ভালবাসা কারে কয়?

লেখক : – অরণ্য রাত্রি


শীতের রাত।কন কনে শীত । ঘরের আলো নিভিয়ে লেপের তলায় শুয়ে রয়েছে রবু।তাতেও ঠাণ্ডা কাটছে না। লেপের ভিতর এ মোবাইল রেখেই ফেসবুকে ঢুকেছে সে। পাশের ঘরেই বাবা মা। তাই লেপের তলাতেই মোবাইল রাখতে হয়েছে।তা না হলে ধরা পড়লে কপালে মার রয়েছে।
আজকাল সারা রাতই ফেসবুকে থাকে রবু। ঘুম আসে না রাতে। কিছুদিন আগেই অরুনের সাথে তার ব্রেক আপ হয়েছে ।অরুন কে সে ভালবেসে ছিল , বিশ্বাস করেছিল মনে প্রাণে। কিন্তু অরুন এইভাবে তার বিশ্বাস ভাঙবে সে ভাবে নাই। ব্রেক আপের পর বন্ধুদের আসল চেহারা সে দেখেছে। সেই সুদূর ঢাকাতেও তাকে নিয়ে গসিপ হয়েছে। অরুন তার বিরুদ্ধে যা যা মিথ্যা বলেছে তা সব বিশ্বাস করেছে তার বন্ধুরা। আর নিউজ চ্যানেলের মত চারিদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে এই কথা গুলো। তারপর থেকে এই কমুনিটির বন্ধুত্ব , ভালবাসার প্রতি তার ঘেন্না ধরে গিয়েছে। তার কাছে মনে হয় এই জগতে ভালবাসার কোন অস্তিত্ব নেই। সব শুধু সেক্স অথবা টাকা পয়সা কামানোর ধান্দা।
ফেসবুকের আগের আইডি বন্ধ করে দিয়েছে সে। অরুনের সাথেই তার প্রথম এবং শেষ সেক্স হয়। এখন সে নেট এ ঢুকে সেক্স এর খোঁজে।বন্ধুত্ব আর ভালবাসা নামক মরীচিকার পিছনে সে আর ছুটবে না।এখানে কাউকে আর বিশ্বাস করা যায় না। হ্যাঁ শরীরের চাহিদা মিটাতে ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড করবে সে এখন থেকে। কিন্তু সে থাকে বান্দরবন। এই শহরে অরুন ছাড়া তার মত আর সে কাউকে খুঁজে পায় নাই। তাই আজকাল সেক্স চ্যাট করেই শরীরের এর চাহিদা মিটায় সে।
নতুন একটা ছেলের সাথে চ্যাট হচ্ছে আজকাল রবুর। ছেলেটার নাম অনি। চ্যাটে ছেলে টা অসাধারণ। সারা রাত তারা সেক্স চ্যাট করে। আজও তার ব্যতিক্রম নয়।রবু নক করলো অনি কে
হাই
হাই
কি কর?
তোমার কথা ভাবি।
তাই?
কি ভাব?
তুমি বুঝো না? আমার ওটা তো দাড়িয়ে আছে।
হুম
তোমারটার অবস্থা কি?
আমারই একই অবস্থা।
কি পরে আছো ?
পাজামা আর টিশার্ট । তুমি?
লুঙ্গি আর গেঞ্জি। খুলে ফেলো সব।
খুলেছি
……………।।
এভাবে চলতেই থাকে। কিন্তু আজকে ২ জনে বেশি উত্তেজিত।অনি বলছে
তোমার কণ্ঠস্বর শুনতে ইচ্ছা করছে।
কেন?
তুমি চ্যাটে যে সেক্সি নিশ্চয়ই তোমার কণ্ঠ অনেক সেক্সি হবে
না আমার কণ্ঠ ভাল না।
সেটা আমি বুঝবো । তোমার নাম্বার দাও না। তোমার সাথে ফোনে কথা বলতে ইচ্ছা করছে।
আমি ফোনে কথা বলি না। কোন রকম বন্ধুত্ব প্রেম ভালবাসায় আমি বিশ্বাসী না।কোন সমকামীর সাথে আমি বন্ধুত্ব করবো না।
আমিও না।
তাহলে ফোন কেন?
বুঝো না? ফোন সেক্স
কিন্তু আমার পাশের রুমে বাবা মা।কথা বলতে পারবো না।
বাথরুমে যাও।
কিছুক্ষণ ভেবে রবি রাজি হল
যাচ্ছি কিন্তু বেশিক্ষণ না।
সেই দিন থেকে তাদের কর্মসূচী তে ফোন সেক্স যোগ হল।
দিন যায় একসময় ফোন সেক্স একঘেয়ে হয়ে যায়। তারা স্বপ্ন দেখে বাস্তবে মিলিত হওয়ার।একজন আরেকজন কে কল্পনা করে হস্ত মৈথুন করে। কল্পনার পাট চুকলো একসময়। ছবি আদান প্রদান হল। প্রথমে মুখের ছবি। কিন্তু তা দিয়ে কি আর সাধ মিটে। শরীরের গোপন অংশের ছবিও আদানপ্রদান হয়ে গেলো।২ জন ২ জন কে কাছে পাওয়ার জন্য উন্মুখ। কিন্তু একজন থাকে চিটাগাং আরেকজন বান্দরবন।এতো দূরে থেকে তো কিছু করা সম্ভব নয়।
এক সময় হটাত করেই একটা সুযোগ আসলো। রবুর কাজিনের বিয়ের দাওয়াত উপলক্ষে রবুর বাবা মা চিটাগাং যাবেন ৩-৪ দিনের জন্য। এই কয়েকটা দিন রবু একা থাকবে। বাসা পুরো খালি। অনি এই কয়দিন বাসায় থাকলে বেশ মজা হবে। কিন্তু রবু কথা টা বলবে কিনা বুঝতে পারছে না।কত দিনই বা চিনে সে অনি কে।এমনও হতে পারে অনি কোন সন্ত্রাসী । আবার এটা ভাবছে এইবার না হলে আর কোন দিন ই সুযোগ হবে না আর। অনেক দোনোমনা করে এক সময় বলেই ফেললো অনি কে। অনি শুনেই উত্তেজিত।এক কথায় রাজি। সে আসবে।অনি অফিস থেকে তিন দিনের ছুটি নিয়ে নিলো।

অনি এখন বাস স্ট্যান্ডে । খুব উত্তেজিত। কতদিন সেক্স করে না।প্লেস নাই। তাই মাস্টার-বেট করে আর সেক্স চ্যাট করে চালাতে হয়।এইবার প্লেস পাওয়া গেলো। তাও ৩-৪ দিন। কিন্তু সেক্স করার জন্য এতো দূর যাওয়া কি ঠিক হচ্ছে ?ছেলেটা তো ট্র্যাপে ফেলে যদি কিডন্যাপ করে অথবা জিনিসপত্র ছিনতাই করে। নাহ এতো ভাবছে কেন? কিছু হবে না। এতো দিন যাবত চ্যাট হল, ফোনে কথা হল। অমন হলে বুঝা যেতো। ছেলেটার মাঝে কি যেন আছে। তাকে টানছে। রাস্তা ধরে পায়চারি করছে। কখন যে বাস আসবে। এক প্যাকেট দামি চকলেট কিনলো রবুর জন্য। পায়চারি করতে করতে পুরনো দিনের কথা মনে পরে গেলো। সে এমন ছিল না। এমন সেক্স ফ্রিক ছিল না। প্রতারিত হতে হতে আজ সে এমন। এটা ঠিক তার সেক্সের চাহিদা বরাবর বেশি ছিল। কিন্তু তা শুধু ভালবাসার মানুষের সাথে। এরকম ভালবাসা হীন সেক্সে সে বিশ্বাসী ছিল না। অথচ এখন সে এতেই শুধু বিশ্বাস করে। ভালবাসায় নয়। মাঝে মাঝে খুব অন্তর পুড়ে। মনে হয় সে একটা ঘৃণ্য পশু হয়ে যাচ্ছে। অনুতপ্ত হয়।ঠিক করে সে ভাল হয়ে যাবে। ভালবাসার ইচ্ছা যে হয় না তা না। কিন্তু সেটা বিস্তার লাভ করার আগেই আবার গলা টিপে মেরে ফেলে সে।নিজেকে বুঝায় ভালবাসা মানেই কষ্ট। আর কিছু নয়।
বাস চলে এসেছে। বাসে উঠলো । জানালার পাশে সিটে বসলো। পাশে এসে বসলো বুড়ো এক চাচা। অনি বিরক্ত হল। আশা করেছিল কোন এক হাঙ্ক এসে বসবে। কিন্তু সে আশায় গুরে বালি। বাস ছাড়লো। কানে হেড ফোন লাগিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো অনি। অবশেষে বান্দরবন যাচ্ছে সে।

রবুর বাবা মা মিসেস আর মিস্টার হুদা লাগেজ নিয়ে বের হলেন। বাড়ির সামনে জিপ। ড্রাইভার লাগেজ উঠালো জিপে।
মিসেস হুদা রবুর হাতে একটা এনভেলপ দিয়ে বললো
এখানে ৫০০০ টাকা আছে। দরকার লাগলে খরচ করিস। আর ভাল মত পরা লেখা করবি। ফ্রিজে খাবার আছে। গরম করে খাবি। মাত্র তো চার দিনের ব্যাপার
মা চিন্তা করো না।আমি সব সামলায় রাখতে পারবো।
আচ্ছা বাবা আসি।
মিস্টার আর মিসেস হুদা জিপে উঠলেন । আস্তে আস্তে জিপ টা বাড়ির আঙিনা ছেড়ে চলে গেলো। রবুর কেমন জানি ভয় লাগছে। আগেও একা থেকেছে সে। কিন্তু এইবারের কথা আলাদা। এইবার অনি থাকবে। আসলেই অনি কি বিশ্বাস যোগ্য । আর ২ টা ঘন্টা পর অনি এসে পৌঁছাবে। ঘরটা একটু গুছিয়ে রাখা দরকার।
ঘর গুছিয়ে বিছানায় শুতেই চোখ টা লেগে আসলো । ঘুমিয়ে পড়লো রবু। ফোনের শব্দে ঘুম ভাঙলো। নিশ্চয়ই অনি।ফোন তুলে দেখে না বাবার ফোন
হ্যালো
কতক্ষণ ধরে দরজা ধাক্কাছি। খুলিস না কেন?
তোমরা ফিরে আসছো ?
হ্যাঁ
কেন?
দরজা খুল আগে। তারপর বলছি।
রবু প্রমাদ গুনলো । এখন কি হবে?এদিকে অনি নিশ্চয়ই চলে এসেছে।
দরজা খুলতেই একরাশ বিরক্তি নিয়ে মিসেস হুদা বললেন
বিয়ে ভেঙ্গে গেছে মাঝপথে শুনলাম।তাই ফেরত চলে এলাম
রবু একটা কাষ্ঠ হাসি দিলো
এদিকে মোবাইল বাজছে। এইবার নিশ্চয় অনি।
হ্যালো
হ্যালো রবু । আমি বাস স্ট্যান্ডে । চলে এসেছি ।তুমি কোথায় ?
আচ্ছা আমি আসছি । ১০ মিনিট। অপেক্ষা কর।

বাস-স্ট্যান্ডে এসে দাঁড়িয়ে আছে অনি।রবু ১০ মিনিটের মাঝে আসবে বলে এখনো এলো না। ব্যাগ নিয়ে টিকেট কাউন্টারে গিয়ে বসলো অনি। খুব বিরক্ত লাগছে। ছেলেটার একদম সময় জ্ঞান নেই ভাবছে অনি। আবার ফোন দিল রবু কে। ওপাশ থেকে রবু ফোন ধরলো
হ্যালো
কোথায় তুমি??
আরে আমি এসে পড়েছি । বাসের ঠিক সামনে। তুমি কোথায় ?
টিকেট কাউন্টারে। আচ্ছা থাকো আমি আসছি।
অনি বাসের সামনে রবু কে খুঁজে পেলো ।রবু কে দেখে অনি অবাক হয়ে গেলো । ছবির থেকে অনেক সুন্দর দেখতে। এদিকে রবুও মুগ্ধ। এতো স্মার্ট , ম্যানলি। ছবিতে বুঝা যায় নাই।
রবুর খুব অস্বস্তি লাগছে। কিভাবে কথা গুলো বলবে। মনে মনে গুছিয়ে নিচ্ছে কথা গুলো ।অনি এসে হ্যান্ডশেক করলো রবুর সাথে। কুশল বিনিময় হল। এবার রবু বেশ গুছিয়ে কথা গুলো বলল ।
আসলে একটা সমস্যা হয়েছে। কিভাবে বলবো বুঝতে পারছি না। সমস্যাটা জানার পর তুমি আমার উপর প্রচণ্ড রেগে যাবে।
তোমার বাসায় তোমার বাবা মা আছেন। তারা যান নাই। তাইতো ?
হ্যাঁ । কিন্তু তুমি জানলে কিভাবে?
খুব সহজ। এছাড়া আর কি সমস্যা হবে?
বিয়ে হটাত ভেঙ্গে গেলো । তাই বাবা মা ফিরে এসেছেন। তোমাকে জানাবো যে সেই সময় পাই নাই। তার আগেই তুমি চলে এসেছো ।
ইটজ ওকে। আমি সময় নষ্ট না করে এখনকার বাস টা তে চলে যাই।
ওকে। চল টিকেট কাটি ।
কাউন্টারে যেতে যেতে রবু ভাবছে ছেলেটা একটুও রাগ করলো না। ছেলেটা আসলেই ভাল।
টিকেট কাউন্টারে গিয়ে যা শুনলো তাতে ২ জনেই মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো । আগামী তিন দিনে কোন বাসের সিট খালি নেই। টুরিস্ট সিজন চলছে এখন। অনি বলল
কি করা?এই তিনদিন কই থাকবো আমি।
এখানে কিছু ভাল হোটেল আছে চল সেখানে খোঁজ নেই। ভয় নেই হোটেল ভাড়া তোমার একা দিতে হবে না। আমার কাছেও কিছু টাকা আছে।
আচ্ছা চল ।
কপাল খারাপ। মধ্যমানের হোটেল গুলো সব বুকড। আর যেগুলো খালি সেগুলো আকাশ ছোঁয়া ভাড়া । আর বাকি গুলো একদম নিম্নমানের। সেখানে অনির মত ছেলে কে থাকতে বলা যায় না। শেষ পর্যন্ত রবু ঠিক করলো অনি কে বাসায় নিয়ে যাবে । বাবা মা কে যেভাবে হোক অনি কে রাখতে রাজি করাবে। ডেকে নিয়ে এসে পথে ফেলে রেখে চলে যাবে তা তো হয় না।
চল বাড়ি যাই
তোমার বাবা মা রাগ করবে না?
জানি না। তুমি শুধু বলবে তুমি আমার বন্ধু আনিসের বড় ভাই। বান্দরবন বেড়াতে এসেছ ।
আচ্ছা ,
আর একটা অনুরোধ ,
কি
বাসায় কিন্তু সেক্স হবে না।
তুমি আমাকে এতোটা অবুঝ ভাবো ?
আরে তা না। বলে রাখলাম আর কি
রিকশা নিয়ে রওনা দিলো বাসার উদ্দেশ্যে ।
অনি ভাবছে রবুর বাসায় সমস্যায় হতে পারে তাও তাকে নিয়ে বাসায় যাচ্ছে । নাহ ছেলেটা আসলেই ভাল।

যা ভেবেছিল , যা ভয় পেয়েছিল তার কিছুই হল না। বরং মিস্টার এবং মিসেস হুদা খুব আন্তরিক ভাবেই গ্রহণ করলো অনি কে।বরং অনি যাতে সব ঘুরে ফিরে দেখতে পারে সেজন্য মিস্টার হুদা একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দিলেন আর রবুকেও সাথে যেতে বললেন।
লাঞ্চ করে অনি আর রবু ২ জনেই বাগানে এসে বসেছে। ২ জনেরই এখন বিরক্ত লাগার কথা। অনি বেড়াতে পছন্দ করে না। অপর দিকে রবু এতবার বান্দরবন ঘুরেছে যে সব নখদর্পণে। কিন্তু কি জানি এক অজানা কারনে ২ জনেরই ভাল লাগছে।অনি অতি উৎসাহে জিজ্ঞেস করলো
আজ কোথায় বেড়াতে যাবো ?
মেঘলা আর নীলাচল পাহাড় । তুমি রেডি হয়ে এসো । বেশী দেড়ি হলে নীলাচল পাহাড়ে সূর্যাস্ত দেখতে পারবো না।
রেডি হয়ে ২ জনে বের হল। গাড়ি রেখে গিয়েছেন মিস্টার হুদা।প্রথম গন্তব্য মেঘলা। একটি পিকনিক স্পট। অনেকখানি সিঁড়ি বেয়ে নামতে হল। নামতে তো মজাই লাগে কিন্তু উঠার সময় কিরকম কষ্ট হবে ভাবতেই ২ জনের গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। মেঘলার প্রধান আকর্ষণ ক্যাবলকার।
এই দ্রুত পা চালাও। সূর্য ডুবে ডুবে। এইখানে বেশি সময় নষ্ট করলে নীলাচল দেখা হবে না।
সানগ্লাসের আড়াল থেকে অনি দেখছে রবু কে। ছেলেটা সুন্দর কিন্তু অসম্ভব সুন্দর না। তারপরও কি জানি একটা রয়েছে ছেলেটার মাঝে যেটা তাকে টানছে । বার বার তাই চোখ পরছে ছেলেটার উপর।এদিকে রবু ভাবছে অনিকে সানগ্লাসে সেইরকম হ্যান্ড-সাম লাগছে।
ঝুলন্ত ব্রিজ রয়েছে একটা সেটা পার হতে গিয়ে রবু ব্রিজের উপর পরে গিয়েছিল প্রায়। ঠিক সময় মত অনি রবুর হাতটা ধরে পতনের হাত থেকে রক্ষা করলো। অনির হাতের স্পর্শ পেয়ে কেমন জানি বোকা হয়ে গেলো রবু। অনি হাসছে।
কি পড়ে তো গিয়েছিলে প্রায়। আমি ধরলাম বলে।
ধরলে কেন?
মানে?
কিছু না। ধন্যবাদ।
কেমন যেন অরুণের কথা মনে পড়ছে রবুর। অরুণের হাতের স্পর্শ পেলে এমন লাগতো। সাথে সাথেই সেই চিন্তা মাথা থেকে দূর করে দিল। দেখা হয়েছে কয়েক ঘণ্টা হয় নাই। এর মাঝে প্রেমে পড়ে যাচ্ছে। নিজেকেই ধিক্কার দিলো ।
সূর্য ডুব ডুবি। দেরি করলে আর সূর্যাস্ত দেখা যাবে না। নীলাচল পাহাড়ে আসতেই দেখলো এক অন্ধ বৃদ্ধ গান গাইছে।
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
ক্যামনে আসে যায়
পরিবেশটা এমন। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। মানুষের নশ্বর জীবনের কথা গান গেয়ে মনে করিয়ে কথা মনে করে দিয়েছেন বৃদ্ধ। কি সেই গানের গলা। অপূর্ব । তন্ময় হয়ে শুনছে দুই জন। এই গান কখনই আইপডে ভরে শুনা হয় না। কিন্তু এখন গভীর ভালবাসা নিয়ে গানটি শুনছে।
গান কিছুক্ষণ শুনেই নীলাচল পাহাড়ের একদম উপরে উঠলো। সূর্য অষ্ট যাবে। পশ্চিম আকাশ লাল হয়ে গিয়েছে। চারিদিকে পাহাড় । সূর্য ডুবছে। কি অপূর্ব সেই দৃশ্য। এতো সুন্দর দৃশ্য একা দেখা যায় না। রবু তাকাল অনির দিকে । অনি চোখ ফেলছে না।অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দুরের পাহাড় গুলতে। চোখ গুলো তে মায়া।এই মায়াবী চোখ যার আছে সে এমন অশ্লীল চ্যাট সেক্স করে। ভাবা যায়?
অনি তাকালো রবুর দিকে
এতো সুন্দর দৃশ্য । ধন্যবাদ রবু। তোমার জন্য এত সুন্দর দৃশ্য দেখতে পেলাম।
ধন্যবাদ তোমাকেও । এই দৃশ্য আমি বার বার দেখেছি। কিন্তু আজ নতুনভাবে উপভোগ করলাম। কারো কারো সঙ্গ অনেক সুন্দর দৃশ্য কে আরও সুন্দর করে তুলে
বাড়ি ফিরলো তারা।ফিরে হাত মুখ ধুয়ে দুজনেই টিভির সামনে বসলো। তারপর শুরু হল গল্প। এতো দিনে শুধু চ্যাট আর ফোন সেক্স হয়েছে। কিন্তু নিজেদের সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা হয় নাই। কার কোন সিনেমা ভাল। কোন নায়ক পছন্দ। কার গল্পের বই বেশি পড়া হয়। কি কি বই পড়া হয়েছে।পছন্দের গায়ক কে আর গায়িকা কে সব। আস্তে আস্তে ২ জন ২ জন কে আবিষ্কার করলো অন্যভাবে। স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে,।সেক্স পার্টনার হিসেবে নয়। আর অবাক হয়ে দেখলও তাদের ২ জনের রুচি মিলে যাচ্ছে ।
রাতে খাবার টেবিলে বসে মিস্টার হুদা ঘোষণা করলেন
অনির উদ্দেশ্যে ঠিক নয় আমি বেশ কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম নীলগিরি তে একরাত কাটাবো। কারন সূর্য উঠার আগের দৃশ্য টা নাকি নীলগিরির সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।তো আমার অফিস বন্ধ।অনিও আসলো । তাই ভাবলাম কালেকেই চল নীলগিরি তে।
মিসেস হুদা খুব খুশি। তিনি বললেন
তোরা কাল সকাল সকাল স্বর্ণ মন্দির ঘুরে আয়। দুপুরে আমরা রওনা দিবো।
রবু খুব উত্তেজিত । সেও কক্ষনোই রাতে থাকে নাই নীলগিরি তে।
ইয়াহু
অনি সবার উত্তেজনা দেখে অবাক হচ্ছে ।
অনি কে রবু বলল
আমি শিউর তুমি জায়গাটার প্রেমে পড়ে যাবা
কথা টা শুনে অনি ভাবলো জায়গার প্রেমে পড়বো কিনা জানি না। কিন্তু আমি তো রবুর প্রেমে পড়ে যাচ্ছি।
পরেরদিন সকাল
স্বর্ণ মন্দির অসম্ভব ভালো লাগলো অনির।পাহাড়ের উপরে এত সুন্দর কারু কাজ করা মন্দির।রোদের আলোয় সোনালি রঙের চূড়া ঝিকমিক করছে। অনি ভাবছে সে ভেবেছিল তিন দিন খুব কষ্টে যাবে। কিন্তু এখন খুব ভাল লাগছে। সবচেয়ে মজার কথা রবুর সঙ্গ তার ভাল লাগছে। সে মন্ত্রমুগ্ধের মত রবুর কথা শুনে।কিন্তু সেক্স চ্যাটে রবু কে যেভাবে কল্পনা করতো সেভাবে আসে না। তার থেকে অনেক পবিত্র রবু।একবার দেখলে মন ভরে না। বার বার দেখতে ইচ্ছা করে রবু কে। এই অনুভূতি কি প্রেমে পড়লে তৈরি হয়? তা সে জানে না।
দুপুরে তারা রওনা দিল চান্দের গাড়ি করে নীলগিরির উদ্দেশ্যে।দাঁড়িয়ে পড়লো রবু। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চারিদিকের পাহাড়ের সৌন্দর্য অবলোকন করছে। অনি কিছুক্ষণ দেখে বসে পড়লো। রাস্তায় তো অনি বমি করে একাকার।তাকে চান্দের গাড়ির সামনের সীটে বসানো হল। রবু এখন চুপ করে বসে আছে। কেন জানি এখন আর উপভোগ করতে পারছে না। বার বার শুধু অনির কথা মনে পড়ছে। ও ঠিক আছে তো ? জানে তেমন মারাত্মক কিছু হয় নাই । তারপরও বেচারা কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু এই অনুভূতি এর আগে কারো জন্য হয় নাই। সে কি তাহলে অনির প্রেমে পড়ে যাচ্ছে ?
নীলগিরি তে বিকেল বেলা যখন পৌঁছল তখন তারা মুগ্ধ। কি সেই অপূর্ব দৃশ্য। ভোরবেলা নাকি এর থেকেও সুন্দর হয়ে উঠে নীলগিরি । রাত হয়ে এলো।কটেজে ২ টা ঘর। রাতে একটা ঘরে মিস্টার এবং মিসেস হুদা ঘুমালেন ।আরেক ঘরে অনি আর রবু। এখন তাদের মাঝে কিছু হওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। অথচ কেউ এগোল না। তাদের মাঝে কি যেন একটা বাঁধা তৈরি হয়েছে। সেই চ্যাট সেক্স এর নোংরা কথা গুলো তাদের কে মনে করিয়ে পীড়া দিচ্ছে। তারা এখন আর সস্তা যৌন সুখ পেতে চায় না। তাদের মাঝে এখন ভালবাসা বসত গেড়েছে।
ভোর হওয়ার আগেই অনির ঘুম ভাঙলো । বাইরে তাকিয়ে দেখলো । এ কি দেখলো । সাদা মেঘের রাজ্যে ভাসছে । মনে হচ্ছে চারিদিকে মেঘের সমুদ্র। সে জোরে ধাক্কা দিল রবু কে।
উঠো । দেখো বাইরে কি সুন্দর দৃশ্য।
এখন উঠবো না। আরেকটু ঘুমিয়ে নেই।
উঠো
তুমি দেখো না
আমি এই দৃশ্য একা দেখবো না। তোমাকে নিয়ে দেখবো। এই দৃশ্য একা দেখা যায় না। ভাল লাগার মানুষের সাথে দেখতে হয়।
কি বললে ধড়ফড় করে উঠে পড়লো রবু।
কিছু না।
না তুমি এই মাত্র যে কথাটা বললে
কি শুনতে কি শুনেছ ঘুমের ঘোরে। এখন এসব চিন্তা বাদ দিয়ে বাইরে চল। সূর্য উঠে গেলে এই দৃশ্য আর দেখতে পারবে না।
রবু ঠিক শুনেছে । কিন্তু এটা নিয়ে আর কথা বাড়ালো না।
সে এক অপূর্ব দৃশ্য।মেঘের রাজ্যের মাঝখানে যেন রয়েছে তারা। অসংখ্য ছবি তুলেও মনের সাধ মিটে না। এমন সুন্দর দৃশ্য আর কখনই দেখে নাই রবু আর অনি। রবু ভাবছে সত্যি অনি ডেকে না তুললে কি মিস হত। হঠাত অনির কথা মনে পড়লো । সত্যি কি অনি তাকে ভাল লাগার মানুষ মনে করে?
অনি কেমন বাচ্চা ছেলেদের মত দৌড়ে দৌড়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে এই সৌন্দর্য অবলোকন করছে। যে জায়গা থেকে ভিউ ভাল সেখানে দাঁড়িয়েই রবু কে ডাকছে ছবি তোলার জন্য। রবুর অনির এই প্রাণচাঞ্চল্য শিশু সুলভ আচরণ ভাল লাগছে।আর অনি রবুর ভদ্র বিনয়ী শান্ত আচরণে মুগ্ধ হচ্ছে। আসলে সবার মাঝেই ডক্টর জেকিল এবং মিস্টার হাইড থাকে। এতো দিন তারা নিজেদের মিস্টার হাইড কে প্রকাশ করেছিল একে অপরের কাছে। কিন্তু এই বান্দরবনে এখন দুই জনই ডক্টর জেকিল হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে। আর তারা ২ জন ২জনের এই ব্যক্তিত্ব কে ভালবেসে ফেলেছে।
সূর্য উঠি উঠি করছে।মিস্টার আর মিসেস হুদাও উঠে পড়েছেন তারাও ছবি তুলছেন।
দুপুরের মাঝে বান্দরবন ফিরলো তারা একটি অসম্ভব সুন্দর স্মৃতি নিয়ে।

বিকেল হয়ে এলো অনির চিটাগাং যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে।বাস কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ২ জন। অনির কাছে মনে হচ্ছে তার জীবনের সেরা ৩ টি দিন এখানে কাটিয়ে গেলো। রবু কেও তার অনেক ভাল লেগেছে। অনেক মানে একদম অনেক। সীমাহীন। তাহলে কি এটা ভালবাসা?
রবুর খুব কষ্ট হচ্ছে। অনিকে যেতে দিতে ইচ্ছা করছে না। মনে হচ্ছে আজীবন যদি অনি এখানে থাকতো । রবু বলল
তোমার হাত টা একবার ধরতে পারি।
অবশ্যই
রবু হাত স্পর্শ করলো ।
অনি তাকালো রবুর চোখে। দেখলো রবুর চোখে শুধু ভালবাসা রয়েছে। কোন কাম নেই।
বাস ছাড়লো। পিছনে দাঁড়িয়ে আছে রবু। বুকের ভিতর অসম্ভব কষ্ট। অনি তাহলে সত্যি চলে যাচ্ছে। বাস টা বিন্দু হয়ে একসময় চোখের আড়াল হয়ে গেলো । কয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো চোখ থেকে

রাতে অনেকদিন পর আবার চ্যাটে বসলো ২ জন। রবু নক করলো
হাই।
হাই
কেমন আছ?
ভাল। তুমি?
ভাল
এরপর আর কোন কথা হচ্ছে না। ২ জনই নীরব। ২ জনের কেউই আর চ্যাট সেক্স করতে চায় না। আবার বলতেও পারছে না।নীরবতা ভাঙলো অনি
তোমার সাথে একটু কথা বলা যাবে?
যাবে।
আচ্ছা আমি ফোন দিচ্ছি ।
রবু ভাবছে কি কথা বলার জন্য ফোন দিচ্ছে । ফোন সেক্স নয় তো ? তাহলে সে ফোন রেখে দিবে।ফোন বাজলো । ওপাশ থেকে অনি বলে উঠলো
হ্যালো
হ্যালো
কোন ভণিতা না করে সরাসরি বলছি আমার পক্ষে আগের মত ফোন সেক্স আর চ্যাট সেক্স করা সম্ভব নয়।
কথা টা শুনে রবু সস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। এবং সে অসম্ভব খুশি। মনে হয় জীবনে এর থেকে খুশির কথা আর শুনে নাই।
কেন ?
কেন তুমি করতে চাও?
সেটা বলবো পরে । তার আগে তুমি বল কেন করতে চাও না।
অনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল
আমি মনে হয় তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি। আমি তোমাকে এতো নোংরা ভাবে চাই না। আমি তোমাকে চাই ভালবাসার মাধ্যমে। কোন নোংরামি সেখানে থাকবে না। থাকবে শুধু শুদ্ধ , পবিত্র ভালবাসা।
কথা টা শুনে রবু কেঁদে দিল।
কাঁদছ কেন? আমি কি কিছু খারাপ বললাম?
না। আমি খুশিতে কাঁদছি।তোমাকে যে আমিও ভালবেসে ফেলেছি কিন্তু তুমি অরুণের মত আমাকে ঠকাবা না তো ?
মোটেও না। সারাজীবন আমার বুকে তোমাকে আগলে রাখবো । আমাকে ছেড়ে যেতে দিবো না।

ভ্যালেন্টাইন ডে। চিটাগাঙের বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছে রবু।অপেক্ষা করছে অনির জন্য। আজকে চিটাগাঙে ঘুরবে তারা।উৎযাপন করবে ভালবাসা দিবস। কিন্তু অনি এতো দেরি করছে কেন। ঐ তো অনি আসছে ।হাতে লাল গোলাপ 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.