রোমাঞ্চ রহস্য

লেখক : – Valentine

১।
চারদিকে ঘন অন্ধকার পিজের রাস্তা দিয়ে গাড়িটা চলছে গাড়িতে মিশন রোজারিও আর তার ভাবী
মিশন তার মোবাইলে চেয়ে দেখলো সময় এখন রাত ২ টা বেজে ২৪ মিনিট
ড্রাইভার বললো স্যার কফি খাবেন? ফ্লাস্কে গরম কফি আছে
– ড্রাইভার সাহেব আপনি কফি পেলেন কোথায় , মিশনের ভাবী বললো
– ম্যাডাম আপনারা যখন পার্টিতে ছিলেন তখন আমি একটা দোকান থেকে ৪ কাপ কফি বানিয়ে ফ্লাস্কে ভরে রেখেছিলাম
মিশন রোজারিও একজন সমপ্রেমি লেখক আর আজকে সমপ্রেমি লেখকদের একটা পার্টি ছিল ঢাকাতে সেই পার্টি থেকে মিশন আর তার ভাবি গাড়িতে গাজীপুর কালিগঞ্জ তাদের বাড়িতে ফিরছে । গাড়িটা যখন প্রায় তাদের বাড়ির কাছাকাছি চলে আসলো ঠিক তখন তাদের পেছন থেকে একটা গাড়ি তাদের গাড়িটাকে অভারটেক করে সামনে দিয়ে চলতে লাগলো কিছুদুর যাওয়ার পড়ে হঠাৎ সামনের গাড়িথেকে একটা মানুষ ছিটকে রাস্তায় পরেগেলো মিশন ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বললো,
মিশন তার ভাবি আর ড্রাইভার গাড়ি থেকে নেমে লোকটার কাছে গেলো এমনি ওই গাড়িটাও থামিয়ে ২ টা লোক তাদের দিকে এগিয়া আসলো মিশন আর ড্রাইভার লোক দুইটার দিকে তাকিয়ে সামনে এগিয়ে গেলো কিন্তু ওই লোক দুইটা তাদের কাছে আসতে দেখে দৌরে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে গেলো !ওই গাড়িথেকে পড়ে যাওয়া মানুষটা অজ্ঞান হয়ে আছে আর তার হাত এবং মুখ বাধা, মিশন বললো ভাবি চলো লোকটাকে আশে পাশের কোন হাস্পাতালে নিয়ে যাই
– কিন্তু আশে পাশে তো কোন হাস্পাতাল নেই লোকটাকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে চলো
– কিন্তু ভাবি শুধু শুধু এসব ঝামেলায় জড়াবো কেন ?
– দেখ সবার আগে মানুষটার কথা ভাব আগে বাড়ি চল তারপর দেখা যাবে কি করা যায়
মিশন লোকটাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসলো,তাদের পারীবারিক ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা করালো, ডাক্তার বললো তেমন কোন সমস্যা নেই গাড়ি থেকে হঠাৎ ছিটকে পরাতে মাথায় বেশ আঘাত লেগেছে সকালের মধ্যেই জ্ঞান ফিরে আসবে
মিশনদের বাড়িতে মিশন তার ভাবি আর তার এক ছোট্ট ৫ বছরর ভাতিঝি থাকি
তার বড় ভাই ভাবিকে নিয়ে নেদারল্যান্ড থাকে ভাবি কিছু দিনের জন্য দেশে বেরাতে আসছে দেশে মিশন একাই থাকে মিশন একজন গে এই কথাটা ভাই ভাবি যানে!
সকালে হঠাৎ জোরে জোরে নামাজ পড়ার শব্দে মিশনের ঘুম ভেঙ্গে যায় !খুব হকচকিয়ে উঠে মিশন ভাবতে থাকে এই খ্রিষ্টান বাড়িতে নামায পরছে কে ? কোথা থেকে আসছে এই আল্লাহুয়াকবার লাইলাহা ইল্লাল্লাহ শব্দ গুলো ?
মিশন তরিঘরি করে বিছানা থেকে উঠে সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখলো কালকের ওই মানুষটা নামায পরছে !
নামাজ থেকে সালাম ফিরিয়ে মিশনকে দেখেই মুচকি হেসে বললো
– কি ব্যাপার নাস্তার কি আয়োজন আজকে ? শুনো আজকে তোমাকে নিয়ে বাজারে যাবো তাই সকাল সকাল রেডি হয়ে নিও তোমার তো আবার মেকাপ করতেই ২ ঘন্টা লাগে
মিশন চমকে গেল,কিবলছে লোকটা ?
– আপনি আমাকে চিনেন ?
– এই দুস্টো ফাযলামো করা হচ্ছ আমার সাথে তাই না ? সকাল সকাল এসব দুস্টমি করো না
নাস্তা নিয়ে আসো তারপর আজকের সব কাজ শেষ করি তারপর তোমার যত যা দুস্টমি মজা করার সব রাতে করো ওকে ? রাতটা তো শুধু তোমার আর আমার হা হা হা ..
– কিসব বলছেন আপনি এসব ? আপনার মাথা টাতা ঠিক আছে তো ? ভাবি ভাবি এই এসে দেখ তোমার কালকের এই লোক কিসব বলছে আমাকে
– এর মধ্যে আবার ভাবিকে ডাকছো কেন ?
– হ্যালো ! আচ্ছা আপনার নামকি ভাই ?
– আমার নাম মানে ? তুমি না আমাকে আদর করে রোমাঞ্চ বলে ডাকো
– ও মাই গট লোকটা এসব কি বলছে আমাকে ? আচ্ছা আপনি কে বলুনতো ?
– আমার আর তোমার আমাদের দুজনেরতো এই দুনিয়ায় আমি আর তুমি ছাড়া কেউ নেই তাই পরিচয় দেওয়ার মত আমার আছ তুমি আর তোমার আছি আমি
এমনি ভাবি এসে লোকটাকে ডেকে ভাবির ঘরে নিয়ে গেলো
ভাবি লোকটাকে কাল রাতের সব কথা খুলে বললো, কিন্তু লোকটা কিছুতেই মানতে রাজি না যে তাকে তারা রাস্তায় কুরিয়ে পেয়েছে সে ভাবিকে বলতে লাগলো
আমি মিশনের বয় ফ্রেন্ড আমাদের প্রায় ১ বছরের সম্পর্ক
ভাবি মিশনকে ডেকে একটু দূরে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো আসলে কি ওর সাথে তোর সম্পর্ক ছিল ?
– ভাবি কিসব বলছ এসব , আমি এই লোককে জীবনেও চিনি না, এক্ষনি পোলিশ ডেকে এই লোকটাকে বাড়ি থেকে বের করো !
লোকটা তাদের কথা শুনছিলো দরজায় দারিয়ে আর বাড়ি থেকে পোলিশ দিয়ে বেরকরে দিবে শোনে অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে গেলো
মিশনদের পারিবারিক ডাক্তার কাকা আসলো ডাক্তার কাকা বললো মনে হচ্ছে লোকটার স্মৃতি হারিয়ে গেছে
তাই এসব আবল তাবল ভাবছে বলছে পোলিশে একটা ডায়রি করে দাও আর কিছু দিন তোমাদের বাসায় ই রাখো দেখ কি হয়
বিকেলে লোকটার জ্ঞান ফিরলে মিশন তাকে আবার সব খুলে বলে এবং যানতে চায় সে আসলে কে ?
কিন্তু লোকটার সেই একই কথা, মিশন তার বয়ফ্রেন্ড মিশনের সাথে তার ১ বছর ধরে রিলেশনশিপ ১ বছরের ভালবাসা তার সাথে রাগ করে মিশন এসব মিথ্যা কথা বলছে, তাকে যদি এখন বাসা থেকে বের করে দেয় তাহলে সে আত্মহত্যা করে বুঝাবে যে সে আসলে মিশনকে কতটা ভালবাসে
২ ।
কোন উপায় না দেখে লোকটাকে মিশনের বাড়িতেই রাখতে হল ! মিশন বার বার জিজ্ঞেস করার পরেও লোকটা তার নাম বলতে পারলো না
লোকটাকে নিয়ে মিশন তাদের কালীগঞ্জের গির্জায় গেল ফাদারকে সব খুলে বলারপর ফাদার বললো, এ ও ঈশ্বরের এক দান তার সেবা কর দেখবে নিশ্চয়ই ইশ্বর তোমার ভাল করবে, ফাদার বললো আর যাই হোক লোকটা খারাপ না এ আমি তোমাকে বলে দিলাম মিশন !
ফাদারের কথায় মিশন লোকটাকে তার বারিতে রাখতে নির্ভয় হল !
লোকটার কোন নাম না জানায় সবাই তাকে রোমাঞ্চ বলেই ডাকে
লোকটা যীশু এর মূর্তিকেও খুব সম্মানের সাথে প্রনাম করলো
রোমাঞ্চের আচার আচরনে ধীরে ধীরে মিশনের ভাবি আর ভাছতি তার খুব ভক্ত হয়ে গেলো
ভাবি বললো দেখ তুই তো সবসময় দেশে একাই থাকিস তাই যদি লোকটা স্মৃতি হারিয়েও থাকে আর তোর সাথে থাকে তাতে ক্ষতি কি তোর জীবনেও একজনকে পেয়ে গেলি
– না ভাবি আমি আর এই সমপ্রেমে বিশ্বাস করিনা আর কোন পুরুষকেও বিশ্বাস করি না
– দেখ মিশন, তোর সাথে জাভিয়ের বেইমানি করেছে বলে তুই কিন্তু পৃথিবীর সকল সমপ্রেমিকেই খারাপ ভাবতে পারিস না
– কিন্তু ভাবি রোমাঞ্চ একজন সাধারন মানুষ সে কেন আমাকে ভালবাসে বলছে? এমনকি আমি তাকে চিনিওনা , ব্যাপারটা কেমন যেন অদ্ভুত লাগছে না ? তাছারা আমি সমপ্রেমি মানুষ এটা তোমরা ছাড়া আর কেউ তো জানেও না তাহলে এই লোকটার এমন আচরণ তোমার কাছে রহস্যময় লাগছে না ?
– এক কাজ কর রোমাঞ্চের একটা ছবি দিয়ে কালকের পত্রিকাতে একটা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দে তাহলেই আমার মনে হয় একটা পথ পাওয়া যাবে
পরদিনের পত্রিকাতে রোমাঞ্চের ছবি সহ একটা হারানো বিজ্ঞপ্তি বেরহল
কিন্তু কেউ কোন যোগাযোগ করলো না
এভাবেই চলে গেলো প্রায় ১ মাস
এখন রোমাঞ্চকে মিশন পরিবারেরই একজন মনে করে
রোমাঞ্চ দেখতে অনেক ম্যানলি আর খুবই সুদর্শন একজন পুরুষ মিশনের তাকে ধীরে ধীরে খুব ভাললাগতে শুরু করলো
একদিন মিশনের বাসায় তার পুরনো এক বান্ধবী এসেছে, তারা ড্রইং রোমে বসে আলাপ করছিল
রোমাঞ্চ মিশনের ভাছতিকে নিয়ে বাইরে থেকে ঘুরে বাসায় আসলো
মিশনের বান্ধবিটা রোমাঞ্চকে দেখে চমকে গেলো ! তার চোখ মুখে কেমন যেনো একটা আতংক দেখতে পেল মিশন
মিশন সাথে সাথে তাকে জিজ্ঞেস করলো
-কি ব্যাপার কি হল তোমার ? তুমকি তাকে চিনো?
– না চিনি না
– তাহলে চমকে উঠলে যে
– কই চমকালাম ! হ্যাঁ একটু অবাক হয়েছি তোমাদের বাসায় এই লোককে তো আগে আর দেখিনি তাই
সেদিন রাত ১ টার দিকে মিশন তার রোমে বসে বসে সমপ্রেমি গল্প লিখছিলো, হঠাৎ কেমন যেনো একটা শব্দ কানে এলো
সে বাইরে বেরিয়ে এলো কিন্তু কিছুই দেখতে পেলনা
আবার রোমে গিয়ে লেখা শুরু করলো
কিন্তু সেই রাতে মিশনের বাড়িতে ৩ জন লোক ঢুকেছে মুখোশ পড়ে, তারা রোমাঞ্চের রোমে গিয়ে ঘুমের মধ্যে রোমাঞ্চের মুখ বেধে ফেলে আর হাত পা ও, রোমাঞ্চকে নিয়ে উপর তলা থেকে নিচের দিকে নামছিল ওই ৩ জন কিন্তু রোমাঞ্চ কোন ভাবেই কোন শব্দ করতে পারছিলো না সিরি দিয়ে নামার সময় সিরির পাশে একটা ফুলদানি ছিল রোমাঞ্চ তার বাধা পা দিয়ে সেটা নারা দেয় তাতে ফুলদানিটা পড়ে যায় আর মিশন আবারো চমকে গিয়ে তার রোম থেকে বের হয়ে আসে এবং দেখতে পায় ৩ জন লোক রোমাঞ্চকে বেধে নিয়ে যাচ্ছে , মিশন চিৎকার করে ড্রাইভার গার্ডকে ডাকতে থাকে সবাই দ্রুত চলে আসে বাড়ির সব লাইট জ্বলে যায় চোর গুলো রোমাঞ্চকে রেখেই দৌরে পালিয়ে যায়
৩।
এই ঘটনার পর মিশনের ভাবি বললো দেখ মিশন নিশ্চয়ই রোমাঞ্চের কোন শত্রু আছে হয়ত রোমাঞ্চ কিছুই মনে করতে পারছে না তাই আমি বলি কি তুই রোমাঞ্চকে নিয়ে কিছুদিন দূরে কোথাও চলে যা
– হ্যাঁ ভাবি তুমি ঠিকই বলেছ
রোমাঞ্চকে নিয়ে মিশন নেত্রকোনার বিরিসিরি তে বেরাতে চলে যায়
সেখানে না না সুন্দর সুন্দর লোকেশনে অনেক গুলো ছবি তুলে দুজনে মিলে
মিশন একটা ফটো স্টুডিওতে যায় তাদের তোলা ছবি গুলো প্রিন্ট করাতে, মিশন তাদের ছবি গুলো নিয়ে আসার সময় হঠাৎ ওই স্টুডিওতে রোমাঞ্চের একটা ছবি দেখতে পায়, মিশন চমকে যায়, স্টুডিওর লোককে এই ছবি সম্মন্দে জিজ্ঞেস করলে স্টুডিওর লোকটা বললো প্রায় ৪/৫ মাস আগে সে এই ছবিটা তুলেছিল কিন্তু যে মহিলার জন্য তোলেছিল সে আর ছবিটা নিতে আসেনি
– আচ্ছা আমি যদি ছবিটার দাম দিয়ে দেই তাহলে আমাকে ছবিটা দিবেন ?
– হ্যা দাম পেলে এই ছবি রেখে আমার কি লাভ
– আচ্ছা নিশ্চয়ই আপনার রেকর্ড খাতাতে ওই মহিলার ঠিকানা লেখা আছে যিনি আপনাকে এই ছবিটা প্রিন্ট করতে দিয়েছিলো ?
– হ্যাঁ তা আছে কিন্তু কোন বাড়ির ঠিকানা না একটা হোটেলের ঠিকানা
মিশন ছবিটার বিল দিয়ে ওই হোটেলের ঠিকানা নিয়ে চলে আসলো
মিশন ভাবতে লাগলো এবার হয়তো রোমাঞ্চের ঠিকানা পাওয়া যাবে
মিশন ওই হোটেলে চলে গেলো এবং ওই মহিলার নাম এবং ছবিটা দেখিয়ে বললো ওই তারিখে তারা এই হোটেলে ছিল কি না
হোটেলের রিসিপশনে থাকা লোকটা কোন তথ্য দিতে নারাজ প্রকাশ করলো, মিশন কিছু টাকা দিয়ে আবার তাকে অনুরুধ করলো, এবার রিসিপশনের লোকটা বললো
হ্যা ওই তারিখে এখানে এই লোক টা তার বউ কে নিয়ে আমাদের হোটেলে এসেছিলো
মিশন চমকে গেলো ? বউ নিয়ে থেকে ছিলো ?
– হ্যা ! আমার স্পস্ট মনে আছে স্যার কারন যেদিন তারা এসেছিল সেদিন রাতেই তাদের হাসব্যান্ড ওয়াইফ এর মধ্যে অনেক ঝগড়া হয় এবং এই লোকটা তার বউকে একাই হোটেলে রেখে সেই রাতেই চলে যায়
– আচ্ছা আমাকে উনাদের ঠিকানাটা দিন প্লিজ
– টাকা পেয়ে হটেলের রিসিপশনের লোকটা ওই মহিলার ঠিকানা দিয়ে দিলো
মিশন তার হোটেলে ফিরে রোমাঞ্চকে কিছু বললো না চুপ চাপ তারা তাদের গাজীপুরের বাড়িতে ফিরে এলো
দুঃখ করে ভাবিকে বলতে লাগলো
– ভাবি বার বার আমার জীবনেই কেন এমন হয় ! এর আগে জাভিয়ের আমাকে ধোকা দিয়ে বিয়ে করে বিদেশ চলে গেলো , আমিতো প্রেম ভালোবাসা ছেরেই দিয়েছিলাম রোমাঞ্চ আমার জীবনে এলো তার ভালোবাসায় আমি আবার তাকে ভালবাসলাম কিন্তু সে তো পুর্ব বিবাহিত একজন স্ট্রেইট পুরুষ । এখন তার সব আসল ঠিকানা খুজে পেলে সে তার জীবনে ফিরে যাবে ! আমি আবারো কস্ট পেলাম ভাবী
– শোন মিশন এভাবে ভেঙ্গে পরিস না রোমাঞ্চের ঠিকানা খুজে বেরকর আসলে জীবনে সবাই সবকিছু পায়না ভাই
ভাবী মিশনকে স্বান্তনা দেওয়ার কোন ভাষা পেলোনা নীরবে সেখান থেকে চলে গেলো
পরদিন মিশন রোমাঞ্চের বউএর ঠিকানায় চলে যায় এটা কক্সবাজারের একটা ঠিকানা
ঠিকানা আসলে একটা অফিসের মহিলার নাম মিস পারভিন ! মিশন সেখানে গিয়ে মিস পারভিন এর খুজ করে
অফিসের রিসিপশনিস্ট তাকে মিস পারভিন এর রোম দেখিয়ে সেখানে যেতে বলে
অফিসের ভেতরে গিয়ে দেখা গেলো অপুর্ব সুন্দরী এক স্মার্ট মহিলা বয়স প্রায় ৫০ কাছা কাছি হবে
মিশন অবাক হল রোমাঞ্চের বউ এমন ৫০ বছরের একটা মহিলা ?
মিশন পারভিনকে বললো
– আমি মিশন আমি আপনার হারিয়ে যাওয়া হাসব্যান্ড এর খবর দিতে এলাম
মহিলা কটু হাসি দিয়ে বললো হাসব্যান্ড ? আমার ? হা হা হা আমিতো এখনও বিয়েই করি নি !
– কি বলছেন ? আপনি বিবাহিতা না ?
– জ্বি না মিস্টার এসব বিবাহিত জীবন আমার ভালো লাগে না আর একজনকে দিয়ে আমার চলেও না আমার সবসময় সুদর্শন ইয়াং ইয়াং পুরুষ পছন্দ আর আমার এখনো ইয়াং ইয়াং পুরুষের অভাব হয় না
মিশন রোমাঞ্চের ছবিটা দেখিয়ে বললো একে চিনেন ? মনে পরে এর কথা ? তাকে নিয়ে নেত্রকোনার বিরিসিরির একটা হোটেলে ছিলেন আপনি
– ওহ হ্যা ! ওকে চিনবো না কেন অর নাম মুহিত এর মত এমন কত ইয়াং পুরুষের সাথেই তো কত হটেলে আমি থেকেছি , আসলে কি জানেন আমার বিশনেস টাই এমন হোটেলে ইয়াং ইয়াং ছেলেদের সাপ্লাই দেই বয়স্ক মহিলারা টাকা দিয়ে ইয়াং পুরুষ নেয় আর অনেক হোটেলে বয়স্ক বিদেশি পুরুষ মহিলারা বাংলাদেশের সুদর্শন ইয়াং পুরুষ চায়
তাই আমার ক্লাইন্ডদেরকে খুশি রাখতে আমি এমন কত ছেলেকে টাকা দিয়ে কিনেছি
আর মুহিত ও আমার একজন টাকায় কেনা ছেলেছিল, কিন্তু সেদিন বিরিসিরিতে পেমেন্ট নিয়ে আমার সাথে ঝামেলা করে সে চলে এসেছিল
মুহিতের মত এসব ছেলেরা টাকা ছাড়া আর কিছু বুঝে না
ওর সম্মন্দে আরো জানতে চাইলে ঢাকার গুলশানের বিখ্যাত জেন্ডস পার্লার বানথাই এ গিয়ে খবর নিন সেখানে কাজ করে একজন ছেলে আছে নাম সাঈদ তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন মুহিতের সব কিছু সে জানে ! শুনেছিলাম মুহিত নাকি জেলেও গিয়েছিলো
– জেলে ? কেন ?
– কেন আবার হোটেলে হোটেলে ওই অসামাজিক কার্যকলাপ করলে একদিন তো পোলিশ ধরবেই
– আচ্ছা আমি এবার আসি, বলে সেখান থেকে মিশন চলে আসলো
মিশনের পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে গেলো, এমন সহজ সরল নিষ্পাপ চেহারার নিচে এত পাপ লোকিয়ে আছে ? রোমাঞ্চের আসল নাম তাহলে মুহিত ?
পরদিন মিশন গাজীপুরে তার বাড়িতে ফিরে এলো সে তার ভাবিকে সব খুলে বললো
তার ভাবী তাকে বার বার বুঝালো রোমাঞ্চ এরকম ছেলে হতে পারে না, তার চেহারায় একটা ভদ্র পরিবারের ছাপ আছে
মিশন বললো আজ রাতে আমি রোমাঞ্চকে নিয়ে গুলশানের বানথাই জেন্টস পার্লারে যাবো
৪।
মিশন রোমাঞ্চ নিয়ে গুলশানের বানথাই জেন্টস পার্লারে গেলো
বানথাই জেন্টস পার্লারে গিয়ে সাঈদ এর খুজকরতেই তাকে পাওয়া গেলো ! সাঈদ রোমাঞ্চের দিকে কেমন যেনো একটু ঘৃণা আর ক্ষোভ নিয়ে তাকিয়ে আছে কিন্তু রোমাঞ্চ আগের মতই স্বাভাবিক
মিশন রোমাঞ্চকে একটা চেয়ারে বসিয়ে সাঈদের সাথে একটা রোমে গেলো
সাঈদ বলে ঊঠলো
– ওহ আনিস তাহলে এখন আপনার উপর ভর করেছে ? ভাল ভাল লোক ই তো ধরে তাহলে সে
মিশন বলে উঠলো
– আনিস ? আনিস কে ?
– আপনার সাথে আসা ওই লোকটা যাকে আপনি বাইরে চেয়ারে বসিয়ে রেখে এসেছেন তার নাম আনিসুর রহমান
– কিন্তু আমাকে তো মিস পারভিন বললো ওর নাম মুহিত
– সাঈদ একটু ঢং করে বলে উঠলো, মুহিত ? ওর নাম মুহিত বলেছে পারভিন ম্যাডাম ! আসলে সে ত বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন নাম বলে তাই কেউ ওর আসল নাম জানে না, ওর আসল নাম আনিসুর রাহমান
– আচ্ছা আমি মুহিত মানে আনিস এর সম্মন্দে জানতে চাই
– আনিস ভাল পরিবারের ছেলেই ছিল কিন্তু একটা মেয়েকে বিয়ে করেছিল তার সম্পত্তির লোভে এবং ওই মেয়েকে খুন করে সে পালিয়ে যায় আর কোন সম্পত্তি না পেয়ে সে যখন খুনের অপরাধে পালিয়ে বেরাচ্ছিল তখন একদিন তার সাথে আমার পরিচয় আমি তাকে বিভিন্ন হোটেলে জেন্ডস পার্লারে কাজ পাইয়ে দেই সে সেখানেই ক্লাইন্ডদের বাসায় গিয়ে বডি মাসাজ হেয়ার কাট সহ সেক্স সার্ভিস দিতো
কিন্তু একদিন এক ক্লাইন্ডের বাসা থেকে মোটা অংকের টাকা চরি করে পালিয়ে যায় তারপর থেকে আনিসের সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই
মিশন সব শুনে বাইরে এসে দেখে ওই চেয়ারে রোমাঞ্চ নেই
পার্লারের একজনকে জিজ্ঞেস করলে সেই লোক বললো
স্যার আপনি যখন সাইদ ভাইয়ার সাথে উনার রোমে গেলেন তখন আপনার পিছনে পিছনে আপনার সাথে আসা ওই লোক ও গেলো
তারপর এই মাত্র উনি বেরিয়ে গেলো
মিশন বুঝে গেলো রোমাঞ্চ মিশনের আর সাঈদের সব কথা শুনে ফেলেছে তাই সে এখন পালিয়েছে
মিশন তার বাড়িতে এসে ভাবিকে সব বললো, কিন্তু ভাবী কিছুতেই মানতে রাজী না
ভাবী বার বার বলছে
– রোমাঞ্চ এতটা খারাপ হতে পারে না আমার মন, গির্জার ফাদারের চোখ কখনো ভুল হতে পারে না
– দেখ ভাবী রোমাঞ্চ যদি সৎ ই হত তাহলে সে আমাদের সব কথা শোনার পর ওই পার্লার থেকে পালালো কেন ? সে বুঝে গেছে তার সব রহস্য আমার কাছে খুলে গেছে সে আড়ি পেতে আমাদের সব কথা শুনেছে আর পালিয়ে গেছে
এমনি পিছন থেকে রোমাঞ্চ বলে উঠলো
– না আমি পালাইনি !
– ওহ আপনি তাহলে এসে গেছেন আমার রোমাঞ্চ রহস্য ? তো কি নামে ডাকবো আপনাকে রোমাঞ্চ নাকি মুহিত নাকি আনিস ? ছদ্মবেশী ফ্রড একটা ! এই মুহুর্তে তুমি আমাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও , আমি আর কোন কথা শুনতে চাই না কোন কথা না
– মিশন প্লিজ আমার একটা কথা শুনো আমি কথা দিচ্ছি আমি চলে যাবো কিন্তু আমার কথা গুলো বলার পর
– না আমি আবারো তোমার বানানো মিথ্যা কথা শুনে ধোকা খেতে চাই না, আমি আর কোন কথা শুনবো না জাস্ট বেরিয়ে যাও ! আর যাইহোক এখন তো এটাও প্রমান হল যে তুমি কোন স্মৃতি হারানো মানুষ না এতদিন তুমি জাস্ট অভিনয় করেছো আমাদের সবার সাথে , এতো বড় মিথ্যা এতো বড় ধোকা অভিনেতার সাথে আমার বা আমার পরিবারের আর কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না
রোমাঞ্চ আর কোন কথা না বলে নীরবে বেরিয়ে গেলো
রোমাঞ্চ মিশনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে নীরব রাস্তায় একা একা হাটছে ! হাতের ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখলো সময় রাত ১ টা বেযে ৪ মিনিট
সময়টা দেখার পরপরই রোমাঞ্চের মনে পড়ে গেলো এই ঘড়িটা মিশনই তাকে কিনে দিয়েছিলো বিরিসিরি যাওয়ার আগে ! ভাবতে ভাবতেই চোখটা ভিজে উঠলো রোমাঞ্চের
এমনি হঠাৎ ২ জন লোক রোমাঞ্চের সামনে এসে দারালো আর রোমাঞ্চ কিছু বুঝে উঠার আগেই একজন রোমাঞ্চের নাকে মুখে কিযেনো একটা স্প্রে করে দিলো আর বললো সেদিন ভুল করেছিলাম কিন্তু আজ আর কোন ভুল করবোনা তাই তোকে অজ্ঞান করে নিলাম
রোমাঞ্চ একটু সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেস্টা করলো কিন্তু পারলোনা সে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পরে গেলো
যখন রোমাঞ্চের জ্ঞান ফিরলো সে দেখতে পেলো একটা চেয়ারের সাথে তার হাত পা বাধা
সামনে একটা সুন্দরি মহিলা বসে আছে , ধীরে ধীরে রোমাঞ্চের চোখ পরিস্কার ভাবে সেই মহিলাটাকে দেখতে পেলো
– একি সুলতানা তুমি ? তুমি আমাকে ধরে এনেছো ?
– হ্যাঁ আমি তোমাকে ধরে এনেছি, যাক আমাকেযে চিনতে পেরেছো এতেই আমি খুশি, সেদিন মিশনের বাড়িতেতো আমাকে চিন্তেই পারোনি
– তুমি মিশনকে চিনো কিভাবে ?

৫।
যখন রোমাঞ্চের জ্ঞান ফিরলো সে দেখতে পেলো একটা চেয়ারের সাথে তার হাত পা বাধা
সামনে একটা সুন্দরি মহিলা বসে আছে , ধীরে ধীরে রোমাঞ্চের চোখ পরিস্কার ভাবে সেই মহিলাটাকে দেখতে পেলো
– একি সুলতানা তুমি ? তুমি আমাকে ধরে এনেছো ?
– হ্যাঁ আমি তোমাকে ধরে এনেছি, যাক আমাকেযে চিনতে পেরেছো এতেই আমি খুশি, সেদিন মিশনের বাড়িতেতো আমাকে চিন্তেই পারোনি
– তুমি মিশনকে চিনো কিভাবে ?
– আমি মিশনের ক্লাসমেট ছিলাম
– দেখো সুলতানা আমাকে এভাবে ধরে বেধে তুমি কিছুই পাবে না
– আসলেকি যানো রোমাঞ্চ ! মানে এখনতো তোমার নাম রোমাঞ্চ তাই এই নামে ডাকলাম, আমি যেনে গেছি তুমি মেয়ে মানুষ পছন্দ করনা তুমিতো ছেলে পছন্দ করো তুমি গে, তাই তোমার প্রতি আমার এখন কোন প্রেম টেম নেই , এখন শুধু লক্ষি ছেলের মত আমার এই দলিলটাতে সই করে দাও
– সুলতানা ! একটু রেগে চিৎকার করে বলে উঠলো রোমাঞ্চ
– আহ না না এভাবে চিৎকার কর না, তুমি যানোতো আমার নাম সুলতানা না হয়ে শয়তানা হলেই ভালহত আর একথাতো তুমি বলেছিলে
– হ্যাঁ ঠিকই তুই একটা শয়তান, তুই আমাকে পাওয়ার জন্য তোর আপন বোনকে খুন করেছিস, সম্পত্তির লোভে নিজের বাবাকেও খুন করেছিস তোইতো আসলেই একটা শয়তান
– আর এখন তুই এই দলিলে সই না করলে তোকে আর তোর ওই মিশনকে দুজনকেই মেরে ফেলবো
-ঠিক আছে আমি তোর দলিলে সই করে দিবো কিন্তু তোদের ওই এডভোকেট ছাড়া তোর এই দলিল কার্যকরর হবে না কারন তুই যানিস তোর বাবা সে ভাবেই উইল করে গেছে
– হ্যাঁ যানি তাইতো বোড়াবাব টাকে মেরেও আমার কোন লাভ হলনা, রোমাঞ্চ তুমি চিন্তা করনা আমি ওই এডভোকেট কে ম্যানেজ করে নিবো, আমি এখনি ওই এডভোকেটের কাছে যাবো
সুলতানা এডভোকেটের কাছে চলে গেলো
এডভকেট শওকত সুলতানার বাবার বন্ধু, এডভুকেট শওকত বলছে
– সুলতানা আমি কিছুতেই তোমার বাবার উইল নষ্ট করবো না আর এই উইল নস্ট না হলে তুমি যানো যে আনিস তোমাকে সম্পত্তি লিখে দিলেও সেটা কার্যকর হবে না
– দেখেন শওকত চাচা আপনাকে কত দিলে আপনি আমাকে সাহায্য করবেন এই সম্পত্তি পেতে ?
– সুলতানা ? তুমি তোমার বাবার খুনি তুমি তোমার আপন বোনকে খুন করেছো তারপর সে খুনের দোষ চাপিয়ে দিয়েছো আনিস এর উপর তোমার মত মেয়েকে আমি সাহায্য করবো তুমি ভাবছো কিকরে ? তবে তুমি ভেবোনা আমি কিন্তু কোর্টে প্রমান করে দিয়েছি যে খুন টা আনিস করেনি করেছো তুমি
– যানি চাচা তাইতো এখন পোলিশ আমাকে খুজে আর আমি পালিয়ে বেরাচ্ছি ! কিন্তু আনিস এখনো যানে না যে সে ওই মিথ্যা খুনের দোষ থেকে মুক্তি পেয়েছে, আচ্চা চাচা ১০ লক্ষ দিলে চলবে ?
– শওকত রেগে সুলতানার দিকে তাকিয়ে আছে
– চাচা যান ২০ লক্ষ এবারতো রাজী হন !
– এডভোকেট শওকত চেয়ারে একটু হেলান দিয়ে মুখ গম্ভির করে রইলো কিছুক্ষণ তারপর মুচকি হেসে বললো সুলতানা শেষ পর্যন্ত তুমি আমাকে রাজী করিয়েই ছারলে, কিন্তু শুধু উইল নস্ট করলেই হবে না আনিস তোমাকে লিখে দিবে তো ?
– হ্যাঁ চাচা আনিস এখন আমার কাছেই আছে
– তাহলে তুমি এখন যাও আমি সন্ধার পর সব দলিল ঠিক করে তোমাকে কল করবো তুমি আমাকে আনিসের কাছে নিয়ে যেও
– আচ্ছা চাচা, সুলতানা এডভুকেতের অফিস থেকে বেরিয়ে গেল
পিজের পাকা রাস্তা দিয়ে চলছে গাড়ি রাস্তার দুই পাশ দিয়ে গজারী বন দিনের আলো নিভে এখন প্রায় রাত হয়হয় গাড়িতে সুলতানা আর এডভুকেট শওকত আছে
পাকা রাস্তা থেকে গাড়িটা হঠাৎ জঙ্গলের ভেতরে মোড় নিলো, জঙ্গলে গাড়িটা চলতে চলতে অনেক গভীরে গিয়ে থামলো !
– চাচা গাড়ি থেকে নামুন
– এ আমাকে কোথায় নিয়ে এলে সুলতানা ?
– চাচা আপনি আসুন আমার সাথে এখনি আনিসকে পেয়েযাবেন
সন্ধায় সুলতানা এডভুকেট শওকতকে নিয়ে একটা জঙ্গলের ভিতরে গেলো সেখানে একটা কুরে ঘরে আনিস মানে রোমাঞ্চকে বন্ধি করে রেখেছে
কুরে ঘরে ডুকেই রোমাঞ্চকে সুলতানা দলিলে সই করতে বললো রোমাঞ্চ নির্দ্বীধায় সইকরে দিলো, এবার সুলতানা বললো চাচা বাবার করে যাওয়া উইল টা আমার হাতে দিন আমি নিজ হাতে নস্ট করে ফেলবো
এডভুকেট শওকত উইলটা সুলতানার হাতে দিলো আর বললো সুলতানা এবার আমার ২০ লাখ আমাকে বুঝিয়ে দাও
– চাচা আপনি যানেন না আমার প্রানের দুলাভাই মানে আমার বড় বোনের স্বামী আমাকে যে শয়তানা নাম দিয়েছিলো ? আমিতো শয়তান যে তার নিজের বোনকে মেরে ফেলতে পারে যে তার বাবাকে মেরে ফেলতে পারে সে আপনাকে কিসের ২০ লক্ষ টাকা দিবে ?
– হা হা হা সুলতানা আমি জানতাম তুমি এমন একটা কিছু করবে তাইত আমি তোমাকে আসল উইল দেইনি
সুলতানা রেগে গিয়ে তার সাইট ব্যাগ থেকে একটা পিস্তল বের করলো
এডভুকেট শওকত বললো, তুমি কি মনে করেছো আমি তোমার টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যাবো ?
আমিতো শুধু আনিস পর্যন্ত পৌছতে তোমার প্রস্তাবে রাজী হয়েছি
সুলতানা আনিসের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বললো আমাকে আসল উইলটা না দেওয়া পর্যন্ত আনিস আমার কাছে বন্ধি
– সুলতানা তুমি কি মনে করেছো তোমার মত শয়তানের কাছে আমি এমনি এমনি চলে এসেছি ? আমি সাথে করে পোলিশ নিয়ে এসেছি এই দেখো তাকিয়ে
অমনি পোলিশের গুলিতে সুলতানার হাতের পিস্তল পরে যায় আর পোলিশ সুলতানাকে অ্যাারেস্ট করে নিয়ে যায়
৬।
কিছু দিন পর একদিন সকালে মিশনের ভাবী পত্রিকা নিয়ে এসে মিশনকে বলছে, দেখ আমি বলেছিলাম না যে রোমাঞ্চ ছেলেটা খারাপ হতে পারে না দেখ আজ পত্রিকাতে তার ছবি সহ কি লিখেছে
– কি লেখেছে ভাবী?
– দেখ সে বিখ্যাত সমাজ সেবিকা সাহারা বানুর ছেলে আজ মন্ত্রির হাত থেকে তার মায়ের মরনুত্তর সম্মানি পুরস্কার গ্রহন করবে
– মা ভালো ছিলো তাইবলে ছেলেও যে ভালো হবে এমনতো কোন কথা নেই ভাবী
– শোন সাহারা বানু এই দেশের বিখ্যাত একজন ধনি আর সম্মানিত মানুষ ছিলেন তার ছেলের কিসের অভাব যে সে এত বাজে কাজ করবে ? আমি বলিকি তুই একবার আজকে ওই অনুষ্ঠানে যা রোমাঞ্চের সাথে দেখা কর, তার কাছ থেকে সব শোন, সেদিন তো তোকে বার বার রোমাঞ্চ কিছু বলতে চেয়েছিলো কিন্তু তুইতো তাকে কিছু বলার সুযোগই দিলিনা
চারদিকে করা পাহারা মানুষ জনে ভরপুর পোরা এলাকা ! ষ্টেজ সাজানো মন্ত্রি এখনো আসেনি ! দূর থেকে মিশন দেখতে পেলো ভিআইপি আসনে বসে আছে রোমাঞ্চ !
মিশন রোমাঞ্চের কাছে গিয়ে ডাক দিলো
রোমাঞ্চ ! রোমাঞ্চ ফিরে তাকালো
– জ্বি আমাকে বলছেন ?
– হ্যা তোমাকে ছাড়া আর কাকে আমি রোমাঞ্চ বলে ডাকি ?
– সরি আপনি মনেহয় কিছু ভুল করছেন আমি আনিস রোমাঞ্চ নই
– রোমাঞ্চ যত যেই নামেই তুমি হউনা কেন তুমি আমার রোমাঞ্চ এটাই তোমার পরিচয় আমার কাছে
রোমাঞ্চ সিট থেকে উঠে দূরে চলে গেলো পিছন পিছন মিশনও গেলো
– এক্সকিউজমি ! আপনি আমার পেছনে পেছনে আসছেন কেন ?
রোমাঞ্চের এমন কঠিন আচরনে মিশনের মুখটা কালো হয়েগেলো চোখে ছলছল করে উঠলো মিশনের মুখ দেখে পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে তার বুকের ভেতরটা ভেঙ্গে গেছে কষ্টে
মিশন বললো আজ তুমি ভালো আছো তাই আমি খারাপ আর অপরিচিতো হয়ে গেলাম, যে ভুলটা সেদিন আমি করেছিলাম সে ভুলটা আজ তুমিও করছো
এটা বলে মিশন চলে যাচ্ছে এমনি রোমাঞ্চ মিশনের হাতটা ধরে ফেলেলো
– মিশন !
– রোমাঞ্চ ! বলে ডেকে দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরলো
রোমাঞ্চ বললো মিশন আমি আজকে আমার এই রোমাঞ্চ রহস্য শেষ করতে চাই
তাহলে শোন আমার সব কথা
আমার মা আর রুক্সানার বাবা খুব ভাল বন্ধু ছিলো তাই রুক্সানার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করে মা, কিন্তু আমি একজন গে তাই আমি বিয়ে করতে রাজী হচ্ছিলাম না
মা আমাকে রাজী করাতে ইচ্চা করে কিছু প্রেশারের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়
মা মায়ের শেষ ইচ্ছা বলে আমাকে রুক্সানা কে বিয়ে করতে বাধ্য করে
আমি জানতাম না যে রুক্সানার ছোট সৎ বোন সুলতানা আমাকে মনে মনে ভালোবাসতো আর আমার বাসর রাতেই আমাদের বাড়ির সাদ থেকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দিয়ে সুলতানা তার বোন রুক্সানাকে মেরে ফেলে
আর এই ঘটনায় পোলিশ আমাকে সন্দেহ করে আর আমার মা এসব শুনে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যায়
আমি কোন ভাবেই প্রমান করতে পারছিলাম না যে আমি খুনি নই
তাই আমি পালিয়ে যাই ! কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না তাই টাকা পয়সার কোন সাহায্য ও কোথাও থেকে নিতে পারছিলাম না !
ঢাকার মেনয ক্লাব নামের একটা জেন্টস পার্লার এ সাঈদ কাজ করতো যাকে তুমি গুলশানের বানথাই জেন্টস পার্লারে পেয়েছো ! আমি ফেসবুকের মাধ্যমে চিনতাম সাঈদকে , তাকে সব খুলে বলি তখন সে বললো বড় বড় হোটেলে বিদেশীদের অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে ! আমি রাজী হয়ে যাই, পারভিন নামের এক মহিলা ছিলো আমার বস সেই মহিলা আমাকে নিয়ে বিরিসির যায় সেখানে গিয়ে সেই মহিলা আমার সাথে সেক্স করতে চায় আমি তার সাথে সেক্স না করে তাকে থাপ্পর মেরে চলে আসি !
আর তাই সেই রাগ থেকে পারভিন হয়তো তোমাকে মিথ্যা বলেছে ! আমি ঢাকায় আসি সাঈদকে সব বলতে কিন্তু এসে জানতে পারলাম সাঈদ ওই পারভিনের কাজ থেকে টাকা খেয়ে আমার মত অনেক ছেলেকেই এভাবে নষ্ট পথে ঠেলে দেয় !আর ওই মেনয ক্লাব নামের পার্লারে অসামাজিক কার্যকলাপ হয় আমি অপরিচিতো নাম্বারথেকে কল করে ব্যাপারটা র‍্যাবকে জানাই ! র‍্যাব ওই পার্লারের সবাইকে অ্যাারেস্ট করে সাথে সাঈদ ও অ্যাারেস্ট হয় ! একদিনপরই সাঈদ জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আমার পেছনে লোক লাগিয়ে আমাকে কিডন্যাপ করে কোথায় যেনো নিয়ে যাচ্ছিলো !
আমি গাড়িতে থেকে একটা গাড়ি দেখতে পেয়ে হেচকা মেরে গাড়ি থেকে বাইরে পরে যাই আর তখনি তোমরা আমাকে পেয়ে তোমাদের বাড়িতে নিয়ে যাও
– কিন্তু রোমাঞ্চ তুমি তখন আমাকে সব খুলে বলতে পারতে
– তখন আমি জানি যে আমি একজন খুনের দায়ে সাজা প্রাপ্ত পলাতক আশামি তাই সবার আগে নিজেকে লুকিয়ে রাখাটা আমার জরুরিছিলো তাই তোমাদের কাউকে কিছু বলিনি
– আচ্ছা বুঝলাম সে জন্য স্মৃতি হারানোর অভিনয় করেছো কিন্তু আমার বয় ফ্রেন্ড আমার ভালোবাসার মানুষ এসব কেন বলেছো ?
– আসলে ভ্যালেন্টাইন অনলাইন ম্যাগাজিনে আমি তোমার লেখা অনেক গল্প পড়তাম, আমি তোমার লেখা সমপ্রেমি গল্পের ভক্ত হয়ে গেলাম আর মনে মনে তোমাকে ভালবাসতাম ! আর সেদিন যখন ঘুম থেকে উঠে দেখলাম আমি তোমার বাড়িতে তাই ভাবলাম জীবনে যা হবার হয়ে গেছে এখন আমি আর তোমাকে হারাতে চাই না তাই আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড হওয়ার অভিনয় করেছি যাতে তোমার সাথে থাকতে পারি তোমার জীবনে থাকতে পারি
– কিন্তু সেদিন রাতে আমাদের বাড়ি থেকে তোমাকে কে তোলে নিয়ে যেতে এসেছিলো ?
– ওহ সে টা সুলতানার কাজ সুলতানা সেদিন তোমাদের বাড়িতে আমাকে দেখে সে এই কাজটা করে, সুলতানার বাবা বুঝে ফেলেছিলো যে সুলতানাই তার বোনকে খুন করেছে আর তাই সুলতানার বাবা তার সব সম্পত্তি আমার নামে লিখে দিয়েছিল যাতে আমি এসব কিছু মানুষের জন্য খরচ করতে পারি আমার মা আর সুলতানার বাবা দুজনেই ছিলো সমাজ সেবক কিন্তু সুলতানা এসব বুঝতে পেরে সে তার বাবাকেও মেরে ফেলে আর শেষ পর্যন্ত এডভুকেট শওকত কাকা সব প্রমান করে সুলতানাকে জেলে দেয় আর আমাকে নির্দোষ প্রমান করে !
মিশন বললো
– আমি তোমাকে ভুল বুঝেছি তোমার কোন কথাই সেদিন শুনিনি এজন্য প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও
– ক্ষমা ? আমি কোন দিন তোমাকে ক্ষমা করবো না শুধু সারা জীবন ভালোবেসে যাবো আর আমাকেও তোমার ভালোবেসে যেতে হবে, শুনো মিশন ভালোবাসায় কখনো ক্ষমা শব্দটা এনো না ভালবাসায় ভুল বুঝা বুঝি হতে পারে অভিমান হতে পারে কিন্তু এখানে ক্ষমা কথা টা কোনদিন আসতে পারে না !
– হ্যাঁ তবে যেহেতো একজন সমপ্রেমি লেখক বলেই তুমি সেই দূর থেকে আমার লেখা পড়ে পড়ে আমার প্রেমে পরেছো তাই ভাবছি তোমার আমার আমাদের এই রোমাঞ্চ রহস্যের এইসব ঘটনা গুলো সামনে আসছে ক্রিসমাস ডে তে ভ্যালেন্টাইন এলজিবিটি অনলাইন ম্যাগাজিনে একটা গল্প হিসেবে দিবো ! তুমি কি বল রোমাঞ্চ ?
– অবশ্যই আর হ্যাঁ আমরা কিন্তু ক্রিসমাস এর পরে এই নিউ ইয়ারে দুজন দুজনকে আংটি পরাবো আর আমাদের সাক্ষি থাকবে আমাদের ভাবী ..
হ্যাঁ আর এখন থেকে আমরা দুজন একসাথে মিলে নিউয়ারের ভ্যালেন্টাইনের এর সব গুলো সমপ্রেমি গল্প পড়বো !
( সমাপ্ত  )

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.