লাইফস্টাইল চয়েজ VS গে জিন

লেখক :- অনিবার্ণ আহমেদ

মতামতের দিক দিয়ে সারা পৃথীবির সমকামিদের দুই ভাগে বিভক্ত কিন্তু আমি এখানে তিন ভাগে বিভক্ত করবো।এর কারণটা একটু পরেই বলছি।
একদল সমকামি বিশ্বাস করেন যে সমকামিতা শুধুমাত্র লাইফ স্টাইল,তারা ধরেই নিয়েছে আমার যৌন অভিমূখতা নিজের ইচ্ছাতেই পরিচালিত হয় এবং পরিবেশের কারণেই ভিন্নতা দেখা দেয়। এইটা ভাববার পিছনেও যথেষ্ট যুক্তি আছে।

অন্যদল অর্থৎ অপরপক্ষ তারা মনে করে আমার সমকামী যৌন অভীমূখতার জন্য জিন দায়ী, তাদের একটা জনপ্রিয় উক্তি হচ্ছে “I was born this way”। এই দুইদলের মধ্যে তেমন কোন বৈরিতা নেই বললেই চলে। কিন্তু অপর একটি দল যার সমকামে প্রতিনিয়তই লিপ্ত কিন্তু তারা নিজেদের কে সমকামি বলতে চায় না, আবার সমকামী পরিচয় প্রকাশ করছে কিন্তু ইশ্বরের বিধিনিষেদ গুলোকে সেইভাবে প্রচারিত করছে! যে সমকামিতা মহাপাপ! এদেরকে আমরা নাম একটা নাম দিছি সেইটা হলো গেমিন অর্থাৎ (গে +মুমিন) ( জানিনা কখন কিভাবে কোন ব্যাক্তি এই শব্দের অবতারণ ঘটালেন, তবে শব্দটা বেশ সময় উপযোগী বলে হয়)। এই দলের কাছে কোন যুক্তি নেই, সমকামিতা পাপ, ধর্মে নিষেধ,এটা করা যাবেনা! আবার এই সমকামিতায় তারা লিপ্ত! যায় হোক আজকের লেখাটা গেমিনদের জন্য না।মূল বিষয়ে ফিরে আসা যাক!

“সমকামিদের” মধ্যে “গে জিন” নামক একটা জিন আছে এইটা নিয়ে প্রথম গণমাধ্যম সরব হয় ১৯৯০ সালে। ১৯৯১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অনেকগুলো গবেষণা হয়েছে “গে জিন” খোজার জন্য! “যমজ পরীক্ষা” এইটা নিয়ে অনেকগুলো গবেষণা হয়েছে,,”ক্রোমোজমের সংযোগ” গবেষণা, “এপিজেনেটিক্স গবেষণা”!
এর ভিতর বেশ আলোচিত গবেষণা হচ্ছে ডিন হ্যামারের “ক্রোমোজম সংযোগ গবেষণা”। যৌন অভিমুখতার সাথে ক্রোমজমের সংযোগ এটাই নির্দেশ করে অসংখ্য জেনেটিক ফ্যাক্টর এর উপস্থিতি জিনোম দ্বারা যৌন অভিমুখতার প্রভাব ফেলে। ডিন হ্যামার অনুসারে জিন দ্বারা অভিমুখতা তৈরি হওয়া হচ্ছে,সমকামিতার অনেক গুলো কারণের মধ্যে একটি কারণ। এই গবেষণা গুলো থেকে কিছুটা বোঝায় যায় সমকামিতার জন্য জিনের প্রভাব আছে! “গে জিনের” সম্ভাব্যতাকে একেবারেই উরিয়ে দেওয়া যায় না। যায় হোক ভবিষ্যতে হয়তো আরো ভালো ভাবে “গে জিন ” সম্পর্কে জানতে পারবো।

এবার আসি অন্য পক্ষে তারা “গে জিন” কে স্বিকার করা অথবা আবিষ্কৃত হওয়ার বিপক্ষে কেনো! যদি সমকামিতার কারণ “গে জিন ” হয় তাহলে সমকামিদের আরো অবহেলার সম্মুখীন হতে পারে।যেহেতু পৃথিবীতে ধর্মান্ধ গোষ্টির ক্ষমতাই বেশি! সেহেতু তারা সমকামিতাকে জেনেটিক ত্রুটি বলবে এবং অভিশাপের কারণে সে সমকমী হয়েছে। এতে সমাজিক ভাবে আরো বেশি নিগ্রহের স্বিকার হতে পারে! এর চাইতে সমকামিতাকে লাইফ স্টাইল হিসাবে ধরে নিলে এসবের সম্মুখীন হওয়া লাগবে না। তাদের মতামত হলো “সমকামি” আর “বিষমকামি” আলাদা কিছু না। যার যেইটা ভালো লাগে সে সেইটার দিকেই আকৃষ্ট হবে।

আমার মন্তব্য হলো এই যে সমকামিতার জন্য যদি ” গে জিন” দ্বায়ী হয়।তাহলে বিষমকামিতার জন্যেও অন্য কোন জিন দ্বায়ী! দুটোই প্রকৃতিগত ভাবে প্রাপ্ত। আমরা কেউই আলাদা না, ” সমকামিতা” “বিষমকামিতা” এসকল যৌন অভিমুখীতা সবই স্বভাবিক কারণ যৌনতা আনন্দদায়ক আর প্রজননের সর্বশেষ ধাপ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.