প্রেম মানে না বাঁধা

লেখক: অভিমুন্য চৌধুরী

গভীর রাত একটি দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গল আমার।০৩:০৭বাজে।ফোন দিব কি দিবো না- না থাক।
এভাবে ভাবতে ভাবতে ভাবতে ফোন দিলাম।
– হ্যালো অরন্য এত রাতে…
– ভাইয়া আপনি ঠিক আছেন.?
– হুম । তোমার কিছু হয়েছে।
– ভাইয়া আপনাকে নিয়ে একটা দুঃস্বপ্ন দেখেছি।
– হাহাহা,ধ্যাত পাগল ছেলে।
– আচ্ছা ভাইয়া কাল কথা হবে।
– আচ্ছা ভালো থেকো।

উফফ ভাইয়া বাসা থেকে যে কবে আসবে, কে জানে। ভাইয়া সাতদিন হলো হোস্টেলে
নেই।ছোট ভাইয়ের বিয়েতে গেছে এখন পাত্তা নাই ফেরার।

ঠক-ঠক-ঠক
আরে কে রে।এত সকালে দরজায় কড়া নাড়ছে।(রাগান্বিত কন্ঠে)
দরজা খুলতেই ভাইয়া আপনি.
-সারপ্রাইজ, কাল রাতে বাসে উঠেছি।
-ধন্যবাদ ভাইয়া।
-ধন্যবাদ কেনো..?
– না মানে এমনি।
-তুমি শুধু মানে মানে নিয়েই থাকো।
– পড়ালেখা কেমন করছো এই কয়দিন।
মাথা নেড়ে হুম করছি।
কেমন করে আপনাকে বলি আপনি ছাড়া যে পড়ালেখায় মন বসাতে পাই না ।

প্রায় নয় মাস ধরে ভাইয়ার সাথে আছি।ভার্সিটি লাইফ।ওরিয়েন্টশন ক্লাসে ডিপার্টমেন্ট বড় ভাই,, বক্তিতা দিচ্ছিলেন।
ভাইয়ার কথা গুলো এখন মনে পড়ে।

– তোমাদের বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড, টাইম পাস যাই কর না কেন তা যেন এসবের পাশাপাশি পড়ালেখা না হয়।পড়ালেখার পাশাপাশি টাইম পাস করো।
আমি তোমাদের বড় ভাই।তাই তো.?আমি যদি এখন তোমাদের ঘাড়ে হাত দিয়ে বলি
কিরে গার্লফ্রেন্ড এর খবর কি।তোমরা তখন আমার বন্ধু হয়ে যাবে,তখন তো তোমাদের কাছে আমি রিস্পেক্টস আশা করতে পারি না।

-সত্যিই ভাইয়ার কথা শুনে অনেক আপন ভাবতে ইচ্ছে করছিল।

রঞ্জু ভাই আর আমি ৩০৩ রুমে কাজী নজরুল ইসলাম হল এ থাকি।রঞ্জু ভাই এর মত রুমমেট অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। ভাইয়া আর আমি এক ডিপার্টমেন্ট এর স্টুডেন্ট। ভাইয়ার কাছে পড়ালেখার ব্যাপার ছাড়া অন্য কোন কথা বলতে লজ্জা লাগে।
ভাইয়া এমনিতেও খুব কম কথা বলে।

ভাইয়া দেখতে বেশ লম্বাচুড়া, ফর্সা। বুকে লম্বা লম্বা কুচকুচে কালো লোম।
মনে হয় সাদা আকাশে কালো মেঘ।

ভাইয়ার কথা বলা, সভাব, চরিত্র দেখে প্রতিনিয়ত অনেক ভালো কিছু শিখে যাচ্ছি।
মনের ভিতরে একটা সুপ্ত ভালোবাসা ভাইয়ার প্রতি জন্মাচ্ছে।ভাইয়ার একটি দিক হলো প্রতিদিন আমায় ফজরে ডেকে তুলে। একসঙ্গে উজু করে নামাজ পড়ি। সকালবেলা ভাইয়ার হাতে চা খেয়ে কর্মব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়।সারাদিন প্রাইভেট, কোচিং, ক্লাস এসব করে সন্ধায় আবার দুজনের দেখা হয়। অনেক ক্লান্ত থাকি।ফ্রেশ হয়ে খেয়েই শুয়ে পড়ি।এভাবেই সপ্তাহে ছয়দিন ই কাটে।

প্রতি রাতে ডিমলাইট এর আলোয় ভাইয়ার
চেহারা জেগে জেগে দেখা।মনে হয় ভাইয়াকে খুব আদর করি।হাতটা শক্ত করে ধরে রাখি।খুব ইচ্ছে হয় ভাইয়ার বুকে মাথা দিয়ে হাত পা দিয়ে জড়িয়ে ধরে ঘুমাই।মনে হত সর্গসুখ পেয়ে যাবো ভাইয়াকে জড়িয়ে রাখলে। এভাবেই ভাবতে ভাবতে রাত পেরিয়ে সকাল হয়।

৩০২ রুমেএ রঞ্জু ভাইয়ার দুজন ফ্রেন্ডস থাকে।ডিজে হারুন, আর হিরো আলম ভাই।হারুন ভাইয়ের নামের আগে ডিজে দেয়ার কারন হারুন ভাই ডিজে গান ছাড়া শুনেই নাহ।ভাইয়া অনেক ভালো ডিজে গান করতে পারে।

আলম ভাইকে হিরো আলম বলার উদ্দেশ্য বাহিরে বের হলেই আধা ঘন্টা টাইম নিবেই সাজার জন্য।আলম ভাইয়ের চেহারা পাটকাঠির মতো। আলম ভাইকে কত বলি।
-ভাইয়া আপনার চেহারা সেই।কিন্তু ইদানীং শুকিয়ে যাচ্ছেন। একটা সাজেশন দেই।ভাইয়া খুশি সাজেশন নেবার জন্য।
– হ্যাঁ ভাই বলো কি সাজেশন?
– এক ফাইল যথেষ্ঠ।। কলিকাতা হারবাল।
ডিজে হারুন ও হিরো আলম ভাইয়ের একটু বাড়িয়ে প্রশংসা করলে খুব আনন্দিত হয়।
হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যায়।
ডিজে হারুন ভাই ও আলম ভাই খুব সুখি। তারা দুজনে সমপ্রেমি। তাদের এই ভালোবাসার কথা আমরা চারজন ছাড়া কেউ জানত না।তাদের এই ভালোবাসার গল্প শুনলে আমার হৃদয় খুব বিচলিত হয়।
অনেকবার চেষ্ঠা করেছিলাম তাদের মুখ থেকে কথা বের করার জন্য,,রঞ্জু ভাই সমপ্রেমি কি না।তারা দুজনে অন্য প্রসঙ্গ দিয়ে কথাটা ঘুরিয়ে দিয়েছেন।
ডিজে হারুন ভাই ও হিরো আলম ভাইয়ের সাথে আমি যতোটা ফ্রি। রঞ্জু ভাই আমার রুমমেট তার সাথে আমি ফ্রি হতে পারি না।
ফ্রি না হবার ও কারন আছে।ভাইয়াকে আমি অন্য চোখে দেখি। ভালোবাসার মানুষের সামনে সর্বদা ভালো হয়ে থাকতে ইচ্ছে করে।

ভাইয়ার জন্য যে ফিলিংস আমার ভিতরে কাজ করে আমার জন্য কি ভাইয়ার এরকম ফিলিংস কাজ করে। ভাইয়াও তো আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে লজ্জা পায় আমার মত।। আমি না হয় সমপ্রেমি,ভাইয়াকে কাছের মানুষ ভাবি তাই একটু লজ্জা পাই,ভাইয়াও কি আমার মতো সমপ্রেমি, ভাইয়া আমায় দেখে লজ্জা পায় কেনো.?এ আমি কি ভাবছি, আমি কি পাগল হয়ে যাবো।ভাইয়ার কথা এত ভাবছি। উফফ ভাইয়াকে কবে কাছে পাব।ভাইয়াকে কবে আমার করে পাবো।ধ্যাত মাথায় কিছু আসে না।এভাবে কি বেঁছে থাকা যায়।

দেখতে দেখতে কয়েকটি মাস কেটে গেলো। ভার্সিটিতে বর্ষাবরণ ও রবি ঠাকুরের মহাপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষে নাচ,গান,নাটক এর আয়োজন করা হয়েছে।আমি রঞ্জু ভাই,ডিজে হারুন ও হিরো আলম ভাই জমকালো সন্ধাবেলায়
ক্যাম্পাসে যাচ্ছি। আমরা বসে রবি ঠাকুরের গান শুনছি।

দাও হে হৃদয় ভরে দাও।
তরঙ্গ উঠে উথলিয়া সুধাসাগরে, সুধারাতে মাতোয়ারা করে দাও সেই সুধারসপানে ত্রিভুবন মাতে তাহা মোরে দাও।হঠাৎ ভাইয়া আমার হাতটি ধরলেন।বুকের ভিতরটা ধড়ফড় করছে।হার্টবিট খুব বেড়ে হিয়েছে।আমি খুশিতে আত্নহারা। ভাইয়া হাতটি খুব শক্ত করে ধরে আসে।এই প্রথম ভাইয়া আমার হাত ধরলেন। বুকের ভিতরটা অজানা আনন্দে ফুপে উঠছে।
ভাইয়া সারাজীবন যদি এই হাতটা ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিতেন।

ভাইয়ার সাথে থেকে নিত্যনতুন কিছু অভিজ্ঞতা রোমাঞ্চকর মূহর্তের সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রতি শুক্রবার আমরা নিজেই রান্না করি।ভাইয়া কারিকুকারে রান্না করছে।এক মূহর্তে গরম প্যানের তাপ ভাইয়ার অাঙ্গুলে ছ্যাকা লাগে।ভাইয়া বেদনাদায়ক সুরে আহ বলে হাতটি সরিয়ে নেয়।আমি বুঝে উঠতেই ভাইয়ার অাঙ্গুল দুটো মুখে ঢুকে নিয়েছি।
ভাইয়া আমায় অপালক দৃষ্টিতে দেখতেছেন। আমিও চোখ ফেরাতে পারছি না ভাইয়ার দিক থেকে। মিনিট দুয়েক
দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
চেতনা ফিরে ইতস্তত বোধ করতেছি।আমার চোখের কোঠর দিয়ে পানি পড়ছে।

–এই আমি ব্যাথা পাইলাম আর তোমার চোখে পানি।
-না মানে ভাইয়া,, এমনি পানি

ভাইয়াকে কি করে বলি। আপনাকে খুব ভালোবাসি আপনি কবে বুঝবেন।

মাঝে মাঝে ভাবি ভাইয়া বাড়ির বড় ছেলে।ভাইয়া বিয়ে না করেই ছোট ভাইকে বিয়ে দিলেন কেন।ভাইয়াকে এই কথা বলার সাহস হয়ে উঠে নাই।এতদিন ভাইয়ার
সাথে থাকছি না কোন মেয়ের সাথে কথা বলা না কোন এসএমএস।তাহলে আমার
সন্দেহ কি ঠিক।আল্লাহ্‌ কি এই মানুষটার
জন্য আমায় পাঠিয়েছে।

ভাইয়া বেলকনির গ্রীল ধরে চাঁদের আলো দেখে মনে হয় পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে
চাঁদের আলো দেখাই।
ভাইয়ার প্রতিটা শার্টের গন্ধ আমায় পাগল
করে দেয়।ভাইয়ার অনুপস্থিতিতে ভাইয়ার শার্ট জড়িয়ে ধরে রাখা। না পারছি গিলতে
না পারছি ওগলাতে।কি করে ভাইয়াকে
বলি আমি আপনার সারাজীবন এর সুখ দুঃখের সঙ্গী হতে চাই
-অরন্য ঈদুল আযহায় আমাদের বাসায় তোমাকে নিয়ে যাবো।
-হুম, ভাইয়া কেনো.?
– আরে ভাই তুমি তো আমাদের উত্তরাঞ্চল দেখতে চাও,তাই এবার চলো,তোমায় সব দেখাবো।
– আচ্ছা ভাইয়া যাবো

উফফ ভাইয়ার বাসা যাবো।কি আনন্দ।প্রিয় মানুষটার সাথে ঘুরব মজা করব।

ঈদের আগের দিন ভাইয়াদের বাসা পৌছাই।ভাইয়াদের বাসায় অনেক মেহমান এসেছে।কাল ঈদ সবার সাথে অনেক মজাই হচ্ছে।এই প্রথম বাড়ির বাহিরে ঈদ।
খারাপ লাগার থেকে ভালোলাগাটা বেশিই কাজ করছে।বেশ রাত হয়েছে।
–অরন্য, আসো ঘুমতে যাই।
–হুম ভাইয়া চলেন
ভাইয়ার সাথে ভাইয়ার ঘরে গেলাম। ভাইয়া
বিছানা ঠিক করছেন।
মনে মনে আমি উত্তেজিত, ভাইয়ার পাশে শুব।ঘরের বাতি অফ করা।দুজনে দুইপাশ হয়ে শুয়ে আছি।বুকের ভিতরটা চিনচিন
করছে।মনে মনে ভাবছি এই বুঝি ভাইয়া আমায় টাচ করবে,ভাইয়ার হাতটি আমার গায়ের উপর তুলে দিবে।কিন্তু না।
রাতটা ছটফট করেই কেটে গেলো।

পরেরদিন সকালবেলা ঈদের নামাজ পড়ে
বিভিন্ন ব্যাস্ততার মাঝে দিনটি কেটে যায়।

রাতের বেলায় ৮-৯টার দিক

-অরন্য আসো ঘুরতে যাবো।
– কোথায় যাবেন ভাইয়া.?
-পিছনে বসো
– ভাইয়া বাইকে এক টান। জড়তার কারনে সামনের দিকে হেলে পড়ি।আমার হাতদুটো ভাইয়ার বুক শক্তভাবে ধরে রাখছে।

-ভাইয়া এই নির্জন রাতে নদীর তীরে।
– হুম।তোমাকে কিছু বলতে চাই।মন দিয়ে বুঝে উত্তর দিবা।
– (বুকটা ধড়পড় করছে) কি বলবেন ভাইয়া.? বলুন
– তুমি কিছু মনে করবেনা প্লিজ।
– আচ্ছা ভাইয়া বলুন তো।
– নদীর কান্না শুনতে পারছো
-কান্না কই এ তো শ্রোতের গর্জন।
– হুম গর্জন ঠিক আছে।কিন্তু আমার মনে হয় সমুদ্রের বুকে মিলিত হবার অাকাঙ্ক্ষা নদীর।
– ওহহহ
– হুম আমি তোমার বুকে মিলিত হতে চাই।এতক্ষনে হয়তো ভাবছ আমি পাগল।
আমি সমপ্রেমি। এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম এতদিন। তোমায় প্রথম যেদিন দেখেছি সেদিন থেকে তোমায় ভালোবেসে ফেলেছি
আমার বাসা থেকে বিয়ের কথা বলছে। কিন্তু আমি বিয়ে করব না।কারন একটি
মেয়েকে বিয়ে করে আমি সুখে থাকতে পারবো না।

-আই লাভ ইউ অরন্য,আমি তোমায় খুব ভালোবাসি, ডু ইউ লাভ মি।

প্লিজ আমার প্রশ্নের উত্তর দাও.?যদি তুমি আমায় না বুঝ। আমার প্রস্তাব টা যদি না
হয় তাহলে তুমি এইখান থেকে চলে যাও।
কারন আমি তোমার মুখ থেকে না শব্দটা শুনতে প্রস্তুত নই।কিছু না পেলে হারানোর
ভয় থাকে না। আর যাকে সত্যিকার অর্থে পেয়ে হৃদয়ে লালন করেছি তাকে হারানোর ভয় আমার।
কাঁদছ কেন.?আচ্ছা তুমি চলে যাও অরন্য।

আমি দৌড় দিয়ে জড়িয়ে ধরে “আগে কেন বলনি তুমি আমায় ভালোবাস। আমিও তোমায় প্রথম থেকে খুব ভালোবাসি।”
কিছু সময়ের জন্য দুইজোড়া ঠোট অমৃত রস পান করছিল।
চিৎকার দিয়ে “আমিও তোমাকে ভালোবাসি রঞ্জু। আই লাভ ইউ টু।”
___
এক সন্ধায় দুজনে রাস্তা দিয়ে হাটছি।ঝিরিঝিরি বাতাস বইছে, কামিনী ফুলের গন্ধ।
হাত ধরাধরি করে হাটতে থাকি, ধীরগতিতে। নীরব রাস্তায় শুধু দুজনে। রঞ্জু ভাই হঠাৎ আমাকে আলতোভাবে জড়িয়ে ধরলো, বললো, এভাবেই কিন্ত আমার পাশে সারাজীবন থাকবি।
আমি লজ্জায় মাথা নত করি। যদি কেউ দেখে ফেলে, আমি জোর করে ছুটে যেতে চাই রঞ্জু ভাইয়ের বাহু থেকে। কিন্ত ওর ওই শক্ত বাধনে আমি নিরুপায়। ও আবার বললো, থাকবি তো?
আমি কিছু বলিনা, এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে সামনের দৌড় মারি। হঠাৎ চোখ ধাঁধানো আলো। তারপর সব অন্ধকার।
*
যখন জ্ঞান ফিরলো, তীব্র ব্যথায় মাথাটা ঘুরে ওঠলো। চোখ মেলে চাইলাম, কিন্ত এত অন্ধকার কেন?
হঠাৎ রঞ্জুর কথা মনে পড়লো, রঞ্জু রঞ্জু।
একটা পরিচিত মানুষের স্পর্শ পেলাম, রঞ্জু।
_তোমার তাহলে জ্ঞান ফিরলো। উপরওয়ালাকে ধন্যবাদ।
আমি বলি, ঘরের লাইট জ্বালিয়ে দাও। এখানে এতো অন্ধকার কেন?
_এখনতো দিন। অন্ধকার পেলে কই?
এক অজানা আশংকায় বুকটা কেপে ওঠলো।
মানে..?
আমিতো শুধু অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি।
ডাক্তার ডাকা হলো। ডাক্তার বললেন, আমার চোখদুটো নষ্ট হয়ে গেছে।
নতুন চোখ ছাড়া এটা সম্ভব না।
রঞ্জু পাগলপ্রায় হয়ে গেল।
কিন্ত কিছুই করার নেই।
ওর জন্য ভীষণ কষ্ট হলো, ইশ! কত স্বপ্ন ছিল দুজনের। কতকিছুইনা আশা ছিল। গড়ার কথা ছিল, প্রেমের খুনসুটি পূর্ণ একটা সংসার। অবশেষে কিছুই হলোনা। নিজের ভাগ্যকে মেনে নিলাম, কিন্ত রঞ্জু। ওতো অক্ষম নয়, ও কেন আমার বোঝা টানবে।
আমি রঞ্জুকে কাছে ডেকে বললাম,
-তোমার জীবনটা নষ্ট কর না।দেখো এখন
আমি চোখে দেখতে পারি না।তোমার সব
স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে।তুমি অন্য কাউকে তোমার
জীবন সঙ্গী হিসেবে খুঁজে নিও।কারন তুমি
সুখে থাকলে আমি সুখে থাকব। আর
একজন অন্য মানুষের সাথে সারাজীবন চলতে পারা যায় না।
আমি তোমার স্বপ্নপূরণে ব্যর্থ হলাম বলে আমি দুঃখিত।
ও কিছুই বলেনি। শুধু আমার হাত দুটো ধরে চুমো খেয়ে চলে গিয়েছিল। আমি হাতে ওর চোখের জলের স্পর্শ পেয়েছিলাম শুধু।
একটু পরেই সে এসে বললো, না! এটা কোনমতেই সম্ভব না। তোকে ছাড়া আমি চলতে পারবোনা
হ্যাঁ আমি তোকে নিয়েই বাঁচবো।তোর চোখের দৃষ্টি ফিরে আসবেই।আমার তো দুটো চোখ রয়েছে।
নাহয়, আমি একচোখেই দেখলাম তোর জন্য। আমি অবাক হলাম,
– তুমি কি বলছ এসব।পাগল হয়ে গেছো.?
-হ্যাঁ আমি পাগল হয়ে গেছি। তোর চোখের দৃষ্টি না ফেরানো পর্যন্ত আমার শান্তি নেই।
।তাহলে অন্তত আমার ভালোবাসার প্রমাণ তোর কাছে চিরকালই থাকবে।
ও নাছোড়বান্দা। আমি ডাক্তারকে না বললাম, ওর কাছেও মিনতি করলাম ।কিন্ত ওর করজোড়ের কাছে আমার মিনতি কিছুই না। আমি আর বাধা দিলামনা

অবশেষে প্রেমিকের চোখ আমার অংগে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অপারেশন হল।
আজ ব্যান্ডেজ খুলবে।
দুজনকে সামনাসামনি রেখে ব্যান্ডেজ খোলার আবদার করেছিলাম ডাক্তারের কাছে।
দুজন ডাক্তার দুজনের ব্যান্ডেজ খুলছেন।
আস্তে আস্তে চোখ খুলতেই পাশের বেডে রঞ্জুকে দেখতে পেলাম, মিটমিট করে আমার দিকে চেয়েই একটা হাসি দিলো। ইশ! কতদিন পর রঞ্জু ভাইকে দেখলাম। বেড থেকে নেমে রঞ্জু ভাই আমাকে জড়িয়ে ধরলো, আমিও জাপটে ধরলাম। দুজনের চোখ দিয়ে জল অঝরেই পড়তেই থাকে। বারবার দুজনার চোখাচোখি হচ্ছে। তারপরও দুজন দুজনের দেখা শেষ হচ্ছে না।
ডাক্তারের কাশির শব্দে আমাদের ঘোর ভাঙলো।
ডাক্তার বললেন,
__আপনাদের ভালোবাসা সত্যিই বিরল। কিন্ত বাংলাদেশেতো আপনাদের এই ভালোবাসা কেও বুঝতে চেষ্টা করবেনা।আপনার প্রবাসে চলে যান। যেখানে
আপনাদের ভালোবাসার সম্মান পাবেন।আপনাদের ভালোবাসা দেখে
আমি মুগ্ধ।
অতঃপর রঞ্জু ভাইয়ের হাত ধরব বের হয়ে এলাম সংসার স্বপ্ন পূরণে।
বিদেশ যাওয়া হয়নি। কিন্ত বাংলাদেশেই গড়লাম একটা সমপ্রেমের সংসার।
প্রেমের খুনসুটি পূর্ণ সংসার…

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.