রাতের শঙ্খচিল

লেখকঃ পরিশ্রান্ত পথিক

মাঝরাত। শাওন মাস। বিলে ভরা পানির যৌবনত্ব প্রকাশিত এবছর। আজ আকাশটা মুখ ভার করে বসে আছে।যেকোন সময় কেঁদে ফেলতে পারে অঝর ধারায়। নৌকাটা বিলের মাঝবরাবর চলছে। ধীর গতিতে। অদূর চারিপাশে টিমটিম আলো দেখা যাচ্ছে, হয়ত অন্য কোন নৌকা।পাড়ে শেয়াল আর নিশাচর প্রাণির হাঁক-ডাক শোনা যাচ্ছে,তাও অস্পষ্ট। নৌকার গলুইটা সুউচ্চ। সাতজন মানুষ আদুল গায়ে বসে আছে পেছনে।হালকা ঝিরঝির ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। হালকা কাঁপুনিতে সবাই বিড়ি টানছে। একজন ধার বাইছে আর একজন হাল ধরে রেখেছে। হাল ধরে রাখা হাবু মিয়া স্তব্ধতা ভেঙে বলল,”আকাশের অবস্থা ভালা ঠেকতাছেনা,নও মিয়ারা যাইগা বাড়িত। তার কথায় সায় দিয়ে দলের সর্বকনিষ্ঠ রোহেজ বলল,”হু,যাওনি ভালা,না পারতাছি পানিতে নামতে, না পারতাছি মাছ ধরতে।এইহানে এমনে বইয়া থাইকা লাভ কি? দলের সর্দার আর নৌকার মালিক মহিন মাতাব্বর এতক্ষণে ঝ্বান্টা নিয়ে উঠে বলে,”খাড়াও মিয়ারা আর কিছুক্ষণ দেহি”। আর কেউ কিছু বলতে পারলনা।সবাই যেন তার কেনা গোলাম।এই মাছ ধরেই তাদের জীবন চলে, তাও আবার মহিনের নৌকায় কাজ করে।সাড়ারাত মাছ ধরে সকালে বাজার করতে হয়।এ গ্রামে, ও গঞ্জে। সব টাকা এনে মহিন মাতাব্বর কে দিতে হয়,সপ্তাহ শেষে সবার টাকা পরিশোধ করে সে। এতক্ষণে জমানো আবেগ বর্ষণ ধারায় ঝরাচ্ছে রাতের কালো আকাশ। আকাশ যে নীল সেকথা দিনেই শোভা পায়। নৌকার সবাই নির্বাক আর দাঁতকপাটি খিটমিট করে পলেথিন কাগজের নিচে ঠাঁই বসে আছে। নৌকাটা মাঝ বিলের বুক উঁচু করে থাকা টিলার হিজল গাছের সঙ্গে বাধা হয়েছে। আরো কয়েকটা নৌকা ইতোমধ্যে এসে ভিড়েছে এখানে। বগা বিলের এটাই একমাত্র জায়গা যেখানে বর্ষার জল ছুঁতে পারে না।প্রায় দুই শতাংশ জমি নিয়ে এই টিলা।

***

সবাই যার যার বাড়িতে চলে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোরের আজান দিয়েছে ইতোমধ্যে। পুব গগনে হাল্কা রক্তাভ আভা দেখা দিচ্ছে। রহিজও চলে যাবে। সাথে নিয়ে আসা খাবার,শুকনো কাপর হাতে তুলে নিল। পাশ ফিরতেই অন্য নৌকায় বসে থাকা এক যৌবনদিপ্ত যুবার দিকে চোখ আটকে যায় ওর। যেন মনের কোন অতল গহ্বরে লুকিয়ে ছিল এতদিন। আজ সে প্রকাশিত,খোলসহীন। আধভিজে যাওয়া কাপরগুলো ছাড়ছে সে।প্রশস্ত লোমশ বুক,পেশিবহুল বাহু,তামাটিয়া গায়ের রঙ, মুখটা অনেকটা মায়াবি, চোয়ালটা ভাঙা,কালো মেঘের পালকের মত চোখের পাপড়ি এটাই আকর্ষণের শীর্ষে। এক নিমিষে পাগল করে দেওয়ার মত ২২-২৩ বছরের যুবা সে। রহিজ ভেবে পায়না কেন এ অনুভূতি তার? কেন বাঁধা মানছেনা তার চক্ষুদ্বয়? কিসের এত মোহ? কোন রকমে চলে আসে সে ভাললাগার স্বর্গীয় অনুভূতির মহাসমুদ্র থেকে। সকালের মার্তণ্ড একটু ঝাঁঝ নিয়েই উদিত হচ্ছে। রাতের আবেগ সব ঝেড়ে ফেলেছে যে। বাড়িতে আসতেই তার বড় ভাবি বলে,”রোহেজ মিয়া আইজ গঞ্জে যাওনাই মাছ নিয়া। – না,ভাবি।কাইল মাছ ধরবার পারিনাই।সারা রাইত দেউয়া(বৃষ্টি) অইছে যে। ভাবির মুখটা কৃষ্ণবর্ণ করে প্রস্থান করল সেখান থেকে। নারীর মত অর্থকড়ির সাথে সচল কানেকশন। রোহেজ সকালে কিছু খেয়ে ঘুমোতে গেল,সারারাত জেগে ছিল।যদিও রাত জেগেই প্রতিনিয়ত মাছ ধরতে হয়। চোখের পাতা বুজতেই সেই অপরূপ তাম্র বর্ণ মানবের কথা মনে হল। তার শ্বাস কেমন যেন লঘু থেকে লঘুতর হতে থাকল। এর আগেও কিছু পুরুষযুবাকে দেখে তার এমন হয়েছে ঠিকই।কিন্তু এবার নিজেকে সামলিয়ে রাখতে পারছেনা। শক্ত মাটির উপর খেজুরপাতার চাটাই বিছিয়ে সুয়ে ছটফট করছে সে। তার রক্তকণিকা গুলো স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ছুটছে। কি যেন তাড়না করছে অন্তর মাঝে। *** বিকেলটা এ জেলে পারায় মুখরিত হয়ে উঠে।উৎসবের আমেজ দেখা যায়। হাসি ঠাট্টায় সাগুদানার ক্ষীরের মত জমে যায়। সবাই বাড়ি থেকে রাতের খাবার,পানি আর উষ্ণ থাকার দাওয়াই বিড়ি নিয়ে আসে। শুকাতে দেওয়া জাল পরদে পরদে সাজিয়ে নৌকাতে তুলতে ব্যস্ত সবাই। রোহেজও সবার সাথে তালমিলিয়ে কাজ করছে।কিন্তু তার ধ্যানরত এই হাসিতামাশার মধ্যে নেই। হাবু মিয়া সহসাই বলে উঠে,”রোহেজ মিয়া কি অত ভাবতাছ? “আমরা তোমারে নিকা করাইনা দেইখা কি উদাস নি? সবার মনযোগের কেন্দ্রবিন্দু এখন রোহেজ। যদিও সে ২১ টি বসন্ততিলক তার জীবনে লাগিয়েছে। বিয়ে করে নাই এখনো।অসচ্ছল পরিবারে বিয়ে মানে অতিরিক্ত বুঝা।এই ভেবেই তার অভিভাবক মা আর বড় ভাই-ভাবি বিয়ে করাই নি তাকে। দুঃসম্পর্কের এক চাচা বিয়ের ফর্দ নিয়া যদিও আসছিল।তবে কন্যা পক্ষ কিছু দিতে পারব না তাই সম্মন্ধটা আর এগুইনি। তার চাওয়া যে অন্য কিছু।তার অনুবেদন কি বুঝবে কেউ? সু আর স্বশিক্ষার হাওয়া যে গ্রামে কখনো লাগেনি। গ্রামের মানুষগুলোর কথা,’ যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ হেগ লেহাপড়া কইরা সময় নষ্ট করনের কি দরকার’। এই গুলা গঞ্জের ওই সাহেব গো মানায় আমগো না।ঈশ্বর যেখানে অভাবের শিক্ষায় শিক্ষিত করেছে বই পইড়া আর কি অইব। রোহেজ নিজের চাওয়াকে দাফন দিচ্ছে চাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বারংবার মাথা ঝাঁকিয়ে নিজেকে সামলাতে ব্যস্ত সে।কিছুতেই পারছেনা মাথার এ আদিম পোকা দমাতে। **** রাত ন’টা।নৌকা এখন ঘাট থেকে ছেড়ে দিবে।শান্ত বিল,হাল্কা বাতাস বইছে। চারটি গ্রামকে ঘিরে রেখেছে ৩টি বিল,যথাঃবগা বিল,চড়ুই বিল,মহিষবাথান। হাস্যকর হল সবচেয়ে বড় বিলের নামই চড়ুইবিল।এ বিলের নামকরণের সঠিক ইতিহাস কেউ জানে না। আজ তারা যাবে চড়ুই বিলে।ওখানে বেশি মাছ ধরা যায় তাই। নৌকার বাকি ছয় জনই বৈঠা দিয়ে ধার বাইছে।আর মহিন মাতাব্বর হাল ধরে আছে। রোহেজ অল্প বয়স্ক যুবক শক্তিও বেশি। বিড়ি টানছে আর জোরে জোরে বৈঠা চালাচ্ছে। মাংসপেশি স্ফীত। আধুনিক সভ্যতার মানুষ গুলো সারাদিন জিম করে যা অর্জন করে।আর এরা জীবনের সাথে যুদ্ধ করে করে পেশিবহুল বাহুর অধিকারী। পথিমধ্যে অদূরে দেখা যাচ্ছে অন্য একটি নৌকার সাথে। মহিন জোরে হাঁক ছাড়ল,’অই মিয়ারা,এই দিকপানে আহ’। নৌকাটা ক্রমশ কাছে আসল। মহিন বলল,মিয়ারা তোমরা ওই উত্তরে মাছ ধর গিয়া আর আমরা দক্ষিণ দিকে যাই। মাথা নেড়ে সম্মতি দিল সবাই। রোহেজ আড় চোখে তাকাতেই দেখে সেই কালকের মনহরা পুরুষটি।কি অপরূপ সে। পিদিম জ্বালানো নৌকা।মায়াবি এক লহমা সৃষ্টি করেছে শুক্লপক্ষের শশী। যে মায়া কাটাতেও যুগ যুগান্তরের প্রয়োজন।

ভাসা কচুরিপানার মত ভেসে গেল সে দূরে, যেন সহস্র ক্রোশ দূরে। ক্ষীন স্বরে ভোরের আজান শোনা যাচ্ছে। রোহেজকে মাছের ঝাকা তুলে দিল।আজ সে গঞ্জে যাবে। আবারো আরেকটি সূর্যের আবির্ভাব হল। রহিম গঞ্জের হাটে পৌঁছে গেছে রোহেজ। আস্তে আস্তে লোকসমাগম হচ্ছে। হঠাৎই পাশে মাছের ঝাকা মাথা থেকে নামাতে বলল কেউ। মাথা তুলে দেখে সে আর কেউ নয় নিদ্রাহরণকারী সেই মায়ালোকের যুবা। কোনরকমে নামাল ঝাকা। লোকটি জিজ্ঞেস করল,মিয়া কোন গাঁওয়ে থাক? – বাগা বিলের উত্তরে কুড়িপারাতে থাকি।আপ্নের বাড়ি কই?আর আপ্নের নামডা কি? -আমি বাবলু মণ্ডল। চড়ুইবিলের পাশে কাঁঠালিপুরে থাকি।আপ্নের নাম কি? -আমি রোহেজ চুকদার। -তয় মিয়া, বিয়াশাদী হরছ নি? -(লজ্জাসুলভ হয়ে) কি যে কন,এহনি বিয়া করমু নি? -মিয়া এহনি তো বিয়া করনের সময়। এহন না করলে কবে করবা? -আপ্নে করছেন নি? -না মিয়া। বিয়া কি অত সহজ্জে হরন যায়। – আপ্নে দেখতে ভাল,বিয়া সাদি করবার পারবেন ভালা। চড়ুই বিলে মাছও ভালা পাওয়া যায়।ট্যাহা পয়সাও বেশি পান।তয় করেন না ক্যান? – কি যে কও! মাছ বেচতে বেচতে অনেক কথা হল দুজনের। সকাল ১১টা। নাস্তা খাওয়া হয়নি কারো।কেবল মাত্র মাছ বেঁচা শেষ হল। হরিদার দোকানে গিয়ে আটার রুটিআর মিষ্টি কুমড়ার ভাজি দিয়ে দুজনেই পেট পুরে খেল। বিল দিল যে যার যার। এখন প্রস্থানের সময়।যেন দুজনেই একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট। কি অদৃশ্য মায়ায় বাঁধা দুজনে। অল্প সময়েই দুজন দুজনার খুব কাছের মানুষ হয়ে গেছে। আধুনিক যুগের ভালবাসা শব্দটা যত সহজেই বলে দেওয়া যায়।এসময় বলা যায়না অত সহজেই।সমাজ কলঙ্ক আর ধর্মীয় বিধিনিষেধ যেখানে গলাবন্ধের মত। *** প্রতিদিন গঞ্জের হাটে কথা বার্তা শেষে দুজনেই চলে যায়। আবার পরদিন দেখা হয়। আজ হঠাৎই বাবলু বলে,’রোহেজ তোমাগো বিলে তো মাছ কম উঠে মিয়া,আর আমগো বিলেও তো হগগল দিন আইতে দিবনা তোমাগো নাও। এক কাম কর মিয়া,তুমি আমাগো নাওয়ে কাম কর আইর তো ২-৩টা মাসই মাছ ধরবার পারুম। -আমি এত দূর থাইকা আহুম ক্যামনে? ম্যালা দূর অয়। – চিন্তা কর ক্যান। আমি আছিনা,আমার লগে তুমি থাকবা, খাইবা। – এইডা আপ্নে কিতা কন?আইর মহিন বাবু কি কইব?হের লগে পেত্তেক বছর কাম করি? -অত কিছু ভাব ক্যান।আমার লগে থাকবা কিনা হেইডা কও? -আইচ্ছা আমি মা, ভাইয়ের লগে বুইঝা লই। রোহেজ তো মনে মনে মহা খুশি। যাকে না ভেবে শ্বাস নেওয়া যায় না।সে আজ তার কাছেই থাকতে বলছে। এ চাওয়া যে বহুদিনের। এবাসনা জন্ম থেকেই যে নিয়ে এসেছে সে। বাড়িতে এসে মা, ভাইকে ডাকে ও। বলে, কাঁঠালিপুরে এক মাঝি আমারে কইছে,হের লগে থাকতে।চড়ুই বিলে ম্যালা মাছ উঠে ট্যাকাও বেশি পাওন যায়।এহন তোমরা কি কও? তার মা বলে,দ্যাখ বাজান মহিনের লগে কাম করতাছস কত্ত বচ্ছর ধইরা।হের কাম না কইরা অন্য মাইনষের লগে কাম করলে ভালা দেহায় না বাবা। তার ভাইও সহমত পোষণ করল মায়ের সাথে। রোহেজের মুখটা শুকিয়ে গেল।অজানা এক ধোয়াশায় মধ্যে আছে সে।তার ইচ্ছে করছে ছুট্টে গিয়ে বাবলুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে। এ বিচ্ছেদব্যথা সহ্য করা যায় না। সহসাই তার ভাবি ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে- ক্যান মিয়া অইখানে গিয়া কাম করলে কি কইব মহিন? আমাগো কি দুইডা পয়সা কি হেয় বেশি দেয়।মিয়া তুমি যেহানে পয়সা বেশি পাইবা হেইহানে গিয়া কাম কর। ভাবির কথায় যেন সে উদ্যম ফিরে পেল।শীতল বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে তার শিরা-উপশিরাতে। *** বিকেলে সে মহিনের সাথে কথা বলতে যায়। তার কথা শুনে মহিন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে।বলে, ‘যা যা অইখানেই যা,তরে দেইখা লমু নি।ক্যাডা তরে এত কত দিন কামে রাহে।আর তুরে দেইখা লমু নি? সন্ধ্যেবেলা। পশ্চিমাকাশ লালচে বর্ণে ছেয়ে গেছে।এরই মধ্যে রোহেজ চলে আসে বাবলুদের বাড়িতে। আজ কামে যাইনাই কেউ। রাতের খাবার শেষে এখন ঘোমানোর পালা। আজ রাত গভীর অনুরাগের।কিছু স্বপ্ন, কিছু চাওয়া পাওয়ার সন্ধিচুক্তি হবে। রাতের মায়াডোরে বেঁধে রেখেছে আজ দুজনকে। খোলা আকাশের নিচে প্রণয়ে ইচ্ছে প্রকাশ করে বাবলু। রোহেজ নিঃসংকোচে হাত ধরে চলে আসে বিলের ধারে। ডিঙি নাওয়ে করে চলে আসে বিল মাঝে সেই সদর্পে বুক উচু করে রাখা টিলাতে। দুটি হিজল গাছ পাশাপাশি ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। কিছু অমোঘ স্মৃতির সাক্ষ হয়ে থাকতে। দুজন পুরুষচাওয়া পাওয়া যখন এক হয়,তখন পরোয়া করেনা কোন বাঁধাকে। হিজল গাছে ডানা ঝাপটা দিয়ে উঠল রাতের শঙ্খচিল। তারা রাতে নিঃশঙ্ক। গভীর আলোড়নে পাশে রয় আজীবিন। **** কার্তিকের শেষ। বিলের পানি শুকিয়ে গেছে প্রায়।যেটুকু আছে তাতে জাল ফেলে মাছ ধরার জন্য উপযোগী না। এদিকে রোহেজ ও বাড়ি ফিরে এসেছে। এখন ইটের ভাটায় মাটির কাজ করবে তারা। দুজনেই অদূরস্থ গাঁয়ের সুজলা সফলা বিশাল ক্ষেতি জমির বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা ইটের ভাটায় কাজ করে। আজ রোহেজ বিষণ্ণবদন দৃষ্টিতে তাকাল ওর দিকে। সহসাই জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল রোহেজ। যেন কোন অস্থিকোষ স্থানচ্যুত হয়েছে। বাবলু কিছুই বুঝে উঠতে পারছেনা। নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে রোহেজ বলল,”কাল আমারে নিকা করাইব” বাবলু বলল,এরে,কি অইছে মিয়া? – তোমারে না পাইলে আমি মুইরা যামু কইয়া দিলাম। বাবলু ভেবে বলল, চল আইজ রাইতেই আমরা পলাইয়া যামু ; – কই যাইবা, কও দেহি? – হেইডা,যাওন যাইব কোন এক হানে।তুমি তৈয়ার থাইক; রাতের অন্ধকার ভেদ করে দুজন যুবা ছুটছে।কেউ পাছে দেখে ফেলার ভয়ে। যেখানে বাঘের ভয়,সন্ধ্যেটা সেখানেই হয়। মহিন মিয়া সামনে,দেইখাই চেঁচাইয়া উঠল ;রোহেজ পলাইতাছ। তুই কিতা মনে হরছিলি আমরা কিছু বুঝিনা? ধর্মের বিরুদ্ধে গিয়া আকাম করবা।আমরা কিচ্ছু কমুনা। লোকজন জমা করা হল।রাতের শঙ্খচিল আজ চুপসে গেছে।যেন ভিজে গেছে তার পালক। ভোর হল। গ্রামের পঞ্চায়েত বসেছে বিচার করতে। মোল্লা সাহেব কে মুহিন মস্তাব্বর বলে, হুজুর সাব,কিছু কন;কোরআন হাদীস কি কয়? হেগো কি শাস্তি দেওন লাগব? মোল্লা সাব গলা খাঁকারি দিয়ে নিচের স্বরকে যথাসম্ভব গুরুগম্ভীর করে বলল,হেগো তো,পাথর মাইরা মারার নির্দেশ আছে। এহন আপ্নেরা কি করবেন?হেইডা আপনেগো ব্যাপার? হাজারো মানুষের শোরগোলে পুরো পঞ্চায়েত আসর মুখরিত। মুহিন মাতাব্বর দাঁড়িয়ে বলতেছে,”দেহেন, আমরা হগগলেই ভদ্দর সমাজে বাস করি।এহন এই রহম অনাকাণ্ড যাতে আর কেউ ঘটাইবার না পারে তার লাইগা এগো মোল্লা সাব যা কইছে তাই করা হোক?

উৎসুক জনতা অতিরিক্ত য-ফলা ব্যবহার করে ছ্যাঃ ছ্যাঃ ছ্যাঃ বলে হাতে যা ছিল সব ছুড়ে মারতে লাগল নিষিদ্ধ ভালবাসার গায়।প্রস্তর নিক্ষেপ করা হল মানবদেহে। মৃত্যু হল নিষিদ্ধ ভালবাসার। কত সহজেই নিঃশেষ হল দুটি প্রাণ। বাকি পড়ে রইল নষ্ট প্রেম প্রণয়ের উপাখ্যান। রক্তাক্ত হল ভালবাসা।

+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-সমাপ্ত-+-+- +-+-+-+-+-+-+-

সমপ্রেমের গল্প ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.