গভীর রজনীর অজানা রহস্য

লেখকঃ অজানা রহস্য

১. প্রথম পর্ব:

সাগরের বুকের উপর দিয়ে যে ঢেউ একবার বয়ে চলে যায়,সে ঢেউ আর ফিরে আসে না।একটি জীবন্ত বৃক্ষের ডাল থেকে একটি পাতা ঝড়ে পড়ে গেলে,সে পাতাটি নিস্তেজ হয়ে নুয়ে পড়ে থাকে।কতো প্রাণীর পদ-তলে পাতাটিকে পড়তে হয়।আবার একই পাতা বৃক্ষ থেকে ঝড়ে পড়ার পড়ে কতো প্রাণীর মুখের আহার হতে হয়,কখনো উনুনের মুখে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হয়।সেই একই পাতা যদি বৃক্ষের ডালে থাকতো,তাহলে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্র্রিজেন হিসেবে কাজ করতো।এই রহস্যময়,পৃথিবীর বৈচিত্র্য অপরূপ।এই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাণীর স্বভাব বিভিন্ন রকম।

সুখ-দুঃখ,ব্যাথ্যা-বেদনা,হাসি-কান্না,জ্বালা-যন্ত্রণা,অত্যাচার-নিপীড়ন,লাঞ্ছনা-অবহেলা প্রভৃতি নিয়েই আমাদের এই অপরূপ শূণ্যে বেঁচে থাকার জীবন।এই ধরণীতে বেঁচে থাকতে হলে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হবে।দুঃখ-ব্যাথ্যা,বে­দনা জীবনে পর্যায় ক্র্রমে আসবেই।তাই বলে নয়নের অশ্রু ঝড়িয়ে জীবনটাকে নষ্ট করার প্রয়োজন নেই।এই ধরণীশ্বরের মানুষের জীবনের কাহিনীগুলো একেক জনের একেক রকম।হঠাৎ একটি মশার কামড়ে জন্য,চিন্তার বসুধা থেকে বের হয়ে অনুভব করতে পারল তার দুটি আঁখি বেয়ে নেত্রবারি ঝড়ছে।সে নিজেই উপলব্ধি করতে পারেনি।

আম্মু কেঁদে বলতে লাগল তোমার মত পুত্র জন্ম দিয়ে আমি অনেক গর্বিত আব্বুজান।সকালের টেবিলের খাওয়া আর সকলের তেমন হলো না।পিতাজান অফিসে চলে গেলেন আর আম্মাজান স্কুলের শিক্ষকতা করতে চলে গেলেন।রাকিব বিছানায় সুয়ে সুয়ে ভাবতে লাগল,আচ্ছা এই পৃথিবীর মানুষের জীবনগুলো এরকম কেন।রাকিব ভাবছে এমনি সময় হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো।মোবাইলে রাজকন্যা নামটি প্রদর্শিত হলো।তাড়াতাড়ি ফোনটা রিসিভ করে বলতে লাগল এই তুমি গতকালকে কলেজ আসনি কেন।তোমাকে একটি নজর দেখার জন্য আমার মনটা অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে পড়েছে।তুমি তা বুঝনা আমার প্রিয় রাজকন্যা।

সেই ভোর বেলাতে ঘুম ভেঙ্গে বিছানায় সুয়ে থেকে ভাবতে ভাবতে কখন যে বেলা হয়ে গেছে,সেদিকে কোনো খেয়াল নেই।বিছানা থেকে ওঠে গিয়ে রাকিব তার দৃষ্টি আয়নার দিকে দিতেই তার দৃষ্টি আকর্ষণ করল তার মাথার এলোমেলো চুলগুলো।রাকিক তার বাম ভুরুটা কয়েকবার কুচকালো,তারপর নিচের ঠোঁটে কয়েকবার দাঁত দিয়ে চিমনি কাটলো।আজ যেনো সে নতুন একটা রাকিবকে দেখছে।এই রাকিব কয়েক বছর আগে কতো ছোট ছিল,আজ কতো বড় হয়েছে,সে নিজে নিজে ভাবতে ভাবতে ওয়াশ রুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে।

ওয়াশ রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আবার আয়নার সামনে সে নিজেকে দেখতে লাগল।আবার বাম ভুরুটা কয়েকবার কুচকালো আর নিচের ঠোঁটে কয়েকবার দাঁত দিয়ে চিমটি কাটল।হঠাৎ কক্ষের দরজায় শব্দ হতে লাগল,রাকিব বলল আসছি,দরজা খুলতেই কাজের মেয়েটা ভাই জান খালা আম্মায় নাস্তা করতে ডাকতেছে।তুমি যাও আমি আসছি।তাই বলে রাকিব ঘর থেকে বের হয়ে খাবার টেবিলে যেতে না যেতেই তার আম্মা বলে উঠলো এতো দেরি হলো কেন আব্বাজান।রাকিব কোনো কথা ছাড়াই তার আম্মা ও আব্বাকে সালাম দিয়ে কেদারায় বসে বললো আম্মা আজ একটু ঘুম থেকে ওঠতে দেরি হয়ে গেছে।

আম্মায় বলল,আব্বাজান তোমার শরীর ঠিক আছে তো,আজ কয়েকদিন থেকে তুমি একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠছো,ফজরের সালাত ঠিকভাবে আদায় করেছো না।তোমার শরীর খারাপ করছে নাতো।রাকিব বলল,আম্মাজান তেমন কিছু হয়নি।রাকিবের আব্বাজান এবার বলে উঠলো আব্বুজান কিছু হলে তুমি আমাকে বলতে পারো,সেই ছোট্ট বেলা থেকেই তোমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু হয়ে আছি,আবার তোমার প্রিয় পিতা হয়ে তোমার পাশে আছি।তোমার কিছু হয়ে থাকলে আমাকে বলো আব্বুজান।রাকিব তেমন কিছু হয়নি পিতা জান।আমার কিছু হলে সর্বপ্রথম তোমাকেই জানাই তো পিতা জান।তুমি তো তা জানোই পিতাজান।

আব্বু তুমিই আমার একমাত্র সন্তান।আম্মায় বলে ওঠলো এবার একটু দয়া করে গল্প থামাও কখন নাস্তা করা শুরু করবে,এরপর তো না হলে দেরি হয়ে যাবে।রাকিব পিতা জান আম্মাজান ঠিকই বলেছে,তাড়াতাড়ি নাস্তা করে নিই।তোমার সাথে রাত্রে জমিয়ে আড্ডা দিবো।আম্মাজান এবার জলদি করে খেয়ে নাও,আব্বুজান।রাকিবের দুই নয়ন দিয়ে অশ্রু ঝড়তে শুরু করেছে,আম্মু-আব্বূ বলে ওঠলো আব্বুজান তোমার চোখে অশ্রুকেনো।কি হয়েছে তোমার।রাকিব বলতে লাগল আমি তোমাদের মত পিতা-মাতা পেয়ে অনেক শুকরিয়া আদায় করি মহান আল্লাহুর দরবারে।

রাজকন্যা:তোমাকে না দেখলে আমিও ঠিক থাকতে পারি না,তা তুমি বোঝনা,আমার মনের ঘরের রাজপুত্র।

রাকিব:তাই তো,আমি তো ভুলেই গেছিলাম,ধ্যাত্তুরি মাথা,তোমার প্রেমে পড়ে সবকিছু ভুলে যাচ্ছি রাজকন্যা।তুমি কি মায়ায় জড়ালে আমায়,রাজকন্যা।

রাজকন্যা:আমি কখন তোমায় মায়ায় জড়ালাম,রাজপুত্র।তুমিই তো আমাকে তোমার মনের ঘরে যাদু করে বস করে রেখেছো,রাজপুত্র।

রাজপুত্র:ওকে আমি আজ দেখা করতে আসছি,রাজকন্যা।ওকে বাই

রাজকন্যা:আমি পড়ার ফাঁকে তোমাকে কল করেছি,বিকেলে দেখা হবে,ওকে বাই।এভাবে

দুজন দুজনার সাথে কথপকথন করতে করতে তারা যে গতকাল যে কষ্ট অনুভব করেছিলো দুজন দুজনাকে না দেখে সেটা তারা ভুলেই গেছে।এই ভালোবাসাটা আসলেই কেমন,এক অদ্ভুত,ভালোবাসার মানুষটিকে মন থেকে হূদয় দিয়ে বসলে কখনো ভুলে থাকা যায় না।ভালোলাগা আর ভালোবাসাটা এক নয়।মানুষ সর্বদা সুখ অন্বেষণ করে চলেছে।কিন্ত প্রকৃত সুখ কয়জনে অন্বেষণ করার জন্যে ছুটে বেড়ায়।মনের ঘরে সুখ থাকলেও হবে না।মনে শান্তি ও থাকতে হবে।সুখে থেকে শান্তি অনেক বড় একটি জিনিস।এ ধরণীতে মানুষ অমর নয়।মৃত্যু আছে বলে জীবনে নৈরাশ্য কাম্য নয়।ঠিক ভালোবাসা জোড় করে অর্জন করা যায় না,বুদ্ধি বা কৌশলের সাহায্যে তা সহজেই করা যায়।

হঠাৎ,রাকিবের মনে পড়ে গেল,আমাদের তো কোনো কিছুর অভাব নেই,তবু কি জন্যে,কিসের জন্য আম্মু যামিনীতে নিরবে একা একা নয়নের নেত্রকোণা ঝড়ায়।কিসের এতো বিরহ-বেদনা।আমাকে জানতেই হবে।কারণ বুদ্ধি যার,শক্তি তার।আজ আম্মু কে জিজ্ঞাসা করতেই হবে।কিসের জন্যে গভীর রজনীতে দুই নয়নের অশ্রু ঝড়িয়ে নিরবে একা একা কাঁদে।কিসের এতো দুঃখ আম্মুর জীবনে।দুপুর গড়িয়ে বিকেল চলে এলো।আম্মু-আব্বু এক সাথেই নিকেতনে আসলেন।সবাই ফ্রেশ হয়ে বিকেলের খাবার খেলেন আর খুব আড্ডা দিলেন।এদিকে বিকেলে রাজকন্যার সাথে দেখা করার কথা তার রাজপুত্রটির সে কথা এতোক্ষণ খেয়াল ছিলোনা,মনে পড়ার সাথে সাথে সে ওঠে বলল আম্মু-আব্বু আমি একটু বাহিরে ঘুরতে যাবো।আম্মাজান না এখন কোথাও যেতে হবে না আব্বু জান।পিতাজান:যাক না যখন যেতে চাচ্ছে আমার আব্বুটি নিষেধ করছো কেন।ওকে যাও।আমার প্রিয় আব্বু ও আম্মুজান আমি তাহলে এখন যাই।পিতাজান নিশ্চয়ই আমার বাড়ির ঘরের লক্ষীটিকে দেখতে যাচ্ছো,তাই না আব্বুজান।পিতাজান আপনি কি যে বলেন।আম্মু সত্যিই তো বলছে তোমার পিতা।আম্মু তুমিও না।পিতা বলো কি বলতে লেগে থেমে গেলে,আব্বুজান।তোমরা যখন জান তখন আবার আমাকে লজ্জা দিচ্ছো কেনো বলোতো।আমি এসে আবার গল্প করবো এখন যাই আব্বু-আম্মু।ওকে ঠিক ভাবে যেয়ো,ওকে।

যারা পিতা মাতার সাথে ফ্রি ভাবে কথা বলতে জানে না,তাদের মনের মধ্যে জরাগ্রস্ত রোগ বাসা বাঁধে তাদের ভাগ্য সত্যিই খারাপ।সুখ পাখির নাগাল পাওয়াও যে বড় কষ্ট।সোনার হরিণের মতো সুখ শুধু পালিয়ে বেড়ায় কিন্ত আমরা মানুষেরা হাল ছাড়ি না,অপ্রাণ চেষ্টা করি তাকে ধরতে।সুখ থাকে আমাদের নাগালের বাইরে,তবু আমরা স্বপ্ন দেখি আশার ভেলায় ভর করে।রাকিব তার প্রিয় রাজকন্যার সাথে গল্প করে তার কপালে একটি ছোট্ট করে চুমু খেয়ে তাকে বাড়ির গেট থেকে কিছু দুর পূর্বে এগিয়ে দিয়ে চলে আসলো।রাজকন্যা পেছন থেকে তাকে দৌড়ে এসে তার সামনে দাড়িয়ে তার রাজপুত্রে কপালে একটি ছোট্ট করে চুমা দিয়ে বললো এই ভালোবাসার রাজপুত্র তোমার পাওনা না নিয়েই চলে যাচ্ছিলে,তুমি একটা…….রাকিব সঙ্গে সঙ্গে বললো আমি একটা কি বলো,,,,,,,,,,না কিছু না।ও তাই বুঝি..আসলেই তুমি,,,,,,,বলো কি,,,,,,,কিছু না।আসলেই তুমি একটি,,,,,,,,,প্লীজ বলো না আমি একটি কি,,,,,,,,আমার প্রিয় জামাই।ওরে দুষ্ট বিয়ে না হতেই জামাই,,,,ইয়ে বুঝেছো,,,,,আরে শোন এই রাজকন্যা শোন।আশায় মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।জীবন সংসার বিপদসঙ্কুল সমুদ্রের মতো।মানুষ তার সুখের জন্য অদম্য চেষ্টা অক্লান্ত পরিশ্রম করে।

রাকিব,এবং তার আম্মু ও আব্বু জান এবং কাজের মেয়েটি চার জন মিলে একত্রে রাত্রের খাবার খেয়ে নিজ নিজ ঘরে সবাই চলে গেল।রাকিব গভীর রজনীতে ওঠে বেলকুনির কাছে যেতেই শুনতে পেল তার আম্মাজানের কান্নার কন্ঠস্বর।রাকিব তার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে,হঠাৎ রাকিব আম্মাজান কি হয়েছে তুমি এই গভীর রাত্রে প্রতিদিন নিরবে চোখের জল ফেলো কেন।আব্বুজান তুমি এতো রাত্রে এখানে কি করছো,আমার কিছু হয়নি।তুমি আমার কাছে থেকে কিছু একটা রহস্য লুকিয়ে রেখেছো আম্মাজান কি এমন রহস্য আমাকে বলো।কিছুনা আব্বুজান,তুমি যাও।না আম্মুজান আমাকে আজ সব শুনতেই হবে,আমি এখন একটু হলেও বুঝতে শিখেছি আমাকে বলো।আব্বুজান তোমাকে ওসব শুনতে হবে না,না আম্মু জান আমি শুনবো তোমার দুটি পা ধরছি তুমি বলো,দয়াকরে বলো,আম্মু জান।আমি প্রতিদিন দেখি তুমি নিরবে একা একা গভীর রাত্রে কাঁদো দয়াকরে বলো কি জন্য কাঁদো? কিসের এতো দুঃখ তোমার?আম্মাজানের দুটি পা ধরে কাকুতি মিনতি করে কাঁদতে লাগল রাকিব।আম্মা রাকিবের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো শোন তাহলে সেই ঘটনা।মানুষ দুই বার জন্মগ্রহণ করে।একবার মাতৃগর্ভে সে জন্ম নেয়।দ্বিতীয়বার সে শিক্ষার মাধ্যমে একজন সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।কুয়াশা ঢাকা শীতের সকালে শৈবালের গায়ে জমা হয় বিন্দু বিন্দু শিশির।সূর্য ওঠার সাথে সাথে রৌদ্রের উত্তাপ বেড়ে যায় এবং প্রাকৃতিক নিয়মে সেই শিশির গড়িয়ে পড়ে যায় এই ধরণীর বুকে।অতীত দিনের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের কথা স্মরণ হলে হাহাকারে বুক ফেটে যায়।

আস্তে আস্তে রকিব ছোট থেকে বড় হতে থাকে এভাবে চলতে চলতে যখন পনেরো তে পা দিলো তখন থেকে রকিব যেন কেমন হয়ে যেতে লাগলো।আর সবার সাথে তেমন ভালো করে কথা বলতো না শুধু একা একা ভবঘুরে হয়ে থাকতো।যে ছেলে এতো চঞ্চল সে ছেলে নাকি একেবারে নিরব হয়ে যেতে লাগলো।খান পরিবারের সবার চোখে এটা একটি রহস্য মনে হতে লাগলো।এভাবে রকিব যখন সতেরো বছরে পা দিলো তখন তার মাঝে আরো পরিবর্তন দেখা দিতে লাগলো।কিন্ত কেই বা জানতো খান পরিবারে এক কাল বৈশাখী ঝড় এসে সব কিছু তচ্ছ নচ্ছ করে দিয়ে চলে যাবে এক মুহূর্তের মধ্যে।তোমার আরো একটি বড় ভাই ছিলো আব্বুজান।আম্মুজান তুমি এ কি কথা শুনালা আমাকে,তোমার মাথা ঠিক আছে আম্মুজান,হ্যাঁ আব্বুজান আমার মাথা ঠিক আছে,আমি যা বলছা তা মনোযোগ দিয়ে শোন তাহলে।তোমার বড় ভাইয়ের নাম ছিলো রকিব।তোমার মতোই দেখতে সুন্দর ছিলো।তুমি তখন ও জন্ম নেওনি।তখন শুধু ছিলো আমাদের একমাত্র সন্তান রকিব।সে ছিল প্রচুর চঞ্চল।সারাটা দিন সবাইকে বিরক্ত করে বেড়াতো সেটাই ছিল তার একমাত্র কাজ।এভাবে সে বড় হতে থাকে আমাদের খান বংশে।আমাদের খান পরিবারের পাশে আরো একটি খান পরিবার ছিলো।আর তার পাশে গ্রামের লোকেরা বসবাস করতো।আমাদের গ্রামটি ছিল অনেক সুখে-শান্তিতে পরিপূর্ণ।আমাদের পরিবারের পাশেই যে গ্রামটি ছিল সে গ্রামেই থাকতো এক বুড়ি মা।সে বুড়িমার কোনো সন্তান ছিলো না।নিয়তির নিয়ম অনুযায়ী সেই বুড়ি মার বৃদ্ধ বয়সে একটি ছেলে সন্তান হয়।সে ছিল রকিবের কয়েক মাসের ছোট।তার নাম ছিল সান,সে ও ছিল বেশ ভালো।সানের বাবা প্রচুর বৃদ্ধ।কোনো কাজ করতে পারতো না।তাই আস্তে আস্তে করে পথ চলে ভিক্ষা করতো,এভাবে তাদের তিন জনের কোনো মতে খেয়ে পড়ে দিন চলে যেতো।রকিব প্রতিদিন সকালে পাঠ শালায় যেতো।পাঠ শালায় যেতে যেতে সান আর রকিব দুজন দুজনার খুব ভালো দোস্ত হয়ে উঠেছিলো।এক পর্যায়ে তারা একে অপরকে এক মুহূর্ত না দেখে থাকতে পারত না।সানেরা যে অত্যন্ত গরিব,তার বৃদ্ধ বাবা ভিক্ষা করে বলে তাদের সংসার চলে এ কথা সান কখনো রকিবকে জানায়নি।এ দিকে রকিবের পরিবর্তনের বিষয় সবার চোখে রহস্যময় হয়ে উঠেছিলো।আমাদের পাশে যে খান পরিবারটি ছিল তারা প্রচুর প্রভাবশালী ছিল আমাদের থেকেও।তারছিল এক কন্যা আর এক পুত্র সন্তান।তারাও পাঠ শালায় যেতো।প্রভাবশালী খান পরিবারের পুত্রের নাম ছিলো জয় খান আর কন্যার নাম ছিলো জয়া খান।জয়া ছিলো অপরূপ দেখতে আর জয় ও ছিলো দেখতে সুন্দর।জয় ও রকিব ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধু।এদিকে রকিব সানকে দোস্ত ছাড়া কথায় বলতো না।রকিবের সাথেও জয়ের সম্পর্ক ছিল অনেক ঘনিষ্ঠ।তারা একে অপরে যতোক্ষণ একসাথে থাকতো,ততক্ষণ হাসি খুশি থাকতো।রকিব সানের দোস্ত ছিলো ঠিকই,তারাও এক সাথে বেলাতো,তবু কখনো রকিবকে হাসতে দেখিনি।শুধু জয়ের সাথে যতটুকু সময় থাকতো,ততক্ষণ ই হাসতে দেখা যেত।এদিকে জয়া ও ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।আমাদের বাড়িতে অল্প যাতায়াত করত।রকিব নতুন যে পোশাক ই কিনতো তা আগেই জয় তার কাছে থেকে জোড় করে ছিনিয়ে নিয়ে পড়তো।রকিব যখন খেতে বসতো তখন জয় তার খাবারের প্লেট কেড়ে নিয়ে নিজে খেতে লাগতো।রকিব যখন ঘুমিয়ে থাকতো,তখন জয় পানি নিয়ে গিয়ে রকিবের চোখে মুখে ছিটিয়ে দিতো তবু যখন ঘুম থেকে ওঠতো না,তখন বালতিতে করে পানি নিয়ে গিয়ে তার গায়ে ঢেলে দিত।রকিব ঘুম থেকে ওঠে রেগে জয়কে তাড়া করতো আর জয় পালিয়ে গিয়ে দূলে বুড়া আঙ্গুল দেখিয়ে দাঁত বের করে হাসতো।রকিব ফেস হয়ে আয়নার সামনে যখন দাড়িয়ে নিজের চুল আচড়াতো তখন জয় তার পাশে গিয়ে বলতো কিরে শুধু তোর টাই আচড়াবি আমারটা আচড়িয়ে দিবি না।দুই জনা দুইজনার মাথার চুল আচড়িয়ে দিয়ে ঘুরতে বের হতো।আর যতক্ষণ রকিব একা একা থাকতো ততক্ষণ মন মরা হয়ে থাকতোএকদিন জয়ের প্রচুর মন খারাপ।জয়ের মন খারাপ দেখে রকিব অস্থির হয়ে প্রায় পাগলের মতো হয়ে পড়েছিলো।জয়ের কি জন্য মন খারাপ জয় সে কথা কাওকেউ বলছে না।রকিব জয়ের মাথায় ছোট শিশুর মতো হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর জানার চেষ্টা করছে কি জন্য তার মন খারাপ।কিন্ত জয় কিছুতেই বলছে না।এক পর্যায়ে রকিবের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল।হঠাৎ,রকিবের কান্না দেখে জয়ের ও চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল।এবার জয় রকিবের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর বলছে এই পাগল আমার কিছু হয়নি,অযথা তুই কান্না করছিস।রকিব বলে উঠল সেই ছোট্ট বেলা থেকে তোকে দেখে আসছি কোনো দিন তোকে মন খারাপ করতে দেখিনি।আজ কেনো তোর মন খারাপ।এই পাগল আমার কিছু হয়নি,বিশ্বাস কর।কি বিশ্বাস করবো বল।তুই আজকাল কেমন হয়ে যাচ্ছিস।তাই বুঝি।আচ্ছা বল আমি কেমন হয়ে যাচ্ছি।এই তোর ঠাট্টা করা বন্ধ কর।সত্যি কথাটা বল।কিসের আবার সত্যি কথা রে পাগলু কোথাকার।এই পাগলু কে তুই না আমি।তুই।এই তুই আমাদের পাশের গ্রামের সান নামের ছেলেটাকে চিনিস।হঠাৎ,রকিব নিশ্চুপ হয়ে গেলো।জয় এই কিরে কথা বল।রকিব কিছুক্ষণ পরে জবাব দিয়ে বলল,হ্যাঁ চিনি।হঠাৎ,সানের কথা বলছিস কেনো।আচ্ছা বন্ধু তুই ওর সাথে কথা বলিস।কেনো রে,আগে বল।তুই আগে বল ওকে চিনিস।হ্যাঁ,চিনি।সান আমার দোস্ত।এই তুই সত্যি বলছিস।হ্যাঁ,সত্যি বলছি।তোকে আমি কবে মিথ্যা কথা বললাম তুই বলতো।এই এতো ন্যাকামো বাদ দে,তুই আমার একটি উপকার করে দিবি বন্ধু।দয়াকরে না করিছ না।ওকে বল কি,উপকার।আগে বল আমাকে ভুল বুঝবি না।এই কি বলবি বল তাড়াতাড়ি।ওকে শোন,তোকে বলাই হয়নি,সানকে আমি প্রথম যেদিন দেখেছি সেদিন থেকে ওর প্রতি আমি আকৃষ্ট হতে লেগেছি।তুই জানিস না,সানকে একদিন না দেখলে আমার ভালো লাগে না।আমার একটি পত্র তুই সানকে লিখে দিবি।এদিকে জয়ের কথা শোনে অঝরো নয়নে চোখের জল ফেলছে রকিব।কারণ রকিক যে মনের অজান্তে জয়কে ভালোবেসে ফেলেছে,সে কথাটা রকিব নিজেই জানতো না।আজ একটু একটু সেটা উপলব্ধি করতে পারছে রকিব।জয় হঠাৎ রকিবকে বলে উঠলো কিরে তুই কাঁদছিস কেনো।কি হলো তোর আবার।ওকিছু না,তোর মুখের একটু হাসি দেখে আমার চোখে জল চলে এসেছে তা আমি বুঝতেই পারি নাই।ও তাই বুঝি।এই শোন আমার হয়ে পত্রটি তুই লিখে দিবি সানকে।রকিব বলে উঠলো,এই তুই সানকে ভালোবেসে ফেলেছিস তা এতো দিন আমার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলি কেন।তোকে ভয়ে বলতে পারিনি রে।ও তাই বুঝি।হঠাৎ আজ কি মনে করে বললি।আমি কয়েক সপ্তাহ থেকে সানের চলাফেলার মধ্যে পার্থক্য দেখছি।তাই তো আজ মন খারাপ ছিল বেশি,আর তোকে আজ সাহস করে সব খুলে বললাম।ভালো করলি।শোন পত্র আমি লিখতে পারবো না।তুই লিখবি আমি দিয়ে আসবো।আরে তুই তো দেখছি প্যাচাইলা হয়ে গেলি।ধ্যাত্তুরি কি যে বলিস।এই তুই এভাবে কথা বলছিস কনো।তোর হিংসা হচ্ছে।এ আবার কেমন কথা হিংসা করবো কেনো রে।ঐ দিকে সান তার মনের ঘরে জয়ের বোনকে বসিয়ে ফেলেছে।আর জয়ের বোন জয়া তার সবটা জুড়ে রকিবকে ভালোবেসে চলেছে।কেউ কাওকে তাদের মনের কথা বলেনি।এভাবে ঘটনা দিন দিন অন্য দিকে মোড় নিতে আরম্ভ করেছে।জয়ার পরিবার ও রকিবকে তাদের জামাই করার জন্য সব সময় প্রস্তুত।কিছুদিন পর জয় পত্র লিখে নিয়ে চলে এসেছে রকিবের কাছে।এই রকিব আজ ই তুই সানকে এই পত্রটি দিয়ে আমার সব কথা খুলে বলবি।এই বলে জয় চলে গেল খুশিতে।এদিকে দুই নয়নের অশ্রুতে বিছানা ভেজাছে রকিব।মনের অজান্তে কখন থেকে যে জয়কে সে মন দিয়ে বসেছে তা নিজেই বুঝতে পারেনি।এখন ধীরে ধীরে বুঝতে পারছে।ভালোবাসা কেন এভাবে মানুষের জীবনে আসে,কিসের জন্য এভাবে এসে সবকিছু তচ্ছনচ্ছ করে দিয়ে চলে যায়।ভাবছে আর চোখের জল ফেলছে।কিছুক্ষণ পর বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে,বের হলো পত্রটি হাতে নিয়ে।সানের বাড়ির কাছে গিয়ে একটি ছোট্ট ছেলেকে ডেকে বললো এই বাবু তোমার নাম কি?ছেলেটি উত্তর দিলো আমার নাম শাকিব।বাহঃ অনেক সুন্দর নাম তো তোমার।আমার একটি ছোট উপকার করে দিবে।বলেন বাহ জান,কি করতে হবে।একটু সানকে ডেকে দিবে।এই কাজ থামেন এহোনি ডাইকা দিচ্ছি।কিছুক্ষণ পর সান চলে আসছে,ছোট ছোট ধাপ ফেলে।আরে দোস্ত তোর জন্য কখন থেকে অপেক্ষা করছি।কেমন আছিস।আমি ভালো আছি দোস্ত,তুই কেমন আছিস দোস্ত।এই তো ভালো আছি।তোর সাতে কিছু কথা আছে দোস্ত।আগে বাড়ির ভেতর চল তারপর তোর সবকথা শুনবো।নারে আজ যাবো না,অন্যদিন যাবো।চল পুকুর পাশে যেতে যেতে কথা বলি।আচ্ছা চল।তোকে যে কথাটা বলতে এসেছি,তুই আমাকে ভুল বুঝবি নাতো।আরে না তুই আমার প্রাণের দোস্ত না,তোকে কখনো ভুল বুঝতে পারি।রকিব মন খারাপ করে বাড়িতে ফিরে এলো।জয় বিকেলের পড়ে এসে জিঞ্জাসা করল কিরে বন্ধু কাজ হয়েছে।কোনো কথা নেই।কিরে কথা বল,তবু কোনো কথা নেই।এই তুই চুপ কেনো,সানের কাছে গিয়েছিলি।তবু কোনো কথা নেই।এই বন্ধু কথা বল,চুপকরে থাকিস না,দয়াকরে কথা বল।হ্যাঁ আমি গিয়েছিলাম।তারমানে কাজ হয়ে গিয়েছে,হুররে ইয়া হুররে কি আনন্দ জয়ের জীবনে।জয় আনন্দে দিশা হারিয়ে রকিবকের কপালে দুই গালে চুমু খেতে লাগল।হঠাৎ রকিব বলে উঠলো বন্ধু।সান তোর প্রস্তাবে রাজি নই।সান এই সব ভালোবাসাকে ঘৃণার চোখে দেখে।জয়ের দুই চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগলো।এই পাগল তুই কাঁদছিস কেনো,পৃথিবীতে কি ছেলের অভাব পড়েছে নাকি।তুই ঐসব বুঝবি না,দোস্ত।আচ্ছা দোস্ত ভালোবাসা এমন কেনো,এই ভালোবাসায় এতো দুঃখ কেনো।রকিব ও কান্না থামিয়ে রাখতে পারলো না।জয় হঠাৎ দেখল রকিব কাদছে,এই তোর আবার কি হলো তুই কাদছিস কেনো।ও তুই বুঝবি না।এদিকে রকিবের আব্বাকে জয়ের আব্বা প্রস্তাব দিয়েছে,জয়ার সাথে রকিবের দুই হাত তারা অটুট বন্ধনে বাঁধতে চাই।রাতের খাবার টেবিলে যখন একথা বললেন রকিবের আব্বা তখন রকিব কোনো কথার উত্তর দিলো না।খাওয়া শেষে উঠে চলে গেল।ঐদিকে সান তার মনের কথা জয়াকে বলা মাত্র জয়া তাকে নির্মমভাবে অপমান করে।সান ঐদিকে অপমান সহ্য করে বুক ভরা হাহাকার নিয়ে বাড়িত ফিলে গেল।জয়া সব কথা তার আম্মাকে জানায়।তার আম্মা পরিবারের সবাইকে জানায়।কিন্ত সানের কি দোস,সে শুধু বড় লোকের ঘরের মেয়ে কে ভালোবেসেছে এটাই হলো তার বড় অপরাধ।এদিকে জয় স্বপ্ন বুনে সানকে নিয়ে,রকিব স্বপ্ন দেখে জয়কে নিয়ে,সান স্বপ্ন গাঁথে জয়াকে নিয়ে,আর জয়া স্বপ্ন দেখে রকিবকে নিয়ে।আমি মা হয়ে কার দিকে হয়ে কথা বলবো।না পারবো নিজের সন্তানকে কোরবাণি করতে আর না পারবো অন্যের স্বপ্ন ভাঙতে।জয়ের বাবাকে গ্রামের মন্ডল পরিবারের ছেলে রাস্তায়,ধরে অনেক কথা বলেছে।আপনার ছেলের দিকে একটু নজর দিয়েন।আপনাদের খান পরিবারে অনেক মান-সম্মান এই গ্রামে।আর আপনার সন্তানের জন্য সবকিছু মাটিতে মিশে যাবে এক মূহুর্তে।এই তুমি কি বলছো ঠিক করে ভেবে বলছো তো।আমার ছেলে এমন কি কাজ করেছে যাতে মান-সম্মান চলে যাবে খান পরিবারের।আপনি জানেন না,আপনার ছেলের চরিত্র।আপনার ছেলের জীবন অভিশপ্ত।সে ছেলেদের প্রতি দুর্বল।ছি ছি জাতের নাম তো ডুবাবেই,গ্রামটাকে অপবিত্র করে ছাড়বে।জয়ের বাবা এসব কথা শুনে রেগে বাড়িতে গিয়ে,সারা বাড়ি মাথায় করে ফেলেছে।এই জাহানারা,জয়া,আম্মাহুজুর,আব্বাহুজুর,জয়,শাহিন,নোবেল,মনির,আমিন,আম্মান,তুষার বাড়ির সবাই কোথায়।সবাই কি মরেছি নাকি।একে একে সবাই উপস্থিত।জাহানারা এসেই শুরু করে দিল তার বক্তব্য তোমার সাথে কথা আছে।এই এখন একদম চুপো।তোমার ছেলে কোথায়।ওইতো আসছে।এই শোন।ওর সাথে কথা বলার আগে আমার কথা শোন,তোমার আবার কি কথা ।আমাদের আদরের প্রিয় সন্তান জয়।ছেলে বলেও ভাবতে তাকে আমার ঘৃণা হয়।প্রধান কর্তি বলে উঠলো,কি এমন করেছে আমার বংশধর।যার কারণে তুমি এমন কথা বলতে বাধ্য হচ্ছো।এই সন্তান অপবিত্র,এর জীবন অভিশপ্ত।এই কুলাঙ্গার ছেলের কথা শুনলে তোমাদের সবার মাথা গরম হয়ে যাবে।জাহানারা বলে উঠলো কি এমন পাপ কাজ করেছে আমার পুত্র।জয় লজ্জায় মাথা নিচু করে চোখের জল ফেলছে।তোমার এই সন্তানের জীবন অভিশপ্ত সে ছেলেদের প্রতি আকৃষ্ট।জাহানারা বেগমখান পরিবারের প্রধান কর্তি বলে উঠলো,এই খান পরিবারের একটি ঐতিহ্য বাহী সুনাম আছে।আজ এতো বছর পর এই শুনামের কলঙ্ক ঘটবে তা কখনো হতে পারে না।আম্মাহুজুর কি বলছেন পরিষ্কার করে বলেন।আমার আদরের নাতিকে মানে তোমাদের আদরের কন্যাকে এক ফকিননির ছেলে ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়েছে।এর কঠিন শাস্তি চাই।খোকন সাহেবের মাথায় এবার আরো রাগ চেপে গেল।ওর বিচার তো করবোই তার আগে এই বাড়ির ছেলের বিচার আগে করবো।রেগে গিয়ে বলে উঠলেন এই অপবিত্র ছেলের জন্ম আমার কোলে কেন হলো।একে আমার ছেলে বলে ভাবতে ঘৃণা হচ্ছে।প্রধান কর্তা এতোক্ষণ চুপ করে ছিলো,এবার রেগে উচ্চস্বরে বলে উঠলো শাস্তি সবার সমান।এই পরিবের ছেলে বলে ওর ক্ষমা নেই।প্রধান কর্তির জবাব ওকে একবার ভালো হবার সুযোগ দেয়া হোক।প্রধান কর্তা এই পরিবারে এমন কোনো নিয়ম নেই।নিয়ম সবার জন্য একই থাকবে।আর ও যে ছেলেকে ভালোবেসে অপরাধ করেছে তাকেও শাস্তি ভোগ করতে হবে।জয় বলে উঠলো ভালোবাসা কি পাপ আব্বা হুজুর।খোকন সাহেব এই চুপ কর বেয়াদব।কে তোর পিতা।তোর মতো সন্তানের মুখ থেকে পিতা ডাক শোনাও পাপ।প্রধান কর্তি ঠিক এই পাপ করেছিল তোমার চাচা জান তাই তাকেও কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হয়েছিল।তোমার ক্ষেত্রেও একই শাস্তির বিধান দেওয়া হবে।খোকন সৈন্য পাঠাও যাকে ও ভালোবেসেছে তার খোঁজ করে এখনি তাকে এখানে উপস্থিত কর হোক।জয় দাদিমা ওর কোনো দোষ নেই,ও নির্দোষ।জাহানারা বেগম বলল তোমার মেয়েকে যে ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়েছে তার কি হবে?প্রধান কর্তা ওই ফকিননির ছেলেকেও ধরে আনা হোক।জয়া এদিকে তার ভাইয়ের চরিত্রের কথা শুনে কাদছে।এখন ভাইকে কি শাস্তি দেয়া হবে সেটা নিয়ে।প্রধান কর্তি জাহানারাকে আদেশ দিলেন তুমি ভেঙে পড়বে না,আমার মতো বুকে পাথর বাঁধো,জি আম্মাহুজুর আপনি রায় দেন,প্রধান কর্তাও একই কথা বললেন রায় প্রদান করা হোক।সৈন্যরা সানকে ধরে আনলো,এদিকে রকিব ও ছুটে গেলো।যদি তাদের কোনো বাঁচানোর উপায় খুজে বের করতে পারে।কর্তি একজনের জন্য এই খান পরিবারের নিয়মনীতি বদলানো যাবে না।রায় ঘোষণা করা হলো,এদের দুজনকেই অগ্নিকুন্ডে পুড়িয়ে মারা হবে।অগ্নিকুন্ডের ব্যবস্থা করা হোক।যতোই কঠিন কথা সবাই বলুক না কেন,তবু তো তাদের হূদয় বলে একটা জিনিস আছে।মনে মনে সবাই কাদছে।বংশের প্রদীপ চলে যাচ্ছে।এদিকে রায় কার্যকর করার জন্য সব কিছু প্রস্তুত করা হয়ে গেছে।জয়ের ও সানের চোখ মুখ হাত পা বেধেঁ অগ্নকুন্ডে নিক্ষেপ করা হলো তাদের।কিছুক্ষণ পরে শুধু বাঁচাও বাঁচাও বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনা গেলো তবু কেউ তাদের ডাকে সারা দিলো না।এদিকে রকিব ওখানে যেয়েই এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে,কাঁদতে শুরু করল।যে জীবনে জয়কে পাবো না,সেই জীবন রেখে লাভ কি।রকিব ও অগ্নিকুন্ডে ঝাপ দিলো,জয়া ও আর থাকতে পারলো না।জয়ার মনের ঘরের রাজকুমার যখন রইল না তখন সে আর কাকে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখবে।জয়াও ছুটে গিয়ে অগ্নিকুন্ডে ঝাপ দেয়।নিমিষেই কান্নার হাহাকার পড়ে যাই দুই পরিবারের মধ্যে।খান পরিবারের কাছে ওদের নিয়মটাই সব কিছু ছিল।সমস্ত গ্রাম নিশ্চুপ।এই পৃথিবীর মানুষগুলো অনেক ভিন্ন ধরণের।রাকিবের আম্মা জান রাকিবকে সব কিছু খেয়ালে বলে নিজেই কান্না থামাতে পারছে না।রাকিব ও কাঁদছে ।হঠাৎ ধরপড়িয়ে ঘুম থেকে ওঠে ভয় পেয়ে গেছে আপন।নিজেকে চিমটি কেটে দেখতে লাগল।সে ঠিক আছে তো।তারপর দেখলো সে নিজের বিছানায় ঘুমিয়ে আছে।এতোক্ষণ যা যা দেখলো সব কিছুই সে স্বপ্নের ঘড়ে দেখছিলো।আপন ভেবে পাচ্ছিলো না,কেনো এমন স্বপ্ন দেখলো।আর স্বপ্নটা একেবারেই ভিন্ন।ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখলো পাঁচটা বাজে।আপন ভাবছে আসলেই আমাদের জীবনটা কি ধরণের।গাছের পাতার চেয়ে ফুলের মূল্য অনেক বেশি আমাদের।পাতার মূল্যটি আমরা কখনো ভেবে দেখিনি।শুধু ফুলের সৌন্দর্যের দিকেই তাকিয়ে পড়ে থাকি।আপন ভাবতে ভাবতে আবার ঘুমিয়ে পড়েছে।পিছনে পড়ে রইল স্বপ্নের কাহিনী।গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক।আর সম্পূর্ণ গল্পটি আপন নামের ছেলেটি স্বপ্নের মধ্যে দেখে।

“সমপ্রেমের গল্প” ফেসবুক পেইজ হতে সংগৃহীত- ২০১৬

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.