ফিফথ ফ্লোর

লেখক : ভ্যালেন্টাইন সৈকত

*প্রারম্ভিক*
শীতের গভির রাত ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে একটা গাড়ী খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে ! ঘন গজারি বনের পিজের রাস্তা ধরে গাড়িটা চলছে তো চলছেই । গাড়ী টা চলতে চলতে বনের ভেতরে অবস্থিত একটা বহুতল আবাসিক হোটেল এর ভেতরে প্রবেশ করলো আর গাড়ী থেকে খুব দ্রুত একটা মেয়ে নেমে দৌড়ে ঐ হোটেলের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকলো উঠতে উঠতে একে একে ঐ ভবনের ফিফথ ফ্লোরে উঠলো এবং ঐ ফিফথ ফ্লোর থেকে চিৎকার করে মেয়েটি নিচে লাফিয়ে পরলো । লোকজন এসে সবাই নিচে তার পরে থাকা লাশের পাশে ভির করলো ! ফিফথ ফ্লোর থেকে একজন পুরুষ দৌড়ে খুব চিন্তিত ভাবে নিচে নামতে লাগলো কিন্তু ঐ ফ্লোরের ডেস্ক এ বসে থাকা বার ডান্সার রুবাইয়া খুব গম্ভীর মুখে বললো ” রকি তোমার নিচে না যাওয়াটাই বেটার” রকি একটু চিন্তিত আর গম্ভীর মুখে রুবাইয়ার দিকে তাকিয়ে আবার নিচে নামতে থাকলো !

১।
আমিনুল সাহেব (৫০ ) তার বসার ঘরে বসে তার বন্ধু লাল মিয়া এবং তার মেয়ে নাজমার (২২) সাথে কথা বলছেন
আমিনুল সাহেব – না না লাল ভাই আমি এখন আপনাকে কথা দিতে পারছিনা আমার ছেলেকে দিয়ে আপনার মেয়েকে বিয়ে করিয়ে ঘরে আনার, কারন এখনো একবছরও হয়নি আমার মেয়েটা মারা গেছে এখন এসব বিয়ে নিয়ে আমার মনে কোন চিন্তাই আসে না । মেয়ে হারানোর ব্যাথাই এখনো আমি ভুলতে পারিনি তাছারা আমার ছেলে শ্রাবনকে না জিজ্ঞেস করে আমি এ ব্যাপারে কোন কথা দিতে পারবো না
লাল মিয়া – তাহলে এখনি শ্রাবণকে ডেকে জিজ্ঞেস করুন, শ্রাবন তো বাসায়ই আছে।
আমিনুল সাহেব – না লাল ভাই শ্রাবন এখন ব্যস্ত সে তার বন্ধুদের নিয়ে আজকে রাতের ট্রেনে গাজীপুর যাবে বেরাতে , তাই সে এখন সেখানে যাওয়ার জন্য গুছগাছ করছে ।
লাল মিয়া – আমিন ভাই, আপনার বড় মেয়ের সাথে আমার ছেলের এঙ্গেজমেন্ট হয়েছিল, বিয়েও হত কিন্তু শিখা মারা যাওয়াতে তা আর হল না তাই ভাবলাম আমাদের আত্মীয়তা করতে এখন আমার মেয়ের সাথে আপনার ছেলের বিয়েটা দেই
আমিন সাহেব – সে না হয় করাই যাবে কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা পরে স্বিধান্ত নিবো শ্রাবন ফিরে আসুক
রাত ১১ টা বাজে শ্রাবন চট্টগ্রাম ট্রেন স্ট্যাশন এ হাতে একগাদা ভাড়ী ভাড়ী ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে টিকিট কাঊন্টারে গেলো কিন্তু তার সাথে সাথে রকিও টিকেট কাউন্টারে গেলো টিকিট কাউন্টারে গিয়ে দুজন একসাথে একই জায়গাতে দাড়ালো কে আগে আসছে এটা নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ বেধে গেলো, শেষে রকি শ্রাবণকে বললো যান আপনিই আগে দাড়ান, শ্রাবন রকির সামনে দাড়ালো কিন্তু শ্রাবনের সামনে আরো দুজন লোক তাদের টিকিট কাটা শেষই হচ্ছেনা সামনের লোক গুলোর সরার কোন নামই নেই তাই রকি পেছন থেকে বলে উঠলো, সামনের লোকতো কেউ সরছেই না এত সময় যদি লাগে টিকেট কাটতে তাহলে তো মনে হয় আমরা এখানেই বুড়ো হয়ে যাবো, রকি শ্রাবণকে বললো আপনার হাতে এত গুলো ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন , দেন আমার কাছে কিছু ব্যাগ দিন আমি আপনাকে হেল্প করি, শ্রাবন বিরক্তি ভরা চোখে রকির দিকে তাকালো,
রকি তা বুঝতে পেরে বলে উঠলো, ঠিক আছে ঠিক আছে লাগবে না, আসলে কি জানেন কিছু দিন আগে আমি একজনকে আমার হাতের ব্যাগ দিয়েছিলাম কিন্তু একটু পরে পেছনে তাকিয়ে দেখি লোকটা সারা জীবনের জন্য আমার হাতের বোঝা কমিয়ে দিলো, মানে লোকটা আমার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেছে হা হা হা !
শ্রাবন রকিকে জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা আপনি হঠাৎ আমাকে সামনে দাড়াতে সুজোগ দিলেন কেন ?
রকি একটু মজা নিয়ে হাসি হাসি মুখে বললো, কারন ছোট বেলা থেকেই শিখে এসেছি যে
– কি শিখে এসেছেন ?
– রকি ব্যাঙ্গান্তক ভাবে বললো, লেডিস ফার্স্ট !
– শ্রাবন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো, হোয়াট রাবিশ বলে টিকেট কাউন্টারকে বললো জয়দেবপুর ফার্স্ট ক্লাস টিকেট দিন
টিকেট কাউন্টারের লোকটা বললো কি ! কি বললেন আপনি ? রাবিশ ? আমাকে রাবিশ বললেন ?
শ্রাবন – আরে না না আপনাকে বলিনি !
শ্রাবনের খুব মন খারাপ হয়ে গেলো ছোট বেলায় সে এমন লেডিস, হাফ লেডীস অনেক টিজিং এর শিকার হয়েছে, কিন্তু এখন সে বেশ ম্যানলি তাও এত বছর পর এ কথা শুনতে হল ?
রকি টিকেট কাউন্টারে টিকেট কাটছে কিন্তু দূরে একটা লোক লম্বা সিগারেট খাচ্ছে আর রকির দিকে রহস্যময় ভাবে তাকাচ্ছে, রকি তা খেয়াল করলো না
ট্রেনের কামরায় শুয়ে আছে শ্রাবন, হঠাৎ সেই কামরাতেই রকি প্রবেশ করলো
– আপনি ? আপনি আমার কামরাতে এসেছেন কেন ?
– হ্যালো , কুল ! কুল ডাউন লেডিস বন্ধু ! এটা আপনার কামরা না এটা আমার কামরা এই যে টিকেট
– হেই মিস্টার আপনি আমাকে লেডিস বলেন কেন ? দেখেতো ভদ্র মানুষই মনে হয় আর এসব অসভ্যর মত আচরণ করছেন !
– আপনি যেভাবে টিকেট কাউন্টারে সামনে দাঁড়ানোর জন্য ঝগড়া করছিলেন এমন ঝগড়া শুধু মেয়ে মানুষরা ই করে ! তাই আপনাকে লেডিস উপাধি দিলাম ! তাছারা দেখতেও মাশাল্লাহ লেডিসদের মতই সুন্দরি ! just wow ! i am crashed, love at first site,প্রেম করবেন আমার সাথে, দেখুন এই কামরায় আমি আর আপনি ছাড়া আর কেউ নেই
– how dare you !
– my dare is so thick and long ! wanna see ?
শ্রাবন রেগে মেগে চুপ করে রইলো ! আর মিন মিন করে বলতে লাগলো , উফ আমার জার্নিটাই অশান্তির হয়ে গেলো !
রকিও জোড়ে জোড়ে বলতে লাগলো উফ আমার জার্নিটাই অশান্তির হয়ে গেলো

পরদিন সকালে শ্রাবন তার গন্তব্য জয়দেবপুর পৌছে গেলো, ট্রেন স্ট্যাশনে তার বান্ধবী শিলা তার জন্য অপেক্ষা করছে, শীলাকে নিয়ে শ্রাবন জয়দেবপুর এর বিখ্যাত হোটেল ” বনান্ত ” তে গেলো
– শ্রাবন তুই আমার বাড়ি তে না গিয়ে হোটেলে কেনো উঠতে চাইছিস বল তো ?
– কারণ আছে তোকে সব পরে বলবো, শ্রাবন আর শীলা হোটেলে রুম বুকিং করছে তারা দুজন আলাদা আলাদা রুম বুকড করলো দুজনের জন্য ! যদিও শ্রাবন গে সেটা শিলা জানে কিন্তু তবুও তাদের আলাদা রুম নিতে হলো, এমন সময় রকিও এই হোটেলে ঢুকলো , তাদের দেখে রকি নিজেকে লুকিয়ে রাখলো, আর মনে মনে ভাবতে লাগলো
অরে বাবা এতো দেখি এখানেও চলে এসেছে, অফ গড !
ট্রেন স্ট্যাশনে রকিকে ফলো করা সেই রহস্যময় লোকটা এখানেও হোটেলের বাইরে দাঁড়িয়ে রকিকে ফলো করছে আর লম্বা একটা সিগারেট টানছে !

২।
আচ্ছা শ্রাবন ! তুই বেছে বেছে এই ফিফথ ফ্লোরেই কেন রুম নিলি ? নিচে তো আরো রুম খালি ছিল !
– শিলা তুই আমার সাথে আয় , আয় তোকে আমি একটা জিনিস দেখাবো আর তোর সব প্রশ্নের উত্তর ও দিবো
শ্রাবন শিলাকে নিয়ে হোটেল এর সামনের বাইরের বারান্দায় গেলো আর বললো এই দেখ এই সেই ফিফথ ফ্লোর যেখান থেকে গত বছর এই ডিসেম্বর মাসেই শীখা আপা আমার প্রিয় বোন টা লাফিয়ে পরে আত্নহত্যা করেছিলো আর এর জন্য দায়ী ছিলো শুধু একটা নর পিশাচ হৃদয় হীন একটা মানুষ
– কে সে ?
– তার নাম রকি, এই হোটেলেই সে নাচে গান গায় তাকে আমার শীখা আপা ভাল বেসেছিলো, কিন্তু রকি আপার ভালবাসাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলো বলে আপা এই ফিফথ ফ্লোর থেকে লাফিয়ে পরে আত্নহত্যা করেছিলো !
– কিন্তু কেউ ভাল না বাসলেই কি কাউকে মরে যেতে হবে ?
– না তা না কিন্তু আপা আর রকির ব্যাপারটা শুধু ভাল বাসা প্রত্যাখ্যান পর্যন্তই ছিলো না, আপা আমাকে চিঠিতে লিখেছিলো, আমি রকিকে ভালোবেসে একটা খারাপ কাজ করেফেলেছি যা করা কোন মেয়ের উচিত না, এখন যদি রকি আমাকে ফিরিয়ে দেয় তাহলে আমার মৃত্যু ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না, এই কথার মানে বুঝতে পারচ্ছিস তো , মানে হল আপা রকিকে ভালবেসে তার শরীর মন সব দিয়ে ছিল আর তাই যখন রকি আপাকে প্রত্যাখ্যান করলো তখন আপা আত্নহত্যা করলো ! আর এখানে এই হোটেলে এসেছি রকিকে খোজে বেরকরে আপার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে
দূরে দাঁড়িয়ে রকি শ্রাবনের সব কথা শুনে ফেললো, রকি খুব দুশ্চিন্তায় পরে গেলো, মনে মনে ভাবতে লাগলো অহ মাই গড এই ছেলের সাথে তো দেখে আমি ধীরে ধীরে জটিলতায় জড়িয়ে যাচ্ছি এই ছেলেকে আমার আসল নাম বলা যাবে না !
ফিফথ ফ্লোরের ই একটা রুমে রকি থাকে ! রকি তার রুমে চলে গেলো
রহস্যময় লোকটা এখানেও শ্রাবন এর সব কথা লোকিয়ে শুনে ফেললো আর এসব কথা যে রকিও শুনেছে তাও দেখে ফেললো
সেদিন রাত থেকে রকি কিছু দিনের জন্য হোটেলে নাচা আর গান গাওয়া বন্ধ করে দিলো, আর হোটেলের সবাইকে বলে দিলো, তারা যাতে কেউ শ্রাবণকে তার নাম রকি না বলে, এখন থেকে সবাই যাতে রকিকে রাজা বলে ডাকে
এই হোটেলের মালিক শরিফ সাহেব, বয়স ৫০ এর মত তিনি রকিকে খুব স্নেহ করেন, শরিফ সাহেব এর ছেলে মেয়ে কেউ নেই তাই তিনি রকিকে নিজের ছেলের মতই ভালোবাসেন,
শরিফ সাহেব রকির রুমে আসলো
– এসব কি শুনছি রকি এত দিন আগের ঐ ব্যাপারটা নাকি আবার কি সমস্যায় ফেলছে তোমাকে
– আরে না তেমন কিছু না, একটা ছেলে এসেছে আমাকে খুজতে, আমি উটকো ঝামেলায় জড়াতে চাই না তাই কিছু দিন নিজের পরিচয়টা লোকিয়ে রাখবো
– দেখ রকি তুমি আমার সন্তানের মত তাই যেকোন প্রয়োজনে আমাকে ডাকবে, আমি আছি তো

পরদিন সকালে শ্রাবন জয়দেবপুর এর একটা বাজারে যায় কিছু কেনা কাটা করতে
এমনি চখে পরে রকি কিছু লোকের সাথে কথা বলছে পাশে একটা মেয়েলি টাইপের ছেলে দাঁড়িয়ে আছে
– দেখো ভাই সে একটু দেখতে মেয়েদের মত এটা কি তার দোষ ? কেন তাকে যেখানেই দেখ সেখানেই উত্যাক্ত করেন ? কেউ কি ইচ্ছা করে নিজের চেহারা কন্ঠ বানাতে পারে ?
এভাবেই রকি কিছু লোককে বুঝাচ্ছে যাতে তারা কোন মেয়েলি ছেলেকে কষ্ট না দেয়, রকি এত ভালো ভাবে লোক গুলোকে বুঝালো যে ওখানের সবাই তাদের ভুল বুঝতে পেরে তারা আর এমন করবে না এটা বললো ! রকির এমন সফল বক্তব্যে শ্রাবন খুব মুগ্ধ হয়ে গেলো
ঠিক একই দিন সন্ধ্যায় ঐ হোটেলে ২ জন হিজড়া এসে হাউমাউ করছিলো আর হোটেলের এর ম্যানেজার তাদের কোন রুম ভারা দিচ্ছিলো না, রকি ব্যাপারটা দেখে ম্যানেজারকে বললো তারা হিজড়া তাই বলে কি তারা কোন রুম পাবে না ? আপনি তাদেরকে রুম দেন তারাও মানুষ
রকি এই হোটেলের মালিকের খুব কাছের মানুষ এটা সবাই জানে তাই ম্যানেজার রকির কথায় হিজড়া দুজনকে রুম দিলো
এই ব্যাপারটাও শ্রাবন দেখলো, রকির আচরণে শ্রাবন মুগ্ধ হতে লাগলো
তাই শ্রাবন সে রাতে রকির রুমে গেলো
শ্রাবণকে দেখে রকি অবাক
– কি ব্যাপার আপনি ?
– হ্যাঁ আমি, আপনাকে আজ দুইটা খুব ভাল কাজ করতে দেখলাম তাই আপনাকে একটা প্রশ্ন করেতে চাই
– জ্বী বলুন
– আপনি আজ বাজারে এবং হোটেলে যে দুইটা কাজ করলেন তা আমি দেখেছি, হিজড়া বা মেয়েলি মানুষদেরকে এত সম্মান করেন তাহলে আমাকে সেদিন কেন এত রাগালেন ? লেডিস বলে অপমান করলেন ?
– আমি কিন্তু অপমান করিনি আপনাকে, জাস্ট একটু দুষ্টমী করছিলাম আর আমি কিন্তু আরেকটা কথাও বলেছিলাম সেটা তো খেয়াল করেন নি
– কি কথা ? কোন টা ?
– ওইযে i am crashed ! এবং…
– ওহ !
– হ্যাঁ
শ্রাবন আর কিছু বলছে না একটু লজ্জা পেয়ে চুপ হয়ে আছে, রকি শ্রাবনের কাছে এগিয়ে আসতে লাগলো, শ্রাবণ লজ্জায় মাথা নিচু করে রাখলো
রকি বললো আমি কি তোমাকে ঠিক বুঝতে পেরেছি? তুমি হ্যাঁ না একটা কিছু বলো তা না হলে আমি সামনে এগুবো না
শ্রাবণ মাথা নিচু করে হ্যাঁ বোধক মানা নারালো
এমনি রকি খেয়াল করলো কেউ একজন রকির দরজায় দারিয়ে আছে, রকি দৌড়ে গিয়ে দরজা খুললো কিন্তু কাউকে দেখতে পেলো না তবে দরজার সামনে সিগারেটের ধোঁয়া উরছে এখনো ! রকি কিছুটা সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখলো রুবাইয়া তার সহ ডান্সার হাতে সিগারেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
– রুবাইয়া তুমি আমার দরজার সামনে গিয়ে লুকিয়ে আমার কথা শুনছিলে ?
– আমি তোমার কথা শুনবো কেন জান ? তুমি তো আমার প্রানেই বাস করো
– দেখ রুবাইয়া, আমি এখন খুব টেনশনে এসব কথা ভালো লাগছে না, সব সময় এসব ভাল লাগে না
– কখন ভালোলাগে বলো , আমি তখনই তোমার কাছে চলে আসবো, রকি, ওহ সরি তুমি তো এখন রাজ
কত দিন এভাবে নিজেকে রাজ বানিয়ে রাখবে, যদি ধরা পরে যাও ?
– এখানে ধরা পরার কি আছে ? একটা মেয়ে আমাকে ভালো বেসে আত্নহত্যা করেছে এর জন্য তো আমি দায়ি না
কিছুক্ষন রুবাইয়ার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলে রকি তার রুমে চলে গেলো
রুমে গিয়ে দেখলো শ্রাবন তার বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পরেছে, রকি তাকে ডাকতে যাবে ঠিক তখনই কারেন্ট চলে গেলো, তাই শ্রাবণকে আর না ডেকে রকিও শয়ে পরলো
রাতে শ্রাবন আর রকি নিজেদের অজান্তেই দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরলো, লিপ কিসিং হয়ে গেলো ধীরে ধীরে তারা হারিয়ে গেলো তাদের নিজস্ব আনন্দে উল্লাসে
পর দিন সকালে শ্রাবন ঘুম থেকে উঠে একটা চিঠি লিখে রকির টেবিলে রেখে সে তার নিজের রুমে চলে যায়, রকি তার ঘুম থেকে একটু দেড়িতে উঠলো, উঠেই শ্রাবনের কাগজে লেখা আই লাভ ইউ দেখতে পেলো ! কিন্তু যখন শ্রাবন জানবে আমি রাজ নই আমিই সেই রকি তখনকি শ্রাবন আমাকে ভালো বাসবে আমাকে তো সে তখন ঘৃণা করবে !
সেদিন সারা দিন রকি আর শ্রাবন মিলে অনেক ঘুরাঘুরি করলো, সারা দিন শেষে রকি আর শ্রাবন তার রুমে এলো এসে দেখে রকির সারা রুম এলোমেলো
পাশের দারোয়ানকে ডেকে রকি জিজ্ঞেস করলো , কে এসেছিলো আমার রুমে ?
দারোয়ান বললো
কেউ আসেনি তো স্যার,
– আমার রুমের আশে পাশে কাউকে ঘুরা ঘুরি করতে দেখেছো?
– হ্যাঁ স্যার একটা লোক আপনার রুমের আশে পাশে অনেক ক্ষন ধরে ঘুরা ঘুরি করছিলো
রকি দৌড়ে সামনের বারান্দায় গেলো আর নিচে তাকিয়ে দেখলো
মাথায় কেপ পরা একটা লোক গাড়িতে উঠে চলে গেলো

৩।
১০ দিন ধরে শ্রাবণ এই হোটেলে আছে তার বান্ধবী শিলা চলে গেছে এখন শ্রাবণ একাই থাকে এই হোটেলে।
কিন্তু আজ সে হোটেলের সবাইকে জিজ্ঞেস করছে এই হোটেলের ডান্সার রকি কোথায় থাকে, রকিকে কিভাবে পাওয়া যাবে, এমন সময় শ্রাবণ দেখতে পেলো, তার বোন শিখার সাথে বিয়ে ঠিক হওয়া তার বাবার বন্ধুর ছেলে নাজমুল এদিকেই এগিয়ে আসছে,শ্রাবনের পাশে এসে নাজমুল বললো
কি ব্যাপার শ্রাবণ,তুমি রকিকে খুজছো ? ভনিতা করার আর যায়গা পাওনা ?
সারাক্ষন যার সাথে মাখা মাখি করছো আর তাকে খোজা নিয়ে এই অভিনয় করার কি মানে ?
– মানে কি? নাজমুল ভাই , আপনি কি বলতে চাচ্ছেন ? আর আপনি এই হোটেলে কেনো ?
– আমি এসেছি তোমাকে ফলো করে, তোমার সাথে আমার বোনের বিয়ের কথা বলা হচ্ছে তো তাই তোমাকে যাচাই করতেই এই হোটেলে এসেছি, তোমার বোনের মত তুমিও বিয়ে পাকা হওয়ার পর অন্য কারো সাথে নষ্টামি কর কি না তা দেখতে
– মানে কি ?
– মানে হল তোমার বোনের সাথে আমার এঙ্গেজমেন্ট হয়ার পর আমি আর শিখা এই হোটেলে এসেছিলাম, কিন্তু তোমার বোন এই হোটেলের ডান্সার এর প্রেমে পরে আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলো, ঐ যে এদিকেই আসছে তোমার প্রিয় সেই রকি তোমার বোনের মৃত্যুর জন্য যে দায়ী আর যার সাথে তোমার এত গলায় গলায় ভাব সেই রকি !
শ্রাবণ পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখলো রকি এদিকেই আসছে !
– কাকে কি বলেন নাজমুল ভাই, এ তো রাজ আমার বন্ধু
রকি পাশে আসলে নাজমুল বলে সে রাজ নয় সে রকি, আর তার প্রেমে প্রত্যাখ্যান
হয়েই শিখা আত্নহত্যা করেছে, কি রকি নিজের পরিচয় লুকিয়ে রেখেছ কেন শ্রাবনের কাছে ?
রকি শ্রাবণকে বললো
শ্রাবণ শোনো আমি তোমাকে সব খুলে বলছি,
– কিছু খুলে বলার দরকার নাই জাস্ট এটা বলো তুমি রকি না রাজ ?
এমনি পাশ থেকে রুবাইয়া বলে উঠলো , আমি বলছি সে রকি, তো সে রকি হলে তুমি কি করবে ? রকি আমাকে ভালোবাসে আমি রকিকে ভালোবাসি আমরা দুজন বিয়ে করবো এখানে তোমার বোন রকিকে ভালোবেসে না পেয়ে আত্নহত্যা করলে এতে রকির কি দোষ ?
রকি বলে উঠলো, রুবাইয়া কি বলছো এসব আবল তাবল, শ্রাবণ তুমি শোনো আমি রুবাইয়াকে ভালবাসি না, আমাদের কোন বিয়ের প্ল্যান নেই
শ্রাবণ আর কিছু না শুনে জাস্ট রকির কলারে হাত দিয়ে বললো খুনি, তুই কত জীবন নিয়ে খেলা করবি, আমার বোন শুধু তোর প্রেমে প্রত্যাখ্যান হয়ার জন্য আত্নহত্যা করেনি আমি জানি এর জন্য তুইই দায়ী ! শিখা আমাকে চিঠিতে লিখেছিলো সে তোর কারনে একজন মেয়ে হিসেবে অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছে এখন যদি তুই তাকে ফিরিয়ে দেস তাহলে তার মৃত্যু ছাড়া আর কোন উপায় নেই, এর মানে কি আমি বুঝি না ? তুই তার সাথে …. ছী ছী ছী ! আমি আদালতে তা প্রমান করে তোকে সাস্তি দিয়েই ছাড়বো !
শ্রাবণ আর নাজমুল দুজনই খুব রেগে রকির কলারে ধরলো , ঠিক তখনই রকিকে ফলো করা সেই রহস্যময়ি লোকটা তাদের সামনে এসে বললো,থামেন ওকে ছেরে দিন ! আমি সিআইডি অফিসার আজিজ এটা বলে সিআইডি অফিসার তার আইডি কার্ড দেখালো সবাইকে, সিআইডি অফিসার রকিকে অ্যারেস্ট করে থানায় নিয়ে গেলো।

থানায় রকি আর হোটেলের মালিক শরিফ সাহেব বসে আছে,শরিফ সাহেব রকিকে জামিন করিয়ে ছারিয়ে নিয়েছে
শরিফ সাহেব বলছে, রকি কোন ধরনের অপরাধ করতে পারে না এর গ্যারান্টি আমি দিতে পারি তদন্তের খাতিরে আপনারা রকিকে যেকোন সময় ডাকতে পারেন, কিন্তু রকিকে এভাবে আপনারা অ্যারেস্ট করে নিয়ে আসতে পারেন না, আচ্ছা যাই হোক আমি চলে যাচ্ছি জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে তুমি চলে এসো রকি ! আমি তাহলে এখন যাই আমার একটু কাজ আছে, শরিফ সাহেব সব সময় রকিকে তার নিজের সন্তানের মতই ভালবাসে, রকিও শরিফ সাহেবকে নিজের পিতার মতই সম্মান করে !
রকি সিআইডি অফিসারকে সব খুলে বলছেঃ-
আমার কোন পার্ফরমেন্স শিখা মিস করতো না, শুধু আমার ডান্স দেখতেই গাজীপুরে সে বাড়ি ভারা করেছিলো,এই হোটেলে আসতো, সেদিন ছিল থার্টি ফার্স্ট নাইট, আমার খুব বড় একজন ভক্ত হিসেবেই আমি শিখাকে জানতাম
কিন্তু সেদিন শিখা আমার সাথে ডান্স করবে বায়না ধরলো আমিও না করতে পারলাম না
আর সেদিনই তার হবু বর আমার সাথে শিখাকে দেখে সবার সামনে শিখাকে অপমান করলো
বললো আমি এত দিন ধরে যা শুনে আসছিলাম তা ই ঠিক, তুই এই হোটেল ডান্সারের প্রেমে পরছোস !
আজ তা নিজ চোখে দেখলাম
আমি বললাম, না আপনি ভুল বুঝছেন আমাদের মাঝে এমন কিছু নেই
তার হবু বর নাজমুল সাহেব আমার কলারে ধরলো, আমার অপমান শিখা সহ্য করতে পারলো না
শিখা তার পা থেকে জুতা নিয়ে সবার সামনে তার হবু বরকে পিটালো, তার এঙ্গেইজমেন্ট এর আংটি খুলে ফেরত দিয়ে দিলো আর সবার সামনে বললো হ্যাঁ আমি রকিকে ভালো বাসি তাকেই বিয়ে করবো ! নাজমুল সাহেব খুব রেগে অনেক কথা বলে সেখান থেকে চলে যায়, তারপর শিখার রাগ কমে গেলে শিখা খুব আফসোস করতে থাকে, একজন মেয়ে হিসেবে তার হবু বরকে এভাবে অপমান করা ঠিক হয়নি !
তারপরের দিন রাত ১ টায় সে আমাকে কল করে হোটেলের রিসিপশনের ল্যান্ড ফোনে,হোটেলের রিসিপশন থেকে আমার রুমে কল ট্রান্সফার করে দেয়, শিখা আমাকে বলছিলো সে আমাকে ভালবাসে, সে আমাকে বিয়ে করতে চায়, সে এখনই আমার কাছে চলে আসবে, আমি বললাম , না তা হয়না আমি কখনো আপনাকে বিয়ে করবো না, শিখা খুব জ্বিদ ধরলো আর বললো আমি এখনই তোমার কাছে চলে আসতেছি, আমি বললাম আমি দরজা খুলবো না, শিখা বললো , তুমি যদি দরজা না খুলো তাহলে আমি সেখান থেকে লাফিয়ে পরে আত্নহ্যা করবো
হয়ত তোমাকে পাবো তানাহলে মরে যাবো ! আমার সহ ডান্সার রুবাইয়া আমাকে ভালোবাসে আর সেদিন যখন শিখা আমার সাথে টেলিফোনে কথা বলছিলো তখন রুবাইয়া রিসিপশনে বসা ছিলো
আর সে রিসিপশনের টেলিফোনে আমাদের সব কথা শুনে ফেলে !
রাত তখন ২ টা বাজে তখন শিখা আমাকে আমার দরজায় ডাকতে থাকে আমি সত্যিই খুব বিরক্ত হয়ে দরজা খুলিনি কিন্তু কে জানতো মেয়েটা যে সত্যিই আমি দরজা না খুললে আত্নহত্যা করবে ! সত্যিই আমার নিজেকে খুব অপরাধি মনে হয় !
সিআইডি অফিসার বললো , আত্নহত্যা ? কে বললো শিখা আত্নহত্যা করেছে ? ইট ওয়াজ অ্যা মার্ডার !
শিখাকে ঐ ফিফথ ফ্লোর থেকে জোর পুর্বক ফেলে দিয়ে খুন করা হয়েছে !
to be continue…..

{ রুবাইয়া রক্তাক্ত অবস্থায় রকির কোলে কে তাকে খুন করলো এবং কেন? রকির কাছে একটা রহস্যময়ি মহিলা এসে বললো আসল খুনিকে ধরতে চান তাহলে আমার গাড়ী নিয়ে এখনই সে খানে চলে যান,কিন্তু কোঁথায়? আর সেখানে গিয়েও রকির কুলে খুন হলো সেই রহস্যময়ি নারীও,কিন্তু রকিতো সেই নারীকে তার রূমে লক করে রেখে এসেছিলো কিন্তু এই মহিলা এখানে এলো কিভাবে? সিআইডি অফিসার বললো যদি শরিফ সাহেব জামিন না করাতো তাহলে আমি তোমাকে এই কেস শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলের ভেতরেই রাখতাম,
– কেন আমার উপর আপনার সন্দেহ এজন্যে ?
– না , জেলের বাইরে তুমার জীবন ঝুঁকির মধ্যে এই জন্যে ! কে মেরে ফেলতে চায় রকিকে?

৪।
সিআইডি অফিসার বললো
– আত্নহত্যা ? কে বললো শিখা আত্নহত্যা করেছে ? ইট ওয়াজ অ্যা মার্ডার !
শিখাকে ঐ ফিফথ ফ্লোর থেকে জোর পুর্বক ফেলে দিয়ে খুন করা হয়েছে !
– হোয়াট ? এ কি বলছেন আপনি এতো রাতে ঐ ফিফথ ফ্লোরে কে এবং কেনো শিখাকে মেরে ফেলবে ? এটা বলে রকি কি জেনে মনে মনে ভাবতে লাগলো আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে এলো, রকি সরাসরি হোটেলে চলে এলো এসেই রুবাইয়ার খোজ করলো, কিন্তু রুবাইয়া তখন হোটেলের বারে নাচ গান করছে তাই রকি রুবাইয়ার সাথে কথা বলতে পারলো না
নাচ শেষ করে যখন রুবাইয়া জানতে পারলো রকি এসেছে রুবাইয়া তখন খুব খুশি হয়ে রকির রুমে গেলো
– রকি ! মাই জান তুমি চলে এসেছো বলে রকিকে জড়িয়ে ধরলো
রকি রুবাইয়ার গলা চিপে ধরলো রাগে তার চোখ লাল হয়ে আছে
– বলো রুভাইয়া বলো কেন তুমি একটা নিশ্বপাপ মেয়েকে খুন করলে কেনো তুমি শিখাকে খুন করলে ?
– রকি ! প্লিজ ছারো আমাকে আহ আহ লাগছে !
– শিখা সেদিন রাতে আমার কাছে আসছে এটা আমি আর তুমি ছাড়া আর কেউ জানতো না , তুমি নিজেই আমাকে বলেছো যে তুমি ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে আমার আর শিখার সব কথা শুনেছো ! বলো রুবাইয়া বলো তুমি কেন শিখাকে খুন করেছো
– আমি কিছু করিনি রকি বিশ্বাস করো আমি কিছু করিনি
এমনি কে যেনো রকির খোলা দরজা দিয়ে পিস্তল দিয়ে একটা গুলি করলো আর সে গুলি রুবাইয়ার গায়ে লাগলো, রুবাইয়া রক্তাক্ত শরীরে রকির কোলে কাতরাতে লাগলো আর বললো , রকি তোমার কোলে একটু মাথা রাখবো এই আশা আমার কত দিনের আর আজ আমার এই আশা পুরণ হলো আজ আমি তোমার কোলে মাথা রাখার মূল্য দিলাম আমার জীবন দিয়ে আমি শুধু সেদিন দেখে ছিলাম ….কি যেন বলতে গিয়ে রুবাইয়া মারা গেলো ! রকি বলতে লাগলো রুবাইয়া রুবাইয়া তুমি সেদিন কি দেখে ছিলে রুবাইয়া ! কিন্তু রুবাইয়া মারা গেলো
এরি মধ্যে সিআইডি অফিসার এলো সাথে শ্রাবণ ও এলো রকির রুমে
সিআইডি অফিসার বললো , রকি তোমাকে আমি বলেছি যে তোমার জীবন এখন রিস্কের মধ্যে তুমি আমাকে কিছু না বলে কেন চলে এসেছো
তুমি কি মনে করো যে এই গুলিটা করেছে সে রুবাইয়াকে মারার জন্য গুলি করেছে ? না সে তোমাকে মেরে ফেলার জন্য গুলি করেছিল আর রুবাইয়া সে গুলিতে মারা গেছে !
তুমি কি ভাবছো শিখাকে রুবাইয়া খুন করেছে ? না ! যে শিখাকে খুন করেছে তার গুলিতেই এখন রুবাইয়া মারা গেছে !
শ্রাবণ রকিকে বললো রকি আমি আজিজ সাহেবের কাছে সব শুনেছি আমি তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম
যদি পারো আমাকে ক্ষমা করে দাও
রকি আনন্দ আর দুখের মিশ্র অনুভূতিতে কেঁদে দিলো আর শ্রাবণকে জরিয়ে ধরলো
সিআইডি অফিসার বললো রকি তুমি আসো আমার সাথে তোমাকে একটা জিনিস দেখানোর আছে
রকি, শ্রাবণ আর সিআইডি অফিসার চলে যাচ্ছে থানাতে, পিছনে এক জানালার ফাক দিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে শিখার সাথে যার এঙ্গেইজমেন্ট হয়ে ছিলো সেই নাজমুল !
থানাতে গিয়ে সিআইডি অফিসার বললো
শিখার খুনি কোনো মেয়ে মানুষ নয় তার খুনি একজন পুরুষ, আর একটা কথা মনে করে দেখতো রকি, তোমাকে শিখা কল করেছিলো কয়টার সময়
– রাত ১ টায়
– কিন্তু সে তোমার দরজায় যখন তোমাকে ডাকলো তখন কয়টা বাজে
– তখন রাত ২ টার মত কি তার চেয়ে একটু বেশি
– তাহলে ভাবো শিখার বাসা থেকে হোটেলে তোমার কাছে যেতে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট লাগার কথা কিন্তু শিখা এই ১ ঘন্টা কি করছে ? এত দেরি হল কেন জানো এ ব্যাপারে কিছু ?
– না স্যার , জানি না
– শিখা কিছু দূর আশার পরেই তার গাড়ির পেট্রোল শেষ হয়ে গেছিল, তাই সে পায়ে হেটে পাম্প এ গিয়ে পেট্রল কিনে আনে আর এই কারনে তোমার কাছে পৌছতে তার এক ঘন্টা লাগে , কিন্তু এই সময় টুকুর মধ্যেই কি কিছু আছে ? যাই হোক এই দেখ বলে সিআইডি অফিসার
একটা ড্রয়ার থেকে একটা ব্লেজারের বুতাম বের করে বললো
শিখাকে যে মেরেছে এটা তার ব্লেজারের বুতাম, শিখা ঐ ফিফথ ফ্লোর থেকে পরে যাওয়ার সময় ঐ খুনির ব্লেজার আঁকড়ে ধরেছিল আর তখন খুনির অজান্তেই ঐ বুতাম টা শিখার হাতে রয়ে যায়
এর মানে হল, যে খুনি সে কোন নারী নয় পুরুষ এবং খুব ধনি কেউ কারন এই বুতামটা বেশ দামী
রকি সাথে সাথে ওহ মাই গড বলে চেয়ারে বসে পরলো আর বলতে লাগলো আমি বুঝতে পেরেছি কে এই খুন করেছে আমি তো ভুলেই গেছিলাম সেই থার্টি ফাস্ট নাইটের সব কথা
শ্রাবণ আর সিআইডি অফিসার একসাথে বলে উঠলো কি কথা ?
রকি বললো, সেই রাতে যখন শিখা নাজমুল সাহেবকে জুতা দিয়ে পিটালো তখন নাজমুল সাহেব বলেছিলো আমি তোকে খুন করবো শিখা এই অপমানের মূল্য তোর জীবন দিয়ে দিতে হবে আর তার পরের রাতেই শিখা খুন হলো আর নাজমুল যথেষ্ঠ ধনি একজন মানুষ
৫।
পর দিন সকালে সিআইডি অফিসার ঐ হোটেলে গেলো নাজমুল এবং তার বাবাও সেখানে বসা আর এসব ঘটনার কথা শুনে শ্রাবনের বাবাও সেই হোটেলে এসেছে
সবাইকে একসাথে বসিয়ে সিআইডি অফিসার বললো, আচ্ছা নাজমুল সাহেব যেদিন শিখা খুন হয় সেদিন আপনি কোঁথায় ছিলেন
নাজমুল বললো , আমি থার্টি ফার্স্ট এর রাতের সে ঘটনার পর তখনই চট্টগ্রাম চলে আসি
সিআইডি অফিসার বললো না মিথ্যা কথা , আপনি তার পরের রাতেও এই হোটেলে ছিলেন এবং শিখা খুন হয়ার পরদিন খুব ভোরে আপনি চট্টগ্রামে চলে আসেন
– না আমি সেদিন হোটেলে ছিলাম না, আপনি হোটেলের চেক ইন এবং চেক আউট চেক করে দেখেন আমি ঐ দিন ই চলে আসি
তখন সিআইডি অফিসার, ঐ হোটেলের ম্যানেজারকে ডাকে আর ম্যানেজার বলে , সেদিনই নাজমুল স্যার চলে যেতেন এবং উনি চেক আউট ও করে ফেলেছিলেন, কিন্তু কিছুক্ষন পরে আবার ফিরে আসেন এবং বলে থাক এখন আর রেজিষ্টার করার দরকার নেই আমি তো কালকেই চলে যাবো তাই আমিও আর রেজিস্টার করিনি এবং স্যার আমাকে এ জন্য ২ হাজার টাকাও দিয়ে ছিলেন
নাজমুল তার মিথ্যায় ধরা পরে গেলো
নাজমুল বলতে লাগলো
– হ্যাঁ আমি সেদিন সেই হোটেলে ছিলাম, শিখাকে খুব ভালোবাসতাম তাই তার অপমানের পরেও তাকে ছেরে আসিনি, কিন্তু শিখা মারা যাওয়াতে আমি ভয় পেয়ে যাই কারন আমি সবার সামনে তাকে খুন করার হুমকি দিয়ে ছিলাম, রাগের মাথায় মানুষ কত কিছুই বলে ফেলে! তাই আমি হোটেলের ম্যানেজারকে টাকা দিয়ে ঐ রাতে আমার থাকার ব্যাপারটা রেজিস্টার না করাতে রাজি করি !
কিন্তু আমি শিখাকে খুন করিনি ইনফেক্ট শিখা খুন হয়েছে এটাই আমি এখন জানলাম , আমি তো ভেবেছিলাম সে রকির প্রেমে প্রত্যাখ্যান হয়ে আত্নহত্যাই করেছে !
সিআইডি অফিসার, নাজমুলের কথা বিশ্বাস করলো এবং তাকে অ্যারেস্ট করলো না
রকি শ্রাবণকে নিয়ে তার রুমে গেলো, আর শ্রাবণকে বললো
– শ্রাবণ তোমার বোন শিখা আমাকে ভালনাসতো কিন্তু এখানে আমার কিছু করার ছিলো না আমি ছেলে মানুষ পছন্দ করি, আমি একজন সমপ্রেমী তাই শিখার ভালবাসা বা রুবাইয়ার ভালোবাসা গ্রহন করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলো না ! আমি নিজেকে খুব অপরাধি ভাবতাম যে আমার কারনেই শিখা মারা গেল, কিন্তু এখন নিজেকে অপরাধ মুক্ত লাগছে
– আমিও খুব অপরাধি রকি আমি তোমাকে ভুল বুঝে দোষ দিয়ে ছিলাম
সেদিন রাতে শ্রাবনের বাবা থাকাতে শ্রাবণ রকির রুমে ঘুমায়নি আর রকি তার রুমে একা
হঠাৎ, রকির দরজায় ঠক ঠক শব্দ, রকি তার রুমের দরজা খুলার সাথে সাথে একজন মহিলা মাথায় স্ক্রাফ পরা তার রুমে ঢুকলো আর বললো
– শিখার আসল খুনিকে ধরতে চান তাহলে এখনই আমার গাড়ী নিয়ে সামনের শাল বনের রিসোর্ট এ চলে যান সেখানে দুজন মানুষ প্ল্যান করছে আজ রাতে তারা আপনাকে খুন করবে
– আমাকে খুন করবে ! কিন্তু কেন তারা আমাকে খুন করতে চায় ?
– সেটা সেখানে গেলেই জানতে পারবেন
– কিন্তু আপনি কে ? আর আপনি এসব জানতে পারলেন কি করে ? আর আমাকেই বাচাতে চান কেন ?
– এত প্রশ্নের উত্তর এখন জানতে পারবেন না, আগে নিজে বাচুন তারপর সব জানতে পারবেন, এই নিন আমার গাড়ির চাবি আমার গাড়ী নিয়ে এখনই চলে চান সামনের শাল বনের রিসোর্টে
– ঠিক আছে আমি যাচ্ছি তবে এখানে যদি কোন মিথ্যা পাই তাহলে আপনাকেও আমি ছাড়বোনা আর আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত আপনি আমার রুমে বন্দি থাকবেন, এই কথা বলে রকি এই মহিলাকে তার রুমে লক করে রুমের চাবি নিয়ে চলে আসে !
রকি ঐ মহিলার গাড়ী নিয়ে রউনা দেয়, কিন্তু রকি চলে যাওয়ার সাথে সাথেই ঐ মহিলা খুব সহজেই রকির রুমের লক খুলে বেরিয়ে আসে

৬।
রকি কিছু দূর যেতেই বুঝতে পারলো এটা একটা মৃত্যু ফাঁদ, গাড়ির ব্রেইক ফেইল
সে খুব চেষ্টা করতে থাকলো কিন্তু কিছুতেই গাড়ী নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না, সে গাড়ী চালাতে চালাতে বহুদুর চলে গেল কিন্তু গাড়ী থামাতে পারছে না
হঠাৎ রকি দেখতে পেলো রাস্তায় শরিফ সাহেব গাড়ী নিয়ে এদিকেই আসছে শরিফ সাহেবকে দেখেই রকি বাবা বলে ডেকে উঠলো, শরিফ সাহেব রকিকে দেখে তার গাড়ির পিছু নিলো এবং কিছু দূর গিয়ে রকি তার গাড়ী একটা গাছে লাগিয়ে দিলো , রকির মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে সাথে সাথে শরিফ সাহেব রকিকে সেই গাড়ী থেকে বের করে তার নিজের গাড়িতে উঠালো এবং রকিকে শরিফ সাহেবের নিজের বাড়িতে নিয়ে এলো
সরিফ সাহেব রকির ফার্ষ্ট এইড করলো, তার গায়ের রক্তাক্ত এবং ছিড়ে যাওয়া কাপর পালটে উনার কাপর পরিয়ে দিলো আর কি কি হয়েছে সব শুনলো রকির মুখে আর বললো
– রকি তুমি এখন খুব বিপদে আছো এখন তুমি আর ঐ হোটেলে ফিরে যাবে না, যেকোন সময় তোমার উপর হামলা হতে পারে, তুমি আমার বাড়িতেই থাকো আমি যাচ্ছি হোটেলে সেই মহিলাকে ধরে পোলিশের কাছে দিলেই সব সত্য বেরিয়ে আসবে ! এখন প্রথমে আমি থানায় গিয়ে পোলিশ নিয়ে হোটেলে যাবো
এ কথা বলে শরিফ সাহেব বেরিয়ে গেলো, রকি একা শোয়ে আছে সরিফ সাহেবের বাসায়
রকি মনে মনে ভাবছে
খুব শীত পরেছে যাক বাবা একটা মোটা কাপর পরিয়েছে আমাকে, তা না হলে এই শীতে মরেই যেতাম
ভাবতে ভাবতে সে বিছানা থেকে নামতে গিয়ে হঠাৎ সামনের ড্রেসিং টেবিলের আয়নাতে তার চোখ পরলো আয়নাতে রকি নিজেকে খুব অবাক হয়ে দেখতে থাকলো আর তার চোখে মুখে ভয় জেগে উঠলো
রকি দেখলো তার গায়ে যে পোশাক টা পরানো এটা একটা ব্লেজার আর এই ব্লেজারের উপরের ৫ নাম্বার বুতাম টা নেই আর বাকি চারটা বুতাম সেই বুতাম যেটা সে সিআইডি অফিসার এর কাছে দেখে ছিলো !
রকি বুঝতে পারলো সরিফ সাহেব তারাহুরোর মধ্যে কখনযে এই ব্লেজারটাই রকিকে পরিয়েছে সেটা সে খেয়াল করেনি
রকির পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেলো , নাহ নাহ এ হতে পারে না এ কি করে সম্ভব আর কেন ই বা বাবা শিখাকে খুন করবে এসব ভাবছে ঠিক তখনই হঠাৎ সরিফ সাহেবের বাসার কারেন্ট চলে গেলো আর রকি টের পাচ্ছে কেউ একজন তার রুমের দিকে এগিয়ে আসছে!
৭।
অন্ধকার রুম হঠাৎ দরজা টা খুলে গেল, রুমের ভেতরে সরিফ সাহেব ঢুকলো হাতে একটা পিস্তল আর সেই মহিলা যে মহিলাকে রকি তার রুমে লক করে রেখে এসেছিল, যে মহিলা রকিকে তার গাড়ী দিয়ে পাঠিয়ে ছিল
সরিফ সাহেব রুমের কোথাও রকিকে খুজে পেলো না ! সরিফ সাহেব তার বাড়ির মেইন সুইচ অন করলো আর তার রুমের জানালায় গিয়ে দেখতে পেলো বিছানার চাদর আর জানালার পর্দা দিয়ে ২য় তলা থেকে রকি নেমে গেছে
রকি পালিয়েছে ? মহিলা জিজ্ঞেস করল
– হ্যাঁ সে পালিয়েছে, তুমি এখানেই থাকো নিশ্চই সে বেশি দূর যেতে পারেনি আমি গাড়ী নিয়ে যাচ্ছি তাকে সহজেই পেয়ে যাবো, তাকে পোলিশের কাছে যাওয়ার আগেই শেষ করে ফেলতে হবে !
সরিফ সাহেব তার গাড়ী নিয়ে চলে গেল
মহিলা সেই রুমেই বসে আছে, হঠাৎ রকি সে রুমে আসলো, মহিলা রকিকে দেখে চিৎকার করে উঠলো
রকি মহিলার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে বললো
বল শিখাকে কেন সরিফ খুন করেছে আর তুই এর সাথে কিভাবে জরিত সব সত্যি বল তানা হলে তোকে এখনই মেরে ফেলবো
– বলছি বলছি আমি সব বলছি আমাকে মেরোনা আমি মারা গেলে আমার ছোট ছোট বাচ্চা গুলোর আর কেউ থাকবে না
রকি তখন সিআইডি অফিসারকে ফোন করলো আর বললো স্যার এখন শুনুন আসল খুনির সব স্বীকারোক্তি, শিখার আসল খুনি সরিফ, আমি এখন সরিফ এর বাড়িতে
মহিলা সব খুলে বলছে ঃ-
আমি ২ বছর আগে নতুন চাকরি নিয়ে সরিফ এর হোটেলে আসি, সরিফের সাথে আমার অবৈধ সম্পর্ক হয়ে যায়, আমিও আমার বাচ্চাদের মানুষ করতে নিয়মিত সরিফের সাথে তার ইচ্ছামত সংগ দেই
গত বছর আমাকে সরিফের সাথে এক বিছানায় দেখে ফেলে সরিফের বউ আর তখন সরিফের বউয়ের সাথে সরিফের ঝগড়া হয় সরিফের বউ তার পিস্তল দিয়ে আমাকে গুলি করতে নেয় সরিফ তার বউয়ের সাথে পিস্তল নিয়ে টানা হেঁচড়া করার সময় অ্যাক্সিডেন্টলি সরিফের বউ গুলি বিদ্ধ হয়ে মারা যায় ! সরিফ আর আমি ভয় পেয়ে যাই, তাই আমরা সরিফের বউ এর লাশ সেই রাতেই মাটি চাপা দিতে গভির জঙ্গলে নিয়ে যাই
সরিফ মাটি কুপাচ্ছে আর আমি পাশে দারিয়ে আছি সেদিন ছিলো চাঁদনী রাত চার দিকে ধব ধবে চাদের আলো !
শিখা তার গাড়িতে পেট্রল ঢালার সময় হঠাৎ মাটি কুপানোর শব্দ শুনতে পেয়ে জঙ্গলের ভেতরে চলে আসে শিখা সেই লাশ মাটি চাপা দিতে আমাদের দেখে ফেলে ! শিখার হাত থেকে পেট্রোলের জারটা পরে যায় আমরা শিখাকে দেখে ফেলি শিখা দৌড়ে গিয়ে তার গাড়ী ষ্টার্ট দেয় এবং দ্রুত চলে যেতে থাকে
শিখার গাড়ির পেছনে শিখাকে ধাওয়া করে শরিফও গাড়ী চালাতে থাকে।
শিখা গাড়ী নিয়ে সরাসরি হোটেলের ফিফথ ফ্লোরে তোমার কাছে চলে যায় পিছন পিছন আমি আর শরিফও যাই
শিখা তোমাকে রকি রকি বলে ডাকতে থাকে কিন্তু মাত্র ২ বার ডাকার সাথে সাথেই সরিফ শিখার মুখ চেপে ধরে আর শিখাকে ঐ ফিফথ ফ্লোর থেকে নিচে ফেলে দেয়
আমরা যখন ঐ ফিফথ ফ্লোর থেকে নিচে নেমে চলে আসছিলাম তখন রুবাইয়া আমাদের দেখে ফেলে কিন্তু রুবাইয়া আমাদের পেছন টা শুধু দেখে কিন্তু আমাদের চিনতে পারেনি ।
হঠাৎ একটা গুলি এসে এই মহিলার গায়ে লাগে, রকি সামনে তাকিয়ে দেখে সরিফ পিস্তল হাতে সামনে দারিয়ে আছে !
এই মহিলা রকির কোলে রক্তাক্ত অবস্থায় রকিকে জরিয়ে ধরে আর বলে আমার স্বামী নেই আমার সন্তান দুটকে তুমিইই দেখো ভাই তাদের দেখার মত কেউ নাই এই পৃথিবিতে এই কথা বলতে বলতে মহিলা মারা যায়!
সরিফ সাহেব রকিকে পিস্তল হাতে বললো
আমি খুনি নই রকি যা হয়েছে সব দুর্ঘটনা ক্রমে হয়েছে আর সেই ঘটনাটাকে লুকাতে আমি অনেক অপরাধ করছি তোকে আমি আমার সন্তানের মত ভালবাসতাম কিন্তু সেই তোকেও আমি খুন করতে ছেয়েছিলাম ! এত ঘৃণ্য জীবন নিয়ে আমি আরা বাচতে চাইনা
এরি মধ্যে শ্রাবণ তার বাবা আর সিআইডি অফিসার চলে আসে
সরিফ সাহেব সবার কাছে সব দোষ স্বিকার করে আর বলে, আমার স্ত্রী, শিখা , রুবাইয়া আর এই খুনটাও আমিই করেছি, আমার সবকিছু আমি রকিকে দিয়ে গেলাম
রকির এ পৃথিবীতে কেউ ছিলো না এখন শ্রাবণ আছে, আমি সব জানি রকি তুমি আর শ্রাবণ তোমরা দুজনেই সমপ্রেমী তোমাদের দুজনের সব কথা আমি শুনতাম কারন রকির রুমে আমি একটা মাইক্রো ফোন লাগিয়ে রেখে ছিলাম !
সিআইডি অফিসার বললো, ঠিক আছে আপনি সব দোষ স্বিকার করে নিয়েছেন এতে আমরা খুশি কিন্তু আপনাকে এখন আমার সাথে থানায় যেতে হবে
– না অফিসার আমি আমার এই মুখ আর কাউকে দেখাতে পারবো না এত গুলো মানুষের জীবন আমি কেরে নিয়েছি এই অপরাধ বোধ আর কষ্ট আমি বেচে থেকে সইতে পারবো না এ কথা বলে সরিফ সাহেব তার হাতের পিস্তল্টা তার বুকের বাম পাশে ঠেকায়
রকি বাবা বলে সরিফ সাহেবের দিকে দৌড়ে এগিয়ে আসে কিন্তু ততখনে সরিফ সাহেব তার বুকে গুলি চালিয়ে দেয় আর রকির কোলে এলিয়ে পরে
রকি কাদছে আর বলছে বাবা, আমি জানতাম তুমি যত যাই করে থাকোনা কেন সব অপরাধ বোধের অস্বাভাবিক অবস্থায় করেছো, বাবা আমার এই কোলে আর কত মৃত্যু আমাকে দেখতে হবে
আমাকে ভালোবাসে এমন মানুষগুলো কেন আমার কোলেই মরে যায়, আমি পারবো না তোমার মৃত্যু সইতে
রকির কোলে সরিফ সাহেব মারাযায় ।
এখন রকি আর শ্রাবণ গাজীপুরের জয়দেপপুরেই থাকে সরিফ সাহেবের হোটেল এর সব দায় দায়িত্ব এখন রকি আর শ্রাবণের ।সেই মহিলার দুই ছেলেকে তারা তাদের দায়িত্বে লালন পালন করছে । সিআইডি অফিসার একদিন তাদের হোটেলে এসে রকি আর শ্রাবণকে বলে , শুনোন আপনারা এমন কোন দেশে চলে যান যেখানে আপনাদের এই প্রেম বৈধতা পাবে
শ্রাবণ বললো, আজিজ সাহেব প্রেম ভালোবাসায় কি দেশের বৈধতা লাগবে ? আমাদের ভালোবাসা কোন কাগজের উপর নির্ভর করবে না !
ভালোবাসা তো ভালোবাসাই ভালোবাসার জন্য কোন ডকুমেন্ট এর প্রয়োজন বোধ করে না কোন প্রেমিক ! 


Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.