আমার জীবন

জয়ন্ত

১।
এক বন্ধুর থেকে inspire হয়েই লেখা শুরু করলাম আমার জীবন ।
অনেক না বলা কথা
ঘটনার সূত্রপাত ১০ই ডিসেম্বর ১৯৮৬ বা ২৪শে অগ্রহায়ন ১৩৯৩ ।
স্থান – পাণিহাটি ষ্টেট জেনারেল হাসপাতাল
কাল – বুধবার
পাত্র – একটি ফুটফুটে বাচ্চা ।
যেই বাচ্চাটির মা নাম রাখলো জয়, বাবা নাম রাখলো নেপু, ঠাম্মি নাম রাখলো বাপ্পা, মাসিমনি নাম রাখলো টুবাই এবং মাসতুতো দিদি নাম রাখলো জয়ন্ত ।
রায় বংশের দ্বিতীয় ছেলে ।
সর্বসম্মত ভাবে জয়ন্ত নামটাই বাছা হল documented হিসেবে ।
বড়দের মুখে শোনা ছোট্টো থেকেই আমি খুব শান্ত ছিলাম । আমার দাদা যত টা না বাবা মা এর হাতে মার খেয়েছে আমি তার অর্ধেক ও খাই নি । মা বাবা দুজনকেই খুব ভয় পেতাম নাকি । মা এর পিছন ছারতাম না কখনো ।
যখন থেকে আমি একটু আধটু বাইরের জগতের সাথে মিশছি তখন বয়স আমার পাঁচ । কারণ তখন পাঁচ বছর না হলেও প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হওয়া যেত না ।
পাড়ার ই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম মানে ভর্তি করালো ১৯৯১ সাল । বিদ্যালয়ের প্রথম দিন নতুন বই হাতে পেলাম । বর্ণপরিচয়, কিশলয়, সহজ পাঠ এবং নবগনিত । স্কুলে যাওয়ার নতুন বাক্স আসল । এই বই গুলোর গন্ধ এখনো নাকে লেগে আছে আমার । তারসাথে শিলেট আর পেনশিল এবং তার কিছুদিন পর আসল নটরাজ পেনসিল ।
নতুন ড্রেস হল নিল প্যান্ট সাদা জামা আর কেডস ।
পড়াশোনা শুরু হল তারওপর খেলাধুলো তো দরকার । সেইসময়ের খেলা মানে ছোয়াছুয়ি অথবা লুকোচুরি আর এই খেলা মানে একটা কথাই মনে পরত “আপন বাপন চৌকি চাপন ওল ঢোল মামার খোল এই ছেলেটি খাঁটিয়া চোর” ।
আমি সেইসময় ঝড় বৃষ্টি খুব ভয় পেতাম নাকি । বৈশাখ মাস হলেই আমার ভয় লাগত । সেই কালো ঘন মেঘ সোঁ সোঁ হাওয়ার আওয়াজ চারদিক অন্ধকার তারপর বৃষ্টি আর তার সাথে ব্যাং এর ডাক ।
বাবা প্রত্যেক দিন আমার হাতে কুড়ি পয়সা আর দাদার হাতে পঁচিশ পয়সা দিয়ে যেত । আমি আবাবর বুদ্ধি লাগিয়ে দাদা কে বলতাম যে দেখ আমার পয়সা টা তোর থেকে বড় তাই ও আমাকে ওর পয়সা টা আমাকে দিয়ে দিত আর আমারটা ও নিত । ওই পঁচিশ পয়সায় তখন পটল বিস্কুট কিংবা প্লাস্টিক প্যাকেটে ভরা পেপসি খুব খেতাম বা লাল হলুদ সবুজ রঙের আইসক্রিম কারন ঠোঁট যে লাল হলুদ বা সবুজ করতে হবে ।
মাঝে মাঝে এই পয়সা জমিয়ে স্কুলে টিফিন টাইমে হয় কুলের আঁচার বা তেঁতুলের আঁচার বা চালতার আঁচার চলত ।

২।
আর একটু যখন বড় হলাম পড়াশোনার চাপ বাড়ল তার সাথে খেলাধুলার ও গতি বাড়ল । কম মার ও খাই নি এর জন্যে । যখন ই আমি পড়তে বসতাম চেঁচিয়ে পরতাম । ক্রিকেট অতটা ভালো লাগত না তবে ফুটবল খুব খেলতাম বিশেষ করে বৃষ্টির মধ্যে তার সাথে আরো ছিল ডাংগুটি পিট্টু এইসব খেলা ।
তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণী যখন উঠি তখন থেকেই মা কে খুব হেল্প করতাম মা এর ঘরের কাজে । কখনো ভাত বসানো কিংবা কখনো ভাতের মার নামানো কিংবা কখনো চা করে খাওয়ানো । বাড়িতে পূজোর সমস্ত কাজ আমার ওপর ছিল । বাড়িতে এত ফুল গাছ ছিল যে সিংহাসন দারুন সাজাতাম ।
এরম ভাবে বেশ চলছিল । আর একটু বড় হওয়ার পর পাড়া প্রতিবেশি এদের মুখেই শুনতে হত জয় তো তোমার ঘরের মেয়ে তোমার আর অসুবিধা কিসের । এই কথা টা শুনতে মোটেই ভালো লাগত না তাই আস্তে আস্তে এই সমস্ত কাজ থেকে অবসর নিলাম । মা এর খুব ইচ্ছা ছিল আমাকে মেয়ে সাজিয়ে একটা ছবি তুলে রাখবে কিন্তু এটা আমি হতে দি নি । কেনোই বা হতে দেব আমি তো আর মেয়ে নই ।
এই সময় ই রাত্রি বেলা যখন লাইট থাকত না সেই সময় লুকোচুরি খেলতেই হবে । এই খেলা থেকেই শুরু হল আমার জীবনের আর একটি পর্ব । আমার পাড়ার এ একটি ছেলে ছিল । আমার থেকে যদিও senior । ও সবসময় আমাকে নিয়ে লুকাতে যেত । এমনকি সেইসময় ও আমাকে জড়িয়ে ধরত বা গালে চুমু খেত । এই ব্যাপারটা ওর সাথেই আস্তে আস্তে বারতে থাকল । আমি এই ব্যাপারটা নিয়ে তখন ভাবতামই না বরং খুব enjoy করতাম । আস্তে আস্তে রবিবার ছুটির দিন ওর বাড়ি বা ও আমার বাড়ি আসত এবং এইসব চলত । বেশ পড়াশোনা খেলাধুলো এইসব নিয়ে চলতে চলতে high school গেলাম । সেই সময় সাইকেল চালানো শিখলাম কিন্তু সাঁতার শিখতে গিয়ে ডুবে জল খেয়েছিলাম বলে ওই দিকে আর যাই নি । কিন্তু জাঙিয়া পরা ছেলেদের দেখতে আমি প্রায়ই যেতাম কিন্তু শুধু তো দেখা যায় না তাই কোমর জলে ডুবে সাঁতার এর ভান করতাম আর নজর থাকত ছেলেগুলোর ওপর ।
high school এ গিয়ে নতুন অনেক বন্ধু হল । কিন্তু অষ্টম শ্রেণি অবধি ছয় জনের একটা গ্রুপ হয়েছিল । এই ছয় জনের মধ্যেই একজনের সাথেই বেশি থাকতাম যানি না কেন তবে ওর সাথে থাকতে বেশ ভালো লাগত ।
greetings card কাকে বলে বা কি জিনিষ যানতে পারলাম । এই ছেলেটি নিজের হাতে করা greetings card দিত যদিও আমি readymade কিনে দিতাম । 1st january আসলেই কে কটা card পাবো আর কটা দিতে হবে এই হিসেবে বসতাম । ১টাকা ২টাকা করে দাম ছিল । ওই card এই specially ওই ছেলেটাকেই একটু অন্যরকম লেখা লিখে দিতাম যেটাতে বোঝানোর চেষ্টা করতাম যে আমার তাকে ভালো লাগছে যদিও যানি না সে আদৌ বুঝেছিল কিনা কিন্তু তার ও যে আমার সাথে থাকতে ভালো লাগত সেটা আমি বুঝতাম ।
এইভাবেই অষ্টম শ্রেণি শেষ হল ।
তখন ও অবধি আমার জীবনে দুজন ভালো লাগার মানুষ । একজনের সাথে চুম্মাচাটি আর একজনের সাথে স্কুলে থাকা পাশে বসা টিফিন ভাগ করে খাওয়া ।
আমি যে পুরুষ দের প্রতি আকৃষ্ট তখন কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছিলাম । কিন্তু আমার কথা বলার ধরন আমার চলন বলনে কখনোই বোঝা যায় নি যে আমি ও এরম হতে পারি সুতরাং এইসব নিয়ে কোনো টোন ও শুনতে হয় নি এবং ব্যাপারটাতেও ভয় পেতাম না । বেশ তো চলছে চলুক না এবং চলতে দিয়েছিও ।

৩।
এইসময় আমি খুব গেঁড়ে পাকা হয়েছিলাম । কোচিং এ ভর্তি হলাম কারণ।তখন তিনটে করে exam হত আর প্রথম exam এ এত সুন্দর হয়েছিল যে pvt teacher নি । ওই কোচিং থেকে ফেরার সময় সোদপুর ষ্টেশনের কাছে এক দাদু বসত বই এর ডালি নিয়ে । সেখান থেকেই প্রথম পানু বই কেনা এবং এই পানু বই কেনার পিছনে একটাই কারণ যাতে আমি আমার বন্ধুদের সাথেও সমান ভাবে চলতে পারি । কারণ ওরাও বই কিনেছিল সেখানে একটা ভয় কাজ করেছিল আমায় যদি ওরা অন্য কিছু ভাবে । কিন্তু সত্যি বলতে আমি বেশ মজাই পেতাম । কত নতুন শব্দ নিটোল আপেল, ফজলি মাগী ।
যাই হোক ২০০০ সাল আসল । স্কুলের সেই বন্ধু স্কুল থেকে বিদায় নিল কারণ ওরা ফলতা permanently shift হল । রবিবার আমার সাথে শেষ বারের মত দেখা করতে এসেছিল কারণ সোমবার ই চলে যাবে । সেদিন দুজনেই খুব কেঁদেছিলাম ।
ও অনেকবার এসেছিল আমার বাড়ি আর আসলেই কাকিমা চাউমিন করো । আর আমি যখন বলতাম মা করত না কিন্তু ও একবার বললেই করে দিত । মা সেদিন শেষ বারের মত ওর জন্য চাউমিন করেছিল । এমনিও আগেও যখন আসত মা তখন এক থালায় ভাত মেখে আমাদের কে খাইয়ে দিত ।
মা ও কেঁদেছিল যেদিন ও শেষ বারের মত আসল । সেই সময়টা আমি খুব একা হয়েছিলাম । এত বন্ধু থাকলেও ও যে নেই । ও যেই পারাতে ভাড়া থাকত সেই পাড়াতেও কয়েকবার ঘুরে এসেছিলাম । এদিকে পাড়ার ছেলেটাকেও আমি avoid করতে শুরু করলাম ।
সামনে মাধ্যমিক আসছিল আর তখন দুবছরের প্রশ্ন একসাথে আসত ।
এই সময়টা স্কুল বাড়ি আর কোচিং নিয়েই থাকতাম ।
২০০১ হঠাৎ একদিন রবিবার ও আমাদের বাড়ি আসে । দুপুরে ছিল বাড়িতে । সেইদিন ই ওর সাথে আমার প্রথম আর শেষ শারীরিক সম্পর্ক হয় । সেদিন বাড়ি যাওয়ার সময় রথীন্দ্র বলে গেছিল ও আর কোনোদিন আমার বাড়ি আসবে না এবং আজ অবধি আসেও নি ।
ওর কাছে সেদিন আমি একটাই জিনিস চেয়েছিলাম যে শেষ বারের মত একবার জড়িয়ে ধরতে চাই এবং রথীন্দ্র রাজি ও হয়েছিল ।
মাধ্যমিক পাশ করলাম ২০০২ সাল । একাদশ শ্রেণীতে একি বিদ্যালয়ে থেকে গেলাম । আর একটু পাকা হলাম । তখন market এ খুব compact disc (CD) রমরমা বাজার । পানু বই ছেরে পানু cd তে মন লাগালাম ।
দ্বাদশ শ্রেণীতে উঠলাম আর আমাদের স্কুল co-ed হল মানে only 11 12 এ ছাত্র ছাত্রী একসাথে ।
দ্বাদশ শ্রেণীও সমান্তরাল ভাবে চলছিল । তখন বেশিরভাগ ই নতুন বন্ধু । এদের মধ্যেই একজন হঠাৎ tiffin time এ ইয়ারকির ছলে আমাকে smooch ba kiss করে এবং আমি রীতিমতো রেগে গিয়ে উদুম গাল দি । কারণ রথীন্দ্রর পর ওই আমার ঠোঁট স্পর্শ করেছিল । তারপর ওর সাথে ভালো বন্ধুত্ব হয় কিন্তু সেরম কিছু আমি feel করি নি কারণ তখনও আমি রথীন্দ্রতেই মগ্ন ছিলাম আর তাছারা আর একটা কারন গুটকা আমার একেবারে অপছন্দ আর ও সেই সময় খুব চুটকি খেত । এদের সাথেই প্রথম tiffin time এ স্কুল পালিয়েছিলাম ।
pre test exam গেল । test exam আসল । তখন একদিনে দুটো exam হতো আর মাঝখানে একঘন্টার বিরতী । বাংলা প্রথম পত্র দিয়ে বেরিয়ে ওই একঘন্টায় প্রথম সিগারেট টানি যেই টান আজ অবধি টানছি ।
রথীন্দ্র একদম সাদামাটা একটি ছেলে ছিল । ও সবসময় আমাকে জয় বলে ডাকত । আমার থেকে একটু লম্বা । ওই বয়সে ঢ্যামনা no 1 ছিল । আর খালি বলত জয় তোর গায়ের রঙ আমাকে একটু দে আমি ও একটু সুন্দর দেখতে হই । আমিও হেসে দিতাম । মা এর হাতের চাউমিন ওর খুব প্রিয় ছিল আর ও চাউমিন খেতেও ভালোবাসতো । তাই প্রায়ই আমি চাউমিন ই নিয়ে যেতাম আর আমার পছন্দের ছিল রুটি সুজি সেটা ও করে আনত । আগে আমাদের বাড়িতে সবসময় ময়দা দিয়েই রুটি হত কারন রুটি সাদা হত বলে তাই প্রথম প্রথম ওকে বলতাম এই রুটি আমি খাবো না কিন্ত খিদের জ্বালায় খেতেও হত । সেইসময় ও কি ভাবতো আমি বুঝতে পারতাম না তবে আঁটার রুটি খাওয়া ওই আমাকে ধরিয়েছে । ওর দেওয়া greetings card গুলো হয়তো এখনো আছে আমার কাছে যদিও সেটা মা যানে । class এও আমরা সবসময় 1st bench এ পাশাপাশি বসতাম । নিয়ম ছিল কেউ কারো জন্য জায়গা রাখতে পারবে না তাই কোনোদিন যদি আমরা না বসতে পারতাম আমরা পরের bench এ চলে যেতাম ।
এই ছিল আমার রথীন্দ্র।

৪।
চতুর্থ অধ্যায়
আচ্ছা আপনারা কখনও হাতির পাঁচ পা কি সেটা বুঝেছেন । সত্যি বলতে আমি বুঝেছিলাম তখন, যখন স্কুল জীবন শেষ করে colleage জীবনে প্রবেশ করলাম ।
বঙ্গবাসী কলেজ ।
সেই সময়ইঠাকুমা মারা যায় । বাপ্পা নাম চিরতরে আমি হারালাম । clg concession এ ৬০ টাকা train monthly charge সোদপুর থেকে শিয়ালদহ ।
এই সময় টা একচেটিয়া পানু দেখতাম । রবিবার মানেই বন্ধুর বাড়ি আর cd তে পানু । তখন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতাম যে এরম ভাবে না করলে কি sperm বেরোয় না । মিঠু আমাকে বুঝিয়েছিল এই ব্যাপারটা । প্রথমবার যখন handle মেরে sperm বের করি মনে মনে দারুন আনন্দিত হয়েছিলাম ।
যাইহোক কলেজ যাওয়া শুরু হল মানে হাতির পাঁচ পা দেখা । মনে হত আমি এবার মুক্ত । কোনো বাঁধা নেই আর কারণ আমি যে কলেজ স্টুডেন্ট । যদিও মা কোনোদিনই স্কুলে দিয়ে আসে নি আর আমিও সোদপুরের বাইরে যাইনি এর আগে । ২০০৪ এ প্রথম আমি কোলকাতায় পা রাখলাম যদিও হাওড়া ব্রীজ দেখতে একবার বাবার হাত ধরে গেছিলাম ওই প্রথম বার মেট্রোতে ও চরা ।
কলেজ গেলাম কত বন্ধুবান্ধব । কলেজ স্ট্রীট আমহার্স্টস্ট্রীট কফি হাউস কলেজ স্কোয়ার সব চিনলাম । সোদপুর তখন ও greater kolkatar under এ আসে নি । প্রথম বছর কলেজ, বন্ধুবান্ধব, কমন রুমে ক্যারাম এইসব নিয়ে খুব ভালো ছিলাম । সেই সময় বেগমপুর থেকে একটি মেয়ে আসত কলেজ এ । ওর সাথে ভালো বন্ধুত্ত্ব হল । বুদ্ধির গোড়ায় ধোয়া দিতে দেখলেই রেগে যেত আমার ওপর । আমার ব্যাপারে খুব interest দেখাতো । হয়তো আমাকে পছন্দ করত কিন্ত আমি সেটা ওকে প্রকাশ করতে দিই নি । তখনও যে আমি রথীন্দ্র কে miss করতাম ।
আস্তে আস্তে ধর্মতলা চিনলাম । সেই সময় মনু মেন্টের ওখানে সাপের ছোবোল এই নেশা হত যদিও ওই পথ আমি মারাই নি । একদিন দেখলাম যে ধর্মতলা স্ট্যান্ড থেকেই ফলতার বাস ছাড়ছে । আমি ভাবতাম ফলতা খুব ছোট্টো যায়গা তাই একদিন কলেজ পালিয়ে বাসে উঠেই পরলাম । ফলতা নামলাম ও । ওরে বাবা কে বলেছে ছোট্টো যায়গা । যথারীতি ওকে খুঁজে পাই নি আর ওরম ভাবে কি পাওয়া যায় ।
কদিন খুব মনমরা ছিলাম । বেগমপুরের মেয়েটি নাছোরবান্দা জেনেই ছাড়বে কি হয়েছে । ওকে সব বলে দি । এই প্রথম আমার comeout ।
কিন্তু বলেও ফ্যাঁসাদে পরলাম । খাসখবরের মত খবর টা চারিদিকে চাউর হতে লাগল । তখন আমার নাম জয়ন্ত এর বদলে হয়ে গেল বৌদি বা বোন বা darling বা sweetheart । অনেক টোন সহ্য করতে হয়েছিল ।
সেই সময় পাঁচটা ছেলে আমার পাশে দাঁড়াল মিঠু (যে আমার ছেলেবেলার বন্ধু), কৌশিক, সৈকত, রাজীব, দেবদীপ ।
আমি নিজেকে গুটিয়ে নিলাম । এই পাঁচজনের সাথেই থাকতাম ।
পাঁচ বছর বয়সে মা এর সাথে প্রথম বার দিঘা গেছিলাম । আবার সেই দিঘা যাওয়ার প্ল্যান হল এই ছয় বন্ধু মিলেই ।
দিঘা গেলাম ও ধর্মতলা থেকে বাস ধরে । সৈকত ছিল হারামী দ্য গ্রেট । ও হুজুক তুলল যে মদ টেস্ট করব । সৈকত ই rum কিনে আনল । ওই প্রথম চেখে দেখলাম ।
কিছুদিন পর কলেজ এর সবাইকে দেখছি orkut করছে । ওদের থেকে শিখে আমিও orkut এ আসলাম ।
নতুন নতুন বন্ধু হতে থাকল । তখন ও অবধি সমকামী বা এই ব্যাপার নিয়ে অত ভাবতাম না বুঝতাম ও না ।
একদিন একটা request আসল । ছেলেটির খালি গায়ে ছবি ছিল profile এ । accept করলাম । ছেলেটির সাথে কথা হত মাঝে মাঝে । ব্যস ওইটুকুই । আমি সেরম একটা intetest দেখাই নি ।
রথীন্দ্রর স্মৃতিও একটু একটু লোপ পাচ্ছিল ।
সেই সময় পাড়ার এক দাদার দৌলতে একটা চাকরি পেলাম । সিকিম চলে গেলাম । ওখানে কাজ নিয়েই থাকতাম । এইভাবে এই নিয়ে জীবন ভালোই চলছিল । কিছুদিন পর কলকাতায় চলে আসি চাকরি টা ছেড়ে দিয়ে ভালো লাগত না বলে । টাকা চিনে গেছিলাম বলে pocket money এর জন্য call centre join করলাম । salary 3500/- ।
ততদিনে নতুন chatting and datimg সাইট facebook এসেছে । orkut ছেড়ে facebook a পদার্পণ ২০০৭ সাল ।
facebook থেকে শ্রীরামপুরের একজনের সাথে পরিচয় হল । তার সাথে প্রথম ধর্মতলায় ccd তে meet । তার সাথেই একটি মুভি দেখতে গেলাম নন্দন এ। মুভি দেখে বেরিয়েই মনে হল একটা অন্য জগতে প্রবেশ করলাম । যেখানে কত সুন্দর দেখতে ছেলে । সেখানে শুধু আমি একা নই । আমার মতো আরো অনেক এ আছে । সেই সময় মনে হত নন্দনে আসর বসত । হই হট্টগোল হাসি ঠাট্টা । বেশিক্ষণ ছিলাম না যদিও কিন্তু বেশ ভালো লেগেছিল যায়গা টা । সেদিনের মতো বেরিয়ে গেলেও আবার যাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল । শ্রীরামপুরের সেই ছেলেটার সাথেই আবার এক রবিবার দেখে নন্দন গেলাম । এই হল আমার নন্দনে পা রাখা । ২০০৭ সাল । তখন থেকেই আস্তে আস্তে হোমো বা gay বা সমকামী এই ব্যাপারটা বুঝতে শিখছি ।

আমার ভালোবাসা আর আমার স্বীকারোক্তি

২০০৭ সালের আগে অবধি আমি এই নন্দন থেকে শতহস্তে দূরে ছিলাম । নন্দনে ঢুকেই দেখলাম অন্য একটা দুনিয়া । যেখানে সমকামীতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কত মানুষ । এখানেই আমার প্রথম অভিজ্ঞতা হয় যে একটি ছেলেও মেয়ে সাজতে পারে সমাজের তোয়াক্কা না করে সমাজকে ভয় না পেয়ে ।
সত্যি বলতে আমি নিজেও এরকম খুব একটা পছন্দ করতাম না । ভাবতাম কি এরা তাহলে কি আমি ও কোনোদিন এরম হয়ে যাব নাকি যদিও পরে এই ভুল টা ভেঙেছিল ।
নন্দন থেকে অনেক বন্ধু ভাই দাদা পেলাম ।
চিস্যা, টোন্না, কোতি, পারিক, আরিয়াল, পরোটা বেলা, ডান্ডিয়া খেলা, খাজরা করা, চামাচামি কত ধরনের নতুন শব্দ শিখলাম এবং বলতাম ও ।
বিশেষ করে শনিবার আর রবিবার নন্দন ছিল কলকাতার মধ্যে rank 1 এর gay cruising point । শুধু সমকামি নয় এছারাও বিষমকামী উভকামী সবাইকেই দেখা যেত ।
এই সময় অবধি আমি disco এর নাম শুনে এসেছিলাম । নন্দনের এই দাদা বা বন্ধুদের সাথে প্রথম ginger disc এ যাওয়া । রবিবার করে এই সময় entry free ছিল । dance floor এ half shoe পরে উঠতে দেবে না বলে আমাদের মধ্যেই এক দাদার শেরয়ানির সাথে আমার জুতো পরে নাচ তো কখনো আর একজনের t-shirt কিনে দেওয়া আর একজন কে কারণ sleeveless t-shirt এ entry নেই ।
যাই হোক আমি আরো শিখতে শুরু করলাম জানতে শুরু করলাম বুঝলাম কি করে সমকামীদের সাথে মানিয়ে নিতে হয় আর কিভাবে সমকামীরা মানিয়ে নেয় । ব্যতিক্রম কিন্তু থাকে এবং থাকবেও ।
বেশ আনন্দে দিন গুলো কাটছে ।
কোনো এক রবিবার চাকরিসূত্রে থাকা কলকাতায়, আসামের এক বন্ধুর মাধ্যমে একজনের সাথে পরিচয় হল । বেশ সুন্দর শ্যামবর্ণ । তার নাম্বারটি আমি আসামের বন্ধুটির কাছ থেকে নি । সেই রবিবার থেকে তার পরের রবিবার অবধি তাকে শুধু miss call দিয়ে গেছি । পরের রবিবার যখন আসল সেদিন আমি black pant and black shirt পড়েছিলাম । আসামের বন্ধুটিও হয়তো ওকে বলেছিল যে আমার ভালো লেগেছে ।
হঠাৎ করে ও এসে আমার সাথে পরিচয় করে Hi আমি পিনাকী ।
আমিও পরিচয় দিলাম আমি জয়ন্ত । নন্দনে ততদিনে আমার মুখ চেনে সবাই । হয়তো পিনাকিকেও চিনত । পাশের থেকে ইয়ারকির ছলেই বলে ওঠে জয়ন্তর বাজার হয়েছে । সেদিন আমরা আর বেশি কথা বলি নি । call centre এ job করার দরুন আমার offday থাকত বুধবার । সেইমত বুধবার বিকেলে আমি ওর সাথে গড়িয়াহাটের মোড় এ দেখা করি । ওখান থেকে রবীন্দ্রসরোবর লেক এ গিয়ে বসি এবং একে ওপরকে জানার চেষ্টা করি ।
পিনাকি সেই সময় প্রত্যয় জেন্ডার ট্রাস্ট এ জব করে আর distance এ environment studies নিয়ে পড়াশোনা করছে । আমাদের মধ্যে প্রেম শুরু করতে হয় নি । প্রেম টা হয়েগেছিল । আমিও office শেষ করে প্রত্যয় জেন্ডার ট্রাস্টের library তে গিয়ে বসে থাকতাম । ৬ টা বাজলেই একসাথে বেরিয়ে কখনো দক্ষিনাপনের মিষ্টি ফুচকা তো কখনো ঢাকুরিয়া স্টেশনের পাশের দোকানের চপ এই করে শিয়ালদহ আসতাম দুজনে তারপর যে যার গন্তব্যস্থল ।
পিনাকীর বাড়িতে সব কিছু জানত যে পিনাকী ও একজন সমকামী । প্রথম বার ই হোক আর তারপর যতবার ই ওর বাড়ি গেছি ছেলের আঁদর ই পেয়েছি বাবা মা ঠাকুমা সবার কাছে । পিনাকীর বাড়িতে আমি যখন জায়গা পেয়েছি আমার ও উচিত ওকেও আমার বাড়িতে সেই জায়গা দেওয়া ।

call centre এ জব করার দরুন আমার office time ছিল 7 am to 3 pm । একদিন ৩ টের পর আমরা সব office collegue রা এদের মধ্যে সেই মিঠু (ছেলেবেলার বন্ধু) ও ছিল । শিয়ালদহ তে tower bar এ যাই drink করতে । সন্ধ্যে সাতটা হয়ে গেছিল তাই সেদিন আর পিনাকীর সাথে দেখা করতে যাই নি যদিও ওকে বলেই গেছিলাম । যেহেতু আমরা প্রতিদিন দেখা করতাম তাই সেদিন ও শিয়ালদহ চলে আসে । আমি full tally ছিলাম তখন । ও আমাকে বাড়ি নিয়ে আসে । একটু নেশা টা যখন কাটে আমি আমার কথা প্রথম আমার বৌদি কে জানাই যে আমি gay । বৌদি অবাক হয় নি বরং এই উত্তর টাই দিয়েছিল যে তুই যে এরকম আমি আন্দাজ করতেই পেরেছিলাম কারণ সবসময় তুই ছেলেদের সাথেই কথা বলতিস । কোনোদিন ফোনের ওপারে কোনো মেয়ের গলা পাই নি । এই কথাটা মা শুনে ফেলে যদিও তখন বুঝতে পারে নি । পরের দিন সকালে বৌদি কে জিজ্ঞাসা করাতে বৌদি সব বলে । মা এরজন্য কদিন খুব upset ছিল । এইসময় পিনাকী মা কে খুব বুঝিয়েছিল কিন্তু কি বলেছিল তা আমি আজ অবধি জানি না বা মা বলেও নি । তবে মা আমাদেরকে মেনে নিয়েছিল । পিনাকীকেও আমাদের বাড়ীতে ওর জায়গা টা দিলাম । আমারা যেখানেই যেতাম যা করতাম এই সাথে । সেটা ওর মাসতুতো দিদির বিয়ে হোক কিংবা আমাদের বাড়ি কোনো পূজো । আমার কাকু কাকিমা মা এর মুখ থেকে সব শুনল এবং শোনার পর মা কে একটা কথাই বলেছিল কাকিমা যে পিনাকী কে একবার কাকিমার বাড়ি নিয়ে যেতে কারণ কাকিমাও দেখতে চায় । বাবা দাদা আমার ব্যাপারে পরে জেনেছে যদিও তারা এই ব্যাপারে কিছুই বলে নি বরং পিনাকীর সাথে বেশ জমিয়ে আড্ডাই দিতে দেখেছি ।

আমি আর পিনাকী প্রথমবার বেনারস ঘুরতে যাই ।
মোটামুটি দুবছর পর মেদিনিপুরের এই তৃতীয় ব্যক্তির জন্য যার নাম সুজন আমাদের সম্পর্কে ফাঁটল ধরতে শুরু করল ।
সুজনের problem ছিল ও খুব স্বার্থপর । যেহেতু আমাদের দুই family আমাদের কে মেনে নিয়েছিল সেটা দেখে ও ওর বাড়িতে গিয়েও সব বলে দেয় । গ্রামের মানুষ তখন এগুলো কতটাই বা বোঝে তাই সুজনের ওপর অত্যাচার শুরু করল । ও বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয় । পিনাকীই যোধপুর পার্কের কাছে ওকে একটা রুম ঠিক করে দেয় আর সুজন কে আমি আমার call centre এই join করালাম । সুজনের বক্তব্য ছিল ও কারো ভালোবাসা পায় নি তাই ও কারো ভালোবাসা সহ্যও করবে না । যথারিতী আমাদের মধ্যে ও ঝামেলাটা বাঁধালো যদিও এর জন্য আমি সুজনকে দায়ী করবো না । কারণ ঘরের লোকই যদি ঠিক না থাকে বাইরের লোককে বলে কি হবে ।
সম্পর্ক বিচ্ছেদের অনেক পরে পিনাকী বুঝতে পারলেও আমরা কেউ ই আর কারো দিকে এগোই নি কারণ কাঁচে একবার চীঢ় ধরলে সেই কাঁচ জোড়া লাগে না যদিও এটা পিনাকীরই কথা ছিল । দোষ আমাদের দুজনের ই ছিল নাহলে দোষ ছিল সময়ের, দোষ ছিল পরিস্থিতীর , দোষ ছিল আমাদের কপালের ।

বিচ্ছেদের পর আমি অনেকটাই ভেঙে পরেছিলাম । সেইসময় এই ছেলেবেলার বন্ধু মিঠু আমার পাশে ছিল ।

আক্ষেপ একটাই থেকে গেল কাকিমা আর পিনাকী কে দেখতে পেল না ।
বেনারস নাকি তিনবার যেতে হয় কিন্তু আমার আজ অবধি ওই একবারেই আটকে গেল ।
সম্পর্কের ইতি হল ২০১০ নভেম্বর । ২০১১ তে পুরো concentrate করলাম নিজের carrier এ । কারণ তখন পড়াশোনাও চলছিল auto mob নিয়ে । মিঠু ও চলে গেল ব্যাঙ্গালোর MBA পরতে । এই সময় আমার ব্ন্ধু ছিল facebook আর এই gay community । অনেক বন্ধু করেছিলাম তখন । কখনো এর সাথে কোনো resturent এ তো কখনো কোনো একটা গ্রুপের সাথে দিঘা ঘুরতে যাওয়া তো কখনো disco তে যাওয়া ।
বেশ চলছিল জীবনটা ।
এরমধ্যেই flirt করা infatuation এ পরা sex করা সবই চলেছিল সমানতলে । এরজন্য আমার কোনোদিনও আফশোষ ও হয় নি তবে আফশোষ হয়েছিল আমার ২০১৩ সালের পর থেকে ।।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.