একজন বিবাহিত সমকামীর সাথে কথোপকথন

ফ্লিন রাইডার

ছেলেটি সমকামী ,আমারই মতন। তখন জুলাই মাস সবে মাত্র শুরু হয়েছে।সেদিনটা ছিলো শুক্রবার।দুপুরের দিকে,একটা পোস্ট দেখে চোখ আটকে গেলো।ছেলেটি – বিয়ে করেছে বলে পোস্ট দিয়েছে!

আমি পোস্টের কমেন্ট সেকশনে বলেছিলাম, এটি কি করেছো তুমি? একটু ভেবে দেখতো, তোমার কাজটি ঠিক হয়েছে কি না? নিজের জীবন টাতো নিজেই নষ্ট করলে, সাথে মেয়েটার জীবনও নষ্ট করলে তুমি!

কিন্তু তার ফেসবুকের অন্যান্য গে বন্ধুরা এসে একেবারে আক্রমণাত্মক ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে সোজা আমার উপর। বলে যে,পুরুষের যৌনাঙ্গ দাঁড়ালেই নাকি বিয়ে করা যায়! সাথে জুড়ে দিলো ধর্মের নানান যুক্তি ; যেগুলোর বেশির ভাগই আমার আছে কুযুক্তি বলে মনে হয়েছে!

ছেলেটি পরে এসে দেখেন,তার পোস্টটির কমেন্ট সেকশনে কুরুক্ষেত্র বেঁধে গেছে । সুতরাং সে আগেপিছে কিছু না ভেবেই পোস্টটি ডিলিট করে দিলেন।

কিছু সময় পর,হঠাৎ একটি ম্যাসেজ দেখে বেশ অবাক হলাম।এতোকিছুর পরেও ছেলেটি নিজেই সেদিন আমাকে নক দিয়েছিল।প্রথম দিকে আমি বেশ অবাক হয়েছিলাম বটে। তবে তার সাথে আমার দীর্ঘ আলাপচারিতায় তার প্রতি আমার যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি রাতারাতিই উবে গিয়েছিল!

সেই আলাপচারিতার কিছু অংশ এখানে তুলে ধরছি…

জনৈক ছেলে – বিয়েটা জোরপূর্বক হয়েছে।আমারো ওর-ও (মেয়েটিরো) । এডজাস্ট করতে টাইম লাগে নাকি ? আর এখানে লাইফ নষ্টের কি আছে? দু’দিন পরে হয়ত বিয়েটা ২৬ বছরে হইত,এখন এটি ২৩ এ হইছে।

আমি – তুমি কি গে নাকি বাইসেক্সুয়াল ?

জনৈক ছেলে – গেই বলা চলে , যাই হোক এখন আমার বায়ো দিয়ে কি হবে ? আর ভাই বিয়ে না করে কই যাব বলেন ? মা কথা দিয়ে ফেলেছিলেন ওখানে।সুতরাং মা তার আত্মসম্মান হারানোর ভয়ে কেবল আমার পা ধরা ব্যতিত অন্য সব অনুনয় বিনয় করেছেন এই জন্য যে, বিয়ে আমাকে অবশ্যই করতে হবে!

আমি – ম্যারিড গে রা আবার কি করে?বউ এর সাথে চিট করে ছেলেদের সাথেও সেক্স করে বেড়ায়। আর হ্যাঁ ধরা খেয়ে যাইতে পারো, তখন কিন্তু চিপায় পড়বা।

জনৈক ছেলে – আসলে বিয়ে নিয়ে আমার সাথে যা হয়েছে এসব কিছুই ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল ছাড়া আর কিছুই না। আর হ্যাঁ, আমি ছেলেদের সাথে সেক্স করা, অনেক আগেই বাদ দিয়েছিলাম।

আমি- হ্যাঁ, মা রা ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করায় ওস্তাদ!

জনৈক ছেলে- হুম

আমি – আমার মা কম ব্ল্যাকমেইল করে নাই ,এবং এত ভাল এক্টিং করতে পারে কি বলব! মেয়েদের কে চিনো না।ডাইরেক্ট বলে দিবা যে মেয়ে ভাল লাগে নাই , ওর জন্য আমার প্রেম জাগে না ,শেষ । এ জীবনটা তোমার, সুতরাং আরেকজন কথা দেয়ার কে ?

জনৈক ছেলে – আরেকজন মানে ? মা আরেকজন হয় কিভাবে ?

আমি- তোমার ধোন কি মা-বাবা কিংবা সমাজের কথায় , মায়ের পা ধরার জন্য এখন ওই মেয়ের জন্য দাঁড়াবে ?নাকি মা-বাবা আর সমাজ ওই মেয়ের আর তোমার বাচ্চা লালন পালনের টাকা পয়সা দিবে ?দেখো এটা তোমার পার্সোনাল লাইফ, এখানে মা এর কোন কাহিনী নাই।

জনৈক ছেলে – প্লিজ আমি এগুলি আর শুনতে চাই না।যা হবার তাই হয়েছে । এখন এটাই মানতে হবে আমাকে ।

আমি – তোমার কি আইডিয়া ছিল না যাদের বিয়ে হইছে তাদের কি অবস্থা।

জনৈক ছেলে- পরিস্থিতির শিকার আমি!

আমি- পরিস্থিতি কিছু না, তুমি নিজের জন্য দাঁড়াতে পারো নাই। তোমাকে কঠিন হতে হত, ফ্যামিলি পলিটিক্স অনেক কঠিন জিনিস।

জনৈক ছেলে- অনেক বকাঝকা শুনতে হয়েছে , গুষ্টির সবাই আসতে ছিল এক এক করে। এরপরে আমি ভয়ে আর কিচ্ছুটি বলি নাই । কিছু বললে আমাকেই হয়ত ওরা কেঁটে ফেলত!

আমি- কেঁটে ফেলা এতো সহজ না । সবাই ঐ ফাঁপর পর্যন্তই। ওই যে বলে দিতে বিয়ের পরে মেয়ের খরচ কি তারা দিবে ? কামাই করা লাগবে তোমার । বলে দিতে – আমি ওই মেয়ের জন্য কামাই করতে পারব না। সব ঠান্ডা হয়ে যেত।

জনৈক ছেলে – আমাদের একটি ব্যবসা আছে। অনেক আগে থেকেই সেটি আমিই দেখি।আর তাও টাকা-পয়সার প্রবলেম নেই আমাদের । এই জন্যই মেয়ের বাবা বিয়ে দিছে।

আমি- সেটা তো দিতে চাবেই। মা-বাবা বড় হলে আর খরচ দিতে চায় না। আর মেয়েদের বেলায় তাকে কি করে আরেকজনের ঘাড়ে চাপাবে সেই চিন্তাই তাদের!

তোমার টাকা থাকুক, কিন্তু তুমি কি করে সেটা খরচ করবে সেটা তোমার ব্যাপার। বলবা আমার তো টাকা নাই এই মেয়ের পেছনে খরচ করবার।আসলে এগুলি বুঝতে হয় কোনটা বললে কিছুটা করতে পারবে না কেউ।

জনৈক ছেলে – আমি নামাজে যাব।

আমি- যাও গা ,আমি কিন্তু তোমার এলাকার।

ছেলেটা-ও তাই, আমার বাসা টাউনে।

২০-২২ দিন পরে, রাত আড়াইটা বাজে, দেখি ছেলেটা অনলাইনে ! এত রাতে একজন সদ্য বিয়ে করা ছেলে কি করেন এই ফেইক আইডিতে, দেখি তো।

আমি- কেমন আছো ?

ছেলেটা- ভাল, ইউ

আমি- এইত ভাল

ছেলেটা-ডিনার ?

আমি- হুম ডান। হাউ ইজ ইয়োর ম্যারিড লাইফ ?

জনৈক ছেলে – সব মিলিয়ে ভালই ব্রো

আমি- কুল,এত রাতে ফেসবুকে ? বউ কিছু বলে না !

জনৈক ছেলে – দু’জনেরি স্টাডি স্ট্রেস। একসাথে থাকলে একদম পড়াশুনা হচ্ছে না। তাই আপাতত ও ওর বাবার বাসা । আমি আমার বাসায় আছি । কিন্তু কলেজে রেগুলার দেখা হয় আমাদের।

আমি -হুম

জনৈক ছেলে – হুম ব্রো।

আগস্ট মাসের অর্ধেক পার হয়ে গেছে

আজ রাতে ফেসবুকে স্ক্রল করছি এমন সময় দেখি ছেলেটার স্ট্যাটাস,

-” সৌন্দর্যের জাল বিছিয়ে আজও আমি ১০০০ জনকেও রুমে নিতে পারি এ ক্ষমতাটুকু আমার আছে। কিন্তু মনের জাল বিছিয়ে আজও কাউকে আপন করতে পারিনি ,কি লাভ সৌন্দর্য,স্মার্টনেস হেন তেন বাল ছাল দিয়ে!”

আমার জেলাতেই বাড়ি ছেলেটির, নিজের এলাকার লোক তাই আবেগ কাজ করে অন্যরকম।

আমি তো আজ স্ট্যাটাস দেখে বুঝেছি ছেলেটার মনে কি অবস্থা চলছে, তাই আগেপিছে কিছু না ভেবে নক দিলাম।

আমি – তুমি না বিবাহিত, স্ট্যাটাস টা কাদের জন্য ?

জনৈক ছেলে – এক্স-বয়ফ্রেণ্ডের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে আজ। কাল থেকে বাসায় কেউ নাই। দিন রাত আমার কান্না করে সময় পার হচ্ছে। চাইলে অনেক কিছু করতে পারব কিন্তু হাত পা বাঁধা আমার। কাকে বলবো ভেতরের কথা। তাই যা মনে আসে আইডিতে লিখে দেই।

আমি- হ্যাঁ, বউকে তো বলতে পারবা না এসব কথা, এজন্য বিয়ে করতে মানা করি সবাইকে। অন্তত তোমার এলাকায় তোমার কোন গে ফ্রেন্ডের বাসায় গিয়ে তার সাথে কথা বলতে পারতে ,সামনা সামনি অনেক কিছু শেয়ার করতে পারতে নিজের ইচ্ছায় , এখন তো সেটিও পারছ না,তাইনা?

জনৈক ছেলে – হুম ভাই । আমার লাইফ এভাবে লুকায় লুকায় কান্না করা আর স্ত্রী এর সামনে হাসি খুশি থাকা ছাড়া আর কিছু নাই।

আমি- ডিভোর্স দিয়ে দাও , এভাবে থাকার কোন মানে নাই, বাচ্চা কাচ্চা হয়ে গেলে বিশাল বিপদে পড়ে যাবা।

জনৈক ছেলে – ওর তো কোনো ফল্ট নাই, কি জন্য ডিভোর্স দেবো? আর ও তো খুব ভাল মেয়ে।

আমি- তো ওর সাথে চিট করতেছ কেন ?তুমি যা অনুভব করবে সেও তাই অনুভব করবে।যেটা তুমি না সেটা হবার চেষ্টা করতেছ , পারবে না পরে কি যে আগুন লাগবে বুঝবে।

জনৈক ছেলে – যা হয় হোক,যখন হবে তখন দেখা যাবে!আর তোমার সাথে কথা বললেই তুমি শুধু এগুলাই বলতে থাকো।

আমি – আমি তো জানি এগুলি হবে তোমার ,সেজন্য শুরু থেকে সাবধান করতেছি।

দেখ আমি নিজেও গার্লফ্রেণ্ড ট্রাই করে দেখছি দেড় মাস, তুমি যে কান্নার কথা বললে না ; সে অনুভুতি আমি টের পাইছি তখনই।এখন আমি অনেক ভাল আছি।ভাগ্য ভাল সরে এসেছিলাম।

জনৈক ছেলে – কিন্তু আমার তো বি.এফ নেই, কেউ ভালবাসল না আমাকে !তো এখন যার তার সাথে সেক্স করে বেড়াব নাকি!

আমি- কিন্তু তাই বলে একটা মেয়ের জীবন তুমি নষ্ট করতে পারো না। বি.এফ নেই , লাগলে বি.এফ বানাবা আরও হবে, ছেলের কি অভাব আছে দেশে?

জনৈক ছেলে – আমি তো ওকে বিয়ে করি নাই, আমাকে জিদ করে বিয়ে দেয়া হয়েছে। এক মন কত জন কে দেয়া যায় বলো ?

আমি -তোমার বিয়ে আরেকজন দিবে কেন ? যার সাথে তুমি সুখী হবে তার কাছেই তুমি দিন শেষে মন দিবে। তুমি এই বিয়েতে সুখী না , এখন আমি জানি না তুমি তোমার বউকে কি করে সুখী করবা আর কি করে কি করবা?

জনৈক ছেলে – বয়ফ্রেণ্ড ছিল ইন্টারে ব্রেকাপ হয়েছিলো আমাদের, তারপর আর রিলেশন করি নাই।

আমি – এখানেই ভুল হয়েছে। তোমরা একসময় সুখে ছিলে ,এর পরে দ্বি-মত হইছে ,ভাল লাগা ছিল না তাই আলাদা হয়েও গেছো, আবার নতুন কাউকে নিয়ে শুরু করতে পারতে, যাকে সত্যিই তুমি পছন্দ করতে । অন্তত তখন ভালই থাকতে, এখন তো এমন একজনের সাথে আছো যাকে তুমি মন থেকে চাও না! সুখি হওয়া সম্পূর্ণ তোমার হাতে, সব কিছু নিজের হাতে করতে হয় , চেষ্টা করতে হয়, এমনি এমনি কিচ্ছুই হয় না।

জনৈক ছেলে – আপনি কি হৃদয় ভাইয়া ?

আমি -নাহ ,আমার ছবি দেয়া আছে উপরে, সব লিখাও আছে আমার প্রোফাইলে। আমি জানি তোমার কেমন কষ্ট হচ্ছে, এখন এভাবে বাকি জীবন থাকবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনো তোমার হাতেই।

জনৈক ছেলে – ওহ সরি, অন্য কারো সাথে আপনাকে মিলায়ে ফেলেছিলাম!

আমি – সরি হবার কিছু নাই।

আমি নিজেই দুঃখিত তোমাকে এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে দেখে।

জনৈক ছেলে – আল্লাহ আমারে কুকুর বানাইতো, ছাগল বানাইত, তাবুও ভাল থাকতাম হয়ত।আল্লাহ্ যেন এই দুনিয়ায় আর কাউকে কাউকে গে না বানায়!

আমি- রাতে খেয়েছো ?

জনৈক ছেলে – না আপনি ?

আমি -খাব,তুমি খেয়ে ঘুম দাও ।

জনৈক ছেলে – এখন আমি একটু জলদিই ঘুমতে যাই। তাছাড়া রাত জেগে কোনো কাজ করার মত নেই ; বউ ও নাই আজ ,ও আগামীকাল আসবে হয়ত ।

আমি – হুম

জনৈক ছেলে – ওকে ভাইয়া, গুড নাইট ,আল্লাহ হাফেজ ।

আমি- শুভ রাত্রি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.