নীল আকাশে কালো মেঘের ভেলা

শুভ্রনীল দাস রাজু

আজ সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে,সন্ধ্যা হতে চলেছে এখনও থামে নি,শুভ ফেসবুক চালাতে চালাতে ঘুমিয়ে পড়েছে,হঠাৎ ওর মা বলল”এবার ওঠ বাবা,মাগরিবের সময় হয়েছে”,শুভ উঠে অযু করতে গেলো,এসে ফোনটা নিয়েই দেখলো ইনবক্স তুহিনের এস এম এস এ পূর্ণ হয়ে গেছে,শেষ ম্যাসেজটায় লেখা”018*******0,এটা আমার ফোন নম্বর,যদি মন চায় একটু ফোন দিও”শুভ নাম্বারটা সেভ করে মসজিদের দিকে গেলো,নামায পড়ে বাইরে এসে ফোন দিলো,

-হ্যালো,তুহিন?

-হ্যা,কে বলছেন?

-আমি শুভ,রাগ করেছো?

-তোমার সাথে কথা বলব না,তুমি একটাও রিপ্লে দাও নি,তুমি খুব খারাপ…

এই বলে তুহিন লাইনটা কেটে দিলো,শুভও ফোনটা রেখে দিয়ে জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখতে লাগল,হঠাৎ তার চোখ দিয়ে অজানা কারণে কয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল,সে রাতে আর বই না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ল,পরেরদিন ঘুম ভাঙল ফোনের কলিং রিংটোন শুনে,ফোনটা রিসিভ করতেই,

-গতকালের ব্যবহারের জধ্য দুঃখিত,কেমন আছো?

-ভালো,(কিছুটা খুশি হয়ে)এতো সকালে ফোন দিয়েছ কেন?

-কাল দেখা করবা?

-কোখায়?

-দোলখোলা পুজা মন্দিরে…তোমাকে দেখতে ইচ্ছে

করছে,

-ঠিক আছে,কাল বিকালে…

-ও সোনা,থ্যাংক ইউ|

তুহিনের শেষ কথাটা কেমন যেন অদ্ভুদ মনে হলো শুভর কাছে,…..

যাহোক,পরেরদিন সে বিকালে দোলখোলা রাধা-গোবিন্দ মন্দিরে গেলো,বিকাল চারটায় নীল বঙের টিশার্ট পরা একটা শ্যামলা বর্নের ছেলে আসলো,শুভ তাকে দেখে তুহিনের ফোনে কল দিলো,তুহিন বলল,তুমি কই? শুভ বলল,তোমার পেছনে…

তুহিন তখনই পেছন ফিরে শুভকে জড়িয় ধরল,শুভ বাধা দিতে গিয়েও থেমে গেলো,তারপর তারা দুজনে শান্তিধামের একটা রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া করল,তারপর রিকশায় করে রূপসা সেতুর দিকে ঘুরতে গেলো| ফিরে আসতে আবার বৃষ্টি শুরু হলো,তুহিন শুভকে তার বাসায় নিয়ে গেলো,বলল,আজ আর বাড়ি যেতে হবে না| শুভ তুহিনের সাথে বাসার ভেতরে ঢুকলো,দেখে বাসায় কেউ নেই,সে একটু অবাক হয়ে তুহিনকে কিছু বলতে যাবে এমন সময় তুহিন দরজা বন্ধ করে শুভর উপর ঝাঁপিয়ে পরল,শুভ বাঁধা দিতে চাইলো,কিন্তু তুহিনের সাথে পারলো না,তুহিন শুভর ঠোঁট দুটো ক্ষুদার্থের মত চুষতে লাগল,সেইরাতে শুভ নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তুহিনের সাথে লিপ্ত হলো অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে| পরদিন শুভ ইন্টারনেট ঘেঁটে সমপ্রেম ও সমকামিতা সম্পর্কে জানতে পারল,সে নিজেকে পাপী মনে করল,তারপর সে তুহিনের ফোনে দিলো,তুহিন তার সব ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলো,তারপর তারা আবার আগের মত ভালো বন্ধু হয়ে গেলো…….

তারা একে অপরকে খুব ভালোবাসতো,যেখানে যেতো দুজন একসাথে,কিন্তু হঠাৎ একদিন তুহিন শুভর হাতে হাত রেখে বলল,’আমি যদি কখনোও হারিয়ে যায়,তুমি থাকতে পারবে?” শুভ এই কথার কোন মর্ম না বুঝেই বলল,’কেনো?’তুহিন কিছু বললো না,

এরমধ্যে শুভ একটু পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরল,তবুও একটু সময় পেয়ে সে তুহিনের ফোনে কল দিলো,কিন্তু ফোনটা সুইচ্ অফ ছিলো,শুভ পরিক্ষার পর তুহিনের বসায় যেয়ে দেখলো কয়েকজন নার্স তুহিনকে ধরে নিয়ে এ্যাম্বুলেন্সে উঠাচ্ছে,

সে কাছে যেয়ে দেখলো,তুহিনের মাথা দিয়ে প্রচন্ড রক্ত বের হচ্ছে| শুভ হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারল,তুহিন আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল,ওর একটা চোখ দৃষ্টহীণ হয়ে গেছে,শুভ তার একটা চোখ ডাক্তারদের সাহায্যে তুহিনের চোখে প্রতিস্থাপন করলো,

তুহিন সুস্থ হয়ে শুভকে চিনতে পারল না,কারণ সে স্মৃতিশক্তি হারিয়েছে,

শুভ কিছু না বলে একে একা নদীর পাড়ে যেয়ে বসে নির্জনে তার দুচোখের অশ্রু বিসর্জন দিতে লাগল,

এমন সময় নীল আকাশ মেঘে ঢেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামল,শুভ কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করে বলতে লাগল,*এমনই এক বৃষ্টির দিনে তুমি আমার জীবনে এসেছিলে,আজ আবার চলে গেলে,তোমার জন্য আমি সমপ্রেমী হয়েছি,সমপ্রেমকে শ্রদ্ধা করতে শিখেছি।

তুমি কেনো আমাকে ছেড়ে চলে গেলে? এই সমাজ,এই ধর্ম তোমার আমার ভালোবাসাকে নিষিদ্ধ করেছে,আমি আর কখনোও কাউকে ভালভাসবো না,আমি সারাজীবন তোমারি থাকব,হে ঈশ্বর,তুমি যদি আমাদের মেনে নিতে নাই পারলে,তাহলে কেনো আমার জীবন ওকে পাঠিয়েছিলে?

আমি পাপী,বড়ই পাপী,আর এইজন্য তুমি আমাদের ভালোবাসাকে পূর্ণ হতে দিলে না?

আমি শুধু তুহিনকে নিয়েই বাঁচতে চেয়েছিলাম,তুমি আমাকে বাঁচতে দিলে না,কেন আমার ভাগ্যে এমন হলো?* এই কথা বলতে বলতে শুভর ক্লান্ত অবসন্ন দেহটি নদীর পাড়ে ঘাসের উপর লুটিয়ে পড়লো,আর এভাবেই শেষ হলো একটি অপূর্ণ সুন্দর করুণ সমপ্রেম কাহিণী……….

কেনো সমপ্রেমীদের প্রেম কেউ মানতে পারে না ? সমপ্রেমীদের ভাগ্য কেন এমন নির্মম পরিণতি হয়?

“সমপ্রেমের গল্প” ফেসবুক পেইজ হতে সংগৃহীত- ২০১৬

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.