এইচ আইভি টেস্ট এবং একজন সমকামীর প্রতিকূল অভিজ্ঞতা

স্টিফেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।

হয়তোবা হতে পারে আমার মনের ভুল, কিন্তু সমকামীরা যে সবখানেই নিগ্রহের শিকার হয় তার একটা বাস্তব এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার কাছে।

খুব সেক্স করতে ইচ্ছে করতেছিলো, তাই এক বটম পার্টনার পেয়ে চলে গেলাম। সেক্স করার আগে তার দেহের স্পর্শে আমি এতটাই মাদকতার মধ্যে চলে গিয়েছিলাম যে কনডম ব্যবহার না করেই যৌন সহবাস শুরু করি। যদিও সে আমাকে আশ্বস্ত করেছে যে সে নিরাপদ। ঝোকের বসে অনিরাপদ হয়ে পড়ি তাই স্বভাবতই মনের মধ্যে একটা খুত খুতে থেকে যায় এইচআইভি টেস্ট করানর জন্য। তো যেহেতু আমি এন্টিবডি টেস্ট করাবো তাই অবশ্যই আমাকে নুন্যতম ৩ সপ্তাহ (প্রকৃত উইন্ডো পিরিয়ড ৩ মাস) অতিবাহিত করতে হবে। তো গেলাম আমার কাছের এ আর টি সেন্টার,ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখনকার পরের ঘটনা গুলো আমি ধাপে ধাপে বলছি।

১) যেয়ে দেখি ল্যাবের টেকশিয়ান নাই, কাউন্সেলিং রুমে বসে আছে শুধু কয়েকজন কাউন্সেলর এবং কয়েকজন নার্স। আর বাইরে বসে আশে সারি সারি এইডস রোগী। অনেকের সাথেই কথা বললাম এর মধ্যে কেউ আমার খুব হতাশ আবার কেউ বা খুব আশাবাদী।

২) ভেতরে গিয়ে বললাম আমি এইচ আইভি টেস্ট করাতে এসেছি। রেফারেন্সের কথা জিজ্ঞেসা করতেই বললাম আমার রেফারেন্স নাই, সারা বাংলাদেশ জুড়েই তো এ আর টি সেন্টার রয়েছে এখান থেকে সেবা নিতে তো আর রেফারেন্স লাগে না। তারপরেই আমাকে তাদের সামনে বসতে বললেন।

এর পর থেকেই শুরু হলো খারাপ অভিজ্ঞতা।

৩) আমাকে কোন ফরম পূরন বা ফরমালিটি ছাড়াই কাউন্সেলর ভদ্রমহিলা বললেন কার সাথে সেক্স করেছেন , আমি একটু নিচু গলায় বললাম ছেলেদের সাথে। সাথে সাথে তার ভ্রু কুচকে গেলো আর বিভিন্ন কথা যেমন ধর্মের কথা দিয়ে ছিঃ ছাকার শুরু করলেন। এবং আমাকে বলা হলো ল্যাব টেকশিয়ান নাই আপনি বসে বাইরে বসে  থাকেন।

৪) পৌনে এক ঘন্টার মত বসে থাকার পরে নক দিতেই সেই ভদ্র মহিলা এসে বললেন আসেন আমিই পরীক্ষা করাবো। তারপর আমি বললাম, আপনি না বলে দিলেন আপনি ল্যাব টেকনিশিয়ান না , তাহলে? উনি বললেন, কে বলেছে? এই কাজ আমিও পারি । আমি শুধু সুবোধ বালকের মতই চলে গেলাম। এর পরেই শুরু হলো আসল খেলা।

৫) সে প্রথমে একটি আনস্টেরালাইজড ট্রেতে একটি এলকোহল প্যাড রাখলেন, তারপর আমার আঙ্গুলে নিডল দিয়ে ছিদ্র করলেন এবং কিছু স্যাম্পল রক্ত ঐ ট্রেতে রাখা প্যাড দিয়ে মুছলেন এবং  আবার সেই ট্রেতেই এবং সেখান থেকে ফাইনাল স্যাম্পল কালেক্ট করে কিটে দিলেন ও শেষে সেই একই প্যাড দিয়ে আবার ক্ষত হওয়া আঙ্গুল  র‍্যাপ করে দিলেন। অতঃপর টেস্ট নেগেটিভই এসেছে।

এখন আমরা মূল ঘটনা বিশ্লেষণে আসি,

আমরা সবাই জানি এ আর টি সেন্টার (ART center) এ যত মানুষ আসে এবং যতজনের ল্যাবে পরীক্ষা হয় তার ৯৯% ই এইচ আইভি পজেটিভ কেননা তারা বিভিন্ন এনজিও বা স্বাস্থকেন্দ্রে তারা পজেটিভ প্রমানিত হয়েই রেফার হয়ে আসে।

আমার রক্তমাখা কাপড় সেখানে রাখা মানে আরো ১০ জনের কাপড় সেখানে তারা রেখেছিলো, তারমানে হলো সংক্রমণের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম রক্ত সেখানে রাখা হচ্ছে এবং সেই একই বস্তু দিয়ে ক্ষতস্থানে বারবার লাগানো হচ্ছে। এবং যদিও এইচ আইভি মুক্ত ব্যক্তির তাৎক্ষনিক নেগেটিভ রেজাল্ট দেখালেও তার কিছুদিন পরে ঠিকই তার শরীরে এইচ আইভির জীবানু পাওয়া যাচ্ছে।

হ্যা, এইচ আইভি মুক্ত অবস্থায় বেশিক্ষন বাঁচতে পারে না , কিন্তু তবুও নয় নয় করে রক্তের সংস্পর্শে এটি প্রায় ৩০মিনিট থেকে ১১ দিন বাঁচতে পারে এমনকি প্যাডের এলকোহল জীবানু মারতে প্রায় ৩০সেকেন্ড থেকে ২ মিনিট সময় নেয়। আর প্রাণঘাতী জীবানু প্রান নেওয়ার জন্য একটিই যথেষ্ট হতে পারে। এছাড়া গুগল করেও আপনারা বিভিন্ন পরিবেশে এইচ আইভি এর স্থায়িত্বকাল জেনে নিতে পারেন।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কিরে ভাই, আপনি এত সন্দেহবাতিক কেন! তাদের জন্য বলে রাখি, আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো অনেক মেডিকেল প্রফেশনাল কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তারা এক বাক্যে বলেছে যে হ্যা এটা আসলেই ঝুকিপূর্ন কাজ হয়েছে আপনার সাথে। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, আমি যখন পরের সপ্তাহে এ আর টি সেন্টার (ART center) এ গিয়ে তাদের পরিক্ষা পদ্ধতি বা এপ্রোচ নিয়ে জিজ্ঞেস করি (যদিও ঐ জোত চোর মহিলা তখন ডিউটিতে ছিলোনা) তখন তারা সরাসরি অস্বীকার করে এবং বলে তাদের এখান থেকে এরকম কাজ হতেই পারে না। যখন তারা এরকম বলেছে আমার মাথায় পুরো আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে।

যাইহোক, তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি কিভাবে এ আর টি সেন্টার (ART center)  যেটি কিনা মানুষের আস্থার স্থান সেটি কিভাবে আরো শত শত মানুষকে এইচ আইভি পজেটিভ বানিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া সমকামীদের প্রতি একটা ঘৃণার ছাপ তো আছেই। এখন কেমন যেন মনে হচ্ছে সমকামী জন্যই তারা চান যেন আমরা তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে বিদায় নেই, কি জানি আবার আমার মনের ভূল ও হতে পারে ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.