ভবিতব্য

লেখকঃ ঘাসফড়িং


কাঁধ থেকে ব্যাগটা ঝাঁকি মেরে বিছানায় ফেললাম।প্রচণ্ড গরমে শরীরটা একদম জ্বলছে।পাক্কা দুঘণ্টা এই অবস্থায় গেছে। একটা পরিপাটি ঘরই আমাকে দেওয়া হয়েছে।সৌন্দর্যের ছাপ উঠে রয়েছে খুব স্পষ্ট ভাবেই।ঘরের কর্তিটাও হয়ত খুব ভাল মনের। একজন হুজুর হিসেবে সব খানেই সম্মানীটা বরাবর একটু বেশিই পাই।অবশ্য শুধু আমার ক্ষেত্রেই নয়।হুজুর জাতটার জন্যই এই জিনিসটা প্রযোজ্য। কিন্তু আমার সেসব মোটেও পছন্দনীয় নয়।কেউ যখন শ্রদ্ধা মাখা গলায় প্রশ্ন করে,’হুজুর কেমন আছেন?’ তখন মেজাজটাই বিগড়ে যায়।তার চেয়ে বরঞ্চ কেউ তুমি করে এই একই প্রশ্নটা করলে তার জন্য একটা মিষ্টি হাসি আপনা-আপনিতেই মুখে ফোটে উঠে। আলিমে পড়ছি।আধুনিক ভাষায় ইন্টার। রমজানের কিছুদিন আগেই সেমিস্টার শেষ হল।এখন একটা মসজিদের অধীনে আছি।আজই এসেছি।কোরানে হাফেজ সেই সুবাদেই।গত বছরও এখানেই তারাবী পড়িয়েছি।তাই এবারও ডাক পড়েছে। তারাবী খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়্ই আমার মনে হয়;যত ঝামেলা পাকায় পেছনের পড়ুয়া ব্যক্তি গুলো।খুটিনাটি সব খুঁজে বেড়ায়। এবার নতুন একটা পরিবারের সদস্য করে দিয়েছে আমাকে মসজিদ কমিটি।গতবছর অন্য একজনের বাসায় থেকেছিলাম।ওই লোকটা একটু কিপ্টে টাইপের ছিল। এবারও তাই সংশয়ে থাকি। বর্তমান কেমন জানি হয়! পাঞ্জাবি-পায়জামা শরীর থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বিছানায় বসে পড়েছি।লুঙ্গি আর সাদা গ্যাঞ্জিতেই নাকি আমাকে উজ্জল-সুন্দর দেখায়।মা বলে।সেটাই পড়ে আছি। ফুল স্পীডে পাখা ছেড়ে দিয়ে বিছানায় বসে আছি।কিন্তু বাড়িতে থাকলে হয়ত এতটা ক্লান্তিতে বিছানায় শরীরটা এলিয়ে দিতাম।এখানকার সবকিছুই নতুন।তাই অভ্যেস কিছুটা কন্ট্রোলে রাখতে হবে।স্বভাবগত দিক থেকে আমার গুন থেকে দোষই বেশি। আজ রমজানের চাদঁ ওঠামাত্রই রওনা দিয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলাম।দোয়া নিলাম মায়ের কাছ থেকে।বাবার পা ছুঁয়ে সালাম করলাম।আর তখনই মা পেছন থেকে পান খাওয়া মুখে থু থু ফেলল সাদা পাঞ্জাবিতে।রাগে ক্ষোভে ধপাস করে গিয়ে বিছানায় বসে কিছুক্ষণ দাত কড়মড় করলাম।এখন রাগও ঝারা যাবেনা মায়ের উপর;কোথাও যাচ্ছি।মা প্রচণ্ড অনুতাপে একটা কাপড় দিয়ে পাঞ্জাবি মুছে দিচ্ছিল আমি এরমাঝেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ি। তীব্র ভাবে মায়ের কথা মনে পড়াতেই ফোন দিলাম বাড়িতে।মা নিজেই রিসিভ করল। -হ্যালো মা। -কেমন আছিস বাবা?সবকিছু ঠিকঠাক তো?তোর কষ্ট হয়নি তো কোনও রকম? একসাথে এত প্রশ্ন করতে বা উত্তর দিতে পারিনা মায়ের মত।এক বাক্যেই বলে দিলাম সবকিছু ঠিক আছে।আমি ভালোই আছি খুব। ফোন রাখার পর আংকেল এসে ঘরে ঢুকল।এক মাসের জন্য ওনাকে আংকেল ডাকতে হবে।অবশ্য একমাস নয়,সাতাশ দিন।
-তোমার নামটা যেন কী? মসজিদ থেকে তাদের বাসায় আসার সময়ই না একবার বলেছিলাম।মনভোলা পণ্ডিত নাকি?না হয় গ্রামাঞ্চলেও এতবড় দোতলা পাকা বাড়ি!খুব একটা দেখা যায়না।
-আংকেল মুনতাসির আমার নাম।
-ওহ হ্যাঁ।এদিকে এসো। আমি বিছানা থেকে উঠে গিয়ে ওনার সাথে ঘর থেকে বেরিয়ে বসার ঘরে গেলাম।আংকেল দেখালেন
-এই এটা বাথরুম।আর ওই রুমে আমরা থাকি। অন্য একটা ঘর দেখিয়ে বলতে লাগল, ওটাতে থাকে নূর। আমি হতবাক হয়েও জিজ্ঞাসা করলাম না নূর কে। ঘরে ঢুকে তোয়ালে আর লুঙ্গি নিয়ে বাথরুমে ঢুকি।বেশকিছুক্ষণ ঝর্ণার পানির নিচে মাথা দিয়ে রাখলাম।খুব জ্বালাপোড়া করে আমার মস্তিষ্ক।এটা একটা ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক একটা রোগ আমার। গোসল সেরে বেরিয়ে ঘরে আসতেই দেখি আংকেল আমার জন্য খাবার নিয়ে বসে আছেন।আমি না করা সত্তেও আংকেল শুনলেন না।এটা একটা অভিনয় ছেল আমার।খুব খিদে অবশ্য পেয়েই রয়েছে।

জানালার থাইগ্লাস ভেদ করে রোদের ঝলকানো আলো ঘরে ঢুকছে ।কয়টা বাজল কে জানে।মোবাইলে চোখ দিলাম।নয়টা বেজে গেছে। এমনটাই হওয়া স্বাভাবিক ।সেহরি খেয়েদেয়ে পাঁচটার দিকে ঘুমিয়ে অনেক গুনী লোকেরও বারটার আগেও ঘুম ভাঙেনা।আমিও তাদের দলের কিন্তু ঘুম ভাঙা দিকটা দিয়েই মিল।এছাড়া গুনের লেশমাত্রও আমার মধ্যে নেই। পর্দা ঠেলে আংকেল এসে ঘরে ঢুকলেন।
-মুনতাসির!আমি আর তোমার আন্টি স্কুলে যাচ্ছি।তোমাকে বলা হয়নি।আমরা দুজন এক স্কুলেই শিক্ষকতা করছি।তোমার আন্টি সহকারী শিক্ষক আর আমি প্রফেসর পদে আছি।এখন আসি মুনতাসির।দুপুরের দিকে আমরা ফিরছি।নূর রয়েছে আর আমার ছোট ছেলে সিয়াম রয়েছে।কোনও রকম সমস্যা হবেনা আশা করি।কিছু লাগলে ওদেরকে বলো। চলে গেলেন ওনি। সিয়াম আমাকে ভাই বলে ডাকল দেখলাম ।বলল,ভাইয়া আমি কোচিংয়ে যাচ্ছি বাসায় ভাইয়া রয়েছে।ঘুমিয়ে আছেন ওনি।আমি আসি হ্যাঁ। আমি মাথা নেড়ে তার কথায় সাপোর্ট দিলাম। লোকগুলোর কথাবার্তার ধরণ দেখে কোথাও খুব একটা ভাল লাগা অনুভূত হচ্ছে।আমি তাদের খুব পরিচিত বোধহয়? বাথরুম ঢুকে গোসল সেড়ে নিচ্ছিলাম।খটখটে আওয়াজে প্লাস্টিকের দরজা নড়ে উঠল।
-এই ভেতরে কে?সিয়াম?বের হ্ তাড়াতাড়ি।কিরে কি হল! মাথায় মনে হয় কিছুটা ঝামেলা আছে লোকটার।আমি ভ্রূক্ষেপ দিলাম না। স্থির ভাবেই সাবান গায়ে মেখে যাচ্ছি।এ পর্যন্ত দশ-পনের বার অন্তর অন্তর ধাক্কাধাক্কি হয়ে গেছে।তাড়াহুড়োটা কি একটু বেশিই নাকি ওনার।লুঙ্গি কাঁধে নিয়ে তোয়ালেটা কোমড়ে পেঁচিয়ে নিয়েই দরজা খুলে দিলাম।অস্বস্তিতে থাকা ছেলেটা আমার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকাল।ক্ষোভ জমা দৃষ্টিটা হঠাৎ কেমন যেন মলিন হয়ে গেল।নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইল আমার দিকে।এরই মাঝে আপাদমস্তক
একবার দেখে নিল আমার ।আমি ছেলেটার দিকে একবার দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ঘরে এসে পড়লাম।ছেলেটা এখনও বাথরুমে ঢুকল কিনা বুঝলাম না;দরজা বন্ধের আওয়াজ শুনা যায়নি। আজকে নামাযে পড়তে হবে পারা দুটো কিছুক্ষণ পড়লাম।দু ঘণ্টার উপরেই পড়েছি কিছুক্ষণ নয়।চোখ বুজে শুয়ে পড়তেই ছেলেটার মুখটা ভেসে উঠল চোখের পর্দায় ।হাসোজ্জল দুটি চোখ।এটুকু আমার ভেতরে খুব ভাল ভাবেই গেঁথে গেছে। নাকটাও তো খুব সরু আর খাড়া ছিল। আর কিছু ভাবলাম না।চোখদুটোকে জুড়াতে ইচ্ছে হল।ছেলেটা কোথায় থাকবে এখন?যদি একবার ঘরে চলে আসত কেমন হত।


এমন ইফতারের আয়োজন আমাদের পরিবারে কখনও দেখেছি বলে মনে পড়ছেনা।কিন্তু আংকেল এখনও রান্না ঘর থেকে প্লেট টানাটানি করছে।আরও অনেক আইটেম রয়েছে! কয়েকবার নূর নূর করে ডেকেও গেল অভূতপূর্ব সুন্দর ছেলেটাকে।ছেলেটার দিকে দু সেকেন্ডের উপর তাকাইনি এখনও।আমার সংবিধান বলে কাছের মানুষ ছাড়া কাউকে দেখে মুগ্ধ হওয়া অন্যায়।অদ্ভুতত্ত! রাতে নামায শেষে আংকেল আমি বাসায় ফিরছি।সিয়াম আগেই চলে গেছে।আংকেলের বড় ছেলেটা কোথায়? -আংকেল আপনার বড় ছেলে নামায পড়েনি? মুখের উপর এমন প্রশ্নে কিছুটা লজ্জা পেলেন তিনি। -আসলে ভার্সিটি থেকে ফিরেছে গত দুদিন আগে।কিছুটা দুর্বল হয়ে আছে ওর শরীরটা।তাই। -ওহ আচ্ছা।অসুস্থদের জন্য তারাবি ছাড় দেওয়া চলে।তবে ফরযটা অত্যাবশ্যকীয়। কড়া কড়া কথা বলা আমার একটা বদ অভ্যাস ।বদভ্যাস বলে চলেনা।কারণ হুজুররা এমন কঠিন চরিত্রের না হলে কঠোর ধার্মিক নীতি প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়না। রাতের খাবার শেষে আংকেলের অনুরোধে বসার ঘরে ওনার সাথে টিভি দেখছিলাম ।নূর ও চলে এসেছে।আমি আছি সেটা বোধহয় বুঝতে পারেনি।না হয় কাল রাতের মত আবারও ফিরে চলে যেত। -নূর তুই বস এখানে।কথা বল মুনতাসিরের সঙ্গে ।আমি শুবো। গোমড়া মুখে বসে রইল নূর।আমি ডেকে বললাম, -আজকে নামাযে যান নি ? হঠাত্ প্রশ্নে হকচকিয়ে উঠল ও। -হু ? -বললাম নামাযে গিয়েছিলেন ? -ওহ। না না। তিনদিনের মধ্যে একদিনও যাইনি। বাহ ! সোজাসাপটা উত্তর দেওয়ার অভ্যেস আছে ছেলেটার। -এটা ঠিক নয়।আপনার উপর নামায ফরয। আর কিছু না বলেই রুম ত্যাগ করে আমার ঘরে এসে শুয়ে পড়ি।পেছনে নূর কেমন করে আমার দিকে তাকিয়েছিল তা আমি জানি। পরদিন দ্বিতীয় কাতারেই নূরকে লক্ষ্য করলাম।এবং প্রায় দশ মিনিট আগেই মসজিদে পৌছে গেছে।আমি ওর দিকে তাকিয়ে একটা মিষ্টি হাসি দিলাম।নূরের মুখে একটা প্রাপ্তির হাসি ফুটে উঠল।


দুপুরে ঘুম ভাঙার পর নুরকে আমার সামনে আবিষ্কার করলাম
-এই শুনুন ! আমি অবাকচিত্তে প্রশ্ন করলাম
-অদ্ভুত কাণ্ড !আপনি আমাকে আপনি করে বলছেন যে !
-না মানে…. -আমি জানি আপনি কি বলবেন।কোরান মুখস্থ বলে আপনার বয়সেরও বেশি হয়ে গেছে এমনটা নয়।আর আপনি করে বলা মানে আমাকে অপমানিত করা আমি মনে করি।
-শোনো , আজ তোমাকে নিয়ে বিকেলে হাঁটতে বেরব।আব্বু বলেছে।
-ওহ দায়িত্ব পালন করছেন ? নূর হো হো করে হেসে উঠল । বিকেলে সিয়াম এসে নিয়ে গেল আমাকে।বাইরে নূর দাঁড়িয়ে আছে।আমরা একসাথে এগোতে লাগলাম । রাস্তাটা পাকা। এ রাস্তাটায় গাড়ি খুব একটা আসা যাওয়া করেনা। কথা বলার প্রসঙ্গ নূরই তুলল
-মুনতাসির তুমি তো ইন্টার পড়ছ।তাইনা?
-হুম।আমাদের ভাষায় একে আলিম বলে।
-দ্বিতীয় বর্ষে?
-না প্রথম বর্ষে। কথা বলার ভঙ্গিটাও তো হৃদয় কাড়ার মত।কিন্তু আমি স্বাভাবিক ।আমার পরিবারের সদস্যদের আবেগ অনুভূতি নেই।থাকলে আমার মধ্যেই কিছুটা আছে।আমরা বাস্তবকে খুব কাছ থেকে দেখি প্রতিনিয়ত। হঠাত্ করে নূরের ফোন বেজে উঠল।নূর বলল, -তোমরা আগাও , আমি এক মিনিট কথা বলে আসছি। সিয়াম বকবক করেনা খুব একটা ।নাইন পড়ুয়া ছেলেও এতটা গভীর হয় তা দেখিনি এখনও ।তবে এটা ওর স্বভাব।আমি জিজ্ঞেস করলাম,
-সিয়াম ! কার সাথে কথা বলছেন উনি ?
-গার্লফ্রেন্ড।বলেই হেসে কুটিকুটি হল সিয়াম। আমি পেছন ঘুরে তাকালাম নূরের দিকে।খুব পেছনে ফেলে এসেছি।হেসে হেসে কথা বলছে ফোনে।আমার ভেতর থেকে বিষাদ মেশানো একটা দীর্ঘশ্বাস বেরল।
-কবে থেকে জানো এসব?
-একবছর হয়ে গেল।আমাদের এলাকারই ।ভাইয়ার সমানে একই ভার্সিটিতে পড়ছে। আমি আর কিছু জিজ্ঞাসা করলাম না।একটা ব্রিজের উপর এসে বসেছি দুজন।নূরের জন্য ।এভাবে হাঁটতে থাকলে আমাদের নাগাল পাবেনা ও।খুব পিছিয়ে পড়বে। খোলামেলা তেপান্তরের একটা মাঠ।মাঝখান দিয়ে রাস্তাটা চলে গেছে।মাঠের শেষ সীমানার দিকে তাকালে দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে আসে।আর ফলস্বরূপ দমকা একটা শীতল বাতাস। নূর দৌড়ে এসে পৌছল আমাদের সামনে। -সরি সরি।ফোন রাখতে রাখতেই দেরি হয়ে গেল।চলো। আমি বললাম আর যাবনা।এমনিতেই অনেকটা পথ চলে এসেছি।এখন ফেরা উচিত। আমার দিকে তাকাল নূর। প্রশ্ন করল, -ভাল লাগছেনা ? আমি উত্তর না দিয়ে ব্রিজ থেকে নেমে গিয়ে হেঁটে চললাম ।
দিন পেরতে লাগল।চোখের সামনেই ঘোরাঘুরি করে নূর।কিন্তু আমি আমার অনুভূতির আভাস কাউকে বুঝতে দেইনা।


আংকেলের ঘর থেকে হট্টগোল শোনা যাচ্ছে মনে হল।আমি ঘর থেকে বেরিয়ে আংকেলের ঘরের দিকে গেলাম। শুনলাম টাকা হারিয়ে গেছে।প্রায় দশ হাজারের মত।যা হবার নয়।কে সরাতে পারে টাকাগুলো?এমন প্রশ্ন সবার মস্তিষ্কেই ঘুরপাক খাচ্ছে। বাসার মধ্যে নতুন লোক বলতে আমিই শুধু রয়েছি।তাহলে কি সন্দেহের দায়টা আমার উপরই পর্তাবে? আংকেল আমাকে যথেষ্টেরও বেশি বিশ্বাস করেন।কিন্তু আন্টি? রাতের খাবারে টেবিলে আন্টিকে স্বাভাবিক দেখলাম না।ঘৃণিত দৃষ্টিতে আমাকে আড়চোখে দেখছে।খাবার শেষ করে আর বসলাম না।ঘরে এসে শুয়ে পড়লাম।নূরের সাথে গিয়ে একটু কথা বলি।ভাল লাগবে। দরজা ঠেলে নূরের ঘরে প্রবেশ করতেই ওর হাতে কতগুলো টাকা দেখলাম।আমাকে দেখামাত্রই আৎকে উঠে হাতগুলো পেছনে নিয়ে গেল। -এ কী!আমার ঘরে হঠাৎ? -না মানে এমনিতেই আসা। -ওহ। -আচ্ছা আমি আসি এখন।আপনার অসুবিধে হচ্ছে বোধহয়। ঝুঁকিয়ে রাখা ঘাড় তুলে করুণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল নূর।আমি চলে যেতে উদ্যত হতেই পেছন থেকে আমাকে টেনে ধরল।দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে আকুতির সুরে বলতে লাগল -মুনতাসির আমি জানি তুমি ব্যাপারটা বুঝতে পেরে গেছ।তোমাকে আর কিছুই বলার নেই।তবে এটুকু বলি আমি তোমাকে খুব ভাল একটা বন্ধু মনে করি।সে হিসেবে বলছি,এই টাকাটা আমার ভালবাসার জন্য ব্যয় হবে।তুমি প্লিজ কাউকে কিছু বলোনা। আমি অভয়বাণী শুনিয়ে নূরের হাত চেপে ধরলাম। নূরের গার্লফ্রেন্ডের জন্য একটা আংটি কিনবে টাকাটা দিয়ে।আজ নাকি তার বার্থডে।গভীর কষ্টেও একটা প্রশান্তি পাচ্ছি। অন্তত নূরের কাছের কেউ হতে পারলাম তো।বাইকে করে আমাকে নিয়ে শহরে যাবে।অমত সত্তেও নূর নাছোড়বান্দা। -কী হল?উঠো। -হুম।উঠছি উঠছি। লজ্জা বোধ থাকা সত্তেও ওকে জড়িয়ে ধরে বসা ছাড়া আর উপায় নেই।আমার মনে হল যেন এটা আমার জীবনের সুখের মুহূর্ত গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি।ফোন বেজে উঠল নূরের।বুক পকেট থেকে আমাকেই ফোনটা বের করতে বলল।আমি রিসিভ করে নূরের কানে ধরলাম। কথা বলা শেষ হওয়ায় ফোনটা পকেটে গুঁজে দেওয়ার সুবাদে নূরের প্রশস্ত বুকটা আবারও একবার স্পর্শ করার সুযোগ পেলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা একটা জুয়েলারির সামনে এসে পৌছলাম।নূর আমাকে সাথে করে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল।ভাল দেখে একটা আংটি কিনে নিয়ে আবারও দুজন বাইকে চেপে বসি।আমাকে বাসায় দিয়ে আসতে বলেছিলাম।কিন্তু ও সাথে করেই আমাকে নিয়ে যেতে চায়। নূরের গার্লফ্রেন্ডের বাসা খানিকটা আগেই আমি নেমে গিয়ে একটা শপিংমলে বসে পড়ি। -তুমি যাবেনা তাহলে? -আসলে দেখুন,বাকি পথটা যাওয়া আমার মানায় না।আপনি আমার প্রিয় মানুষকে কিছু দিতে যাচ্ছেন তাতে আমার উপস্থিতি বড়ই শোভাহীন। আর কিছু না বলে ছোট্ট একটা হাসি দিয়ে চলে গেল নূর।আসলে কেন যাচ্ছিনা সে কী তা বুঝতে পারত? বেশকিছুক্ষণ হয়ে গেল কিন্তু নূরের ফেরার নামগন্ধও নেই।অস্থিরতার বশে গলির মত রাস্তাটা দিয়ে সামনে এগোতে থাকলাম।কিছু দূর এগিয়ে যেতেই নূরের রক্তাক্ত দেহকে বাড়ির ভেতর থেকে কেউ ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল।


ডাক্তার সাহেব কন্ডিশন কেমন? -হ্যাঁ মোটামুটি ভালোই।তবে ওনার বাবা মা কোথায়?জ্ঞান ফিরলে ওনি খুঁজতে পারেন কাছের কাউকে। -আমি ফোন করে দিয়েছি।ওনারা এক্ষুনি চলে আসবেন। কোথায় গিয়েছিল কীভাবে নূরের এ অবস্থা হল কিছুই জানি না।জ্ঞান ফেরার জন্য অপেক্ষা করছি।প্রবল অস্থিরতা নিজের মধ্যে ছটফটানি তুলে রেখেছে। সেসময়ের করুণ চিৎকারটা যদি নূর শুনতে পেত।ওর রক্ত মাখা মুখটা দেখে বুকের ভেতর কতটা হাহাকারের দাঙ্গা উঠেছিল সেসব যদি নূর উপলব্ধি করতে পারত। খানিকক্ষণ হল আংকেল আন্টি দুজনেই চলে এসেছেন।আমি তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি।একটাও দেইনি।কোনটাই বা জানা ছিল।জেনেও দেইনি। নূরের এ অবস্থা কেন হল?কোথায়ই বা গিয়েছিল? বাইরে বসে অপেক্ষা করছিলাম হঠাৎ ডাক্তার বলল নূরের জ্ঞান ফেরেছে।আংকেল আন্টির পেছন পেছন আমি কেবিনে প্রবেশ করলাম। কার নাম ধরে যেন ডেকে যাচ্ছে নূর।যতদূর বোঝা যাচ্ছে মেয়ের।চোখ খুলল ধীরে ধীরে। আংকেল নানান প্রশ্ন করতে লাগল নূরকে।ডাক্তার তাদেরকে কেবিনে আর বেশিক্ষণ থাকতে দিলনা।বিকেলের দিকে আমরা নূরকে নিয়ে বাসায় ফিরলাম। ডাক্তার নূরের কাপড় চোপড় আন্টির কাছে দিতেই নূরের শার্টের পকেট থেকে একটা আংটি পেল।সদ্য কেনা তা জ্বলজ্বল করছে দেখলেই বোঝা যায়।উনিও তা বোঝে গেছেন। রাতের দিকে নূরের ঘরে প্রবেশ করলাম।আমি জানি নূর তার বাবা মাকে সত্যটা চেপে গেছে।হয়ত বলেছে মাস্তানরা আক্রমণ করেছিল বা অন্য কিছু।তবে আমার নিকট গোপন রাখবেনা।মলিন মুখ করে বসে রয়েছে নূর।আমাকে দেখামাত্রই স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করল। -এখন কেমন লাগছে? -হ্যাঁ ভালোই। বলেই ঘাড়টা ঝুঁকিয়ে দিল। -কি হয়েছিল ওখানে? চুপচাপ হয়ে আছে নূর।চোখের পলক পড়ছেনা তার।আমি আবারও একই প্রশ্ন করলাম। -মুনতাসির!আমি খুব বড় ভুল করেছি।এতবড় একটা ভুল কি করে করলাম বুঝতে পারছিনা। -কি হয়েছিল?আপনি আমার কাছ থেকে অক্ষত গেলেন আর ফিরলেন..! -একটা ঠকবাজ মেয়েকে ভালবেসেছি।ওর ভাইয়েরা আমাকে
খুব জঘন্য ভাবে মেরেছে।আমি যখন ওর বাসায় গেলাম গিয়ে দেখি প্রচুর লোকজন বাসাতে।ভাবলাম পার্টি দিচ্ছে বোধহয়।কিন্তু না,পরে দেখি ওর অ্যাংগেজমেন্ট। -তারপর?আপনি কি করলেন? -আমি আর কী করব!এমন কেন করল জিজ্ঞেস করি।পরে ও বলতে থাকে আমাকে নাকি ও কোনও দিন দেখেইনি।আমি নাকি ওর পরিচিতও না।প্রচণ্ড জেদের বশে একটা থাপ্পড় মারি ওকে।এরপর যা হবার হল। -কি বলব আপনাকে!উপদেশ বা অনুরোধ কিছুই না।একটা কথা বলি, ভালবাসাটা খুব মূল্যবান এক জিনিস।এই ভালবাসাটা সঠিক মানুষটাকে দিতে শিখুন। নির্বাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইল নূর।আমি সাথে সাথেই চোখ নামিয়ে নিলাম।যদি চোখের ভাষা বুঝতে পেরে যায়! উঠে চলে যেতেই ওকে আংটির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম।বলল মা এখনও সেসব সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করেনি।তবে শীঘ্রই করবে আমি জানি।অসুস্থ বলেই প্রশ্ন গুলো আটকে রয়েছে। কি বলব খুঁজে পাচ্ছিনা। নূরের চিন্তিত মুখাবয়বটা দেখতে একদমই ভাল লাগছিলনা।পরশু বাড়ি ফিরে যাব।কালই মনে হয় মসজিদ থেকে আমাকে উপঢৌকন স্বরূপ মোটা অংকের কিছু দেবে। সেটা ভেবেই মুচকি একটা হাসি ফুটে উঠল মুখটায়।


কালই আংকেলের বাসায় শেষ দিন।মনটা কেন জানি প্রচণ্ড রকমের খারাপ হয়ে আছে।গোসল সেরে ঘরে ঢুকতেই দেখি আমার মোবাইল নূরের হাতে। আকাশ ভেঙে পড়ার মত অবস্থা হয়ে গেল আমার।নূরের হিংস্র আর ঘৃণিত দৃষ্টি বলে দিচ্ছে,নূর আমার গোপন সত্তার কথা জেনে গেছে।হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম বেশকিছুক্ষণ। আমাকে টেনে নিয়ে খুব স্বাভাবিক ভাবেই নূর প্রশ্ন করল। -তুমি জানো মুনতাসির!তুমি কতবড় পাপী?এই সমকামীতা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কতটা জঘন্য। আমি কাঁধ থেকে নূরের হাত নামালাম। -লূত (আ) এর সম্প্রদায়ের ঘটনা জানেন বলেই আপনি এটা বলতে পারছেন।তাহলে আপনাকে একটা প্রশ্ন করছি।পুরো কোরান আমার আয়ত্তে।এর কোথায় কি বলেছে সব ইতিহাস আমার রপ্ত।আপনি নিশ্চয়ই কোরানের নির্দেশিকার জের ধরেই আমাকে পাপী বলছেন? -হ্যাঁ।অবশ্যই তুমি পাপী।ধর্ম রক্ষায় তুমি বা তোমার মত আরও রয়েছে।আর তোমরাই যদি এই সমস্ত কাজ কর তাহলে তো রসাতলে যাবে গোটা পৃথিবী। আমি অদ্ভুত একটা হাসি দিয়ে নূরকে বলতে লাগলাম -কোরানের আয়াতটার মর্মটা আপনি জানেন? “আর তোমরাই তো হচ্ছ সেই জাতি, যারা (যৌন লালসার চাহিদায়) নারীদের ছেড়ে পুরুষদের নিকট উপগত হও।এর থেকে জঘন্য কাজ আর কি হতে পারে।” স্রষ্টা কর্তৃক একটা মানুষ তার মানবসত্তা পেয়ে থাকে আবেগ,অনুভূতি পেয়ে থাকে।সেখানে কারোর কোনও হাত নেই।আর কোরান এবং আমার আপনার ধর্ম ইসলাম কখনওই সমপ্রেমকে পাপী বলতনা আমার বিশ্বাস।ধর্ম সমকামকে পাপ বলছে।অবাধ যৌনাচারকে পাপ বলছে।বিশুদ্ধ ভালবাসাকে নয়। আমি তো মৌন চাহিদার বশেই সমপ্রেমী।আর এই সমপ্রেমীতার পেছনে প্রকৃতিগত বা পরিবেশগত কোনও দায় নেই।যা রয়েছে,জন্মগত। আমার অনুভূতিও বিশুদ্ধ।আমার ভালবাসাও পবিত্র। পীণপতন নীরবতা ঘর জুড়ে।দুটি মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের অবরুদ্ধতা চোখের দৃষ্টিতে ভেসে উঠেছে। স্তব্ধ হয়ে নূর বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। কি ভেবে যেন ভেবে কিছুক্ষণ পর আবারও এল। -মুনতাসির তুমি কাউকে ভালবাস? আমি ম্লান গলায় বললাম -হ্যাঁ।আপনাকে। আর তাকালাম না নূরের দিকে।ওর খিপ্ত প্রতিক্রিয়া কেমন হল তা আর দেখতে পেলাম না।কিছুক্ষণ পর ঘাড় তুলে দেখি ও আর নেই।


তারাবি শেষে রাতে ঘরে এসে শুয়ে পড়ি।আংকেল খেতে ডেকে গিয়েছে।কিন্তু যাচ্ছিনা।এত কষ্টের মাঝেও চোখদুটো আজ বড়ই নিষ্ঠুর।জল ঝরাচ্ছেনা।কিন্তু হৃদয়টার অসহায়ত্ব, গগনবিদারী চিৎকার ঠেকাতে পারছিনা। সেদিনের মত আজও হট্টগোল শুনছি আংকেলের ঘর থেকে। খাবারের টেবিলে বসতেই শুনলাম টাকাটা হারায়নি।ওয়ার্ড্রোবে কাপড়ের ভাজেঁ পড়েছিল।একদম ঠিক ঠিক দশ হাজার টাকাই রয়েছে। স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম একটা। যাক!টাকাটা ঠিকঠাক পেয়েছে এটাই অনেক।না হয় নূরকে জবাবদিহি করতে হত।ত্রিশ হাজার পেয়েছিলাম মসজিত কর্তৃক।এখন বিশ হাজার রয়েছে আমার কাছে। শুয়ে শুয়ে কালকের দিনটার কথা ভাবছিলাম।কি হতে পারে বা কি হবে।হঠাৎ করেই নূর এসে ঘরে প্রবেশ করল। -মুনতাসির আব্বু আম্মু এসব কি বলছে?তারা টাকা পেল কোত্থেকে। আমি মলিন একটা হাসি দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করলাম।কিন্তু বোকা নূর বুঝলনা। -আমার তো মাথাতেই আসছেনা।আমার সন্দেহ হয় তোমার উপর।তোমার টাকাগুলো দেখাও তো। যেগুলো হাদিয়া দিয়েছে। আমি নির্দ্বিধায় ব্যাগটা দেখলাম।টাকাগুলো গোনার পর মূর্তিমান হয়ে গেল বোধহয় নূর। -আমার ভালবাসা কিছু চায়না নূর।ভালবেসে যেতে পারাটাই তো তোমার পাওয়া।আর তোমাকে কিছু দিয়ে যেতে পারছি সেটা ভাবতেও তো আমার হৃদয়ে একটা প্রশান্তির বাতাস বয়ে যায়। কিছুক্ষণ চুপ থেকে নূর বলল -মুনতাসীর!একটা কথা।আসলে কি জানো,তোমাকে ভালবাসার ভাগ্যটাই আমার হয়নি।অবশ্য সৌভাগ্য বলতে হয়।আমি ভিন্ন সত্তার হয়ে নিরুপায়।স্রষ্টার নিকট প্রার্থনা করে যাব।যদি কখনও পুনর্জন্ম হয় আমার,তাহলে তোমার মত কাউকে নয় তোমাকেই যেন ভালবাসার সুযোগ পাই।তোমার জন্য আমি আমার জীবনটা দিতেও পিছ-পা হবনা।কিন্তু দেখো,ভালবাসতে পারছিনা।আমার সত্তায় একটা কুমারী বসবাস করতঃ তোমার মত রাজকুমার আমার মনের এলাকায় সাফির হয়না।
বলবনা তুমি আমাকে ক্ষমা করো।কারণ আমার প্রতি তোমার ভালবাসা আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে তুমি কর্তৃক এমন হবেনা কখনও।তুমি আমার প্রতি বিন্দুমাত্রও কষ্ট জমা রাখবেনা।তবে এটা বলব,আমাকে ভালবেসে গেলে তুমি কষ্ট পেয়ে যাবে।আর তা আমার সহ্য করতে কষ্ট হবে।ভুলে যেও আমাকে। হাসি দিয়ে উঠলাম নূরের কথা শোনে।খুব জোরে হেসে ফেললাম বোধহয়। -একি তুমি হাসছ কেনো? -আমার প্রতি তোমার ভালবাসা জন্মে গেছে নূর।তুমি টের পাচ্ছনা?আমার চোখের জল তোমার সহনীয় নয়।এটাই আমার বড় পাওয়া। কিছু বের হলনা ওর মুখ থেকে। পরাজিত দৃষ্টিতে নূর বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।


সকাল হয়ে আসাতে বাড়ির উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লাম ঘর থেকে।নূরের কাছ থেকে বিদায় নেইনি।যদি চোখ ছলছল করে উঠে!ওটা তো নূরকে কিঞ্চিৎ কষ্ট দিবে।তবুও তো চোখদুটো রক্তিম হয়ে আছে।আয়না বলে দিয়েছে। ধীর পায়ে হেঁটে চলছি।ঝাপসা দৃষ্টিতে পথঘাট সব ঘোলাটে লাগছে।ভালবাসা আগন্তুকের মত আসে।ঝড়ও তুলে যায় কারো কারো জীবনে।সেই ঝড়ের দাপটে দুর্যোগও নেমে আসে।কেউ কেউ তা সারিয়ে উঠতে পারে আমি পারব তো। আমাদের জীবনটাই এমন।নূররা আমাদের মত মুনতাসিরদের ভালবাসাকে সম্মান করে,ভালবাসতে জানেনা।আমাদের জন্য তাদের জীবন উত্সর্গ করতে পারে,কিন্তু আমরা তাদের কাছ থেকে ঠোঁটের স্পর্শ প্রত্যাশা করতে পারিনা।ভাল বন্ধু হয়ে আজীবন ছায়া হয়ে পাশে থাকতে পারে,কিন্তু তাদের বুকের সীমানার গন্ডিতে একবারও আমাদের জড়িয়ে ধরেনা। বিদায়বেলায় পিছু ডেকে বলেনা,আমি তোমার ভালবাসা বুঝতে পেরেছি মুনতাসির।হাতটা চেপে ধরে অভিমান ভাঙায়না।দেখতে পায়না আমাদের ক্ষত হৃদয়টা। আমাদের অনুভূতি গুলো বুকের খাঁচাতে ছটফটিয়ে গেলেও তাকে প্রকাশ করিনা।শত বিষাদের মাঝেও মুখে একটা মলিন হাসি রাখতে জানি আমরা।আমাদের ভালবাসা কখনওই পূর্ণতা পায়না। প্রকৃতির নীতিটাই এমন। এটাই আমাদের জীবন,এটাই আমাদের ভবিতব্য।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.