গোধূলি বেলার গল্প

মেঘ রাজ সাইমুন

প্রথম অংক।

হাসপাতাল থেকে আমিই তাড়াহুড়া করে চলে এলাম।

বাবা অবশ্য রাজি ছিলেন না।আমি বাবার দুর্বলতা জানি।সুতরাং সেটার সুযোগ নিতে একদমই দেরি করি নি।

আমার সবচেয়ে প্রিয় রং হলো সাদা।কিন্তু হাসপাতালের শুভ্র সাদা বিছানায় নিজেকে দেখতে কেমন যেন লাগতো।আমার জানা মতে,সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ হাসপাতালে গেলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যায়।আর অসুস্থ রোগী হলে তো কথাই নাই,তারা শরীরভাবে যতটা সুস্থ হয় বিপরীতে মানসিকভাবে ততটা অসুস্থ হয়ে পড়ে।তাই বাবাকে রাজি করিয়ে আমি হাসপাতাল ছাড়লাম তাড়াতাড়ি।

কিন্তু বাসায় একা একা বোরিং লাগছে।বাবার কড়া আদেশ বাইরে কোথাও বেরনো যাবে না।
বুঝ বয়স হতে ইঞ্জেকশনে আমার প্রচন্ড ভয়।হাসপাতাল হতে পালিয়ে আসা তার একটা কারন।যখন কোন নার্স বা ডাক্তার ইঞ্জেকশন দিতে আসতো তখন বাবার কোমর আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে চোখ বুজে থাকতাম।বাবা অফিসের কারনে সব সময় আমার পাশে থাকতে পারতেন না,তখন হাসপাতালের ইন্দু দিদি আমার ভরসা ছিলো।গত এক মাসে হাসপাতালে ইন্দু দিদির মত এত মিশুক নার্স আর একটাও দেখি নি।মাঝে মাঝে ইঞ্জেকশন আর ওষুধপাতির ভয়ে হাসপাতালে আমার কেবিনের অ্যাটাচড ওয়াশরুমে গিয়ে বসে থাকতাম।বাবা টের পেয়ে ওয়াশরুমের লক নষ্ট করে দিলেন।ওষুধ গিলতে গেলে যেন ভিতর হতে রাজ্যের সব বেরিয়ে আসতো তাই মাঝে মাঝে ওষুধ মুখের ভিতর নিয়ে বসে থাকতাম,ইন্দু দিদি বুঝতে পেরে হাসতো।তারপর কলার ছোট টুকরার ভিতর ওষুধ ভরে মুখের কাছে নিয়ে বলতো,এবার পারবি তো।যে শিফটে ইন্দু দিদির ডিউটি থাকতো না সেই সময়গুলোতে রাজ্যের ধমক খেতাম অন্যান্য নার্সের কাছে।

শহরের একদম শেষপ্রান্তে গেরুয়া রংয়ের বাড়িটি আমাদের।
নিরিবিলি।
কোলাহলমুক্ত পরিবেশ।
পিছনের বেলকনিতে দাড়ালে বাবার শখের পাঁচ একরের লিচু বাগান চোখে পড়ে।দেখলে মনে হয় পুরোটা আকাশ যেন বাবার বাগানের উপর উপুড় হয়ে আছে সোনা রোদ্দুর ঝরাচ্ছে।এখন অবশ্য লিচুর সময় না।শুধু কচি কিশালয়ে ভরে গেছে লিচুর গাছগুলো,দেখলে মনে হয় সবুজের প্রান্তর।

আমি এখন পিছনের বেলকনিতে রেলিং ধরে দাড়িয়ে বহুদূরের হাইওয়ে দেখছি।মাঝে মধ্যে দুএকটা গাড়ি চোখে পড়ছে।
কি’রে এখানে কি করিস?
আমি ঘুরে দাড়িয়ে দেখলাম বাবা হাতে দু’টো কফির মগ নিয়ে আমার দিকে চেয়ে আছে।মুখে হালকা হাসি।জ্ঞান হবার পর হতে আমি কখনো বাবাকে মুখ গম্ভীর করে থাকতে দেখি নি।সব সময় হাসি লেগে থাকে বাবার মুখে।
আমি বললাম,বাবা,আমি সাদা মগে কফি খাবো না।
বাবা অবাক হয়ে বলল,কেন?সাদা তো তোর প্রিয় রং।
আমি বাবার মুখের অাভা পরিবর্তন করার জন্য বললাম,কিছুদিন পর তো না চাইতেই সাদারঙ আমার চির আপন হয়ে যাবে।এখন একটু রঙিন কিছু করে জীবনটাকে রাঙায়।
এবার বাবার মুখ কালো হয়ে গেল।
বলল,তোর মুখে কিছু আটকায় না।ওকে,আমি মগ চেঞ্জ করে আনছি।
আমি দুষ্টু হাসি দিলাম।বাবা এবার লাল মগে কফি এনে আমার হাতে দিয়ে রেলিংয়ে ঠেলান দিয়ে দাঁড়ালো।
আমি গম্ভীর হয়ে বললাম,বাবা,ডাক্তার আঙ্কেল কিন্তু কফি খেতে না করেছে।
বাবা এবার ইতস্ততবোধ করল।বলল,কিন্তু কফি তো তোর প্রিয়।
সত্যিই তো!আফিমখোর,গাঁজাখোরের মতই আমি একজন কফিখোর।প্রথম খাওয়াতেই প্রেমে পড়ে গেছি।যেহেতু আমি ব্যতিক্রমধর্মীপ্রাণী তাই
এটাকে একটু অন্যরকমভাবে খাই।
শুকনা শুকনা।
চিবিয়ে চিবিয়ে।
চেটে চেটে।
উফ্স লিখতে গিয়েই জিভেজলচলে আসছে।কফিও আমাকে খুব পছন্দ করে তাই আমাদের আলাদা হয়ে
যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম ছিলো।কিন্তু…!থাক সেটা না বলি।বাবাকে অপ্রস্তুত করার জন্য দুষ্টুমি করে বললাম,কি ব্যাপার ঘুষ দিচ্ছো কেন?কোন মতলব আছে নাকি?
বাবা সত্যি অপ্রস্তুত হয়ে বলল,কি আবার ব্যাপার?আমি আমার ছেলেকে এক মগ কফি করে খাওয়াতে পারি না?
আমি হেসে বললাম,হুম,তা পারো।
বাবা এবার স্বাভাবিক হয়ে বলল,আচ্ছা,বৃষ্টির কি খবর?তোকে ফোন করেছিলো।
হ্যাঁ,রাতে তুমি ঘুমিয়ে গেলে করেছিলো।আমি আর তোমাকে ডাকি নি।
আচ্ছা।
আমি বাবার খুব নিকটে গিয়ে বললাম,বাবা,আমার একটা কথা রাখবে?
বাবা আমার হাতের উপর তার ভরসার হাত রেখে আশস্ত করে বলল,আমার মেঘ আমাকে একটা কথা বলবে আর আমি সেটা রাখবো না এমনটা কখনো হয়েছে?
তাই তো এত ভালোবাসি তোমায়।
বাবা মুখ থেকে কফি মগ নামিয়ে বলল,থাক হয়েছে ফ্লার্ট করতে হবে না।কি বলবি বল।
আমি রাগের ভাণ করে বললাম,কি আমি ফ্লার্ট করি?
বাবা হেসে বলল,আরে মজা করলাম।বল কি বলবি?
আমি বাবার হাতটা শক্ত করে ধরে বললাম,দেখ বাবা,এত দিন তো বৃষ্টি আপু ছিলো,তার বিয়ে হয়ে গেলো,তার ঘরসংসার আছে।তারপর আমার কথা ধরো।আমি থাকলেও না হয় তোমাকে দেখে রাখতাম।কিন্তু আমার তো ভরসা নাই।তুমি আরেকটা বিয়ে করো।
বাবা আমার হাতটা ছাড়িয়ে শুধু বলল,তুই তো জানিস তোর মাকে আমি কতটা ভালোবাসি।
তারপর বলল,আমার অফিস আছে গেলাম।তুই কাজলের কথা শুনে চলিস,এসে যেন বকতে না হয়।

বাবা চলে গেল।

আজ প্রথমবার ঐ মহিলাটির উপর ভীষণ রাগ হলো।তার যদি এতই অন্য পুরুষের মোহ ছিলো তাহলে বাবার মত এমন একটা ভালো মানুষের জীবন নষ্ট করার অধিকার তাকে কে দিয়েছিলো?সন্তান জন্মদানের বা কি দরকার ছিলো?বাবা একটা পুরুষ হয়ে ঘর বাহির সামলিয়ে আমাদের কত আদরে বড় করলো।কোনদিন বিরক্ত হয়ে একটা ‘উফস’ শব্দ করতে শুনলাম না।এমন একটা মানুষকে যে ছেড়ে যেতে পারে সে কেমন মানুষ আমার খুব দেখতে ইচ্ছা করে।

কাজল এসে বলল,ছোট সাহেব আপনার ব্রেকফাস্ট রেডি।স্যার খেয়ে নিতে বলে গেছে।
বাবা খেয়ে বেরিয়েছে?
কাজল মাথা নাড়ালো।বাবার যা কান্ড!যে ওষুধ,ইঞ্জেকশনের ভয়ে হাসপাতাল থেকে একপ্রকার পালিয়ে এলাম।এক নার্স এনে বাসায় উঠিয়েছে,সে কথা বলে কম,মাথা নাড়ায় বেশি।বিরক্তি লাগে।
বাসায় আসার পর ইন্দু দিদি একবার এসে দেখে গেছে।আর গোটা দশেক আদেশ রেখে গেছে কাজলের কাছে।কাজল এখন সেসব আদেশ পালনে ব্যস্ত।আর তার ফল ভোগ আমাকে করতে হচ্ছে।গন্ধ দুধ সকাল বিকাল নিয়ম করে গিলতে হচ্ছে।যা আমি জ্ঞান হবার পর থেকে মুখে তুলি নি।দুধে অবশ্য গন্ধ কিনা জানি না,তবে আমার কাছে গন্ধ লাগে।বমি আসে।তবুও যখন কাজল বলে,না খেলে কিন্তু ইন্দু দিদিকে ফোন করে বলে দিবো।তখন উপায় না দেখে বা হাতে নাক চেপে ধরে গলগল করে গিলে ফেলি এক নিঃশ্বাসে।বৃষ্টি আপুর অবশ্য দুধ হলে আর কিছু লাগতো না।বৃষ্টি আপুকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে।বললে অবশ্য সব ফেলে চলে আসবে।এসে ১৪৪-ধারা জারি করবে।টিভির সামনে বসে কার্টুন দেখা যাবে না,শাওয়ারে বেশিক্ষণ থাকা যাবে না,বই পড়া যাবে না।শরীর খারাপ করবে।সুতরাং বৃষ্টি আপুকে দেখতে মন চাইলেও বলা যাবে না কাউকে।

আরেকটি মানুষকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে।কিন্তু তাকে দেখতে হলে সকলকে ফাঁকি দিয়ে বাসার বাহির হতে হবে।
যেটা খুব সহজ কাজ নয়।
তবে আয়েশা খালাকে কিছু টাকা ধরিয়ে দিলে আমার পথ পরিষ্কার।তিনিই আামাকে বাহির হবার পথ দেখিয়ে দিবে সবার চোখের আড়ালে।

এই মুহূর্তে যে সকল পাঠক আমার জীবনের গল্প পড়ছেন আপনারা কি কখনো কাউকে এমন কোন কথা বলেছেন।যার কারনে সে আপনাকে চিরকাল মনে রাখবে।
আমি বলেছি।
বাবাকে একবার বললাম,বাবা একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার আছে!
বাবা খুব আগ্রহ নিয়ে বলল,কি কথা রে?
আমি আদুরে বিড়ালের মত তার গা ঘেষে বললাম,তুমি কি জানো তুমি কত ভালো একটা মানুষ!
বাবা শুধু তৃপ্তির হাসি হেসে ছিলো।
আরেকদিন আমার ক্লাসমেট তন্ময়কে বলেছিলাম,জানিস তোকে একদম ভুতুম পেঁচার মত।
কথাটা শুনে তন্ময় স্কেল দিয়ে আমার হাতে এমন আঘাত করেছিলো তার কাটা দাগ এখনো আমার বা হাতের কনুইয়ে স্পষ্ট।
আমাদের ডিপার্টমেন্টের টিনা কে একদিন বলেছিলাম,তুমি রোজ কাজল দিবে চোখে,কত সুন্দর চোখ তোমার,দেখলে মনে হয় হাজার বছর ধরে তোমার ঐ চোখে চেয়ে থাকি।
সেই থেকে মেয়েটা আমার প্রেমে পড়ে গেছে।
রনিকে যেদিন বললাম,তুই কত পুরুষের প্যান্টের চেইন খুলিস!অথচ আমাকে তো কোনদিন ছুঁয়ে দেখলি না।
রনি তার স্বাভাবিক নিয়মে মাথা নিচু বলেছিলো,মেঘ ভাইয়া,পুরুষের চেইন আমি যে শুধু শরীরকে তৃপ্তি দেওয়ার জন্য খুলি তা কিন্তু নয়,পুরুষের চেইন খোলা এমন কোন গর্বিত কাজও নয়।আমি আপনাকে খুব শ্রদ্ধা করি।আমি চাই না আমার অপবিত্রতা আপনাকে ছুঁয়ে যাক।

রনির চোখ সেদিন টলমল করছিল।দুয়েক ফোঁটা চোখের জলও হয়তো পড়েছিলো।

দ্বিতীয় অংক।

যে আরেকটি মানুষকে আমার দেখতে বড্ড প্রাণ কাঁদছে।হ্যাঁ!সেই আরেকটি মানুষ হলো রনি।

পড়ন্ত বিকালে রমনা পার্কে বসে রনির জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

সব সময় আমি এই জায়গায়টাতে বসি।রনি কেমন করে বুঝে যায়।খদ্দের কে খুশি করে সে তার স্বাভাবিক নিয়মে যখন আমার থেকে দু’হাত দূরে মাথা নিচু করে বসে কথা বলে তখন ওর দিকে আমিও তাকায় না।কেন তাকায় না আমি নিজেও জানি না।আজ অনেকক্ষণ বসে থাকার পরেও সে এলো না।

এলো সিরাজ।

এই নিন আপনার বাদাম।
আজ বাদাম নিবো না’রে।
সিরাজ বলল,ভাইয়া,আপনার কি মন খারাপ?
আমি মৃদু হেসে বললাম,কেন রে?এমন বলছিস কেন?
আপনি পার্কে আসছেন,অথচ আমার থেকে বাদাম কিনেন নি এমনটা তো কোনদিন হয় নি।
আমি ওর মাথার চুল হালকা এলোমেলো করে দিয়ে বললাম,আরে পাগল এমনি ভালো লাগছে না।এই নে টাকা,আরেকদিন দিস।আর শোন…!
সাথে করে আনা প্যাকেট হতে একটা শাড়ি আর একটা স্কুল ড্রেস বেরিয়ে ওর হাতে দিয়ে বললাম,শাড়িটা মা’কে দিস,আর স্কুল ড্রেস টা বোনকে।
সিরাজ সেগুলো নিয়ে বলল,মা আপনাকে যেতে বলেছে।
না’রে আজ যাবো না রাজ।মা’কে বলিস অন্য একদিন যাবো।
সিরাজকে আমি রাজ বলে ডাকি।ওকে সিরাজ ডাকতে আমার ভালো লাগে না।কেমন জানি বয়সের সাথে ওর নামটা যায় না।
আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম,ওদিকে যা।মানুষজন দেখে এলাম।কিছু বিক্রি হতে পারে।
সিরাজ সেদিকে দৌড়ে চলে গেল।

প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে রনি এলো।

যথারীতি দু’হাত দূরে বসে নিচু হয়ে জিজ্ঞাসা করল,এত দিন আসলেন না যে?
কেন’রে আমি কি তোর বান্ধা খদ্দের?না আসাতে লোকসান হয়েছে।
রনি কোন কথা বলল না।চুপ করে রইলো।
আমি বললাম,আমার জন্য পরান পুড়তো তোর?
এবারেও কিছু বলল না।
তুই আসতি প্রতিদিন?
হুঁ বলে মাথা নাড়ালো রনি।
আমি কৌতুক করে বললাম,কেন আসতি?
রনি একবার মাথা উচু করে আবার যেমন ছিলো তেমন থেকে বলল,আপনি আসতেন যে?
আমি তো প্রায় পঁয়ত্রিশ দিন আসি নি।তুই এই সব কয় দিন এসেছিলি?
রনি হু বলে মাথা নাড়াল।বললাম,এদিকে সরে এসে বোস।
রনি নড়লো না।বলল,আপনার কি হয়েছে?আসেন নি কেন?
আমি মূলত মিথ্যা তেমন একটা বলি না।কিন্তু ওকে বললাম,এমনি আসি নি।এক্সাম ছিলো ভার্সিটিতে।
রনি বোধয় কথাটা বিশ্বাস করলো না।
বলল,আপনার কি শরীর খারাপ?
কই না তো!
আপনি অনেক শুকিয়ে গেছেন!ঘুম হয়?চোখের নিচে কালি পড়েছে।
তুই তো আমার দিকে তাকাসই না।কখন দেখলি আমি শুকিয়ে গেছি,চোখের নিচে কালি পড়েছে?
বোঝা যায়।
তার মানে চুরি করে আড়চোখে দেখিস?
রনি কথা বলল না।আমি বললাম,সারাদিন কি এসব করিস?কলেজে যাস না?
যাই তো।রোজ যায়।
এসব না করলে হয় না?তোর তো কিছুর অভাব নাই।
রনি উঠতে উঠতে বলল,অভাব আছে।আপনি বুঝবেন না মেঘ ভাইয়া।তাছাড়া অভ্যাস আর নেশারও একটা ব্যাপার আছে।
আমি বললাম,তোকে একটু ছুঁয়ে দেখবো?
উহু।
শুধু একটু ছুঁবো।
রনি দ্রুত হেটে চলে গেল।
আমার বুকের বা পাশে কুট করে একটা লাল পিঁপড়া যেন কামড় দিলো।
আমার মতো রনির মা নেই।আমার মত বলছি কেন?ঠিক আমার মতো নয়,ওর মা পৃথিবীতে নেই।বাবাটা আবার বিয়ে করেছে।সৎ মায়ের অত্যাচার দেখে অপ্রতিবাদী বাবা হোস্টেলে রেখেছে,টাকাও পাঠায়।রনি টাকাটা রাখে না।অর্থ উপার্জনের সহজ পথে সে একজন পুরুষ পতিতা।আপনারা হয়তো তাকে এই মুহূর্তে ঘৃণা করছেন।কিন্তু আমি ঘৃণা করতে পারি না।ওর মা বেঁচে থাকলে হয়তো এমনটা হতো না।রনির আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে ওর মা ই তার সারথি হতো।

অার আমাদের মা!

উফস!বাবার সাথে ছলনা করে আমাদের দু’টি ভাইবোনকে রেখে অন্য লোকের হাত ধরে পালালো।আমাদের কষ্ট হতে পারে ভেবে বাবা আবার বিয়েটা পর্যন্ত করলো না।এই এক জায়গাতে আমাদের দুটি মানুষের ভাগ্য কি আজব তাই না?

সন্ধ্যা অনেকটা হয়ে গেছে।
বাবা হয়তো খোঁজাখুঁজি শুরু করে দিয়েছে।
আয়েশা খালাকে হয়তো বকছে,বুয়া তুমি টাকা নিয়ে মেঘ কে বাইরে যেতে সাহায্য করেছো?তোমাকে কাল থেকে আর কাজে আসতে হবে না এ বাড়িতে।অথচ খালা রোজ আসে।বাবা নিজেও জানে খালা শুধু টাকার জন্য আমাকে বাইরে আসতে সাহায্য করে না,ছোট থেকে আমাকে বড় করতে গিয়ে যে মায়া জন্মেছে তা অনেকটা দায়ী।

সেদিন শুক্রবার ভার্সিটির সব ফ্রেন্ড দেখতে এসেছিলো।

তন্ময় এসেই জড়িয়ে ধরে কাঁন্না শুরু করে দিলো।আমি ওকে ছাড়িয়ে বললাম,কি ব্যাপার তোরা দেখি আমাকে প্রতিটি ক্ষণে দুর্বল করে দিচ্ছিস।
টিনা মেয়েটা দূরে দাঁড়িয়ে ডাগর ডাগর করে তাকাচ্ছে।আমি দুষ্টুমি করে বললাম,কি ব্যাপার গরীবের বাড়ি এসেছো বলে কি বসতে নেই?
কথাটা শুনে টিনা রুম থেকে বেরিয়ে গেল।খানিকপরে দেখলাম টিনা বাবার সাথে খাবার নিয়ে রুমে ঢুকছে।
তন্ময় উঠে গিয়ে বলল,দিন আঙ্কেল আমাকে দিন।কিন্তু এসবের কোন দরকার ছিলো না।
বাবা বলল,পরিস্থিতি যাই হোক বাবা।তোমরা এসেছো,খালি মুখে তো যেতে দিতে পারি না।
তন্ময় বলল,আঙ্কেল আপনি এমনভাবে বলবেন না।মেঘকে আমরা সবাই ভালোবাসি।
বাবা তন্ময়ের হাত ধরে কেঁদে ফেলল।বলল,তোমরা আমার ছেলেটার জন্য দোয়া করো বাবারা।
আমি আয়েশা খালাকে ডাকলাম।এলো নার্স কাজল।আমি বললাম,প্লিজ আপনি একটু বাবাকে ওনার রুমে নিয়ে যান তো।আমার এসব একদম ভালো লাগে না।
ওরা আটজন এসেছিলো।চলে যাওয়ার সময় টিনাকে একলা ডেকে বললাম,আজ কাজল পরো নি কেন?
মেয়েটা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।হঠাৎ চোখ দিয়ে কয়েক ফোঁটা জল ফেলে দৌড়ে পালিয়ে গেল।
তন্ময়কে ডেকে বললাম,দোস্ত,বাবাকে বলে আমাকে একদিন ভার্সিটিতে নিয়ে যাস।সবাইকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে।খুব মিস করছি স্বপ্নের ক্যাম্পাসকে।

সেই কারনে আজ বাবাকে বলে তন্ময় আমাকে ভার্সিটিতে নিয়ে এসেছে।
বিমল স্যারের সাথে দেখা হল।বলল,তোমার কথাটা শুনলাম।খুব খারাপ লাগছে মেঘ।আমি একটা শুকনো হাসি দিলাম।
ক্লাসে ঢুকতেই সবাই আমাকে ঘিরে ধরল।
আজ দেখলাম টিনার চোখে কাজল।মেয়েটি কি অদ্ভুত ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে।সম্পূর্ণ অচেনা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের একটা আড্ডার জায়গা ছিলো।ক্লাস করে সবাই মিলে সেখানে গেলাম।
শাহিন বলল,একটা গান হয়ে যাক মেঘ!
তন্ময় বলল,শাহিন তোর কি মাথা খারাপ?এই অবস্থায় ও গান গাইবে?
আমি গিটার ভালো বাজাতাম।বোধয় গানটাও ভালো গাইতাম।বিশেষ করে নজরুল সংগীত গিটারে সুর তুলে গাইতাম।
আমি বললাম,আরে থাক না আমি গাইছি।বাপ্পি গিটারটা দে।
আমাদের ব্যাচে বাপ্পির হাতে সব সময় গিটার থাকতো।গান তেমন পারে না।আমাদের নিচের ব্যাচের রিমাকে পটানো তার মূল উদ্দেশ্য।রিমা আবার গানটা পছন্দ করে।কিন্তু আজ অবধি পটানো তো দূরে থাক,সামনে গিয়ে কথা পর্যন্ত বলে নি।
আমি গান শুরু করবো।দেখলাম টিনা তাকিয়ে আছে।মৃদু হেসে গান ধরলাম।
“তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়
সে কি মোর অপরাধ,
চাঁদেরে হেরিয়ে………!”

গলাটা ধরে এলো।
তন্ময় ঘাড়ে হাত দিয়ে বলল,তোর আর গাইতে হবে না।
আড্ডার মধ্য থেকে রবিন ভাই টিনাকে ডেকে নিয়ে গেল।রবিন ভাই ভার্সিটির বর্তমান ভিপি।তন্ময় বলল,রবিন টিনাকে পটিয়ে নিয়েছে।
আমি শুধু বললাম,ওহ।
উঠতে গিয়ে মাথা ঘুরে তন্ময়ের কোলের উপর পড়ে গেলাম।

জ্ঞান ফিরলে দেখলাম আমার রুমে।বাবা বলল,তুই চাচ্ছিস না বলে তোকে মেডিকেলে নেওয়া হচ্ছে না।আমি ডাক্তার বাসায় এনে রাখছি।আর একদিনও যেন বাইরে না যাওয়া হয়।

তন্ময় অপরাধীর মত মাথা নিচু করে আছে।কি জানি বাবা ওকে কতটা বকেছে!

তৃতীয় অংক।

আজ মা’কে খুব মনে পড়ছে।যদি জানতাম এই শহরে কোথাও আছে।আমি একটিবার হলেও দেখে আসতাম।মনে তো হয় না মা এ শহরে কোথাও আছে।যদিও থাকে আমি তো চিনতে পারবো না।

কিন্তু একটিবার হলেও রনি কে আমার দেখা চাই।ছেলেটা রোজ আমার জন্য অপেক্ষা করে।অথচ প্রতিদিন নিরাশ হয়।হয়তো আমার প্রতি বিরক্ত হয়।হয়তো বা হয় না।

পড়ন্ত বিকালে ঝিরঝির বর্ষায় চারদিক নিস্তব্ধ।যদিও শীত লাগছে না,তবুও চাদর গায়ে বেরোতে ইচ্ছা হলো।
কালো চাদর!
বাংলা সিনেমায় নায়ক নায়িকা অসুস্থ থাকলে কালো চাদর গায়ে দেয়।বাই দ্যা ওয়ে আমি কিন্তু আবার কোন হিরোটিরো না।অনেক খোঁজাখুঁজির পর মায়ের একটা ঘিয়ে রংয়ের চাদর পেলাম,সারা চাদরে ফুল আঁকা।সেটা গায়ে লুকিয়ে বেরিয়ে গেলাম।গাড়ি নিলাম না,কারন গাড়ি নিতে গেলে মতিন ভাই বাবাকে বলে দিবে।চৌরাস্তা থেকে টেক্সি ধরে পার্কের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

পার্কে যখন পৌছালাম তখনো বর্ষায় চারদিক কুয়াশাপূর্ণ।চারদিকে তাকিয়ে রনিকে কোথাও দেখলাম না।আমি একটা ঘন নিবিড় শান বাঁধানো গাছের তলায় গিয়ে বসলাম।
মিনিট পাঁচেক পরে দেখলাম রনি এদিকে আসছে।ভিজে একাকার।যথারীতি নিয়ম মাপিক দু’হাত দূরে বসে প্রশ্ন ছুড়ল।
আজকাল কি হয়েছে আপনার?আমি রোজ এসে ফিরে যায়!
আমি নিবিড় চোখে ওর দিকে চেয়ে বললাম,কেন আমি না আসলে তোর কি?আমি তোর কে?
রনি বলল,কেউ না।তবুও রোজ আসতেন তো অভ্যাস হয়ে গেছে!
শুধুই অভ্যাস?
তো আর কি হবে?
পর ক্ষণে বলল,বর্ষায় ছাতা না এনে চাদর গায়ে আসছেন যে?
আমি দুষ্টুমি করে বললাম,কেন ভালো লাগছে না?আমার তো নিজেকে দেবদাস দেবদাস লাগছে।
দেবদাস কেন?
আমি প্রসঙ্গ এড়াতে বললাম,আজ বর্ষায় ভিজবি আমার সাথে?
রনি আমার দিকে একটিবার তাকিয়ে বলল,আপনার শরীর মনে হয় ভালো না!আপনি বাসায় যান।
তারপর কি মনে করে বলল,চলুন ভিজি।

আমি উঠে গেলাম।

ঘটা করে বর্ষায় ভিজার কোন ইচ্ছা নাই।তেমন করলে পার্কের মানুষজন পাগল ভাবতে পারে,কবিও ভাবতে পারে।
দু’জন পাশাপাশি হাটছিলাম।যেহেতু ঝিরঝির বর্ষা,বর্ষার জল রনির চুলে হিরার মত বিন্দু বিন্দু ফোঁটায় জলজল করছে।
আমি রনির দিকে একটু এগিয়ে গিয়ে কানের কাছের মুখ নিয়ে বললাম,হাতটা একটু ধরি?
রনি দাড়িয়ে গেল।
নিস্তব্ধ মত।
স্থির।
আমি বললাম,স্যরি,ওকে লাগবে না।
তারপর ও নিজেই আমার ডান হাতের পাঁচ আঙ্গুলের ফাঁকে ওর বা হাতের আঙ্গুলগুলো ঢুকিয়ে আকড়ে ধরলো।
রনির হাতের প্রথম ছোঁয়া ছিলো এটা।কিন্তু অপরিচিত লাগে নি একদম।
আমি থমকে দাড়িয়ে বললাম,একটা অনুরোধ রাখবি?
বলেন।
আমি ঢোক গিলে বললাম,তোর ঐ জায়গাটায় আমাকে একবার নিয়ে যাবি?প্লিজ,শুধু আজ।আর বলবো না।
রনি আমার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছিল।বোধয় রাগ করেছে।

আমাকে নিয়ে একটা পাথরের উপর বসিয়ে নিজে আমার পায়ের কাছে বসল।তারপর আমার উরুতে হাত দিয়ে প্যান্টের জিপারের চেইন খুলছিলো।
আমি বাঁধা দিয়ে বললাম,কি করছিস?
রনি অভিমান নিয়ে বলল,কেন এটাই তো চাচ্ছিলেন নাহ??
তুই ভুল বুঝছিস।
জিপারের চেইন টেনে খুলে রনি আমার কোমর জড়িয়ে ধরে কোলের উপর মাথা রেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।
আমি বুঝতে পারছি ওর কষ্ট হচ্ছে।
খুব কষ্ট হচ্ছে।
কিন্তু আমার তো কিছু করার নেই।
ঝুম বর্ষা শুরু হলো।আমি রনিকে ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়ালাম।
রনি বলল,এত বর্ষায় বের হতে হবে না।চলুন কোথাও গিয়ে বসি।

আমার মনে হচ্ছিল আমার হাতে আর সময় নেই।আকস্মিক রনিকে জড়িয়ে ধরে বললাম,ভালো থাকিস।পারলে এপথটা ছেড়ে দিস।
আমার ইচ্ছা ছিলো রনিকে বাবার কাছে নিয়ে যাবো।কিন্তু অনেকবার বলেও রনিকে রাজি করাতে পারি নি।সে এমনটা ছেলে মরে যাবে তবুও কারোর সাহায্য নিবে না।
রনি ধীরে ধীরে তার দু’হাত প্রশস্ত করে আমার পিঠ আবদ্ধ করল।তারপর বলল,এমন বলছেন কেন মেঘ ভাইয়া?
আমি বা হাতে রনির ভেজা চুল আকড়ে ধরে বললাম,এমনি বললাম।মানুষের ভাগ্যের কি কোন খেয়াল আছে।আমাদের আর কোনদিন দেখাও তো না হতে পারে।
রনি যেন বিশ্বাস করলো না।
আমার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বলল,কেন হবে না?আমি তো রোজ আসি।এরপরেও রোজ আসবো।
আচ্ছা তুই যদি দেখিস বহুদিন পরও আমি আসছি না।তাহলেও কি সেই বহুদিন পর তুই রোজ আসবি আমাদের শান বাঁধানো গাছের নিচে?
রনি যেন একটু অবাক হলো।বলল,আপনি আর আসবেন না?
সেটা বলছি না।ধর যদি এমন হয় আমি কোন কারনে আর আসতে পারলাম না।তাহলে?
রনি কিছুক্ষণ ভেবে বলল,হুম,আমি রোজ আসবো।
এত ভালোবাসিস আমাকে?কোনদিন তো বললি না!
‘হুম’ বলে রনি একটা পরিহাসের সৃষ্টি করে বলল,একজন কলবয়ের আবার ভালোবাসা!কি যে বলেন।কিন্তু আপনার জন্য অপেক্ষা করতে ভালো লাগে।
রনির পরিচিত জায়গা থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি।গুটিগুটি পায়ে হাটছিলাম।বর্ষায় একদম ভিজে একাকার।দূর হতে একজন রনিকে ইশারা করলো।
রনি সেদিকে যেতে যেতে বলল,আপনি বাসায় যান প্লিজ।ঠান্ডা লাগবে।
আমি মুচকি একটা হাসি দিলাম।
কিছুদূর গিয়ে রনি ফিরে দাড়িয়ে বলল,আমি কিন্তু রোজ অপেক্ষা করবো।
তারপর চিরচেনা পার্কের ঝোপের আড়ালে রনি হারিয়ে গেল।

গোধূলি নেমে এলো সারা শহর।

সিরাজের সাথে একটিবার দেখা হলে ভালো হতো।কিন্তু আজ বোধয় পার্কে আসে নি বর্ষার কারনে।সিরাজ,মা,বোনকে দেখতে খুব ইচ্ছা করছিলো।ভাবলাম একবার ওদের বস্তিতে যাবো।কিন্তু খারাপ লাগাটা ক্রমশ বেড়ে চলেছে।

মাস দেড়েক আগে লাস্ট স্টেপে এসে ব্রেইন টিউমার থেকে ক্যান্সার ধরা পড়েছে।মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও বাবা আমাকে বাঁচানোর সর্বোত্তম চেষ্টা করে যাচ্ছে।বিদেশে নিবে বলে সব করলো,আমিও জেদ করে গেলাম না।গিয়ে কি হবে?চিকিৎসায় হয়তো আরো কয়েকটা দিন বাঁচতে পারবো!তারপর?

ড্রাইভারের হাকডাকে ঘোর কাটল।খেয়ালই করিনি রাস্তার মাঝ বরাবর হাটছি।ড্রাইভার দাঁত মুখ শক্ত করে বলল,মরার শখ হলে রেল লাইনে যান না!বেকার বেকার আমাদের ফাঁসাবেন কেন ভাই?

এই মুহূর্ত আমি রেল লাইনের উপর দিয়ে হাটছি।ভয় পাবেন না?মরার জন্য নয়।কারন মরণ আমার দুয়ারে অলরেডি কড়া নাড়ছে।
মৃত্যু আসন্ন জেনেও বাঁচতে চাওয়াটা বড্ড বোকামি।কিন্তু এই মুহূর্তে আমার ভীষণ ভাবে বাঁচতে ইচ্ছা করছে।আচ্ছা আমি যদি এখন চলতি পথে মৃত্যুরবণ করি তবে বৃষ্টি আপু,বাবা কি আমার খোঁজ পাবে?
রনির মুখ টা খুব মনে পড়ছে।অথচ আমার মনে পড়ার কথা কাজল পরা টিনার মুখ!আমি কি রনিকে ভালোবাসি?হয়তো বা হয়তো বা না!

বর্ষায় ভিজে যাওয়া মায়ের চাদর টা ফেলে দিলাম।যে আমার আপন নয়,তার ছোঁয়া নিয়ে আমি মরতে চাই না।রেললাইন থেকে নালা পথে হেটে এলাম।বর্ষার জলে পথঘাট ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।রাস্তায় হাটু গেড়ে বসে বর্ষার নীল আকাশে তাকালাম,ভিতর থেকে চিৎকার করে কাঁন্না চলে এলো।দু’চোখের পাতায় বর্ষার জল ছুঁয়ে গেল।বর্ষার জলে দু’চোখের জল মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল।আসলে চোখের জলের তো আলাদা কোন রং হয় না।

মৃত্যুর আগমুহূর্ত বারবার রনির মুখ মনের চোখে ভাসছিলো।কিন্তু আমার জীবনের গোধূলি বেলায় ভালোবাসার ইচ্ছাটা খুবই হাস্যকর।মৃত্যুর যাত্রাপথে রনির কোলে শুয়ে শেষ সময়টা কাটাতে বড্ড ইচ্ছা হচ্ছিলো?

ধপাস করে বর্ষাভেজা রাস্তায় পড়ে গেলাম।মরণের পূর্বে দু’ফোঁটা চোখের অশ্রুর মাঝে বাবা এবং মতিন ভাইকে দেখলাম।

‘মেঘ’ বলে বাবা চিৎকার করে আমাকে জড়িয়ে ধরলো বড্ড ভালোবেসে।
আবেগে।
কিন্তু বড় অবেলায়!

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.