে গেল, প্রতি সপ্তাহে ৩/৪ দিন এখন রিজন আমার বাড়িতে থাকে সারা দিন অফিস করার পর বাসায় গিয়ে গোসল করে রাতে আমার বাড়িতে চলে আসে আবার আমার বাড়ি থেকে সকালে অফিসে যায়
রিজন যেনো আমার বাড়িরই একজন সদস্য হয়ে গেছে এখন !
আমার বাড়িতে ভালোমন্দ কিছু রান্না হলে সেটা রিজনকে ছাড়া খাওয়া হয়না
আমার এক চাচাতো ভাবি আছে উনি যানেন যে আমি গে আর আমি আর রিজন দুজন দুজনকে ভালোবাসি আমরা এখন কাপল !
এভাবেই ১ বছর চলে গেল !
রিজনের জীবনের সব ভালমন্দ সুখ দুখের সব আমি জানি আমার জীবনের সব কিছুও সে জানে ! রিজনের খুব শখ সে একটা মটর বাইক কিনবে সেই জন্য সে প্রতি মাসে
কিছু কিছু করে টাকা জমাচ্ছে
আমি জিজ্ঞেস করলাম কত টাকা জমেছে এ পর্যন্ত ?
– কত আর এই ৭০/৮০ হাজারের মত
– কিন্তু মোটা মোটি মানের একটা বাইক কিন্তেও এখন প্রায় দুই আড়াইলাখ টাকা লাগবে
আমি লক্ষ করলাম রিজনের মধ্যে একটা হতাশা ভেসে উঠছে
আমি মনে মনে ভাবলাম ইস কেন যে আমি গরিব হলাম আজ যদি আমার টাকা থাকতো তাহলে আমি তাকে বাইক কিনে দিতে পারতাম

একদিন রিজন আমাকে ফোন করে বললো টঙ্গীতে আকিজ কোম্পানিতে তার একটা চাকরি হয়েছে সেটা আরো ভাল এবং বেশি বড় পোস্ট তাই সে আগামি মাস থেকে টঙ্গীতে আকিজ কোম্পানির চাকরিতে জয়েন করবে
খবরটা শুনে আমার খুব মন খারাপ হয়ে গেলো, আবার ভাবলাম থাক সেতো ভালো একটা চাকরি পেলো এবার হয়তো তার বাইক কিনা টা হবে
রিজন পরের মাসে টঙ্গীতে চলে গেল, আমাদের নিয়মিত কথা হয় রিজন প্রতি ১৫ দিন পর পর আমার কাছে আসে
এভাবেই চলছিল আমাদের জীবন
কিন্তু আমি খেয়াল করলাম ধীরে ধীরে রিজন আমাকে ফোন করা কমিয়ে দিয়েছে
এবং ৩ মাস পর থেকে এখন মাসে একবার আসে, আমার মন টা কেনজানি কু ডাক ডাকছিল
আমার প্রেমিকটার কিছু হলে সেটা আমার মন তো জানতে পারবেই
আমার মন টা আমাকে বলছিলো কিছু একটা সমস্যা নিশ্চয়ই আছে, আমি তার পরিবর্তন ক্লিয়ারলি টের পাচ্ছি
আমি সারাদিন ভেবে ভেবে একটা পথ বেরকরলাম তার ব্যাপারে কিছু জানার
আমি আমার এক বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করে আমি রিজনের ফেসবুক আইডিটা হ্যাক করি এবং আমি তার ফেসবুকে ঢুকে তার ম্যাসেজ গুলো পড়তে থাকি
২/৩ টা ম্যাসেজ পড়ার পরই আমি জেনে গেলাম আসল ব্যাপার
আমার দুচোখ দিয়ে আমার অজান্তেয় পানি চোলে এলো আমার বুকটা ভেঙ্গে গেলো
আমার চার পাশের পৃথিবীটা যেনো বিষাদময় হয়ে উঠলো
রিজন তার অফিসের পাশের ই একটা ছেলের সাথে ফেসবুকে সেক্স চ্যাট করেছে, অই ছেলে আর রিজন দুজন দুজনের অনেক প্রাইভেট ছবি আদান প্রদান করেছে
রিজন ওই ছেলেকে i love you বলে ভয়েস ম্যাসেজ পাঠিয়েছে
রিজন আর ওই ছেলের মধ্যে যে চরম প্রেম চলছে সেটা আমি বুঝে গেলাম ওদের চ্যাট পড়ে
মানুষ এতো বেঈমান হয় ? এতো ধোকাবাজ হয় ?
আমি ভাবলাম এটাই হল রিজনের আসল চরিত্র সে যেখানে যায় সেখানেই ওই এলাকার কাউকে বোকা বানিয়ে ধোকা দিয়ে নিজের সুখ আর এঞ্জয়টা সে নিয়ে থাকে
আমরা গে তাই বলে কি আমরা মানুষ না ? আমাদেরকে এভাবে অন্যরা ব্যাবহার করবে তাদের একটু সুখের আর মজার জন্য ? আমাদের মন ভালোবাসা নিয়ে খেলা করবে ?
আমি ওই ছেলের ফেসবুক থেকে তার নাম্বার নিলাম এবং ওই ছেলেকে ফোন করলাম
ওই ছেলে আমার সাথে ভাল আচরণ করলনা, আমি ওই ছেলেটাকে বার বার বুঝাতে চেস্টা করলাম যে রিজন আমাদের মত গে দেরকে ইউজ করছে জাস্ট তার মনোরঞ্জনের জন্য
কিন্তু ছেলেটা আমার কথাতে পাত্তা দিলো না, আমার মন টা আরো খারাপ হয়ে গেল, মনে মনে ভাবলাম গে রা নিজেরা এতো খারাপ হয় কেন? তারা এক গে আরেক গে কে কেন বিশ্বাস করে না ? আপন ভাবে না ?
আমরা গে রা ইতো আমাদেরকে অন্যদের খেলার পুতুল বানিয়ে ফেলি !
কিন্তু আমি যে রিজনকে এখনো ভালোবাসি তার শত দোষের প্রতারনার পরেও যে তার জন্য আমার মন কাঁদে
আমি রিজনকে ফোন করলাম তাকে আমার দেখা সব কিছু বললাম সে শুধু বললো
তোমার আরো কিছু বলার আছে ? না থাকলে এখন ফোন রাখো !
আমার যা ভালোলাগে আমি তাই করব, তুমিকি আমার বিয়ে করা বউযে তুমি ছাড়া আমি অন্য কারোকাছে যেতে পারবো না ?
আমি কস্টে ফোনটা কেটে দিলাম আর কেদে কেদে রাত পার করলাম সকালে আম্মর ঘরে গিয়ে দেখি আম্ম বিছানা থেকে নিচে পড়ে আছে আমি চিৎকার করে পাশের বাড়ির ভাবিকে ডাকলাম
ভাবি আসলো ভাই আসলো আরো অনেকেই আসলো আমরা আম্মকে নিয়ে হাস্পাতালে গেলাম ডাক্তার বললো উনি অনেক আগেই মারা গেছেন !
আমার কস্টের দুখের সীমানা পেরিয়ে গেছিল তখন,আমি শুধু চিৎকার করতে থাকলাম আর আল্লাহকে ডাকতে থাকলাম, আমারযে এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই আমি যে নিঃস্ব হয়ে গেলাম ! এত দুঃখ এত বেথ্যা আমি আর সইতে পারছিনা !

আম্ম মারা যাবার পর ৪০ দিনের মিলাদ করে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি আর দেশে থাকবোনা আম্মর মৃত্যুর খবর শুনেও রিজন আম্মুকে দেখতে আসলো না ?
এতোটাই খারাপ সে ? সে প্রেমিক হিসেবে না হয় নাইবা এলো মানুষ হিসেবেতু আসতে পারতো আমার মায়ের জানাজায় ? ভাবিতো রিজনকে ফোনকরে বলেছিলো যে আম্ম মারা গেছে, সে আসলে তো আমার মনটা একটু শান্তি পেতো, এসব ভাবছি আর আবারো আমি কাদছি !
ভাবি এসে আমার পাশে বসলো আর বললো , দেখ এই জীবনে এইসব গে ভালোবাসা, ফেসবুক বন্ধু সব মরীচিকা আমরা যারা বাস্তব জীবনে আপনজন কাছের মানুষ আছি আমরাই আসল আপনজন, এসব চিন্তা বাদ দিয়ে এবার বাস্তববাদী হ ! তোর ভাইকে বলেছি তোদের ক্ষেতের জমি বিক্রির সব ব্যাবস্থা করে দিবে আগে তোর বিদেশের ব্যাবস্থা হোক!

২ মাস পর আমার ভিসা হয়ে গেলো আমি কাতার চলে যাবো ,কাতার যেতে আমার টাকা লাগে ৫ লাখ আর আমি আমার জমি বিক্রি করেছি ৬ লাক ৫০ হাজার টাকা
আমি কাতার যাবার দিন ভাবির হাতে একটা গিফট বক্স দিয়ে বলেছি ভাবি আমি কাতার চলে যাবার পর আপনি টঙ্গীতে গিয়ে রিজনকে এই বক্স টা দিয়ে আসবেন এটা তাকে দেওয়া আমার শেষ উপহার
আমি কাতার চলে যাওয়ার ৪ দিন পর ভাবিকে ফোন করলাম ,
ভাবি বললো, ওই বক্সে কি দিয়েছিস রিজনকে ?
আমি বললাম, ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা
– কি ? তুই ওই বেঈমানকে এত গুলো টাকা দিয়া দিলি ?
– হ্যাঁ ভাবি সে তার অভিনয়ে উত্তির্ন্য তাই সে আমাকে ব্যাবহার করতে পেরেছে তাহলে আমি কেনো আমার ভালোবাসায় উত্তির্ন্য হবো না ? তার প্রতারনা যেমন সত্য ছিল আমার ভালোবাসাও তেমন সত্য ছিল
– দেখ সাইমন ! রিজন আমাকে ঐদিনই ফোন করেছিলো আর বলেছিল যে অই বক্সে টাকা ছিল, সে বলেছে সে তোকে ভালোবাসতঁনা কিন্তু সে এখন তোর সব কথা শুনে খুব কস্ট পেলো
রিজন বললো সে মনে করেছিল আমরা তোর মায়ের মিথ্যা মৃত্যুর খবর বলে তাকে নরসিংদীতে আনতে চাইছি তাই সে আসেনি
– যাই বলুক ভাবি সেতো অন্য ছেলের কাছে গিয়েছে এর থেকে বেশি খারাপ আর কি হতে পারে তবে তাকে আমি ওই বক্সে একটা চিঠিও দিয়েছি,আসলে রিজনের খুব শখছিল একটা বাইক কিনবে তাই তাকে এই টাকাটা দিলাম,সে ওই টাকা দিয়ে বাইক কিনবে আমি সেভাবেই চিঠি লিখে দিয়েছি ওই বক্সে

দুঃখে কস্টে কাজের ব্যাস্ততায় কাতারে আমার প্রবাশি জীবন চলতে লাগলো,
ভাবিকে মাঝে মাঝে ফোন করলে জানতে পারি রিজনও নাকি মাঝে মাঝে ভাবিকে ফোন করে আমার কথা জানতে চায়, কিন্তু রিজন কোন দিন আমার নাম্বার চায়না ভাবির কাছে আর আমিও রিজনকে কখনো ফোন করি না । এভাবেই ২ বছর চলে গেল,
আজ ভাবির কাছে শুনেছি রিজন বিয়ে করবে তার ভাই বোনরা তার জন্য বিয়ে ঠিক করেছে খবরটা আমার বুকের মাঝে আবারো সেই কস্ট গুলোকে তাজা করে দিলো ! নিজে নিজেই ভাবতে থাকি কত কঠিন আর অকৃতজ্ঞ হতে পারে মানুষ তার বাস্তব দৃষ্টান্ত রিজন !
সে একবার আমার কথা ভাবলো না ,আমি যানি সে হয়তু আমাকে প্রথমেই বলেছিল যে সে গে না কিন্তু ভালোবাসায় গে নারী পুরুষ এসব এর কোন ভুমিকা আছে ? হাইরে আমার প্রেমিক আমার জীবনে এলি কিন্তু আমাকে প্রেম দিলি না আমার ভালোবাসায় সে তার স্বপ্নের বাইক কিনলো কিন্তু আমার ভালবাসাকে সে সম্মান দিলো না মূল্য দিলো না ! রিজনকে নিয়ে সেই বাইকে আমার আর ঘুরা হলনা !
আমার টাকা টা নিলো অথচ একবারের জন্য ও আমাকে একটা কৃতজ্ঞতা বা সস্তা ধন্যবাদ টুকুও দেওয়ার বোধ টুকু তার মধ্যে এলো না !
মনের কস্টে এখন আমি আর ফেসবুকও চালাইনা ! ফেসবুক বন্ধু বলতে আর রিয়েল বন্ধু বলতে আমার এলাকার পলাশের ই এক ভাই আছে ভ্যালেন্টাইন ভাই !
মাঝে মাঝে উনার সাথে কথা হয় !
ভ্যালেন্টাইন ভাইয়ার অনুরুধে আমি ভাবলাম উনার সমপ্রেমি অনলাইন ম্যাগাজিন ভ্যালেন্টাইন এ আমার আর রিজনের ঘটনাটা লিখে দিব !
কিন্তু কে জানতো আমার আর রিজনের এই প্রেমের গল্পের যে এখানেই শেষ নয় সামনে যে আমার জন্য আরো কিছু অপেক্ষা করছে !

একদিন ছুটির দিন শুক্রবারে দুপুরে আমি ঘুমিয়েছিলাম বিকেলে ঘুম থেকে উঠে দেখি ভাবির প্রায় ১৪ টা মিসডকল ! সাথে সাথে ভাবিকে কল করি
– সাইমন শোন তোর রিজন তো বাইক এক্সিডেন্ট করেছে ! এখনো বেচে আছে নাকি মরে গেছে জানি না তবে শুনেছি খুব খারাপ অবস্থা
– কি ? কি বলছেন ? ভাবি আপনাকে কে বলেছে এই কথা ?
– রিজন এর কলিগ আমাকে ফোন করেছিলো সে রিজনের সব আত্তিও বন্ধুদেরকে খবর দিয়েছে
– ভাবি দয়া করে প্লিজ ভাইকে একটু বুঝিয়ে শুনিয়ে আপনি ঢাকা গিয়ে একটু রিজনকে দেখে আসেন না প্লিজ, কি হাল অবস্থা সব জেনে আসবেন, আমার কাছে রিজনের ভাইয়ের নাম্বার আছে আমি ওর ভাইকে এখনি ফোন করব দেখি উনি কি বলে
রিজনের ভাইকে ফোন করে জানতে পারলাম তারা অলরেডি ঢাকা চলে এসেছে
রিজনের অবস্থা খুব খারাপ অনেক খারাপ ভাবে এক্সিডেন্টা হয়েছে
যত যাইহোক আমার তো সে প্রেমিক আমার প্রেম !
হোক বেঈমান তবুওতো আমার ভালবাসা, আমার ভালোবাসা এতো ঠুমকো নয় যে শুধু ভালোকেই ভালোবাসবো আর খারাপ কিছু দেখলে ছেরে চলে আসবো

২ দিন পর জানতে পারলাম রিজনের ২ টি পা ই আর নেই ! এমন ভাবে নস্ট হয়েছে যে হাটু থেকে কেটে ফেলে দিতে হয়েছে, মাথায় হেলম্যাট ছিলো বলে মাথা রক্ষা পেয়েছে আর সে বেচে আছে

রিজনের ভাই বলেছে তাকে কে দেখবে কে এখন তার কাছে থাকবে এমন কাউকে পাচ্ছে না
রিজনের ভাই এবং ভাবি গার্মেন্টস এ চাকরি করে রিজনের বোনের শ্বশুর বাড়িতে এমন একজন পুংগ মানুষকে রাখতে তার শ্বশুর বাড়ীর মানুষ নাকচোখ বাকা করছে
আমি রিজনের ভাইকে বললাম ভাইয়া রিজনকে আপনার কাছেই রাখুন আর তাকে দেখা শোনা করার জন্য একটা মানুষ রেখে দিন যা টাকা লাগে আমি তা পাঠিয়ে দিবো প্রতিমাসে
লোকটা বললো ঠিক আছে ভাই তুমি একা টাকা দিবে কেনো আমিও কিছু টাকা দিবো ওই লোকের বেতন যা লাগে তাতে
ঠিক আছে ভাইয়া সেটা পড়ে দেখা যাবে আপনি আগে রিজনকে আপনার বাসায় নিয়ে আসুন আর লোক ঠিক করুন
আপনি আপনার একাউন্ট নাম্বার দিন আমি কিছু টাকা পাটিয়ে দিচ্ছি আর হ্যাঁ রিজনের জন্য একটা হুইল চেয়্যার ও কিনবেন
১ মাস পর আমি রিজনকে ফোন করে তার সাথে কথা বললাম ! রিজন বললো আমাকে কিছু টাকা দিতে পারবে দয়া করে ?
তার এমন নিরীহ অসহায় স্বরের কথা টা শুনে আমার বুক ফেটে কান্না আসছিলো
– হ্যাঁ অবশ্যই দিবো বল কত টাকা লাগবে
– আসলে আমি এখন শেষ হয়ে গেছি সবার করুনার পাত্র ! আমার ভাই একা আমার জন্য একটা লোক রেখেছে এই লোকের বেতন মাসে ৬ হাজার টাকা আবার আমার খাওয়া ঔশুধ সব মিলে ভাই খুব সমস্যায় আছে, তাই ভাইকে কিছু টাকা দিতে পারলে ভাইয়ের একটু সাহায্য হতো
আমি একটু চালাকি করে বললাম
– তোমার সব খরচ তোমার ভাই একা ই চালায় ?তোমার বোন বা অন্য কেউ কোন সাহায্য করে না ?
– না আমার বোন বা আর কেউ কোন সাহায্য করে না, আর আছেই বা কে আমাকে সাহায্য করার
– রিজন আমি ছিলাম আছি থাকবো ! তুমি একদম চিন্তা করনা তোমার জন্য হুইল চেয়্যার কিনেছো ?
– না এখনও কিনিনি, ভাইকে কয়টা কিনতে বলবো বল তাই এভাবেই শুয়ে শুয়ে কাটিয়ে দিবো আমার এই ঘৃণিত জীবন
– এভাবে বলছো কেন তুমি ?রিজন তুমি আমার প্রেমিক আমার মাথার তাজ তুমি সবসময় মাথার উপরে থাকবে নিজেকে একদম ঘৃণিত বা অসহায় ভাব্বে না

মনে মনে ভাবলাম রিজনের ভাই তাকে যানায় নি যে আমি উনাকে ১ লক্ষ টাকা দিয়েছি !
আমার আর বুঝতে বাকি রইলোনা যে আমি যদি এভাবে টাকা দেই তাহলে রিজনের ভাই টাকা নিজে রেখে দিবে আর রিজনের জন্য খরচ করবে না !
রিজন খুব কস্টে আছে বুঝতে পারলাম
পরের সপ্তাহেই আমি আমার ব্যাগ লাগেজ সব গুছিয়ে দেশের উদ্দেশে রউনা দিলাম
রিজনের কাছ থেকে তার ভাইয়ের বাসার ঠিকানা নিলাম রিজনকে বলেছি ভাবি আসবে তাকে দেখতে !
আমি ভাবিকে সঙ্গে নিয়ে রিজনের ভাইয়ের বাসায় গিয়ে উঠলাম
একটা খাটের উপরে রিজন আমার প্রান টা আমার প্রেমিক টা শুয়ে আছে
তাকে জড়িয়ে ধরে খুব জোরে জোরে কাঁদলাম রিজনও খুব কাদলো
আমি রিজনকে সব বললাম যে আমি তার ভাইকে আগেই ১ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম তার অপারেশনের খরচ হিসেবে
আমি রিজনকে নিয়ে আমার বাড়িতে চলে এলাম
আমার ২ বছরের জমানো টাকা দিয়ে আমি আমার বাড়িতে অনেকগুলো ঘর করি এবং আমার বাড়ির সামনে কিছু দোকান ঘর করে ভারা দিলাম
আমার বাড়ি ভারা আর দোকান ভারায় আমার আর রিজনের মাসের সব খরচ চলেও টাকা বেশি হয় ! আমার জীবন এখন বেশ সুখের সারা দিন রিজনের সেবা করে রিজনকে ভালো বেসে আদর করে আদর নিয়ে দিন চলে যায় !
রিজন আমার কাছে ক্ষমা চাইতে চেয়েছিল আমি বললাম ” বাদ দাওতো থাকনা কিছু ভুল আর দোষ তোমার আমার জীবনে, দেখ আমাদের গে দেরকে অনেক মানুষ বোকা বানিয়ে তাদের স্বার্থ সিদ্ধি করে আমরা কি পারি বা পারব তাদেরকে সাস্তি দিতে ? তুমি না হয় ওইসব মানুষদের মত একজন তাতে কি হয়েছে ! সবার আগে তুমি আমার প্রেম আমার প্রেমিক !

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.