অন্ধকারের ডাক

লেখকঃ নীল কন্ঠ

১.

-‘অাচ্ছা তুমি অামাকে ছোট রাস্তা দিয়ে নিয়ে অাসো কেন?’

ভয়ধরানো কন্ঠে নীল অমল কে জিগ্যেস করলো।

-‘কারন রাস্তাটা নীরব’ অমলের সোজাসাপ্টা জবাব।

কিন্তু এতটা নীরবতা কখনোই পছন্দ করে না নীল। তার হৈ হুল্লার মাঝে থাকতে বেশ ভালো লাগে। এখন কয়টা বাজে? রাত দশটা? না কি অারো বেশি। চিন্তা করছে নীল.. কিন্তু চিন্তার মাঝখানে বাধা দিলে অমল। সেই চেনাপরিচিত জায়গা, যেখানে নীরব রাতের চাদরে ঢেকে তারা পূর্নাঙ্গ মৈথুনপরায়ণ হয়। অাজকেও কামনা জাগছে… অাছড়ে পড়ছে কামনার ঢেউ… তারপর চুম্বন… লেহন…. ভিতরে চলে যাচ্ছে…অারো ভিতরে…

এই ঘটনার কয়েকদিন পর অমলের বাড়ি যায় নীল। অমল তার থেকে ৭ বছরের বড়। পাশের গ্রামে বাসা। সময়ের অভাবে সবসময় খোঁজ নেয়া হয় না, তবে তা ৩-৪ দিনের বেশী গড়ায় না। ৩কি ৪ দিনের মাঝে দেখা তাদের হতেই হবে। অমলের বাসায় গিয়ে সে হতবাক হয়। কারন, সে শোনে অমল না কি গত চারদিন ধরে বাসায় নেই। অমলের যাযাবর স্বভাবের সাথে সবাই পরিচিত। তবড কেন যেন মানতে পারছে না নীল….। ১মাস হয়ে গেলো তার কোন খোঁজ নেই। নীলও কেমন যেন তাকে ভুলেই গেছে। তার কাছে অমল শুধু দৈহিক চাহিদার কেউ ছিলো। অার কিছু না……

২.

রাতটা অমাবস্যার।নিকশ কালো অন্ধকারে ছেয়ে অাছে চারদিক। বাতাসটা গুমোট, যেন প্রেতের দীর্ঘশ্বাস বইছে। নীল যাচ্ছে ছাত্রের বাসায়। দুটো রাস্তা আছে অবশ্য কিন্তু সে প্রতিবার যায় বড় রাস্তা ধরে।হাতে এখনো অনেক সময় আছে। তাই কৌতুহলবশত আজ ছোট রাস্তার দিকে পা বাড়িয়েছে। শুনেছে রাস্তাটা বড় শান্ত, বড় নীরব। কেনো এক অজ্ঞাত কারনে কেউ যায় না সে রাস্তা ধরে। অাজকে তার ব্যাতিক্রম হলো। সে এগিয়েছে রাস্তায়।

আস্তে আস্তে হেঁটে যেতে যেতে হঠাৎ মনে হলো অন্ধকারের মধ্যেও আরও নিকষ কালো কিছু অাছে। তা যেন অশুভ! তবে মন থেকে ঝেরে ফেলে সে এগিয়ে যেতে লাগলো…

পরিবেশ টা কেমন ঠান্ডা,শিরশিরানি তুলে দেয়ার মতো।প্রাইভেট পড়িয়ে বাসার দিকে রওনা দিলো। আনমনে আজ ফিরল সেই রাস্তা ধরে,

কেমন যেন ঘোরের মধ্য অাছে। আবার সেই ঠান্ডা ভাব…..!

আবার সেই নিকষ কালোর উপস্থিতি….!

অপার্থিব এক ঠান্ডা গায়ে না নিয়ে চলে যেতে লাগলো,

আশপাশ থেকে ফিসফিস উঠতে লাগলো,

“হবে,হবে একদিন হবে”

.. কিন্তু সে শুনতে পেলো না..

৩.

অতিপ্রাকৃত বস্তুর প্রতিই মানুষের আকর্ষণ বেশি থাকে, নীলের বা কেন থাকবে না! সে আবার গেলো সেই রাস্তায়, সেই নিকষ কালো তমসার সন্ধানে…..

আজ সে খেয়াল করলো তা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে,

হঠাৎ সে সামনে দেখলো কালো পর্দা যেনো সরে যাচ্ছে,সামনে আবছা আলোয় দেখলো। কোন ভুল নেই! স্পষ্ট রক্তহীন ফ্যাকাশে একটি মুখ,কোনো ভাব নেই,

প্রকাশ নেই,

ভাবলেশহীন শূণ্য দৃষ্টি।

সে কিছু বলতে চাইলো কিন্তু তা আবার সেই আধারে হঠাৎ করে মিশে গেলো,

সে হতভম্বের মতো উল্টো হেঁটে বাড়ি চলে গেলো, চোখে সেই শূণ্য দৃষ্টি,সোজা বাড়ি গিয়ে সে শুয়ে পড়লো।

রাত তখন দ্বিপ্রহর। এক ভয়ংকর চিৎকারে সে যেনো উঠে বসলো,কিন্তু পারলো না তার হাত সে অনুভবই করতে পারছে না,তার বুকের ওপর অস্বাভাবিক চাপ,

গোঙাতে থাকলো সে,

চোখে ঝাপসা দেখতে লাগলো,

কিন্তু ঝাপসা ভাবেই যেনো ফুটে উঠলো সেই শূণ্য দৃষ্টিতে ভরা মুখ।

চোখ খুলে দেখলো ভোর হয়েছে, গা, হাত, পা ব্যাথা,জ্বরে মুখ বিস্বাদ হয়ে আছে,কথা বলতে পারছে না,

এই ভাবে গেলো কিছু দিন,কিছুটা সেরে উঠলে,সে গেলো সেই রাস্তায়,আজ সেদিনের মতো,আঁধার নয়,শুক্ল পক্ষের আঁধখানা চাঁদ হালকা আলো ছড়াচ্ছে।ভুতূড়ে হলদেটে জোছনায় থেমে অাছে চারদিক। চাঁদটা পুরনো কঙ্কালের খুলির মতো হলদেটে।

সে হাটতে লাগলো,পাশে আসলো সে আঁধার,আজ মুখ স্পষ্ট,তার সামনে দাঁড়ালো…

৩.

নীল বিষ্ময়ে হতভম্ব হয়ে গেলো।ভয় যেন শ্বাসরুদ্ধ করছে তাকে। বুকের ভেতর ডাকিনীর নৃত্য…..

কম্পিত কন্ঠে জিগ্যেস করলো

-কে তুমি!

কোনো ভাবান্তর হলো না তার,শুধু মুখ টা আরো যেনো সাদাটে হতে লাগলো,

কিছু বলছে না দেখে নীলের চোখ কিছু ফোঁটা জল ফেললো।যেনো গা জ্বালিয়ে ফেলবে এমন ভয়ে সে জল যেখানে পড়েছিলো তা কাছে থেকে সরে গেলো,নীল আবাক হলো, কিছু বললো না।কারণ তার কণ্ঠ টা যেনো কোথায় হারিয়ে গিয়েছে।

ছায়া টা মুর্তির মতো দাড়িয়ে রইলো,নীল এগিয়ে গেলো,বুঝলো তার সামনের জন বাতাসে ভাসছে,সে পা টা না চাইতেও কে যেনে উঁচু করলো, তার ঠোঁট দুটো বাতাসে ঠান্ডা হয়ে যেতে লাগলো,চোখ ভারী হয়ে যেতে লাগলো,যখন তার জ্ঞান হলো সে এক খোলা মাঠে দাড়িয়ে আছে,পরের বার পলক ফেলতেই সে দেখলো সে তার ঘরে

তারপর তার কিছু মনে নেই।

৪.

পূর্ণ জ্ঞান যখন তার ফিরলো,তখন সে দেখলো তার বাবা মা তার দিকে চেয়ে রয়েছে, কেমন যেনো ভয়ার্ত চোখে,

সে ধীরে ধীরে উঠে বসে বেসিনের কাছে গেলো,সে নিজেই চমকে উঠলো আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে,

চোখ গর্তে চলে গিয়েছে,মুখ রক্তশূণ্য,সে বিছানায় এসে ঘুমিয়ে পড়লো,

স্বপ্নে সেই চিৎকার,কিছুটা ফিস ফিস,কান্না,ঠোঁটের ঠান্ডাভাব,পঁচা মাংসের গন্ধে তার দম বন্ধ হতে লাগলো,সে ছটফট করতে লাগলো,কিন্তু সেই ঠান্ডা ভাব টা তার,ঠোঁট, শরীরে,মেরুদণ্ডে শীতল স্রোত বইয়ে দিতে লাগলো,মন টা তার পরও ঠান্ডার পরশে শান্ত থাকলো যেনো,কেমন যেনো বিপরিতমুখি অবস্থা,সে চোখে আঁধার দেখে দেখে সেই আঁধারের অতলস্পর্শী গভীরে হারাতে লাগলো….

তারপর সে আবার এক অমাবস্যার রাতে গেলো সেই পথে, তার পা ভেঙে পড়ছে,হাঁটতে পারছে না,তবু তার মনের ভিতরের কথা,

“সে আসবে,সে কোথায়?”

এ কথা তার কেনো মনে হচ্ছে সে বুঝলো না,সেই ছায়া আজ যেনো খানিক টা রক্তপূর্ণ চেহারায় তার সামনে আসলো,তার ঠোঁট আবার ঠান্ডা হতে লাগলো, মুখে চোখে ফুটে উঠলো অদ্ভুত এক প্রশান্তি

অাস্তে অাস্তে শরীর মিশে যেতে লাগলো, প্রেমে, মদিতে, কামনায়, বাসনার ঢেউ উপচে উঠছে…..

জামাকাপড় খুলে গেলো সব। সেই জায়গায় দেখতে পেল নিজেকে। তার উপরে কেউ চষে বেড়াচ্ছে। কিছু একটা ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে। খুব ভিতরে…..

সমপ্রেমের গল্প ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.