অনু আড্ডাঃ ২

হাই গাইজ। ভেবেছিলাম অনু আড্ডা দ্বিতীয় সিজন এক পর্বেই সেরে দেবো। কিন্তু তোমাদের পজেটিভ ফিডব্যাক আমাকে আবারো লিখতে বসতে বাধ্য করলো। যদিও এই লেখা একার নয়। অন্য একজনের কাছ থেকে আলাপনের মাধ্যমে উত্তর সংগ্রহ করতে হয়। সেজন্য এটা খুবই ধৈর্য এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে আমার লেখালেখি সব তোমাদেরই জন্য। তাই চেষ্টা করবো আগ্রহী সকলকে অনু আড্ডায় নিয়ে আসতে। আজ আমাদের সাথে আছে অয়ন। সি সন নামেই যে ফেসবুকে সমধিক পরিচিত।
#
শুভ্র ভাইঃ হ্যালো সি সন। উচ্চারন সি সন হবে নাকি সিজন হবে মাঝে মাঝে কনফিউজড হয়ে যাই। স্বাগতম অনু আড্ডার সেকেন্ড সিজনের সেকেন্ড পর্বে। দীর্ঘ এই ফেসবুক জীবনে অনেকের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়েছে। তবে দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে খুব কম মানুষের সাথে। আমি সৌভাগ্যবান যে কোন পরিকল্পনা ছাড়াই তোর সাথে কক্সবাজারে আমার দেখা হয়ে গিয়েছিলো। মানসিক ভাবে আমি খুবই বিদ্ধস্ত ছিলাম। যতক্ষণ তুই সঙ্গ দিয়েছিলি বেশ সময় কেটেছিলো গল্প আড্ডায়। যদিও মাঝে মাঝে পারসোনাল ব্যাপারে তোর অতি আগ্রহ প্রদর্শনে আমি বিরক্ত হই তবে তোর মত আন্তরিক মানুষ আমি খুবই কম দেখেছি। কক্সবাজারের সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সময়টুকুর জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকবো। অনু আড্ডায় তোকে উপস্থিত করতে পেরে আমি গর্বিত বোধ করছি। শুরুতেই পরিচিত অপরিচিত বন্ধুদের উদ্দেশ্যে ইনট্রোডাকশান স্পিচ দিয়ে ফেল।
অয়নঃ হ্যালো বন্ধুরা, আমি অয়ন। সম্পূর্ন নাম বলতে পারছিনা তাই সরি। কিছু ক্ষেত্রে আমাদের প্রাইভেসী মেইনটেইন করতেই হয়। আমার জন্ ১০ই জুলাই ১৯৮৮। সেই হিসেবে বয়স ২৭ বছর দশ মাস। চট্রগামের লোহাগাড়া উপজেলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত একটি গ্রামে আমার জন্ম। বর্তমানে কক্সবাজারে আছি। শিক্ষাগত যোগ্যতা বলতে গেলে আমাকে জাতীয় মুর্খ ধরো নিতে পারো।
#
শুভ্র ভাইঃ আচ্ছা বয়স প্রমাণ করতে আমাদের সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। না হলে কিভাবে বুঝবো এখনো এত কচি তুই। হা হা হা। যাই হোক শিক্ষাগত যোগ্যতায় আমাদের কিছু আসে যায় না। আমরা এখানে কাউকে চাকরি দেবো না। আর সে ধরণের কোন ইন্টারভিউ নেবো না। তোর কাছে আমার প্রথম প্রশ্ন নিজের মধ্যে কখন রঙধনু সত্ত্বাকে উপলব্ধি করা শুরু করলি?

অয়নঃযখন অষ্টম শ্রেনীতে পড়ি তখন সুন্দর ছেলেদের দেখলে কেমন একটা ফিল করতাম।
#
শুভ্র ভাইঃ হায়রে সবারই দেখি সুদর্শনদের প্রতি আকর্ষন কাজ করে। তোরা নজর দিয়ে দিয়েই তো সুন্দর ছেলেগুলোকে গে বানিয়ে ফেললি। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় কুদর্শন ছেলেদের হোমোসেক্সুয়াল হওয়া উচিত নয়। তারা যাতে হোমোসেক্স্যুয়াল না হয় সেজন্য জাতীয় আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। তা এই ফিলিংস্টা কখন পাকাপোক্ত হয়?
অয়নঃযখন নবম শ্রেনীতে উঠি তখন বুঝতে পারি আমি মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়।
#
শুভ্র ভাইঃ বাহ বাহ। এইট থেকে নাইনে উঠতেই ছেলে লাইন চিনে ফেলেছে। তো শুরুটা হলো কিভাবে? গে বলে যে একটা সমাজ আছে সেটা কিভাবে জানলি?
অয়নঃআমার পাড়ার এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে এই জগতে পরিচিত হই।
#
শুভ্র ভাইঃ হায় হায়। এখানেও বড় ভাই। এলাকার বড় ভাইগুলোকে সব খাসি করে দেওয়া উচিত। বড় ভাইদের কারণে গে লাইফের সাথে পরিচিত হওয়া কমন প্লট অফ গে স্টোরি অভ রিয়েল লাইফ। সে যাই হোক। বয়স তো ষোলো। বংগীয় সমাজ ব্যবস্থা এরকম ছেলেকে বেশীদিন আইবুড়ো থাকতে দেবে না। বিবাহ নিয়ে কি চিন্তা করছিস? করবি নাকি বিদেশ পালাবি?
অয়নঃবিয়ে তো করতে হবে সুখি হলেও না হলেও কারন আমাদের সমাজ যারা বিয়ে করেনা তাদের খারাপ চোখে দেখে। সো যারা সমকামি তারা শুধু সমাজের আর লোক লজ্জার ভয়ে বিয়ে করে। আমি মনে করি বিয়ে করলে আমার কোন প্রবলেম হবেনা।
#
শুভ্র ভাইঃ শুধু লোক লজ্জার ভয়ে নয় আরো অনেক কারণে বাঙালী সমাজে দ্বৈত জীবন বেছে নিতে হয়। সে ক্যাঁচাল থাক। আগে বিয়ে কর তখন না হয় তোদের কাপল নিয়ে আরেকটা আড্ডার আয়োজন করা যাবে। এখন তোর প্রেম পিরিতের খাতা খোল। দেখি কি কি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিস।
অয়নঃএই পর্যন্ত প্রেমে পড়েছি তিন জনের সাথে।
#

শুভ্র ভাইঃ বাহ বাহ। এক্কেবারে হ্যাট্রিক ফিগার। তা একটা ছেড়ে আরেকটা কিভাবে ধরলি?
অয়নঃপ্রথমজনের সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারনে দুরত্ব সৃষ্টি হয়। তবে এখন ও মাঝে মাঝে কথা হয়।
দ্বিতীয়টা আর তৃতীয়টা প্রেম বললে ভুল হবে, শুধু অভিনয় করা হয়েছে আমার সাথে। আমার এটাই মনে হয়।
#
শুভ্র ভাইঃ আচ্ছা রঙধনু গোত্রের সম্পর্কগুলো এত সহজে ভেঙে যায় কেন?
অয়নঃসম্পর্ক গুলো ভেঙ্গ যাওয়ার পেছনে একটায় কারন অবিশ্বাস আর সন্দেহ। ঠুনকো কারনে সম্পর্ক গুলো ভেঙ্গে গেছে।
শুভ্র ভাইঃ আচ্ছা এই প্রেম করতে গিয়ে কোন বিব্রতকর পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছিস? ফ্যামিলি যদি এরকম প্রেমের কথা জেনে যেতো তবে কি করতো তারা? মেনে নিতো?
অয়নঃতেমন কোন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নাই, বাবা মার কাছে ধরা খেলে সোজা জবাই করে দিতো।
#
শুভ্র ভাইঃ সমকামী সত্ত্বা নিয়ে কি তুই সুখী? নিজেকে প্রকাশের কোন ইচ্ছে কি আছে তোর?
অয়নঃপ্রত্যেক মানুষ চাই তার মাঝে যেটা আছে সেটা সবার কাছে তুলে ধরতে। জানি বাংলাদেশে সেটা চাইলেও সম্ভব নয়।
শুভ্র ভাইঃ দৈহিক কামনা অথবা রোমান্স কোনটাকে তুই প্রায়োরিটি দিস বেশী?
অয়নঃদৈহিক কামনা আর প্রেম রোমান্স একটা আরেকটার সাথে জড়িত। একটি ছাড়া আরেকটা সম্পুর্ন হয়না। রোমান্সটাকে বেশি ফিল করি।যদিও প্রেমের ব্যাপারটা তেমন একটা বিশ্বাস করতে পারিনা।তবুও রোমান্সটা কে ফিল করি ভীষণ।
#
শুভ্র ভাইঃ এই ব্যাপারে আমি তোর সাথে একদম একমত নই। সেক্স ছাড়া ভালোবাসা সম্ভব নয় এটাও যেমন সত্য তেমনি ভালোবাসতে দেহ নয় মন লাগে সেটা চন্দ্র সূর্যের মত ধ্রুব সত্য। তুই কি সমকামীদের সমধিকারে বিশ্বাস করিস?
অয়নঃযেখানে কোন জিনিসের স্বাধীনতা থাকেনা সেখানে সুখ থাকার কথা নয়।যখন দেখি আমি একা নি এ জগতে অনেকে আমার মত এই জগতের মানুষ তখন সুখটা ফিল করি। সমধিকার হয়তো সম্ভব হয়তো সম্ভব না,সেটা অনেক ক্ষেত্রে সরকার নির্ভর।
#
শুভ্র ভাইঃ সরকার যেচে এসে বলবে নাও নাও সমধিকার নাও সেটা কস্মিনকালেও সম্ভব না। ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলো দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমেই নিজেদের অধিকার আদায় করে নিয়েছে। সমকামী বন্ধুদের কোন দিকটি তোকে আহত করে?
শুভ্র ভাইঃ সমকামি বন্ধুরা বেশির ভাগ হিংসাত্বক হয়। সো সবকামি বন্ধুদের বলবো তারা যেন হিংসাপরায়ন না হয়ে বন্ধুত্বপরায়ন হতে।
#
শুভ্র ভাইঃ এটা তারা শোনার জন্য বসে রয়েছে বলে আমার মনে হয় না। যারা শোনার শুনবে, যারা শোনার নয় তারা কখনোই শুনবে না। সমকামীদের মাঝে সেক্সের প্রতি ব্যকূলতা এত বেশী কাজ করে কেন?
অয়নঃঅপ্রিয় হলে ও সত্যি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমকামি বন্ধুরা শুধু দেহের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়।এটির জন্য দায়ী তাদের ইমশনালের ব্যাপারটা। খুব কম সমকামি নরমাল বন্ধুদের মত আচরন করে।এরা কামনার দিকটাকে প্রধান্য না দিয়ে বন্ধুত্বের দিকটায় বেশি দেখে।
#
শুভ্র ভাইঃ আমিও চাই প্রতিটি সমকামী ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত বাস না করে তারা যেন পরষ্পর পরষ্পরের দিকে আন্তরিক সম্পর্কের হাত বাড়িয়ে দেয়। শেষ প্রশ্ন, তুই তো বহুদিন থেকে অনু পমকে জানিস। অনু পম সম্পর্কে তোর ধারণা কি?
অয়নঃঅনুপম ছেলেটা খারাপ না তবে মাঝে মাঝে বদ চিন্তা ভাবনা করে। আর সেটা নিজের মাঝে না রেখে সবার মাঝে বদ চিন্তার ঘ্রান বিলিয়ে দেয়। তবে আমার সাথে অনু পম বা শুভ্র দুই সন্ধ্যা আড্ডা দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি নিঃসন্দেহে অনু পম একজন বন্ধুবৎসল মানুষ।
#
শুভ্র ভাইঃ যাই হোক তাও শেষ পর্যন্ত ভালো কিছু বললি। খারাপ কিছু বললেও সমস্যা ছিলো না। আমিও যখন এঙ্কর, প্রোডিউসার, পাবলিশার তাহলে মুছে দিলে কে টের পেতো। খিকজ। যাই হোক। আমার সাথে আরো একটি সন্ধ্যা আড্ডা দেওয়ার জন্য তোকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সুপ্রিয় বন্ধুরা অনু আড্ডা আজ এই পর্যন্তই। অনু আড্ডা জীবনের টুকরো টুকরো গল্পকে তুলে ধরে। হতে পারে সেটা আনন্দের, হতে পারে বেদনার। তুমি যদি তোমার কথা বলতে চাও তবে আজকেই চলে আসো অনু আড্ডায়। আমরা শুনতে প্রস্তুত তোমার কথা। তৃতীয় পর্বে তোমাদের সামনে হাজির হবে অনি চৌধুরী। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থেকো। এবং জানাতে ভূলো না কেমন লাগলো অয়নের কথামালা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.