যত প্রেম, ততজ্বালা

লেখকঃ এনজেল তারেক

মেঘনা নদীর পারে একটি গ্রাম নাম তার মধুপুর,এই গ্রামের মানুষ গুলো অত্যান্ত সহজসরল গ্রামের অধিকাংশ মানুষেই কৃষি নির্ভরশীল,তাই গ্রামে দুই চারটা উচ্চ শিক্ষিত মানুষ খুজে বের করা বড় কষ্টকর! গ্রামজুরে রয়েছে বিশাল বিশাল ফসলাদী জমী ও আম,কাঠাল, কলা,জামও লিচু সহ নানান সব ফল গাছের বাগান,গ্রামের অধিকাংশ মানুষেরই পেশা কৃষি কাজ, আর এই গরীব কৃষকরা মাটির ও বাশের তৈরী ঘর বাড়িতে বসবাস করেন! গ্রামের পাশেই মেঘনা নদী তাই ঐ গ্রামে মাঝি ও জেলেরা ও বসবাস করেন, মেঘনা নদীর পানি দিয়েই চলে গ্রামের মানুষের জীবন যখন গ্রামের ছোট ছোট শিশু কিশোর রা সারিবেধে নদীতে গোসল করে সাতার কাটে ও গ্রাম বধুরা নদী থেকে পানি নিয়ে কলশি কাকে গ্রামের পথ ধরে হেটে যায় এসব দৃশ্যগুলো মনমুগ্ধকর এক রুপ দেয়। মেঘনা নদীর সাথেই রয়েছে অনেক পুরানো একটি মাজার এবং মাজারের পিছনেই রয়েছে বিশাল এক বটগাছ আর এই বটগাছ কে ঘিরে রয়েছে অনেক জ্বিন ভূতের কল্পকাহিনী, গ্রামের মানুষ সন্ধ্যার পর ঐ বটগাছের পাশ দিয়ে একা হেটে যেতে ভয় পায়, কারন তাদের বিশ্বাস সন্ধ্যার পরেই বটগাছে জ্বিন ভূতের আনাগোনা শুরু হয় এমন কি গ্রামের অনেক মেয়ে ও বউদের কে মাঝে মাঝেই জ্বিন ভূতে ভর করে ঐ গাছ থেকে! সারা গ্রাম জুরে রয়েছে একটিমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় এই বিদ্যালয়ের নেই কোন ইটের তৈরী ভবন ভাঙ্গাচুরা একটি টিনের ভবন রয়েছে তাতে কয়েকটি ছোট ছোট কক্ষ রয়েছে, এখানেই গ্রামের কয়েক শতাধিক শিশুদের লেখাপড়ার কার্যক্রম চলে। বর্ষায় বৃষ্টির পানি টিনের চালা দিয়ে পানি গরিয়ে পরে ভিজে যায় শিক্ষার্থীরা ভিজে যায় তাদের বই খাতা
এই বিদ্যালয়েরই তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র তৌসিপ বয়স ৮ বছর খুব মায়াবী ও নম্র প্রকৃতির ছেলে তৌসিপ, তার বাবা গ্রামের ডাকঘরের ডাকমাষ্টার তৌসিপ তার বাবা মায়ের একমাত্র আদরের ছেলে এছারাও তার আরও দুটি বোন রয়েছে বোনেরা তার বড় তাদের বিয়ে হয়েছে শহরে থাকেন তারা, তৌসিপ মেধাবী একজন ছাত্র তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে অনেক আদর করেন অনেক ভালোবাসেন,তৌসিপ সবসময় শ্রেনীকক্ষে সবার আগে প্রবেশ করেন এবং বেঞ্চের প্রথম সারির প্রথম বেঞ্চে বসেন এবং এই বেঞ্চটাতে আর কেউ বসতে পারে না কারন তৌসিপের আগে কেউ বিদ্যালয়েই আসতে পারে না,
একদিন সকালে অসুস্থতার কারনে তার বিদ্যালয়ে আসতে দেরি হয়ে যায় আর তার প্রিয়বেঞ্চে বসে পরে অন্য একটি ছেলে তার নাম রানা, তৌসিপ বিদ্যালয়ে এসে যখন দেখে তার বেঞ্চে রানা বসে আছে, তখন তৌসিপ রানাকে বেঞ্চ ছেরে যেতে বলে রানা তার কথা শুনো না তখন তৌসিপ রেগে যায় এবং দুজনের মধ্যে তুমুল মারামারি শুরু হয় তারপর শ্রেনীতে শিক্ষক এসে রানাকে সরিয়ে দিয়ে তৌসিপ কে তার বেঞ্চে বসতে দেয় কারন তৌসিপ মেধাবী ছাত্র শিক্ষকদে ঠিকভাবে পড়া দেয়। সেই থেকে রানা তৌসিপের সবচেয়ে বড় শত্রু, ওরা দুজন দুজনের ছায়াও পারায় না রানার গ্রামের বখাটে ছেলেদের সাথে চলাফেরা যখন তৌসিপকে রানা রাস্তায় একা পায় তখনি নানান কটু কথা বলে।তবে তৌসিপ তেমন কোনো বারাবারি করে না কারন তাতে ঝগড়া হবে তাই, তৌসিপ অনেক শান্তশিষ্ট একটি ছেলে মারামারি ঝগড়াঝাটি তার ভালোলাগে না, সে একাকি থাকতে পছন্দ করে তাই গ্রামে তার তেমন কোন বন্ধু নেই তবে গ্রামবাসীরা ছোট বড় সবাই তাকে অনেক ভালোবাসে কারন তৌসিপের ব্যবহার খুবই সুন্দর।
একদিন তৌসিপ বিদ্যালয়ের পুকুরের পারে একা দারিয়ে থাকে আর পানিতে তার প্রতিচ্ছবি দেখে দেখে নিজের ছবি অংকন করছে, এরি মাঝে রানা তৌসিপ কে দেখতে পায় আর রানার মনে দুষ্ট বুদ্ধির উদ্ভব হয় রানা আস্তে গিয়ে তৌসিপের পিছনে দারায় এবং তাকে ধাক্কা মেরে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয় তৌসিপ পানিতে পরে আতঙ্ক হয়ে যায় তৌসিপের জামাকাপর সবকিছু ভিজে যায়! তৌসিপ পিছন ফিরে দেখে রানা তাকে ফেলে দিয়ে জোরে জোরে হাসছে! তৌসিপ পানি থেকে উপরে উঠে আসে এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে কেঁদে কেঁদে বিচার দেন, আর রানা দৌরে পালিয়ে যায় । তৌসিপ আর রানা দুজনেই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনী পাশ করে চতুর্থ শ্রেনীতে ওঠে কিন্তু তাদের মধ্যে শত্রুতা থেকেই যায়, একদিন বিদ্যালয়ের টিফিনের বিরতির সময় তৌসিপ টিফিন কক্ষে প্রবেশ করতেই দেখে কেউ একজন অসুস্থ হয়ে বেঞ্চের উপর শুয়ে শুয়ে কাঁদছে আর তার শরীরটা কাপছে,তৌসিপ দৌড়ে তারকাছে যায় এবং তার মাথার কাছে গিয়ে দেখে সে আর কেউ না তার চিরশত্রু রানাই অসুস্থ হয়ে পরে আছে!! তৌসিপ সব দ্বিধা দন্দ ভুলে গিয়ে রানাকে ধরে উঠিয়ে বসায় আর বলে তোর কি হয়েছে রানা বল আমাকে?
এ কথা বলতেই তৌসিপ অনুভব করল রানার শরীর অনেক গরম তৌসিপ রানার মাথায় হাত দিয়ে বলে রানা তোরতো অনেক জ্বর হয়েছে ভাই চল চল তোকে বাড়ি পৌছে দেই একথা বলে তৌসিপ রানাকে ধরে ধরে তার বাড়ি নিয়ে যায় এবং শুইয়ে দিয়ে আসে। তৌসিপ তার বাড়ি চলে যায়, সেদিন রাতে তৌসিপ রানার কথা অনেক কল্পনা করে ইস ছেলেটার কি জ্বর হয়েছে কেজানে জ্বর কমলো কি না, এ সব ভাবতে ভাবতে তৌসিপ ঘুমিয়ে পরে এবং ঘুমের মধ্য সে রানাকে স্বপ্নে দেখে। পড়ের দিন সকালে তৌসিপ স্কুলে যায় কিন্তু রানা সেদিন স্কুলে আসেনি!
তৌসিপ মনে মনে ভাবে আজও মনে হয় রানার জ্বর কমেনি! যাই ওর বাড়িতে ওকে দেখে আসি এবলে তৌসিপ রানার বাড়িতে যায় রানার বাড়িতে ডুকতেই দেখে রানার মা বাড়ির উঠান ঝাড়ু দিচ্ছে, তৌসিপ রানার মা কে জিগ্যেস করে কাকিমা রানার শরীর এখন কেমন? রানার মা বলে তৌসিপ বাবা তুমি আসছো?? দেখো বাবা কাল থেকে এত জ্বর রানার কিছুতেই কমছে না! তুমি কাল রানাকে বাড়ি পৌছে না দিলে কি যে হতো! যাও বাবা রানার কাছে যাও ও ঘরে বিছানায় সুয়ে আছে., তৌসিপ রানার কাছে যায় এবং তার বিছানার পাশে বসে তৌসিপ রানার মাথায় হাত রেখে দেকে প্রচুর জ্বর রানার শরীরে, তৌসিপ রানার মাথায় হাত রাখতেই রানা চোখ মেলে তাকায়, আর তাকিয়ে তৌসিপ কে দেখে রানা কিছুটা অভাগ হয়! রানা বলে তৌসিপ তুমি এসছো একথা বলেই রানা উঠে বসতে চেষ্টা করে, তৌসিপ বলে না না না রানা তুমি শুয়ে থাকো,একথা বলে তৌসিপ বাহির থেকে এক বালথি পানি নিয়ে যায় এবং রানার মাথায় পানি ঢালতে থাকে,
রানার মা ঘড়ে আসে এবং রানাকে খাবার খাওয়াতে চেষ্টা করে কিন্তু রানা কিছুতেই খাবার মুখে নিতে চাচ্ছে না! তৌসিপ রানার মা কে বলে কাকিমা আপনি যান কাজ করেন আমি রানাকে খাওয়ে দিচ্ছি, তারপর তৌসিপ খাবার হাতে নিয়ে রানাকে একটু একটু করে খাওয়ে দেয় এবং ঔষধ খাওয়ে দেয় এভাবে তৌসিপ সারাদিন রানাদের বাড়িতে বসে রানার সেবা যত্ন করছে, ওদিকে স্কুলের কথা ও বাড়ি ফেরার কথা তার মাথায়ই নেই, ওদিকে স্কুল ছুটি হয়ে গেছে সে এখনো বাড়ি ফেরেনি তৌসিপের মা চিন্তিত হয়ে পড়ে ছেলেটা এখনো বাড়ি ফিরছে না কেন? এদিকে তৌসিপের সেবা যত্নে রানা অনেকটাই সুস্থ! রানার মা তৌসিপ কে বলে বাবা অনেক বেলা হয়েছে তুমি এবার বাড়ি যাও,তোমার বাড়ির মানুষ চিন্তা করবে,, তৌসিপ রানাকে বলে রানা তুমি ঠিক ভাবে খেয়ে দেয়ে ঔষধ খাবে কিন্তু কালকে যাতে তোকে স্কুলে দেখতে পাই? বলে গেলাম কেমন? রানা মাথা নারিয়ে বলে হুম
তৌসিপ বাড়ি ফিরে যায় এবং বাড়ি যেতেই দেখে তার মা না খেয়ে বসে আছে তার জন্য চিন্তা করছে! তৌসিপ গেলেই তার মা তাকে জোরে একটা থাপ্পর দেয়, তৌসিপ হাসি দেয় আর ওর মাকে জরিয়ে ধরে একট পাপ্পি খায়, আর তার মা কে বলে মা আমার জন্য চিন্তা করো না! তরপর তৌসিপ তার মা কে সব কিছু খুলে বলে। তৌসিপের মুখে এসব কথা শুনে তৌসিপের মা মনে মনে ছেলেকে নিয়ে গর্ভবোধ করেন। সেদিন রাতে রানার শরীর সম্পূর্ণ ভাবে ভালো হয়ে যায়, রানা সারারাত ধরে কল্পনা করে যার সাথে আমার এত দন্ধ সে আমার জন্য এতকিছু করলো এতকিছু ভাবলো? আামার তৌসিপের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত! সেদিন কিছুতেই রানার রাত কাটছিলো না কখন সকাল হবে আর রানা কখন স্কুলে যাবে! অবশেষে সকাল হলো খুব ভোরেই রানা প্রস্তুত হয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য রওনা হতে লাগলো, রানার মা রানাকে ডেকে বলে আজ তোর স্কুলে যেতে হবে না কেবল জ্বর থেকে সুস্থ হয়ে উঠলি, আজ বাড়িতে বিশ্রাম নে, কিন্তু রানা তার মায়ের কথা শুনলো না সে স্কুলে চলে গেল। খুব সকাল তখন কেউ স্কুলে আসেনি স্কুলের কক্ষ গুলোও খুলে দেওয়া হয় নি! রানা স্কুলের বারান্দায় বসে তৌসিপের জন্য অপেক্ষা করছে, কখন তৌসিপ স্কুলে আসবে ভাবতেই কিছুক্ষন পর তৌসিপ স্কুলে আসলো, তৌসিপ রানাকে দেখে অবাগ হয়ে গেল রানা তুমি!! আজ শরীর টা কেমন তোমার? আজ বাড়িতে শুয়ে বিশ্রাম নিতে স্কুলে আসতে গেলে কেন? এ কথা বলতেই রানা তৌসিপ কে জরিয়ে ধরে কেঁদে ফেলল!আমাকে তুই ক্ষমা করে দে তৌসিপ আমি তোর সাতে কত অন্যায় করেছি তোকে কত বাজে কথা বলেছি! কিন্তু আমি এখন বুজতে পারছি তুই হলি আমার প্রকৃত বন্ধু!
তৌসিপ রানাকে বলে রানা তুমও এসব কি বলছো? সেসব কথা আমি কবেই ভূলে গেছি তোমাকে আর ক্ষমা চাইতে হবে না, তুমি আর আমি এখন অনেক ভালো বন্ধু,, ছাড়ো আমাকে এখন সবাই চলে আসবে। দুজনে স্কুলের বারান্দায় বসে গল্প করলো কতক্ষণ, এরপর স্কুল কক্ষ খুলে দেওয়া হলে ওরা দুজন ক্লাসে ডুকে। এরপর থেকে রানা ও তৌসিপ প্রতিদিনই স্কুলের ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই স্কুলে আসে এবং দুজন মনের সুখে গল্প করে, একজনের স্কুলে আসতে দেরি হলে অন্যজন বসে তার জন্য অপেক্ষা করে। একদিন রানা ও তৌসিপ দুজনেই স্কুলের মাঠে খেলছিলো তৌসিপ হঠাৎ পরে যায় ও হাতে অনেক জোরে আঘাত পায়, তৌসিপ কে পরে যেতে দেখে রানা খুব ভয় পেয়ে যায় খুব জোরে তৌসিপ তৌসিপ বলে চিৎকার করে ওঠে। রানার চিৎকার শুনে স্কুলের শিক্ষক সহ সকলেই আতঙ্ক হয়ে ওঠে এবং তারা দৌরে তৌসিপের কাছে আসে তৌসিপ কে ধরে কোলে কোরে ক্লাস রুমে নিয়ে যাওয়া হয়,আর রানা খুব কান্না করতে থাকে তৌসিপের এ অবস্থা দেখে!! সেদিন রানা তৌসিপ কে তার বাড়ি নিয়ে যায়, সারাদিন তার পাশে থেকে তাকে যত্ন করে!! এভাবেই রানা তৌসিপের বন্ধুত্ব গভীর হতে থাকে, কেউ কাউকে একদিন না দেখে থাকতেই পারেনা। ওরা দুজন মাঝে মাঝেই মেঘনা নদীতে নৌকা ভ্রোমনে যায়, কারন তৌসিপের নৌকা ভ্রোমন করতে খুব ভালো লাগে।রানা সবসময় তৌসিপের সব ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয় এবং তার সব ইচ্ছা পুর্ন করার চেষ্টা করে। রানার এ বন্ধুত্ব এই ভালোবাসা দেখে তৌসিপ দিন দিন মুগ্ধ হতে লাগলো
তৌসিপ একজন সমপ্রেমী সে মনে মনে রানাকে ভালোবেসে ফেললো!! যত দিন যায় তৌসিপ ততই রানার প্রেমে মগ্ন হয়ে যাচ্ছে,,রানাকে অনেক ভালোবাসে তৌসিপ, কিন্তু একথা সে রানাকে বলতে পারে না! ভয় হয় তৌসিপের রানাকে হারানোর ভয়!! রানা আর তৌসিপ দুজনেই প্রাইমারি স্কুল পাশ করেছে, তারা পাশের গ্রামে একটি হাই স্কুলে ভর্তি হয় কারন তাদের গ্রামে কোন হাইস্কুল নেই। প্রতিদিন তাদের পায়ে হেটে স্কুলে যেতে হয়। রানার ভাই রানাকে একটি বাইসাইকেল কিনে দেয়, রানা প্রতিদিন তার সাইকেলের পিছনে বসিয়ে তৌসিপ কে স্কুসে নিয়ে যায় এবং নিয়ে আসে। তৌসিপের বাবা মা রানাকে খুব ভালোবাসে খুব ভরসা করে, তেমনি রানার পরিবার ও তৌসিপ কে অনেকটা স্নেহ করে কখনোই রানাকে আর তৌসিপকে আলাদা চোখে দেখে না। রানা আর তৌসিপ সবসময় একসাথে স্কুলে যায়, একসাথে ক্লাসরুমে বসে, এবং একসাথেই সারাক্ষন সময় কাটায়, তাদের এভাবে একসাথে চলতে দেখে অনেকেই মনে করে ওরা দুজন আপন দুই ভাই। যখন তারা জানতে পারে ওরা ভাই না তখন সবাই অভাগ হয়!
কারন আপন ভাই না হয়েও দুটি ছেলের মধ্যে এতটা মিল এতটা সম্পর্ক হতে পারে?!! একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে দুজনে দেখতে পায় মেঘনা নদীর পারে একটি নৌকা বাধা আছে,ওমনি তৌসিপ দৌর দিয়ে নৌকায় গিয় বসে, রানাও তার পিছনে পিছনে যায় এবং নৌকায় গিয়ে বসে, রানা নৌকার ছাউনির ভিতরে গিয়ে হেলান দিয়ে বসে,ওমনি তৌসিপ রানান কোলের মধ্যে মাথা রেখে শুয়ে পরে। তৌসিপ রানার হাত দুটো খুব শক্ত করে ধরে বলে রানা তুমি কি আমাকে ভালোভাসো? রানা বলে তৌসিপ সে কথা কি তোমাকে বুঝিয়ে বলতে হবে? তৌসিপ বলে বলোনা রানা তুমি আমাকে ভালোবাসো কি না?? রানা বলে তৌসিপ তুমি আমার জীবনের একটা অংশ তোমাকে যে আমি কতটা ভালোবাসি তা আমি নিজেও কল্পনা করতে পারি না, রানার মুখে এসব কথা শুনে তৌসিপ স্বস্তিতে নিঃশ্বাস ফেলে, তৌসিপ রানার কোল থেকে উঠে বসে এবং রানার পাশে হেলান দিয়ে বসে তখন রানা তৌসিপের কোলের মধ্যে শোয়, তৌসিপ রানার মাথা বুলিয়ে দেয় তৌসিপ রানা কে বলে রানা তোমার কুলে শুইলে আমার মনে হয় আমি এত এত এত শান্তির যায়গায় আছি। এভাবে তারা অনেকক্ষ

অনেকক্ষন গল্প করতে থাকে নৌকায় বসে, সেদিন স্কুলের সময় টা তারা নৌকায় বসেই কাটিয়ে দেয় ভুলে যায় স্কুলে যাওয়ার কথা,,,সেদিন স্কুল থেকে তাদের বাড়িতে বিচার যায় তারা স্কুলে যায় নি বলে!! বাড়িতে গেলে তৌসিপ কে তার বাবা অনেক মার দেয়,এবং রানা কে তার বড় ভাই অনেক মার দেয়!! একদিন তৌসিপের বাবা-মা শহরে তার বড় বোনের বাসায় বেরাতে যায়, সামনে তৌসিপের পরীক্ষা তাই তৌসিপ কে তাদের সাথে নিয়ে যেতে পারবে না। তৌসিপ বাড়িতে একা থাকতে ভয় পায় তাই তৌসিপের মা রানা কে ডেকে বলেন, রানা বাবা আমরাতো আজ ঢাকায় যাচ্ছি আমরা না আসা পর্যন্ত, তুমি আমাদের বাড়ি তৌসিপের কাছে থেকো। তৌসিপের বাবা মা ঢাকায় চলে গেল সেদিন তৌসিপ আর রানা একসাতে তৌসিপদের বাড়িতে থাকে, রাতে তৌসিপ নিজের হাতে রান্না করে এবং রানাকে খেতে দেয়, তখন রানা তৌসিপ কে মজা করে বলে আহা যেভাবে খাবার দিলে মনে হলো আমার বৌ আমাকে খাবার বেরে দিচ্ছে, রানার মুখে এমন কথা শুনে তৌসিপ নিজের মনে সাহস পায়, তৌসিপ মনে মনে ভাবে আজ যে করেই হোক আজ আমি রানাকে আমার মনের কথা জানাবো!
রাতে খেয়ে দেয়ে দুজনে শুয়ে পরে তৌসিপ তার মাথাটা রাখে রানার বুকের ওপরে, তৌসিপ বলে রানা আমি তোমার বুকের ওপর মাথা রাখাতে তোমার কি কষ্ট হচ্ছে? রানা বলে কি যে বলো না তৌসিপ তোমাকে এভাবে পেয়ে আমার স্বর্গীয় সুখ অনুভব হচ্ছে! তৌসিপের তো মনের সাহস আরো দ্বিগুণ হয়ে যায়, তৌসিপ সাহস করে বলেই বসে রানা তোমাকে একটা কিস করি? একথা বলতে দেরি আছে অমনি রানা নিজেই তৌসিপ কে কিস করে বসে, হা হা আমি ফার্ষ্ট হয়েছি, তৌসিপ এবার রানাকে খুব জোরে শক্ত করে ধরে রানাকে একটি কিস কেয়, তখন রানা বলে হুহ শুধু মাত্র একটা??!! না না এই একটা কিস এ আমার হবে না আমার আরো কিস চাই! তারপর তৌসিপ জোরে জোরে অনেকগুলো কিস করতে থাকে, তারপর রানা তৌসিপ কে জরিয়ে ধরে, তৌসিপ ও রানা জরিয়ে ধরে তৌসিপ কেঁদে দেয়!!! তৌসিপ বলে রানা তোমাকে আমি হারাতে পারবো না আমি যে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি! তোমার আর আমার ভালোবাসার ভাগ আমি কাউকে দিতে পারবো না আমি শুধু তোমার আর তুমি শুধুই আমার!!!! রানা তৌসিপের চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে তৌসিপ আমিও যে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি কিন্তু তোমাকে বলতে পারিনি আমার ভালোবাসার কথা!!! তৌসিপ বলে আমিও রানা আমি তোমাওকে অনেকবার বলতে চেয়েও বলতে পারিনি!যদি এই একটি কথার জন্য তোমাকে হারাতে হয়? যদি আমাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যা?!!! রানা তৌসিপের মুখে হাত দেয় চুপ!! আর এসব কথা বলবে না!! সেই প্রথম তেথেই তুমি যা চেয়েছো আমি তা পুর্ন করার চেষ্টা করছি,
তাহলে ভাবলে কি করে তোমার এই ভালোবাসা তোমাকে আমি ফিরিয়ে দিতাম? শোন তৌসিপ আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি তুমি আমার জীবনের সাতে যুগপৎ ভাবে জরিয়ে আছো, তুমি আমার জীবনের অর্ধেক অংশ আমিও যে তোমাকে ভালোবাসি, একথা বলে রানা তৌসিপ কে জরিয়ে ধরে কেঁদে ফেলে!! তৌসিপ রানার চোখের জল মুছে দিয়ে বলে রানা তুমি আমার বুকে মাথা রেখে শোওতো, রানা তৌসিপের বুকে মাথা রেখে শোয়,তখন তৌসিপ রানার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে অনেক রাত হয়েছে এখন ঘুমাও, তারা দুজন দুজন কে জরিয়ে ধরে সেদিন সারারাত ঘুমিয়ে ছিলো। পরের দিন সকালে তারা স্কুলে যায় তাদের স্কুলের চারুকলা ও নাট্যকলা বিবাগের “”মনোজ স্যা”” সব ছাত্রদের কে ডেকে বলেন সামনে পহেলা বৈশাখ,আর মেঘনার পারে বিশাল এক বৈশাখী মেলা হতে যাচ্ছে আর সেই মেলায় আমাদের স্কুলের নাট্যকলা বিভাগ থেকে নাটকের ব্যাবস্থা করা হচ্ছে, তোমরা কে কে নাটকে অভিনয় করতে চাও?? রানা আর তৌসিপ দুজনেই হাত তোলে,””মনোজ স্যার “” ওদের দুজনকেই নাটকের নায়োক নায়েইকার চরিত্রে অভিনয় করার জন্য বাছাই করেন। বৈশাখী মেলার নাটকে রানা স্বামী হয় এবং তৌসিপ স্ত্রী হয়ে অভিনয় করে, নাটকে একটা দৃশ্য থাকে “”””স্ত্রী তার স্বামীর পা জরাইয়া ধরে বলে, স্বামী তুমি আমার ইহকাল, তুমিই আমার পরকাল, তুমিই আমার বিধাতা,স্বামী তুমি আমায় ছেরে যেও না যেও না স্বামী””” এই অভিনয়টি করার সময় রানা তৌসিপ কে সবার অগোচোরে একটা চোখ মারে,, তৌসিপ মুচকি হেসে ফিস ফিস করে বলে বান্দর মঞ্চ থেকে নামো তারপর তোমার খবর আছে! বৈশাখী মেলায় নাটক শেষ করে সেদিন রানা তৌসিপ কে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়, সেদিন রাতে তৌসিপ রানার বুকের মধ্যে শুয়ে রানার হাত দুটো ধরে বলে আচ্ছা রানা আজ নাটকে আমি যখন তোমার বউ হয়েছি, তখন তোমার কেমন লাগছিলো? রানা বলে তখন আমার কাছে মনে হয়েছিলো তুমি সত্যিই আমার বউ!
তৌসিপ বলে আচ্ছা রানা আমরা কি বিয়ে করতে পারি না? আমরা কি পারি না দুজন স্বামী-স্ত্রীর মত হয়ে থাকতে?? রানা বলে হ্যা পারি, আমি তোমাকে বিয়ে করবো তৌসিপ। এরপর বিয়ে নিয়ে তারা প্রতিদিন অনেক অনেক পরিকল্পনা করে, আমরা বিয়ে করে এটা করবো সেটা করবো ঘুরতে যাবো আরো কতো কি,বিয়ে নিয়ে তারা অনেক স্বপ্ন আঁকে, অবশেষে একদিন দুজনে বিয়ে করবে বলে ঠিক করে,রানা বলে আচ্ছা তৌসিপ আমাদের বিয়ে পরাবে কে?? কিভাবে আমরা বিয়ে করবো? তৌসিপ বলে আমার মাথায়ও কিছু ধরছে না কিভাবে আমাদের বিয়েটা হবে? রানা বলে আমার মাথায় একটা বুদ্ধি আসছে!!! তৌসিপ বলে কি বুদ্ধি?
মেঘনার ঘাটের মাজারে কি আমরা বিয়েটা করতে পারিনা? তৌসিপ বলে মাজারে বিয়া? কিন্তু কিভাবে? রানা বলে চলো আমরা দুজন গলায় মালা পরে মাজারে গিয়ে দু রাকাত নফল নামাজ পড়ে, আল্লাহর কাছে প্রর্থনা করবো যাতে তিনি আমাদের এ ভালোবাসা এ বিয়ে তিনি কবুল করে নেন। সেদিন রাতে তারা দুজন ঐ মাজারে গেল সন্ধ্যার পর মাজারের আশে পাশে কোন লোকজন থাকে না, মাজারটি একটি নির্জন যায়গা ওরা দুজন ডুকেই দেখে মাজারের মধ্যে ধুলো বালুতে ময়লা হয়ে আছে,তৌসিপ মেঘনার ঘাট থেকে পানি নিয়ে আসলো এবং মাজারের এক পাশে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করলো এবং তারা দুজনে সেখানে বসে নফল নামাজ পড়ে মোনাজাত ধরে দুজন দুজন কে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে গ্রহন করে নেয়। তারপর তারা দুজন মাজার থেকে বের হয়ে যায়, যাওয়ার পথে রানা তৌসিপের হাত ধরে হাতে একটা কিস করে বলে আজ থেকে আমাদের জীবন নতুন ভাবে শুরু! তৌসিপ বলে রানা আমি তোমাকে নিয়ে সারাজীবন সুখি হতে চাই, রানা বলে হুম আমিও। তারপর তারা দুজনে তাদের যার যার বাড়িতে চলে যায়।

পরেরদিন সকালে রানা তৌসিপদের বাড়ির সামনে সাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছিল তৌসিপ কে নিয়ে স্কুলে যাবে বলে, তখন ওদের স্কুল বন্ধু রনির সাথে দেখা হয় রানার, রনি রানাকে বলে তোকে এভাবে দেখলে মনে হয় একজন জামাই তার বৌর জন্য অপেক্ষা করছে সত্যিই রে তোদের দুজনকে জামাই বৌয়ের মতই লাগে! রানা একটু মুচকি হেসে বলে হুম, তৌসিপ আমার বন্ধু, তৌসিপ আমার বৌ, তৌসিপ আমার সব, একথা বলে রানা আর রনি দুজনে খুব জোরে হা হা করে হেসে ওঠে। তখনি তৌসিপ চলে আসে,তারপর রানা তার সাইকেলের পিছনে বসিয়ে তৌসিপ কে নিয়ে স্কুলে যায়,সামনে তাদের ৭ম শ্রেনীর বার্ষিক পরীক্ষা তাই লেখাপড়ার চাপ খুব বেশি, রানা তেমন ভালো ছাত্র না তৌসিপ সবসময় রানাকে পরীক্ষায় পাশ করতে সাহায্য করে পরীক্ষার সময়,,সেদিন শ্রেনীতে গনিতের শিক্ষক “” আব্দুর রহিম স্যার”” এসে তৌসিপ কে বলতেছে শোন তৌসিপ তুমি সবসময় রানাকে পরীক্ষার সময় সাহায্য করো তা আমাদের চোখে পরে, এ বছর তোমাদের কে কিন্তু বেঞ্চের পাশাপাশি বসতে দিবো না!
পিছনের সারির বেঞ্চের থেকে উঠে রনি মসকারা করে বলে উঠলেন না না স্যার এ কাজ করবেন না ভাবি যদি ভাই কে না সাহায্য করে তাহলে ভাই বেচারাকে কে সাহায্য করবে?!! রনির কথা শুনে ক্লাসরুমে সবাই জোরে হেসে উঠলেন। সেই থেকে স্কুলে সবাই রানা কে ভাই আর তৌসিপ কে ভাবি বলে ডাকতেন। এমনি করেই রানা আর তৌসিপ স্কুল জীবন পার করলেন, সামনে তাদের এস,এস,সি পরীক্ষা পড়া নিয়ে দুজনেই খুব ব্যাস্ত। অবশেষে দুজনেই এস, এস,সি পরীক্ষা দিলেন, এবং পরীক্ষার ফলাফল ও দেওয়া হলো,তৌসিপ ফার্ষ্টক্লাসে পাশ করলেন কিন্তু রানা দুই বিষয়ে খারাপ করলেন!!! রানার বাবা মা রানাকে খুব মারলো এবং রানার লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়ে তাকে কৃষি কাজে মাঠে নামিয়ে দিল। এদিকে তৌসিপ তার বাবা মায়ের কথা রাখতে জেলার সবচেয়ে বড় কলেজে ভর্তি হলো,এবং হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করতে বাধ্য হলো তৌসিপ।
তৌসিপ গ্রাম ছেরে কলেজ হোস্টেলে লেখাপড়া করে তাই এখন তৌসিপ আর রানার আর আগের মত প্রতিদিন দেখা হয় না কথা হয় না! দুজন দুজনকে কে ছারা দুজনেরেই দূরে থাকতে খুব কষ্ট হয়! দুজনেই একাকীত্ব অনুভব করে আর নিরবে শুধু কাঁদে!! একদিন রানার বড়ভাই সিদ্ধান্ত নিলো রানাকে আর দেশে রাখবে না! রানাকে বিদেশ পাঠিয়ে দেবে একথা শুনে রানার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরলো!!! সেদিন সারারাত ধরে রানা তৌসিপ কে ভেবে কান্নায় ভেঙ্গ পড়ে! রানা মনে মনে ভাবে দেশে থাকলে তৌসিপের সাথে দেখা হওয়ার সুযোগ আছে কিন্তু বিদেশ চলে গেলে তো বছরেও একবার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা ও থাকবে না!
একথা ভাবতেই রানা মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পরে, চোখের পানিতে তার বালিশ ভিজে যাচ্ছে!! রানার খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে তৌসিপ ও কাছে নেই তাকেও কিছু বলতে পারছে না, এদিকে রানার পরিবার তাকে বিদেশ পাঠানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে, অবশেষে রানাকে বিদেশ পাঠানোর জন্য সমস্ত কাগজ পত্র হয়ে যায় ঐ দিকে তৌসিপ লেখাপড়া নিয়ে খুব ব্যস্ত সে কিছুতেই কলেজ থেকে ছুটি পাচ্ছে না তার মনটাও বড় ব্যাকুল হয়ে আছে রানার সাথে দেখা করার জন্য, এত ব্যাকুলতার মধ্যে থেকেও তৌসিপ কিছুতেই আসতে পারতেছে না রানার সাথে দেখা করার জন্য! রানার বিদেশ যাওয়ার তারিখ পরে যায়, রানা ভাবে যে করেই হোক বিদেশ চলে যাওয়ার আগে একবার তৌসিপের সাথে দেখা করতে হবে এবং তাকে সবটা জানাতে হবে। একদিন খুব সকালে রানা তৌসিপের কলেজের সামনে যায়, দারোয়ান কে দিয়ে তৌসিপের কাছে খবর পাঠায়, রানার নাম শুনে তৌসিপ দৌরে ছুটে আসে, এসে দেখে রানাকে রানাকে দেখে তৌসিপ অভাগ হয়ে যায়!
তার প্রানের প্রিয় রানাকে দেকতে রোগা রোগা দেখাচ্ছে,মনেহয় অনেকদিন ধরে কিছু খায় না! তৌসিপ কে জরিয়ে ধরে বলে এটা তোমার কি হয়েছে শরীরতো শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে চেহারাটা ভেঙ্গে গেছে আমার রানাকে আমিই চিনতে পারছি না! তোমার কি হয়েছে রানা? বলো আমাকে? রানা তার বিদেশ যাওয়ার কথা কিভাবে বলবে সে বলার ভাষা খুজে পাচ্ছে না, তৌসিপ যখন রানাকে বুকে জরিয়ে ধরে রেখেছিলো তখন রানার চোখ থেকে টপ টপ করে পানি পরে তৌসিপের পিঠ ভিজে যাচ্ছিলো! তৌসিপ অনুভব করতে পারলো রানা কাঁদছে, তৌসিপ রানার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে এই তুমি এমন করছো কেন?? রানা কাদো কাদো কন্ঠে বলে ফেলে আমাকে বিদেশ পাঠিয়ে দিচ্ছে আগামি মাসের তিন তারিখে আমার ফ্লাইট! রানার মুখে এ কথা শুনে তৌসিপ দারানো থেকে বসে পড়ে, খুব কান্না করতে শুরু করে তৌসিপ! দুজনে দুজনের হাত ধরে একসাথে কান্না করতে থাকে!
এখানে যেন কান্নার বন্যা বয়ে যাচ্ছে!! রানা বলে অনেকক্ষন হয়ছে আমি তোমার কাছে আসছি ওদিকে বাড়িতে কিছু বলে আসিনি আমাকে এখন যেতে হবে, তুমি পারলে চলে এসো আমি চাই তুমি আমাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌছে দিয়ে এসো, একথা বলে রানা চলে যায়। রানার ফ্লাইটের দিন চলে আসে তৌসিপ আর রানার বড় ভাই রানাকে নিয়ে বিমানবন্দর যায়, রানা যখন বিমানবন্দরের ভিতরে প্রবেশ করছিলো তখন দুজনে আবার দুজন কে জরিয়ে ধরে চিৎকার করতে শুরু করেন,, রানার চোখের পানি গরিয়ে পরছিলো তেমনি তৌসিপের চোখের পানিও গরিয়ে পরছিলো, রানা যখন ভিতরে ডুকে যায় তখন বার বার পিছন ফিরে তাকাচ্ছিলো আর মায়াবী দৃষ্টিতে তৌসিপ কে দেখছিলো! তৌসিপ ও বার বার পিছন ফিরে রানাকে দেখছিলো আর কান্না করছিলো। রানা মালয়েশিয়া চলে যায় এবং প্রথম দুই-তিন মাস তৌসিপের সাথে কোন যোগাযোগ হয় না।


এরপর রানা তৌসিপ কে একটা চিঠি পাঠায়! প্রিয় তৌসিপ আমার জান,আমার প্রান আমার বৌ, আমি জানি তুমি আমাকে ছাড়া ভালো নেই আমিও তোমাকে ছাড়া একটুও ভালো নেই,আর তুমি ছারা ভালো থাকবো কি করে তাতো তুমি জানোই? যাই হোক আমার জন্য তুমি চিন্তা করো না, আমি সুস্থ আছি,,আমাদের পাশের বাড়ির” “মমেন ভাই “”এখানে থাকে, সে আগামি মাসে দেশে যাবে, আর আমি তোমার জন্য একটা মোবাইল ফোন কিনেছি “”মোমেন ভাই দেশে আসলে তার কাছে তোমার জন্য মোবাইল টি পাঠিয়ে দেবো তারপর আমাদের প্রতিদিন কথা হবে। তুমি নিজের শরীরের যত্ন নিও আর ঠিক ভাবে লেখাপড়া করিও, ( ইতি তোমার রানা) রানার মোবাইল ফোনটি তৌসিপ হাতে পায় মোবাইলটি পেয়ে তৌসিপ অনেক খুশি হয় যেন স্বস্তিতে নিঃশ্বাস ফেলে

এরপর থেকে প্রতিদিন সকাল-দুপুর-রাতে, সবসময় রানা তৌসিপ কে ফোন দেয় রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও দুজনের কথা না হলে যেন দুজনের ঘুম হয় না, তৌসিপ বলে তুমি বিদেশ গেছো টাকা ইনকাম করতে আর সব টাকা যদি মোবাইলে খরচ করে ফেলো তাহলে কিভাবে হবে? রানা বলে ধ্যাত বাদ দাওতো তোমার সাথে কথা না বললে আমার মাথাই ঠিক থাকে না, আর মাথা ঠিক না থাকলে কাজ করবো কিভাবে? এভাবে রানা বিদেশে প্রায় এক বছর পার করে ফেলে এবং দেশে আসার পরিকল্পনা করে, রানা তৌসিপ কে ফোনে বলে রানা তোকে ছারা আর থাকতে পারছি না এবার দেশে আসতে হবে ছুটিতে, রানার কথা শুনে তৌসিপ তো খুশিতে আত্নহারা তৌসিপ রানার জন্য অপেক্ষার দিন গুনতে থাকে। অবশেষে রানা দেশে আসে তৌসিপ রানাকে আগাতে বিমানবন্দর যায় রানা আর তৌসিপ তাদের গ্রামে আসে, আবার তারা দুজন একসাথে মেঘনা নদীতে নৌকায় ভ্রোমন করে, অনেক মজা করে রানা তৌসিপ কে বলে আচ্ছা তৌসিপ তোমার মনে আছে?
একদিন তুমি আমাকে বলছিলে তোমার পাহার দেখতে যেতে খুব ইচ্ছে করে? তৌসিব বলে হুম মনে আছে কিন্তু কেন বলোতো? রানা বলে আমি তোমাকে নিয়ে পাহারে ঘুরতে যাবো ভাবছি,, রানার কথা শুনে তৌসিপ আনন্দে ইইইই করে চিৎকার বলে সত্যি বলছো আমরা পাহারে যাবো? রানা মাথা নারিয়ে বলে হুম সত্যি আমরা পাহারে ঘুরতে যাবো, তৌসিপ বলে ওয়াও আমার কত দিনের স্বপ্ন তোমাকে নিয়ে পাহারে যাবো! তারা দুজন রাতের গাড়িতে ওঠে সেদিন সারারাত গাড়িতে তৌসিপ রানার কাধে মাথা রেখে ঘুমায়, এবং পরের দিন সকালে তারা পাহারে গিয়ে নামে, সেখানের একটি হোটেলে তারা রুম ভারা নেয়, একটু বিশ্রাম নিয়ে তারা পাহারে ঘুরতে যায়, দুজনে মিলে অনেক ছবি তোলে অনেক আনন্দ করে এবং পাহারী ঝর্নায় সর্ট প্যান্ট পরে গোসল করতে নামে, গোসল করতে গিয়েও পানিতে ডুব দিয়ে পানির নিচে গিয়েও রানা তৌসিপ কে একটা কিস বসিয়ে দেয়। ওই এলাকার সবচেয়ে উচু পাহারটি দেখে তৌসিপ বলে ঐ পাহারের চুরায় উঠবে সে, তৌসিপের কথা রাখতে রানা তৌসিপ কে নিয়ে সেই পাহারের চুরায় ওঠে এবং তারা দুজনেই ক্লান্ত হয়ে যায় এবং একটা গাছের ছায়ায় বসে অনেকক্ষন তারা সেখানে বসে থাকে, রানা বলে তৌসিপ কে চুপ করে আছো কেন কিছু বলছো না যে? তৌসিপ বলে আচ্ছা রানা তোমাকে একটা কথা বলবো বলবো ভাবছি কিন্তু আমার মনে থাকে না। রানা বলে কি কথা এখন বলো? তৌসিপ বলে আমি একটি বইতে পরেছি বিদেশে নাকি ছেলে-ছেলে এবং মেয়ে বিয়ে হয়? আবার ছেলেরা নাকি মেয়েও হয়ে যেতে পারে, রানা বলে হুম আমিও শুনেছি তবে মালয়েশিয়াতে এটা হয় না আরো বড় রাষ্ট্রে হয়, এই ধরো অ্যামেরিকায় হয়।
তৌসিপ বলে ইস আমি আর তুমি যদি সে দেশে চলে যেতে পারতাম তাহলে কতই না ভালো হতো তাই না? রানা বলে হুম ঠিক বলছো আচ্ছা তৌসিপ চলো আমরা দুজন সে দেশে চলে যাই, তৌসিপ বলে কিন্তু কিভাবে আমরা দুজনেই তো অনেক গরীব, সেখানে যতে তো অনেক টাকা লাগে তাই না? রানা বলে হুম তা ঠিক বলছো কিন্তু ইচ্ছা থাকলে মানুষ সবকিছু করতে পারে, আমরা যদি মন থেকে চেষ্টা করি তাহলে আমরাও যেতে পারবো! তৌসিপ বলে কিভাবে চেষ্টা করবো বলো আমাকে? রানা বলে আমি তোমাকে মালয়েশিয়া নিয়ে যাবো এবং দুজনে সেখানে কাজ করে অনেক টাকা জমাবো তারপর আমরা সেখান থেকে অ্যামেরিকা চলে যাবো, কি বলো যাবে আমার কাছে মালয়েশিয়া?? তৌসিপ বলে ওয়াও এতো খুব ভালো বুদ্ধি, হ্যা অবশ্যই যাবো তুমি আমাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাবস্থা করো, আমার পরিবার অবশ্য মানবে না তবে আমি তাদের না বলেই চলে যাবো এতে যা হওয়ার হোক। রানা বলে এবার মালয়েশিয়া গিয়েই আমি তোমার জন্য ভিসা পাঠাবো কি বলো? তৌসিপ বলে হুম ঠিক আছে, রানা বলে আমার হাতে হাত রেখে কথা দাও, তৌসিপ রানার হাতে হাত রেখে বলে কথা দিলাম। তারা বিকেলে পাহার থেকে নেমে যায় এবং পাহার থেকে নামতে নামতে সন্ধ্যা হয়ে যায়, রাতে তারা হোটেলে থাকে, রাতে রানা তৌসিপের বুকের ওপর শুয়ে বলে জান তোমাকে বিয়ে করার পর তো আমাদের হানিমুন করা হয় নি, তাই এটাই আমাদের হানিমুন, দুজনে খুব হাসে। পরেরদিন সকালের গাড়িতে তারা আবার নিজেদের গ্রামে ফিরে যায়, রানা বিদেশ থেকে আশার পর ওদের দুজনের ভালই দিন কাটছিলো, এমনি করে রানার ছুটিও শেষ হয়ে এলো তৌসিপের ও সামনে ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা, রানার মালয়েশিয়া ফিরে যাওয়ার দিন চলে এলো, রানা তৌসিপ কে কিছু টাকা দিয়ে বলে এই টাকাটা তুমি নিজের কাছে রাখো পাসপোর্ট করার সময় লাগবে, আর শোন আমি যেভাবে যেখানে যেতে বলবো সেখানে গিয়ে পাসপোর্ট করে ফেলবে কিন্তু কেমন? তৌসিপ বলে আচ্ছা ঠিক আছে জান। রানার ফ্লাইট হয়ে যায় সে মালয়েশিয়া ফিরে যায় আর তৌসিপ তার কলেজ হোস্টেলে ফিরে যায়। তাদের আগের মত আবার ফোনে কথা চলতে থাকে, তৌসিপ পরীক্ষা শেষ করে কিছু দিনের জন্য বাড়িতে আসে,
দুপুরে রানার সাথে ফোনেও কথা হয়, বিকালে তৌসিপ বাড়ির পাশের মাঠে দূর্বাঘাসের ওপর বসে বসে ছোট ছোট বাচ্চারা খেলছে তা দেখছে। এরি মাঝে রানার চাচাতো ভাই মাইদুল দৌরে এসে হাপিয়ে হাপিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করছে তৌসিপ কে কিন্তু বলতে পারছে না। তোসিপ বসা থেকে দারিয়ে যায় আর বলে কি হয়েছে তোর মাইদুল তুই এমন করছিস কেন? মাইদুল বলে তৌসিপ ভাই, তৌসিপ ভাই, ! রানা ভাই আর বেচে নাই! রানা ভাই মারা গেছে কিছুক্ষন আগে মালয়েশিয়া থেকে ফোন আসছে রানাভাই নাকি এক্সিডেন্টে মারা গেছে! মাইদুলের কথা শুনে তৌসিপ মাইদুল কে জোরে একটা থাপ্পর দিয়ে বলে তুই কি রে মাইদুল? নিজের আপন চাচাতো ভাই কে নিয়ে এমন মসকারা করতে তোর লজ্জা লাগলো না? মাইদুল জোরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে আর বলে আমি মিথ্যা বলছি না!! এরি মাঝে পুরা এলাকায় খবর হয়ে গেছে রানা মারা গেছে! তাই সবাই ছুটা ছুটি করে রানাদের বাড়ির দিকে যাচ্ছে, তৌসিপ দৌড়ে রানাদের বাড়ি যায় গিয়ে দেখে রানার বাবা মা ভাই বোনেরা সবাই আর্তনাদ করে কান্না করছে, এই নির্মম দৃশ্য দেখে তৌসিপ রানা বলে জোরে একটা চিৎকার দেয় এবং মাটিতে অজ্ঞান হয়ে পরে যায়!! ( দিনটি ছিলো ১১ সেপ্টেম্বর ২০১২) সবাই তৌসিপ কে ধরে তাদের বাড়ি নিয়ে যায়, এরপরে তৌসিপের খাওয়া দাওয়া সব বন্ধ হয়ে যায় সারাদিন কাঁদে আর রানার ছবি বুকে নিয়ে রানা রানা করে!!! তার ১৫ দিন পর রানার মৃতদেহ দেশে আনা হয়, সবাই

সবাই তৌসিপ কে ধরে ধরে রানাদের বাড়ি নিয়ে যায় শেষ বারের মত একবার দেখানো জন্য, রানার দাফন কাফন হয়, সে সব দৃশ্য তৌসিপ নিজের চোখে প্রত্যাক্ষ দেখে সৈর্য্য করতে না পেরে বাড়ি গিয়ে ঘরের দরজা দেয় এবং এক বোতল কিটনাশর খায়, সবাই দরজা ভেঙ্গে তৌসিপ কে ঘর থেকে আধমরা বের করে এবং এ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, এবং ৭দিন পরে তৌসিপের জ্ঞান ফিরে আসে, তৌসিপ প্রানে বেচে গেলেও, রানার মৃত্যুর সাথে সাথে তার মনটাও মরে গেছে, তৌসিপ অনেক মানসিক আঘাত পেয়ে মানুসিক রুগি হয়ে যায়, লেখাপড়া বন্ধ করে দেয়, জীবন্ত দেহে সে নিজেকে মৃত ভাবতে থাকে!! তৌসিপ হয়ে যায় নিথর নিস্তব্ধ !

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.