কষ্টের রং নীল

লেখকঃ রঙিন জগৎ

পরন্ত বিকেল দক্ষিনা হাল্কা মিদুল হাওয়ায় দেহে যেন শীতল হাওয়ার স্প্র্শ ছুঁয়ে দিয়ে যায়!! গাছের ছায়ায় বসে দিপু কি যেন ভাবছে ‘ দিপুর মুখে কি যেন অজানা একটা কষ্টের ছাপ এঁকে যায়! মনের মাঝে কষ্ট টা যেন বিষাক্ত ছুড়ি বার বার আঘাত হানে! সেই সাথে মনের ভিতর থেকে নীল কষ্টের এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস বাতাসের সাথে নীল আকাশে মিলে যায়!! দিপু আকাশের দিকে তাকিয়ে সাদা মেঘের শুভ্রতা খুঁজে কিন্তু সে খুঁজে পায়না সব শুভ্রতা যেন রুদ্রনীল এর মাঝে হারিয়ে গেছে! ঠিক কাছের মানুষ যখন হারিয়ে যায় ঠিক তেমনি হারিয়েছে, অন্তর কে দিপু সব কিছু উজাড় করে ভালবেশে ছিল, আর সে কিনা….. ছিঃ ভাবতেই খারাপ লাগে! যাকে তিন বছর ধরে ভালবেশে ছিলাম আর সে কিনা ফেইজবুকে অন্য ছেলেদের সাথে প্রেম করে এমন কি এক বিছানায় যেতে রাজি!! এসব কিছুই ভাবতে চায় না দিপু! অন্তর নাম টা ভুলে যেতে চায় তার জীবন থেকে ‘ কিন্তু কি করে ভুলবো এত সহযে তো ভালবাসার লোকটিকে ভোলা যায় না! আর ভুলতে গেলেও হাজার কষ্ট যন্ত্রনায় নিজেকে পুড়ে ছাই করে নিতে হবে!! ক্রিংক্রিং শব্দে একনাগালে ফোনটা বেজেই চলেছে, এ নিয়ে দিপু আজ ৪০ বার হলো ফোন দিল কিন্তু দিপু ফোন রিসিভ করছে না!! দিপুর দু চোখ বেড়ে কয়েক ফোটা অশ্রু টপ টপ করে মাটিতে পড়ল! আর ফ্যাল ফ্যাল করে অজানা দৃষ্টিতে তাকিয়েই আছে!! কয়েক দিন হল দিপু একটা নতুন সিম নিয়েছে, অন্তর কে পরিক্ষা করার জন্য ফেইজবুক আইডি খুলে অন্তরের সাথে ভাব জমিয়ে নিল!! দিপু তার সব পরিচয় গোপন রেখে অন্তরের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে! সেই সুবাদে অন্তরের সাথে দিপুর নতুন সিম দিয়ে কথাও হয়! দিপু কন্ঠ চেইঞ্জ করে অন্তরের সাথে কথা বলে! অন্তর নতুন দিপুকে পেয়ে তার ভালবাসার দিপুকে ফোন কম দেয়! বলে কাজে ব্যস্ত, দিপু জিজ্ঞাসা করে তোমার ফোন অনেক সময় ধরে ব্যস্ত কেন কার সাথে এত কথা বল? অন্তর দিপুর কথা গুলো এড়িয়ে যায়! ” এমন কি নতুন দিপুকে অন্তর তার বাড়িতে বেড়াতে আসার আমন্ত্রন জানায়! এই সব কান্ড দেখে দিপু কান্নায় ভেঙে পড়ে দিপু! যাই হোক নকল দিপু সেজে ওকে একটা শিক্ষা দিয়ে আসি! অন্তরের সাথে দেখা করতে যাবে বলে দিপু দাড়ি মোচ রেখে দেয়, যাতে অন্তর সহজেই যেন না ধরতে পারে! ৩ মাস হল দিপু দাড়ি মোচ রেখে দিয়েছে, নিজেকে একটু পরির্বতন করে নিতে! অন্তর দিপুর অপেক্ষায় বগুড়ায় রেল ষ্টেশন! যশোর থেকে দিপু আসতে আসতে রাত ৮ টা বেজে গেল! দিপু দেখল অনেকটা দূরে অন্তর দাঁড়িয়ে আছে! কাছে যেতেই অন্তর দিপুর বুকে জাপিয়ে পরে কিরে কেমন দিপু! দিপু অবাক ” কি হলো অন্তর আমাকে চিনলো কি করে, আমি তো আমার এই ছদ্মবেশের ছবি দেইনি! অন্তর দিপুর বুকে কান্নায় ভেঙে পড়ে কাছের মানুষ কি হাজারো চেষ্টায় নিজেকে লুকাতে পারে বল দিপু?? ভালবাসার মানুষের স্পর্শে চেনা যায় ” সে যতই লুকাক না কেন তার গন্ধে বলে দেয় সে কোথায় থাকে!! রাতে খাবার শেষে অনেক ক্ষন আড্ডা দেই, অনেক রাত পযন্ত গল্প করি তার পর ২ জন ২ জন কে আকড়ে ধরে ঘুমিয়ে থাকি! সকালে উঠে দেখি অন্তর আমার বুকের মাঝে মাথা রেখে নিঃশব্দে ঘুমিয়ে আছে!! হঠাৎ এক টা ফোন আসে অন্তরের ঘুম ভেঙে যায়! ফোন টা হাতে নিয়ে বাহিরে চলে যায়! দিপু কেন জানি একটু সন্দেহ হয় জানালা দিয়ে দেখে দিপু অনেক্ষন হলো এখনো কথা বলে যাচ্ছে অন্তর! দিপুর খুব অভিমান হয়! সকালে গোসল করে নাস্তা খেয়ে দিপু শুয়েরইল অন্তর মোবাইল টা রেখে কি কাজে যেন পাশের বাড়ি গেল! এই ফাঁকে দিপু কল লিস্ট চেক করে সকালে ফোন আসা নাম্বারে ফোন দেয় দিপু! হ্যালো বলতেই অপর প্রান্ত থেকে রিপ্লাই আসে হ্যা জান বলো এত প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছো তর আর কি সইছে না! কথাটা শুনেই ফোন কেটে দেয় দিপু! আবার নতুন সন্দহে জটে আটকে যায় দিপু ” ভাল লাগছে না দিপুর আজই বাড়ি চলে যাবে দিপু! অন্তরে মাকে জানিয়ে দেয় দিপু তার ভাল লাগছে না তাই সে বাড়ি যাবে এটা যেন অন্তর কে জানায় সে! চুপচাপ বসে থাকে দিপু,,,, অন্তর এলে মা জিজ্ঞাসা করে কি হয়েছে রে দিপু আজই নাকি চলে যাবে! ২ জন ঝগড়া করেছিস বুঝি! অন্তর বলে না তো ঝগড়া করিনি তো! অন্তর দিপুর কাছে ছুটে যায় কিরে কি হয়েছে তোর বাড়ি যাবি কেন?? চুপ থাকে দিপু কিছুই বলে না শুধুচোখে অশ্রু ঝরে পড়ে দিপুর! কিছুই বুঝতে পারছে না অন্তর যাই হোক ভাল না লাগলে তোমায় জোর করবো না! বিকাল ৪ টায় ট্রেন ছাড়ল, অন্তর দৌড়ে দৌড়ে অনেক খানি পথ এলো ঠিক সিনেমায় যে রকম দেখা যায়! বিদায় বেলা বুকে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না…. দিপু তুই আমায় এত ভালবাস আমি জানতাম না…. তোর জন্য একটা জিনিষ রাখা আছে তোর ব্যাগে বাডিতে গিয়ে দেখবি! ! আমার আর দেরি সইছিল না ব্যাগ থেকে অন্তরের রাখা গিফটা বেড় করলাম! একটা কালো রং এর ডায়রি! প্রথম পাতা উল্টাতেই লেখা পড়ল চোখে… দিপু আমি জানি তুমি আমায় অনেক অনেক ভালবাসো তাই আমার প্রতি তোমার সন্দেহ টা বেশি! বিশ্বাস করো আমি শুধুতোমাকেই ভালবাসি, আর তোমাকেই ভালবেশে যাব! তুমি যেদিন আমার মাকে ফোন করেছিলে সেদিন মায়ের ফোন আমার কাছে ছিল, অপরিচিত নাম্বার দেখে মায়ের কাছে ফোন দেই, কথা বলার শেষে মা জানায় এটা তোমার ফোন ছিল। তোমার নতুন নাম্বার টা আমি সেফ করে রাখি! যখন তুমি ফেইজ বুকে আমায় রিরিকুয়েস্ট দাও তখন প্রোফাইল ঘেটে এই নাম্বার পাই, বুঝে যাই এটা তুমি, তাই আমি তোমাকে না চেনার ভান করে অচেনা থেকে যাই! আমি বুঝেছিলাম তুমি আমার পরিক্ষা নিচ্ছো তাই নতুন করে তোমাকে পেয়ে আমি তোমাকে ফোন কম দেই যাতে তুমি আমার প্রতি একটু কষ্ট পাও! আমি বুঝেছিলাম তুমি অনেকটা কষ্ট পেয়েছো, যে দিন আমি তোমাকে অনেক বার ফোন করেছিলাম তুমি সেদিন ফোন তুলো নি! আমি তোমার বন্ধু রবি কে সব ঘটনা খুলে বলি সে শুনে হাসতে থাকে! সব ঠিক হয়ে যাবে যখন সত্যি টা সামনে আসবে! আজ সকালে বরি ফোন করেছিল, তাই বাহিরে গিয়ে সব কিছু খুলে বলছিলাম, আমি ফোন রেখে গিয়েছিলান তুমি হয়তো তখন ফোন করেছিলে ঐ নাম্বারে পরে রবি আমায় ফোন দিয়ে বলে কিরে সে সময় ফোন দিয়ে কেটে দিলি ক্যান! কই আমি তো ফোন দেইনি, ফোনে তুই কি বলেছিলি, শুনে আমি আবার ছন্নছাড়া হয়ে গেলাম, আবার সেই সন্দেহ উফ….কি করি! বাসায় ফিরে এসে তাই দেখলাম তুমি কাঁদছ! আমি আর নতুন করে তোমায় কষ্ট দিতে চাইনি…… চেয়ে ছিলাম ভালবাসার নীল রং এ তোমার জীবন রাঙাতে! ভালবাসার নীল রং তোমায় দিতে পারলাম না আমি। শুধুঅজানতে কষ্ট দিয়ে গেলাম ” ভাল থেকো তোমার মত করে, পারলে এই হতভাগাকে মাফ করে দিও ইতি তোমার ভালবাসার অন্তর “” চিঠিটা পড়ে দিপুর বুকের মাঝে কি যে মোচর দিয়ে উঠলো, ২ চোখ বেয়ে শুধুঅশ্রুজল গড়িয়ে পড়ল! কিছুক্ষনের মধ্যেই ট্রেন পরের ষ্টেশন থামল! দিপু ও খানে নেমে সিএনজি নিয়ে সোজা অন্তরদের বাড়ি,, বাড়ির উঠান কোনে চুপচাপ করে চেয়ারে বসে আছে অন্তর কিছু ভাল লাগছে না ওর। খেলার ছলে কাছের মানুষ আজ দূরে চলে গেল, ৩ বছরের ভালবাসা কি করে ভুলে যাই! একটি বারের জন্য ও আমায় চিনতে পারল না! আমার কষ্টটা কি ও বুঝতে পারল না!! রাত অনেক হয়েছে এবার উঠি,, ঘুমানোর জন্য ঘরের দিকে পা রাড়ালো অন্তর, সব কয়টা ঘরের লাইট অফ অন্ধকারেই ওর ঘরে চলে এলো অন্তর! না অন্ধকার ই ভাল আলোর প্রয়োজন নেই! যার জীবনে অন্ধকার নেমে এলো তার আবার অন্ধকারে কিসের ভয়! বিছানায় এক পাশ হয়ে বালিশের সাথে মাথা লাগিয়ে বাড়ির ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল অন্তর ” হঠাৎ আলতো নরম ঠোঁটের ছোঁয়ায় ঠোটের কোনা গুলো নতুন শিহরনে জেগে উঠলো, অজানা অনুভুতিতে সারাঅঙ্গে তীব্র যৌনজ্বালায় ফুলে উঠেছে স্পর্শের শিহরন যেন খুব চেনা,, দীর্ঘ নিঃশ্বাস গুলো আপন আপন মনে হয়! নিজেকে মুক্ত করে নিয়ে আমি যাহা দেখিলাম তাহা অবিশ্বাস্য বটে! হা অন্তর আমি দিপু তোমার ভালবাসার টানে ফিরে এসেছি,, এমনি করে তোমার দেয়া নীল কষ্ট গুলো পেতে চাই! তুমি আমায় ক্ষমা করে দাও অন্তর!! মায়াবী কান্নায় দিপুকে টেনে নিল বুকের মাঝে!! তোমায় ভাল না বাসলো বুঝতাম না ভালবাসা কি!! আর ভালবাসার রংযে নীল সেটা বুঝতাম না! ” শুধুএটাই বুঝেছি আমাদের ভালবাসার কষ্টের রং নীল।……

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.