জড় ও জীবন কিছু প্রশ্নের সংক্ষেপ উত্তর

লেখক :- অনির্বাণ অহদেম

——গ্যেটে

১)যদি বলি প্রকৃতিতে মরণশীল প্রাণীর চাইতে অমর প্রাণীর সংখ্যা বেশি কিংবা প্রকৃতিতে অমরত্বই স্বাভাবিক মরণশীলতাই বরং অস্বাভাবি। তাহলে কি খুব ভূল হবে? কোন প্রানী আজীবন জীবিত থাকে না? আসলেই কী তায়! এক অর্থে হাইড্রা, অ্যামিবা এরা চিরকালই বেঁচে থাকে। হাইড্রাকে যতটুকরো করবেন সে ততটাই নতুন হাইড্রার জন্ম দিবে। ভাইরাসের কোন মৃত্যু নেই। ধনুষ্টংঙ্কার রোগের জিবাণুগুলো যখন সিস্ট গঠন করে তখন কোন ধরনের ভেকসিনেরই ক্ষমতা নেই সেই সিস্ট ভেঙে জীবাণুকে ধ্বংস করার। এভাবে তারা কোটি কোটি বছরও থাকতে পারে। প্রকৃতিতে এমন প্রচুর জিবাণী আছে যাদের কখনো মৃত্যু হয়না। জন্মিলে মরিতে হবে এই কথা তাদের ক্ষেত্রে খাটে না।

২)জীবন বা প্রাণ সৃষ্টি হওয়ার কোন লক্ষ আছে এমনটা ভাবা ভুল হবে, জড় এবং জীবনের মধ্যে যে পার্থক্যটা দেখা যায় তা হলো “সায়ত্তশাসন” জীব সায়ত্ত্বশাসিত জড় তা না। বিবর্তন তত্ত্ব মতে প্রাণ কেবল টিকে থাকার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে, তবে তা সচেতনভাবে না।

৩)অনেকগুলো কোষ মিলে একটি জীবিত প্রাণী, কথাটা ভুল। এক কোষী অনুজীব প্রকৃতিতে অহরহ বিদ্যমান। অ্যামিবা এককোষী প্রাণী।

৪)কৃত্রিম ভাবে জীব সৃষ্টি করা হয়েছে। ল্যাবরেটরিতে পুরোপুরি কৃত্রিম ভ্রুণ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

৫) শুধুমাত্র প্রজনন বা পুনরউৎপাদন করার ক্ষমতা থাকলেই তাকে প্রাণী বলা যায় না, কারণ অনেক জড়ো পদার্থেরই এক অর্থে পুনরুৎপাদন ক্ষমতা থাকে যেমন :- crystal, bursh fire
তবে জীব এবং জড়োর পার্থক্যের জন্য জীবনের ভিত্তিমুল হিসাবে ধরা হয় মূলত দুটি উপাদান কে ১) নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ,আরএনএ) ২) প্রোটিন। এই দুইটি উপাদান একে অপরের পরিপূরক। জীবন গঠনেও এদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। যদি ডিএনএ/আরএনএ এবং প্রোটিনকে একটি কম্পিউটারের সাথে তুলনা করা যায় তাহলে ডিএনএ/আরএনএ কে জীবনের সফটওয়ার এবং প্রোটিন কে জীবনের হার্ডওয়্যার। এই দুই রাসয়নিকের সংয়োগ স্থাপিত হলে ‘জেনেটিক কোডের’ উদ্ভাবন হয়। আর এটিই বিবর্তনের মাধ্যমে জীবনের অগ্রসর ঘটায়। এখন যদি অদূর ভবিষ্যতে “জেনারেল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স” চলে আসে এবং কম্পিউটার তার স্বাধীন মতো চিন্তা ভাবনা করে স্বায়ত্তশাসিত হতে পারে তাহলে কী আমরা, “জেনারেল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কে প্রাণী বলবো?জড় এবং জীবের মধ্যে পার্থক্য দেখাতে পারলেও ঠিক কি কারণে জীবন প্রাণ ধারণ করে আর জড় পদার্থ তা করে না, অর্থৎ জীবনের আসল ভিত্তি কী, এই প্রশ্নেনের শতভাগ উত্তর বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত দিতে সক্ষম হননি। ভবিষ্যতে হয়ত বিজ্ঞান এর উত্তর দিবে।

mondroadmin Avatar

Posted by

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.