নিরন্তর

ঘাসফড়িং

-স্যার ক্ষমা করবেন।আপনাকে বিরক্ত করছি।আপনার একটা ফটো তুলি প্লীজ।

আমি ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকালাম।একটা ছেলে হাতে একটা ডিএসএলআর নিয়ে এগিয়ে এলো।আমি সাধারণ ভঙ্গিতে হাসি দিতেই ছেলেটা ফটো তুলে নিল।একটা প্রাপ্তির হাসি ফোটে উঠল ছেলেটার মুখে।অদ্ভুত এক গর্বে আমি অভিভূত হচ্ছিলাম।ড্রাইভারের ডাকে সম্বিৎ ফিরে পাই।

-স্যার।দেরি হয়ে যাচ্ছে।আমাদের ওখানে দশটার আগে পৌছতে হবে।

ড্রাইভারের কথায় গাড়িতে উঠে বসি।জানালা দিয়ে বাইরের দিকে দৃষ্টি দিলাম।বাড়ির গেট পেরোচ্ছি।দেয়ালের পাড় ঘেঁষে দাঁড়ানো সুপারি গাছগুলো মনে হচ্ছে পেছনে চলে যাচ্ছে।

ছ’মাস গত হল আমেরিকা থেকে ফিরে এসেছি।পিএইচডি করতেই যেতে হয়েছিল।আমেরিকাতেই ভাল ভাল পদে ডাক্তারি করার সুযোগ ছিল।ওখানকার একটা মেডিক্যাল কলেজের প্রধান সহকারী অফিসার পদে নিয়োগ হওয়ারও প্রস্তাব এসেছিল।কিন্তু আমি দেশের জন্য ফিরে এসেছি।দেশ ছেড়ে কিছু দিনের জন্য বাইরে থাকতে হয়েছে তা ভাবতেই এখনও গা শিউরে উঠছে আমার।মা বলে আমার মন নাকি নরম।শুধু নরমই নয়।খুব নরম।ছেলেরা নিজের ক্যারিয়ার গড়তে কত কিছুই না করে,আর আমি শুধুমাত্র দু-এক বছর দেশের বাইরে থাকাতেই এত ভেঙে পড়েছি!ছেলেরা এত কোমলমনা হয়?এ নিয়ে ঘরের সবগুলো হাসাহাসি করে।দেশে ফিরে আসতে কি না আসতেই এখানকার একটা মেডিক্যালে নিয়োগ করার নানান প্রচেষ্টা চলছে।পথচারী, হোটেল,শপিং মল যেখানেই যাচ্ছিনা কেন কারো চোখ এড়াচ্ছিনা।এমনকি ভার্সিটির পুরনো বন্ধুরা পর্যন্তও সুযোগ পেলে ছাড়ছেনা।প্রশংসায় অতিরঞ্জিত করে তুলছে।

একটা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাচ্ছি।আমাকে উদ্দেশ্য করেই অনুষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে।সভায় পৌঁছানোর পর করতালির আওয়াজ ছাড়া কিছুই কানে আসছিলনা।মানুষ পারেও বটে।

অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফিরতেই দ্রুত গাড়িতে উঠে পড়ি।মাথাটা বনবন করছে।মনে হচ্ছে কানের চারপাশে কিছু মৌমাছি ভোঁ ভোঁ করে যাচ্ছে।লোকজনের ভিড় থেকে যে নিজেকে ছুটিয়ে আনতে পেরেছি এতেই ঢের।

প্রবল বিরক্তিকর একটা রেখা পড়ে আছে মুখে আমার।হঠাৎ করেই আমাদের গাড়িটা ঝাঁকুনি খেল।সাথে করে আমিও সামনের দিকে বেশ খানিকটা ঝুঁকে গেলাম।ঝাঁঝাল কণ্ঠে প্রশ্ন করি ড্রাইভারকে।

-কি হলো?

ড্রাইভারের অবাক চিত্ততা দেখে আমি গাড়ির গ্লাসের দিকে চোখ ফেলতেই থতমত খেয়ে উঠি। একটা লোক গাড়ির সামনে এসে পড়ল।তড়িঘড়ি করে ড্রাইভার গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথেই আমি নামি।ছেলেটার পাশে গিয়ে বসি।লুটিয়ে পড়া ঘাড় তোলে ধরতেই আরও হতভম্ব হয়ে পড়ি।কপাল ফেটে রক্ত বেরচ্ছে ছেলেটার।আমি ড্রাইভারকে বললাম,

-তাড়াতাড়ি গাড়িতে তুলো একে।তখনই কেউ একজন দৌড়ে আসল হাঁপাতে হাঁপাতে।বলল,

-সর্বনাশটা করেই ছাড়লি!

আমি পিছন ঘুরে তাকাই।ছেলেটা আবারও বলল,

-ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?

আমি হতবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করি।

-মানে?ওনার ট্রিটমেন্ট অনিবার্য হয়ে পড়ল যে!

-লাভ নেই।এখন অজ্ঞান বলে আপনি দাঁড়াতে পারছেন। ওর জ্ঞান ফিরা মাত্রই ও আবারও পাগলামো শুরু করবে।আপনাকেও পাগল করে ছাড়বে।

-স্যার গাড়িতে তোলা দরকার লোকটাকে।অবস্থা দেখেছেন!

ড্রাইভারের কথায় আমার ঘোর কাটে।

পাগলামো!এতবড় একটা লোকের! কি বলছে ছেলেটা এসব?

-আচ্ছা আপনি আসুন আমাদের সাথে।লোকটাকে উদ্দেশ্য করে আমি বলি।

বিছানার একপাশে শুইয়ে রেখেছি ছেলেটাকে।আমার পাশেই বসে রয়েছে ছেলেটার আপনজন।তার ভাই।আমিই নীরবতা ভাঙলাম।

-আপনি ওর ভাই?

ছেলেটা উৎসুক হয়ে উত্তর দেয়।

-হ্যাঁ,ভাই।তবে ও আমার পৃথিবীর সবথেকে ভাল বন্ধু।

-তা ওনার এ অবস্থা কেন?

ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে।বলতে শুরু করে।

-আপনি তো ডাক্তার।ট্রিটমেন্ট করবেন ওর?

-হ্যাঁ।

-তাহলে সময়ের সাথে জানতে পারবেন।আমাকে এখন কিছু সময়ের জন্য বাসায় যেতে হবে।

-আপনার ভাইকে?

-আমি ফিরে এসে নিয়ে যাব।জ্ঞান তো এখনই ফিরছে না।তাইনা?

ছেলেটা বেরিয়ে গেল রুম থেকে।আমি নিরুপায় দৃষ্টিতে চোখ ঘুরালাম জ্ঞানহীন ছেলেটার দিকে।অদ্ভুত এক সৌন্দর্য!এখানে অদ্ভুত বিশেষণটি ছেলেটার সৌন্দর্যের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলছে।যথাযথ হচ্ছে না শব্দটা।অসম্ভব হবে,না না অসাধারণ;অসাধারণও সঠিক হচ্ছে না বোধহয়।তবে আমার কাছে কিছুটা অলৌকিকই লাগছে ব্যপারটা।ইউসুফ জুলেখার কাহিনী পড়েছিলাম।শুনেছিলাম ইউসুফ সমগ্র পৃথিবীর অর্ধেক সৌন্দর্যের অধিকারী ছিল।আমিও তা বিশ্বাস করি।কিন্তু এখন সেই ধারণাটা কেমন মিছে মনে হচ্ছে।তাহলে আমার সামনে ঘুমন্ত ছেলেটা এত রূপ কোথা থেকে পেল!

অভিভূত মুহূর্তের রেশ কেটে যায় ছেলেটার আড়মোড়াতে।আমি একটু নড়ে বসে ছেলেটার কপালে হাত বুলাই।চোখ মেলতেই জিজ্ঞেস করি,

-কেমন লাগছে এখন?

প্রত্যুত্তর পাইনা ছেলেটার।আমি আবারও একই প্রশ্ন করি।এবার ছেলেটা হতভম্ব হয়ে পড়ে।

-কে তুমি?আর আমি এখানে কেন?

বলেই ছেলেটা বিছানা থেকে উঠে বসে।কেমন ছটফটানি লক্ষ্য করা যাচ্ছে ছেলেটার মধ্যে।অদ্ভুত মনে হচ্ছে খানিকটা।আমি একটু এগিয়ে যেতেই ছেলেটা হেসে উঠে। অন্তঃসারশূণ্য এক হাসিমাখা মুখ নিয়ে বলে,

-তুমি কি রায়ান?আমার রায়ান?

আমি নিষ্পলক ভাবে তাকিয়ে থাকি।ছেলেটা এসব কি বলছে কিছুই মাথায় ঢুকছেনা।ঘোর কাটিয়ে আমি প্রশ্ন করি,-রায়ান কে?

-তুমি রায়ানকে চিননা?

বলেই খিলখিল করে হেসে উঠে ছেলেটা।হাসিটা তার অর্থহীন হলেও অনুভূতি তৈরি করার মত।

আরও কিছু বলতে যেতেই পেছন থেকে কেউ একজন বলে উঠে,

-জ্ঞান ফিরে গেছে?

আমি পেছন ঘুরে তাকাই।সকালের ছেলেটা।অজ্ঞান অবস্থায় এই আমার সামনের আধপাগল ছেলেটাকে রেখে গিয়েছিল যে।কি বলে যেন পরিচয় দিল,ভাই না বন্ধু!কোনও কিছুই পরিষ্কার করে মাথায় ঠেকলনা আমার।

-জ্ঞান ফিরল কখন?

-এইত কিছুক্ষণ হল।

আমি উত্তর দেই।

-বাড়িতে সৌরভকে নিয়ে বাবা মা টেনশনে ছিল প্রচুর।ওদেরকে সময় মত খবরটা না দিলে এতক্ষণে ভয়াবহ কিছু একটা ঘটে যেত।

-সৌরভ কে?

-আপনার বিছানায় যিনি বসে আছেন।আর আমি আরাফ।

-ওহ।তো ওনার আচরণ এমন কেন?

-পাগলের আচরণ এমন হওয়াটাই কি স্বাভাবিক না?

আমি ভ্রু কুচঁকিয়ে জিজ্ঞেস করি,

-পাগল!মানে?

-আসলে ঠিক পরিপূর্ণ পাগল বলা চলেনা।ও মানসিক রোগী।

-সেটাই বলুন।আমি সেই প্রথম থেকেই এই আশঙ্কাই করছিলাম।

-তো আপনি নাকি একটা হসপিটাল স্থাপন করেছেন?তাও মানসিক রোগীদের নিয়ে?

-হুম।বাবার সাহায্য,প্রচেষ্টা আর উত্সাহেই এই কাজটা করতে পেরেছি।

-সৌরভের জন্য আপনার হাসপাতালের কোনও একটা বেড পাওয়া যাবে?

-এভাবে বলছেন যে!আমি ডাক্তার আর রোগীদের সুস্থ রাখাই আমার পেশা।আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব আপনার ভাইকে সুস্থ করে তোলার।

-বাহ!শুধু শুধু শহরের লোকজন আপনার নাম জপছেনা।এখন বুঝতে পারছি।

-আচ্ছা,আপনার ভাইয়ের এ অবস্থা কি করে হল বলবেন একটু সময় করে?

-অবশ্যই।তবে আজ বাসায় নিয়ে যাই।কাল সকালে আমি ওকে নিয়ে আবার আসব।

সৌরভের দিকে এগিয়ে গেল ওর ভাইটা।বাচ্চা ছেলেদের যেভাবে মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে হাত করতে হয়,সেভাবেই কি সব বলল আরাফ সৌরভ ছেলেটাকে।

এরপর আমার একপাশ দিয়ে দরজার দিকে হাঁটা শুরু করল দুজন।শুধু শুধু কেন জানি ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরোতে চাইল আমার।যদিও আমি চেপে গিয়েছি অর্থহীন সেই বিষাদকে।

-আপনাকে বিশ্বাস করা যায় নির্দ্বিধায়।তাই যতই ব্যক্তিগত হোক আমি সেসব বলতে একটুও সংকোচ বোধ করছিনা।

আমি স্মিত হেসে বললাম,

-আপনি এভাবে বলছেন কেন?আমার কিছুটা অবাকই লাগছে।যদি আপনি মনে করেন কথাগুলো অপরিচিত কারো সাথে শেয়ার করা যায়,তাহলেই বলুন।নয়ত প্রয়োজন নেই।

-আপনি অপরিচিত হলেও বিশ্বস্ত।

কিছুক্ষণ চুপ থেকে আরাফ ছেলেটা আবারও বলতে লাগল,

-প্রায় একবছর হয়ে গেল সৌরভের এই অবস্থা।কিন্তু এ নিয়ে মা ছাড়া আর কেউ তেমন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বা চিন্তিতও নয়।অবশ্য এর পেছনে শক্ত একটা কারণ রয়েছে।সৌরভ সমকামী।

কথাটা শুনে আমি মোটেও অবাক হইনি।আমার ধারণা বারবার এখানে এসেই ভিড়ছিল।আমি কিছুটা আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

-এই সমকামীতাই কি সৌরভের এ অবস্থার জন্য দায়ী?

-হুম।সম্পূর্ণভাবেই দায়ী। সৌরভের মত গম্ভীর,বাস্তববাদী ছেলে খুঁজে পেতে মোটামুটি বেগ পেতে হবে আপনাকে।কিন্তু বাস্তবতা মানুষকে শেখাতে সমাপ্তি টানেনা।কঠিন থেকেও কঠিনতম পরিস্থিতির সাথে পরিচয় করায়।

চারপাশে নিস্তব্ধতা।মাঠের একপাশে পুকুর আর অন্য পাশে আমাদের ফ্ল্যাট।আমাদের পুকুর আর ফ্ল্যাটকে ঘিরে রয়েছে প্রাচীর।

আমি আড়ষ্ট হয়ে বসে আছি।পরিবেশটাও উপযোগ্য সৌরভের জীবনী শুনার জন্য।

নীরবতা ভেঙে আরাফ আবারও বলতে শুরু করে।

-সৌরভ যেই ছেলেটাকে পছন্দ করত সে তার ভার্সিটিরই একটা স্টুডেন্ট ছিল।সৌরভের দু ব্যাচ নিচের সেই রায়ান নামক ছেলেটাকে প্রথম দেখাতেই ভালবেসেছিল সৌরভ।গ্রাম্য একটা ছেলে।খুব সাধারণ,অমায়িক দৃষ্টির একটা ছেলে।দেখলে যে কারোরই মায়া জন্মে যায়।আসলে অভাবনীয় ভাবেই কেন জানি সৌরভ রায়ানের প্রতি অসীম দূর্বল হয়ে পড়ছিল।নিম্নবিত্ত পরিবারের রায়ানকে সৌরভ শুধু ভালোইবাসেনি,নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছিল ওর মাঝে।সৌরভ যখন ভার্সিটির ফাইনাল ইয়ারের সেমিস্টার দিচ্ছিল,তখন রায়ানকে প্রথম দেখতে পায়।সেখান থেকেই পরিচয় হয় দুজনার।ধীরে ধীরে সৌরভ রায়ানের সম্পর্কে ভালভাবে জানতে চেষ্টা করে।এবং সময়ের সাথে সৌরভের রায়ানের প্রতি ভাল লাগার মাত্রাটা প্রচণ্ড পরিমাণে বেড়ে যেতে থাকে।

রায়ানকে সর্বদা চোখে চোখে রাখাই যেন সৌরভের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়াল।

এরই মধ্যে রায়ানের সাথে সৌরভের সাধারণ একটা বন্ধুত্ব গড়ে উঠে।

রায়ানের পরিবার তেমন সচ্ছল ছিলনা।তাই বলে ওর লেখাপড়া থেমে থাকেনি।রায়ান যে মেসে থাকত,সেই মেসের মালিককে রায়ানের অগোচরেই চিনে নেয় সৌরভ।যে মালিক এ মাসের ভাড়া ও মাসে পৌছোতে দিতনা,আর সে মালিকের প্রায় চার’মাসের ভাড়া জমাতেও কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই!সেটা বোধহয় রায়ানের মনে কিছুটা সন্দেহেরই জন্ম দিয়েছিল।আর তা সৌরভকে ঘিরেই।

চাপা স্বভাবের রায়ানের থেকে

রাগান্বিত সেদিন আর কাউকেই দেখিনি।কিন্তু সৌরভও সবকিছু কীভাবে যেন হ্যান্ডেল করে নেয়।একটুও আচঁ করতে পারেনা কেউ;সবার দৃষ্টির অগোচরে সৌরভই যে রায়ানকে ছায়া দিয়ে যাচ্ছে।আমি আগে থেকেই জানতাম সৌরভ সমকামী।তবে সেসব জেনেও আমি মোটামুটি স্বাভাবিকই ছিলাম,কিন্তু রায়ানের প্রতি সৌরভের সীমাহীন ভালবাসা দেখে আমি হতবাক না হয়ে পারছিলাম না।সবকিছুর একটা সীমা থাকা দরকার।না হয় অতিরিক্ত ভালবাসাতেও দূর্যোগ আসতে সময় নেয় না।এবং সেটাই ঘটে।তবে আশ্চর্যের বিষয় ছিল এটা,রায়ান ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি সৌরভ ওকে ভালবাসে,এটাই জেনে গিয়েছিলাম আমি আর সৌরভ।এবং সৌরভ নিজেও জানতনা রায়ান সমমনা কিনা!সেই ভয়েই ভালবাসাটা শুধু মুখের স্বীকারোক্তিতেই অপূর্ণ ছিল।এবং সেটাই ছিল সৌরভের না বোঝার ব্যর্থতা।

রায়ান আর সৌরভের সম্পর্কটা না ছিল বন্ধুত্বের,না ছিল ভালবাসার।তবুও নামহীন সম্পর্কটাতে নিখাদ এক টান ছিল।সেই সম্পর্কে ছিলনা কোনও স্পর্শ।তারপরও সৌরভ এতেই পরিতৃপ্ত ছিল।প্রেমিকযুগল না হলেও একই রিকশায় করে শহরের সব অলিগলি ঘুরে দেখা,সপ্তাহ শেষে সিনেমা দেখা,ছুটির দিনগুলোতে রায়ানের গ্রামে গিয়ে ঘুরে আসা সহ সবকিছুই ওদের সম্পর্কের উপকরণ ছিল।একে অপরের জন্য সবকিছু করতে পারলেও ভালবাসার পূর্ণতা যেই দেহ মিলনে,সেখানে এসেই থেমে যেত দুজন।ভাটা পড়ে যেত ওদের সম্পর্কের অথৈ টানে।কিন্তু কয়েকমুহূর্তও পেরোতনা ওদের স্বাভাবিক হতে।রায়ানের জন্য একটা বাংলো বরাদ্দ করে নেওয়া,ব্যক্তিগত জীবনের শত ব্যস্ততার ফাঁকেও রায়ানকে চোখে রাখাসহ সৌরভের ডেইলি রুটিন আমার মুখস্থ ছিল।দুভাই হলেও আমরা একই ছিলাম।তাই হয়ত সহজেই ধরতে পেরেছিলাম আমার ভাইটা খুবই কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত;যা তাকে রায়ানকে ভালবাসতে বাধ্য করে ফেলেছে।

শুধু ভালবাসতেই নয়,নানান স্বপ্নের কথাও সৌরভ আমার নিকট বলত।

বলত রায়ানের অনার্স শেষ হলেই রায়ানকে নিয়ে দেশ পাড়ি দেবে। আমি কিছু বলতাম না তখন। হাসোজ্জল সেই চাহনির দিকে তাকালে ইচ্ছে করতনা যে বলি,”রায়ান কি তোর সাথে যাবে?”

ইচ্ছে করতনা ভেঙে দেই তার কাঁচা স্বপ্নগুলো।রায়ানের অগোচরে এত ভালবাসার প্রতিদান কি সৌরভ কখনও পাবে?রায়ান কি কখনও সংসার বাঁধতে চাইবে সৌরভকে সঙ্গী করে?এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হলেই সৌরভকে প্রশ্ন করতাম,”এই গোপন ভালবাসার কি কোনও অন্ত নেই?এর কি কোনও প্রতিদান পাবি?”তখনই একগাল ঠেলে হেসে বলত,

“ভালবাসাতে পাওয়ার প্রত্যাশা রাখতে নেই।চাওয়া হীন ভালবাসতে পারার নামই ভালবাসা।পাওয়ার জন্য ভালবাসা নয়,ওটা বিনিময়।”

আমার নির্বিকার দৃষ্টিকে এড়িয়ে যেতে পারতাম না।ভাবনার শেষ হতনা আমার সৌরভকে নিয়ে।এই ভাবনার বিস্তৃতি অনেক দীর্ঘ।এভাবে জীবন চলেনা,তাই খুব কড়া করে একদিন সৌরভকে রায়ানের কাছে পাঠালাম,তার ভালবাসা প্রকাশ করতে।বুকে সাহস সঞ্চয় করে সৌরভ গিয়েছিল।

প্রায় গভীর রাতে বাসায় ফিরে ও,সেদিন সৌরভকে খুব বেশি গম্ভীর আর মলিন দেখাচ্ছিল।জিজ্ঞাসা করি যে কি হয়েছে।আমার চাপা স্বভাবের ভাইটা সবার কাছে সবকিছু চেপে গেলেও আমার কাছে কিছু লুকোতনা।যখনই সৌরভকে একটু চেপে ধরে আবারও একই প্রশ্ন করি কি হয়েছে,অকস্মাৎ আমাকে জড়িয়ে ধরে হো হো করে কেঁদে উঠে।সেদিনের থেকে বেশি আর কখনও কাঁদতে দেখিনি ওকে।কান্নার উৎস ছিল রায়ান সৌরভের ভালবাসা প্রত্যাখ্যান করেছে।আমি ওকে শান্তনা দিতে পারিনি।বলিনি, “রায়ান তোর কাছে ফিরে আসবে, ও বুঝবে তোর ভালবাসা।”

দেইনি কারণ রায়ান ফিরে আসবে তার কোনও উপসর্গ ছিলনা।ছিলনা কোনও পূর্বলক্ষণ সৌরভের ভালবাসা যে রায়ান গ্রহণ করবে তার। আমি খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিলাম সেই মুহূর্তটায়।ভালবাসা জোর করে আদায় করা না গেলেও মনের সবটুকু ঘৃণা উগরে দেওয়ার জন্য রায়ানকে ভেতরের সমস্ত কটু কথা শোনাই সেদিন,খুব বেশি অপমান করি।

তবে অবাক হই রায়ানের কোনও প্রতিক্রিয়া না দেখে।লাঞ্ছিত হওয়ার একফোটা ছাপও ছিলনা ওর চেহারায়।

ভেবেই কুল করতে পারছিলাম না।

সবকিছু কেমন যেন ধোঁয়াশা লাগছিল।রহস্যের জালে পেঁচিয়ে যাচ্ছিলাম মারাত্মকভাবে।

এদিকে সৌরভের মলিন মুখটা দেখলেই বুকের ভেতর ছাৎ করে উঠত।বাবা মা সবাই শুধু চিন্তাই নয়,দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ছিল সৌরভের শারীরিক অবস্থা দেখে।আমাকে জিজ্ঞেস করত কেন সৌরভের এমন অবস্থা,আমি অবশ্য চেপেই যেতাম সত্যটা।কিন্তু সৌরভের বেদনায় ঢেকে যাওয়া মুখ আর জলভরা দুটিচোখ আমাকে স্থির থাকতে দিতনা।

তার মধ্যে হঠাৎ একদিন সৌরভের হয়ে একটা চিঠি এল।চিঠিটায় কি লেখা ছিল তা আমি জানিনা,তবে চিঠিটা পড়ার পর সৌরভকে চিৎকার করে হন্তদন্ত হয়ে কোথাও ছুটে যেতে দেখলাম।সৌরভের ঘরের মেঝে থেকে চিঠিটাকে তুলি।যা লেখা ছিল চিঠিটায়

“সৌরভ!

চিঠির প্রথমে প্রিয় বলে সম্বোধন করা হয়।কিন্তু তোমাকে প্রিয় বলার অধিকার আমার নেই।যেদিন তোমার ভালবাসা পাওয়ার প্রত্যাশা রেখেও গ্রহণ করতে পারিনি,যেদিন তোমাকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম;অধিকারের সৎকারটাও সেদিন হয়ে গিয়েছিল।তুমি এমন একটা মানুষ যাকে নির্দ্বিধায় ভালবাসা যায়।স্বয়ং স্রষ্টা কর্তৃক কারো জন্য তুমি একটা উপহার।কিন্তু দেখো,আমার দুর্ভাগ্য এমনই যে তোমাকে ভালবাসার ভাগ্য আমার হলনা।আমি বুঝতে পারতাম তুমি আমাকে ভালবাসো,কিন্তু জানিনা তুমি বুঝতে পারতে কিনা আমিও যে তোমাকে ভালবাসতাম।ভেবেছিলাম তোমাকে পেয়েছি যখন,তখন জীবনের ষোলকলাই বুঝি পূর্ণ হল,পৃথিবীতে আর কিছু চাওয়ার থাকতেই পারেনা।

তবে পৃথিবী আমার অনুকূলে ছিলনা,জড়ায়নি পৃথিবী আমাকে তার প্রশস্ত বাহুডোরে।তবে আমি ঠিকই স্বপ্ন দেখতাম তোমাকে নিয়ে পৃথিবীতে হাজার বছর বেঁচে থাকার।সেই সাধ অপূর্ণ রয়ে গেল।থেকে গেল আমার স্পর্শহীন এক ভালবাসা।যেখানে ঠোঁট ছোঁয়াতে গিয়েও ফিরে আসতাম।হৃদয়ের সুপ্ত বাসনা গুলো বালি চাপা দিতে হয়েছে প্রতিনিয়ত।প্রতিটা মুহূর্ত আমাকে ঠিক তোমার মতোই যন্ত্রণা দিত।প্রতিদান দিতে পারিনি তোমার নিঃস্বার্থ ভালবাসার,ক্ষমা করবে কিনা জানিনা।তারপরও ক্ষমাই চাই।দুরারোগ্য এইডস আমাকে তোমার থেকে দূরে সরিয়ে নিল।বাবা বা মায়ের থেকেই ভাইরাসটা আমার দেহে বিস্তার করেছিল।অতৃপ্ত থেকে গেল আমার রাতজাগা স্বপ্নগুলো।

সবশেষে তুমি ভাল থাক এটাই চাই।যেখানেই থাক,আমার অধরা

ভালবাসা তোমার সাথে থাকবে।

ইতি

রায়ান।”

চিঠিটা পড়ার পর আর দশটা স্বাভাবিক মানুষের মতই আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম বেশকিছু মুহূর্তের জন্য।

চোখের পাতা,শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণ, হৃত্পিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন,সেই সাথে মনে হচ্ছিল পৃথিবীটাও থেমে গেছে।ছেলেটা আমাদের সবাইকেই বোকা বানাল?আমরা বুঝতেই পারলাম না ছেলেটার অভিনয়! কীভাবে পারল এত নিখুঁত অভিনয় করতে?

বিস্মিত হওয়া ঘোরটা কেটে যেতেই সৌরভের কথা মনে পড়ল।দ্রুত পা চালিয়ে রায়ানের হাসপাতালে পৌছি।ওখানে আরও দুতিনজন অপরিচিত লোক ছিল,ছিল রায়ানের বন্ধু-বান্ধব।তার সাথে সৌরভও ছিল।কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে।সাধারণ সবার মাঝেও আমার ভাইটা হয়ে গেল অদ্ভুত একজন।যে কিনা সেই মুহূর্ত থেকে আজ পর্যন্ত এমন অদ্ভুতই রয়েছে।স্তব্ধতা গ্রাস করে নিয়েছে আমার ভাইকে।বাবা মা জানতে পেরে গেল পুরো ব্যাপারটা।সেই সাথে আমাদের কিছু সহপাঠীরাও।তারপর থেকে ভাইকে ঢেকে রাখতেই চেষ্টা করতাম।কিন্তু মানসিক ভারসাম্যহীন একটা মানুষকে কতক্ষণই বা আগলে রাখা যায়!

পিনপতন নীরবতায় দুটি মানুষের হাহাকারের অনুচ্চারিত অনুভূতি ফুটে উঠল চোখের পাতায়।দুজনের গাঢ় দীর্ঘশ্বাসের ঘনত্বে পরিবেশটাও ভীষণ ভারি হয়ে গেল।যতটুকু বুঝতে পারলাম আমি ঝাপসা দেখছি চারপাশ।কিন্তু চোখ দিয়ে পানি এলনা।আমিই আসতে দিলাম না।পরিবেশটা নীরবতাতেই মানায়।আরাফের চোখদুটো স্থির হয়ে আছে।শীতলকণ্ঠে বলে উঠল ও,

-আচ্ছা আপনি আমার ভাইটাকে নিয়ে এত সিরিয়াস কেন?

-এটাকে আমার ধর্মই বলতে পারেন।সৌরভকে সুস্থ করতে পারার প্রতিশ্রুতি হয়ত দিতে পারবনা,তবে সযত্নে রাখতে পারব।আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে সৌরভকে স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাব।

-আপনি কেন উটকো ঝামেলা বইবেন?

-আমি ঝামেলা মনে করছিনা।বলতে পারেন ওর প্রতি আমার মানবিক খাতিরেই এই ছোট্ট প্রয়াস।

সৌরভকে এখন আমার করেই রেখেছি।হাসপাতালে দেই কি করে ওর চিকিৎসা হতে?আমার ফ্ল্যাটেই ওর চিকিৎসা হয়।

তবে এখানকার চিকিৎসা আর ভালবাসার মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই।সবটাই ভালবাসার ফসল।

একটা মানুষ ভালবাসাতেই পরিবর্তিত হয়;হোক তা ভালবাসা হারিয়ে বা ভালবাসা ফিরে পেয়ে।জানিনা সৌরভকে কতটা সুস্থ করে তুলতে পেরেছি,তবে ওর মধ্যে এখন আর আগের মত অতটা ছেলেমানুষি নেই।কিছুটা গম্ভীর।অনুরোধের সুরে কিছু বললেই কেমন যেন নেতিয়ে পড়ে।সর্বোপরি পোষ মানা যাকে বলে।তবে মাঝেমাঝে হয়ত ওর পুরনো স্মৃতি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠে।তখন আমি ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ি।সৌরভের তখনকার পাগলামি সামলানো আমার করায়ত্তে থাকেনা।তখন আরাফের শরণাপন্ন হই।দুজন মিলেও সৌরভকে শান্ত করতে হিমশিম খাই।কিছুদিন আগে সৌরভের চঞ্চলতাই ওকে মারাত্মক ভাবে জখম করেছিল।সেদিন হঠাৎ করেই কেন জানি আমি আর আমাতে থাকলাম না।প্রখর অস্থিরতা আমাকে ঠিক থাকতে দেয়নি।আরাফ হেসে ছিলও বটে।খুবই জ্ঞানসম্পন্ন-বুঝদার একটা ছেলে।

সবকিছু বুঝেও কেমন করে যেন স্বাভাবিক থাকে!গেল কয়েকদিন আগে হঠাৎ প্রশ্ন করে বসে,”আচ্ছা তুমি কি সৌরভকে ভালবাস?”

আড়ষ্ট হয়ে পড়ি আরাফের প্রশ্ন শুনে।তবে কোনও উত্তর দেইনি।শুধু বলি।

-আমি ভালবাসতে ভালবাসি।বিশেষত সৌরভকে।সুতরাং বলতে পার সৌরভকে ভালবাসার পেছনে কেন্দ্রবিন্দু আমার ভালবাসতে ভালাগাটা।

কতটা সত্য বলতে পেরেছিলাম জানিনা!তবে দেড় বছরের ব্যবধানে আমি অনেকটা পাল্টে গেছি সৌরভের সাথে সাথে।বাবা-মা ঘর থেকে বিয়ে করার জন্য অনেক চাপাচাপি করার পর হাল ছেড়েছেন।সবশেষে আমার ইচ্ছের উপর সব ছেড়ে দিয়ে তারা গুরুত্ব দিয়েছেন আমার স্বাধীনতাকে।সৌরভকে সবসময় চোখে চোখে রাখাটাই যেন আমার সারাদিনের কাজ।ওর হাসিমাখা মুখটা আমাকে খুশি রাখে।আমার দিনগুলোই কাটে সৌরভকে ঘিরে।আর রাতগুলো?চাপা কষ্ট আর খুনসুটিতে ভালই কাটে। কিছুটা হতাশা আছে বলেই সুখগুলো এত এত পরিতৃপ্তি দেয়।

তাহলে ভালোইবাসি বুঝি সৌরভকে?

তবে যাই হোক,আমার জীবনাঙ্গ বলতে আমি এই মানসিক রোগীটাকেই বুঝি;আমার সময় গুলো যাকে ঘিরে আবর্তিত হয়।

আমার অনুভূতিগুলো সৌরভকে খুবই গোপনে ছোঁয়ে যায়,ওসব টের না পেলেও কখনও কাঁদলে আমার চোখের জল মুছে দেয় ও।তখন পৃথিবীকে এক অন্তহীন সময়ের বেড়াজালে আটকে দিতে খুব ইচ্ছে করে।ইচ্ছে করে এভাবেই দেখে যাই দুজন দুজনকে।

কখনও কখনও রাত্রির শেষ প্রহরে অলৌকিক ভাবেই কেন যেন জেগে উঠি কারো স্পর্শে।মনে হয় তীব্র পুরুষত্বের এক অবয়ব আচ্ছন্ন করে রেখেছে আমাকে।কানের কাছে মুখ নিয়ে অস্ফুট স্বরে ফিসফিস করে কিছু বলছে।ঠোঁট জোড়া কম্পিত হয়ে এক হতে যেতেই চমকে উঠি।

বেশ কয়েকমুহুর্ত লাগে স্বপ্নের রেশ কাটিয়ে উঠতে।তখন কিছু মনে না থাকলেও স্বপ্ন গুলো খুব স্পষ্ট মনে হয়।মনে হয় বাস্তবতা আর অলীকের দ্বারপ্রান্তে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম।কোনও এক অ্যাধ্যাত্মিক জগতে মিশে ছিলাম সে আর আমি।

স্বপ্নের পুরুষটার প্রশস্ত বুকের সাথে লেগে থাকার অনুভূতিটাও কেমন জীবন্ত মনে হয়!

অমানিশা কাটিয়ে ভোর হয়ে যায়, কিন্তু আমার মন থেকে ধোয়া দূর হয়না।স্বপ্নের পুরুষটাকে আর চোখের পাতায় ভাসাতে পারিনা।

সৌরভ বিছানার একপাশেই গুটিশুটি হয়ে ঘুমিয়ে থাকে।

অদ্ভুত ভাবে হঠাত্ মনে হয়, ‘স্বপ্নের পুরুষটা সৌরভই ছিল।ও ছাড়া আর কে হবে!’

চিন্তাগ্রস্থও হয়ে পড়ি এ নিয়ে ভাবতে ভাবতে।চোখের নিচে কালো ছোপ পড়ে গিয়েছিল মাঝে ক’দিন। আরাফের সেই আগের হতবাক করে দেওয়া প্রশ্ন।

“এই ভালবাসার অন্ত কোথায়?এই ভালবাসার কি কোনও প্রতিদান পাবে?”

আমি নির্লিপ্ত ভাবে তাকিয়ে থাকি।বলি,

“ভালবাসাতে পাওয়ার প্রত্যাশা রাখতে নেই।চাওয়াহীন ভালবাসতে পারার নামই ভালবাসা।পাওয়ার প্রত্যাশা রেখে যা হয়,তা ভালবাসা নয়,ওটা বিনিময়।”

…………………………..

সমাপ্ত।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.