একজন বিবাহিত সমকামীর সাথে কথোপকথন

ফ্লিন রাইডার

ছেলেটা সমকামী ,আমার মতন। তখন জুলাই মাসের শুরু, এক শুক্রবার দুপুর। একটা পোস্ট চোখে পড়ল, ছেলেটা – বিয়ে করেছে বলে পোস্ট দিয়েছে।

আমি কমেন্টে বলেছিলাম এটা কি করেছো তুমি, ঠিক কর নাই, নিজের জীবন টা নষ্ট করলে, মেয়েটারো জীবন নষ্ট।

কিন্তু তার ফেসবুকের গে বন্ধুরা সবাই এসে একেবারে আক্রমণাত্মক ভাবে ঝাপিয়ে পড়ে আমার উপর, বলে যে- পুরুষের যৌনাঙ্গ দাড়ালেই হয় বিয়ে করা যায়, ধর্মের কথা আরো যে কত কি।

ছেলেটা পরে এসে দেখে কমেন্টে কুরুকক্ষেত্র লেগে গেছে, পরে ডিলিট করে দিল স্ট্যাটাস বাধ্য হয়ে।

ছেলেটা ভাল, আমাকে নক দিয়েছিল নিজেই

ছেলেটা – বিয়েটা জোরপূর্বক হয়েছে।আমারো ওর ও(মেয়েটারো)। আর এডজাস্ট করতে কিছু টাইম লাগবে নাকি?? এখানে লাইফ নষ্টের কি আছে? দু দিন পরে হয়ত বিয়েটা ২৬ বছরে হইত, সেটা ২৩ এ হইছে।

আমি – তুমি কি গে অর বাই ?

ছেলেটা- গেই বলা চলে , যাই হোক এখন আমার বায়ো দিয়ে কি হবে ?ভাই বিয়ে না করে যাব কই ? মা কথা দিয়ে ফেলেছে ওখানে। আর মা আমার পা ধরবে এমন অবস্থা যে বিয়ে করতে হবে।

আমি – ম্যারিড গে রা আবার কি করে, বউ এর সাথে চিট করে ছেলেদের সাথে ,আর ধরা খেয়ে যাইতে পারো তখন চিপায় পরবা।

ছেলেটা- আসলে সব ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল ছিল। না আমি ছেলেদের সাথে সেক্স করা অনেক আগে বাদ দিছি।

আমি- হ্যা মা রা ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করায় ওস্তাদ ।

ছেলেটা- হুম

আমি – আমার মা কম ব্ল্যাকমেইল করে নাই ,এবং এত ভাল এক্টিং করতে পারে, মেয়েদের কে চিনো না।ডাইরেক্ট বলে দিবা যে মেয়ে ভাল লাগে নাই , ওর জন্য আমার প্রেম জাগে না ,শেষ । তোমার জীবন আরেকজন কথা দেয়ার কে ?

ছেলেটা-আরেকজন মানে ? মা আরেকজন কিভাবে হয় ?

আমি- তোমার ধোন কি মা বাপ সমাজের কথায় , মায়ের পা ধরার জন্য এখন ওই মেয়ের জন্য দাঁড়াবে ?নাকি মা বাপ সমাজ ওই মেয়ের আর তোমার বাচ্চার টাকা পয়সা দিবে ?দেখো এটা তোমার পার্সোনাল লাইফ, এখানে মা এর কোন কাহিনি নাই।

ছেলেটা- প্লিজ আমি এগুলি আর শুনব না ।যা হইছে হইছে ।এটা মানতে হবে আমাকে ।

আমি – তোমার কি আইডিয়া ছিল না যাদের বিয়ে হইছে তাদের কি অবস্থা।

ছেলেটা- পরিস্থিতির শিকার আমি।

আমি- পরিস্থিতি কিছু না, তুমি নিজের জন্য দাঁড়াতে পারো নাই। তোমারে কঠিন হইতে হইত, ফ্যামিলি পলিটিক্স অনেক কঠিন জিনিষ।

ছেলেটা- অনেক বকা বকি , গুষ্টির সবাই আসছিল। এরপরে আমি ভয়ে কিছু বলি নাই । কিছু বললে আমাকে কেটে ফেলত।

আমি- কেটে ফেলবে না । সবাই ওই ফাপর পর্যন্ত। ওই যে বলে দিতা বিয়ের পরে মেয়ের খরচ কি তারা দিবে ? কামাই করা লাগবে তোমার । বলে দিতা – আমি ওই মেয়ের জন্য কামাই করতে পারব না। সব ঠান্ডা হয়ে যাইত।

ছেলেটা-আমাদের ব্যবসা আছে অনেক আগে থেকেই সেটা আমি দেখি।আর এগুলা টাকা পয়সা প্রবলেম নাই আমাদের । এই জন্য মেয়ের বাবা বিয়ে দিছে।

আমি- সেটা তো দিতে চাবেই। মা বাপ বড় হলে আর খরচ দিতে চায় না। মেয়েদের বেলায় কেমনে পার করবে আরেকজনের ঘাড়ে সেই চিন্তা।

তোমার টাকা থাকুক, কিন্তু তুমি কেমনে সেটা খরচ করবা সেটা তোমার ব্যাপার। বলবা আমার তো টাকা নাই এই মেয়ের জন্য খরচ করবার।এগুলি বুঝতে হয় কোনটা বললে কিছু করতে পারবে না কেউ

ছেলেটা-আমি নামাজে যাব।

আমি- যাও গা ,আমি কিন্তু তোমার এলাকার।

ছেলেটা-ও তাই, আমার বাসা টাউনে।

২০-২২ দিন পরে, রাত আড়াইটা বাজে, দেখি ছেলেটা অনলাইনে, এত রাতে কি করে বিয়ে করা ছেলে এই ফেইক আইডিতে, দেখি তো।

আমি- কেমন আছো ?

ছেলেটা- ভাল, ইউ

আমি- এইত ভাল

ছেলেটা-ডিনার ?

আমি- হুম ডান

হাউ ইজ ম্যারিড লাইফ ?

ছেলেটা- সব মিলিয়ে ভালই ব্রো

আমি- কুল,এত রাতে ফেসবুকে ? বউ কিছু বলে না !

ছেলেটা- দুজনেরি স্টাডি স্ট্রেস। একসাথে থাকলে একদম পড়াশুনা হচ্ছে না। তাই আপাতত ও ওর বাবার বাসা । আমি আমার বাসা আছি । কিন্তু কলেজে রেগুলার দেখা করি

আমি -হুম

ছেলেটা- হুম ব্রো।

অগাস্ট মাসের অর্ধেক পার হয়ে গেছে

আজ রাতে ফেসবুকে স্ক্রল করছি এমন সময় দেখি ছেলেটার স্ট্যাটাস,

-” সৌন্দর্যের জাল বিছিয়ে আজ আমি ১০০০ জনকেও রুমে নিতে পারি এ ক্ষমতাটুকু আমার আছে

কিন্তু মনের জাল বিছিয়ে আজও কাউকে আপন করতে পারিনি ,কি লাভ সৌন্দর্য,স্মার্টনেস হেন তেন বাল ছাল দিয়ে।”

আমার জেলাতেই বাড়ি ছেলেটির, নিজের এলাকার লোক আবেগ কাজ করে অন্যরকম।

আমি তো আজ স্ট্যাটাস দেখে বুঝেছি ছেলেটার মনে কি অবস্থা চলছে, নক দিলাম।

আমি-তুমি না বিবাহিত, স্ট্যাটাস টা কাদের জন্য ?

ছেলেটা- এক্স বয়ফ্রেণ্ডের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে আজ। কাল থেকে বাসায় কেউ নাই। দিন রাত আমার কান্না করে পার হচ্ছে। চাইলে অনেক কিছু করতে পারব কিন্তু হাত পা বাঁধা আমার। কাকে বলবো ভেতরের কথা। তাই যা মনে আসে আইডিতে লিখে দেই।

আমি- হ্যা, বউকে তো বলতে পারবা না এসব কথা, এজন্য বিয়ে করতে মানা করি সবাইকে। অন্তত তোমার এলাকায় তোমার কোন গে ফ্রেণ্ডের বাসায় গিয়ে তার সাথে কথা বলতে পারতে ,সামনা সামনি অনেক কিছু শেয়ার করতে পারতে নিজের ইচ্ছায় , এখন তো পারছ না।

ছেলেটা- হুম ভাই । আমার লাইফ এভাবে লুকায় লুকায় কান্না আর স্ত্রী এর সামনে হাসি খুশি থাকা ছাড়া আর কিছু নাই।

আমি- ডিভোরস দিয়ে দাও , এভাবে থাকার কোন মানে নাই, বাচ্চা কাচ্চা হয়ে গেলে বিশাল বিপদে পড়ে যাবা।

ছেলেটা- ওর তোহ ফল্ট নাই কোন, কিজন্য ডিভোরস দেবো, ও তো খুব ভাল মেয়ে।

আমি- তো ওর সাথে চিট করতেছ কেন ?তুমি যা অনুভব করবা সেও তাই অনুভব করবে।যেটা তুমি না সেটা হবার চেষ্টা করতেছ , পারবা না পরে কি যে আগুন লাগবে বুঝবা।

ছেলেটা – যা হবে দেখা যাবে ,তোমার সাথে কথা বললেই খালি এগুলা বলেন।

আমি -আমি তো জানি এগুলি হবে তোমার ,সেজন্য শুরু থেকে সাবধান করতেছি।

দেখ আমি নিজেও গার্লফ্রেণ্ড ট্রাই করে দেখছি দেড় মাস, তুমি যে কান্নার কথা বল্লা না সে অনুভুতি আমি টের পাইছি তখন।এখন আমি অনেক ভাল আছি।ভাগ্য ভাল সরে আসছিলাম।

ছেলেটা- কিন্তু আমার তো বি এফ নাই, কেউ ভালবাসে না,তো যার তার সাথে সেক্স করে বেড়াব নাকি!

আমি- কিন্তু তাই বলে একটা মেয়ের জীবন তুমি নষ্ট করতে পারো না। বি এফ নাই , লাগলে বি এফ বানাবা আরও হবে, ছেলের কি অভাব আছে দেশে ।

ছেলেটা -আমি তো ওরে বিয়ে করি নাই, আমাকে জিদ করে বিয়ে দিছে। এক মন কত জন কে দেয়া যায় ?

আমি -তোমার বিয়ে আরেকজন দিবে কেন ?

যার কাছে তুমি সুখি হবা তার কাছে মন দিবা শেষ মেষ।

তুমি বিয়েতে সুখি না , এখন আমি জানি না তুমি বউরে কেমনে সুখি করবা আর কেমনে কি করবা?

ছেলেটা- বয়ফ্রেণ্ড ছিল ইণ্টার এ ব্রেকাপ হইছে, তার পর আর রিলেশন করি নাই।

আমি-এখানে ভুল করছ, তোমরা একসময় সুখে ছিলে ,এর পরে দ্বিমত হইছে ,ভাল লাগা ছিল না তাই আলাদা হয়ে গেছো, আবার নতুন কাউকে নিয়ে শুরু করতে, যাকে সত্য তুমি পছন্দ করতে । অন্তত ভাল থাকতে, এখন তো এমন একজনের সাথে আছো যাকে তুমি মন থেকে চাও না।

সুখি হওয়া সম্পূর্ণ তোমার হাতে, সব কিছু নিজের হাতে করতে হয় , চেষ্টা করতে হয়, এমনি এমনি হয় না।

ছেলেটা -আপনি কি রিদয় ভাইয়া ?

আমি -নাহ ,আমার ছবি দেয়া আছে উপরে, সব লিখাও আছে আমার প্রোফাইলে।

আমি জানি তোমার কেমন কষ্ট হচ্ছে, এখন এভাবে বাকি জীবন থাকবা কি না তোমার হাতে সব

ছেলেটা – ওহ সরি, অন্য কারো সাথে আপনাকে মিলায়ে ফেলছিলাম

আমি -সরি হবার কিছু নাই

আমি সরি যে তোমার এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

ছেলেটা-

হুম, আল্লাহ কুকুর বানাইতো, ছাগল বানাইত,তাও ভাল ছিল, আল্লাহ যেন কাউকে গে না বানায়

আমি- রাতে খেয়েছো ?

ছেলেটা- না আপনি ?

আমি -খাব,তুমি খেয়ে ঘুম দাও ।

ছেলেটা- আমি জলদি ই ঘুমাই রাত জেগে কি করবতাই ,বউ ও নাই আজ ,ওই কাল আসবে ।

আমি -হুম

ছেলেটা- ওকে ভাইয়া, গূড নাইট ,আল্লাহ হাফেজ ।

আমি- শুভ রাত্রি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.