ইটিশপিটিশ

ইটিশপিটিশ একটি কলা।

এটি লম্বা, সরু, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ পুষ্টিকর কোন ফল নয়। এটি শিল্পকলার কলা, ইংরেজিতে যাকে বলে Art. ফল হিসেবে কলা অতি পুষ্টিকর। সকলে সেটি গলধকরন করতে পারে, আবার জীর্ণও করতে পারে। তবে শিল্প সাধন সহজ কর্ম নয়। ইটিশপিটিশ শব্দটি শুনতে ছেলেখেলা মনে হতে পারে কিন্তু বাস্তবিক এ এক কঠিন কলা। একে গলধকরন বা জীর্ণ করা, উভয়ই সাধারণের কম্ম নয়।

ঢালিউডি সিনেমার ন্যাকা ন্যাকা ইটিশপিটিশ দেখেনি কোন জনে? নায়িকাকে একটু ছুয়ে দিলেই ‘ইতর, অসভ্য’ খেতাব পেতে হয় নায়ককে। ওদিকে আবার লজ্জা নাকি নারীর ভূষণ। তবে দুজন পুরুষের ইটিশপিটিশে লজ্জার দায়ভার কে নেবে? কিংবা দুজন নারীর ইটিশপিটিশে পুরুষালি অসভ্যতার দায়িত্বই বা কে নেবে? ইটিশপিটিশেও চাই আধুনিকতা।

কিন্তু আজকালের আধুনিকতা মানেই তো অনলাইন। আর অনলাইন মানেই ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম আর হ্যাশট্যাগ। ইন্সটাগ্রামে ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে হ্যাশট্যাগ দেয়া ‘আই লাবিউ’ বলে। শুধু কি হ্যাশট্যাগেই ক্ষান্ত? বন্ধুতালিকার সবাইকে ট্যাগ করে জানান দেয়া চাই পিরিতি কাহিনী। এমন ইসটুপিডভাবে ইটিশপিটিশ জাহির করলে বন্ধু মহল সুদৃষ্টিতে নাও দেখতে পারে। আর সমপ্রেমীদের তো আরো জ্বালা। অনলাইন অফলাইন সবই করতে হয় লুকিয়ে লুকিয়ে, নাহলে যে নানা মুনির নানা মতের জোয়ারে ইটিশপিটিশের বারোটা বাজবে।

তাই বলি, এটি বাস্তবিকই এক শিল্প। আর তা করতে হবে ‘ধরি মাছ না ছুই পানি’ নিয়মে। এই যেমন ধরুন বন্ধুরা(আপনার ইটিশপিটিশ সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনীও উপস্থিত সেখানে) মিলে আড্ডা দিচ্ছেন কোন এক বন্ধুর বাসায় কোন এক সন্ধ্যা বেলায়, অমনি বিদ্যুৎ গতিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। সুযোগের সদব্যাবহার করে আপনি আর আপনার ইটিশপিটিশ সঙ্গী বিদ্যুৎ গতিতে চুমু খেয়ে নিলেন। তবে খেয়াল রাখবেন, ইনস্ট্যান্ট জেনারেটর নামে আজকাল কিছু বাজে যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে। ভরা মজলিশে দুজনের চুম্বক অবস্থায় কেউ ঈর্ষা বোধ না করলেও ‘নির্লজ্জ’ খেতাব জুটে যেতে পারে।

আবার বদ্ধ ঘরে যদি ভাল না লাগে তবে খোলা আকাশের নিচে চলতে চলতেও চুমু খাওয়া চলতে পারে। তবে বাংলাদেশ বলে কথা, কারো নজরে পড়লে উত্তম মধ্যম ব্যতিত কিছু জুটবে না। তাই খোলা আকাশের নিচে ওষ্ঠের মিলন না ঘটিয়ে দুজনের দুহস্তের মিলন ঘটানোই নিরাপদ। কিন্তু সেও সেকেলে আর নিরামিষ। চুটিয়ে ইটিশপিটিশ করতে হলে তবে ডুব দিতেই হয়। সে হোক লোনা সাগরের জলের নিচে কি আপনআলয়ের চাদরের নিচে।

কিন্তু যাদের ইটিশপিটিশ সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনী নেই? তবে কি তাদের জন্য তা বারণ? ইটিশপিটিশ শিল্প হতে পারে, কিন্তু যুগল সমাজের প্যাটেন্ট করা কর্মযজ্ঞ তো নয়। ‘Single, ready to mingle’ সমাজের লোকজনের জন্যও দুয়ার উম্মুক্ত। পথে ঘাটে হাটতে হাটতে কিংবা রিক্সায় যেতে যেতে অন্য রিকশায় বসা সুন্দর ছেলেটির কিংবা মেয়েটির সাথে চোখাচূখি তো হয়ই। পথচারী কারো সুন্দর হাসি কিংবা সুন্দর চাহুনির মায়ায় মন ভুলতে পারে, হতে পারে ক্ষণিকের জন্য চুরি। কখনো সখনো পাশে ছেলেবন্ধুটি কিংবা মেয়েবন্ধুটি রেখেই চলে ইটিশপিটিশের পরকীয়া শাখার খেলা।

এমনিভাবেই ইটিশপিটিশ চলছে, চলবে। আধুনিক কবিতায় যেমন ছন্দমিলের তোয়াক্কা না করে যেমন খুশি তেমন করে মনের ভাব প্রকাশ করা যায়, ইটিশপিটিশও তেমনি এক সার্বজনীন মাধ্যম। শুধু মনমত সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনীটি মিললেই হোল।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.