ঘৃণা ও সাদা গোলাপের উপাখ্যান

লেখকঃ তারাশঙ্কর

১)

কলেজের গেট থেকে বেরিয়ে হাতের বাঁয়ে একটু এগুলেই একটা সরু গলি। গলির মুখেই এনায়েত মামার জমজমাট চায়ের দোকান। অবশ্য নিহানদের দলটা এখানে আসে ঠিক চা খাবার জন্য নয়, চায়ের চাইতে বরং টা-এর দিকেই ওদের ঝোঁকটা বেশি। আশেপাশে আরো বেশ কিছু জায়গা থাকলেও এটা ওদের পছন্দের জায়গা, কারণ দোকানের পেছনে খানিকটা জায়গা আছে, বাইরে থেকে চট করে দেখা যায় না। ওখানে দাঁড়িয়ে সিগারেট খেলে স্যারদের চোখে ধরা পড়ার ভয়টা কম। তবে স্যারের চাইতে নিহানের ভয়টা তন্বীকে নিয়েই বেশি, জানা থাকলেও সিগারেট হাতে নিহানকে সে মোটেই সহ্য করতে পারে না। আর প্রেমিকাকে নিহান বাঘের মতই ভয় পায়! অবশ্য কলেজছুটির পর এই সময়টায় তন্বীর এদিকে আসার সম্ভাবনা কম, আর তাই নিহান একটু আয়েশ করেই বাইরে এসে দাঁড়ালো। কিন্তু যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে রাত তো নামতেই হবে! ফুচকাপ্রিয় তন্বী তার দুই বান্ধবীসহ পাশের দোকানেই দাঁড়িয়ে। সাঁ করে ও ঢুকে গেল দোকানের ভেতরে।

“কিরে ডরপুক! হিরো থেকে জিরো হয়ে গেলি একদম!’

হাসতে হাসতে বলল সৌম্য। হাসিতে ফেটে পড়ল সব। নিহান কিছুটা অপ্রস্তুত। কাছে এসে ওর হাত থেকে সিগারেটটা নিতে নিতে সৌম্য আবার খোঁচাল, ‘ছেলেদের জন্য সিগারেট, তোর জন্য সেন্টার ফ্রেশ!’ বলে ওর হাতে একটা ধরিয়েও দিল। আরেকদফা হাসির রোল পড়ে গেল। একটু রাগলেও নিহান তেমন একটা গায়ে মাখল না। অবশ্য সৌম্য ছাড়া অন্য কেউ তাকে এভাবে বলার সাহসও করত না। ন্যাংটা কালের ফ্রেন্ডদের ব্যাপারটা সবসময়ই একটু আলাদা। যদিও তন্বীর সাথে রিলেশন হবার পর থেকেই সৌম্য যেন কেমন একটু হয়ে গেছে। কথাগুলো কেমন জানি কাটাকাটা। সুযোগ পেলেই অপমান করবার চেষ্টা করে। জেলাস? হবে হয়ত। আচ্ছা, এটা নিয়ে ওর সাথে একবার বসতে হবে। আপাতত তন্বী ওকে দেখেছে কিনা সেটা নিয়েই একটু টেনশন লাগছে। এই মেয়ের আবার ঝগড়ার বাতিক আছে। সামান্য কিছুতেই তুলকালাম বাঁধিয়ে দেয়। আর একবার ঝগড়া লাগলে সেটা ঠিক হতে লাগবে কয়েকদিন। নিহান ওই সময়্টা নিতে পারে না। ওর বেশ কষ্ট হয় তন্বীর সাথে কথা না বলে থাকতে। কয়েকবার এমন হবার পর ওর এখন এ বিষয়টায় একটা আতংক তৈরি হয়ে গেছে। তাই চেষ্টা করে তন্বী যেন ঝগড়ার কোন ইস্যু খুঁজে না পায়।

‘কিরে, মহারাণীকে নিয়ে টেনশনে পড়ে গেলি মনে হয়?’
‘সৌম্য! তোকে আমি অনেকবার নিষেধ করছি তন্বীকে এই নামে ডাকতে!’
‘আমার কি দোষ? তুই এমন করিস দেখেই তো বলি। আমাদের কলেজের দপ্তরীটাও তো মনে হয় প্রিন্সিপাল স্যারকে এতটা ভয় পায় না।’
‘শোন, এসব তুই বুঝবি না। জীবনে ঠিকমতন একটা প্রেম করছিস? রিলেশন ক্যামনে মেইন্টেন করতে হয় তুই বুঝবি কি করে?’
‘প্রেম না করছি তো কি হইছে, আর কাউরে দেখি নাই মনে হয়! তুই এত ভ্যাবদা পোলা এটা তো আগে বুঝি নাই।’
‘সৌম্য বেশি হইতেছে! তোর এত্ত জ্বলে ক্যান আমি বুঝি।’ নিহানের গলায় ঝাঁঝ।
‘মানে? কি বলতে চাইতেছিস?’
‘তোর ভালবাসার মত মনই নাই। মাহী কি আর সাধে তোকে ছাড়ছে? নিজের লেজ কাটছে দেইখা তুই এখন আমার ভালও সহ্য করতে পারস না!’
রাগে সৌম্যর মুখ লাল হয়ে গেছে। কিন্তু কিছু একটা বলতে গিয়েও বলল না। হাতের সিগারেটটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বের হয়ে গেল দোকান থেকে।

২)

কানে হেডফোন গুঁজে বিছানায় শুয়ে আছে সৌম্য, সেই সন্ধ্যে থেকে। মা এসে কয়েকবার খেতে ডেকে গেছে, কিন্তু ওর আজ উঠতেও ইচ্ছে করছে না। অদ্ভুত একটা কষ্ট হচ্ছে ওর। নিহান এর সাথে ঝগড়া এর আগেও অনেকবার হয়েছে, মুখ দেখাদেখি-কথাও বন্ধ হয়েছে কয়েকবার। কিন্তু এতটা খারাপ কখনোই লাগে নি ওর। যখন থেকে নিজেকে বুঝতে শিখেছে, নিহানকেই ভালবেসে এসেছে। এত বছরের বন্ধুত্বের রাংতায় মোড়ানো ওর গোপন ভালবাসা সে কখনো নিহানকে বুঝতে দেয় নি। খুব ভাল করে জেনে গেছে ও, ওর সব ভাবনার, ভালবাসার পথ শত অলিগলি ঘুরে এসে ওই একটিমাত্র সদর দরজাতেই শেষ হয়েছে। বুঝে গেছে, কতটা নিষিদ্ধ কামনার গন্ধমফল বয়ে বেড়াচ্ছে সে। তাই সাহস করে শুধু বলে ওঠা হয়নি। না হোক, নিহান তো তারই থাকছে। নিহানের আশেপাশে কাউকে সে ভিড়তে দেয় নি কোনোদিন। সাথে থেকেছে, পাশে থেকেছে, ছুঁয়ে থেকেছে সবসময়। এটুকুই ওর সুখ ছিল, এর বেশি তেমন কিছু সে চায়ও নি। কিন্তু কতজনের রাস্তা আটকাবে ও? লক্ষ্মীন্দরের লোহার বাসর ঘরেও তো ফুটো ছিল। নিহানের জীবনেও তাই মেয়েবন্ধুদের আসা-যাওয়া শুরু হল। খারাপ লাগলেও সৌম্য কিছুই বলে নি কখনো। ওর বিশ্বাস ছিল, এগুলো সব সাময়িক। কিন্তু তন্বী আসার পর থেকেই সব এলোমেলো। ডাকাবুকো ধরনের ছেলে নিহান পুরোই চেঞ্জ! আর এটাই সে সহ্য করতে পারছে না।

যে নিহানকে নিয়ে সে বড় হয়েছে, স্বপ্ন দেখেছে, তার সাথে এই নিহানের অনেক পার্থক্য। আর সৌম্যকে সময় তো আজকাল দেয় না বললেই হয়। এসব মেনে নেয়া ওর পক্ষে সম্ভব না। আর ওই মেয়ের জন্য নিহান আজ ওকে এমন কথা শোনালো!! ভালবাসার মন নেই সৌম্যর? ভালবাসার তুই কি জানিস, ব্যাটা রামছাগল? ভালবাসা জানতে চাইলে এই সৌম্যর চোখে তাকিয়ে দেখিস একদিন! পার্লারে ঘষেমেজে ঝকঝকে হওয়া ওই মেয়ে তোকে কি দেবে? আমার এই শুকনো ঠোঁটে একদিন ঠোঁট রেখে দেখিস, দুনিয়াতেই পেয়ে যাবি শরাবান তহুরার স্বাদ!
হঠাৎ শব্দ করে হেসে ওঠে সৌম্য। এই তার আজকাল এক সমস্যা হয়েছে। নিহানকে খুব চুমু খেতে ইচ্ছে করে ওর যখনতখন, এমনকি এই যখন মনে মনে ওকে শাপশাপান্ত করছে তখনও। নাহ, নিহানের ওপর রাগ করে থাকা ওর পক্ষে সম্ভব না। কিন্তু তন্বীকে সে আর এক মুহূর্তও সহ্য করতে পারবে না। কিছু একটা করতেই হবে ওর ব্যাপারে। খানিকক্ষণ ভেবে মোবাইলটা হাতে নিয়ে একটা নাম্বারে ডায়াল করল ও।

৩)

সন্ধ্যার পর তন্বীকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে বসে আছে নিহান। পরিচিত ওয়েটার এসে মিনারেল ওয়াটার আর মেন্যুকার্ড দিয়ে গেল। নিহান একটু অস্বস্তিতে আছে, পকেটের অবস্থা খুব একটা সুবিধের না। তন্বী বাইরে কোথাও খোলা জায়গায় বসতে চায় না, তাই প্রায়ই এখানে আসতে হয়। বাসা থেকে খুব একটা হাতখরচ পায় না ও, তাই ইদানিং মাঝেমাঝেই বাবার পকেট হাতাতে হচ্ছে। আজ অবশ্য সেই সুযোগ পায়নি। যদিও আর একটা উপায় আছে, সৌম্যকে বলতে পারলে হত। কিন্তু ওর নাম মনে পড়তেই মেজাজটা খিঁচরে গেল নিহানের। ধুর, আর জীবনেও কথা বলবে না ওর সাথে, শালা জেলাস বিচ! আজ অল্প কিছুর ওপর দিয়েই কাটিয়ে দিতে হবে, মনে মনে ভাবল ও। টেবিলের ওপাশে তন্বী তার নতুন আই-ফোনে কারো সাথে চ্যাটিং এ ব্যস্ত। কানাডা থেকে তার মামা পাঠিয়েছে। ওর খালা-মামা-চাচারা প্রায়ই বিদেশ থেকে ওর জন্য দামী দামী গিফট পাঠায়। একটা মানুষের এত খালা-মামা কোথা থেকে আসে কে জানে! নিহানের একটু হিংসেই হয় এসব দেখে। ওদের নিজেদের অবস্থা বেশ ভাল, কিন্তু তন্বী যেভাবে চলে তার সাথে পাল্লা দেয়াটা ওর জন্য দিন দিন আরো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। একটু হতাশ লাগে ওর। মনের মাঝে এক ধরনের অপরাধবোধও কাজ করে, এর আগে কোনদিন বাবার পকেট থেকে টাকা চুরি করে নি ও। নাহ, একটা টিউশনি অন্তত জোগাড় করতে হবে। সৌম্যকে বললে ঠিক খুঁজে দেবে। ধুত্তোরি! আবার ওই হারামজাদার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখন আবার একটু খারাপও লাগছে। তখন ওভাবে না বললেও হত ওকে।

‘এই, কি অর্ডার দিলে?’ তন্বীর ডাকে ওর দিকে মনোযোগী হয় নিহান।
‘হুম, কি বললে?’
‘আজকে পাস্তা খেতে ইচ্ছে করছে খুব। অর্ডার দাও না সোনা!’ আদুরে ভংগীতে বলে তন্বী।
ওর দিকে তাকিয়ে থেকে কেমন ঘোর লাগে নিহানের। পকেটের রুগ্ন স্বাস্থ্য ভুলে যায়। ওয়েটারকে ডেকে তন্বীর জন্য একটা চীজ পাস্তা উইথ টুনা’র অর্ডার দিয়ে নিজের জন্য একটা কোক চায় ও।

৪)

নাহিন ছাড়া সৌম্যর আর একটা বেস্টফ্রেন্ড হচ্ছে মাহী। একমাত্র মাহীই জানে সৌম্যর নিষিদ্ধ পরিচয়। অবশ্য তার পেছনেও আছে আরেক গল্প। মাহী সৌম্যকে ভালবাসত। অনেকবার আকারে-ইঙ্গিতে সে কথা বলার পরও যখন সৌম্য চুপচাপ, একদিন মাহী এসে ধরল ওকে। বাধ্য হয়ে সৌম্য সব খুলে বলেছিল, ভালবাসার অভিনয় করে মাহীর মত বন্ধু হারাতে চায় নি ও। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, সবকিছু খুব সহজেই সামলে নিয়েছিল মাহী। সেই থেকে নাহিনকে নিয়ে সব অনুভূতির গল্পগুলো বলার একটা জায়গা পেল সৌম্য। এদিকে তখন অনেকেই সৌম্যকে নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করেছে। মেয়েঘটিত ব্যাপারগুলো নিয়ে ওর মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই। সারাক্ষণ শুধু ওর মুখে ‘নাহিন, নাহিন’! বন্ধুমহলে মুখরোচক কথা ছড়াতে শুরু করল। এসব নিয়ে অবশ্য ওর খুব একটা মাথাব্যথা ছিল না। হেসেই উড়িয়ে দিত। কিন্তু সমস্যা বাঁধল যখন নাহিনকেও কেউ কেউ বাজে কথা বলতে শুরু করল। সৌম্য নিজের বেলায় অনেক কিছু মানতে পারবে, কিন্তু নাহিনের বেলায় ও একরোখা। বাধ্য হয়ে মাহীর দ্বারস্থ। আবারও ওকে উদ্ধার করল মাহী। দুজনে প্রেমের অভিনয় চালাল কিছুদিন। তারপর ‘গে’ নামের গন্ধটা শরীর থেকে মুছে যেতেই ব্রেকআপের ঘোষণা! সবাই জানল সৌম্যর কঠিন অন্তরের কথা, যে নাকি ভালবাসতে জানে না। যাই হোক, এই দুর্নাম নিয়ে ওর কোন ভাবনা ছিল না, ভালই হয়েছে বরং, আর কোন মেয়েও ওকে বিরক্ত করতে আসবে না। ও খুশি যে এতে অন্তত নাহিনকে কিছু বিপত্তি থেকে বাঁচানো গেছে। সেই থেকে মাহীই ওর পরামর্শদাতা, সবচেয়ে কাছের শুভাকাঙ্ক্ষী, বিপদের ভরসা। আজও তাই প্রথমেই ওর কথাই মনে হল।


‘মাহী! দোস্ত একটা হেল্প করতে হবে।’
‘হেল্প এর দরকার হইলেই শুধু এই ফাটাকপালীরে মনে পড়ে তোর, না?’ কপট রাগে বলল মাহী।
‘ধুর! তোরে যেন আমি আর অন্য সময় ফোন দেই না! দোস্ত, সিরিয়াস প্রব্লেম। তোরে হেল্প করতেই হবে।’
‘ওই তোর আর নিহানের নাকি আজকে লেগে গেছিল? কাহিনী কি?’
‘পরে শুনিস। এখন যেটা বলি সেটা শোন। তন্বীর সম্পর্কে কিছু ইনফরমেশন যোগাড় করে দিতে হবে তোকে। আর কাজটা করতে হবে তাড়াতাড়ি।’
‘তুই আবার কি ঝামেলা পাকাচ্ছিস, সৌম্য?’
‘তোরে আমি পরে সব বুঝায় বলব। প্লিজ, এই কাজ তুই ছাড়া আর কেউ পারবে না। আর এটা আমার জন্যও না, নিহানেরও ভাল হবে এতে। তোর সাথে তো তন্বীর ভালই খাতির। আর তোর ভাইয়া না রবি তে আছে? ওনাকেও লাগবে। তুই একটু ইনফো গুলো জোগার করে দে শুধু।’
‘আচ্ছা বাবা আচ্ছা, দেখি কি করতে পারি। হাজার হলেও, তুই আমার সাবেক জামাই, তোর ভবিষ্যৎ জামাইয়ের জন্য কিছু করা তো আমার পবিত্র দায়িত্ব!’
হো হো করে হাসিতে ফেটে পড়ে দুজনেই।

৫)

ব্রেকটাইমের আগের ক্লাসে নিহান একটা চিরকুট পেল। ‘পুরান বিল্ডিং এর পাশে, বটতলা। আর্জেন্ট।’ সৌম্যর হাতের লেখা। এক সপ্তাহ ধরে ওদের কোন কথা নেই। নিহান প্রথমে ভেবেছিল যাবে না। পরে মত বদলাল। ওই হারামীর ডাক উপেক্ষা করার সাধ্যও ওর নেই! যেয়ে দেখে সৌম্য অস্থিরভাবে পায়চারি করছে। ওকে দেখেই ছুটে এল। নাহিনও জড়িয়ে ধরল, বেশ কিছুটা সময়।
‘তো মহারাজ, রাগ ভাংগলো আপনার?’ হাসতে হাসতে বলে নাহিন।
‘বস দোস্ত, সিরিয়াস কথা আছে।’
নিহান অবাক হল। সৌম্যকে খুব টেনসড দেখাচ্ছে। ওকে আগে কখনো এমন করতে দেখেনি সে। গাছের একটা শেকড়ের ওপর বসল ও।
‘দোস্ত তুই তন্বীরে ছাইড়া দে!’ অনেকটা হাঁপাতে হাঁপাতে কথাটা বলল সৌম্য।
‘আবার শুরু করলি? তোর সমস্যাটা কি?’ নাহিন রীতিমত বিরক্ত।
‘সমস্যা আমার না, সমস্যা তোমার মহারাণীর!’
‘ও তোর কোন ক্ষতিটা করছে?’
‘আমার করা লাগব না, তোর সর্বনাশ কইরা ছাড়তেছে। তুই বুঝস না ক্যান, তন্বী মাইয়াটা ভাল না। তুই প্লীজ ওরে ছাইড়া দে।’
আর রাগ সামলাতে পারে না নাহিন, চিৎকার করে ওঠে।
‘মুখ সামলায় কথা ক হারামজাদা! থাপড়ায়া তোর সব দাঁত ফালায় দিমু!’
‘আমার কাছে প্রমাণ আছে। এই দেখ, ওর কয়েকটা নাম্বার। দ্যাখ, এগুলা দিয়া ও কতজনের সাথে কথা কয়। নে, তোর জন্য ওর কল হিস্ট্রিই ছাপায় আনছি।’
‘এগুলা দিয়া কিছুই প্রমাণ হয় না!’
‘আরো আছে। ওরে জিজ্ঞেস করিস, আমাদের পাড়ার বাশার ভাইয়ের সাথে ওর কি চলে! আদনান নামে কাউকে ও চেনে কিনা! কয়দিন পর পর এত এত গিফট কোথা থেকে আসে! এত যে পার্লারে যায়, কই পায় সেই টাকা?’ এক নিঃশ্বাসে বলে থামে সৌম্য।
নাহিনের দম বন্ধ হয়ে আসছে। ওর এসব কিছুই বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় না। কিন্তু মনের গভীরে ও বুঝতে পারছে, পায়ের নিচের বিশ্বাসের জমিনটা কেমন আলগা ঠেকছে। কিছু কিছু ব্যাপার নিয়ে ওর মনেও প্রশ্ন ছিল। তন্বী কোনদিন সেসবের ঠিকমত উত্তর দেয় নি। বেশি জানতে গেলে ঝগড়া শুরু করে দিত। তাই আর জোর করতেও পারে নি। কিন্তু, তাই বলে? নাহিন ভাবতে পারে না। ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে। সৌম্য পাশে এসে বসে।
‘তোর কাছে আমার একটা কনফেশন আছে।’
জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকাল নিহান।
‘দোস্ত, তুই আমার কাছে ঠিক বন্ধু না, এর চাইতে অনেক বেশি কিছু। অনেকবার তোকে বলতে চাইছি, পারি নাই, আটকায় গেছি। তুই না থাকলে আমার জীবন অন্ধকার। অন্য কারো সাথে তোকে দেখা আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টের সময়। তোকে আমার জন্য কিছুই করতে হবে না। তুই শুধু আমাকে একটু ধরে রাখিস। তোর কাছ থেকে শুধু একটু স্বীকৃতি চাই আমি, আর কিছু না।’
‘তুই এসব কি বলতেছিস?’ নিহানের মাথা ঘুরছে এখন রীতিমত।
‘দোস্ত, সরি নিহান, তোকে আমি ভালবাসি। অনেক বেশি ভালবাসি। যখন থেকে প্রেম-ভালবাসা বুঝতে শিখছি, তোকে ছাড়া আমি আর কিছুই চাই নি!’
বিস্ময়ে নিহানের চোখ প্রায় বিস্ফোরিত। এসব ও কি শুনছে! সৌম্য, সৌম্য ওকে প্রোপোজ করছে? মানে কি! একটা ছেলে হয়ে আরেকটা ছেলেকে…! শীট! সৌম্য তাহলে গে!! ব্লাডি গে!!! আর নিহানকে সে ভালবাসে? তার মানে ও নিহানের সাথে ওইসব করতে চায়? ছি ছি ছি! কতরাত সৌম্যর সাথে এক বিছানায় ঘুমিয়েছে! ভেবেই কেমন গা গুলিয়ে উঠল নিহানের।
নিহানের মুখ দেখে সৌম্য ভয় পেয়ে গেল। ‘দোস্ত, ভুল বুঝিস না আমাকে, প্লীজ!’ নিহানের হাত ধরতে গেল ও। ইলেকট্রিক শক খাওয়া মানুষের মত ছিটকে গেল নিহান।
‘খবরদার! খবরদার তুই আমাকে টাচ করবি না। ইউ ব্লাডি হোমো!’ চিৎকার করে ওঠে নিহান।
ভীষণ ধাক্কায় থমকে যায় সৌম্য। তাকিয়ে দেখে ওদের পুনর্মিলনী দেখার আগ্রহে অনেকেই ততক্ষণে সেখানে হাজির। এবার ভয় পায় ও। চেষ্টা করে নিহানকে শান্ত করার।
‘তুই একটু শান্ত হয়ে আমার কথা শোন। প্লিজ এরকম করিস না। মাথা ঠান্ডা কর নিহান, প্লিজ!’ সৌম্য অনুনয় করতে থাকে।
অন্যদের দেখে নিহানও ভয় পেয়ে যায়। অন্যরাও কি আমাকে ওর মতই ভাবছে? আমিও গে, এটা ভাবছে? না না, সবার ভুল ভাঙ্গাতে হবে। আমি যে ওর মত ছেলেদের পাছায় চোখ দেই না সেটা এখনি প্রমাণ করতে হবে।
‘মাদারচোদ, এই জন্য তুই তন্বীরে দেখতে পারিস না? আমার আগেই সন্দেহ হইছিল। শালা তোর গোয়ামারা খাওয়ার ইচ্ছা হইলে কুত্তারে দিয়া চোদা। আমার কাছে আসছিস ক্যান? বেজন্মা শুয়োরের বাচ্চা আমার প্রেম ভাঙতে আসছে। হারামির বাচ্চারে আইজ মাইরাই ফালামু!’ বলেই সৌম্যর নাক বরাবর একটা ঘুষি মারে নিহান। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটে। নাক চেপে ধরে বসে পড়ে সৌম্য। ওই অবস্থাতেই আবার মারতে আসে নিহান। দর্শকদের মধ্যে কারো কারো হুঁশ আসে ততক্ষণে। দৌড়ে গিয়ে ওরা নিহানকে আটকায়। টেনে নিয়ে যায় ওকে। ভেসে আসে শুধু ওর হিংস্র গর্জন।

৬)

এই মুহূর্তে সবকিছু কেমন অনুভূতিশুণ্য লাগছে সৌম্যর। কোন ব্যথা, কোন কষ্ট না। শুধু নাক দিয়ে গরম তরলের প্রবাহ টের পাওয়া যাচ্ছে। আস্তে করে মাথা তুলে তাকাল। ওকে ঘিরে এখনো অনেকে দাঁড়িয়ে আছে, হট্টগোলে ভরে আছে জায়গাটা। সৌম্য ওদের চোখের দিকে তাকাল, কিন্তু ঠিক বুঝতে পারছে না ওরা আসলে কি ভাবছে ওকে নিয়ে। ভীড় ঠেলে হঠাৎ কেউ দৌড়ে এল, ওর দিকে তাকিয়েই আঁতকে উঠল। এবার চিনতে পারল ও, এটা মাহী। তাড়াতাড়ি একটা বড় রুমাল দিয়ে সৌম্যর নাকটা চেপে ধরল ও, একহাতে ওকে জড়িয়ে ধরে ভীড় ঠেলে জায়গা করে বের হয়ে আসল ওখান থেকে। মাহীকে দেখেই নিজের অবশিষ্ট প্রতিরোধশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল সৌম্য, অন্যদের চোখের আড়াল হতেই কাঁপতে শুরু করল ভীষণ। মাহী আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ওকে, চোখ দিয়ে পানি পড়ছে ঝরঝর করে মেয়েটার, ওই অবস্থাতেই একটা রিকশা ডেকে কাছের এক হাসপাতালে যেতে বলল রিকশাওয়ালাকে। সৌম্য পরম নির্ভরতায় মাথা এলিয়ে দেয় মাহীর কাঁধে, ভয় আর অপমানবোধ শারীরিক কষ্টের চাইতেও তীব্রভাবে আঘাত করল ওকে, ডুকরে কেঁদে উঠল ও।

হাসপাতালে পুরোটা সময় মাহীর হাত শক্ত করে ধরে ছিল সৌম্য। বেশ কয়েকটা স্টীচ লাগলো ওখানটায়, পুরো মুখ ভীষণ ফুলে গেছে, নাকটা ব্যান্ডেজে ঢাকা পুরোপুরি, তাই মুখ হাঁ করে শ্বাস নিতে হচ্ছে। খবর পেয়ে বাসা থেকে সৌম্যর বাবা-মা আসলেন, মাহী ওনাদের বলল সৌম্য পড়ে গিয়ে নাক ভেঙ্গেছে। সাথে নিহান নেই দেখে ওনারা খানিকটা অবাক হলেন। ডাক্তাররা ওদিন আর ওকে ছাড়ল না, পরদিন সকাল বেলা বাসা চলে এল ও।

দুদিনের মধ্যেই ব্যথা কমে গেল, কিন্তু মনের যন্ত্রণা বাড়ল বহুগুণে। ভালবাসার মানুষের করা অপমানের ক্ষতের সাথে আর কিছুরই তুলনা হতে পারে না। কোন ব্যথার ওষুধে সে ক্ষত সারানো যায় না। এ হচ্ছে ক্যান্সারের মত, সময়ের সাথে সাথে যে ব্যথা শুধু বাড়তেই থাকে। অপমানের স্মৃতিগুলো যেনবা হাইড্রা, একটাকে ভুলতে চাইলে আরো কয়েকটা মাথা তুলে দাঁড়ায়। বিছানায় শুয়ে শুয়ে সৌম্য সারাদিন শুধু সেদিনের ঘটনাটাকেই রিওয়াইন্ড করতে থাকে স্মৃতির মনিটরে। আর বার বার থেমে যায় শুধু নিহানের তীব্র ঘৃণামাখা চোখের দিকে তাকিয়ে। এ কয়দিনে মাহী ছাড়া আর কেউ ওর খোঁজ নিতে আসেনি। না আসারই কথা। ওদের চোখে তো সে একজন ব্লাডি হোমো! আর নিহানের আশা সে করে না। বাসায় সম্ভবত জেনে গেছে নিহানের সাথে ওর মারপিটের ঘটনা। ভেতরের ঘটনা জানে কিনা ও শিওর না। তবে কেমন জানি একটা থমথমে ভাব পুরো বাসাতেই। সৌম্য অস্থির হয়ে ওঠে।

‘মাহী, তুই আমাকে ঘৃণা করিস না কেন?’
‘এসব কি বলতেছিস সৌম্য? তোর মত মানুষকে ঘৃণা করা যায় না।’
‘কিন্তু বাকি সবাই তো করে, তাই না? আর এমন কোন ফেরেশতাও আমি না।’
‘ফেরেশতা হইতে যাবি কোন দুঃখে! তোর মত বজ্জাত অথচ সাদা মনের মানুষ আমি দেখি নাই তেমন। দোষ গুণ মিলায়েই তো মানুষ। আর অন্যদের সাথে আমাকে মিলাচ্ছিস কেন? আমি যা জানি, যা দেখছি অন্যরা তো আর তা দেখে নাই। ভালবাসার জন্য, প্রেমের জন্য এত বড় ঝুঁকি তো কোন স্ট্রেইট ও নেবে না। তুই নিছিস, বারবার। এত ভালবেসেও মনের মধ্যে সেটা চাপায় রাখা কত কষ্টের সেটা আর কেউ না জানলেও আমি জানি।’
সৌম্য মাহীর দিকে তাকিয়ে থাকে। ও চোখ সরিয়ে নেয়, হয়ত কায়দা করে চোখের কোণায় জমে থাকা এক ফোঁটা উষ্ণতাকে লুকোতে চায়।
‘আচ্ছা, নিহানের জন্য তোর খুব কষ্ট হচ্ছে, না?’ খুব মমতা নিয়ে প্রশ্ন করে মাহী।
সৌম্য খানিকটা হাসে। ‘অদ্ভুত হলেও সত্যি, আমার একটুও হচ্ছে না!’
‘মানে? কেন? তাহলে কি হচ্ছে?’ মাহীর গলায় নিখাদ বিস্ময়।
‘আমার শুধু মনে হচ্ছে আমার মনের ভেতর একটা টিউমার হইছে রে মাহী। একটা ক্যান্সার, শুধু ছড়াচ্ছে। এইটাকে আমার খুব তাড়াতাড়ি কেটে ফেলতে হবে। না হলে আমি শান্তি পাব না। মাহী, নিহান আমাকে মারছে, নাক ভেঙ্গে দিছে, গাল দিছে, আমার তাতে দুঃখ নাই। কিন্তু এতগুলান মানুষের সামনে ও আমাকে যেভাবে অপমান করল, যেভাবে অবিশ্বাস করল, এইটা আমি কোনভাবেই মানতে পারতেছি না। এর জন্য আমি ওরে কোনদিন ক্ষমা করব না। আমার কাছে ওর জন্য এখন শুধু ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই নাই। আর কিচ্ছু না।’
মাহী আর কিছু বলতে পারে না। মানুষের চোখের মত আর কিছুই ভালবাসা আর ঘৃণাকে প্রকাশ করতে পারে না। সৌম্যর ভালবাসাময় চোখে আজকে ঘৃণার আগুন জ্বলজ্বল করছে।

৭)

গত কয়েকদিন ক্লাসে যায়নি নিহান। নিজের রুমেই বন্দী করে রেখেছিল নিজেকে। সেদিন মাথা একটু ঠান্ডা হবার পরেই বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আসিফ আর মুবিনকে কয়েকবার ফোন করে জেনে নিল আপডেট। নাহ, প্রিন্সিপাল পর্যন্ত যায় নি এখনো। সৌম্যর খবর অবশ্য ওরা দিতে পারে নি। তবে মুবিন বলল মাহীর কাছে খবর নিতে। তন্বীর সাথেও এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। সেও করেনি, তন্বীও না। তবে বাশার ভাই এসে একবার হুমকি দিয়ে গেছেন, সে যেন তন্বীর ধারেকাছে আর না ঘেঁষে। সৌম্য তন্বীকে নিয়ে ওই কথাগুলো বলার সময় যদিও খুব খারাপ লেগেছিল, কিন্তু ও জানত হয়ত সেসবই ঠিক। এই কয়দিন তন্বীর কন্ট্যাক্ট না করা আর বাশার ভাইয়ের হুমকিতে বাকি সন্দেহটুকুও কেটে গেছে। কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু অতটা তীব্র না। ভেতরে ভেতরে কোথায় জানি ও হাঁপিয়ে উঠেছিল, এখন কেমন ভারমুক্ত লাগছে। সৌম্যর কথা মনে হল। ওর আচরণে মাঝে মাঝে সন্দেহ হলেও নিহান বুঝতে পারে নি কখনো। আচ্ছা, এমন ভালবাসা সত্যিই সম্ভব? হয় এটা, দুটো ছেলের মাঝে? কিন্তু ওর যে এতদিন ধারণা ছিল অন্যরকম? ছোটবেলার ওই বিভীষিকার কথা তো সে এখনো ভুলতে পারে না। সৌম্য যখন সেদিন ওই কথা বলেছিল, হঠাৎ ওই আতংক ওকে পেয়ে বসেছিল। মনের মধ্যে যে তীব্র ঘৃনা জমা ছিল ওই ব্যাপারে, সৌম্য না জেনেই সেখানে হাত দিয়ে ফেলেছিল। ফলটা হল মারাত্মক! হঠাৎ নিহান খুব করে মিস করতে লাগল সৌম্যকে। এতদিন পর্যন্ত ওর পুরো জীবনটাই তো সৌম্যকে নিয়ে ছিল। আর কেউ না হোক, সৌম্য যে ওর কোন ক্ষতি করবে না সেটা অন্তত বোঝা উচিৎ ছিল নিহানের। ভীষণ খারাপ লাগছে এখন ওর। রাগের মাথায় এতটা বাড়াবাড়ি কি করে করল ও? নাহ, এটাকে তাড়াতাড়ি ঠিক করতে হবে। ভালবাসতে পারি বা না পারি, বন্ধুকে তো হারানো যাবে না! কে জানে সৌম্য এখন কেমন আছে। কন্ট্যাক্ট লিস্টে মাহীর নাম্বার খুঁজতে লাগলো ও।

৮)

কলেজের পেছনের বিশাল দিঘি আর তার পাশের মাঠটা সৌম্যর প্রিয় জায়গা। আগে এখানেই ক্লাস শেষে বসে কাটাতো ঘন্টার পর ঘন্টা। মাঝে কয়দিন না আসলেও এখন আবার আসছে। অবশ্য অন্যদের চোখ এড়ানোর জন্য একটু রাত করেই আসে। আজও বেশ কিছুক্ষণ বসার পর বাড়ি ফেরার পথ ধরল। রাতের বেলা কলেজ রোডটা বেশ নির্জন জায়গা। একটু গা ছমছম করে। তেমন একটা আলোও নেই। কিছুটা এগুতেই দেখল রাস্তার পাশে দেয়ালে হেলান দিয়ে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। সাথে মোবাইল সেট আছে, সৌম্য একটু ভয় পেল। ছিনতাইকারী নয় তো আবার? ডান পকেটে হাত দিয়ে জিনিসটার অস্তিত্ব অনুভব করল একবার। নিরেট, শীতল। গত কয়েকদিন ধরে এটা সবসময় ওর সাথে থাকে, কেন রাখে সেটা ঠিক করে ও নিজেও বলতে পারবে না। ব্যাপারটা তাকে একটু সাহস দিল। একটু এগিয়ে ও জিজ্ঞেস করল, ‘কে ওখানে?’ বলতে গিয়ে গলাটা কেঁপে উঠল। মনুষ্যমূর্তিটা একটু এগিয়ে এল, ‘আমি, নিহান। চিনতে পারিস?’
‘তুই? এখানে একা এতরাতে? কি চাস?’
‘তোর সাথে আমার অনেক হিসাব চুকানোর বাকি আছে রে শালা!’ নিহান এগিয়ে আসল সৌম্যর দিকে। একহাত ওর পেছনে লুকানো।
ভয় চলে গিয়ে হঠাৎ একটা অদম্য ঘৃণার দমক অনুভব করতে লাগল সৌম্য। একবার সবার সামনে মেরে, অপমান করেও তাহলে নিহানের শান্তি হয় নি? কি ভেবেছে ও, সেদিন পালটা আঘাত করেনি বলে আজকেও করবে না? নাহ, নিহান এখন আর তার কেউ না। নিজেকে আর সে কারো জন্য উৎসর্গ করবে না। পকেটের জিনিসটা শক্ত করে ধরলো সৌম্য। নিহান আর একটু কাছে নাগালের মধ্যে আসতেই কদিন আগে কেনা ফোল্ডেড নাইফটার ভাঁজ খুলে সোজা ঢুকিয়ে দিল নিহানের পেটে। ব্যথা আর বিস্ময়ে নিহান খামচে ধরল ওকে। ছুরিটা বের করে আর একবার নিহানকে আঘাত করল সৌম্য।

৯)

রক্তের স্রোতের মধ্যে দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে নিহান। জলভরা চোখে সৌম্য তাকিয়ে আছে। নিহানের দিকে নয়, ওর প্রসারিত হাতের পাশে পড়ে থাকা একটা সাদা গোলাপের দিকে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.