আমার স্টুডেন্ট বয়ফ্রেন্ড

শঙ্খ দীপ

১.
প্রতিদিনের মতই আমি আর স্নেহা সেদিন বিকালের দিকে প্রেসির বিপরীতের একটা বইয়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছি। দোকানটা বিনয় দার! এ ক’বছরে বেশ ভাব জমে উঠেছে বিনয় দা’র সাথে। গেলে বিনয় দা’ চা’টাও খাওয়ায়। আমরাও খাওয়াই মাঝে মাঝে। মাঝে মাঝে অন্যরাও আসে। তবে আমি আর স্নেহা কন্সট্যান্ট। সেদিনও সেরম গেছি ল্যাব থেকে বেরিয়ে। হঠাত একটা বল আমার সামনে পড়ল। সাথে আমার হাতের চা’টাও উল্টালো! ওপরে তাকিয়ে দেখলাম কতগুলো ছেলে জানলা দিয়ে রডের পিছন থেকে জুলজুল করে তাকিয়ে আছে!
“দাদা বলটা দাও না!”
ছেলেগুলো খুব ছোট না! ইলেভেন-টুয়েলভ হবে!
“আমার জামাটা কি হল দেখো!” চেঁচিয়ে বললাম।
“সরি দাদা… সরি!”
স্নেহা ততক্ষণে বলটা কুড়িয়েছে। ও একটু ডানপিটে গোছের। আমি আবার ততটাই ল্যাদোস!
” দেবো না!” স্নেহা বলল!”জানিস না নীচে লোকে দাঁড়িয়ে থাকে… এত খেলা কিসের তোদের! “
“ও দাদা… তোমার গার্লফ্রেন্ডকে বলো না…”
“কেমন পাকা দেখ!” আমি স্নেহাকে বললাম! স্নেহা আমার কথা পাত্তা দিল বলে মনে হল না, দিদিমণিদের মত বলল “বেশি পেছন পাকা! “
ততক্ষণে দুটো ছেলে নেমে এসেছে। এসে বলল “দিদি দাও না!”
“ওর জামাটার কি করেছিস দেখ!” স্নেহা আমার জামাটার দিকে দেখাল। দুটির মধ্যে একটি ছেলে বলল “দাদা… দাও তোমার জামাটা আমি কেচে দিচ্ছি!”
” না থাক!”
” না না… দাও!” ছেলেটা আমার দিকে এগিয়ে এসে স্নেহাকে বলল ” জামাটা কেচে দিলে বলটা দেবে তো!”
“ইয়ারকি মারছিস? ও কি খালি গায়ে দাঁড়িয়ে থাকবে?” স্নেহা বকল।
“কেন স্যান্ডোগেঞ্জি পরে আছে তো!” বলে ছেলেটি আমার দিকে তাকিয়ে আমায় মাপল যেন! বলল “আচ্ছা, তুমি জামাটা খুলে দাও,তুমি আমার জামাটা পর, আজ সোমবার… একদম পরিস্কার জামা! আমি কাল বাড়ি থেকে কেচে এনে দেবো! “
“এমা… না না!”
” না… দাঁড়া!” স্নেহা বাধা দিল! “খোল জামা খোল… শুভ তুই ওকে দে জামাটা খুলে… একবার এরম করুক! মনে থাকবে!”
আমি কিছু বলার আগেই সে ছেলে তো নিজের জামার বোতাম খুলতে শুরু করে দিল। জামাটা টেনে উঠালো প্যান্টের গ্রিপ থেকে! স্যান্ডোগেঞ্জিটা ঘামে ফরসা গায়ে চেপে বসে আছে! স্যান্ডোগেঞ্জি থাকলেও, বুকের স্তনবৃন্ত দুটো বেশ বোঝা যাচ্ছে! সেটার কথা বাদ দিলেও, বুকের নরম লোমগুলোও ঘামে অবিন্যস্ত। রাতভোর ঝড়ের পরে ধানের ক্ষেত যেমন লণ্ডভণ্ড হয়ে থাকে! ঠিক সেরম!
“এনাও…” বলে জামাটা এগিয়ে দিল আমার দিকে!
“থাক না” আমি স্নেহাকে বললাম।
“কেন থাকবে কেন? “
অগত্যা আমিও খুলে দিলাম। “ঘামের গন্ধ নেই তো?” বলে আমার জামাটা নিজের নাকের কাছে চেপে ধরল! “বাহ বেশ তো গন্ধটা! কি সেন্ট গো?”
আমি হাসলাম। আমি ওর জামাটা পরলাম। তারপর এমনভাবে কাছে এল যেন গায়ের ওপরই উঠে যাবে! কি কারণ? না জামা থেকে স্কুলের ব্যাচ খুলবে! ভাগ্যিস, নয়ত আমি ব্যাচ পরেই ল্যাবে চলে যেতাম! একটু দূরে যেতে বললাম “তোমার তো সেন্টটেন্ট দেওয়া নেই! “
“স্কুলে allow করে না গো!” আমার জামাটা গলাতে গলাতে বলল “তবে খুব একটা গন্ধ নেই ঘামে! এই যে ব্যাচটা লাগাচ্ছি, পরে বোলোনা, তোমার বয়ফ্রেন্ডের জামা ফুটো করে দিয়েছি!” এটা স্নেহাকে বলল।
স্নেহা কি একটা বলতে যাচ্ছিল, ও বলল “কাল কাচিয়ে তো আনব… দেবো কখন? তোমার ফোন নাম্বার দাও! ফোন করে নেব!” বলে পকেট থেকে ফোনটা বার করল!
“তোদের স্কুলে ফোন allow করে?” স্নেহা জিজ্ঞাসা করল!
যাই হোক, তখনই ওর নাম জানলাম। সুন্দর। হ্যাঁ, নামের তাৎপর্য হল ওকে দেখতে সত্যিই সুন্দর!
তারপর সুন্দর স্নেহাকে বলল “দাও বলটা দাও..”
“কাল আগে জামাটা কেচে এনে দে!”
“ছাড় না… দিয়ে দে!”
স্নেহা বোধ হয় ইয়ার্কি মারছিল। দিয়ে দিল বলটা!
” Thank you! তোমার থেকে তোমার বয়ফ্রেন্ড বেশি ভাল…. এই কালকে এনাকে নিয়ে আসবে না!” আমাকে বলল।
আমি হাসলাম। সে’ও দুষ্টু হাসি হেসে বিদায় নিল। স্নেহার থেকে পালাল আর কি!
সেদিন ল্যাব থেকে বেরতে বেরতে প্রায় সাতটা সাড়ে সাতটা বাজল। স্নেহা মেট্রো ধরবে, চলে গেল। আমিও বাস ধরলাম। ঘাড়টা ভীষণ যন্ত্রণা করছে। চোখের পাওয়ারটা বোধহয় বেড়েছে।বাসে অন্যদিন বসার জায়গা পাইনা, সেদিন কি ভাগ্যি পেলাম। তাও আবার জানলার ধারে। বসলাম।মা ফোন করল। জানলাম যে বাসে উঠেছি। কাটতে গিয়ে কি মনে হল, ফোনটা কেটে, নেটটা একটু অন করলাম।Whatsapp এ একটা অচেনা নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে! শুধু লেখা “hi”
” কে?” লিখে আমি অফ হয়ে গেলাম। এতক্ষন ধরে ল্যাপটপে চোখ রেখে কাজ! প্রতিদিন কাজের শেষে চোখ আর মাথার পিছনের দিকটা দপদপ করে! তখন চোখ দুটো বন্ধ করতে পারলে তার থেকে শান্তির আর কি আছে!
রাতে খেয়েদেয়ে অন হলাম। স্নেহা লিখে পাঠিয়েছে হাবিজাবি। এসব জোক ওর কাছেই থাকে। আমি ওকে একটা মিডিল ফিঙ্গার পাঠালাম। “পড়বি আজকে?” ও জিজ্ঞাসা করল।
“না রে… ঘাড়টা খুব যন্ত্রণা করছে!”
ঐ আননোন নাম্বারটা থেকে তিনটে মেসেজ এসেছে!
“Are chinte parle na?
Sundor
bolchi”
ও! ওরা whatsapp ও করে?
” Tora whatsapp O krs?”
“hya… kno?”
“na… toder boyos e ami esob kortam na!”
” tokhn whatsapp launch hoyeche?”
সত্যি কথা! আমাদের বেলায় whatsapp launch হয়েছিল? ভেবে ভেবে দেখলাম, হ্যাঁ হয়েছিল।
” ami jokhn 12 e… tokhn e sobe sobe hoyeche!”
“O”
“Tr ki stream?”
“Science..”
“bah… fav subject ki?”
“Kichui na…”
“kno? porasona krte iccha kore na?”
“na!”
“ki korte iccha kore?”
“ghumate…ar gyajate!”
“bah… kintu porasoba na korle ki kore hobe?
porasina*
porasona*”
“tumi ki koro?”
“phd krchi ekhn”
“r tomar gf?”
“gf?”
“girlfriend “
“seta bujhechi… k gf?”
“oi didita?”
” O Sneha? na… O r ami ek e guide er under e research kori! O amr gf na!”
“ta tomar gf ki kore?”
“amr gf nei… tor keu ache nki?”
“mittha kotha bolo na! tumi eto handsome… tomar gf nei?
na amr gf nei!”
“seriously gf nei! r tor jene e ba ki hobe amr gf ache ki na!”
“emni”
“tui kal kokhn dibi jamata?”
“chutir por nio… 4 39 er por
4 30*”
“accha… tui ph koris ekbar! ami lab e thakbo!”
আমি আর সেদিন তাকিয়ে থাকতে পারছিলাম না! কিন্তু হঠাৎ মনে হল আমারও ওর জামাটা কেচেই দেওয়া উচিৎ। আমি আবার রাতের বেলা উঠে জামাটা কেচে রাখলাম। আমাদের ওয়াসিং মেশিনটা সেমি-অটোমেটিক। সকালে উঠে কাচলে শোকাবে না! আমাকেও সকালবেলাই বেরতে হবে। সব ভেবে চিন্তে কেচেই শুলাম! কাচতে কাচতে ওর বুকের ছবিটা আমার চোখের সামনে ভাসছিল। ততবার ভাবছি, না না ও আমার থেকে অনেক ছোট। ভায়ের বয়সী। আমার নিজের ভাই-ই এবার মাধ্যমিক দেবে!
ভাবলাম তাড়াতাড়ি শোবো। কিন্তু শুতে শুতে সেই বারোটা বাজল। উফফ… শেষমেশ শুয়ে যে কি আনন্দ! সেদিন শুয়ে আর চিন্তা করার সুযোগ পাইনি, শুয়েছি আর ঘুমিয়েছি।

২.
তখন কি একটা ঝামেলা হচ্ছে বিকাশ দা’র সাথে। বিকাশ দা আমাদের ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট! অবশ্য ঝামেলাটা আমার সাথে না স্নেহার সাথে। asusual! স্নেহা একবার খোঁচে গেলে কাউকে ছেড়ে কথা বলে না!আমি ওকে থামানোর বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম, আর ও সমানে বলে যাচ্ছে “তুই দাঁড়া…” বলেই আবার ঝগড়া শুরু! যতবার বলছি চুপ কর চুপ কর, কে কার কথা শোনে। সোমনাথ দা’ও আসেনি আজকে!(সোমনাথদা আমাদের গাইড) ও’ই স্নেহাকে বুঝিয়ে ঠান্ডা করতে পারে! আমি শেষে বিরক্ত হয়ে ভাবলাম সোমনাথ দা’কে একটা ফোন করি! ফোন করতে গিয়ে দেখি, সুন্দরের ১৭ টা মিসড কল!
oh..shit! পাঁচটা পঁচিশ বাজে! সেই চারটে পঁয়ত্রিশ থেকে কল করছে। ল্যাবে ফোনটা সাইলেন্ট থাকে, তাই শুনতে পাইনি!
আমি বেড়িয়ে ওকে কল করলাম “হ্যাঁ রে সরি… ব্যস্ত ছিলাম একটু! ফোনটাও সাইলেন্ট ছিল… তুই কি চলে গেছিস?”
“তোমাদের দারোয়ানের সাথে ঝগড়া করছি…কতবার বলছি ফিজিক্স ল্যাবে যাব… কিছুতেই ঢুকতে দিচ্ছে না!”
“আচ্ছা তুই দাঁড়া আমি আসছি…”
আমি গিয়ে দেখি প্রদীপ দা আটকেছে। আমি তখন ইলেভেনে। প্রেসিতে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রায়ই কলেজস্ট্রীট আসতাম। জিজ্ঞাসা করব প্রফেসরদের কি করে প্রেপারেশন নেবো’টেবো, কিন্তু ঐ… ঢুকতে দিল না। প্রদীপ দা’ই। তখন মাথা গরম হয়ে গেছিল। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম এখানেই পড়ব। কেমন করে আটকায় দেখি!
“আয়” আমি ওকে আসতে বললাম।
ও প্রদীপ দা’কে উদ্দেশ্য করে বলল “দেখেছো?… বললাম! বিশ্বাস করে না!” বলে রাজ্যজয়ের মত হনহন করে ভেতরে চলে এল।
প্রদীপ দা জিজ্ঞাসা করল “ভাই নাকি?”
“না… মানে হ্যাঁ… ” আসতে আসতে বললাম “ভায়ের বয়সী”
“কতক্ষণ ধরে তোমার জন্য দাঁড়িয়ে আছি জান?”
“সরি রে… চ কি খাবি বল? টিফিন কখন খেয়েছিস?”
“অনেকক্ষণ”
“চ ক্যান্টিনে চ…”
খাওয়া দাওয়া হল। তারপর বলল “শোন না!”
“কি?”
“একটা কথা বলব?”
“জামাটা আনতে ভুলে গেছিস?”
“না ভুলে যাইনি… কিন্তু মা যাতে সন্দেহ না করে, আমি না জামাটা পরে এসেছি! ” তারপর যেন নিজেকে ডিফেন্ড করার জন্য বলল “আজকে পারফিউম লাগিয়ে এনেছি… আর এই দেখো..” বলে খানিকটা দূরে গিয়ে জামাটা দেখিয়ে বলল “দাগটাও চলে গেছে!”
আমি হাসব না রাগব বুঝে উঠতে পারছিলাম না! তবে দুটোক্ষেত্রেই আমার হাসি পায়। আমি হেসেই ফেললাম। বললাম “ভাল করেছিস… আর তোর জামাটাও আমি কেচে এনেছি! এখানে একটু দাঁড়া আমি এনে দিচ্ছি…”
“আমি ল্যাবে যাব! ” কতকালের পরিচয় যেন আবদার করে বলল।
“ল্যাবে?…” ওকে ল্যাবে নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে? তারপর স্নেহা, বিকাশ দা দুজনেরই মেজাজ গরম। আর তাদের ঝামেলা কমেছে কি না!কিন্তু ও এমনভাবে আবদার করল! অনেক ভেবে চিনতে বললাম “নিয়ে যাব… কিন্তু ওখানে গিয়ে কারোর সাথে কথা বলবি না!”
“আচ্ছা…”
নিয়ে গেলাম। ঢুকতেই স্নেহা বলল “তুই?”
ও কোন উত্তর দিল না! “জামা এনেছিস?”
এবারও কোন উত্তর দিল না!
“কি হল একটা প্রশ্ন করছি তো…?”
এবার ও বলল “ও ল্যাবে কারোর সাথে কথা বলতে বারণ করেছে… আর তোমার সাথে তো বলবোই না…” আমি পিছন থেকে বারণ করতে করতে বলে ফেলল।
“তুই ওকে এখানে এনেছিস কেন?” খেয়েছে! আমাকেও ঝাড়বে নাকি? বললাম “ল্যাব দেখতে চাইল…”
আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলল “disgusting” বলে বেড়িয়ে গেল!
আমি ওকে জামাটা দিলাম! এবার আবার সেই দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় রইলাম!
সে জামা খুলতে খুলতে বলল “আজ খেলিওনি… যাতে ঘাম কম হয়…”
আবার সেই মালভূমি বুক। ধানের ক্ষেত বুকের লোম! আজ স্যান্ডোগেঞ্জির একটা হাতা বুকবৃন্তের থেকে সরে গিয়ে বৃন্তের অর্ধেক উন্মুক্ত করে দিয়েছে। বিশ্বাস করুন, আমার কোন যৌন অনুভূতি হয়নি। দেখে মনে হল যেন বৃহস্পতি গ্রহ। রঙটা ওরমই!
আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম “Thank you!” জামা পালটে নিয়ে তার প্রশ্ন শুরু হল। আমার আর স্নেহার ল্যাপটপটা পাশাপাশি খোলা, কাজের জিনিষ খোলা ছিল। তার প্রশ্ন শুরু হল, আমার পিএইচডির বিষয় কি, আমরা কিভাবে ল্যাপটপে বসেই সব করি মোটামুটি। পাশের হোয়াইট বোর্ডে একটা ইকুয়েশন লেখা ছিল, সেটা নিয়েও তার তদন্ত হল কিছুক্ষণ। হঠাত জিজ্ঞাসা করল “তুমি physics এ খুব ভাল না?”
আমি হাসলাম!
“তুমি আমায় পড়াবে?”
“আমি?… ধুস আমি পড়াতে পারি না!”
“পড়াবে না…সেটা বলো!”
“না রে… আমার ধৈর্য খুব কম রে!”
“সে ঠিকাছে!”
“তুই কারোর কাছে পড়িস না?”
“পড়ি… কিন্তু কোচিং তো! তাড়াতাড়ি করে পড়ায়। আমি ঠিক বুঝিনা সবসময়… না বুঝলে বলতেও পারিনা!… সবাই থাকে তো লজ্জা করে!”
“ও…”
“তোমাকে কিন্তু মাইনে দেবো..!”
আমি হেসে বললাম “কত মাইনে দিবি?”
“ঐ স্যার তো আটশো নেয়… তুমি কত নেবে বলো!”
“আচ্ছা, আমি আগে তোর মা’র সাথে কথা বলব…কালকে নিয়ে আয় মা’কে! তারপর! “
“মা’কে…?”একটু চিন্তিত দেখালো! আমি এটাই চাইছিলাম! মা’র কথা বলে ব্যাপারটা সেখানেই শেষ করার!
“বাড়ি যাবি না? সাড়ে ছ’টা বাজে…!”
“হ্যাঁ যাই তবে… শোন না, মা’কে আনতেই হবে?”
“বাবাকে আনলেও হবে!”
“তুমি কখন বেড়বে?”
“দেরী আছে” সেদিন ওকে গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে এলাম। প্রদীপ দা, আসার সময় বলল “তোমার ভাই… তোমার মুখের সাথে মিল নেই কিন্তু!
সেদিন বাড়ী ফিরতে ফিরতে প্রদীপ দা’র কথাটা যতবার মনে পরছে ততবার এত হাসি পাচ্ছে কি বলব। ল্যাবে গিয়ে হেসেছি। স্নেহা বারবার তাকাচ্ছিল। শেষে বলল “স্ক্রুগুলো কি পরে গেছে রাস্তায়? হাসছিস কেন পাগলের মত?”
আমি বললাম কিছু না। ভেবেছিলাম একবার বলব। কিন্তু মনের মধ্যে পুরো ব্যাপারটা গোছাতে গিয়ে দেখলাম, পাঞ্চ লাইনটা ঠিক আসছে না!তাই চেপে গেলাম। বাসে উঠেও হাসছি। পাশের ভদ্রলোক প্রথম দিকে একটু ঘাবড়ে গেছিলেন, তারপর আমার হাসি দেখে তিনিও মিটিমিটি হাসছিলেন। একবার মনে হয় মুখটিপে বললেনও “পাগল নাকি!”
রাতের বেলা ফিরে whatsapp টা চেক করলাম। নাহ, আজ আর মেসেজ করেনি। আমিও আর করলাম না! শুধু শুধু যা হবে না তাকে নিয়ে নাড়াঘাঁটা করে লাভ নেই।
বিকেল তখন পাঁচটা। ল্যাবেই তখন। ফোনটা গঁ গঁ করে কেঁপে উঠল। সুন্দর। ধরলাম ফোনটা!
“কোথায়?”
“ল্যাবে…!”
“একবার একটু বাইরে এসো না!”
“কেন?”
“আরে এসো না…”
“তুই কোথায়?”
“তোমাদের কলেজের গেটের বাইরে!”
“আচ্ছা দাঁড়া…”
মনে মনে চিন্তা করেই গেছি আজ ল্যাবে আসতে চাইলে যা হোক করে কাটাব। আমার কাজও ছিল। গিয়ে দেখি ওর সাথে এক ভদ্রমহিলাও দাঁড়িয়ে আছেন। সালোয়ার কামিজ পরা। চুল ছোট। বব-কাট। হালকা লিপস্টিক। বেশ সুন্দরী। আমাকে দেখে সুন্দর হাত নাড়ল! আমিও হাসলাম। তারপর ওর পাশের ভদ্রমহিলাকে কি একটা বলল। অবশ্যই আমি শুনতে পাইনি। তবে সেটা বলার পর সেই মহিলার মুখটা হঠাত করে সপ্রতিভ হয়ে উঠল।
“বল..”
“আমার মা”
খেয়েছে! সত্যি সত্যি নিয়ে এল? ডেঞ্জারাস ছেলে তো! আমি হেসে নমস্কার জানালাম। ওর মা’ও তাই করলেন। বললেন “তোমার কথা ও বলেছে বাড়িতে! তুমি এখানে পি এইচ ডি করছ!”
“হ্যাঁ কাকিমা!”
“তুমি যদি ওকে পড়াও তো খুব ভাল হয়! খুব মুখচোরা ছেলে জানো না! বুঝতে না পারলে বল স্যারকে! ওর নাকি লজ্জা করে! আটশো টাকা করে মাসে নেয়! কেন বলবে না বলো… ফ্রিতে তো পড়ছে না! কে বলবে! তুমি কি এখানে আর টিউশনি করো?”
” না না! আমার সময় কৈ? “
“সেটাই তো… ঠিকই! তুমি ওকে পড়ালে কখন পড়াবে?”
“দেখুন কাকিমা… আমি ওকে প্রফেশনালি পড়াতে পারব না! আমি ওকে বুঝিয়ে দেবো! ও বাড়িতে পড়বে! আটকালে আমায় দেখাবে! নিউমেরিক্যাল প্রমলেম গুলো সলভ করবে নিজেই! আমি জাস্ট ওকে গ্রুম করে দেবো… আমি ওকে বলেওছি যে আমার পড়ানোর খুব একটা ধৈর্য নেই… তাও শুধু ওর সাথে আমার একটা বন্ডিং তৈরি হয়ে গেছে বলে পড়াব!”
“আচ্ছা…” ওর মা’কে একটু কনফিউজড দেখালো। তবে প্রথম থেকে ক্লিয়ার হয়ে থাকাটা ভাল! “তা… ওর আগের স্যার তো আটশো টাকা নিত, তুমি কত নেবে বলো!”
“আমার কিছু লাগবে না কাকিমা… ও ভাল করে বিষয়টা বুঝলেই হল!”
“না না.. তা বললে কি করে হয়! বিনা পয়সায়… ” ওর মা একটু ইতস্তত করছিল।
“ও পড়ুক। প্রথম পরীক্ষাটা দিক। আর আগে দেখে নি ছাত্র হিসাবে কেমন! যদি গিয়ার দিলেই স্টার্ট নেয়.. তবেই পড়াব। নয়ত না…” বলে ওকে দেখলাম। আজ বাধ্য ছেলের মত শুনছে!
“আচ্ছা…দেখ দাদার কাছে পড়তে গেলে ভাল হতে হবে! সারাদিন খালি ভিডিও গেমস খেললে আর বল পেটালে হবে না… আর বোলো না… সারাদিন খালি খেলে.. বাড়িতে যতক্ষণ থাকে দেওয়ালে বল ছুড়তে ছুড়তে দেওয়াল কালোর কালো… সারাদিন ধুপ ধুপ আওয়াজ! যতক্ষণ বাড়ির বাইরে থাকে ততক্ষণ শান্তি!”
আমি আর কি বলব। আমি হাসলাম। ও’ও হাসছিল! cute…!
সেদিন রাতে মেসেজ করেছে: ami kintu khub taratari bujhi naa!
আমি লিখে পাঠালাম : Age bojhai… trpr dekhi kmn bujhis r kmn bujhis na!
“hmmm… tumi ki teacher hisebe khub ragi?”
“vison”
“seriously? ami kintu serious teacher der kache porte pari na!”
“first din age ay… trpor bujhbi!”
“acchs kothay porabe? presir vitore?”
“na… amra swimming park er vitore boste pari… majhe majhe presi-r vitoreo bosa jabe… tobe protidin na! ar ami toke Monday Wednesday r Friday porabo!”
“accha accha!”
“besh… gd night!”
“good night…”

৩.
ছাত্র হিসাবে খারাপ না মালটা। তবে প্রথম গিয়ারে স্টার্টও হয়না। একটু সময় লাগে। তবে ও আমার কাছে খুব স্পেশাল। আমার প্রথম ছাত্র। পড়ানোর ইচ্ছা আমার বহুদিনের। কিন্তু কখনও পড়াইনি আগে। সুযোগ এসেছে। কিন্তু সময় হয়নি। আর এমনিতেও গদবাঁধা নিয়মে আমি পড়াতেও পারব না! আমি নিজে সেরম করে কোনদিন পড়িনি। যখন যা মনে হয়েছে তাই পড়েছি। তবে বেশ ভাল ছেলে। পরিপাটি করে কাজ করে আনে। হাতের লেখাটাও বেশ। বাংলা হাতের লেখাটা বেশি সুন্দর! তবে সমস্যা অন্য জায়গায়!
সুইমিং পার্কে বসে ফিজিক্স পড়ানোটা একটু চাপের। এখানে একসময় আমি ছেলে দেখতে আসতাম। প্রেসিতে খোঁজ করতে এসে যখন প্রদীপ দা ভেতরে ঢুকতে দিত না, তখন ভাবতাম যাক এই কাজটা হল না যখন অন্য কাজটা শেষ করে যাই। অন্য কাজ মানে ছেলে দেখা। বড় ছেলেরা ওয়াটার পোলো খেলে। খালি গায়ে। ছোট ছোট আন্ডারওয়্যার পরে। সে এক অপরূপ দৃশ্য। সেখানে ফিজিক্স পড়াতে কারই বা ইচ্ছা করে! আর বিকেলে তো বাচ্চাদেরও শেখায়! অনেকে এসে বসেও। হচ্ছিল না ঠিকঠাক। তারপর আমাদের ঘাঁটি উঠে গেল কলকাতা ইউনিভারসিটির পাশের গলিতে। ঐ জায়গাটা ফাঁকা থাকে!
দেখতে দেখতে ওর টেস্ট পরীক্ষাও এসে গেল। ইলেভেনের টেস্টের কথা মনে পড়লে আমার হাসি পায়। আমি খুব খারাপ পেয়েছিলাম সেবার! যাই হোক… সে সব কথা থাক। ওর থেকে আমার বেশি টেনশন। সব পরীক্ষার আগের দিনই ফোন করতাম। বলে পড়তে ইচ্ছা করছে না! আমি ধমকে রেখেছিলাম ফিজিক্সে যদি ৮৫ এর কম এসেছে তাহলে আর পড়াব না! ফিজিক্সের আগের দিন ফোন করলাম। বলল “ভিডিও গেম খেলছি “
“আচ্ছা!” বলে আমি ফোন রেখে দিলাম। যা রাগ উঠেছিল না!
পরীক্ষা দিয়েও ফোন করল না। আমি করলাম। “কি রে কেমন হল?”
“হয়েছে যেরকম হয়!”
“যেরকম হয় মানে?”
” ঐ হয়েছে!”
“কত পাবি?”
“জানিনা!”
আমি ঠিক করেই নিয়েছিলাম ওকে আমি আর পড়াব না। এত ভাল করে পড়ানোর পরও যদি বলে আগের মতই পরীক্ষা হয়েছে.. তাহলে আর কি করব!
রেজাল্ট কবে রে? খালি বলে বেরবে বেরবে। কবে বেরবে? আরে বাবা বেরবে বললাম তো! প্রতিবার চেপে দেয়! আমার কাছে পড়ে তো ভালোই। প্রশ্নপত্রও দেখলাম। ভালোই তো হয়েছে। ৮৫ না হোক, ওটা যদিও ওকে চাপে রাখার জন্য বলা, অন্তত ৭০-৭৫ পাওয়াই যায়! এক সপ্তাহ পর প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা হল। বলল ভালো হয়েছে। তাও ভাল! তবে ভাল হয়েই বা কি, আমি তো আর করাইনি!
একদিন চা খাচ্ছি। স্নেহাও ছিল। ওদের সেদিন কোন কারণে হাফ ছুটি হয়েছিল। আর ওর সাথে আমার কথা হয়েছিল সেদিন ও স্কুলে আসবে না!মাসির বাড়ি না কোথায় যাবে! হঠাত করে মাথায় একটা আইডিয়া এসে গেল। প্রথম দিন ওর সাথে যে ছেলেটা বল আনতে এসেছিল তাকে দেখলাম রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে।আরেকজনও ছিল সাথে। ধরলাম। “এই তোদের রেজাল্ট কবে বেরবে?”
“এই মাসের সেকেন্ড উইক নাগাদ! “
পাশের জন বলল “রেজাল্ট বেরিয়ে আর কি হবে খাতা তো দেখিয়েই দেয় আগে!”
” খাতা দেখিয়ে দিয়েছে?”
“হ্যাঁ… আগের সপ্তাহতেই!”
ও আমাকে বলেওনি। কিরম শয়তান ছেলে! আমি জিজ্ঞাসা করলাম “রেজাল্ট কেমন হয়েছে?”
চেনা মুখ ছেলেটা বলল “ভাল!”
“আর তোর ঐ বন্ধুটি? “
“কে বন্ধু?”
” ঐ যার সাথে সেদিন বল আনতে এসেছিলিস! “
” ও সুন্দর?… ও তো আমাদের ফার্স্ট বয়! ওই এবারেও টপ করেছে।”
“ফার্স্ট বয় মানে?”
” মানে আবার কি? ঐ তো ছোটো থেকেই ফার্স্ট হয়! এবারেও ম্যাথে ৯৩ পেয়েছে, ফিজিক্সে থিয়োরিতে তো ৭১ পেয়েছে, প্র্যাক্টিক্যালে ও বরাবরই ভাল, প্রিটেস্টেও ২০ পেয়েছিল এবারও পাবে, সব মিলিয়ে ৯১ উঠে যাবে, আর কেমিস্ট্রিতে কত পেয়েছে বেশ! “
“৭২ না ৭৫ বেশ! ” অপর ছেলেটি বলল!
আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম। মানে টা কী?
“ও আজকে আসেনি?” ইচ্ছা করেই জিজ্ঞাসা করলাম। আবার কোন মিথ্যা কথা বলেছে।
“না… আজ করে ওর ক্লাস থাকে জয়েন্টের!”আসলে সেদিন মঙ্গলবার। সেদিন করে আমার পড়ানোও থাকে না। তাই দেখাও হয়না আগে। তাই আগে কখনও বুঝিনি।
“ও”
“চলি দাদা…” বলে বিদায় নিল ওরা!
ও আমাকে এতবড় মিথ্যা বলল?
*
*
পৃথিবীতে যদি সব থেকে কোন জিনিষ খারাপ লেগে থাকে তা হল অকারণে মিথ্যা বলা। আমি জাস্ট নিতে পারিনা! সেদিন ঐ কথাগুলো শোনার পর আমার মাথাটা ভীষণ গরম হয়ে গেছিল। কেন শুধু শুধু মিথ্যা কথা বলল ও! কোন দরকার ছিল না! আর সবচেয়ে বড় কথা, কতটুকু বয়স ওর? সবে ইলেভেনে পড়ে! এখনই এরম মিথ্যা বলে, ভবিষ্যতে না জানি কি করবে! আর এত ছোট একটা ব্যাপার নিয়ে মিথ্যা বলার দরকারই ছিল না! ও তো আরো বড় বড় মিথ্যা বলতে পারে! সেদিন সারাটা বিকাল আমার মুডটা অফ ছিল। তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে গেলাম। ধুস.. কিছুই করতে ইচ্ছে করছে না! বাড়ি গিয়ে মা’র ধ্যাদ্ধারানি সিরিয়াল, নয় বাবার স্ক্রিপ্টেড খবরের চ্যানেল। ঘরে এসেও মনে শান্তি পাচ্ছি না! আমার রাগ হলে আমি ঘর অন্ধকার করেদি। মাকে বলে এলাম মাথা ধরেছে যেন বিরক্ত না করে! নয়ত আবার খাবার জন্য ডাকবে! কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম টের পাইনি। ঘুম ভাঙল মায়ের ডাকে, বলল “কমেছে?”
বললাম যে না! বলল অনেকবার ফোন বেজে গেছে, তাই ডাকল। আমি ফোনটা চেক করে দেখলাম সুন্দর। আমার বিন্দুমাত্র কথা বলতে ইচ্ছা করছে না! আমি কলব্যাক না করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এবার কল আসলে ধরে বলব, মা’কে দেখা করতে বল, বলে দেবো আমি আর ওকে পড়াব না! যথারীতি আবার ফোন করল। বললাম যে কাল মা’কে নিয়ে আসবি!
জিজ্ঞাসা করছিল কেন! আমি বলিনি। পরেরদিন যেদিন কাকিমাকে নিয়ে এল আমি বলেদিলাম সব মিথ্যা কথা। সাথে সাথে এ’ও বললাম আমি ওকে আর পড়াতে পারব না! এরম মিথ্যাবাদী ছাত্র আমি পড়াব না। মিথ্যা কথা বলা খারাপ না, কিন্তু দরকারে। কোন প্রয়োজন নেই যেখানে সেখানে মিথ্যা বলে লাভ কি আমার মাথায় ঢোকে না! মা’র সামনে কিছু বলেনি। ওর মা’ও বকল ” তুই কি পাগল, মানুষ বাজে রেজাল্ট করলে ভাল বলে চালায় এক… আর তুই ভাল রেজাল্ট করে খারাপ বলে চালিয়েছিস… সারাদিন ভিডিও গেমস খেল আর মাথায় এসব ভুত চাপুক..” আমাকে অনুরোধ করলেন “বাবা, ছোট ভাইয়ের মত ভুল করে ফেলেছে! ক্ষমা করে দাও… ও তো ঐ কোচিংটাও ছেড়ে দিয়েছে… এখন আবার ভর্তি হতে গেলে… বুঝতেই পারছ! “
আমি রাজি হলাম শুধু ওর মা’র জন্য। শেষে জিজ্ঞাসা করল “কাল পড়াবে তো?”
“হুম…” বলে চলে এলাম!
রাতের বেলা Whatsapp এ মেসেজ এল : Amay khoma kore dio parle! ami tomay hurt korte chaini…!
প্রথমে আমি রিপ্লাই দি নি। তারপর আমার হঠাত ওর মা’র কথাটা মনে পড়ল। ভাবলাম সত্যিই তো, লোকে খারাপ নাম্বার পেয়ে লোকায়, বা মিথ্যা বলে যে ভাল নাম্বার পেয়েছে! এত উল্টো! আরে আগেরটাও তাও লজিক আছে, কিন্তু ও যা করেছে তার তো কোন লজিক নেই! আমি লিখলাম : tui kno erom korli? tr theke ami eta asa korini!
: Tomar kache porbo bole!
: Sotti kotha boleo pora jto!
: jeto na hyto! tumi raji hote ki? আমি সত্যিই ভেবে দেখলাম না, আমি তো সত্যিই রাজি হতাম না! ও যেভাবে বলেছিল যে ওর ফিজিক্স বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে তারজন্যেই রাজি হয়েছিলাম!
: Kno? tr sei sir O to valoi porato!
অনেকক্ষণ ধরে দেখছি কি একটা টাইপ করছে!অথচ কোন মেসেজ আসছে না! আমিও কোন মেসেজ করিনি! প্রায় আধঘন্টা ধরে দেখাচ্ছে টাইপিং! আমি ভাবলাম নেটওয়ার্কের সমস্যা মনে হয়। আমি অফ হয়ে গেলাম। রাতে খুলেছি, তিনটে মেসেজ :
Amar tomake bhalo lage…
Pls amr opor rag koro na…
pls amake chero naa! ami tomar kache e porte chai!
এই ছেলেটা আমায় আর কত অবাক করবে কে জানে! এই মেসেজটা পড়ার পর আমার কি রিয়্যাকশন হওয়া উচিৎ সেটাই আমি বুঝতে পারছিলাম না! তাই সেদিন শুধু উত্তর দিয়েছিলাম : Hummm!
পরেরদিন পড়তে এসে চুপ করেছিল, বেশি কথা বলেনি। আমিও বলিনি। শুধু যতটা পড়াশোনার বিষয়ে কথা হয়! শেষে যাওয়ার সময় বলল “রেজাল্ট বেরিয়েছে, ফ্রার্স্ট হয়েছি! “
“হুম… ভাল!” আমিও অল্পতেই সারলাম। তখন কিছু বলল না, চলে গেল। আমিও ল্যাবে ফিরে এলাম। ওর সাথে এরম ব্যবহার করতে আমারও ভাল লাগে না, কিন্তু ও যে ভুল করেছে সেটাকে ভুলেও যেতে পাচ্ছি না! মনটা খচখচ করেছে সারাটা সন্ধ্যা। খুব খিদে পেয়েছিল কিন্তু বাড়ি ফিরে কিছু খেতেও পারলাম না! শুয়ে পড়লাম তাড়াতাড়ি! স্নেহা ফোন করল, যেমন করে। ভাট বকে গেল যেমন বকে! আমিও শুনে গেলাম যেমন শুনি। তাও মনের জমা মেঘ আর সরে না! কেন এরম হচ্ছে তা বুঝতে পারছি না!বুঝতে পারছি না কষ্টটা কিসের জন্য বেশি হচ্ছে, ও আমার সাথে যে ব্যবহার করেছে তার জন্য, নাকি আজকে আমার ব্যবহারের ফলে আমাদের মধ্যে একটা অদৃশ্য দেওয়াল তোলা শুরু হয়েছে তার জন্য! নিজের মনকে কবেই বা ভাল করে বুঝেছি আমি! ঘুমও আসছে না! স্নেহা আবার ফোন করল। বলল আমার একটা গবেষণা পত্র বেরিয়েছে, সেটা স্যার আমাদের মেইল করেছে, দেখতে। দেখতেই নেটটা অন করলাম। কিন্তু জি-মেইলে যাওয়ার আগে স্বভাবদোষে Whatsapp এ গেলাম। ও মেসেজ করেছে : Vul hoyeche manchi…. khoma to cheyechi… tumi tao emon kno krcho?
আমার রিপ্লাই দেওয়ার ইচ্ছা ছিল না! আর যেটা লিখতে ইচ্ছা করছিল সেই জাতীয় কথা আমি সাধারণত লিখি না, বলি তো না’ই! তাও কেন জানি আজ খুব লিখতে ইচ্ছা করছে। লিখেদিলাম : Tui amake khub kosto diyechis!
আমার মেসেজের জন্যেই অপেক্ষা করছিল বোধ হয় : Ami manchi to! kintu sei eki kosto tumi ebr amy diccho! ami to vul kore korechi! tumi to jene sune krcho!
কিছু উত্তর দেওয়ার ছিল না! কি’ই বা বলব? লিখলাম : Sorry!
:its ok!
মনটা যেন একটু হালকা হল। খেয়াল করিনি, খেয়াল হল গরম ছোঁয়া লাগায়। চোখের কোনা দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। আমি কিন্তু কাঁদিনি! কাঁদতে চাইও নি। তাও…
লিখলাম : কাল স্কুলের পর ফাঁকা থাকলে দেখা করিস!
: fakai achi….. fr u only!
আমাকে হাসানোর কোন চেষ্টা ওর বৃথা যা

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.