ফ্যান্টাসি

লেখকঃ অরণ্য রাত্রি

আকাশ মেঘলা। ঝুম বৃষ্টি নামবে বুঝাই যাচ্ছে। রবিন বাসে। গন্তব্য গুলশান। গুলশান পৌঁছানোর আগে বৃষ্টি নামবে কিনা সেই চিন্তা করছে রবিন। আজকের ডেট টা  সে অনেক কষ্টে পেয়েছে। সোহেল ভাই খুব ভাল মত বলেছে যে আজকের কাস্টমর প্রচুর ক্ষমতাবান এবং ধনী। সে খুশি হলে ভবিষ্যতে অনেক কাস্টমার পাওয়া যাবে। রবিন উত্তেজিত। আজকে যেভাবেই হোক কাস্টমারের মন জয় করে নিতে হবে।

রবিন একটি ইউনিভার্সিটি বিবিএ পড়ে । হটাৎ করে বাবা মারা গেলেন। পরিবারে মা এবং ছোট ভাই। নিজের পড়া শোনার খরচ যোগাড় করার চিন্তায় অস্থির হয়ে গিয়েছিল সে। তাই বাধ্য হয়ে এই দেহ বিক্রি করতে নামে সে। সোহেল ভাইয়ের মাধ্যমে সে আগেও সে কাস্টমার পেয়েছে। কিন্তু আজকের টা স্পেশাল ।লোকটা একজন ধনকুবের। প্রচুর টাকা খরচ করেন এসবের পিছনে।  আজ সারা রাত থাকতে হবে।

রাত দশটায় গুলশানের সেই বাসায় এসে পৌঁছালো।বাসা খুঁজতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। দোতালা বাসা । পুরো বাসাটাই অন্ধকার। গাছপালা ঘিরে রেখেছে বাসাটাকে।

দরজা বেল বাজাতেই বয়স্ক একজন লোক গেট খুলে দিলো।

উপরে যান আপনার জন্য স্যার অপেক্ষা করছেন।

রবিন সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে দরজায় বেল বাজালো। একজন ২০ বছর বয়স্ক তরুণ দরজা খুলে দিলো। কিন্তু যার কাছে সে এসেছে তার নাম রঞ্জু এবং তার বয়স ৩০।

আচ্ছা এটা কি রঞ্জু সাহেবের বাসা?

হ্যাঁ। আপনি একটু আমার সাথে চলুন। সে স্টাডি রুমে রয়েছে।

স্টাডি রুমে চশমা পরা একজন ভদ্রলোক বসে আছে। মুখে হাসি।রবিন কে দেখে বলল

তুমি নিশ্চয়ই রবিন?

হ্যাঁ

আমি রঞ্জু আর এ হল সমু। আমার বয়ফ্রেন্ড।

রবিনের মাথায় আকাশ ভাঙল। তাহলে কি তারা থ্রিসাম করতে চায়। কিন্তু এমন তো কথা ছিল না।

কিন্তু রঞ্জু স্যার আমাকে তো থ্রিসাম এর কথা বলা হয় নাই

রঞ্জু হেসে বলল

চিন্তা করবে না। থ্রিসাম হবে না। আপনি সমুর সাথে করবেন। আমি থাকবো না। সমু বোটম। আপনি তো টপ। আমি ভারসেটাইল।

রবিনের খুব অবাক লাগছে। কেউ কি সেধে সেধে নিজের বয়ফ্রেন্ড কে আরেকজনের সাথে সেক্স করতে দেয়?রবিন ভাবলও এত ভেবে কি হবে।তার টাকার দরকার ব্যাস।রবিন সমুর দিকে তাকালও। সমু মুখ চোখ অন্ধকার করে আছে।তাহলে কি সমুর ইচ্ছা নেই? কিন্তু তাই বা কেন হবে?

আর দেরি করে লাভ নেই। সমু তুই রবিন কে নিয়ে ঘরে যা। ওখানেই কনডম আর লুব্রিকেণ্ট রয়েছে

ঘরটা সুন্দর পরিপাটি করে সাজানো। সাদা চাদর বিছানো। রবিন শুরু তেই সমু কে ধরে ওর ঠোঁট এ চুমু দিলো। কিন্তু রবিন অবাক। সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে সমুর চুমু খাওয়ার বিন্দু মাত্র ইচ্ছা নেই। রবিন সমস্ত কাপড় খুলল। কিন্তু সমু স্থির দাড়িয়ে রয়েছে। এইবার রবিন সমুর কাপড় খুলে দিলো। সমু এমন আচরণ করছে যেন সে রোবট।পুরো ব্যাপারটাই রহস্যজনক। হটাত রবিন সিলিং এর দিকে তাকাতেই কি জানি চোখে পড়লো। আরে এই তো সিসি টিভি ক্যামেরা। । তাহলে কি সব রেকর্ড হচ্ছে। সমু এবার হেসে দিলো

ধরেন ফেললেন তো

রবিন প্রচণ্ড রাগান্বিত হল। আবার ভয় পেলো। রেকর্ড তো হয়েই গিয়েছে। এখন ব্ল্যাকমেইল করবে না তো ? না শক্ত থাকতে হবে। বুঝতে দেয়া যাবে না যে সে ভয় পেয়েছে।

কেন এমন করা হয়েছে তার কৈফিয়ত চাই।বলল রবিন

আরে এটা আমার বয়ফ্রেন্ডের বিকৃত মানসিকতা ছারা আর কিছু নয়।আপনার কোন বিপদ হবে না।আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারুন।  

সাথে সাথে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলও রঞ্জু।ঢুকেই রবিনের ঘাড়ে হাত রেখে বলল

প্লিজ শান্ত হন রবিন। আপনার সব ভিডিও ডিলিট করে দিয়েছি। বিশ্বাস না হলে আসুন দেখাচ্ছি।

কিন্তু এমন কেন করলেন?

এ আমার ছোট বেলার এক মানসিক সমস্যা বলতে পারেন।আবার আমার ডার্ক ফ্যান্টাসিও বলতে পারেন। আমি গোপনে সেক্স দৃশ্য দেখে, নগ্ন শরীর দেখে আনন্দ পেতাম। আমি যৌথ পরিবারে বড়।আমার এক কাজিন ছিল।আমার থেকে অনেক বড়। অনেক সুদর্শন।তার প্রতি আমার ক্রাশ ছিল। আমার কাজ ছিল কাজিন যখন গোসল করতো তখন বাথরুমের ফুটো দিয়ে কাজিনের নগ্ন শরীর দেখা।তারপর ভেজা লোমশ শরীরের ভেবে ভেবে হস্তমৈথুন করতাম। এটাই আমাকে সেক্সুয়াল আনন্দ দিতো । একবার আমার নব বিবাহিত খালা আর খালু আসলেন আমার বাসায় থাকতে।স্বভাবতই তারা সারা রাত প্রেম করতেন আর তখন আমি গভীর রাতে দরজার ফাঁক দিয়ে তাদের সেক্স দৃশ্য দেখতাম। এরপর থেকে তা আমার নেশা হয়ে গেলো। এমন কি বৃদ্ধ চাচা চাচির সেক্স  দৃশ্যটাও দেখতে ছাড়ি নাই।

এসব শুনছে আর রবিনের চোখ কপালে উঠছে । এমন হয়!রঞ্জু বলেই চলেছে। সব যেন আজকে সে স্বীকার করবে।

আমাদের পাশের ফ্ল্যাটের জিম বডি ওলা ভাইয়া শুধু আন্ডারওয়ার পরে যখন ব্যায়াম করতো তখন দূরবীন দিয়ে দেখতাম। আমি যখন দুইজন গে ফ্রেন্ড নিয়ে ফ্ল্যাটে উঠলাম তখন তো হাতে যেন স্বর্গ পেলাম। যেই ফ্রেন্ডই সেক্স পার্টনার নিয়ে আসতো তার দরজার ফুটো দিয়ে তাদের সেক্স দেখতাম। ফুটো গুলো অবশ্য আমি আগেই করে নিয়েছিলাম। এখন আর কারো টা দেখে সম্ভব নয়। তাই নিজেই সেট বানিয়ে নিয়েছি। আমার বিএফ যায় সেক্স করতে আর আমি তা দেখি সিসি ক্যামেরায়। এতে হয়তো পরিপূর্ণ আনন্দ পাই না । কিন্তু যা হয় তা কম কি।

রবিনের মুখ থেকে আপনা আপনি একটি কথাই বের হল

ছিঃ। বিএফ কে এইভাবে ইউজ করেন?আপনি কি মানুষ ?

রঞ্জু অপমানে মুখ কালো করে ফেললো। কিন্তু কিছু বলার নেই।রবিন আর কিছু না বলে বের হয়ে গেলো দরজা দিয়ে। পিছন থেকে রঞ্জু বলল

আপনার টাকাটা?

লাগবে না।

হন হন করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেলো রবিন। রাস্তার মোড়ে এসে দাড়িয়ে আছে বাসের জন্য। এতো রাতে বাস পাবে কিনা সন্দেহ। হটাত করে রবিনের কাঁধে হাত দিলো কেউ। পিছনে ফিরে দেখে সমু।

আপনার রুমাল ফেলে এসেছিলেন

ধন্যবাদ। আচ্ছা আপনি এতো অত্যাচার সহ্য করেও কেন আছেন?আমি তো ভাবতেই পারি না।

কারন আমি তাকে ভালবাসি।আর সে এই কাজের জন্য অনুতপ্ত। এই যে এখন সে চিৎকার করে কাঁদছে। কেন সে এমন সেই জন্য।সে প্রতিজ্ঞা করেছে এখন আর করবে না। কিন্তু আমি জানি আবার করবে।আবার আমি এটাও জানি একদিন এটা সত্যি বন্ধ হয়ে যাবে। আমি সেই দিনের অপেক্ষায় রয়েছি। বাস আসলো। রবিন বিদায় নিয়ে বাসে উঠলো। রবিন ভাবছে আজকে এই রাত টার কথা। সত্যি কি রঞ্জু আর এমন করবে না? কে জানে! শুধু খারাপ লাগছে রবিনের সমুর জন্য। একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে রবিন হেড ফোন ২ টা কানে দিয়ে গান শুনতে লাগলো ………..

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.