লেখকঃ এনোনিমাস রাইটার
এপ্রিলের ২৫ তারিখ।
ঘড়ির কাটায় রাত ৮.৩০ মিনিট।
বৃষ্টি হচ্ছে সারা শহরময়।
ভাঁড়ি বর্ষণ। মাঝে মাঝে আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। খান মঞ্জিলের সামনের একটা টুলে বসে আছে এক প্রৌঢ় দারোয়ান। মাঝে মাঝে বাতাশের ঝাপটায় গুড়িগুড়ি বৃষ্টির ফোটা ছিটকে এসে লাগছে দারোয়ানের গায়ে। তাই দারোয়ান তার টুল সমেত গেটের ভিতরে চলে এলো। গেটের ছিটকিনিটা টেনে দিয়ে আরাম করে পায়ের ওপর পা তুলে বসে একটা সিগারেটে আগুন ধরালো। সিগারেটে কয়েকটা টান দিতেই ঠকঠক আওয়াজ শুনতে পেল। সিগারেটটা মেঝেতে ফেলে পায়ের সাহায্যে আগুনটা নিভিয়ে দিলো। গেটে অনবরত নক করেই চলেছে আগন্তুক। দারোয়ান চটজলদি গেটের ফাকা দিয়ে চোখ রাখলো। বিকেল থেকে বাহিরের লাইটটাও জ্বলছে না। তাই অন্ধকারে আগন্তুক এর মুখ দেখা যাচ্ছে না। দারোয়ান হাক ছাড়লোঃ
দারোয়ানঃ কে?
আগন্তুকঃ আগে তো ভিতরে আসতে দাও। তারপর না হয় চৌদ্দ গুষ্টির নাম ধাম জেনে নিও।
(একটু ঝাঁঝালো কন্ঠেই কথাটা বললো আগন্তুক।)
দারোয়ান পকেট গেটটা খুলে দিলো। আগন্তুক ভিতরে ঢুকতেই দেখলো আগন্তুকের মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা। তাই দারোয়ান জানতে চাইলোঃ
দারোয়ানঃ কে আপনি? কোথায় যাবেন?
আগন্তুকঃ সেকেন্ড ফ্লোরে যাবো। মিস সাবার কাছে।
দারোয়ানঃ আচ্ছা, আপনার পরিচয় দিন। আমি ম্যাডামকে ফোন করছি।
আগন্তুকঃ তোমাকে পরিচয় দিতে হবে?
দারোয়ানঃ হ্যা, ম্যাডামের আদেশ। কেউ তার সাথে দেখা করতে এলে তার পরিচয় তাকে জানাতে বলেছেন।
আগন্তুকঃ তুমি দেখছি খুব ঝামেলার লোক। দাঁড়াও, আমার পরিচয় দিচ্ছি তোমাকে।
এ কথা বলে আগন্তুক পেছন থেকে এক ফুটের মতো লম্বা একটা লোহার দণ্ড বের করে সজোরে চালিয়ে দিল দারোয়ানের মাথায়। দারোয়ান একটা আত্মচিৎকার করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল। বৃষ্টির আওয়াজের কারণে দারোয়ানের চিৎকার খুব অল্প আওয়াজেরই মনে হলো। আগন্তুক দারোয়ানের দেহটা টেনে সিঁড়ির নিচে রেখে সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠে গেল।
##
সকালের ঝলমলে রদ্দুর দেখে বোঝার উপায় নেই যে গত রাতে ঝড় বয়ে গেছে এই শহরে।
সকালের সূর্যের আলো চোখে পড়তেই ঘুম ভাঙলো রিহানের। চোখ মেলে দেখলো অরুণ জানালার পর্দা সরাচ্ছে। রিহান ঘুম ঘুম চোখে বিছানা ছেড়ে অরুণকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। অরুণের কাঁধে কাত করে মাথা রেখে বড় করে একটা নিঃশ্বাস ছাড়ল রিহান। কাঁধে মাথা রেখেই চোখ বন্ধ করে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বললঃ
রিহানঃ কোথায় ছিলে সারা রাত? জানো আমি কতটা ভয় পেয়েছি। কি আওয়াজ করে বজ্রপাত হচ্ছিল। তোমার মোবাইলটাও তো সুইচড অফ ছিলো।
অরুণঃ ( হো হো করে হেসে) কি বলছে আমার বাবুনটা? তুমি কত ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হও সেখানে ভয় পাও না আর কাল রাতের সামান্য বজ্রপাতের আওয়াজে ভয় পেয়েছ?
রিহানঃ তুমি হেসো না তো। এমন ঝড়-বৃষ্টির রাতে প্রিয়জনের বিরহবেদনা তুমি কি বুঝবে? তোমার মনতো দিন দিন পাথর হয়ে যাচ্ছে।
অরুণঃ হ্যা, হয়েছে হয়েছে। আমার মন পাথরের তৈরি আর তোমারটা মোমের। এবার যাও তো হাত-মুখ ধুয়ে এসো। নাস্তা তৈরি করতে আমাকে একটু সাহায্য করো।
নাস্তা করে রিহান টিভি অন করলো। ওর পছন্দের চ্যানেল হলো কার্টুনের চ্যানেল। কিন্তু পেশার খাতিরে বেশিরভাগ সময়ই ওকে নিউজ চ্যানেলগুলো দেখতে হয়। কোথায় কি হচ্ছে তার খোঁজখবর রাখতে হয়। রিহান একটা নিউজ চ্যানেল দেখতে শুরু করল। অরুণ দুই মগ কফি নিয়ে হাজির হলো। অরুণ এক মগ কফি রিহানের সামনের টি-টেবিলে রেখে অন্যটায় নিজে চুমুক দিতে দিতে রিহানের পাশে বসে পড়ল। রিহান মনোযোগ দিয়ে রিপোর্টগুলো দেখছিলো। রিপোর্ট দেখতে দেখতেই অরুণকে জিজ্ঞাসা করলঃ
রিহানঃ কোথায় ছিলে রাতে?
অরুণঃ কফিটা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।
রিহানঃ আমার প্রশ্নের উত্তর কি দেয়া হলো?
অরুণঃ আসলে আমি তোমাকে বলতে চাচ্ছি না। কারণ খুব ভয়াবহ একটা কাজ করে ফেলেছি আমি। শুধু এতটুকই জেনে রাখো।
রিহানঃ কি এমন কাজ করেছ যে আমাকে বলতে পারছ না! একটু আগে একটা খুনের রিপোর্ট দেখলাম। এক নায়িকা খুন হয়েছে। তুমি আবার সেই খুনটা করো নি তো? হা হা হা….
অরুণ কিছু বলতে যাবে এমন সময় রিহানের মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল। সোহেলের নাম্বার। কলটা রিসিভ করলো রিহান। কথা শেষ করে দৌঁড়ে বেড রুমে চলে গেলো। ওয়্যারড্রবের ড্রয়্যার খুলে ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে বেড়িয়ে গেলো। মুহূর্তেই আবার ফিরে এসে অরুণের ঠোটে চুমু খেয়ে বলল, আসতে দেরি হবে। রান্না করার দরকার নেই। কোনো রেস্টুরেন্ট এ যেয়ে খেয়ে নিও। তারপর আবার এক দৌঁড়ে বেড়িয়ে গেলো।
##
ঘন্টাখানেকের মধ্যেই পৌঁছে গেলো রিহান। পৌঁছে দেখতে পেলো খান মঞ্জিলের সামনে মানুষের জটলা। অনেকে সাংবাদিক ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে এখনও রিপোর্ট করে চলেছে। ভীড় ঠেলে সামনে এগুতেই পুলিশের বাঁধার সম্মুখীন হলো রিহান। পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়ে এগিয়ে গেলো রিহান। সামনে একটা পুলিশের জিপ আর একটা এম্বুলেন্স দেখতে পেলো। তারপর সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো।
##
অরুণ জানে যে রিহান ছেলেটা এমনই। হঠৎ ফোন এলো তো দিলো এক ছুট। অরুণ কে বলে যাওয়ার সময়টা পর্যন্ত পায় না। প্রথম দিকে রিহানের এই আচরনে অরুণের মন খারাপ হতো। কিন্তু ওর এখন এগুলো অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। এখন আর মন খারাপ হয় না। রিহান চলে যাওয়ার পর সোফায় বসে অরুণ গতরাতের ঘটে যাওয়া ঘটানার কথা ভাবছিলো। এখন খুব অনুসূচনা হচ্ছিলো। কিভাবে করলো ও এ কাজটা! নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছে না। এসব ভাবতে ভাবতে সোফায় ঘুমিয়ে পরল অরুণ।
##
ওপরে উঠে রিহান দরজার সামনে কয়েকজন পুলিশ দেখতে পেলো। পুলিশকে রিহান তার কার্ড দেখিয়ে রুমের ভিতরে প্রবেশ করল। রুমে প্রবেশ করে প্রথমেই চোখ গেলো ফ্লোরে পরে থাকা অভিনেত্রী সাবার মৃত দেহের ওপর। পাশে সোফায় বসে একজন মহিলা কান্নাকাটি করছেন। তাকে শান্তনা দিচ্ছেন একজন পুরুষ। রিহান কে দেখে পুরুষ লোকটি সোফা থেকে উঠে রিহানের সামনে এসে দাঁড়ালো। তারপর জিজ্ঞাসু ভঙ্গিতে বলল, আপনি নিশ্চয় রিহান?
রিহান মাথা নেড়ে বলল, জ্বী। আপনি কি মিস্টার রহমান খান?
লোকটি শুধু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হা-বোধক মাথা নাড়ল।
রিহান ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করে ঝটপট কিছু ছবি তুলে নিলো।
একটু পরে পুলিশের এ-এস-আই এসে জানালো যে, লাশ ময়নাতদন্ত এর জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই দুইজন কন্সটেবল এসে লাশ নিয়ে গেলো। মহিলার কান্নার আওয়াজ আরও বেড়ে গেলো।
মিস্টার রহমান মহিলাকে শান্ত করে রিহানকে সোফায় বসতে বলল। রিহান বাধ্য ছেলের মতো বসে পড়ল। তারপর মিস্টার রহমান বলতে শুরু করলো,
“আমি অনেক আশা নিয়ে আপনাকে ডেকেছি। আমি আপনার অনেক সুনাম শুনেছি। আসলে আমি পুলিশের ওপর ভরসা করতে পারছি না। আপনি আমাকে কথা দিন যে আপনি আমার নাতনীর খুনিকে খুঁজে বের করবেন।”
মিস্টার রহমান এর বেশি আর বলতে পারলো না। কান্নায় ভেঙে পড়লো।
রিহান কি বলে যে তাকে শান্তনা দেবে খুঁজে পাচ্ছে না। কিছুক্ষণের মধ্যেই মিঃ রহমান নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, আপনার কিছু জানার থাকলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। লোকটা এতো তাড়াতাড়ি নিজেকে সামলে নিবে রিহান ভাবতেও পারেনি। রিহান ব্যাগ থেকে রেকর্ডারটা বের করে মিঃ রহমানের কাছে জানতে চাইলোঃ
রিহানঃ সাবা সম্পর্কে কিছু বলুন।
মিঃ রহমানঃ ও খুব জেদি ও একরোখা। নিজে যা ভালো মনে করে তাই করে।
রিহানঃ যেমন?
মিঃ রহমানঃ যেমন আমরা কেউই চাইনি ও অভিনয় করুক কিন্তু ওর জিদের কাছে হার মেনেছি। আপনি হয়তো জানেন যে, অভিনেতা রোমেলের সাথে ওর বিয়ের কথা চলছিলো। এ নিয়ে অনেক পত্র-পত্রিকায়ও অনেক লেখা-লেখি হয়েছে। আমরা কেউ এ বিয়েতে রাজী ছিলাম না। তাও ওর জিদের কাছে হার মেনেছি।
রিহানঃ এই ফ্লাটে কি সাবা একাই থাকত?
মিঃ রহমানঃ হুম।
রিহানঃ অভিনেতা রোমেলের কি খবর? এখনো আসেনি?
মিঃ রহমানঃ না। রোমেলের কোন খবর পাওয়া যাচ্ছে না।
রিহানঃ সাবার বাবা-মা?
মিঃ রহমানঃ দুজনেই একটা এক্সিডেন্ট এ প্রাণ হারিয়েছে। তারপর ওর ফুপুই ওকে বড় করেছে।
রিহানঃ আপনার কি কাওকে সন্দেহ হয়?
মিঃ রহমানঃ নাহ।
রিহানঃ আমি সাবার ঘরটা একটু সার্চ করতে চাই।
মিঃ রহমানঃ সিউর।
##
অরুণের বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে রিহান। অরুণ রিহানের চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। অরুণ রিহানকে উদ্দেশ্য করে বললঃ
অরুণঃ তোমাকে খুব বিষণ্ণ মনে হচ্ছে।
রিহানঃ হুম…. নতুন একটা কেইস হাতে পেয়েছি কিন্তু কোনো সুত্র খুঁজে পাচ্ছি না। কিভাবে যে কেইসটা সমাধান করবো?
অরুণঃ চিন্তা করো না। তুমি অবশ্যই সমাধান করতে পারবে। আচ্ছা, কেইসটা কি?
রিহানঃ একটা মার্ডার কেইস। আচ্ছা, মেয়েটার রুম সার্চ করে ওর মোবাইলটা খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু লক করা। পিন কোড লক। লকটা খুলতে পারলে হয়তো কিছু একটা সুত্র পাওয়া গেলেও যেতে পারে।
অরুণঃ মোবাইলটা ফ্ল্যাশ করলেই তো হয়। লক খুলে যাবে।
রিহানঃ বাহ, ভালো বুদ্ধি দিলে তো। তোমার কথা মতো ফ্ল্যাশ করি আর মোবাইল থেকে সব ডকিউমেন্টস গায়েব হয়ে যাক। এই বুদ্ধি নিয়েই চলা ফেরা করো?
অরুণঃ ওহ, তাই তো। আচ্ছ, মেয়েটার নিজের নাম দিয়ে পিন কোড ট্রাই করেছ?
রিহানঃ হুম…..
অরুণঃ প্রেমিকের নাম? মানে যদি থেকে থাকে আর যদি তুমি তার নাম জেনে থাকো আর কী।
রিহানঃ বাহ, ভালোই তো বুদ্ধিমানের মতো কথা বলছ। তবে এটাও ট্রাই করেছি। কাজ হয়নি।
অরুণঃ কোন পোষা প্রাণী?
রিহানঃ গ্রেট, এটা ট্রাই করা হয়নি। তবে আমাকে আগে জানতে হবে ওর কোনো পোষা প্রাণী আছে কি না।
রিহান মিঃ রহমানকে ফোন করে জানিতে পারলো সাবার কোনো পোষা প্রাণী নেই।
###
রিহান বসে বসে ইউটিউব এ সাবা সম্পর্কে কিছু ভিডিও ও নিউজ দেখছিলো। কিন্তু সেখান থেকে কোন সুত্র খুঁজে পেলো না। তখন মাথা ঠাণ্ডা করে ভাবতে লাগলো সাবা মারা যাওয়াতে কার বেশি লাভ হয়েছে?
সাবা মারা যাওয়াতে সবচেয়ে বেশি লাভ হয়েছে অভিনেত্রী তাবার। কারণ সাবা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আসার আগে তাবার রাজত্ব ছিলো। নিজের হারানো রাজত্ব ফিরে পাওয়ার লোভে হয়তো তাবাই সাবাকে খুন করেছে। অথবা অন্য কেউ? রিহান আর কিছু ভাবতে পারছিলো না। রিহান হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলো যে অভিনেত্রী তাবার পেছনে নজর রাখবে। তাই ওয়ারড্রব থেকে কাপড় বের করে রেডি হলো। বের হতে যাবে তখন চোখ গেলো ওয়ারড্রবের উপরে রাখা একটা রিং এর দিকে। ডায়মণ্ড রিং। ছোট ছোট ডায়মন্ড দিয়ে রিং এর উপর একটা নাম লেখা – “রোমেল”।
রিহান চট করে ল্যাপটপটা অন করে ইউটিউব অন করল। একটু খুঁজতেই ভিডিওটা পেয়ে গেলো। যেটাতে দেখাচ্ছে সাবা রোমেলকে একটা রিং পড়িয়ে দিচ্ছে। দুইটা রিং এর মাঝে কোন তফাৎ নেই। এই রিং তার ঘরে এলো কি করে ভেবে পাচ্ছিলো না। রিহান রিংটার দিকে তাকিয়ে রইলো। এমন সময় অরুণ প্রবেশ করলো। অরুণ রিহানের হাতে রিংটা দেখে ঠায় দাঁড়িয়ে গেলো। রিহান পেছন থেকে রিভালবারটা বের করে অরুণের দিকে তাক করে বলল,
– সত্যি করে বলো তুমি এই রিং কোথায় পেয়েছ?
– আমাকে এক জন গিফট কিরেছে।
– কথা না বাড়িয়ে আমাকে তার কাছে নিয়ে চলো। কুইক।
অরুণ কোন কথা না বাড়িয়ে দরজার দিকে হাটতে লাগলো।
##
টেক্সিটা এসে থামলো একটা দুই তলা বাড়ীর সামনে। অরুণ ও রিহান টেক্সি থেকে নেমে বাড়ীটাতে প্রবেশ করলো। পুরো বাড়ী নিরব। কোনো লোকজন নেই। অরুণ সোজা দুই তালায় উঠে গেলো। অরুনের পিছু পিছু রিহানও উঠলো। অরুণ কলিং বেল চাপলো। কিছুক্ষণ পর একজন মাঝবয়সী লোক দরজা খুলে দিলো। লোকটা মাঝবয়সী হলেও শারীরিক গড়ন খুবই উন্নত। এখনো তরুণদের মতোই। লোকটা অরুণ কে দেখে বলল, আরে তুমি? এসো এসো। বলেছিলাম না তোমাকে আবার আসতে হবে। সাথে একজনকে নিয়ে এসেছ দেখছি। ঐদিন যা মজা হলো। সে মজাতো আমার দেহে এখনো অনুভূত হচ্ছে। আচ্ছা, তোমাকে কি আমি সেদিন নেশার ঘোরে কোন আংটি দিয়েছিলাম কিনা মনে করতে পারছি না।
রিহান অরুণের পেছন থেকে সামনে এসে পকেট থেকে আংটিটা বের করে বলল,
– এই আংটিটার কথা বলছেন?
– হ্যা, এটাই।
– আপনি যে এ আংটিটা রোমেলের কাছ থেকে নিয়েছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কিভাবে?
– আপনাকে কেন বলবো?
– আপনাকে বলতে হবে।
এ কথা বলে পেছন থেকে রিভালবারটা বের করে রিহান লোকটার দিকে তাক করলো।
লোকটা বলতে শুরু করলো,
রোমেলের সাথে আমার পরিচয় হয় একটা গে ডেটিং সাইট থেকে। তারপর আমরা দেখা করি।
আমার ওকে খুব ভালো লাগে। এতোটাই ভালো লাগে যে, ও যা বলতো আমি তাই করতাম। ও আমাকে কথা দিয়েছিলো যে, ও আমার সাথে সারা জীবন থাকবে। ওর ফিল্মের প্রতি প্রচুর ঝোক ছিলো। তাই ওকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত করতে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছি। যখন ও একটু প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করলো তখন ও পরিবর্তন হতে থাকলো। আমি অবশেষে রোমেলের পেছনে গোয়েন্দা লাগিয়ে দিলাম। জানতে পারলাম ও সাবা নামের একটি মেয়েকে বিয়ে করবে। শুনে আমার মাথায় রক্ত চেপে গেলো। আমি রোমেলকে অনেক বুঝালাম কিন্তু ও বুঝলো না। তাই দুই জনকেই সরিয়ে দিলাম।
আর আপনিই তো সেই ডিটেকটিভ যে কিনা সাবা হত্যার ইনভেস্টিগেশন করছেন, তাই না?
আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, তাহলে কেন আমি আপনাকে সব কিছু বলে দিলাম? আপনার রিভালবারের ভয়ে?
এ কথা বলেই লোকটা খিল খিল করে হেসে উঠল।
সবকিছু জানার পরও কিছুই প্রমাণ করতে পারবেন না। কারণ, আপনারা প্রমাণ করার জন্য জীবিত থাকবেন না।
দয়া করে পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখুন।
রিহান ও অরুণ পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখলো দুইজন লোক তাদের দুইজনের দিকে বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়ে আছে।
লোকটি বলল, আপনাদেরকে এতো তাড়াতাড়ি এই সুন্দর পৃথিবী থেকে বিদায় করার কোনো ইচ্ছেই আমার ছিলো না। কিন্তু আপনারা বেঁচে থাকলে যে আমাকে বিদায় নিতে হবে। সৌ, বাই বাই।
সাথে সাথে দুইটা গুলির আওয়াজ হলো।
আর সেই সাথে চাপা পড়ে গেলো সাবা, রোমেল, অরুণ ও রিহানের খুনের ইতিহাস। কেউ জানলোনা কে খুন করেছে তাদের।
সেই খুনি হয়ে রইলো গুপ্তঘাতক বা হিডেন কিলার।
-সমাপ্ত
Leave a comment